- প্রচ্ছদ
- Topic
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার দাবি তুলেছেন। ১৯ অক্টোবর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, রাজ্যটির নাম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। তাঁর দাবি, নতুন নাম রাজ্যটির মর্যাদা বাড়াবে এবং বাড়ির মূল্য ও মানুষের আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে। তবে এসব অর্থনৈতিক সুবিধার পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর আহ্বান এখনো রাজনৈতিক বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে; নিউ মেক্সিকোর নাম পরিবর্তনের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠারও আগে নিউ মেক্সিকো এই নামে পরিচিত ছিল এবং ভবিষ্যতেও রাজ্যটি নিউ মেক্সিকো হিসেবেই থাকবে। এ ছাড়া রাজ্যটির রিপাবলিকান রাজনীতিক গ্রেগ কানিংহামও বলেছেন, আইনগতভাবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। অর্থাৎ, ট্রাম্পের নিজের দলীয় শিবির থেকেও এ প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর নামের ইতিহাস যুক্তরাষ্ট্রের জন্মেরও আগের। মার্কিন আদিবাসীবিষয়ক ব্যুরোর তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নামটির শিকড় ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বিস্তৃত। স্প্যানিশ অভিযাত্রীরা ১৫৬০-এর দশকে এ অঞ্চলকে ‘লা নুয়েভা মেক্সিকো’ নামে অভিহিত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে অঞ্চলটি স্পেনীয় শাসনের অধীনে ছিল, ১৮২১ সালে মেক্সিকোর অংশ হয় এবং ১৮৪০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসে। ১৯১২ সালে নিউ মেক্সিকো যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে রাজ্যটির জনসংখ্যার বড় একটি অংশ হিস্পানিক ও লাতিনো ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং স্প্যানিশ ভাষা ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহাসিক উপস্থিতিও রয়েছে। এ কারণে অনেক বাসিন্দার কাছে ‘নিউ মেক্সিকো’ শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়; এটি মেক্সিকো’ শুধু একটি ভৌগোলিক নাম নয়; এটি তাঁদের পারিবারিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় জায়গা পেতে একটি পরিবারের নিট সম্পদ অন্তত ১৮ লাখ ডলার হতে হবে। বর্তমান সম্পদের মূল্য, বাড়ি ও শেয়ারবাজারের উত্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় এই সীমা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু সম্পদের পরিমাণ নয়, পরিবারের বার্ষিক আয় এবং বসবাসের অঞ্চলও আর্থিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ভিসার ২০২৫ সালের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ পরিবারকে ধনী বা আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে ধরা যায়। কোনো পরিবারের বার্ষিক আয় অন্তত ২ লাখ ১০ হাজার ডলার অথবা নিট সম্পদ ১৮ লাখ ডলার হলে সেটি এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। অর্থাৎ, শুধু ব্যাংকে জমা থাকা টাকা দিয়ে ধনী হওয়ার হিসাব করা হয় না; পরিবারের সব সম্পদ ও দায় বিবেচনায় নেওয়া হয়। নিট সম্পদ হিসাব করার পদ্ধতিও তুলনামূলক সহজ। একজন ব্যক্তি বা পরিবারের বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংকে থাকা অর্থ, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং অন্যান্য মূল্যবান সম্পদের মোট মূল্য থেকে সব ঋণ বাদ দিতে হয়। বাড়ির বন্ধকী ঋণ, গাড়ির কিস্তি, শিক্ষাঋণ, ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া এবং অন্যান্য আর্থিক দায়ও এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। সম্পদের মোট মূল্য থেকে এসব দায় বাদ দেওয়ার পর যে অর্থ থাকে, সেটিই নিট সম্পদ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে ধনী হওয়ার আর্থিক সীমা এক নয়। বাড়ির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অঞ্চলভেদে এই পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ভিসার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকতে নিট সম্পদ প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ ডলার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এই সীমা ১৯ লাখ ডলার, দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ লাখ ডলার এবং মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে ১৭ লাখ ডলার। অর্থাৎ, তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল অঞ্চলে বসবাসকারী পরিবারকে একই আর্থিক শ্রেণিতে পৌঁছাতে বেশি সম্পদের মালিক হতে হয়। সম্পদের এই সীমা বাড়ার পেছনে বাড়ি ও শেয়ারবাজারের সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভিসার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার মার্কিন নাগরিক কোটিপতি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছেন। তবে কেবল ১০ লাখ ডলারের সম্পদের মালিক হওয়াই এখন দেশটির শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের বৈষম্যও আলোচনায় রয়েছে। সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিক থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত দেশটির শীর্ষ ১ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ গড়ে প্রতি পরিবারে প্রায় ১৮ লাখ ডলার বেড়েছে। একই সময়ে সম্পদের হিসাবে নিচের ৫০ শতাংশ পরিবারের নিট সম্পদ বেড়েছে গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ ডলার। অর্থাৎ, দুই গোষ্ঠীর সম্পদ বৃদ্ধির ব্যবধান ছিল অনেক বড়। বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলো বেশি লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের অনেক পরিবারকে ঋণ পরিশোধ এবং দৈনন্দিন ব্যয় সামলাতে হয়। ফলে সম্পদ গড়ে তোলার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়। ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়াতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, প্রথমে আয় ও ব্যয়ের হিসাব তৈরি করা, জরুরি প্রয়োজনে তিন থেকে ছয় মাসের খরচের সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা এবং উচ্চ সুদের ঋণ কমানো। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনার সুবিধা থাকলে তা কাজে লাগানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিষয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ধনী পরিবারের শীর্ষ ১০ শতাংশে পৌঁছানোর জন্য ১৮ লাখ ডলারের নিট সম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মানদণ্ড। তবে বসবাসের অঞ্চল, পরিবারের আয়, ঋণের পরিমাণ এবং সম্পদের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে।
ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে সৃষ্ট সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল কলার দাম অচিরেই আকাশছোঁয়া হতে পারে। গুয়াতেমালার গাছ থেকে ছিঁড়ে আমেরিকানদের স্মুদি গ্লাস পর্যন্ত কলার এই দীর্ঘ যাত্রায় বর্তমানে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে। ডেল মন্টে নর্থ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ড্যানি ডুমাস সার্বিক পরিস্থিতিকে রীতিমতো একটি 'সংকট' বলে আখ্যায়িত করেছেন। কলার বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বছরের পর বছর ধরে অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী হিসেবে পরিচিত। একটি পুষ্টিকর কলার দাম যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মাত্র ১৫ সেন্টের মতো হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে সেই সস্তা দাম চরম হুমকির মুখে। বিখ্যাত মার্কিন সংবাদপত্র 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' সম্প্রতি মধ্য আমেরিকা থেকে পেনসিলভানিয়ায় আসা কয়েক মিলিয়ন কলার একটি চালান ট্র্যাক করে এই ফলটির যাত্রাপথে নানা বিপত্তির কথা তুলে ধরেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্যাংকারের দ্রুত সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেলের দাম প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে তৈরি কলার সারের দামও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং ট্রাক চালকের তীব্র সংকট। মরার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে 'এল নিনো' (El Niño) আবহাওয়া পরিস্থিতি, যা শিপিং ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। উত্তর আমেরিকার বানানা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট টম স্টেনজেল জানান, এই একাধিক কারণ মিলে একটি বড় সংকটের জন্ম দিয়েছে এবং কলার উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা বর্তমানে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে। বর্তমানে পূর্বচুক্তি অনুযায়ী দাম নির্ধারিত থাকলেও কৃষকরা ইতোমধ্যেই বাড়তি খরচের বোঝা বহন করছেন। এক উৎপাদকের মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর তার খরচ ৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় এত বেশি বেড়েছে যে, অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে কলা চাষ বাদ দিয়ে অন্য ফলের দিকে ঝুঁকছেন। আগামী ডিসেম্বরে কলার চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, এরপর কতজন মুদি দোকানি দাম বাড়াতে দেবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ২০২৫ সালে কলার দাম প্রতি পাউন্ড ৬৭ সেন্ট ছুঁয়েছিল, যা ছিল গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস এবং কোস্টারিকা থেকে আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের কারণেই মূলত এই দাম বেড়েছিল, যা পরে তুলে নেওয়া হয়। তবুও গত আগস্টে কলার দাম আগের বছরের তুলনায় ২.২ শতাংশ বেশি ছিল। জ্বালানির দাম ও শুল্কের ওঠানামা ছাড়াও এই শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি একটি বড় শঙ্কা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে 'পানামা ডিজিজ' নামক এক ক্ষতিকর ছত্রাক। অতীতে এই রোগটি 'গ্রস মিশেল' (Gros Michel) জাতের কলাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। বর্তমানে এই রোগটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলার জাত 'ক্যাভেন্ডিশ'-এর (Cavendish) জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে জনমত এখনও পুরোপুরি বদলে যায়নি। সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডকে সমর্থন করেন। তবে কয়েক দশক আগের তুলনায় এই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য এবং গুরুতর অপরাধ ঠেকাতে এটি আদৌ কার্যকর কি না—এসব প্রশ্নে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভক্তি দেখা যাচ্ছে। পিউ রিসার্চের জুলাই ২০২৬ সালের জরিপে ৬৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন, হ ত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে তারা। বিপরীতে ৩২ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। ৩ হাজার ৫৫৪ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত এই জরিপে মৃ ত্যুদণ্ডের নৈতিকতা এবং অপরাধ প্রতিরোধে এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। জরিপের ফলাফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈপরীত্য উঠে এসেছে। ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, হ ত্যার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে ন্যায়সংগত। কিন্তু একই সময়ে ৫৯ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, মৃ ত্যুদণ্ড গুরুতর অপরাধ সংঘটন থেকে মানুষকে বিরত রাখে না। অর্থাৎ, অনেক আমেরিকান এই শাস্তিকে নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করলেও অপরাধ দমনে এর কার্যকারিতা নিয়ে তারা নিশ্চিত নন। কয়েক দশকে কমেছে সমর্থন মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আমেরিকানদের সমর্থন একসময় বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। গ্যালাপের দীর্ঘমেয়াদি জরিপ অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালে ৮০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হ ত্যার দায়ে দোষী ব্যক্তির জন্য মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। কয়েক দশক পর সেই সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ২০২৫ সালের গ্যালাপ জরিপে ৫২ শতাংশ মানুষ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন, আর ৪৪ শতাংশ এর বিরোধিতা করেন। অর্থাৎ, মৃ ত্যুদণ্ড এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন পেলেও পক্ষে-বিপক্ষের ব্যবধান এখন আগের তুলনায় অনেক কম। নৈতিকতার প্রশ্নেও একই ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের জুনের গ্যালাপ জরিপে মাত্র ৫২ শতাংশ আমেরিকান বলেছেন, মৃ ত্যুদণ্ড নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য। গ্যালাপের হিসাবে, এটি তাদের জরিপে এ ধরনের মতামতের সর্বনিম্ন পর্যায়। রাজনৈতিক বিভাজনও স্পষ্ট মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে মার্কিন জনমতে রাজনৈতিক বিভাজনও বড় ভূমিকা রাখছে। পিউ রিসার্চের জরিপে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানপন্থী স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে ছিলেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের মধ্যে সমর্থনের হার ছিল ৫১ শতাংশ। এর ফলে দেখা যাচ্ছে, মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে শুধু নৈতিক অবস্থানের পার্থক্য নয়, রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গেও দৃষ্টিভঙ্গির বড় সম্পর্ক রয়েছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও অর্ধেকের বেশি মানুষ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই শাস্তির পক্ষে রয়েছেন। তবে মৃ ত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের আশঙ্কা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ রয়েছে। পিউয়ের জরিপে ৭৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়ার কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র এক-চতুর্থাংশ মনে করেন, এমন ভুল ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যর্থ কার্যকরণে নতুন করে প্রশ্ন মৃ ত্যুদণ্ড নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই টেনেসিতে একটি ব্যর্থ কার্যকরণের ঘটনা বিষয়টিকে আরও আলোচনায় এনেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ক্রিস্টা পাইকের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার সময় তাকে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুই ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি বেঁচে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার আইনজীবীরা জানান, তিনি সচেতন ছিলেন ও কথা বলছিলেন। ঘটনাটি কেন ঘটেছে, তা নিয়ে তখনও নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাইকের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ইনজেকশনের শিরার লাইন সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়নি। টেনেসিতে একই বছরে এটি ছিল দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের ঘটনা। এর আগে মে মাসে টনি কারাদার্সের মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শিরায় প্রবেশের পথ তৈরি করার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ায় কার্যক্রম বাতিল করা হয়। ক্রিস্টা পাইকের ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি রাজ্যের ২০২৬ সালের বাকি মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণ স্থগিত করেন এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনার নির্দেশ দেন। তবে অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত কার্যকরণ পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যায়। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান মৃ ত্যুদণ্ডের প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি একটি নির্বাহী আদেশে গুরুতর ফেডারেল অপরাধের ক্ষেত্রে মৃ ত্যুদণ্ড চাওয়ার বিষয়ে বিচার বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। আদেশে মৃ ত্যুদণ্ডকে সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শাস্তি ও অপরাধ প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হয়। চলতি সপ্তাহেও ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তে মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরণের পদ্ধতি নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে সাম্প্রতিক জরিপগুলো দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের পক্ষে এখনও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত রয়েছে। কিন্তু ১৯৯০-এর দশকের ৮০ শতাংশ সমর্থনের তুলনায় বর্তমান অবস্থান অনেক দুর্বল। বিশেষ করে শাস্তিটির নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকারিতা এবং নিরপরাধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি—এই তিনটি বিষয় আমেরিকানদের মতামতকে ক্রমেই বিভক্ত করছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে মৃ ত্যুদণ্ডের প্রতি আস্থা এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শাস্তিকে ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছে, আর জনমতের ব্যবধানও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে।
আমেরিকানদের সঞ্চয় লু টতে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিশাল ‘স্ক্যাম সিটি’ বা প্র তা র ণার ঘাঁটি। এসব ঘাঁটি থেকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন, ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্র তা র ণা চালানো হচ্ছে। এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ‘অপারেশন ব্ল্যাকআউট’-এর আওতায় বিদেশে থাকা বিশাল প্র তা র ণা কমপ্লেক্সগুলো শনাক্ত, অচল ও ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এসব চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। প্যাটেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘাঁটি কোনো ছোটখাটো অফিস নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় এমন কমপ্লেক্স রয়েছে, যেগুলো দেখতে অনেকটা পুরো শহর বা গ্রামের মতো। সেখানে পা চা রের শিকার মানুষদের জো র করে কাজ করানো হয় এবং তাদের ব্যবহার করে হাজার হাজার মাইল দূরে থাকা আমেরিকানদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্যাটেল বলেন, এসব প্র তা র ণার শিকারদের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের বয়স্ক নাগরিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ফোন কল, খুদে বার্তা এবং টেলিগ্রামের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে বিশ্বাস তৈরি করা হয়। প্র তা র ণার একটি প্রচলিত কৌশল হলো অনলাইনে বন্ধুত্ব বা প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করা। পরে সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ভুক্তভোগীকে ভুয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্মে অর্থ দিতে উৎসাহিত করা হয়। শুরুতে সেখানে বড় অঙ্কের লাভ দেখানো হতে পারে। কিন্তু টাকা তুলতে গেলে দেখা যায়, অর্থ আর ফেরত নেওয়া যাচ্ছে না। প্যাটেল এসব ঘাঁটিকে ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সেখানে এমন অবকাঠামো রয়েছে যেখানে মানুষকে জো র করে শ্রম দিতে বাধ্য করা হয়। আগস্টে কম্বোডিয়ার প্রায় ২০০ একর আয়তনের ওসমাচ রিসোর্টে এমন একটি ঘাঁটিতে অভিযান চালানো হয়। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে ২৮টি ভবনে তল্লাশি চালিয়ে ১১৩টি হার্ডড্রাইভ, ১৫টি কম্পিউটার এবং ৩৫টি বাক্সভর্তি আলামত জব্দ করা হয়। শুধু অভিযান চালানো নয়, মানুষ যাতে প্র তা র ণার শিকারই না হন, সে বিষয়েও কাজ করছে এফবিআই। ‘অপারেশন লেভেল আপ’-এর মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিয়োগ প্র তা র ণার শিকারদের আগেভাগে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এফবিআই জানিয়েছে, এই উদ্যোগের আওতায় ১০ হাজার ৪০৬ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে সতর্ক করা হয়েছে। এর ফলে আনুমানিক ৬৬০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১২২ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ বা ফ্রিজ করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, যাদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করেছে, তাদের ৭৭ শতাংশই শুরুতে বুঝতে পারেননি যে তারা প্র তা র ণার শিকার হচ্ছেন। এ ছাড়া ৫৮৪টি প্র তা র ণামূলক ওয়েবসাইট জব্দ এবং ৭ হাজার ৬৭০টি সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের তথ্য বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানো হয়েছে। সেপ্টেম্বরে মাদাগাস্কারে ১৩টি প্র তা র ণা কেন্দ্র বন্ধ করতেও মার্কিন বিচার বিভাগের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করে। অভিযানে ৩ হাজার ২০০টির বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রক্রিয়া করা হয়। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কেন্দ্র চীনা সংগঠিত অ প রা ধ চক্র পরিচালনা করছিল। তবে এসব চক্রের অবস্থানও বদলে যাচ্ছে। প্যাটেল জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের পর এখন মধ্য ও সাব-সাহারান আফ্রিকার দিকে নিজেদের ঘাঁটি সরিয়ে নিচ্ছে কিছু প্র তা র ণা চক্র। নতুন এসব এলাকাতেও অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে এফবিআইয়ের। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক তথ্যেও অনলাইন প্র তা র ণার বড় ঝুঁকি উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবারভিত্তিক অ প রা ধে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষের ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। ফলে বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা এসব ‘স্ক্যাম সিটি’ এখন শুধু অনলাইন প্র তা র ণার কেন্দ্র নয়, বরং সীমান্ত পেরিয়ে পরিচালিত একটি বড় অ প রা ধ নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের নজরে রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার সময় প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ সঙ্গে নিলে ইংরেজিতে প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, সিবিপি। ওষুধ মূল প্যাকেটে রাখা এবং প্রবেশের সময় কাস্টমস কর্মকর্তাকে জানানোও জরুরি। তবে শুধু প্রেসক্রিপশন থাকলেই সব ধরনের ওষুধ আমেরিকায় নেওয়া যায় না। নিউইয়র্কের জেএফকেসহ আমেরিকার যেকোনো প্রবেশপথে ওষুধ বহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল নিয়ম প্রযোজ্য। সিবিপির নির্দেশনা অনুযায়ী, সঙ্গে থাকা ওষুধ নিজের চিকিৎসায় কেন প্রয়োজন, তা বোঝাতে ইংরেজিতে বৈধ প্রেসক্রিপশন বা ডাক্তারের চিঠি রাখা উচিত। ওষুধ মূল প্যাকেটে না থাকলে প্রেসক্রিপশনের কপি অথবা রোগ ও চিকিৎসার প্রয়োজন ব্যাখ্যা করা ডাক্তারের চিঠি সঙ্গে রাখতে হবে। প্রেসক্রিপশনে রোগীর নাম, ওষুধের জেনেরিক নাম, ডোজ এবং ব্যবহারের নির্দেশনা স্পষ্ট থাকলে ওষুধ শনাক্ত করা সহজ হয়। মূল কাগজের পাশাপাশি ফটোকপি রাখা এবং ফোনে ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করা বাড়তি প্রস্তুতি হিসেবে কাজে আসতে পারে। ওষুধ মূল লেবেলযুক্ত প্যাকেট বা বোতলে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিবিপি। সম্ভব হলে প্যাকেটে ডাক্তারের ব্যবহারের নির্দেশনাও থাকতে হবে। এতে কাস্টমস পরীক্ষার সময় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। পরিমাণের ক্ষেত্রে সাধারণ নির্দেশনা হলো, নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ নেওয়া এবং সাধারণভাবে ৯০ দিনের সরবরাহের বেশি সঙ্গে না রাখা। তবে এই নির্দেশনাকে সব যাত্রীর জন্য সব ধরনের ওষুধ নেওয়ার অনুমতি হিসেবে ধরে নেওয়া যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, এফডিএ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে আমেরিকায় আসা বিদেশি নাগরিকেরা ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য ৯০ দিনের ওষুধ আনতে পারেন। এ নির্দেশনায় বিদেশি নাগরিক বলতে আমেরিকার নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা নন, এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ফলে আমেরিকান নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারীদের একই সুবিধা প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। এফডিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদেশে অনুমোদিত কোনো ওষুধ আমেরিকায় অনুমোদিত না হলে সেটি আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিছু ক্ষেত্রে ছাড় বিবেচনা করা হলেও তা শর্তসাপেক্ষ। বাংলাদেশে ওষুধটি সহজে পাওয়া যায় কিংবা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন রয়েছে, এই কারণেই আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন নিয়ন্ত্রিত উপাদানযুক্ত ওষুধের ক্ষেত্রে। কিছু ঘুমের, ব্যথার বা অন্য চিকিৎসার ওষুধ এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। এসব ওষুধের ক্ষেত্রে ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ডিইএর নিয়মও মানতে হয়। তাই ভ্রমণের আগে ওষুধের জেনেরিক নাম ও উপাদান অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করা প্রয়োজন। আমেরিকায় দীর্ঘদিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে আনা ওষুধ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা ভালো। প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তারের কাছে আগের প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার কাগজপত্র নিয়ে গেলে চলমান চিকিৎসা মূল্যায়নে সহায়তা হবে। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে পরবর্তী ওষুধ পাওয়ার বিষয়টি আগে থেকেই চিকিৎসক ও ফার্মেসির সঙ্গে নিশ্চিত করা উচিত। ভ্রমণের প্রস্তুতিতে সবচেয়ে জরুরি হলো ওষুধের পরিচয় স্পষ্ট রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নেওয়া এবং কাস্টমস কর্মকর্তাকে ওষুধের কথা জানানো। নিজের নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দার অবস্থান এবং ওষুধের ধরন অনুযায়ী এফডিএ, সিবিপি ও প্রয়োজনে ডিইএর নির্দেশনা মিলিয়ে প্রস্তুতি নিতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র তার গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামের জন্য যোগ্য বিদেশি নাগরিকদের তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সিবিপির পরিচালিত এই কর্মসূচির আওতায় আগাম যাচাই করা কম-ঝুঁকির ভ্রমণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তুলনামূলক দ্রুত কাস্টমস ও সীমান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকরাও আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু কোনো দেশের নাগরিক হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্যপদ পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের সিবিপির নির্ধারিত যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২২টি দেশের তালিকায় রয়েছে—আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্য। গ্লোবাল এন্ট্রি মূলত নিয়মিত আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত প্রবেশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পান। তবে এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে হয়। সিবিপির নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীর পরিচয় ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয় এবং উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, তালিকায় কোনো আফ্রিকান দেশ নেই। ফলে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকরা এই তালিকার ভিত্তিতে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদের জন্য যোগ্য নন। গ্লোবাল এন্ট্রি ব্যবস্থার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নির্ধারিত সুবিধা ব্যবহার করা যায়। লস এঞ্জেলেস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকোসহ একাধিক বিমানবন্দরে এ সুবিধা রয়েছে। তবে যোগ্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সদস্যপদ নিশ্চিত নয়। আবেদনকারীকে সিবিপির যাচাই প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হতে হবে এবং গ্লোবাল এন্ট্রির অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সল্ট সেন্ট মেরিতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার সময় ভুল মোড় নিয়ে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রগামী সেতুতে উঠে পড়েন। কানাডায় ফেরার পথে সীমান্ত কর্মকর্তাদের নজরে আসে গাড়িতে থাকা কিশোর। সাডবেরি ডটকমের প্রতিবেদনে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর। রাত সোয়া ১০টার কিছু পর কানাডার সীমান্ত কর্মকর্তারা সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটকে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সেদিন এর আগে ওই দুই ব্যক্তি কিশোরকে গাড়িতে তোলেন এবং পরে তাকে গাড়ি থেকে নামতে দেননি। কিশোরটির সঙ্গে অভিযুক্তদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। কিশোরকে একটি হোটেলে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। ভুল মোড় নেওয়ার পর গাড়িটি সল্ট সেন্ট মেরি আন্তর্জাতিক সেতুতে উঠে পড়ে। পরে কানাডায় ফেরার সময় সীমান্ত কর্মকর্তারা গাড়ির ভেতর কিশোরকে দেখতে পান এবং দুই বাংলাদেশী ব্যক্তিকে আটক করেন। অভিযুক্তরা হলেন সল্ট সেন্ট মেরির ৪০ বছর বয়সী সাহান আলম এবং সাডবেরির ২৯ বছর বয়সী হাসান আল মামুন। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। জামিন শুনানির অপেক্ষায় তাঁদের হেফাজতে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত দুজনই নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহরে বাড়িভাড়া কমার পেছনে অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। তবে আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ভাড়া কমার পেছনে নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি ও ভাড়াটিয়ার চাহিদা কমে যাওয়ার মতো আরও কয়েকটি কারণ রয়েছে। ডিএইচএসের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও আইসিইর গ্রেপ্তার কার্যক্রমের ফলে অস্টিন, ন্যাশভিল, ফিনিক্স, সান আন্তোনিও, ডালাস, হিউস্টন, মিয়ামি, আটলান্টা ও নিউ অরলিন্সের মতো শহরে বাড়িভাড়া কমেছে। বিভাগটি বিভিন্ন শহরের ভাড়া কমার হারও উল্লেখ করেছে। তবে এসব শতাংশ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পদ্ধতি বা নির্দিষ্ট তথ্যসূত্র প্রকাশ করেনি ডিএইচএস। অন্যদিকে, আবাসনবাজারের বিভিন্ন তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শহরেই নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে গত কয়েক বছরে বিপুলসংখ্যক নতুন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট বাজারে এসেছে। সরবরাহ বাড়ায় বাড়িওয়ালাদের মধ্যে ভাড়াটিয়া পাওয়ার প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। রিয়েল্টর ডটকমের আগস্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি বড় মেট্রো এলাকার মধ্যে ৩৭তম মাসের মতো টানা বছরওয়ারি ভিত্তিতে মাঝারি ভাড়া কমেছে। সংস্থাটি বলছে, নতুন অ্যাপার্টমেন্টের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ভাড়ার চাহিদা তুলনামূলক দুর্বল হয়ে পড়া এই প্রবণতার অন্যতম কারণ। ডিএইচএস যেসব শহরের কথা বলেছে, সেগুলোর কয়েকটিতে ভাড়ার পতনের তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। যেমন সান আন্তোনিওতে ভাড়া গত বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ ডলার, ফিনিক্সে ৭০ ডলার এবং ন্যাশভিলে ৫০ ডলার কমেছে। তবে একই সময়ে লাস ভেগাস ও সান ডিয়েগোর মতো শহরেও ভাড়ার চাপ কমেছে, যেখানে ডিএইচএসের দাবিকৃত অভিবাসন নীতির প্রভাবকে একইভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। অর্থনীতিবিদদের আলোচনায় আরেকটি বিষয়ও উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্মাণ খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের অংশ উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেলে নির্মাণকাজ ধীর হয়ে যেতে পারে এবং শ্রম ব্যয় বাড়তে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে নতুন আবাসন নির্মাণের গতি কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও শিল্পসংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন। ডিএইচএসের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ বাড়িভাড়া কমাতে ভূমিকা রাখছে। তবে কোন শহরে কতজন ভাড়াটিয়া অভিবাসন অভিযানের কারণে বাসস্থান ছেড়েছেন এবং মোট ভাড়া কমার কতটা সরাসরি এর সঙ্গে সম্পর্কিত—সে বিষয়ে বিভাগটি নির্দিষ্ট তথ্য দেয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িভাড়া কমার বর্তমান প্রবণতায় অভিবাসন নীতির পাশাপাশি নতুন আবাসনের সরবরাহ, ভাড়াটিয়ার চাহিদা এবং স্থানীয় আবাসনবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় পুরোনো পাওয়ার গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে দেশটির জ্বালানি বিভাগ। এই অর্থ ২৬টি অঙ্গরাজ্যের ৩১টি প্রকল্পে দেওয়া হবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২৩ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে, যা প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার সমান। প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে শুধু নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করা হবে। এ জন্য সেন্সরসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা তাৎক্ষণিক আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। কোথাও বিদ্যুতের লাইনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৫০০ মাইলের বেশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিভিন্ন উপাদান উন্নত করা হবে। পাশাপাশি প্রায় ২১ হাজার মাইলজুড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন আনা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করার পাশাপাশি বিদ্যমান গ্রিড থেকে অতিরিক্ত সক্ষমতা বের করে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এই প্রকল্পগুলোর জন্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলার সরকারি অর্থ দেওয়া হবে। এর সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও ৩৩৫ কোটি ডলার ব্যয় করবে। অর্থাৎ সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি ও স্থানীয় অংশীদারদের অর্থায়নও থাকছে। অর্থ পাবে বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, কো-অপারেটিভ এবং কলোরাডো, ইন্ডিয়ানা, ওহাইও ও ওকলাহোমার চারটি সরকারি সংস্থা। এসব অঙ্গরাজ্য সম্মিলিতভাবে প্রায় ৮১ কোটি ডলার পাবে। এর মধ্যে কলোরাডো ও ওকলাহোমার প্রকল্পগুলো বড় আঞ্চলিক গ্রিডের সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা সেন্টার, শিল্পকারখানা, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে। ফলে দেশটির পুরোনো বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষমতা বাড়ানো এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করা হচ্ছে কংগ্রেসে পাস হওয়া দ্বিদলীয় অবকাঠামো আইনের অর্থ থেকে। আইনটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় পাস হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান উদ্যোগের অর্থের উৎস আগের প্রশাসনের সময় অনুমোদিত অবকাঠামো তহবিল। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতকে আরও সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার প্রশাসন দেশীয় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর কিছু পরিবেশগত বিধিনিষেধ কমানো এবং পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দীর্ঘ সময় চালু রাখার মতো নীতির ওপর জোর দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন অফশোর উইন্ড প্রকল্পের ইজারা পুনরায় কিনতেও প্রায় ৪০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রভিত্তিক বায়ু বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি তেল, গ্যাস ও কয়লাসহ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন গ্রিড প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো। ২৬টি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত ৩১টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পুরোনো গ্রিড থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহ করার সুযোগ তৈরি হবে।
ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ‘সত্যের জন্য যুদ্ধ’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকে শুধু ইসরায়েল নয়, বরং আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, বিদেশি কয়েকটি রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, যার সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে কোন দেশগুলো এই প্রচারণায় জড়িত বা তারা ঠিক কত অর্থ ব্যয় করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। গত ২২ সেপ্টেম্বর এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নিজের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল যখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা তথাকথিত ভুল তথ্যের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এদিকে নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য বিরোধ বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে এর আগে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করছেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে মামদানি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গাজায় চলমান সংঘাত এবং নিউইয়র্কের মেয়রের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করে রিজেকশন পাওয়া মানেই প্রোফাইল দুর্বল, এমনটা নয়। ভালো সিজিপিএ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, এমনকি প্রকাশনা থাকার পরও একজন আবেদনকারী বাদ পড়তে পারেন। কারণ গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশনে শুধু ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করা হয়েছে কি না, সেটিই বিবেচনা করা হয় না। অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি, গবেষণার সম্ভাবনা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার, প্রোগ্রামের সঙ্গে ফিট এবং ওই বছরের প্রতিযোগিতার মতো একাধিক বিষয় একসঙ্গে দেখা হয়। ইউসি বার্কলির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন নীতিতেও এমন হোলিস্টিক রিভিউয়ের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো রিসার্চ ফিট। একজন শিক্ষার্থীর প্রোফাইল ভালো হলেও তাঁর নির্দিষ্ট গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপার্টমেন্ট বা ফ্যাকাল্টির কাজের মিল না থাকলে আবেদনটি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে পিএইচডি প্রোগ্রামে সম্ভাব্য অ্যাডভাইজার, ল্যাব এবং গবেষণার ক্ষেত্রের সঙ্গে আবেদনকারীর আগ্রহের সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউসি বার্কলির বিভিন্ন গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামও আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ফ্যাকাল্টি ও গবেষণার সঙ্গে নিজেদের আগ্রহের মিল ব্যাখ্যা করতে বলে। আরেকটি বড় বিষয় হলো রিসার্চ পটেনশিয়ালের প্রমাণ। সিভিতে শুধু “Research Assistant” লেখা থাকলেই কমিটি বুঝতে পারে না একজন আবেদনকারী আসলে কী কাজ করেছেন। কোন গবেষণা প্রশ্ন নিয়ে কাজ করেছেন, তাঁর নিজের দায়িত্ব কী ছিল, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন এবং সেই কাজ থেকে কী শিখেছেন, এসব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা না থাকলেও থিসিস, গবেষণা প্রকল্প, ডেটা অ্যানালাইসিস, কনফারেন্স প্রেজেন্টেশন বা অন্য কোনো গবেষণাভিত্তিক কাজ গবেষণার প্রস্তুতি বোঝাতে পারে। এমআইটির গ্র্যাজুয়েট অ্যাডমিশন গাইডগুলোতেও গবেষণার অভিজ্ঞতা ও তার নির্দিষ্ট অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্টেটমেন্ট অব পারপাস বা SOP-ও অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তৈরি করে। শুধু নিজের জীবনের গল্প, স্বপ্ন বা মোটিভেশন তুলে ধরলে সাধারণত যথেষ্ট হয় না। কেন নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পড়তে চান, কী ধরনের গবেষণা করতে চান, আগের অভিজ্ঞতা কীভাবে সেই আগ্রহ তৈরি করেছে এবং ওই প্রোগ্রামের ফ্যাকাল্টি ও রিসোর্স আপনার পরিকল্পনার সঙ্গে কীভাবে মেলে, সেটি পরিষ্কারভাবে দেখাতে হয়। এমআইটি এবং ইউসি বার্কলির নির্দেশনাতেও প্রোগ্রাম ফিট, গবেষণার আগ্রহ এবং পূর্ববর্তী প্রস্তুতির মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেকমেন্ডেশন লেটার বা LOR-ও শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়। এমন শিক্ষকের কাছ থেকে বিস্তারিত রেকমেন্ডেশন বেশি কার্যকর হতে পারে, যিনি আবেদনকারীর অ্যাকাডেমিক বা গবেষণার কাজ কাছ থেকে দেখেছেন এবং নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেন। গবেষণা করার সক্ষমতা সম্পর্কে এমন মূল্যায়ন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এমআইটির একটি গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম সরাসরি বলছে, অন্তত একজন এমন ফ্যাকাল্টির লেটার থাকা উপকারী যিনি আবেদনকারীর কাজ ভালোভাবে জানেন এবং তাঁর স্বাধীন গবেষণার সক্ষমতা সম্পর্কে বলতে পারেন। ফান্ডিংও এখানে আলাদা একটি বিষয়। ফুল ফান্ডেড অ্যাডমিশনে শুধু অ্যাডমিশন নয়, টিউশন, স্টাইপেন্ড, ফেলোশিপ বা টিচিং ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মতো আর্থিক সহায়তার বিষয়ও জড়িত থাকে। ফলে কোনো প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হলেও নির্দিষ্ট বছরে ফান্ডিং কাঠামো বা উপলব্ধ পজিশন সীমিত হতে পারে। তবে সব প্রোগ্রামের ফান্ডিং মডেল এক নয়। কোথাও আগে থেকেই নির্দিষ্ট সময়ের ফান্ডিং প্যাকেজ থাকে, আবার কোথাও ফান্ডিং বিভিন্ন অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে দেওয়া হয়। উদাহরণ হিসেবে ইউসি বার্কলির একটি এমএ/পিএইচডি প্রোগ্রাম পাঁচ বছরের ফান্ডিং প্যাকেজের কথা উল্লেখ করে, যেখানে ফেলোশিপ ও পেইড টিচিং দায়িত্বের সমন্বয় রয়েছে। ফুল ফান্ডেড মাস্টার্সের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও প্রোগ্রামভেদে পরিবর্তিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির তুলনায় মাস্টার্স পর্যায়ে নিশ্চিত ফান্ডিং সীমিত হতে পারে, আবার কিছু প্রোগ্রাম তুলনামূলক ভালো ফান্ডিং দেয়। তাই কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শুধু “Funding Available” লেখা দেখেই আবেদন না করে কোন ধরনের ফান্ডিং, কত সময়ের জন্য এবং কোন শর্তে দেওয়া হয়, তা আগে দেখা প্রয়োজন। আবেদনকারীর অ্যাপ্লিকেশন লিস্টও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সবচেয়ে সিলেক্টিভ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদন করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং দেখে তালিকা তৈরি করলেও সমস্যা হতে পারে। ফ্যাকাল্টি ফিট, প্রোগ্রামের গবেষণার ক্ষেত্র, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থী নেওয়ার ধরণ, ফান্ডিং কাঠামো এবং নিজের অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি বিবেচনা করে আবেদন তালিকা তৈরি করা বেশি তথ্যভিত্তিক পদ্ধতি। কারণ প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অগ্রাধিকার এক নয়। অ্যাপ্লিকেশনের ছোটখাটো ভুলও কখনো বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে। ভুল ডকুমেন্ট, অসম্পূর্ণ তথ্য, প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট নির্দেশনা না মানা, ভুল ফরম্যাট বা ডেডলাইনের পর কোনো উপকরণ জমা দেওয়া আবেদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আবার কোনো প্রোগ্রাম অতিরিক্ত ডকুমেন্ট গ্রহণই নাও করতে পারে। এমআইটির কিছু গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম আবেদনকারীদের অতিরিক্ত কাগজপত্র না পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং নির্ধারিত উপকরণের মধ্যেই আবেদন সীমাবদ্ধ রাখতে বলে। সবশেষে, সিজিপিএ বা ইংলিশ টেস্ট স্কোরকে পুরো অ্যাপ্লিকেশনের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অনেক গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রাম হোলিস্টিক রিভিউয়ের মাধ্যমে অ্যাকাডেমিক রেকর্ডের পাশাপাশি গবেষণার অভিজ্ঞতা, SOP, রেকমেন্ডেশন, লেখার নমুনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনা করে। তাই আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে একটি রিজেকশনকে নিজের যোগ্যতার চূড়ান্ত মূল্যায়ন হিসেবে দেখা উচিত নয়। অনেক সময় একজন আবেদনকারীর সক্ষমতার পাশাপাশি নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের প্রয়োজন, ফ্যাকাল্টি ফিট, ওই বছরের আবেদনকারীদের প্রতিযোগিতা এবং উপলব্ধ ফান্ডিংয়ের মতো বিষয়ও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে। একজন আবেদনকারীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর প্রস্তুতি হলো নিজের গবেষণার আগ্রহ স্পষ্ট করা, উপযুক্ত প্রোগ্রাম ও ফ্যাকাল্টি খুঁজে আবেদন করা এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আবেদন ও ফান্ডিং নির্দেশনা ভালোভাবে অনুসরণ করা।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি। কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার। শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন। তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি। ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।
কোনো বিশাল সংবাদ সম্মেলন বা চোখ ধাঁধানো প্রচারণা ছাড়াই জর্জিয়ার একটি ছোট লিবারেল আর্টস স্কুল প্রায় দুই দশক ধরে আমেরিকার সেরা কলেজগুলোর একটি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, স্পেলম্যান কলেজ নামক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি টানা ১৯ বছর ধরে (২০২৬ সালের র্যাঙ্কিং পর্যন্ত) দেশের ১ নম্বর এইচবিসিইউ (ঐতিহাসিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। শুধু তাই নয়, ২০২৬ সালের জাতীয় লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর তালিকায় এটি ৩৭তম এবং 'সোশ্যাল মোবিলিটি' বা সামাজিক গতিশীলতায় ২য় স্থানে রয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সহায়তা ও গ্র্যাজুয়েশন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ২য় স্থান তাদের অভাবনীয় সাফল্যের প্রমাণ দেয়। এই ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮১ সালে, আটলান্টার ফ্রেন্ডশিপ ব্যাপটিস্ট চার্চের বেজমেন্টে। গৃহযুদ্ধের পর কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও মেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে সোফিয়া বি. প্যাকার্ড এবং হ্যারিয়েট ই. জাইলস এটি প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজ আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের লিবারেল আর্টস কলেজে পরিণত হয়েছে। ছোট ক্লাস সাইজ, স্নাতক পর্যায়ে পড়ানোর প্রতি বিশেষ মনোযোগ এবং নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকদের কারণে এই কলেজের শিক্ষার্থীরা গবেষণায় এতটা দক্ষ হয়ে ওঠে যে, স্টেম (STEM) ফিল্ডে কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের ডক্টরেট অর্জনের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাড়াতে স্টাডি অ্যাব্রড বা বিদেশে পড়াশোনার সুযোগও দিচ্ছে তারা। স্পেলম্যান কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে তাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিশাল অবদান রয়েছে। পুলিৎজার বিজয়ী লেখিকা এলিস ওয়াকার, স্যামস ক্লাব ও ওয়ালগ্রিনসের সাবেক সিইও রোজালিন্ড ব্রুয়ার এবং প্রখ্যাত রাজনীতিক স্টেসি আব্রামস এই কলেজেরই ছাত্রী ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা থেকেই ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ট্রাস্টি রোন্ডা স্ট্রাইকার ও উইলিয়াম জনস্টনের কাছ থেকে কলেজটি তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০ কোটি ডলারের অনুদান লাভ করে। এছাড়া রিড হেস্টিংস, প্যাটি কুইলিন এবং অভিনেতা স্যামুয়েল এল. জ্যাকসনদের মতো ব্যক্তিত্বরাও বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছেন। নীরব ও ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমেই যে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করা যায়, ৩৫০ স্পেলম্যান লেনের ৩৯ একরের এই ক্যাম্পাসটি আজ তারই এক বাস্তব ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাকার দ্বীপ দখল করে নিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, রকেট হামলার পর স্থল অভিযান চালিয়ে তারা এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ সময় হুথি যোদ্ধাদের ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক, ইসরাইলের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে তাদের এই সামরিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুথিরা কৌশলগত মোখা বন্দরনগরীরও নিয়ন্ত্রণ নেয়, যা ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের তথ্যমতে, মোখা বন্দরটি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, বন্দর শহরটিতে প্রবেশের সময়ও হুথিরা আমেরিকা ও ইসরাইল বিরোধী স্লোগান দেয়। ইতোমধ্যে তারা পার্শ্ববর্তী হানিশ দ্বীপপুঞ্জের দিকেও অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। যাকার দ্বীপ এবং মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ হুথিদের জন্য এক বিরাট সামরিক ও কৌশলগত বিজয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি হওয়ায় এই অবস্থানগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এই নৌপথ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য বাজারে জ্বালানি তেল ও বিপুল পণ্য পরিবহন করা হয়। উপকূলীয় এলাকা ও দ্বীপগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ফলে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের ওপর হুথিদের চাপ প্রয়োগের সক্ষমতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এদিকে হুথিদের এই আকস্মিক অগ্রযাত্রায় ইয়েমেনের চলমান সংঘাত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এএফপির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে চলা তীব্র সংঘাতে অন্তত ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সংঘাতের কারণে প্রাণভয়ে প্রায় ২০ হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরবও হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই লড়াই আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুথিদের ঠেকাতে মরিয়া হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ৯.৩০ মিনিট ইউনিভার্সেল হিলটনের একটি মাঝারি মানের রুমে বসেছিল ফোবানার এলামনাই এর মিলন মেলা। শুক্রবার রাতের দেরীতে ঘুমের পর সকালে অনেকের উঠতে দেরী হচ্ছিল৷ এলামনাই এর চেয়ারম্যান ড্ক্টর আব্দুস সাত্তার এর টেনশন৷ কেমন হবে এলামনাই এর মিটিং। আগেরদিন তিনি আলাউদ্দিন রেস্টুরেন্টে গিয়ে সকালের নাস্তার অর্ডার করেন৷ আমার সাথে আলাউদ্দিনে দেখা৷ বললেন, নাস্তা এখন থেকে নিচ্ছি। বললাম, নেন৷ ভাল হবে। বললেন নিউজ করেন। নিউজ করে সবাইকে জানালাম। শনিবার সকাল পৌনে দশটা। সবাই সময়মত আসবেন বললেও সবাই আসলে দেরীতে ৷ সকাল ১০ টার পর আমরা আনুষ্ঠানিক এলামনাই এর অনুষ্ঠান শুরু করলাম৷ জনাব আব্দুস সাত্তার শুরু করলেন। সঞ্চালনার দায়িত্ব পড়ল মাহবুব রহিম এর উপর৷ চমৎকার কথা বলেন তিনি। সবাই আসন গ্রহণ করলেন। মঞ্চে আসন গ্রহণ করলেন, ফোবানার সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। রেহান রেজা, জসিম উদ্দিন, এটর্নি আলমগীর, ডিউক খান, দিলু মওলা, এম রহমান জহির, ডক্টর জয়নাল আবেদীন, ফারুক আহমদ, হাসমত মোবিন, রবিউল করিম বেলাল ইন্জিনিয়ার আবু হানিফ, মিসেস নার্গিস। মঞ্চের বাহিরেও হল রুমে অনেকেই বসলেন। মাহবুব রহিম সহজ সরল উপস্থাপনায় জমিয়ে রাখলেন। ফোবানায় ৩৩/৩৪ বছর যাদের তাদের আলোচনা শুরু হল। তারপর ৩২ বছর, ৩০ বছর হিসাবে সিনিয়ররা বলতে লাগলেন ফোবানায় জড়িত হবার সুখ দু:খের গল্প। ডিউক খান, দিলু মওলা সবচেয়ে প্রবীন ফোবানায়। একই সাথে হাসমত মোবিন, এম রহমান জহির, নুরুল আমিন নুরু বললেন তাদের গল্প। মিসেস নুরু কথা বললেন, কথা বললেন নাহিদা নাসের ইয়াামিন৷ তিনি জানালেন। ফোবানার এই পরিবার তাকে নতুন করে সাংগঠনিক হতে শক্তি যোগায় । তিনি বলতে লাগলেন, ফোবানার সবাই তাকে এত সম্মান করেন যে, তিনি ফোবানার সাথেই আছেন সব সময়। ডিউক খান বলেন, লস এনজেলস থেকে ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত, এখন আটলান্টায় থাকলেও ফোবানার সাথে সাড়ে তিন দশক। জসিম উদ্দিন বলেন, ফোবানার সাথে তার সম্পর্কের কথা,আটলান্টায় একাধিক ফোবানার করার গল্প। হাসমত মোবিন বলেন সাড়ে তিন দশক কিভাবে ফোবানার সাথে ছিলেন। নুরুল আমিন নুরু বলেন, ফোবানায় সব সময় পরিবার নিয়ে আসেন। রাতে খাবার পাওয়া যায় না, উনার স্ত্রী ও মিসেস করিম কিভাবে ভাত তরকারি নিয়ে আসেন৷ তাদের দুজনের কনট্রিবিউশন মাহবুব রহিম সুন্দর করে বলতে থাকেন। মিসেস নুরু, মিসেস করিম তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তাদেরকে সম্মানিত করায় ধন্যবাদ জানান। ফোবানার এলামনাই, এর গেট টুগেদার এর খবর ছড়িয়ে পড়লে, হোটেলের ফোবানার সবাই হল রুমে আসেন। চেয়ার পর্যাপ্ত ছিল না, অনেকেই দাড়িয়ে কথা শুনেন। মাহবুব রহিম ফোবানার নির্বাচনের উত্তাপে কি হচ্ছে হোটেলের রুমে বলেন মজা করে। নাস্তা আসে নাই দুপুর ১২ টা, তখন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান সহ ৩ দশক বা ২ দশক থেকে যারা ফোবানায় আসেন তাদের গল্প, স্মৃতিচারণ করতেই থাকেন। আটলান্টার আরেফিন বাবুল, চমৎকার করে বলতে থাকেন৷ তিনি কিভাবে এজিএম এ প্রতিবাদ করে যান বছরের পর বছর। সবার কাছে মাপ ও চান ভুল কিছু হলে। ফোবানার এলামনাই ৮ বছর পর আবার ড. আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে সচল হওয়ায় উনাকে ধন্যবাদ দেন সবাই৷ নিউইয়র্কের মিসেস নার্সিস আহমেদ , নিউজার্সির ফারুক আহমদ ফোবানার স্মৃতি চারন করেন৷। নাস্তার সময় পেরিয়ে যায়, গল্প চলতেই থাকে। মাহবুব রহিম একজন অনন্য সঞ্চালক, মজার মজার কথা বলে আটকে রাখেন সবাইকে। সবার জন্য চা ছিল। আলাউদ্দিন থেকে নাস্তা আসতে দেরী হচ্ছিল, আর কথার ফুলঝুরি চলতেই থাকে। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল ও নতুন চেয়ারম্যান এম রহমান জহির বলেন তাদের গল্প৷ নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আবির আলমগীর বলেন তিনি প্রায় তিন দশকের মত ফোবানায়। সোয়া বারোটায় আব্দুস সাত্তারের অর্ডার করা নাস্তা আসে ১০০ জনের মত তখন ছিলেন, সবাইকে টেবিলে নাস্তা দেয়া হয়৷ তখনও কথা চলতেই থাকে। সাংবাদিক খালেদ মহিউদ্দিন মাত্র ২ বছর ফোবানায় আসছেন, উনাকে কিছু বলতে বললে তিনি কিছুই বলেন নাই, কারন সবাই নাস্তাই চাচ্ছেন। কথা শুনবেন না কেউ৷ এক স্মৃতির নাটক চলতেই থাকে। ফোবানা নিয়ে সবার দীর্ঘদিনের ভালবাসার এক বন্ধন দৃশ্যমান হতে থাকে। পাবেল আহমদ ৪১ তম ফোবানায় সবাইকে দাওয়াত করেন। ইনস্টলমেন্টে প্যাকেজ কেনার ঘোষনা দেন৷ তিনি বলেন ১০০ ডলার করে দিতে শুরু করেন৷ পাবেল আহমদ সবাইকে সপরিবারে হিউস্টনে আমন্ত্রন জানান। মাহবুব ভুইয়া সবাইকে বিজনেস লাঞ্চ এ আহবান জানান৷ সমাপতির বক্তব্য ড. আব্দুস সাত্তার ফোবানায় সাংবাদিকদের অবদান স্বীকার করে ধন্যবাদ জানান। ফোবানায় পজেটিভ নিউজ থাকে বলেই ফোবানা গতিশীল ৷ তিনি আরও বলেন। ফোবানা এলামনাই আগামীতে আরও বড় ভুমিকা রাখবে৷ ২ ঘন্টার এলামনাই ব্রেকফাষ্ট মিটিংটা হয়ে উঠেছিল এক স্মৃতি রোমান্থন। সবাই ফোবানাকেই ভালবাসেন৷ ফোবানা করতে করতে অনেকের ছেলেমেয়েরা বড় হয়ে তারাও ফোবানায় আসতে শুরু করেছে। ফোবানার ভেটারান এটিএম আলম,বলেন - ফোবানার গল্প বলে শেষ করা যাবে না৷ অনেকেই এসেছেন। চলেও গেছেন। আমরা ফোবানাকে ভালবেসেই আছি। জি আই রাসেল, ফোবানার একাধিক কনভেনশন এর কনভেনর৷ দীর্ঘ দিন ফোবানায় আছেন৷ রাসেল বলেন - চক্রান্ত করে গত ৫ বছর তাকে বাহিরে রাখা হলেও মুল ফোবানা ছাড়েন নাই৷ তিনি জানেন না কি তার অপরাধ ছিল? এখন আর জানতেও চান না৷ সবার সাথেই থাকবেন। ৪০ বছরের ফোবানায় এখনও অনেকেই আছেন যারা ৩৩ বা ৩৪ টি ফোবানায় এসেছেন৷ তাদের গল্পের শেষ নাই৷ সেই সময়টায় নানা শহরে এত মানুষ জন ছিল না৷ সংগঠন ছিল না৷ কিছু স্বপ্নবোনা মানুষ ফোবানা তৈরী করেছিলেন৷ তাদের অনেকেই ছিলেন এই এলামনাই মিটিং এর রুমে।। সুখ দুঃখের গল্পের শেষ নাই৷ আটলান্টার ডাক্তার মানিক ও মিসেস মানিক লস এনজেলস কমিউনিটির সবাইকে ও ফোবানা পরিবারকে স্মরন করে বলেন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। মিসেস মানিক এই ফোবানা পরিবারকে একটি অনন্য প্লাটফর্ম দাবী করে সবার জন্য শুভেচ্ছা জানান। ফোবানা এলামনাই এর গেট টুগেদার ব্রেকফাষ্ট এ আরও উপস্থিত ছিলেন ডক্টর প্রিয়লাল কর্মকার , মহিউদ্দিন দুলাল, কাজী নাহিদ ও মিসেস নাহিদ, বাবুল হাই, রানা খান,মিম খান,সাম রিয়া, সামসুূূ্দ্দিন, শামসুদ্দিন সাগর,এস আই জুয়েল, আবু রুমি,করিম সালাউদ্দিন, ফরহাদ হোসেন, মোহাম্মদ ইকবাল, জাবেদ চৌধুরী, মারুফ ভুইয়া, মুজিব উদ্দিন, জুয়েল সাদত,রিয়াজ আহমেদ, এন্থনি পিউস গোমেজ, সানি, মোহাম্মদ কাজল, মিসেস কাজল সহ আরো অনেকেই। প্রায় শতাধিক উপস্থিতি ছিল। এই গল্প আমাদের অমিমাংসিত রয়ে গেল, আবার আমরা শুনব হিউষ্টনে।
‘চাঁদ আমাদের’—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশালে চাঁদের ছবি ও মার্কিন পতাকার সঙ্গে একটি পোস্ট শেয়ার করেন ট্রাম্প। সেখানে ‘দ্য মুন ইজ আওয়ার্স’ বা ‘চাঁদ আমাদের’ লেখা ছিল। ট্রাম্পের এই পোস্ট সামনে আসার পরই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি পোস্ট প্রকাশ করেছেন। চাঁদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়েও আমেরিকার মালিকানার ইঙ্গিত দেওয়া পোস্ট করেছেন তিনি। তবে চাঁদ কোনো দেশের মালিকানাধীন নয়। আন্তর্জাতিক মহাকাশ আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ চাঁদ বা অন্য কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। ফলে ট্রাম্পের ‘চাঁদ আমাদের’ মন্তব্যটি বাস্তব মালিকানার দাবি নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট—তা নিয়েই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন স্থান ও ভৌগোলিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই লেক ওন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। এবার সেই বিতর্কের সঙ্গে যেন নতুন করে যুক্ত হলো চাঁদ। একই সময়ে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের নাম বদলে ‘নিউ আমেরিকা’ করার প্রস্তাবও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, অনেকেই নাকি এমন নাম পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেন নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম। তিনি বলেন, অঙ্গরাজ্যটির নাম নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। এমনকি ‘নিউ মেক্সিকো’ নামটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বেরও আগের। ট্রাম্পের ধারাবাহিক নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। নিউ মেক্সিকোর গভর্নরের মতে, এ ধরনের প্রস্তাবের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সমস্যা থেকে নজর সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়ও রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর নাম বদলে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ট্রাম্প। পরে অবশ্য তিনি এ বিষয়ে কতটা সিরিয়াস ছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সব মিলিয়ে ‘চাঁদ আমাদের’ পোস্টটি এখন শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা হিসেবে সীমাবদ্ধ নেই। ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্য, তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদ নিয়ে তাঁর এই মন্তব্য।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শুধু ৬ অঙ্কের বেতন পেলেই স্বচ্ছন্দে থাকা নিশ্চিত হচ্ছে না। ২০২৬ সালের এক নতুন বিশ্লেষণ বলছে, সন্তানহীন একক একজন প্রাপ্তবয়স্কের যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপন করতে বছরে অন্তত ৮০ হাজার ডলারের বেশি আয় প্রয়োজন। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রয়োজন আরও অনেক বেশি। হাওয়াইয়ে একজনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, আর নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার। স্মার্টঅ্যাসেটের ২০২৬ সালের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণে আবাসন, খাবার, পরিবহন, হেলথ কেয়ারসহ মৌলিক খরচ বিবেচনা করা হয়েছে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় বার্ষিক প্রি-ট্যাক্স আয় হিসাব করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে আয়ের ৫০ শতাংশ প্রয়োজনীয় খরচ, ৩০ শতাংশ ইচ্ছাধীন ব্যয় এবং ২০ শতাংশ সঞ্চয় ও ঋণ পরিশোধের জন্য ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন হিসাব অনুযায়ী, একজন একক ব্যক্তির মাসিক প্রি-ট্যাক্স আয় প্রায় ৬ হাজার ৮০০ ডলার বা তার বেশি হলে স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির হাতে থাকা মাসিক বেতন নয়। কর ও অন্যান্য কর্তনের পর হাতে পাওয়া অর্থ এর চেয়ে কম হবে। অঙ্গরাজ্যভেদে ব্যবধানও বড়। সবচেয়ে কম খরচের অঙ্গরাজ্য হিসেবে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের জন্য বছরে প্রায় ৮১ হাজার ২৪৫ ডলার প্রয়োজন। বিপরীতে হাওয়াইয়ে প্রয়োজন ১ লাখ ২৯ হাজার ২ ডলার। নিউইয়র্কে প্রয়োজন ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৪২ ডলার এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৭ ডলার। বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে। টেক্সাসে একজন একক প্রাপ্তবয়স্কের স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য বছরে প্রায় ৯০ হাজার ৫৬৩ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। পেনসিলভেনিয়ায় প্রয়োজন প্রায় ৯৭ হাজার ১১ ডলার। নিউ জার্সিতে এই অঙ্ক প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৭৬ ডলার। পরিবার নিয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় আয় আরও বেড়ে যায়। দুই কর্মজীবী প্রাপ্তবয়স্ক ও দুই সন্তানের একটি পরিবারের স্বচ্ছন্দে জীবনযাপনের জন্য ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ৪০টিতেই বছরে অন্তত ২ লাখ ডলার প্রয়োজন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ম্যাসাচুসেটসে, প্রায় ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৫ ডলার। বিপরীতে মিসিসিপিতে চার সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৩ ডলার। জীবনযাত্রার ব্যয়ের বড় অংশই যায় বাসস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ইউএসএফ্যাক্টস জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক ভাড়া, ইউটিলিটিসহ, ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ ডলার। একই সময়ে ভাড়াটিয়া পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫৩৭ ডলার। অর্থাৎ গড়ে আয়ের ৩২ দশমিক ৮ শতাংশ ভাড়ায় চলে গেছে। তবে বাস্তবে কোনো পরিবার কত আয় করলে ভালোভাবে চলতে পারবে, তা শুধু অঙ্গরাজ্য দিয়ে নির্ধারণ করা যায় না। একই অঙ্গরাজ্যের মধ্যেও শহর ও এলাকার ভিত্তিতে রেন্ট, যাতায়াত, চাইল্ড কেয়ার, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য খরচে বড় পার্থক্য থাকতে পারে। গবেষণাটির হিসাবও মূলত একটি আর্থিক মানদণ্ড, কোনো পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট বেতনসীমা নয়। গবেষণায় ব্যবহৃত মৌলিক জীবনযাত্রার খরচের তথ্য নেওয়া হয়েছে এমআইটির লিভিং ওয়েজ ক্যালকুলেটর থেকে। এরপর ৫০/৩০/২০ বাজেট পদ্ধতির ভিত্তিতে স্বচ্ছন্দে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় আয় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বসবাস শুরু করা বা অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, বরং রেন্ট, কর, গাড়ি ও ইন্স্যুরেন্স, হেলথ কেয়ার, চাইল্ড কেয়ার এবং সঞ্চয়ের খরচ একসঙ্গে হিসাব করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
চাকরির কারণে ১৩ বছরের পরিচিত জীবন পেছনে ফেলে আমেরিকা থেকে দীর্ঘ সময়ের জন্য জার্মানিতে পাড়ি জমিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি পঙ্কজ তালুকদার। পরিবার, বন্ধু, পরিচিত শহর আর অসংখ্য স্মৃতি ছেড়ে নতুন দেশে যাত্রা তার জন্য যেমন আবেগের, তেমনি নতুন অভিজ্ঞতারও। ভোর রাতে মিজৌরির সেন্ট লুইস এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয় পঙ্কজের যাত্রা। সেন্ট লুইস থেকে মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর, এরপর বাল্টিমোর থেকে জার্মানির রামস্টেইন এয়ার বেস। সেখান থেকে আরও প্রায় ছয় ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে পৌঁছান নিজের নতুন ইউনিটে। অচেনা জায়গা আর অচেনা মানুষ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই মনে ছিল নানা ভাবনা। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর রিসেপশনে পাওয়া আন্তরিক অভ্যর্থনা অনেকটাই স্বস্তি দেয় তাকে। সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল আলাদা একটি রুম, বাথরুম ও কিচেনসহ পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তির মধ্যে এই আয়োজনই যেন হয়ে ওঠে নতুন জীবনের প্রথম স্বস্তি। আগামী কয়েক বছর এই জায়গাটিই হবে পঙ্কজের ঠিকানা। অচেনা এই পরিবেশেই তৈরি হবে নতুন গল্প, নতুন অভিজ্ঞতা আর নতুন স্মৃতি। তবে নতুন জীবনের শুরু হলেও নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে আসার অনুভূতি সহজ নয়। শহরটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার জীবনের দীর্ঘ ১৩ বছরের অসংখ্য স্মৃতি। নিউইয়র্কের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে যেমন অনেক স্বপ্ন দেখেছেন, তেমনি সেখানে পেয়েছেন আনন্দের মুহূর্ত এবং কঠিন সময় পার করার অভিজ্ঞতাও। তাই নিউইয়র্ক ছেড়ে আসা তার কাছে কেবল একটি শহর ছেড়ে যাওয়া নয়। এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সাময়িকভাবে পেছনে রেখে নতুন অধ্যায়ের পথে যাত্রা। প্রিয় নিউইয়র্ক এখন পেছনে, সামনে জার্মানি। নতুন দেশ, নতুন ঠিকানা, নতুন মানুষ আর নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো পঙ্কজ তালুকদারের জীবনের আরেকটি অধ্যায়।
“আমেরিকান সড়ক, আমেরিকান গাড়িচালক” - এই স্লোগান সামনে রেখে ক্যালিফোর্নিয়ায় কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বা সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট - আইসিই। আইসিইর সান ফ্রান্সিসকো কার্যালয়ের স্পেশাল এজেন্টরা স্টকটন, স্যাক্রামেন্টো ও সান হোসে এলাকায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অংশ নিচ্ছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আইসিইর ভাষ্য, সিডিএল জালিয়াতির কারণে সড়ক নিরাপত্তায় গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় সিডিএল নিয়ে ফেডারেল সরকারের কড়াকড়িও বেড়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকেলস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের মার্চে ফেডারেল সরকারের নির্দেশে প্রায় ১৩ হাজার নন-ডোমিসাইলড কমার্শিয়াল ড্রাইভার্স লাইসেন্স বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে ডিএমভি স্পষ্ট করেছে, সংশ্লিষ্ট সব লাইসেন্সধারী জালিয়াতি করেছেন - এমন নয়; অনেকেই তখন বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও কাজের অনুমতি নিয়ে লাইসেন্স পেয়েছিলেন। ফেডারেল নিয়মে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল ইস্যুর ক্ষেত্রে অনিয়ম নিয়ে তদন্তের পর ক্যালিফোর্নিয়ায় লাইসেন্স ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত মেয়াদের বৈধ উপস্থিতির ভিত্তিতে নন-ডোমিসাইলড সিডিএল দেওয়া স্থগিত রেখেছে ক্যালিফোর্নিয়া ডিএমভি। ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতির মাধ্যমে বা অযোগ্য ব্যক্তির হাতে লাইসেন্স গেলে তা সরাসরি সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে জালিয়াতির তথ্য পেলে ডিএমভি লাইসেন্স যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। আইসিইর সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতেও দেশজুড়ে সিডিএল জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের কথা বলা হয়েছে। সংস্থাটি দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য আমেরিকার সড়ক নিরাপদ রাখা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে সিডিএল পাওয়ার সুযোগ বন্ধ করা।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লেক চার্লসে দারিদ্র্য ও খাদ্যসংকটের মধ্যে বেড়ে ওঠা রাসেল জে. লেডেট একসময় ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে এবং চিকিৎসকদের ছায়াসঙ্গী হওয়ার সুযোগ খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত তিনি অর্জন করেছেন মলিকিউলার অনকোলজিতে পিএইচডি, টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে এমডি ও এমবিএ। বর্তমানে তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ট্রিপল বোর্ড প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত। রাসেলের শৈশব কেটেছে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে। তার মা ছিলেন একজন সার্টিফায়েড নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং একাই দুই সন্তানকে বড় করেছেন। পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতেও অনেক সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এই বাস্তবতাই রাসেলকে স্থির আয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রের নেভিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করে। পরে নেভিতে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি উচ্চশিক্ষার পথ বেছে নেন। কলেজে পড়ার সময় পরিবারকে সহায়তা করতে ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন রাসেল। হাসপাতালের পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে খুব কাছ থেকে চিকিৎসকদের কাজ এবং রোগীদের চিকিৎসা পাওয়ার দৃশ্য দেখার সুযোগ পান তিনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহ তৈরি হয়। কাজের ফাঁকে তিনি ফ্ল্যাশকার্ড নিয়ে পড়াশোনা করতেন এবং চিকিৎসকদের কাছে শ্যাডো করার সুযোগ চাইতেন। তবে অনেকেই তাকে বলেছিলেন, সিকিউরিটি গার্ডরা চিকিৎসক হতে পারে না। তবে একজন চিকিৎসক তার সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। ব্যাটন রুজ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি রেসিডেন্ট ডা. প্যাট্রিক গ্রিফেনস্টেইন তাকে রাউন্ডে সঙ্গে থাকার সুযোগ দেন। সেই সুযোগ রাসেলের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং চিকিৎসা ও গবেষণার পথে এগিয়ে যেতে তাকে আরও অনুপ্রাণিত করে। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে মলিকিউলার অনকোলজি ও টিউমার ইমিউনোলজিতে পিএইচডি অর্জন করেন রাসেল। এরপর টুলেন ইউনিভার্সিটিতে এমডি ও এমবিএ সম্পন্ন করেন। তার শিক্ষাজীবনের এই দীর্ঘ পথ তাকে একই সঙ্গে চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করেছে। চিকিৎসা পেশায়ও রাসেলের পথ ছিল ব্যতিক্রমী। তিনি ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রিপল বোর্ড প্রোগ্রামে ভর্তি হন, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, জেনারেল সাইকিয়াট্রি এবং চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে তিনি এই প্রোগ্রামে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ হিসেবে ম্যাচ করেন এবং ২০২৭ সালে তার প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার কথা। চিকিৎসা ও গবেষণার পাশাপাশি কমিউনিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতেও কাজ করছেন রাসেল। ২০১৯ সালে টুলেন ইউনিভার্সিটির আরও ১৪ জন কৃষ্ণাঙ্গ মেডিকেল শিক্ষার্থীর সঙ্গে লুইজিয়ানার হুইটনি প্ল্যান্টেশনে সাদা কোট পরা অবস্থায় ছবি তোলেন তিনি। দাসপ্রথার ইতিহাস বহনকারী ওই স্থানে তোলা ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরে এই উদ্যোগ থেকেই গড়ে ওঠে দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস। দ্য ১৫ হোয়াইট কোটস এখন একটি অলাভজনক সংগঠন হিসেবে চিকিৎসা পেশায় কম প্রতিনিধিত্ব পাওয়া শিক্ষার্থীদের সহায়তা করছে। সংগঠনটি স্কলারশিপ, মেন্টরশিপ ও মেডিকেল স্কুলে ভর্তির প্রস্তুতিতে সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুপ্রেরণামূলক ছবি পৌঁছে দিচ্ছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তাদের ছবি বিশ্বের ১০ হাজারের বেশি শিক্ষাঙ্গনে পৌঁছেছে এবং তারা চিকিৎসা পেশায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তাও দিয়ে আসছে। রাসেলের গল্প তাই শুধু একজন সিকিউরিটি গার্ডের চিকিৎসক হয়ে ওঠার গল্প নয়। দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও সীমিত সুযোগের মধ্য থেকেও শিক্ষা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের পথ তৈরি করার পাশাপাশি তিনি এখন এমন একটি প্রজন্মকে উৎসাহিত করছেন, যারা একসময় হয়তো চিকিৎসক হওয়াকেও নিজেদের জন্য অসম্ভব মনে করত।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।