আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলেই কি নাগরিকত্ব মিলবে, ট্রাম্পের নতুন নিয়মে বাড়ছে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে থাকা ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ বা বার্থরাইট সিটিজেনশিপের ঐতিহাসিক অধিকার রক্ষা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে এক বড় ধরণের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর প্রথম লাইনেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা প্রাকৃতিক নিয়মে নাগরিকত্ব পাওয়া এবং মার্কিন বিচারব্যবস্থার অধীনস্থ সকল ব্যক্তিই দেশটির পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন।
এই নিয়মের অধীনে মা-বাবার পরিচয় বা বংশমর্যাদা যাই হোক না কেন, মার্কিন মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমেরিকার নাগরিকত্ব লাভ করে। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশেষ নির্বাহী আদেশ এই ঐতিহাসিক অধিকারটিকে এক বড় ধরণের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রবিবার (২১ জুন) মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই স্পর্শকাতর সাংবিধানিক বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার আইনের অধ্যাপক আমান্ডা ফ্রস্ট এই নাগরিকত্ব ধারার সাংবিধানিক ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, আমেরিকার মাটিতে জন্মালে যে কেউ নাগরিক হবেন—এই বিষয়ে সংবিধানে কোনো অস্পষ্টতা বা দ্বিমত নেই। এর কেবল দুটি অত্যন্ত সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে, যা হলো কোনো বিদেশি কূটনীতিকের সন্তান অথবা দেশ আক্রমণকারী কোনো বিদেশি সেনাবাহিনীর সন্তান। এই দুটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য সবার ক্ষেত্রেই জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মটি শতভাগ প্রযোজ্য।
তবে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে যে, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে প্রায় সমান দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন যে, নথিপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদেরও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেওয়া উচিত, পক্ষান্তরে বাকি ৪৯ শতাংশ নাগরিক এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। জনগণের এই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মাঝেই গত বছরের জানুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি বিতর্কিত নির্বাহী আদেশ জারি করেন।
সেই আদেশে বলা হয়, ১৪তম সংশোধনীকে কখনই এমনভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি যাতে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই বিশ্বজনীনভাবে নাগরিকত্ব পেয়ে যাবে। এই আদেশের মাধ্যমে মূলত দেশটিতে অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার পুরোপুরি অস্বীকার করার কথা বলা হয়। এই নিয়ম কার্যকর হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রায় আড়াই লাখেরও বেশি শিশু সরাসরি নাগরিকত্বহীনতার সংকটে পড়বে।
তবে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত নির্বাহী আদেশটি জারির পরপরই দেশটির একটি নিম্ন আদালত সেটির ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা বা ব্লক আরোপ করে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন রয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আজ থেকে প্রায় ১৭০ বছর আগে ১৮৫৭ সালে প্রথমবার নাগরিকত্বের এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রায় দিয়েছিল, যা ‘ড্রেড স্কট বনাম স্যান্ডফোর্ড’ মামলা নামে পরিচিত।
আইনের অধ্যাপক আমান্ডা ফ্রস্টের মতে, এটিকে সুপ্রিম কোর্টের ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কজনক এবং লজ্জাজনক রায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ সেই রায়ে আদালত বলেছিল যে, কোনো কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি—তিনি দাস হোন বা মুক্ত—কখনোই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে পারবেন না। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ট্যানি তাঁর রায়ে উগ্র মন্তব্য করে বলেছিলেন, এই নিয়ম পছন্দ না হলে সংবিধান সংশোধন করা হোক।
আর ঠিক সেটাই ঘটেছিল আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর ১৮৬৮ সালে, যখন কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার ও সমতা নিশ্চিত করতে সংবিধানে বিখ্যাত ১৪তম সংশোধনী পাস করা হয়। পুনর্গঠন কংগ্রেসের মূল লক্ষ্যই ছিল ৪০ লাখের বেশি প্রাক্তন দাস ও সকল অভিবাসীর সন্তানদের মার্কিন নাগরিকত্ব দেওয়া। এর প্রায় ৩০ বছর পর ১৮৯৫ সালে ‘ওয়ং কিম আর্ক’ নামের এক মার্কিন বংশোদ্ভূত চীনা নাগরিকের মামলাকে কেন্দ্র করে এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারটি আরও বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
সান ফ্রান্সিসকো শহরে জন্ম নেওয়া ওয়ংকে একবার চীন সফর শেষে পুনরায় আমেরিকায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি আদালতে নিজের নাগরিকত্বের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেন এবং তীব্র বর্ণবাদের যুগেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর পক্ষে রায় দেয়। তবে বর্তমান যুগেও এর কিছু ভিন্নমত রয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রজার্স স্মিথ মনে করেন, সংবিধানে এই ধারাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হওয়ায় অনেক বিষয় সেখানে সরাসরি বলা নেই।
বিশেষ করে অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের বিষয়ে সংবিধান রচনার সময় স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসন মূলত স্মিথের এই গবেষণাকেই তাদের আইনি ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। তবে স্মিথ নিজে ট্রাম্পের এই কট্টর অভিবাসী বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁর গবেষণা বর্ণবাদী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিশ্বের সিংহভাগ দেশ, বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলো ইতিমধ্যেই জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার এই নিয়ম থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে।
২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে আয়ারল্যান্ড ছিল ইউরোপের সর্বশেষ দেশ, যারা তাদের দেশের ৭৯ শতাংশ জনগণের ভোটের ভিত্তিতে এই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। অন্যদিকে, আইনের অধ্যাপক আমান্ডা ফ্রস্ট মনে করেন যে, অভিবাসীদের এই দ্রুত নাগরিকত্ব ও অধিকার দেওয়ার কারণেই আমেরিকা আজ অনন্য। তিনি জানান, আমেরিকার ফরচুন ৫০০ কোম্পানির প্রায় অর্ধেকই পরিচালিত হচ্ছে অভিবাসী বা তাদের সন্তানদের দ্বারা।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের সাথে দ্বিমত পোষণ করলেও ফ্রস্ট মনে করেন, এই বিতর্কের মাধ্যমে আমেরিকার আদি ও আসল মূল্যবোধ, যা রাজতন্ত্রকে প্রত্যাখ্যান করে মানুষের জন্মগত সমতাকে ধারণ করে, তা নিয়ে পুনরায় নতুন করে ভাবার এক দারুণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর এই কারণে সাংবিধানিক গ্যারান্টির এই ধারাটি আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের স্বার্থেই বজায় রাখা উচিত।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝুঁকি সম্পর্কে যথাযথ সতর্কতা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে মোট ৯৪২ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে। বৃহস্পতিবার বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের দেওয়া চূড়ান্ত আদেশে নতুন করে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার একটি বিশেষ ক্ষতিপূরণ তহবিলে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে একই মামলায় জুরি ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছিল। ফলে সব মিলিয়ে মেটার বিরুদ্ধে আরোপিত অর্থদণ্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪২ মিলিয়ন ডলার, যা শিশু নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক রায়গুলোর একটি। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেটা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার কার্যক্রমকে একটি দূষণ ছড়ানো কারখানার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, কারখানার দূষণ যেমন চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাবও পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন করে আরোপিত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে বড় অংশ শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতা কর্মসূচি, ক্ষতি প্রতিরোধ এবং সহায়তামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি নিউ মেক্সিকোতে শিশুদের জন্য প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পরিবর্তন আনতে হবে মেটাকে। এর মধ্যে উন্নত বয়স যাচাই ব্যবস্থা, নাবালকদের জন্য ডিফল্ট নিরাপত্তা সেটিংস, নিয়মিত সতর্কতামূলক বার্তা এবং শিশুদের সুরক্ষায় অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মামলাটি ২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল তোরেস দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেটার অ্যালগরিদম নাবালকদের ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয় এবং অনলাইন যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৬ সালের মার্চে জুরি মেটাকে ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে। এরপর মামলার দ্বিতীয় ধাপে আদালত শিশুদের ক্ষতি কমাতে অতিরিক্ত ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের নির্দেশ দেয়। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মেটা জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয় এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। তবে নিউ মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই রায়কে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লড়াইয়ে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।
১৯৭৮ সালে এক সামার জবেই মিটত কলেজ টিউশন, থাকত বাড়তি আয়ও
যুক্তরাষ্ট্রে ‘জন্মসূত্রে’ নাগরিকত্ব সীমিতের বিলে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের ঋণ খেলাপির নতুন রেকর্ড: কিস্তি পরিশোধে হিমশিম ৯৫ লাখ আমেরিকান
মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক। ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন। মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়
বিমানবন্দরে আইসিইর হাতে বাগদত্তা আটক, ট্রাম্পকে ভোট দিয়ে এখন অনুতপ্ত সমর্থক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সৃষ্টি হওয়া নতুন চাকরির বড় অংশই নারীদের দখলে গেছে। নতুন এক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার নতুন নন-ফার্ম বেতনভুক্ত চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৮৬ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ লাখ ৩ হাজার চাকরি পেয়েছেন নারী কর্মীরা। পুরুষদের ভাগে এসেছে মাত্র ৬৫ হাজার চাকরি। অর্থনীতিবিদ জাস্টিন উলফার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের মূল কারণ কর্মসংস্থানের ধারা। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা খাতে যেখানে ঐতিহাসিকভাবেই নারী কর্মীর সংখ্যা বেশি। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুবিধাও তুলনামূলকভাবে নারীরাই বেশি পেয়েছেন। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নন-ফার্ম খাতে কর্মরত নারীর সংখ্যা পুরুষদের চেয়ে সামান্য বেশি। দেশটির ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বারের মতো ঘটল। ১৯৭০ সালে একই খাতে পুরুষ কর্মীর সংখ্যা নারীদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তবে গত পাঁচ দশকে ধীরে ধীরে সেই ব্যবধান কমে এসে এখন উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। নন-ফার্ম কর্মসংস্থানের হিসাবের বাইরে কৃষি খাতের চাকরি রাখা হয়। উলফার্সের মতে, এটি নারীদের প্রতি নিয়োগদাতাদের বিশেষ পক্ষপাতের ফল নয়। বরং অর্থনীতির যে খাতগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, সেগুলোতেই আগে থেকেই নারী কর্মীর আধিক্য ছিল। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী-প্রধান শিল্পখাতে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীতে পুরুষ-প্রধান খাতে ২ লাখ ১৮ হাজার এবং তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ খাতে ১ লাখ ৪২ হাজার চাকরি কমেছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান দ্রুত বেড়েছে। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই খাতে কর্মরতদের ৭৫ শতাংশের বেশি ছিলেন নারী। ফলে নতুন নিয়োগের বড় অংশও স্বাভাবিকভাবেই নারীদের ঝুলিতে গেছে। অর্থনীতিবিদ উলফার্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন ক্রমেই সেবাভিত্তিক হয়ে উঠছে। স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং বয়স্কদের সেবার মতো খাতে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একটি দেশ যখন আরও সমৃদ্ধ, উৎপাদনশীল এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীসমৃদ্ধ হয়, তখন অর্থনীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশের মানুষ কৃষি ও উৎপাদনশিল্পে কাজ করলেও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারণে এখন অনেক কম শ্রমিক দিয়েই একই বা তার চেয়ে বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। ফলে শ্রমশক্তি ধীরে ধীরে সেবা খাতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। আধুনিক কারখানা ও খামারে যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ধরণও বদলে যাচ্ছে। উলফার্সের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যে খাতগুলো সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে, সেগুলোকে অনেক সময় "পিঙ্ক-কলার অর্থনীতি" বলা হয়। এসব পেশায় ঐতিহাসিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ বেশি এবং এখনও পুরুষদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতে পুরুষদের কর্মসংস্থানও বাড়াতে হলে দ্রুত সম্প্রসারিত এসব খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
শব্দদূষণ নিয়ে তুচ্ছ তর্ক: যুক্তরাষ্ট্রে মা ও ১৭ বছরের কিশোরীকে গুলি করে হত্যা প্রতিবেশীর
টেক্সাসে ১১২ মাইল গতির বিএমডব্লিউর ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত প্রবীণ দম্পতি