যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অফিশিয়াল ফ্যান ফেস্টিভ্যালে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও একটি অতিরিক্ত দিন বৃদ্ধি করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আয়োজকরা। মার্কিন পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দর্শকদের অভূতপূর্ব উন্মাদনা ও বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ করে দিতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২৫ জুন আটলান্টার সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কে এই ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালটি অতিরিক্ত একদিনের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত উৎসবটি মহাসমারোহে চলবে।
চলতি বিশ্বকাপে ফুটবল ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের অবিশ্বাস্য রকমের রেকর্ড উপস্থিতি ও উপচে পড়া ভিড় বিবেচনা করেই মূলত এই অতিরিক্ত দিনটি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উৎসবের মূল নীতিনির্ধারকেরা। জর্জিয়া ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস সেন্টার অথরিটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জো বোচেরার এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান করেছেন। তিনি জানান, চলতি বিশ্বমঞ্চে ফুটবল ভক্তদের কাছ থেকে যে ধরণের অভাবনীয় সাড়ামিলছে তা তাদের পূর্বের সকল প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আর সে কারণেই তারা আটলান্টার সমস্ত ফুটবলপ্রেমী মানুষকে একসঙ্গে সমবেত হয়ে মার্কিন দলকে সমর্থন জানানোর জন্য আরও একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছেন।
উৎসবের অফিশিয়াল খতিয়ান তুলে ধরে জো বোচেরার আরও জানান যে, এই ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যালটি উদ্বোধনের পর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রায় আড়াই লাখের বেশি ফুটবল অনুরাগী দর্শক সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের এই উৎসবে সশরীরে অংশগ্রহণ করেছেন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে ধরণের শক্তি, প্রবল আবেগ এবং তীব্র গৌরব লক্ষ্য করা গেছে তা সত্যিই অত্যন্ত অসাধারণ ও অবিশ্বাস্য। এই অতিরিক্ত উৎসবের দিনটি যুক্ত করার মাধ্যমে মূলত ভক্তদের সেই নিঃসশর্ত সমর্থন ও ভালোবাসাকে উদযাপন করা হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা এই অবিস্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতার অংশ হওয়ার আরও একটি সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজক কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই অতিরিক্ত দিন যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি মার্কিন পুরুষ জাতীয় দলের ওপর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান উদ্দীপনা এবং বিপুল প্রত্যাশার একটি বাস্তব প্রতিফলন। মার্কিন দল ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্টের প্রথম দুটি ব্যাক-টু-ব্যাক ম্যাচে টানা জয়লাভ করার মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করে ফেলেছে। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে দলটির লড়াই দেখার জন্য স্থানীয় দর্শকদের মাঝে আগ্রহের পারদ এখন তুঙ্গে অবস্থান করছে, যা ফ্যান ফেস্টের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে আরও বেশি ত্বরান্বিত করেছে।
এই উৎসবটি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ফুটবল অনুরাগী মানুষ প্রতিদিন আটলান্টার ডাউনটাউনে একত্রিত হচ্ছেন। সেখানে তারা জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করার পাশাপাশি বিভিন্ন লাইভ বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনী এবং ফুটবলের ঐতিহ্য উদযাপনে মেতে উঠছেন। আটলান্টা স্টেডিয়ামের একদম কাছাকাছি অবস্থিত এই উৎসবস্থলে কোনো প্রকার প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফুটবলপ্রেমীরা খেলা দেখার পাশাপাশি লাইভ মিউজিক, সুস্বাদু খাবার, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ ফ্যান অ্যাক্টিভিটিজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তুরস্কের বিপক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে ওই দিন উৎসবস্থলে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ধরণের গণজমায়েত ও মানুষের উপচে পড়া ভিড় হতে পারে বলে জোরালো আশঙ্কা করছেন আয়োজকরা। আর সে কারণেই যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং উৎসবের আমেজ অক্ষুণ্ণ রাখতে তারা সমস্ত ফুটবল ভক্তদের ম্যাচ শুরু হওয়ার বেশ কিছু সময় আগেই অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সাথে দর্শকদের যাতায়াত ও সেন্টেনিয়াল অলিম্পিক পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগে থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা রাখার জন্য কমিটির পক্ষ থেকে বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জি'-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। তবে খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে আবারও এক নজিরবিহীন ও বৈরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঠে যখন ইরানের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক তীব্র ক্ষোভে দুয়োধ্বনি ও ভুভুজেলা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের নিজেদের প্রথম ম্যাচেও একই ধরনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল দলটিকে। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের ফিফা ঘোষক উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্য করে ‘শান্তির জন্য হাততালি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে সেই আহ্বানে খুবই মৃদু সাড়া পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের এই বিশ্বকাপ অভিযান এমন এক সময়ে শুরু হলো যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাচটি শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে ইরান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে চান না, কারণ এতে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা বোঝাবে। মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক দেশ ছেড়ে ফ্লোরিডা ও লস অ্যাঞ্জেলেসে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ইরানের বাইরে লস অ্যাঞ্জেলেসকেই ইরানি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় বাসস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই দলটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে চরম বিতর্ক চলছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসে ইরানে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারের কঠোর দমনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে সম্প্রতি ইরানি ফুটবল দল তাদের প্রশিক্ষণ শিবির অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া তাদের বেশ কয়েকজন স্টাফকে মার্কিন ভিসা না দেওয়া এবং সমর্থকদের টিকিট বাতিল করার বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো মিথ্যা অজুহাতে ইরানি দলকে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সোমবার সকালে এক জরুরি শুনানির পর ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক পতাকা স্টেডিয়ামে বহনের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন মার্কিন আদালত। ওই পতাকায় বর্তমান পতাকার মতোই রং থাকলেও মাঝে একটি সিংহ ও সূর্যের প্রতীক রয়েছে, যা দেশটির পূর্ববর্তী শাহ আমলের শাসনের প্রতিনিধিত্ব করে। ফিফার নিয়মানুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতর যেকোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক’ পোশাক এবং পতাকা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বিচারক কার্টিস কিন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাক-স্বাধীনতা অবশ্যই অত্যন্ত পবিত্র এবং সমাজের অন্যতম ভিত্তি। তবে কোনো বেসরকারি সম্পত্তির ওপর বেসরকারি পক্ষের ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী মামলার নজির অনুযায়ী এটি একটি যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করা হলো।
পেশাদার ফুটবলের সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ সময়ে থাকা একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সাধারণত নতুন চুক্তি, বড় কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া কিংবা আরও শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথা শোনা যায়। কিন্তু মরক্কোর জাতীয় দলের ডিফেন্ডার নুসাইর মাজরাউয়ির ভাবনা একেবারেই ভিন্ন। মাত্র ২৮ বছর বয়সেই ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ধর্মীয় জীবনে আরও বেশি সময় দিতে চান তিনি। এমনকি বিশ্বকাপের পর অবসরের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন এই তারকা ফুটবলার। সম্প্রতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে একটি পডকাস্টে দেওয়া মাজরাউয়ির সাক্ষাৎকার। সেখানে তিনি জানান, ভবিষ্যতে পুরো পবিত্র কোরআন মুখস্থ করে একজন হাফেজ হতে চান। শুধু তাই নয়, একদিন মসজিদে ইমামতিও করার ইচ্ছা রয়েছে তার। মাজরাউয়ি বলেন, “হয়তো বিশ্বকাপের পর আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে পারি। জীবন খুব ছোট। আমি পুরো কোরআন মুখস্থ করতে চাই এবং একদিন মসজিদে ইমাম হতে চাই।” তার এই বক্তব্য বিশ্বকাপ চলাকালে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কারণ বর্তমানে তিনি মরক্কো জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং ইউরোপের অন্যতম বড় ক্লাব Manchester United-এর নিয়মিত খেলোয়াড়। ফলে অনেকের কাছেই এমন পরিকল্পনা বিস্ময়কর মনে হয়েছে। মাজরাউয়ি জানান, কোরআন মুখস্থ করার প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয় রমজান মাসে। ওই সময় তিনি নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন যে তার জানা সূরার সংখ্যা খুবই সীমিত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নামাজে আমি কয়েকটি নির্দিষ্ট সূরা পড়তাম। পরে উপলব্ধি করি, আমি আসলে খুব কম সূরা জানি। বিষয়টি আমাকে ভাবতে বাধ্য করে। তখনই আমি কোরআন মুখস্থ করার সিদ্ধান্ত নিই।” মরক্কোর এই ডিফেন্ডার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার জীবনে ধর্মই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফুটবল, খ্যাতি কিংবা পেশাগত সাফল্যের আগে তিনি নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসকে স্থান দেন। তার ভাষায়, “আমার জীবনের এক নম্বর বিষয় হলো আমার ধর্ম। জীবনে যখন কিছু পরিকল্পনামতো হয় না, তখন ধর্ম আমাকে শক্তি দেয়। এটি আমাকে পথ দেখায় এবং কঠিন সময়ে স্থির থাকতে সাহায্য করে।” বিশ্ব ফুটবলে মরক্কোর সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম নায়ক মাজরাউয়ি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই অভিযানে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। চলমান বিশ্বকাপেও নিয়মিত মাঠে দেখা যাচ্ছে তাকে। ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মরক্কোর দুটি ম্যাচে মোট ১৭০ মিনিট খেলেছেন এই ডিফেন্ডার। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার দল। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া মাজরাউয়ি ক্লাব ফুটবলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি খেলেছেন AFC Ajax-এ। পরে যোগ দেন FC Bayern Munich-এ। বর্তমানে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলছেন এবং ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তি রয়েছে ২০২৮ সাল পর্যন্ত। তবে পেশাদার ফুটবলে এখনও অনেক বছর খেলার সুযোগ থাকলেও মাজরাউয়ির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। বিশ্বকাপের পর তিনি সত্যিই অবসরের সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু ধর্মীয় শিক্ষা ও কোরআন মুখস্থ করার স্বপ্ন যে তার জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে, সে বিষয়টি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কুরাসাওকে নিয়ে খুব বেশি আশা ছিল না কারও। বিশ্বকাপের অভিষেক আসরে এমন একটি হতাশাজনক শুরুর পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, পরের ম্যাচগুলোতেও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির জন্য। কিন্তু ফুটবল যে অনিশ্চয়তার খেলা, সেটিই আবারও প্রমাণ করল কুরাসাও। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দল ইকুয়েডরকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তারা। রোববার (২১ জুন) কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল ইকুয়েডরের। বলের দখল, আক্রমণের সংখ্যা এবং গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি দলটি। ইকুয়েডরের গোল না পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিলেন কুরাসাওয়ের গোলরক্ষক এলয় রুম। পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করেন তিনি। ম্যাচে মোট ১৫টি সেভ করেন রুম, যা সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলকিপিং প্রদর্শনী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দূরপাল্লার শট, কাছ থেকে নেওয়া ফিনিশিং কিংবা হেড, সব ধরনের প্রচেষ্টাই ব্যর্থ করে দেন অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেও তারা কুরাসাওয়ের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এলয় রুম। বিশ্বকাপের এক ম্যাচে সর্বাধিক সেভের রেকর্ড এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ডের দখলে। ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তিনি ১৬টি সেভ করেছিলেন। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ১৫টি সেভ করে সেই রেকর্ডের একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন রুম। ম্যাচের আগে কাগজে-কলমে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে তাদের অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সব দিক থেকেই এগিয়ে ছিল দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা। তবে কুরাসাও মাঠে নেমে ভিন্ন এক গল্প লিখেছে। দলটির খেলোয়াড়রা শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, কঠোর পরিশ্রম এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেন। এই ড্র কুরাসাওয়ের জন্য শুধু একটি পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় উপলক্ষ। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফল অর্জন করল তারা। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে শক্তিশালী একটি দলের বিপক্ষে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেওয়া কুরাসাও ফুটবলের জন্যও একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে ইকুয়েডরের জন্য এটি বড় ধাক্কা। নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই পয়েন্ট হারিয়েছে দলটি। পুরো ম্যাচে আধিপত্য দেখিয়েও গোল করতে না পারার হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। শেষ বাঁশি বাজার পর কুরাসাওয়ের খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, এই ড্র তাদের কাছে কতটা মূল্যবান। জয়ের সমান আনন্দ নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি। আর সেই ঐতিহাসিক ফলের নায়ক একজনই, গোলরক্ষক এলয় রুম। তার অনবদ্য পারফরম্যান্সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের নাম স্মরণীয় করে রাখল কুরাসাও।