আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় স্টুডেন্ট লোনে বড় ছাড়, স্বস্তিতে লাখো ঋণগ্রহীতা

ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের ঋণগ্রহীতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ বা অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত গ্রাহকদের জন্য সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ঋণগ্রহীতারা সুদের হারে সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সুবিধাটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর মাধ্যমে নিয়মিতভাবে ঋণের কিস্তি পরিশোধে গ্রাহকদের আরও উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই সুবিধা সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। শুধুমাত্র ২০১২ সালের ১ জুলাই বা তার পর নেওয়া যোগ্য ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনের গ্রাহকেরাই অতিরিক্ত সুদ-ছাড়ের আওতায় আসবেন।   অটো-পে হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে ঋণগ্রহীতার ব্যাংক হিসাব থেকে নির্ধারিত তারিখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির অর্থ কেটে নেওয়া হয়। ফলে কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ভুলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের বোঝা অনেক পরিবারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের চাপের কারণে অনেক গ্রাহক সময়মতো কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুদের হারে অতিরিক্ত ছাড় অনেক ঋণগ্রহীতার জন্য আর্থিক স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।   মার্কিন শিক্ষা বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, করোনা মহামারির আগে ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন গ্রাহকদের প্রায় ৮০ শতাংশ অটো-পে ব্যবস্থার মাধ্যমে ঋণ পরিশোধ করতেন। তবে মহামারির পর সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ গ্রাহক এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এই হার পুনরায় বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন প্রণোদনা চালু করা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, অটো-পে ব্যবস্থায় বেশি মানুষকে যুক্ত করা গেলে ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিকতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয়ও কমবে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা ইতোমধ্যে অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য নতুন করে কোনো আবেদন বা আলাদা পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নতুন সুদ-ছাড়ের সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে যারা এখনও অটো-পে ব্যবস্থায় যুক্ত নন, তারা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এ ব্যবস্থায় নাম নিবন্ধন করে ভবিষ্যতে এই সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।   অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণ খাতে বকেয়া ঋণের পরিমাণ কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সময়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নতুন উদ্যোগ নিয়ে থাকে। সর্বশেষ এই সুদ-ছাড় কর্মসূচিও সেই প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নতুন নীতির ফলে লাখো শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী তাদের ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে কিছুটা হলেও আর্থিক সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।   সূত্র: মার্কিন শিক্ষা বিভাগের ঘোষণা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তাবে আমেরিকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ, কাঠগড়ায় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এক্সেল এনার্জি' গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত চড়া বিল পরিশোধ করলেও তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার কলোরাডো পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের এক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ এই ক্ষোভের কথা জানান। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেল এনার্জি শুরুতে রাজ্য সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৩৫৫.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের আবেদন করেছিল। তবে গ্রাহকদের প্রবল আপত্তির মুখে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২২৪.৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কলোরাডোর একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫.৮৬ শতাংশ বা মাসে গড়ে ৬.১৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাবে।   কলম্বাইন নোলস এলাকার বাসিন্দা ক্যারি কার্টার শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে, সেখানে কেন বাড়তি বিল দেওয়া হবে? তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে তাদের। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, ক্যাম্পিং স্টোভে রান্না করা এবং তীব্র গরমে বরফ কিনে খাবার তাজা রাখার মতো বাড়তি মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এমনকি অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল।   গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বলেন, এক্সেল এনার্জি যেহেতু এই অঞ্চলে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, তাই সেবার মান উন্নত না করে তাদের বিল বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই।   এদিকে এক বিবৃতিতে এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তারা কলোরাডোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার পোল পরিবর্তন, ৪০০ মাইলের বেশি নতুন সঞ্চালন লাইন এবং নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই বিল বৃদ্ধির হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম এবং কলোরাডোর মানুষের বিদ্যুৎ বিল এখনো আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যের গড় বিলের চেয়ে কম রয়েছে।   তবে গ্রাহক ক্যারি কার্টারের মতে, এটি এখন স্রেফ বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন, "আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের এলাকায় সেবার কোনো উন্নতিই চোখে পড়েনি।" বিল বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালের বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্স তালিকায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা এয়ারলাইন্স

বিশ্বজুড়ে বিমানযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের 'এয়ারলাইন প্যাসেঞ্জার এক্সপেরিয়েন্স অ্যাসোসিয়েশন' (APEX) পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বৈশ্বিক তালিকায় গ্রাহকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য শীর্ষস্থান অর্জনকারী বিমান সংস্থাগুলোকে এই মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে পুরো বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বিমান সংস্থাগুলোর জন্য এবারের ফলাফল বেশ হতাশাজনক।   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র বিমান সংস্থা হিসেবে বিশ্বসেরা এয়ারলাইন্সের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে ডেল্টা এয়ারলাইন্স। মূলত ১,২০০টি উড়োজাহাজে বিনামূল্যে উন্নত ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়ার অনন্য নজির গড়ে বৈশ্বিক ক্যাটাগরিতে ‘সেরা ওয়াই-ফাই’-এর পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। একইসঙ্গে বিশ্বের মাত্র ৪০টি বিমান সংস্থার ভাগ্যলিপি হিসেবে খ্যাত 'এপেক্স ফাইভ স্টার গ্লোবাল এয়ারলাইন' পুরস্কারও নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে ডেল্টা।   বিশ্বসেরা বিমান সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় অন্যান্য প্রধান ক্যাটাগরির মধ্যে সেরা কেবিন সার্ভিসের পুরস্কার জিতেছে কোরিয়ান এয়ার। ইন-ফ্লাইট বিনোদনের জন্য সেরা নির্বাচিত হয়েছে এমিরেটস এবং সেরা খাবার ও পানীয় ক্যাটাগরিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে কাতার এয়ারওয়েজ। এছাড়া যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক আসনের স্বীকৃতি পেয়ে বিশ্বসেরা নির্বাচিত হয়েছে ইভা এয়ার। এদিকে উত্তর আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পুরস্কারে এবার এক ঐতিহাসিক নজির গড়েছে মেক্সিকোর এরোমেক্সিকো।   যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনো বিমান সংস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো তারা এই অঞ্চলের সামগ্রিক সেরা গ্লোবাল এয়ারলাইন্সের খেতাব লুফে নিয়েছে। এই অঞ্চলে সেরা মেজর এয়ারলাইন্স হিসেবে ব্রিজ এয়ারওয়েজ, সেরা লো-কস্ট ক্যারিয়ার হিসেবে সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং সেরা আঞ্চলিক বিমান সংস্থা হিসেবে জেএসএক্স (JSX) পুরস্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকায় সেরা খাবার ও আরামদায়ক আসনের ডাবল পুরস্কার জিতেছে জেটব্লু এয়ারওয়েজ।   বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০০টি বিমান সংস্থার ১০ লক্ষাধিক ফ্লাইটের ওপর নজর রেখে 'ট্রিপইট' (TripIt) অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীদের দেওয়া বেনামী রেটিং ও মতামত বিশ্লেষণ করে এই নিরপেক্ষ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এপেক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. জো লিডার জানান, যাত্রীদের প্রতিক্রিয়াই হলো বিমান সংস্থাগুলোর সেবার মান বোঝার সবচেয়ে স্পষ্ট নির্দেশক।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে জেট ফুয়েলের ঘাটতি, ফ্লাইট বাতিল এবং বাড়তি লাগেজ ফির মতো নানা বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও গত বছরের তুলনায় উত্তর আমেরিকায় বিমানযাত্রীদের সার্বিক সন্তুষ্টির হার ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের প্রিমিয়াম ইকোনমি বা 'ডেল্টা কমফোর্ট' শ্রেণির যাত্রীরা অতিরিক্ত লেগরুম, ডেডিকেটেড লাগেজ স্পেস এবং উন্নত খাবার ও পানীয়ের সুবিধার কারণে বিমান সেবায় সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হোয়াইট হাউসে ভয়াবহ নাশকতার পরিকল্পনা ব্যর্থ, এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার একাধিক সন্দেহভাজন

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে আয়োজিত ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ ইভেন্টে বড় ধরনের হামলার এক ভয়াবহ ছক বানচাল করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। এই নাশকতার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অন্তত ১২ জন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ বা চরমপন্থি মতাদর্শে বিশ্বাসী এই চক্রটির মূল লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পুঁজিবাদী ব্যবস্থার পতন ঘটানো। ড্রোন ও স্নাইপার দিয়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হোয়াইট হাউসে একটি নারকীয় পরিস্থিতি তৈরির পরিকল্পনা করেছিল তারা।   অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ‘সিগন্যাল’ অ্যাপের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা চলছিল। তবে এফবিআইয়ের তৎপরতায় এবং এক সন্দেহভাজনের মায়ের সতর্কতায় ভেস্তে যায় পুরো ব্লুপ্রিন্ট। গত ১০ জুন ওহাইও থেকে টাইসেন প্রপার নামের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়, মূলত যার মায়ের সন্দেহ থেকেই এই তদন্তের সূত্রপাত ঘটে। ছেলের অতিরিক্ত আগ্নেয়াস্ত্র কেনা এবং অনলাইনে সন্দেহভাজন কিছু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানান। প্রপারের মা জানান, অনলাইনে কিছু কথিত সাবেক সেনা সদস্য ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ছেলের যোগাযোগ ছিল। এই গোষ্ঠীটি মূলত সরকারি দুর্নীতি, জেফরি এপস্টেইন ইস্যু এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল।   তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির এই হামলার ছকটি ছিল কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইভেন্টে আসা দর্শনার্থীরা ভয়ে হোয়াইট হাউসের আঙিনার বাইরে পালাতে বাধ্য হতেন। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা স্নাইপার দল তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাত। ভার্জিনিয়ার ফ্রেডেরিকসবার্গে জড়ো হয়ে সেখান থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর কথা ছিল তাদের। এমনকি হোয়াইট হাউসের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পরিকল্পনাও ছিল এই চরমপন্থি দলটির।   এই চক্রের হিটলিস্টে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ রাজনীতিবিদের নামও ছিল। বিশেষ করে ইসরায়েলপন্থি লবিং গ্রুপ ‘আইপ্যাক’ (AIPAC)-এর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার কারণে তারা বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান সিনেটর ও প্রতিনিধিকে টার্গেট করেছিল। এদের মধ্যে সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন, জিম জাস্টিস, শেলি মুর ক্যাপিটো এবং প্রতিনিধি ক্যারল মিলার ও রাইলি মুরের নাম উল্লেখযোগ্য। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ প্রপারের ঘর তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ গুলি, আগ্নেয়াস্ত্র ও ট্যাকটিক্যাল পোশাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা যায়, হাইস্কুল পাসের পর উপহার হিসেবে পাওয়া তিন হাজার ডলার দিয়ে সে এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কিনেছিল। এছাড়া অনলাইনে হিটলারের প্রতি সহানুভূতি ও ইহুদিবিদ্বেষী বিভিন্ন মন্তব্যও করেছিল সে। ১১ জুনের জিজ্ঞাসাবাদে প্রপার স্বীকার করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘বিপ্লব’ শুরু করার লক্ষ্যেই তারা এই সংঘবদ্ধ হামলার ছক কষেছিল।   এই ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে মাইকেল অ্যালান থমাস ও ব্রায়ান ওমা রোয়া, নেব্রাস্কা থেকে আব্রাহাম হারমোসিলো আলভারেজ এবং মিসৌরি থেকে ড্যানিয়েল এসক্রিজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, ২৩ সদস্যের এই উগ্রপন্থি গ্রুপটির অনেকেই প্রথমে টিকটকের একটি গ্রুপের মাধ্যমে যুক্ত হয় এবং পরে সিগন্যাল অ্যাপে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করত। এই চরমপন্থি দলটি মূলত ‘অ্যাকসিলারেশনিস্ট’ মতাদর্শ ধারণ করত, যে মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে গত মাসে সান দিয়েগোর মসজিদেও হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এই ঘটনায় সামনে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বায়জিদ হাসান জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি:সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ড্রিমারদের দুঃস্বপ্ন, ড্যাকা নবায়ন জটিলতায় কর্মহীন হাজারো অভিবাসী তরুণ

আমেরিকায় অভিবাসী তরুণ বা 'ড্রিমার'রা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ডেফারড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস বা ড্যাকা (DACA) কর্মসূচির আওতায় থাকা এই তরুণরা তাদের স্ট্যাটাস নবায়নের জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস অপেক্ষায় রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নবায়ন প্রক্রিয়ায় এই অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেকেই তাদের চাকরি হারাচ্ছেন এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একসময়ে যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ লাগত, বর্তমানে তা মাসের পর মাস আটকে থাকছে। ২০১২ সালে চালু হওয়া এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল শৈশবে নথিপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের নির্বাসন থেকে রক্ষা করা, যা এখন মারাত্মক হুমকির মুখে।   ক্লাউদিয়া নামের এক ড্রিমার গত ডিসেম্বরে তার ড্যাকা নবায়নের আবেদন করেছিলেন। মাত্র চার বছর বয়সে আমেরিকায় আসা এই তরুণী জানান, নির্ধারিত সময়ে আবেদন ও সব নিয়মকানুন মেনে বায়োমেট্রিক্স সম্পন্ন করার পরও দীর্ঘ ছয় মাস ধরে তিনি কোনো উত্তর পাননি। ওয়ার্ক পারমিটের (কাজের অনুমতি) মেয়াদ শেষ হওয়ায় তার শিক্ষা ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়া ক্যারিয়ার এখন ঝুঁকির মুখে। এই পরিস্থিতিকে তিনি একটি 'ব্যক্তিগত আক্রমণ' বলে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, সিজার নামের আরেক তরুণ দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এইচআর (HR) বিভাগের চাকরি হারিয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় বুরিটো বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। হতাশাগ্রস্ত সিজার বলেন, "মনে হচ্ছে আমি আমার সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি। আমরা এখানেই বড় হয়েছি, আমাদের কমিউনিটি এখানেই, আর এখন মনে হচ্ছে আমাদের আমেরিকান স্বপ্নটা হঠাৎ করেই মিলিয়ে গেছে।"   এই প্রশাসনিক বিলম্ব এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ড্রিমাররা ক্রমবর্ধমান বৈরিতার সম্মুখীন হচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের অভিবাসন দমন নীতির অংশ হিসেবে গত এক বছরে শত শত ড্যাকা গ্রহীতাকে গ্রেপ্তার ও অনেককে বিতাড়িত করা হয়েছে। প্রশাসন যদিও দাবি করছে যে তারা অপরাধের রেকর্ড থাকা অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করছে, তবে দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে নির্বাসনের মুখোমুখি হওয়া ৭৭ শতাংশ মানুষেরই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২০০টি ভিন্ন দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি সক্রিয় ড্যাকা গ্রহীতা রয়েছেন, যারা মার্কিন অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রেখে চলেছেন। অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ইউনাইটেড উই ড্রিমের উপ-পরিচালক জুলিয়ানা ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তোর মতে, এই বিলম্ব আসলে ড্রিমারদের কর্মক্ষেত্র থেকে ছিটকে ফেলার একটি সুকৌশল। ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ড্যাকা গ্রহীতাদের জন্য নতুন কিছু কাজের বিধিনিষেধও প্রস্তাব করেছে, যার মধ্যে নিয়োগকর্তাদের 'ই-ভেরিফাই' ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা এবং বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অন্যতম। ম্যাসেডো দো নাসিমেন্তো একে একটি "ব্যাপক অবৈধকরণ প্রচেষ্টা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার মাধ্যমে লাখ লাখ মানুষকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।   এদিকে, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ড্যাকা দেশে কোনো আইনি বৈধতা দেয় না এবং সংস্থাটি মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় অভিবাসীদের আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছে। এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা মার্কিন কংগ্রেসের কাছে একটি দ্বিদলীয় 'ড্রিম অ্যাক্ট' পাসের আহ্বান জানাচ্ছেন, যা এই তরুণদের স্থায়ী আবাসিক মর্যাদা ও নাগরিকত্বের পথ প্রশস্ত করবে। দ্য ড্রিম ডট ইউএস-এর প্রেসিডেন্ট গ্যাবি পাচেকো বলেন, বছরের পর বছর অবদান রাখা এই মানুষগুলো আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে সবকিছু হারাচ্ছে, যা আমেরিকার ভবিষ্যতের জন্যই অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষ্ঠুর একটি অধ্যায়।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত
ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় আমেরিকার জর্জিয়ায় এক আইনজীবীর ১ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন।   মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি।   তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার।   গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন।   এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় ৩৯ দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড ও কাজের অনুমতি আটকে রাখার নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে।   গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।"   বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো।   উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিল আকাশচুম্বী, এসি চালানোর খরচে দিশেহারা সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।   ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে।   পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত।   চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকার গ্রামে প্রযুক্তি পার্ক বন্ধের দাবিতে সাধারণ মানুষের ঐতিহাসিক গণভোটের ডাক

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা।   কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে।   সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে।   পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে।   কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় প্রচণ্ড ঝড়-বাতাসে বাড়িঘর ধ্বংস ও বিদ্যুৎ বিপর্যয়, চরম ভোগান্তিতে মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অ্যানাপোলিস শহরে গত শুক্রবার আঘাত হানা এক শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সময় বড় বড় গাছ উপড়ে বাড়িঘরের ওপর ভেঙে পড়ায় অন্তত দুটি পরিবার সম্পূর্ণ গৃহহীন হয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এই ভয়াবহ দুর্যোগের পর থেকে হাজার হাজার মানুষ চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।   অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা দপ্তরের পরিচালক প্রীতি এমরিক জানান, ঝড়ের তীব্রতার কারণে এক পর্যায়ে প্রায় ২৩ থেকে ২৪ হাজার গ্রাহক পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। একই সাথে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় শহরের অন্তত ৪০টি প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকাল থেকেই উদ্ধারকারী দল রাস্তাঘাট থেকে গাছের ডালপালা ও ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘বিজিই’ (BGE) সংযোগ সচল করতে মাঠে নামে।   প্রীতি এমরিক আরও জানান, শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৩ হাজারে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে এবং বন্ধ থাকা সড়কের সংখ্যা ৫টিতে নেমে এসেছে। তাদের পাবলিক ওয়ার্কস ও পাবলিক সেফটি বিভাগ রাতভর অক্লান্ত পরিশ্রম করে বেশিরভাগ রাস্তা সচল করেছে। অ্যানাপোলিস এলাকা, কেপ সেন্ট ক্লেয়ার এবং ব্রডনেক অঞ্চলে ঝড়ের আঘাত সবচেয়ে তীব্র ছিল এবং পুরো ঘটনাটি খুব দ্রুত ঘটে গেছে।   অ্যানাপোলিসের মেয়র জ্যারেড লিটম্যান বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি জানান, ঝড়ের কারণে কিছু সাবস্টেশন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে শহরবাসী ও ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্য সিটি কর্পোরেশন ও বিজিই যৌথভাবে কাজ করছে।   ঝড়-পরবর্তী তীব্র গরম এবং দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভুক্তভোগী নাগরিকদের স্বস্তি দিতে অ্যান আরুন্ডেল কাউন্টির ম্যাগোথি রিভার মিডল স্কুলে একটি অস্থায়ী আশ্রয় বা ‘রেস্পাইট সেন্টার’ (Respite Center) খোলা হয়েছে। ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কাছাকাছি এই কেন্দ্রটি খোলার উদ্দেশ্য হলো, যাতে স্থানীয় মানুষ সেখানে এসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন, শরীর ঠাণ্ডা করতে পারেন এবং তাদের জরুরি ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা মোবাইল ফোন চার্জ করে নিতে পারেন।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শুক্রবারের ঝড়ের সময় মেঘের ঘূর্ণন দেখে মনে হচ্ছিল যেন একটি ছোটখাটো টর্নেডো আঘাত হেনেছে। অ্যানাপোলিসের সেভার্ন গ্রোভ রোডে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে মাটির কাছাকাছি ঝুলে থাকতে দেখা গেছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিরাপদ হলে বাসিন্দারা তাদের বাড়ির সামনের ভেঙে পড়া ডালপালা রাস্তার পাশে এনে রাখতে পারবেন, যা পাবলিক ওয়ার্কসের কর্মীরা সপ্তাহজুড়ে এসে সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভবিষ্যতের মানুষের জন্য মাটির ১৫ ফুট গভীরে এক টন ওজনের এক ‘রহস্যময় বাক্স’ লুকাচ্ছে আমেরিকা!

আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল (Semiquincentennial) উপলক্ষে যখন পুরো দেশ জুড়ে নানা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভবিষ্যতের ৫০০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে লক্ষ্য করে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কে মাটির ১৫ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হবে একটি ঐতিহাসিক ‘টাইম ক্যাপসুল’। কংগ্রেসের ২০১৬ সালের আইনি ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ঠিক ২৫০ বছর পর অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম জন্মদিনে এটি আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হবে। যার গায়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে—‘৪ জুলাই, ২২৭৬ সালের আগে খোলা নিষেধ’।   আমেরিকার সব কটি অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বস্তু, বই, পান্ডুলিপি ও স্মারক দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি আমেরিকার এই ক্যাপসুলেও স্থান পাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক। এর মধ্যে যেমন থাকছে একটি আধুনিক ‘আইফোন ১৭’ (iPhone 17), তেমনি থাকছে নেটিভ আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, কয়েন ও পিন এবং একটি কোকা-কোলার বোতল। এমনকি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈন্যদের সাথে থাকা একটি ঈগল পাখির পালকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এতে।   তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সৌজন্যে পাঠানো আমেরিকার মূল ঘোষণাপত্র বা ফাউন্ডিং ডকুমেন্টসগুলোতে। সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চ প্রযুক্তির ‘সিন্থেটিক ডিএনএ’ (Synthetic DNA) কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে থমাস জেফারসনের লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার মূল খসড়া, আব্রাহাম লিংকনের হাতের একটি প্রতিরূপ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত ‘দ্য স্টার-স্প্যানগেল্ড ব্যানার’-এর একটি বিশেষ রেকর্ডিং। একটি ছোট থিম্বলের (Thimble) আকারের পাত্রে এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ইতিহাস কোড করে রাখা হচ্ছে।   বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST)-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে পানি ঢুকে পড়ার কারণে সাধারণত বেশিরভাগ টাইম ক্যাপসুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্যাপসুলটিকে সুরক্ষিত রাখতে এক টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের গবেষকেরা এমন সব বস্তু বাতিল করে দিয়েছেন যা পচে যেতে পারে বা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো চামড়ার জিনিস বা খাবার আইটেম এতে স্থান পায়নি।   আমেরিকার প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্মারকের মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাঠিয়েছে কয়লা দিয়ে খোদাই করা তাদের রাজ্যের একটি মানচিত্র এবং ওহাইও পাঠিয়েছে রাইট ভাইদের ঐতিহাসিক বিমানের একটি কাপড়ের টুকরো, যার সাথে রয়েছে অরভিল রাইটের আসল বিবৃতি। এই প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক টম মেডেমা জানান, এই টাইম ক্যাপসুলটি মূলত ভবিষ্যতের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার স্বাধীনতার অবিনশ্বর আদর্শগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষুণ্ন থাকবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মঞ্চে শাকিরা-লিসাসহ বিশ্বতারকাদের ঝলক

উত্তর আমেরিকায় ফুটবলে প্রথম লাথি পড়ার আগেই সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের চোখ নিবদ্ধ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে। গতকাল বৃহস্পতিবার, ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠেছে ফুটবলের এই বিশ্ব আসরের। যারা একইসাথে ফুটবল এবং পপ কালচার ভালোবাসেন, তাদের কাছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচটির মতোই কাঙ্ক্ষিত এই আয়োজনের পারফরম্যান্সগুলো। এবারের বিশ্বকাপ বেশ কয়েকটি কারণে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে। ফিফার ইতিহাসে এবারই প্রথম তিনটি আয়োজক দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আলাদাভাবে উদ্বোধনী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এই তিন দেশে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও সংগীতের মেলবন্ধন ঘটাতে একমঞ্চে জড়ো হচ্ছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা সব তারকারা।   উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হিসেবে নিঃসন্দেহে সবার নজর থাকছে পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরার দিকে। ফিফা বিশ্বকাপে তার এই প্রত্যাবর্তন বিশ্বজুড়ে অগণিত ভক্তের মনে নস্টালজিয়া তৈরি করেছে। মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে নাইজেরিয়ান আফ্রোবিটস তারকা বার্না বয়কে সঙ্গে নিয়ে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং "দাই দাই" পরিবেশন করবেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, শাকিরার এই পারফরম্যান্স এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা ও আইকনিক একটি মুহূর্ত হতে যাচ্ছে।   অন্যদিকে, বাংলাদেশি কে-পপ ভক্তদের জন্য দারুণ এক চমক নিয়ে আসছেন বিখ্যাত গ্রুপ ব্ল্যাকপিংক-এর তারকা লিসা। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন তিনি, যা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তার ভক্তদের মাঝে বিপুল উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। লিসার পাশাপাশি একই মঞ্চে পারফর্ম করার কথা রয়েছে জনপ্রিয় মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরিরও।   কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী আয়োজনটিও বাংলাদেশিদের জন্য বাড়তি আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, কানাডার লাইনআপে জনপ্রিয় তারকা নোরা ফাতেহির পাশাপাশি পারফর্ম করবেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। এমন একটি বিশাল বৈশ্বিক মঞ্চে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত কাউকে পারফর্ম করতে দেখাটা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এবারের উদ্বোধনী উৎসবকে সবচেয়ে বেশি স্পেশাল করে তুলেছে এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। কেউ ল্যাটিন পপ, আফ্রোবিটস, ওয়েস্টার্ন পপ কিংবা কে-পপ—যে ঘরানার গান শুনেই বড় হোক না কেন, এই তারকাবহুল লাইনআপে সবার জন্যই পরিচিত কোনো না কোনো সুর থাকছে। বিশ্বকাপের এই রোমাঞ্চ প্রমাণ করে যে, এই টুর্নামেন্ট মানে কেবল গোল আর ম্যাচের হিসাব-নিকাশ নয়; বরং এটি সীমানা পেরিয়ে আইকনিক পারফরম্যান্স ও বিশ্ববাসীর একতাবদ্ধ হওয়ার এক অভাবনীয় উদযাপন।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬
লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে হোস্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া: উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ফোবানার (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গতকাল লস এঞ্জেলসে হোস্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী পরিষদের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   লস এঞ্জেলসের জনপ্রিয় কলাপাতা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদ ইকবাল। সভায় কনভেনশনের সার্বিক পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।   সভায় স্কলারশিপ কার্যক্রম, নারী ক্ষমতায়ন (উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন শিল্পীর শিডিউলিং, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং হোটেল অ্যাকোমোডেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কনভেনশনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।   সভায় আরও জানানো হয়, আগামী ১৩ তারিখ একটি টাউন হল কমিউনিটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কনভেনশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।   সভায় প্রায় ৩০ জন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন, আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইকবাল, চিফ অ্যাডভাইজর মাসুদ রব চৌধুরী, কো কনভেনর হাবিব টিয়া এবং চিফ কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ এস হক ও লস্কর আল মামুন, চেয়ারম‍্যান, মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন   এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিপার চৌধুরী, তুহিন খান, রফিকুল ইসলাম, নজরুল আলম, শহীদ আহমদ মিঠু (কালচারাল সেক্রেটারি), যুব ফোরামের চেয়ারম্যান ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মোহাম্মদ লিংকন ও মোহাম্মদ আলী, মোকলেস ভুইয়া, শিমুল কান্তি বড়ুয়া, মেহেদী হাসান, শফিক রহমান, ডাঃ মুশফিকুর হক, সাজিয়া হক সহ কমিউনিটির আরও অনেকে।   বক্তারা বলেন, ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধনের এক মহামিলন। দীর্ঘ চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।   তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।   সভা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে একটি সফল, বর্ণাঢ্য ও ইতিহাসগড়া ফোবানা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসকে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বাসযোগ্য শহর কার্মেল

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬–২০২৭ সালের জন্য প্রকাশিত “আমেরিকার সেরা ২৫০ বাসস্থান” তালিকায় শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর কার্মেল। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের এই তালিকায় গত বছর দ্বিতীয় স্থানে থাকা শহরটি এবার এক নম্বরে উঠে এসেছে। ইন্ডিয়ানাপলিস থেকে প্রায় ২০ মাইল উত্তরে অবস্থিত এই শহরটি সামগ্রিক জীবনমান, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের ভিত্তিতে শীর্ষে স্থান পেয়েছে।   তালিকায় কার্মেলের পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে একই অঙ্গরাজ্যের প্রতিবেশী শহর ফিশার্স। একই কাউন্টির আরেক শহর নোবেলসভিল ১৮তম স্থানে রয়েছে। প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই বাসযোগ্য শহর একে অপরের পাশাপাশি অবস্থিত শহর হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।   ৮৫৯টি শহরের মধ্যে মূল্যায়নে কার্মেল জীবনমান সূচকে ১৫তম, কর্মসংস্থানে ৪০তম, আকর্ষণীয়তায় ৯০তম এবং মূল্যমান সূচকে ১১৪তম অবস্থানে রয়েছে। সব সূচক মিলিয়ে সামগ্রিক স্কোরে শহরটি শীর্ষে উঠে আসে।   শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩ হাজার ৭৬৮ জন। গড় যাতায়াত সময় ২১ মিনিট, মধ্যম বাড়ির দাম প্রায় ৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬২৫ ডলার এবং গড় মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৪৫৭ ডলার। গড় পারিবারিক আয় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৫ ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা কার্মেলকে শান্ত, নিরাপদ এবং পরিবারবান্ধব শহর হিসেবে বর্ণনা করেন। শহরটির ডাউনটাউন এলাকা হাঁটার উপযোগী এবং এখানে দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক স্কুলগুলোর কিছু অবস্থিত।   দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত রিয়েল এস্টেট এজেন্ট ক্যারি হলে কার্মেলকে “আমাদের ছোট্ট স্বর্গ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শহরটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি নির্বাহী পেশাজীবী মাসুম মাহবুব জানান, এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবেশ এবং প্রতিবেশীদের আন্তরিকতা জীবনযাত্রাকে সহজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে।   কার্মেলের মেয়র সু ফিনকাম এই অর্জনকে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউএস নিউজের ভোক্তা বিশ্লেষক এরিকা জিওভানেটি বলেন, কম খরচে উচ্চমানের জীবনযাত্রা কার্মেল ও ফিশার্সকে বড় শহরগুলোর তুলনায় এগিয়ে নিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, র‌্যাঙ্কিং নির্ধারণে চারটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো আবাসন ব্যয়, জীবনমান, দৈনন্দিন পরিবেশ এবং কর্মসংস্থান পরিস্থিতি। জীবনমান সূচকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বায়ুর মান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

নুরুল্লাহ সাইদ মে ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে থাকছেন দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পীরা

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) আগামী বছর তাদের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল সিটির ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন।   “উন্নয়নের পথে আগামী প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত সংযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন।   আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশের জনপ্রিয় একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকিব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে।   এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের এ কনভেনশনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।   অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি।   এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে।   ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন।   গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে।   এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।   ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।

ইসতিয়াক আহমেদ মে ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
৪০তম কনভেনশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে
হলিউডের শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মহামিলন, লস অ্যাঞ্জেলেসে ৪০তম ফোবানা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি

উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা।   আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বিখ্যাত Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে।   কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। আয়োজকরা বলছেন, ফোবানার ৪০তম আয়োজনকে স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী করতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা।   “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ফোবানা আয়োজন করা হচ্ছে।   আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরা, উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করা এবং মূলধারার আমেরিকান সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের মূল লক্ষ্য।   আয়োজকদের প্রকাশিত বিভিন্ন কমিটি ও প্রস্তুতি কার্যক্রম থেকে জানা গেছে, এবারের কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, স্কলারশিপ ও শিক্ষা কার্যক্রম, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সেশন, কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় সভা, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শনী, বাংলাদেশি খাবারের ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ, মিডিয়া ও কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম, আইনি ও কমিউনিটি সহায়তা বিষয়ক আলোচনা এবং ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম।   এছাড়াও ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা, প্রস্তুতি সভা এবং কমিটি গঠনের কাজও চলছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এবারের কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশিষ্ট অতিথি, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেবেন।   ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি মোয়াজ্জেম চৌধুরীসহ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে আরও বৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।   বিশেষ করে হলিউড, ইউনিভার্সাল স্টুডিও এবং ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে।   অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বের বিনোদন রাজধানী হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এবারের ফোবানা সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে।   উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ।   সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।

নীলুফা নিশাত মে ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নতুন আইনের ফলে কানাডার নাগরিকত্ব পেতে যাচ্ছেন লাখ লাখ আমেরিকান

যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ নাগরিকের জন্য খুলে গেল কানাডার নাগরিকত্ব পাওয়ার এক অভাবনীয় সুযোগ। কানাডার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের এক সংশোধনী আনার ফলে এখন থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাস করছেন, তাদের অনেকেই আইনিভাবে কানাডীয় হিসেবে গণ্য হবেন। মূল ঘটনা কী? ২০০৯ সাল থেকে কানাডায় একটি নিয়ম প্রচলিত ছিল যে, দেশের বাইরে জন্ম নেওয়া কোনো কানাডীয় নাগরিকের সন্তান যদি দেশের বাইরেই জন্ম নেয়, তবে সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পেত না। একে বলা হতো 'ফার্স্ট জেনারেশন লিমিট'। কিন্তু গত বছর ওন্টারিও সুপিরিয়র কোর্ট এই নিয়মটিকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এই নিয়মটি বৈষম্যমূলক। এরই প্রেক্ষিতে কানাডা সরকার 'বিল সি-৩' পাস করে, যা গত ডিসেম্বরে কার্যকর হতে শুরু করেছে। এই নতুন আইনের আওতায় যারা জন্মসূত্রে কানাডীয় কিন্তু দেশের বাইরে থাকার কারণে নাগরিকত্ব পাননি (যাদের 'লস্ট কানাডিয়ান্স' বলা হয়), তারা এবং তাদের উত্তরসূরিরা এখন নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। কেন এই আইন গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা। কয়েক প্রজন্ম আগে যাদের পূর্বপুরুষরা কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছিলেন, তারা এখন সহজেই কানাডীয় পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেক আমেরিকান একটি 'প্ল্যান বি' বা বিকল্প নাগরিকত্ব হিসেবে কানাডার দিকে ঝুঁকছেন। আবেদন প্রক্রিয়া: ইতিমধ্যেই এই নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নথিপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে গেছে। আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা তার আগের কোনো প্রজন্মের সরাসরি রক্তসম্পর্কিত কেউ কানাডার নাগরিক ছিলেন। তবে এক্ষেত্রে আবেদনকারীর কানাডার সাথে একটি 'সুদৃঢ় সংযোগ' (Substantial Connection) থাকতে হবে, যার অর্থ হলো আবেদনকারীর অভিভাবককে কানাডায় নির্দিষ্ট সময় (প্রায় ৩ বছর) বসবাসের প্রমাণ দেখাতে হতে পারে। ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাসে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে আসা আবেদনের হার আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। অনেকে কেবল পারিবারিক শেকড়ের টানে নয়, বরং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কানাডীয় নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহী হচ্ছেন।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ২৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
লেগো ভিডিওর মাধ্যমে যেভাবে ট্রাম্পকে কুপোকাত করল ইরান

সরাসরি সংঘাতের পাশাপাশি বর্তমানে ডিজিটাল দুনিয়ায় চলছে ‘ন্যারেটিভ ওয়ার’ বা বর্ণনার যুদ্ধ। আর এই যুদ্ধে এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ইরান। আল-জাজিরার এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি ‘লেগো ভিডিও’ সিরিজ এক বিশাল প্রোপাগান্ডা যুদ্ধে জয়লাভ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা এই অ্যানিমেশন ভিডিওগুলোতে শিশুদের জনপ্রিয় খেলনা ‘লেগো’র আদলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে ট্রাম্পের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, এপস্টাইন ফাইল এবং যুদ্ধের ভয়াবহতাকে অত্যন্ত ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে র‍্যাপ মিউজিক এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করায় এই ভিডিওগুলো তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আগে যেখানে গতানুগতিক ধারায় প্রচার চালাত, এখন তারা সরাসরি পশ্চিমা পপ সংস্কৃতিকে ব্যবহার করছে। ভিডিওগুলোতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হাস্যকরভাবে উপস্থাপন করার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান এবং বৈদেশিক নীতিকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে। ইউটিউব এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো এই ভিডিওগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করলেও এক্স (সাবেক টুইটার) এবং টিকটকে এগুলো কোটি কোটি ভিউ পেয়েছে। বিশেষজ্ঞ এমা ব্রায়ান্ট জানান, “নতুন প্রযুক্তি ইরানকে এমন এক শক্তি দিয়েছে যার মাধ্যমে তারা পশ্চিমা দর্শকদের জন্য ‘বিনোদনমূলক’ কন্টেন্ট তৈরি করে তাদের মনস্তত্ত্বকে প্রভাবিত করতে পারছে।” আল-জাজিরা উল্লেখ করেছে যে, এই ভিডিওগুলোর মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে বর্তমান সময়ের যুদ্ধে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার বর্ণনায় কে বেশি শক্তিশালী, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চীনের প্রতি ইতিবাচক হচ্ছে মার্কিনিদের দৃষ্টিভঙ্গি: পিউ রিসার্চের নতুন জরিপ

দীর্ঘ কয়েক বছরের বৈরী সম্পর্কের পর চীনের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়ছে বলে জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চীনের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছরের তুলনায় এই হার ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৩ সালের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর মার্কিনিদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে চীনের প্রতি এই নমনীয় ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, চীনকে ‘শত্রু’ হিসেবে দেখার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৩৩ শতাংশ মার্কিনি চীনকে শত্রু মনে করতেন, বর্তমানে তা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্ধেকেরও বেশি (৬০ শতাংশ) আমেরিকান এখনো চীনকে একটি শক্তিশালী ‘প্রতিযোগী’ হিসেবেই দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে চীনা সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তি (যা 'Chinamaxxing' হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে) তরুণ মার্কিনিদের আকর্ষণ করছে। এছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে ইতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এখনো চীনের প্রতি কঠোর মনোভাব বজায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ এখনো মনে করে যে, চীন আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বসবাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে কেন মধ্য ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছেন মার্কিনীরা?

বর্তমান সময়ে মার্কিন নাগরিকদের বসবাসের পছন্দের তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় গন্তব্য পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোকে পেছনে ফেলে অনেক আমেরিকান এখন থাকার জন্য বেছে নিচ্ছেন মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোকে। সম্প্রতি সিএনএন ট্রাভেলের এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই নতুন প্রবণতার চিত্র। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি এবং চেক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে মার্কিনীদের এই অভিবাসনের পেছনে মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি কাজ করছে। পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে আকাশচুম্বী বাড়ি ভাড়া এবং জীবনযাত্রার খরচে হিমশিম খেয়ে অনেক আমেরিকান এখন ওয়ারশ, বুদাপেস্ট বা প্রাগের মতো শহরগুলোকে অধিক সাশ্রয়ী মনে করছেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, উচ্চমানের নাগরিক সুবিধা এবং আধুনিক অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও এসব দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় আমেরিকার অনেক শহরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। বিশেষ করে যারা রিমোট জব বা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের জন্য এই অঞ্চলগুলো 'স্বর্গ' হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমেরিকানদের মতে, মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক মূল্যবোধ অত্যন্ত প্রবল। অনেক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, তারা আমেরিকার ব্যস্ত এবং যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে এই শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ বেছে নিয়েছেন। এছাড়া এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিও তাদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে পোল্যান্ডের কথা উল্লেখ করে অনেক অভিবাসী জানিয়েছেন, দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এবং চমৎকার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা তাদের মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে, হাঙ্গেরির স্থাপত্যশৈলী এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার কারণে আমেরিকানদের সংখ্যা সেখানে দিন দিন বাড়ছে। তবে এই নতুন ঠিকানায় থিতু হওয়া খুব একটা সহজ নয়। স্থানীয় ভাষা রপ্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদী ভিসার জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তা সত্ত্বেও, একটি সুন্দর এবং চাপমুক্ত জীবনের আশায় হাজার হাজার আমেরিকান প্রতি বছর তাদের ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপের এই প্রান্তে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের জনতাত্ত্বিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0