আমেরিকা

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে মাদুরোর মতোই হবে পরিণতি: দেলসি রদ্রিগেজকে মার্কো রুবিওর হুঁশিয়ারি

লাতিন আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কো রুবিও। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক–বিষয়ক কমিটির সামনে বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণ না হলে রদ্রিগেজকে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।   রুবিওর খসড়া বক্তব্য অনুযায়ী, “দেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোর পরিণতি ভালোভাবেই জানেন। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, তার ব্যক্তিগত স্বার্থ আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”   তিনি আরও বলেন, “ভুল করবেন না—যদি অন্য সব কৌশল ব্যর্থ হয়, সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আমরা শক্তি প্রয়োগ করতেও প্রস্তুত।”   সিনেট কমিটিতে অংশ নেওয়ার সময় রুবিও ডেমোক্র্যাটদের চাপ মোকাবিলা করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।   চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কে নেয়া হয়। অভিযানের পক্ষে রুবিও বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র দুজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। মাদুরো আইনসম্মত রাষ্ট্রপ্রধান নয়, বরং অভিযুক্ত একজন মাদক কারবারি।”   তবে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় মাদুরোকে রক্ষা করতে গিয়ে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন, নিহতদের মধ্যে কিউবার নাগরিকও রয়েছেন।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশ মাদুরোকে বৈধ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। মাদুরো আটক হওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পান দেলসি রদ্রিগেজ, যিনি আগে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের আশা, রদ্রিগেজ মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নেবেন।

শাহারিয়া নয়ন জানুয়ারী ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের কারণে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক হলিউড তারকাদের

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বিশ্ব তারকাদের মিলনকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত হলিউড ছাড়তে শুরু করেছেন বহু তারকা। এবার সেই যাত্রায় নাম লেখালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট। তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রে আর স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না, তাই তিনি ইউরোপে পাড়ি জমানোর কথা ভাবছেন।    এর আগে এলেন অভিনেতা ডিজেনারেস ও তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি এবং জর্জ ও আমাল ক্লুনির মতো নামি দামি আরও বেশ কয়েকজন তারকাও রাজনৈতিক ও সৃজনশীল উদ্বেগের কারণে ইতিমধ্যেই আমেরিকা ছেড়েছেন বা ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।       নিজের মতা প্রকাশে ক্রিস্টেন স্টুয়ার্ট কখনোই পিছিয়ে থাকেননি। ‘টোয়াইলাইট’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য হলিউড তারকাদের আমেরিকা ত্যাগের এক অনিবার্য গণমিছিলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।    অস্কার মনোনীত এই তারকা সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন, তিনি হয়তো আর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করবেন না। এর পেছনে তিনি ক্রমবর্ধমান এক সীমাবদ্ধ পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, যা তার কাজ করার স্বাধীনতাকে ব্যাহত করছে। স্টুয়ার্টের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন অনেক প্রখ্যাত তারকা আমেরিকাকে বিদায় জানিয়ে ইউরোপে থিতু হচ্ছেন। তার এই অবস্থান হলিউডের সাথে শিল্পীদের সম্পর্কের পুনর্বিবেচনার তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করল।   সম্প্রতি ‘দ্য টাইমস অফ লন্ডন’-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট স্বীকার করেছেন, ট্রাম্পের বর্তমান নীতির কারণে তিনি সম্ভবত আর যুক্তরাষ্ট্রে থাকছেন না। তিনি বলেন, ট্রাম্পের অধীনে বাস্তবতা পুরোপুরি ভেঙে পড়ছে। আমাদের উচিত এমন এক বাস্তবতা তৈরি করা যেখানে আমরা বাস করতে চাই।     সরাসরি যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন কি না, ‘স্পেন্সার’ খ্যাত এই তারকা অকপটে জবাব দেন, সম্ভবত না। আমি সেখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি না।    তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আমেরিকান সিনেমা পুরোপুরি ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা তার নেই। বরং তিনি ইউরোপে চলচ্চিত্র নির্মাণ করে তা মার্কিন দর্শকদের সামনে নিয়ে আসতে চান। তার ভাষায়, তিনি সিনেমাগুলো আমেরিকানদের গলার ভেতর দিয়ে নামিয়ে দিতে চান।   ট্রাম্পের সাথে স্টুয়ার্টের অস্বস্তি অবশ্য নতুন কিছু নয়। ২০১২ সালে প্রাক্তন এই প্রেসিডেন্ট স্টুয়ার্টের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক মাধ্যম এক্সে বারবার পোস্ট করেছিলেন এবং তার তৎকালীন প্রেমিক রবার্ট প্যাটিনসনকে বিচ্ছেদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘ভ্যারাইটি’র এক সাক্ষাৎকারে স্টুয়ার্ট ট্রাম্পকে তার প্রতি ‘মোহাবিষ্ট’ বলে অভিহিত করেছিলেন।       ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর স্টুয়ার্ট এখন সেই ক্রমবর্ধমান তালিকায় যুক্ত হলেন যারা আমেরিকা ছাড়ছেন। এলেন ডিজেনারেস এবং তার স্ত্রী পোর্শিয়া ডি রোসি স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে চলে গেছেন। রোজি ও’ডোনেলও আমেরিকা ত্যাগ করেছেন।    ‘অ্যাভাটার’ নির্মাতা জেমস ক্যামেরন, যিনি তার ফ্র্যাঞ্চাইজির কাজের জন্য নিউজিল্যান্ডে চলে গেছেন, জানিয়েছেন তার যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সম্ভাবনা কম। তিনি রসিকতা করে বলেন, তিনি সেখানে প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য যাননি, গিয়েছেন নিজের মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে।     অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ‘গেম অফ থ্রোনস’ অভিনেত্রী সোফি টার্নার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাজ্যে ফিরে গেছেন। জর্জ ও আমাল ক্লুনি ফরাসি নাগরিকত্ব পাওয়ার পর নিশ্চিত করেছেন, তারা আমেরিকা ছাড়ছেন।    এদিকে ‘হাউস অফ কার্ডস’ তারকা রবিন রাইট যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছেন এবং আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বিশৃঙ্খলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হলিউডের নামি তারকাদের এভাবে আমেরিকা ছাড়ার হিড়িক দেখে মনে হচ্ছে, অনেকেই হয়ত খ্যাতির মোহ ত্যাগ করে শান্তি ও মানসিক সুস্থতার খোঁজে অচিরেই বিদেশের মাটিতে আশ্রয় নেবেন।

তাবাস্সুম জানুয়ারী ২৭, ২০২৬ 0
বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি আইসির
ভয় ও আতঙ্কে অভিবাসী পরিবার—বিচারকের ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে ঢোকার অনুমতি আইসির

আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জারি করা একটি মেমোর ভিত্তিতে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইসি) কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষরবিহীন প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, এই মেমোটি ছিল ‘গোপনীয়’, যা তারা পরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বার্থে বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে অভিযান চালানো যেতে পারে। এই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসী কমিউনিটিতে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, হঠাৎ কোনো সময় আইসি কর্মকর্তারা তাদের বাসায় ঢুকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মিশ্র স্ট্যাটাস পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও বেশি—যেখানে পরিবারের কেউ নাগরিক, কেউ অনিবন্ধিত। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী-এর (Fourth Amendment) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে বাড়িতে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বিচারকের নজরদারি ছাড়া এমন ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত ও কার্যকর অভিযান নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইসি বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এদিকে, মেমোটি নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির দাবি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে U.S. Congress-এ আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে লাখো অভিবাসী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে।

নুরুল্লাহ সাইদ জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ফটো: ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক
অর্থপাচারের অভিযোগ সত্ত্বেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সচিব হচ্ছেন এনবিআর সদস্য আল আমিন প্রামাণিক

আমেরিকা বাংলা: রাজস্ব খাতে গতি আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নীতি প্রণয়ন একদিকে, আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আরেক দিকে এই কাঠামোর মধ্য দিয়ে চলতি জানুয়ারিতেই বড় ধরনের রদবদল আসছে সংস্থাটিতে। দুই ভাগে বিভক্ত এনবিআরে থাকছে দুইজন সচিব। কিন্তু এই পুনর্গঠনের মধ্যেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।   জানা গেছে, এনবিআরের কাস্টমস- নিরীক্ষা, আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের সদস্য ড. মোহা. আল আমিন প্রামাণিক এক বিভাগের সচিব হওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। অথচ তার বিরুদ্ধেই রয়েছে গুরুতর অর্থপাচারের অভিযোগ। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, মোহা. আল আমিন প্রামাণিক অস্ট্রেলিয়ায় অবৈধভাবে পাচার করেছেন প্রায় সাড়ে চার লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। এসব অর্থ ছাড়াও দেশেও গড়েছেন সম্পদ। যা তার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য নয়।  বিএফআইইউর তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টপ্যাক ব্যাংক ও কমনওয়েলথ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। শুধু নিজের নামেই নয়, স্ত্রীর নামেও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চশিক্ষার অজুহাতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে এই অর্থ পাচার করা হয়, যেখানে তার স্ত্রীও সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ আছে।   এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আল আমিন প্রামাণিককে এনবিআরের গুরুত্বপূর্ণ সচিব পদে বসানোর তোড়জোড় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের ভেতর-বাইরে। সমালোচকদের মতে যার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাকে কীভাবে রাষ্ট্রের রাজস্ব প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া যায়?   আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, দীর্ঘদিন ধরে এই অর্থপাচারের অভিযোগ কার্যত থমকে আছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব ও অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে রাষ্ট্রযন্ত্র ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও চলছে, যাতে করে সচিব পদটি নিশ্চিত করা যায়।   এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত এনবিআর সদস্য আল আমিন প্রামাণিকের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে তিনি কোনো সাড়া দেননি।

নুরুল্লাহ সাইদ জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
ফেডারেল এজেন্ট একজন নারীকে আটক করার চিত্র
মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অভিযান চরমে, পাল্টা নজরদারিতে নামলেন ‘আইস অবজারভার’রা

আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান। এই অভিযানের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকা। হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করে চালানো এই অভিযানে স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে ‘আইস অবজারভার’ নামে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক নেটওয়ার্কগুলো। এসব স্বেচ্ছাসেবক মূলত ICE–এর অভিযান পর্যবেক্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজ করছেন।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘আইস অবজারভার’রা সাধারণ নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটি সংগঠকদের সমন্বয়ে গঠিত। তারা আইনসম্মত দূরত্ব বজায় রেখে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নথিভুক্ত করেন এবং প্রয়োজনে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছে দেন। তাদের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়; বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই অভিযান মূলত অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে স্থানীয় নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অভিযানের ধরন অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অভিবাসী পরিবার এমনকি মার্কিন নাগরিকদের মাঝেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মিনিয়াপোলিসে চলমান এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতি, ফেডারেল ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করছে। ‘আইস অবজারভার’দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধেরই একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন।

নুরুল্লাহ সাইদ জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ক্ষমতা কমাতে ডেমোক্র্যাটদের বিল—আটককেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব!
হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ক্ষমতা কমাতে ডেমোক্র্যাটদের বিল—আটককেন্দ্র বন্ধের প্রস্তাব!

আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেসওম্যান Delia Ramirez হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে একটি নতুন বিল উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন। ইলিনয় অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত এই প্রতিনিধি বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা।   এ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বিলটি House of Representatives-এ উত্থাপিত হয়ে থাকতে পারে অথবা উত্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে বর্তমানে হাউসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   বিলটির মূল উদ্দেশ্য হলো অভিবাসীদের আটক ও নজরদারির ক্ষেত্রে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)-এর ক্ষমতা ও অর্থ বরাদ্দ সীমিত করা। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, অভিবাসী আটককেন্দ্রের ব্যবহার বন্ধ করা হবে এবং নতুন আটককেন্দ্র নির্মাণ বা পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি আর করা হবে না।   এছাড়া, এসব পদক্ষেপের ফলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতে ব্যয় করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারগুলোর সহায়তায় এই অর্থ ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে।   বিলটি উত্থাপিত হলে তা ঘিরে কংগ্রেসে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিভাজনের মধ্যে এই প্রস্তাব নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নুরুল্লাহ সাইদ জানুয়ারী ২২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

যুক্তরাষ্ট্রে ধেয়ে আসছে বিশাল বরফ ও তুষার ঝড় — সবচেয়ে বিপদগ্রস্ত থেকে কম বিপদগ্রস্ত রাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রায় ২,০০০ মাইল দীর্ঘ এক ভয়াবহ বরফ ও তুষার ঝড় দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ঝড়ে বরফ, তুষারপাত ও হিমশীতল বৃষ্টির সম্মিলিত প্রভাব পড়তে পারে দেশের মধ্য-পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বহু রাজ্যে। ঝড়ের আগেই শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সড়ক যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।   CNN–এর আবহাওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ঝড়ের তীব্রতা অঞ্চলভেদে ভিন্ন হলেও কিছু রাজ্যে পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত রাজ্য (High Impact) টেক্সাস (Texas) ঝড়ের সূচনা এখান থেকেই। ভারী বরফ জমে বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, ব্ল্যাকআউট ও মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ওকলাহোমা (Oklahoma) বরফালার সঙ্গে তীব্র ঠান্ডা। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা। আর্কানসাস (Arkansas) হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফের স্তর জমে চলাচল প্রায় অচল হতে পারে। কেন্টাকি (Kentucky) মধ্য-পশ্চিম থেকে পূর্বাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় তুষারপাত ও বরফের যুগপৎ প্রভাব পড়তে পারে। ওহাইও (Ohio) ভারী তুষার ও তীব্র ঠান্ডায় বিমান ও সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। মাঝারি ঝুঁকির রাজ্য (Moderate Impact) টেনেসি (Tennessee) – বরফ ও তুষারের মিশ্র প্রভাব জর্জিয়া (Georgia) – বিশেষ করে উত্তর জর্জিয়ায় বরফ ঝড়ের সতর্কতা নর্থ ক্যারোলিনা (North Carolina) – হিমশীতল বৃষ্টি ও বরফ জমার ঝুঁকি সাউথ ক্যারোলিনা (South Carolina) – সীমিত এলাকায় বরফালার সম্ভাবনা ভার্জিনিয়া (Virginia) – তুষার ও ঠান্ডার প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে তুলনামূলক কম ঝুঁকির রাজ্য (Lower Impact) মেরিল্যান্ড (Maryland), ওয়াশিংটন ডিসি, পেনসিলভানিয়া (Pennsylvania), নিউ ইয়র্ক (New York), ম্যাসাচুসেটস (Massachusetts) — এসব রাজ্যে ঝড় পৌঁছালেও প্রভাব তুলনামূলক কম হতে পারে, তবে তুষারপাত ও শীতজনিত দুর্ভোগ পুরোপুরি এড়ানো যাবে না। পরিবহন ও জনজীবনে প্রভাব ঝড়ের আশঙ্কায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন বড় বিমানবন্দরে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সড়কে না নামার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রস্তুতি ও সতর্কতা জরুরি খাবার, পানি ও ওষুধ মজুত রাখুন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার প্রস্তুতি নিন স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা ও নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করুন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝড় আগামী কয়েক দিন ধরে ধাপে ধাপে বিভিন্ন রাজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও জরুরি সতর্কতা জারি করা হতে পারে।

নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই দীর্ঘ ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। এ উপলক্ষে ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) হওয়ায়, মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কারণ ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার—সাপ্তাহিক ছুটি।   এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন উপলক্ষে সরকার ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এখানেও টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।   প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচনের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, বছরটিতে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি এবং ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবারের সঙ্গে মিলেছে। এছাড়া, ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী, সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানিরা

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়াতে পারে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী,সতর্ক করলেন বিজ্ঞানীরা স্নেইল ফিভার’ নামে পরিচিত এক ধরনের পরজীবী বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। ত্বকের ভেতর দিয়ে মানবদেহে প্রবেশ করা এই পরজীবী দীর্ঘদিন রক্তে নীরবে অবস্থান করে এবং পরে ডিম পাড়ে,যা লিভার, ফুসফুসও যৌনাঙ্গসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে। ভয়াবহ বিষয় হলো,বছরের পর বছর শরীরে অবস্থান করলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি শনাক্তই নাও হতে পারে। শামুকের মাধ্যমে ছড়ানোএ পরজীবীর কারণেই রোগটির নামকরণ করা হয়েছে স্নেইল ফিভার।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, রোগটি এখন বৈশ্বিক উদ্বেগে পরিণত হয়েছে। কারণ পরজীবীটির গঠন ও বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন ঘটছে, যার ফলে এটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন এক সময়ে এই সতর্কবার্তা এলো,যখন৩০ জানুয়ারি ওয়ার্ল্ড নেগলেক্টেড ট্রপিক্যাল ডিজিজ ডে পালন করছে ডব্লিউএইচও।এ দিবসের লক্ষ্য হচ্ছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবীও ছত্রাকজনিত রোগগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো,যা সাধারণত দরিদ্র অঞ্চলের শত কোটিরও বেশি মানুষকে আক্রান্ত করে। কীভাবে ছড়ায় স্নেইল ফিভার :  এই পরজীবী বহন করে নির্দিষ্ট এক ধরনের শামুক।যেসব পানিতে ওই শামুক বসবাস করে,সেখানে পরজীবীর লার্ভা ছড়িয়ে পড়ে। কেউ যদি সেই পানিতে গোসল করেন বা সংস্পর্শে আসেন,তবে লার্ভা ত্বকের ভেতর প্রবেশ করতে পারে। পরজীবীগুলো এমন এনজাইম নিঃসরণ করে,যা ত্বক ভেদ করতে সক্ষম। দেহে প্রবেশের পর লার্ভাগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণবয়স্ক কৃমিতে পরিণত হয় এবং রক্তনালিতে বাসা বাঁধে।স্ত্রী কৃমিগুলো ডিম পাড়ে। কিছু ডিম মল বা প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে গেলেও বহু ডিম শরীরের ভেতরের টিস্যুতে আটকে থাকে। এতে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে আশপাশের সুস্থ টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে বিভিন্ন অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দেয়। বিশেষ করে তলপেট যৌনাঙ্গে ডিম জমে থাকলে ইউরোজেনিটাল স্কিস্টোসোমিয়াসিস নামের জটিল রোগ দেখা দেয়। এতে পেটব্যথা, ক্যানসার এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। চিকিৎসাওনতুন উদ্বেগ: সাধারণত অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধে স্নেইল ফিভার চিকিৎসাযোগ্য। ডব্লিউএইচও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী—যেমন শিশু কৃষিশ্রমিকও জেলেদের প্রতি বছর এই ওষুধ গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে মালাউই লিভারপুল ওয়েলকাম ক্লিনিক্যাল রিসার্চ প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক জানেলিসা মুসায়া সতর্ক করেছেন, নতুন কিছু ধরন শনাক্ত হয়েছে, যেগুলো প্রচলিত পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। হাইব্রিড পরজীবীর আশঙ্কা: গবেষণায় দেখা গেছে,মানুষের শরীরের পরজীবীওপ্রাণীর শরীরের পরজীবী একে অপরের সঙ্গে মিশে ‘হাইব্রিড’ বা মিশ্র ধরন তৈরি করছে। এসব হাইব্রিড পরজীবী মানুষ ওপ্রাণী—উভয়কেই আক্রান্ত করতে পারে।মালাউইতে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনার সাত শতাংশ পরজীবীই ছিল হাইব্রিড,যা গবেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। অধ্যাপক মুসায়া বলেন,এভাবে যদি প্রকৃতিতে সংক্রমণ চলতেই থাকে, তাহলে সংখ্যাটা এক সময় বেশ বড় হয়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, গবেষণা যেহেতু নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় করা হয়েছে,এজন্য এটি হয়তো হিমশৈলের চূড়া মাত্র। শনাক্তকরণে জটিলতা: গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, হাইব্রিড পরজীবীগুলো মানুষের যৌনাঙ্গে সংক্রমণ ঘটালেও তা শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এসব ডিম মাইক্রোস্কোপে সাধারণ পরজীবীর মতো দেখায় না। অনেক সময় উপসর্গগুলোকে যৌনবাহিত রোগ ভেবে ভুল করা হয়।চিকিৎসা না হলে বন্ধ্যত্ব, যৌনাঙ্গে ক্ষত এবং এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এপ্রসঙ্গে অধ্যাপক মুসায়া বলেন,“ভাবুন তো,কোনো নারী যদি সন্তান ধারণ করতে না পারেন... আমাদের সংস্কৃতিতে সন্তান হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান না হলে ওই নারীকে নানাভাবে কটূক্তি করেন মানুষরা। যা খারাপ এবং খুবই কষ্টের একটি রোগ। বৈশ্বিক প্রস্তুতি: ডব্লিউএইচও’র স্কিস্টোসোমিয়াসিস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির প্রধান ডা.আমাদু গারবা জিরমে বলেন,রোগটি একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ।তিনি জানান,কিছু দেশে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ না থাকলেও প্রাণীদের শরীরে পরজীবী রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নতুন এই হুমকি মোকাবিলায় ডব্লিউএইচও কৌশল পরিবর্তন করছে।সংস্থাটি প্রাণীদের মধ্যে রোগ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং বিভিন্ন দেশকে হাইব্রিড পরজীবী নিয়ে আন্তর্জাতিক সতর্কবার্তা দিয়েছে। যদিও ২০০৬থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ব্যাপক ওষুধ বিতরণের ফলে সংক্রমণ ৬০শতাংশ কমেছে, তবে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় এই অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।   প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল

Top week

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0