- প্রচ্ছদ
- Topic
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বসবাস শুরু করা অনেকেই প্রয়োজনের তাগিদে ইলেকট্রনিক্স, ফার্নিচার বা শিশুদের বিভিন্ন সামগ্রী ফুল প্রাইসে কিনে ফেলেন। কিন্তু মার্কিন রিটেইল বাজারে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বড় ধরনের সিজনাল সেল, ক্লিয়ারেন্স এবং হলিডে ডিসকাউন্টের সুযোগ থাকে। সঠিক সময়ে কেনাকাটা করলে একটি পরিবারের বছরে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব বলে ভোক্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ছাড় পাওয়া যায় ইলেকট্রনিক্স পণ্যে। টেলিভিশন, ল্যাপটপ, হেডফোন বা অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য সাধারণত ব্ল্যাক ফ্রাইডে, সাইবার মানডে, মেমোরিয়াল ডে এবং ব্যাক টু স্কুল মৌসুমে উল্লেখযোগ্য ছাড়ে বিক্রি হয়। নতুন মডেল বাজারে আসার আগে পুরোনো মডেলের দামও অনেক কমে যায়। তাই জরুরি প্রয়োজন না থাকলে এসব পণ্য কেনার আগে বড় সেলের জন্য অপেক্ষা করাই লাভজনক। ফার্নিচার ও ম্যাট্রেসের ক্ষেত্রেও একই কৌশল কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রে বছরে দুই দফা নতুন ফার্নিচার কালেকশন আসে। প্রেসিডেন্টস ডে, লেবার ডে এবং ফোর্থ অব জুলাই উপলক্ষে পুরোনো স্টক ক্লিয়ারেন্স সেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে একই মানের পণ্য তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়। মৌসুমি পোশাক কেনার ক্ষেত্রেও সময় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। শীতের পোশাক সাধারণত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এবং গ্রীষ্মকালীন পোশাক আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়। নতুন মৌসুমের পণ্য রাখার জন্য রিটেইলাররা এ সময় এন্ড অব সিজন সেল ঘোষণা করে। রান্নাঘর ও গৃহস্থালির ছোট অ্যাপ্লায়েন্সেও বড় ছাড় পাওয়া যায় বছরের বিশেষ সময়গুলোতে। এয়ার ফ্রায়ার, কফি মেকার, ব্লেন্ডার এবং ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের মতো পণ্যে অ্যামাজন প্রাইম ডে, ব্ল্যাক ফ্রাইডে এবং বছরের শেষের হলিডে সিজনে আকর্ষণীয় অফার দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য কার সিট, স্ট্রলার এবং অন্যান্য বেবি গিয়ার কেনার ক্ষেত্রেও আগে থেকে পরিকল্পনা করলে ভালো সাশ্রয় সম্ভব। টার্গেট, ওয়ালমার্টসহ বিভিন্ন বড় রিটেইলার নিয়মিত রেজিস্ট্রি ডিসকাউন্ট, কুপন এবং বান্ডেল অফার দেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন স্টোরের দাম, ওয়ারেন্টি এবং রিটার্ন নীতিমালা তুলনা করলে আরও ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। ভোক্তা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বড় কেনাকাটার আগে অন্তত দুই থেকে তিনটি স্টোরের দাম তুলনা করা, কুপন ও ক্যাশব্যাক অফার যাচাই করা এবং স্টোরের লয়্যালটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করা উচিত। অনেক সময় সামান্য অপেক্ষা এবং পরিকল্পিত কেনাকাটাই একটি পরিবারের বার্ষিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারে। তবে ডিসকাউন্ট ও অফারের সময়, পরিমাণ এবং শর্ত স্টোর, অঙ্গরাজ্য ও মৌসুমভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে সংশ্লিষ্ট স্টোর বা বিক্রেতার সর্বশেষ অফার যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
ওয়াশিংটন, ৩ আগস্ট ২০২৬ — যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশির মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে, গ্রিন কার্ড পেলেই বাবা-মাকে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় আনার আবেদন করা যায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বিষয়টি তেমন নয়। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং যার বয়স কমপক্ষে ২১ বছর, শুধুমাত্র তিনিই নিজের বাবা-মাকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বাবা-মা নিকটাত্মীয় শ্রেণির আওতায় পড়েন। এই শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসার সীমাবদ্ধতা নেই। ফলে অন্য অনেক অভিবাসন আবেদনের মতো বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না। আবেদন প্রক্রিয়ার শুরুতে বাবা-মায়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। অন্যদিকে, যারা এখনো কেবল স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী, তারা বাবা-মাকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পান না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে গ্রিন কার্ডধারীদের বাবা-মা চাইলে ভ্রমণ ভিসার জন্য আবেদন করে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। কিন্তু সেই ভিসার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ নেই। স্থায়ীভাবে আনার জন্য প্রথমে গ্রিন কার্ডধারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করতে হবে। এরপর তিনি বাবা-মায়ের জন্য অভিবাসনের আবেদন করতে পারবেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে প্রতিবছর অনেক পরিবার অপ্রয়োজনীয় আবেদন করে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় করেন। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজনে অভিবাসন–সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
গত বছরের মে মাসের পর থেকে আমেরিকায় বন্ধকী ঋণের সুদের হার আধা শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর ফলে গৃহঋণ পুনঃঅর্থায়ন বা 'রিফাইন্যান্সিং'-এর আবেদন বছরের ব্যবধানে ৬২ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ২০২৫ সালে তিনবার সুদের হার কমালেও ২০২৬ সালে এসে পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থান বা 'ওয়েট অ্যান্ড সি' নীতি গ্রহণ করেছে। তবে বন্ড মার্কেটের ১০ বছর মেয়াদী ট্রেজারি বন্ডের আয়ের ওপর ভিত্তি করে বন্ধকী ঋণের সুদের হার কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে। বন্ধকী বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ এবং ২০২৭ সালজুড়ে এই সুদের হার ৬ শতাংশের কাছাকাছি অবস্থান করতে পারে, যা দেশটির বিগত ৫০ বছরের গড় সুদের হার ৭.৫ শতাংশের চেয়ে কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধকী ঋণ রিফাইন্যান্স করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কেবল সুদের হারের কমার ওপর নির্ভর না করে মূলত পাঁচটি প্রধান ধাপ অনুসরণ করা উচিত। প্রথমত, নিজের বর্তমান সুদের হার, মাসিক কিস্তি ও ক্রেডিট স্কোর স্পষ্টভাবে জানতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান ঋণের ভারসাম্য পুনঃঅর্থায়ন করবেন নাকি ক্যাশ-আউট রিফাইন্যান্সের মাধ্যমে অতিরিক্ত নগদ অর্থ তুলবেন তা নির্ধারণ করতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যমান ঋণের সমান বা কম মেয়াদে পুনঃঅর্থায়ন করা বুদ্ধিমানের কাজ। চতুর্থত, রিফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে প্রসেসিং ও ক্লোজিং ফি বাবদ মোট ঋণের ২ থেকে ৬ শতাংশ খরচ হতে পারে, যার আগাম ধারণা নেওয়া প্রয়োজন। সবশেষে, প্রতি মাসের সাশ্রয় দিয়ে এই ফি তুলতে কত সময় লাগবে বা 'ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট' হিসাব করতে হবে—যদি ওই বাড়িতে অবস্থানের সময়সীমা ব্রেক-ইভেন সময়ের চেয়ে বেশি হয়, তবেই রিফাইন্যান্স করা লাভজনক হবে। আমেরিকায় প্রায় ৮০ শতাংশ বাড়িওয়ালার বন্ধকী ঋণের সুদের হার বর্তমানে ৬ শতাংশ বা তার নিচে এবং অর্ধেকেরও বেশি মানুষের সুদের হার ৪ শতাংশের নিচে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের মূল ঋণের সুদের হার ইতোমধ্যে বেশ কম, তাদের জন্য সম্পূর্ণ ঋণ রিফাইন্যান্স না করে 'হোম ইকুইটি লাইন অব ক্রেডিট' (HELOC) ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক হতে পারে। এতে কম সুদের মূল ঋণ অপরিবর্তিত রেখেও বাড়ির জমানো ইকুইটি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী নগদ অর্থ তুলে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যস্ফীতি পুনরায় বাড়ার ঝুঁকি থাকায় বন্ড মার্কেট ও সুদের হারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে, তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজস্ব গাণিতিক হিসাব ও আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করাই শ্রেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্যে বসবাসের সুযোগ সবচেয়ে ভালো, তা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে নতুন র্যাঙ্কিং। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অর্থনীতি, অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও জীবনযাত্রার মানসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা এই তালিকায় উঠে এসেছে আমেরিকার সেরা ও পিছিয়ে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলোর চিত্র। ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্টের তৈরি করা এই র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করা হয়েছে। তালিকা তৈরিতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, বাসিন্দাদের জীবনমান, স্বাস্থ্যসেবার মান, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সরকারি পরিষেবার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ভালো পারফরম্যান্স করেছে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে, তারা র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, কিছু অঙ্গরাজ্য অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে পিছিয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য শুধু আয় বা চাকরির সুযোগই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং শিক্ষা, চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানও বড় ভূমিকা রাখে। এ কারণেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিবছর এমন র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে, যা নতুন বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে। নতুন এই তালিকা থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের সুযোগ-সুবিধা এক রকম নয়। কোথাও উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রধান আকর্ষণ, আবার কোথাও শক্তিশালী অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ মানুষকে আকৃষ্ট করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রায় আড়াই শতাব্দী পর শনাক্ত করা হয়েছে আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধের এক সৈনিকের পরিচয়। ২৪৬ বছর ধরে অজানা থাকা ওই সৈনিকের দেহাবশেষের সঙ্গে ঐতিহাসিক নথি, পারিবারিক তথ্য এবং আধুনিক গবেষণার মাধ্যমে মিল খুঁজে পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি ছিলেন বিপ্লবী যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করা একজন আমেরিকান সৈনিক। দীর্ঘদিন ধরে তার পরিচয় অজানা থাকলেও সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে তার নাম ও জীবনের তথ্য সামনে এসেছে। মেরিল্যান্ডের সঙ্গে ওই সৈনিকের গভীর সম্পর্ক ছিল। গবেষণায় জানা গেছে, তার জীবন ও সামরিক ভূমিকার সঙ্গে মেরিল্যান্ড এবং পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গ এলাকার ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানান, কয়েক শতাব্দী আগের কোনো ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া। এ ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দলিল, সামরিক রেকর্ড, পারিবারিক বংশতালিকা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আমেরিকার বিপ্লবী যুদ্ধ ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত চলে। এই যুদ্ধে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৩টি উপনিবেশ স্বাধীনতা অর্জন করে এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার শুধু একজন সৈনিকের পরিচয় ফিরিয়ে আনার ঘটনা নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাসে সাধারণ মানুষের অবদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ইতিহাসবিদদের মতে, বিপ্লবী যুদ্ধের বহু সৈনিকের জীবন সম্পর্কে এখনও অনেক তথ্য অজানা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি ও গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন আরও হারিয়ে যাওয়া পরিচয় সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে অবস্থানকারী কিছু অভিবাসী শিক্ষার্থীকে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন-স্টেট (রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত) টিউশন ফি দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরআইএসই অ্যাক্টের সেই অংশও বাতিল করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের আর্থিক সহায়তা পেতেন। ইলিনয়ের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক ডেভিড ডব্লিউ. ডুগান রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন আইন অনুযায়ী কোনো অঙ্গরাজ্য অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের এমন উচ্চশিক্ষা সুবিধা দিতে পারে না, যদি একই সুবিধা অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিকদের জন্য সমানভাবে উন্মুক্ত না থাকে। আদালত তাই ইলিনয়ের ইন-স্টেট টিউশন নীতি এবং RISE অ্যাক্টকে “অসাংবিধানিক ও অকার্যকর” ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়ের করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে)। সরকারের অভিযোগ ছিল, ইলিনয় এমন সুবিধা দিয়ে ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে এবং অন্য অঙ্গরাজ্যের মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার দিয়েছে। রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি স্টিভেন ডি. ওয়েইনহোয়েফ বলেন, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থায় অবৈধ অভিবাসীদের মার্কিন নাগরিকদের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া ফেডারেল আইনের পরিপন্থী। ইলিনয়ের আইন অনুযায়ী, রাজ্যের কোনো উচ্চবিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনা করে স্নাতক হওয়া এবং স্থায়ী বাসিন্দার জন্য আবেদন করার অঙ্গীকার করা কিছু নথিহীন শিক্ষার্থী ইন-স্টেট টিউশন সুবিধা এবং RISE অ্যাক্টের আওতায় রাজ্যের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পেতেন। এই নীতির আওতায় হাজারো শিক্ষার্থী উপকৃত হয়েছেন বলে বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন জানিয়েছে। তবে রায়ের পরপরই ইলিনয়ের গভর্নর জে বি প্রিটজকার বা অ্যাটর্নি জেনারেল কোয়ামে রাউলের দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না। বিচারকের আদেশ কার্যকর হলে রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নথিহীন শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যমান টিউশন ও আর্থিক সহায়তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
আমেরিকায় ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মানুষের জন্য প্রতি মাসে গাড়ির কিস্তি বা লোন পরিশোধ করা যেন দ্বিতীয় একটি বাড়ি কেনার ঋণের (মর্টগেজ) মতোই ভারী এক বোঝায় পরিণত হয়েছে। আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান 'লেন্ডিংট্রি'-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে গাড়ি ঋণের আওতায় থাকা প্রতি ১০ জন মার্কিনির মধ্যে অন্তত একজনের মাসিক কিস্তি এক হাজার ডলার বা তারও বেশি। আর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এই উচ্চ কিস্তির হার আরও বেশি। প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বেনামি ক্রেডিট রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা লেন্ডিংট্রির ওই বিশ্লেষণে দেখা যায়, জর্জিয়ায় সক্রিয় অটো লোন বা গাড়ি ঋণ থাকা ১২ শতাংশ ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি অন্তত এক হাজার ডলার। টেক্সাস, আলাস্কা এবং ওয়াইওমিংয়ের পর এই হার সারা দেশে চতুর্থ সর্বোচ্চ। জর্জিয়ার মতো একটি রাজ্যে গাড়ি চালানো যেখানে বিলাসের চেয়ে অনেক বেশি প্রয়োজনীয়, সেখানে এমন পরিসংখ্যান সেখানকার জীবনযাত্রার কঠিন আর্থিক বাস্তবতাকে তুলে ধরে। চেরোকি, পলডিং বা হেনরি কাউন্টি থেকে মেট্রো আটলান্টায় যাতায়াত হোক কিংবা গ্রামীণ জর্জিয়ায় নিত্যদিনের কাজ মেটানো হোক—অধিকাংশ পরিবারের জন্যই নিজস্ব যানবাহন থাকাটা একরকম বাধ্যতামূলক। লেন্ডিংট্রির প্রধান কনজ্যুমার ফাইন্যান্স বিশ্লেষক ম্যাট শুলজ জানান, মূলত যেসব অঙ্গরাজ্য আয়তনে বড় এবং যেখানে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়, সেখানেই মাসিক হাজার ডলার কিস্তির প্রবণতা বেশি দেখা যায়। জর্জিয়ার আটলান্টার মতো একটি বড় শহুরে কেন্দ্র থাকলেও, রাজ্যের বাকি অংশে চলাচলের জন্য নিজস্ব গাড়ির ওপরই নির্ভর করতে হয়। মজার ব্যাপার হলো, তরুণরা নয়, বরং ‘জেনারেশন এক্স’ অর্থাৎ ৪০ বা ৫০-এর কোঠায় থাকা মানুষেরাই এই বিশাল অঙ্কের কিস্তি বেশি দিচ্ছেন। এই বয়সীদের সাধারণত ভালো ক্রেডিট স্কোর থাকে, যা তাদের বড় অঙ্কের ঋণ পেতে সাহায্য করে। শুলজের মতে, বিলাসবহুল এসইউভি বা বড় ট্রাক কেনার ঝোঁক থেকেই মূলত এমন উচ্চ কিস্তির ঋণ নেওয়া হচ্ছে। তবে কিস্তির বাইরেও বিমা, জ্বালানি, টায়ার পরিবর্তন ও অপ্রত্যাশিত রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মিলিয়ে গাড়ির পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা মানুষের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। জর্জিয়ার লরেন্সভিলের ‘মিলিয়ন মাইল মোটরস’-এর মালিক আমির বাজলি গাড়ি ক্রেতাদের একটি বড় ভুলের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ক্রেতারা প্রায়ই গাড়ির মোট দামের দিকে লক্ষ্য না করে শুধু মাসিক কিস্তির হিসাব করেন। তার পরামর্শ হলো, শুধু কিস্তি নয়, বরং মোট দামকে ঋণের মাস দিয়ে গুণ করে প্রকৃত খরচটা বের করা উচিত। এছাড়া ডিলারশিপে যাওয়ার আগেই ঋণের ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন লোন অফার তুলনা করে দেখা এবং ছয় বা সাত বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাড়াহুড়ো করে একদিনেই গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিলে ক্রেতারা প্রায়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিকর চুক্তিতে জড়িয়ে পড়েন বলেও সতর্ক করেছেন এই গাড়ি ব্যবসায়ী।
মিশিগান হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরীকে নিয়ে আগামী ২৬ জুলাই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির মাত্র কয়েক দিন আগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নিজের নির্বাচনী পরিকল্পনা, ডিস্ট্রিক্টের সমস্যা এবং কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলবেন তিনি। মিনহাজ চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণার পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে মিশিগানের ওয়ারেন শহরের শাদ রেস্টুরেন্টে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঠিকানা ৬০৬০, ১২ মাইল রোড, ওয়ারেন, মিশিগান। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রচারণার মধ্যে আয়োজিত এই ‘মিট দ্য প্রেস’কে মিনহাজ চৌধুরীর জন্য নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও অগ্রাধিকার সরাসরি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার প্রচারণায় কর্মসংস্থান, শ্রমিক অধিকার, শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, জননিরাপত্তা, আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সরকারি জবাবদিহিতার মতো বিষয়গুলো সামনে রাখা হয়েছে। আগামী ৪ আগস্ট ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মিনহাজ চৌধুরীর প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রকাশিত ২০২৬ সালের প্রাইমারি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে দুজনের নামই রয়েছে। ম্যাকফল বর্তমানে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ। মিশিগান হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই ডিস্ট্রিক্টে সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেনের একটি অংশ রয়েছে। ফলে ৪ আগস্টের প্রাইমারিতে বর্তমান আইনপ্রণেতাকে চ্যালেঞ্জ করেই দলের মনোনয়ন পাওয়ার লড়াইয়ে নেমেছেন মিনহাজ চৌধুরী। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মাইক ম্যাকফল ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে ডিস্ট্রিক্ট ১৪ থেকে নির্বাচিত হন। এবার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছেন মিনহাজ চৌধুরী। রিপাবলিকান প্রাইমারিতে প্রার্থী হয়েছেন ল্যারি সিজকা। আগামী ৩ নভেম্বর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মিনহাজ চৌধুরী শ্রমিক সংগঠন, মূলধারার রাজনীতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে সামাজিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার পক্ষে তিনি কাজ করে আসছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার তথ্য অনুযায়ী, মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবারের মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট সংগঠনের ভাইস চেয়ার এবং ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক সংগঠনের অ্যাট লার্জ বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির মিশিগান চ্যাপ্টারের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যও তিনি। সংগঠনটির জাতীয় বোর্ড ২০২৬ সালের নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর জন্য তাকে সমর্থন দিয়েছে। পেশাগত জীবনে মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। এর আগে তিনি আমেরিকান পোস্টাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। নিজের শ্রমজীবনের অভিজ্ঞতাকে তিনি নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তার প্রচারণার ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শ্রমিকদের যৌথ দরকষাকষির অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মিশিগানে ভালো বেতনের চাকরি ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। ম্যানুফ্যাকচারিং, স্কিলড ট্রেড, ক্লিন এনার্জি এবং নতুন প্রযুক্তির খাতে কর্মীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর কথাও তার নির্বাচনী পরিকল্পনায় রয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও সরকারি স্কুলে পর্যাপ্ত অর্থায়ন, শিক্ষক ও সহায়ক কর্মীদের প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ক্যারিয়ার ও কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং কলেজ বা দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণকে আরও সাশ্রয়ী করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় কমানো, মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বৃদ্ধি, প্রবীণ ও ভেটেরানদের সেবা, সাশ্রয়ী আবাসন এবং প্রথমবার বাড়ি কেনা মানুষের জন্য সহায়তা বাড়ানোর বিষয়গুলোও তার নির্বাচনী কর্মসূচিতে রয়েছে। জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে কমিউনিটিভিত্তিক পুলিশিং, সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচি এবং জরুরি সেবায় বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি জাতি, ধর্ম, জাতীয় পরিচয়, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা, বয়স বা অর্থনৈতিক অবস্থানের কারণে বৈষম্যের বিরোধিতা এবং সবার জন্য সমান সরকারি সেবা ও সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে তার প্রচারণায়। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির নতুন প্রজন্মের শিক্ষা, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখার বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন মিনহাজ চৌধুরী। কমিউনিটিতে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রেখে তরুণদের মূলধারার শিক্ষা, পেশা ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ তৈরির পক্ষে তিনি কাজ করছেন। তবে তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বার্তা শুধু বাংলাদেশি বা দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটিকে কেন্দ্র করে নয়। প্রচারণার ঘোষিত অবস্থানে ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর শ্রমজীবী পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অভিবাসী, প্রবীণ, ভেটেরান এবং বিভিন্ন পটভূমির বাসিন্দাদের প্রতিনিধিত্ব করার কথা বলা হয়েছে। মিনহাজ চৌধুরীর প্রচারণায় সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচিত হলে নিয়মিত কমিউনিটি বৈঠক, সহজলভ্য কনস্টিটুয়েন্ট সার্ভিস এবং করদাতাদের অর্থের দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এই প্রেক্ষাপটে ২৬ জুলাইয়ের ‘মিট দ্য প্রেস’ তার নির্বাচনী প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব হতে যাচ্ছে। সেখানে ডিস্ট্রিক্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের পরিকল্পনা এবং কেন তিনি বর্তমান প্রতিনিধির বিকল্প হিসেবে ভোটারদের সমর্থন চাইছেন, সে বিষয়গুলো সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরই নজর থাকবে ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে। সেদিনের ভোটে নির্ধারিত হবে, বর্তমান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ মাইক ম্যাকফল দলের মনোনয়ন ধরে রাখবেন, নাকি বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি থেকে উঠে আসা মিনহাজ চৌধুরী ডিস্ট্রিক্ট ১৪-এর ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী হিসেবে সাধারণ নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আমেরিকায় কলেজে পড়ার খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিবাসী পরিবারগুলোর অনেকেই জানেন না, মার্কিন নাগরিক না হলেও নির্দিষ্ট অভিবাসন মর্যাদায় থাকা শিক্ষার্থীরা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে যোগ্য শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ পেল গ্রান্ট নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার। এটি কোনো শিক্ষাঋণ নয়, বরং ফেডারেল সরকারের দেওয়া শিক্ষা অনুদান, যা সাধারণত ফেরত দিতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ২০২৬-২৭ সালের হালনাগাদ ফাফসা নির্দেশনা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ফেডারেল শিক্ষাসহায়তা পাওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে মার্কিন নাগরিক অথবা সরকারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যোগ্য অ-নাগরিক হতে হবে। অর্থাৎ শুধু মার্কিন নাগরিকদের জন্যই পেল গ্রান্ট সীমাবদ্ধ নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা কিংবা বৈধ কোনো ভিসা থাকলেই পেল গ্রান্ট পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। শিক্ষার্থীর অভিবাসন মর্যাদা, আর্থিক প্রয়োজন এবং ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত বিবেচনা করা হয়। কারা যোগ্য অ-নাগরিক - ২০২৬-২৭ ফাফসা ফরমের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা কার্ড বা গ্রিন কার্ড থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন। শর্তযুক্ত গ্রিন কার্ড থাকা শর্তযুক্ত স্থায়ী বাসিন্দারাও এই শ্রেণিতে পড়তে পারেন। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথিতে শরণার্থী বা আশ্রয়প্রাপ্ত মর্যাদা থাকা ব্যক্তিরাও যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। কিছু প্যারোলপ্রাপ্ত ব্যক্তিও যোগ্য হতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আই-৯৪ নথিতে অন্তত এক বছরের জন্য প্যারোল করার বিষয়টি নিশ্চিত থাকতে হবে এবং সেই মর্যাদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া চলবে না। কিউবান-হাইতিয়ান প্রবেশকারী এবং নির্দিষ্ট টি-ভিসাধারীরাও যোগ্য অ-নাগরিক শ্রেণির মধ্যে থাকতে পারেন। মানবপাচারের শিকার কোনো ব্যক্তির কাছে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বৈধ সনদ বা যোগ্যতার চিঠি থাকলেও তিনি নির্ধারিত শর্তে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর যোগ্য হতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য বড় সুযোগ - যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষার্থী যদি বৈধ গ্রিন কার্ডধারী হন, তাহলে শুধু মার্কিন নাগরিক না হওয়ার কারণে তিনি পেল গ্রান্ট থেকে বাদ পড়বেন না। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পাওয়া নিশ্চিত নয়। পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা। শিক্ষার্থীর ফাফসা তে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা ও সম্ভাব্য অনুদানের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, শুধু পরিবারের আয় দেখেই পেল গ্রান্ট-এর যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয় না। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, কর দাখিলের অবস্থা, ফেডারেল দারিদ্র্য নির্দেশিকা-সহ একাধিক বিষয় হিসাবের মধ্যে আসে। এফ-১ শিক্ষার্থীরা কি পেল গ্রান্ট পাবেন? যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আসা বাংলাদেশিদের জন্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ২০২৬-২৭ ফাফসা নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এফ-১ বা এফ-২ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ বা জে-২ বিনিময় দর্শনার্থী ভিসা থাকা ব্যক্তিদের ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর ক্ষেত্রে যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয় না। ফলে শুধু এসব ভিসার ভিত্তিতে তারা ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাবেন না। তবে এর অর্থ এই নয় যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সব ধরনের আর্থিক সহায়তার দরজা বন্ধ। বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের নিজস্ব বৃত্তি, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা কিংবা বেসরকারি বৃত্তির নিয়ম আলাদা হতে পারে। ডাকা থাকলেও পেল গ্রান্ট নয় - শৈশবে আগতদের জন্য স্থগিত ব্যবস্থা বা ডাকা পাওয়া শিক্ষার্থীরাও বর্তমানে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর জন্য যোগ্য অ-নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন না। তবে ডাকা (DACA) প্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থীর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলে তিনি ফাফসা পূরণ করতে পারেন। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলেজের নিজস্ব আর্থিক সহায়তার জন্য যোগ্য কি না, তা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু ফাফসা পূরণ করতে পারা মানেই ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য হওয়া নয়। সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকলেই পেল গ্রান্ট নয় - অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ভুল ধারণা রয়েছে। কারও সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকলেই তিনি পেল গ্রান্ট পাবেন, এমন কোনো নিয়ম নেই। ফেডারেল শিক্ষাসহায়তার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাগরিকত্ব বা যোগ্য অ-নাগরিক মর্যাদা গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সহায়তা কর্মসূচির অন্য শর্তও পূরণ করতে হয়। পেল গ্রান্ট আসলে কী? পেল গ্রান্ট এবং শিক্ষাঋণ এক বিষয় নয়। ফেডারেল পেল গ্রান্ট মূলত আর্থিক প্রয়োজন থাকা স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফেডারেল অনুদান। সাধারণ পরিস্থিতিতে এই অর্থ ফেরত দিতে হয় না। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে, যেমন নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করে কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে সরে গেলে, অনুদানের কিছু অংশ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ পুরস্কার বছরে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৯৫ ডলার পেল গ্রান্ট পেতে পারেন। তবে সবাই সর্বোচ্চ পরিমাণ পাবেন না। ব্যক্তির যোগ্যতা ও অন্যান্য নির্ধারিত বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে। যোগ্য শিক্ষার্থীরা দুই বছরের কমিউনিটি কলেজ, পেশাগত বিদ্যালয়, কারিগরি বিদ্যালয়, যোগ্য অনলাইন বিদ্যালয় এবং চার বছরের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সংশ্লিষ্ট খরচে পেল গ্রান্ট ব্যবহার করতে পারেন। একজন যোগ্য শিক্ষার্থী সাধারণভাবে প্রায় ছয় বছর বা ১২টি শিক্ষামেয়াদের সমপরিমাণ সময় পর্যন্ত পেল গ্রান্ট পাওয়ার সুযোগ পান। বছরগুলো একটানা হওয়াও বাধ্যতামূলক নয়। কীভাবে আবেদন করবেন? পেল গ্রান্ট-এর জন্য সাধারণত আলাদা কোনো আবেদন করতে হয় না। শিক্ষার্থীকে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড এর জন্য বিনামূল্যের আবেদন বা ফাফসা পূরণ করতে হয়। ফাফসা জমা দেওয়ার পর ফাফসা জমা সারসংক্ষেপে শিক্ষার্থী তার সম্ভাব্য পেল গ্রান্ট-এর একটি আনুমানিক হিসাব দেখতে পারেন। তবে সেটিই চূড়ান্ত অর্থের নিশ্চয়তা নয়। শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কলেজ বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তা দপ্তর চূড়ান্তভাবে কত ধরনের এবং কত পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করে। ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা নিয়ে নিজেরা অনুমান না করে ফাফসা পূরণের পরামর্শ দিয়েছে। কারণ অনেক পরিবার শুধু আয় বা অভিবাসন পরিস্থিতি দেখে আগেই ধরে নেয় যে তারা কোনো সহায়তা পাবে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য মূল বিষয়টি হলো, সন্তান মার্কিন নাগরিক না হলেও পেল গ্রান্ট-এর সুযোগ একেবারে বন্ধ নয়। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, আশ্রয় মঞ্জুর হওয়া ব্যক্তি এবং সরকারের নির্ধারিত আরও কিছু যোগ্য অ-নাগরিক এই সহায়তার আওতায় আসতে পারেন। অন্যদিকে এফ-১, এফ-২, জে-১, জে-২ বা ডাকা অবস্থানকে বর্তমানে ফেডারেল পেল গ্রান্ট পাওয়ার যোগ্য অভিবাসন মর্যাদা হিসেবে গণ্য করা হয় না। শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিস্থিতি আলাদা। তাই নিজের অভিবাসন মর্যাদা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে অনুমান করার পরিবর্তে ফাফসা পূরণ এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কলেজের আর্থিক সহায়তা দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করাই যোগ্যতা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসার লক্ষ্যে উত্থাপিত এক প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের ‘না’ ভোট দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাবশালী মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ এখন স্পষ্ট ও উচ্চকণ্ঠে বার্তা দিচ্ছেন যে—চরমপন্থী নেতানিয়াহু সরকারের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা আর বাড়িয়ে দেওয়া সহ্য করা হবে না। নিজের পোস্টের সঙ্গে বার্নি স্যান্ডার্স ‘কোয়িন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্রাফট’-এর গবেষক বেন ফ্রিম্যানের একটি ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওতে ফ্রিম্যান জানান, দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে এভাবে এক সুতোয় গাঁথার প্রস্তাবটি মূলত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকেই পেশ করা হয়েছিল। এই প্রস্তাব পাস হলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং ড্রোন প্রযুক্তি থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের প্রায় সব ধরনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে এক অভূতপূর্ব সহযোগিতা গড়ে উঠবে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ সম্প্রতি ১.১৫ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ১৫ হাজার কোটি) ডলারের ঐতিহাসিক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট’ (এনডিএএ) অনুমোদন করেছে। বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন মার্কিন সিনেটে পেশ করার অপেক্ষায় রয়েছে। মূলত এই বিশাল খসড়া বিলেই ইসরায়েলকে সামরিক প্রযুক্তিতে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার বিধান রয়েছে, যার বিরুদ্ধে এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বার্নি স্যান্ডার্স।
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক খালেদ আহমেদ সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। প্রায় ৫৪৭ মিলিয়ন (৫৪ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলারের বিশাল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রান্তের অভিযোগে অভিযুক্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। বুধবার এফবিআই মিয়ামি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফরেন ট্রান্সফার অব কাস্টডি (FTOC) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আদালতের নথি ও এফবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাতারি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়। এফবিআই মিয়ামি এবং মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিদর্শক জেনারেলের কার্যালয় (HHS-OIG) যৌথভাবে এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত পরিচালনা করছিল। চিকিৎসা সেবা খাতের তহবিল মেডিকেয়ার থেকে অর্ধ-বিলিয়নেরও বেশি ডলার আত্মসাতের জঘন্য এই চক্রান্তে তার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই সফল প্রত্যর্পণের পর এফবিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিচার এড়াতে কোনো অপরাধী যেখানেই পালিয়ে যাক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই কাজ করে যাবে তাদের সংস্থা। এই অভিযান সফল করতে এফবিআই নিউ অরলিন্স, ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস এবং লুইজিয়ানার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের এই চমৎকার সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে এফবিআই।
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর আন্দিজ অঞ্চলে শনিবার রাতে এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে অন্তত ৫ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের সামান্য পর পেরুর মধ্যাঞ্চলীয় সিকায়া শহরের কাছে ৫.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে বহু ঘরবাড়ি এবং একটি স্থানীয় গির্জা ধসে পড়ায় অন্তত ৩০০ জন বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। এছাড়া, ধ্বংসস্তূপের নিচে অজানা সংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে রোববার সতর্ক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পেরুর ন্যাশনাল সিভিল ডিফেন্স ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে স্থানীয় গির্জা ও মঠসহ বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং অনেক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নিখোঁজ বাসিন্দাদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের প্রধান লুইস ভাসকুয়েজ জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী 'অ্যাডোবি' বা কাঁচা মাটির তৈরি বাড়িঘরের বহুল ব্যবহারের কারণেই মূলত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গ্রামীণ এসব দুর্বল নির্মাণসামগ্রী শক্তিশালী কম্পন সহ্য করতে না পারায় সহজেই ভবনগুলো ধসে পড়ে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিনির্ভর জনপদ চোঙ্গো বাজো থেকে আসা ছবিগুলোতে চরম হৃদয়বিদারক দৃশ্য ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে গৃহহীন পরিবারগুলো কম্বল মুড়ি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন এবং প্রতিবেশীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু খুঁজছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে গবাদিপশু আটকে থাকার দৃশ্যও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। ভূমিকম্পে সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়া হারমেনেগিল্ডা গুয়ামালাতো নামের এক বাসিন্দা স্থানীয় রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আক্ষেপ করে বলেন, "আমার বাড়িটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।" বর্তমানে তিনি তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী হুয়ায়ুকাচি প্রদেশে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
উত্তর আমেরিকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন্স ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) এর ৪০তম কনভেনশন আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন লস অ্যাঞ্জেলেস/ইউনিভার্সাল সিটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকদের দাবি, ফোবানার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অনুসারে এটিই একমাত্র মূল ও বৈধ ৪০তম ফোবানা কনভেনশন। একই সময়ে ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানের প্রচারণায় বিভ্রান্ত না হয়ে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফোবানার বর্তমান নেতৃত্ব। ফোবানার নির্বাহী কমিটির চেয়ারপারসন রবিউল করিম বেলাল এবং নির্বাহী সচিব খালেদ আহমেদ রউফ এক যৌথ বক্তব্যে বলেন, ফোবানার সংবিধান অনুযায়ী সদস্য সংগঠনগুলোর ভোটের মাধ্যমে দুই বছর আগেই কনভেনশনের আয়োজক শহর নির্ধারণ করা হয়। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় এবারের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজক ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটি। তারা জানান, কনভেনশনকে সফল করতে ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা, সমন্বয় বৈঠক ও প্রস্তুতিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারাও এসব আয়োজনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। ফোবানা নেতাদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েকটি পৃথক গোষ্ঠী ‘ফোবানা’ নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে। তবে এসব আয়োজনের সঙ্গে ফোবানার সাংবিধানিক কাঠামো কিংবা নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। তাই বিভিন্ন প্রচারণা বা বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে প্রবাসীদের তথ্য যাচাই করে মূল কনভেনশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। রবিউল করিম বেলাল বলেন, “ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ঐক্যের প্রতীক। নিবন্ধিত সদস্য সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ, সংবিধান এবং সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।” খালেদ আহমেদ রউফ বলেন, “কেউ ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতেই পারেন। কিন্তু সেটিকে ফোবানা কনভেনশন হিসেবে উপস্থাপন করা সঠিক নয়। প্রবাসীদের বিভ্রান্ত না হয়ে মূল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আহ্বান জানাই।” আয়োজকদের উদ্যোগে সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় কমিউনিটির নেতারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থে বিভেদ নয়, ঐক্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কনভেনশনকে ঘিরে ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সবাইকে একই প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ত করাই তাদের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে শিগগিরই একটি বৃহৎ টাউন হল সভার আয়োজন করা হবে, যেখানে কনভেনশনের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের কনভেনশনে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও কানাডা থেকে শত শত শিল্পী, সাহিত্যিক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, কমিউনিটি নেতা ও দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তিন দিনের এই আয়োজনে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সাহিত্যসভা, সেমিনার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ফোরাম, গ্রন্থমেলা, ফ্যাশন শো, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। এছাড়া কনভেনশনের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ‘সিলভার প্যাকেজ’-এর বিশেষ মূল্যছাড়ের সময়সীমা আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কনভেনশনের আহ্বায়ক ডা. জয়নুল আবেদীন ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এম. ইকবাল। তারা জানান, সীমিতসংখ্যক এ প্যাকেজে ভিআইপি পাস, বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ এবং সংরক্ষিত আসনের সুবিধা থাকবে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে ফোবানা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম কনভেনশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি এবং নতুন প্রজন্মের সম্পৃক্ততাকে আরও শক্তিশালী করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের হর্ন আইল্যান্ডে ১৮ বছর বয়সী কলেজ ফুটবল খেলোয়াড় নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নোলানের এক বন্ধুর মা এবং জ্যাকসন কাউন্টির বিচারক অ্যাশলি কোল জানান, নৌকার বিলজ পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাদের দল দ্রুত দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য হয়। তার দাবি, নোলান নিজ ইচ্ছায় হর্ন আইল্যান্ডে থেকে যান এবং পরে অন্য একটি নৌকায় ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বীপে ফেলে আসা হয়নি। অন্যদিকে, নোলানের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ জন্য তারা খ্যাতনামা নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী বেন ক্রাম্পকে নিয়োগ দিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও বিষতত্ত্ব পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামতও যাচাই করা হচ্ছে। বিচারক অ্যাশলি কোল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা—ফুটবল, ট্যাঙ্গো নৃত্য আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। তবে অনেকের অজানা, লাতিন আমেরিকায় মুসলিম উপস্থিতির দিক থেকেও দেশটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘ অভিবাসনের ইতিহাস, ধর্মীয় পরিচয় টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম এবং ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজ আজ একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর তথ্য অনুযায়ী, আর্জেন্টিনায় প্রায় পাঁচ লাখ মুসলমান বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার এক শতাংশের বেশি। তবে বিভিন্ন বেসরকারি জরিপে এ সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লাতিন আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুদের অন্যতম বড় আবাসস্থল হিসেবে আর্জেন্টিনার পরিচিতি ক্রমেই সুদৃঢ় হয়েছে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই অঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটে পঞ্চদশ শতাব্দীতে। স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে আসা ‘মুরিশ-মরিস্কো’ মুসলিমরা ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন জীবনের আশায় এখানে বসতি স্থাপন করেন। এরপর ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক আরব অভিবাসী আর্জেন্টিনায় আসেন। তাদের হাত ধরেই মুসলিম সমাজ আরও সংগঠিত ও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। দেশটিতে ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ মূলত শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। ১৯৮৩ সালে রাজধানী বুয়েনস আইরেসে প্রতিষ্ঠিত ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদকে আর্জেন্টিনার প্রথম মসজিদ হিসেবে ধরা হয়। এর দুই বছর পর ১৯৮৫ সালে নির্মিত ‘আল-আহমদ’ মসজিদ ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত প্রথম দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সৌদি আরবের অর্থায়নে গড়ে ওঠে ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’, যা দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম ইসলামিক কমপ্লেক্সগুলোর একটি। এখানে মসজিদ ছাড়াও রয়েছে গ্রন্থাগার, শিক্ষা কার্যক্রম এবং উন্মুক্ত পার্ক—যা মুসলিম সমাজের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনার মুসলিম সম্প্রদায়। নতুন প্রজন্মের বড় একটি অংশ স্প্যানিশ ভাষাভাষী হওয়ায় আরবি ভাষা ও ঐতিহ্যগত ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে তাদের সংযোগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষায় মানসম্মত ইসলামি সাহিত্য ও গবেষণার অভাব এবং গণমাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক উপস্থাপনার ঘাটতি ধর্মীয় পরিচয় ধরে রাখার ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার জন্ম দিয়েছে। তারপরও দীর্ঘ শতকের অভিজ্ঞতা, শক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য আর্জেন্টিনার মুসলিম সমাজকে এখনো দৃঢ়ভাবে টিকিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সময়োপযোগী শিক্ষা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রম জোরদার করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও ইসলামের মূল্যবোধ আরও সুসংহতভাবে বিকশিত হবে এবং আর্জেন্টিনার বহুসাংস্কৃতিক সমাজে মুসলমানদের ইতিবাচক ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার একটি ছোট শহরের পুরো পুলিশ বিভাগকে একসঙ্গে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের জব্দকৃত মালামাল ও অপরাধের প্রমাণপত্র রাখার ঘর বা ‘এভিডেন্স রুম’-এ বেআইনিভাবে ঢোকার অভিযোগ তোলাকে কেন্দ্র করে শহর কাউন্সিল ও মেয়রের সাথে বিরোধের জেরে এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যারাকভিল পুলিশ বিভাগ তাদের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, ব্যারাকভিল শহর কাউন্সিল এবং মেয়র টম স্ট্রেট অবিলম্বে পুরো পুলিশ বিভাগের সবাইকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সকালে, যখন হান্ট নামের একজন সাবেক পুলিশ সার্জেন্ট থানায় এসে দেখেন যে তাদের সুরক্ষিত এভিডেন্স রুমের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকা হয়েছে। বিষয়টি দেখা মাত্রই তিনি মেয়র ও শহর কাউন্সিলের সদস্যদের সাথে জরুরি বৈঠকে বসেন। সার্জেন্ট হান্টের দাবি, কাউন্সিলের সদস্যরা এর আগেই পুলিশ অফিসারদের অনুপস্থিতিতে থানার মালামালের হিসাব নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি কাউন্সিলের একজন সদস্য থানার এক সেট চাবি নিজের কাছে রাখার কথা স্বীকারও করেছেন। শহর প্রশাসনের বিরুদ্ধে এভিডেন্স রুমে বেআইনিভাবে ঢোকার এই গুরুতর অভিযোগ তোলার পরপরই সার্জেন্ট হান্ট এবং থানার একমাত্র অন্য পুলিশ কর্মকর্তাসহ কর্মরত সবাইকে বরখাস্ত করা হয়। এর প্রতিবাদে থানার কেরানিও পদত্যাগ করেন, যার ফলে পুরো শহরটি এখন সম্পূর্ণ পুলিশহীন হয়ে পড়েছে। এই ঘটনার মাত্র এক সপ্তাহ আগে ব্যারাকভিলের পুলিশ প্রধান জাচারি ফ্রিবোর্ন পদত্যাগ করেছিলেন। পুলিশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে শহর কাউন্সিলের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার কারণে তিনি চাকরি ছেড়েছিলেন বলে জানা গেছে। সার্জেন্ট হান্ট জানিয়েছেন, তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরকারিভাবে তথ্যফাঁসকারীর আইনি সুরক্ষা চাইবেন। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বাসিন্দার এই ব্যারাকভিল শহরে কোনো স্থানীয় পুলিশ নেই। তবে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যারিয়ন কাউন্টির শেরিফ বা আঞ্চলিক পুলিশ ওই এলাকায় দায়িত্ব পালন করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের এমন খামখেয়ালিপনায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার অভাব তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী (ইন্টারিম) চুক্তি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর তিনি বলেন, এই সমঝোতা আর কার্যকর নেই। বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ইরানের সঙ্গে চলমান অন্তর্বর্তী সমঝোতা ভেঙে পড়েছে। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি এবং প্রয়োজনে আলোচনা আবারও শুরু হতে পারে। এর আগে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। এসব ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণাকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সংঘাত কমাতে নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক সক্ষমতা ও সৈন্য কমিয়ে নিলে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোটে (ন্যাটো) তুরস্কের গুরুত্ব ও ভূমিকা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন নেদারল্যান্ডসের সেনাপ্রধান জেনারেল অনো আইশেলশেইম। তুরস্কের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির ক্রমাগত বিস্তৃত হতে থাকা শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্পের কারণে ন্যাটোর কাছে আঙ্কারা দিন দিন আরও বেশি অপরিহার্য হয়ে উঠছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কথা বলেন। ডাচ সেনাপ্রধান জানান, আঙ্কারা সম্মেলনটি ন্যাটোর জন্য বেশ কয়েকটি ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মোড় হিসেবে চিহ্নিত হবে। জোটের বর্তমান শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত আগের সম্মেলনে নির্ধারিত প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন করা। নেদারল্যান্ডস এ ক্ষেত্রে একটি শ্বেতপত্র বা হোয়াইট পেপার প্রস্তুত করেছে এবং তারা ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় ৫ শতাংশে নিয়ে যেতেও নিজেদের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। জেনারেল আইশেলশেইম স্পষ্ট করে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ থেকে তাদের সামরিক শক্তি গুটিয়ে নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে এখন ইউরোপীয় দেশগুলোকেই ন্যাটোর ভেতর বড় ধরনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। তিনি এটিকে ইউরোপের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সাথে তিনি চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই সম্মেলন থেকে একটি শান্তির পথ খোঁজার তাগিদ দেন। নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ন্যাটোর নতুন রূপ বা 'ন্যাটো ৩.০' ভিশন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডাচ সেনাপ্রধান বলেন, যুদ্ধ শুরু হলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আমাদের এখন সহনশীল সমাজ এবং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প দরকার। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের পেছনে ছুটলে হবে না, একই সাথে স্বল্প খরচের হালকা চালকহীন ড্রোন (ইউএভি) এবং কম খরচের ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। আর তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিমধ্যেই এই লক্ষ্য অর্জনে দারুণ সক্ষমতা দেখিয়েছে। তুরস্কের অনন্য গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভৌগোলিক কারণেই তুরস্ক ন্যাটোর দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মূল অভিভাবক এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর এই জোটে তুরস্কেরই রয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী। মার্কিনরা নিজেদের গুটিয়ে নিলে ন্যাটোর যে শক্তির ঘাটতি তৈরি হবে, তা পূরণে তুরস্কের সামরিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হবে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো পরিদর্শন করে নিজের মুগ্ধতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের অন্যান্য দেশের চেয়ে তুর্কি প্রতিরক্ষা শিল্প এখন অনেক এগিয়ে এবং তাদের সাথে যৌথ সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে প্রায় তিন হাজারে পৌঁছেছে। সর্বশেষ সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২ হাজার ৯৫৪ জনে। শনিবার (৪ জুলাই) প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা আরও তিন শতাধিক বেড়েছে, যা দুর্যোগের প্রকৃত ভয়াবহতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে। গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনেজুয়েলায়। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার এই দুই ভূকম্পন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে সংঘটিত হয়, যা মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে হতাশার মাঝেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখনো আশায় বুক বেঁধে দুর্ঘটনাস্থলগুলোর আশপাশে অবস্থান করছেন। নিখোঁজ স্বজনদের কোনো খোঁজ বা চিহ্ন পাওয়ার অপেক্ষায় তারা দিন গুনছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ জন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং নিখোঁজ আরও হাজার হাজার মানুষের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। এদিকে, প্রধান দুটি ভূমিকম্পের পরও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। দেশটির আবহাওয়া ও ভূতাত্ত্বিক দপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত মোট ৯৪২টি আফটারশক বা মৃদু কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা উদ্ধার কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক এই দুর্যোগ লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম বিধ্বংসী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিপর্যয়ের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে দেশটির সামনে দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
তেহরানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানকে ঘিরে শোকের পাশাপাশি প্রবল রাজনৈতিক আবহও দেখা গেছে। রাজধানীর প্রধান শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া হাজারো মানুষের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়। অনুষ্ঠানজুড়ে বারবার ধ্বনিত হয় ‘আমেরিকার ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ চাই’ স্লোগান, যা পুরো পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। রাষ্ট্রের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিদায় অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ তেহরানে জড়ো হন। অনেকের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং খামেনির প্রতিকৃতি। শোক প্রকাশের পাশাপাশি উপস্থিত অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত জনতার কণ্ঠে আরও শোনা যায়, ‘আমাদের স্লোগান একটাই—প্রতিশোধ’ এবং ‘আমাদের নেতার রক্ত বৃথা যাবে না’—এ ধরনের স্লোগান। এসব স্লোগান শোকানুষ্ঠানকে শুধু ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় আচারেই সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং তা রাজনৈতিক বার্তারও রূপ নেয়। বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয় এবং অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। বিপুল জনসমাগমের কারণে পুরো এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক দিন ধরে চলবে শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী মরদেহ বিভিন্ন শহরে নেওয়ার পর দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে খামেনির বিদায় অনুষ্ঠানে উচ্চারিত যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শোকানুষ্ঠানের দৃশ্য ও স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের বিমানবাহিনীকে অভাবনীয় মাত্রায় শক্তিশালী করতে রাশিয়ার সঙ্গে বিশাল সামরিক চুক্তির পথে হেঁটেছে ইরান। জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেহরানের কাছে ৩০টি অত্যাধুনিক ‘সু-৩৫’ ফাইটার জেট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি যুদ্ধবিমানের উৎপাদন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১০টি ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র চুক্তি। মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে মোট ৪৮টি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সু-৩৫’ যুদ্ধবিমান কিনছে তেহরান। বর্তমানে ইরানের বিমানঘাঁটিগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই এই যুদ্ধবিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এই বৃহৎ চুক্তির পাশাপাশি ইরান সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি ব্যবহৃত ‘সু-৩০এসএম২’ দূরপাল্লার ফাইটার জেটেরও অর্ডার দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘সু-৫৭’ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার বিষয়েও দুপক্ষের আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিবর্তিত সামরিক ভারসাম্য ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রাশিয়ার তৈরি এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিমানবাহিনীর আক্রমণ ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের আমলের পুরোনো এফ-৪ এবং এফ-৫ বিমান ব্যবহার করেই ইরান যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের নিশ্ছিদ্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার যুদ্ধ ব্যাসার্ধের সু-৩৫ যুক্ত হলে আঞ্চলিক আকাশসীমায় তেহরানের সামরিক প্রভাব ও আধিপত্য যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।