মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছাড়িয়ে জ্বালানি স্থাপনাগুলোও এখন হামলার শিকার হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—যদি সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে কি পাকিস্তান তাদের পারমাণবিক সহায়তা দেবে?
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েল তেহরানের তেল ডিপো ও সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। জবাবে ইরান কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও বাহরাইনের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ফলে পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে রিয়াদ। রিয়াদ–এ আয়োজিত এক বৈঠকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যৌথ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল জোটের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়, তাহলে ইসলামাবাদের সঙ্গে তাদের প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে। এক সৌদি ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক সালমান আল-আনসারি বলেন, “প্রয়োজনে সৌদি আরব পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয় করতে পারে, যা কার্যত একটি ‘পারমাণবিক ছাতা’র মতো কাজ করতে পারে।”
গত বছর সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা উভয় দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে—যা অনেকটা ন্যাটো–এর অনুচ্ছেদ ৫–এর মতো।
তবে বাস্তবে পাকিস্তান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ পরিস্থিতিনির্ভর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং ২ যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন সামরিক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিনস জানান, বিমানটি ইরানের আকাশসীমার ওপর একটি যুদ্ধ মিশনে ছিল। আঘাতের পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছে এবং পাইলট সুস্থ আছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের ওপর প্রথম আঘাত হিসেবে গণ্য হতে পারে। উল্লেখ্য, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের মূল্য ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে তাদের সাফল্যের দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পেট হেগসেথ বৃহস্পতিবার জানান, “ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।” বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই ধরনের ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে, কারণ উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া উভয়পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের মাত্রা বাড়ায়।
ইরান দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুরুর পর দেশ দুটির হয়ে কাজ করা ১৭৮ জন সন্দেহভাজন গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বিভিন্ন কেন্দ্র এবং সামরিক তল্লাশিচৌকির ছবি ও অবস্থান সংগ্রহ করে তা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠাচ্ছিলেন। এসব তথ্য হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহৃত হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসি আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে অস্ত্র, অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, বিশেষ যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। পরবর্তী হামলাগুলোতেও দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব হামলায় অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য ফাঁসের বিষয়টি জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে তেহরান, যা গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রশ্নও সামনে এনেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি। এই হামলা কি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেতে হয়েছে, নাকি ইসরায়েল একতরফাভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এই পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছেন, দক্ষিণ পার্সে হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটনের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এই হামলা সম্পর্কে নিজের অজ্ঞতার কথা জানালেও, বিশ্লেষকরা তা পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছেন না। এলমাসরি বলেন, "এমনটা ভাবা অস্বাভাবিক নয় যে ট্রাম্প সত্য গোপন করছেন এবং তার অনুমতি নিয়েই এই হামলা হয়েছে। আবার এটাও অসম্ভব নয় যে, নেতানিয়াহু আবারও তার চতুরতায় ট্রাম্প প্রশাসনকে এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আর কিছু করার ছিল না।" বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির অনেক দিকই মূলত ইসরায়েল নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি ট্রাম্পের নিজের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীও এখন ইসরায়েলের সঙ্গে এই অসম সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। এই হামলার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে এলমাসরি বলেন, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য হলো ইরানে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দেওয়া। এর ফলাফল উপসাগরীয় দেশগুলো, ইউরোপ এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ ও 'বিপর্যয়কর' হতে পারে।