সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আমেরিকান ড্রিম

যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে নতুন জীবন গড়ছেন মার্কিনিরা, পেছনে ব্যয়বহুল জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে ইউরোপে নতুন জীবন গড়ছেন মার্কিনিরা, পেছনে ব্যয়বহুল জীবন ও নিরাপত্তার শঙ্কা

অতিরিক্ত জীবনযাত্রার ব্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপত্তার অভাবে মাতৃভূমি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক মার্কিন নাগরিক। স্বাস্থ্যসেবার আকাশচুম্বী খরচ, বন্দুক সহিংসতার আতঙ্ক এবং কর্মজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু শান্তির খোঁজে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে স্থায়ী হচ্ছেন তারা। একসময় যাকে 'আমেরিকান ড্রিম' বলা হতো, বর্তমান বাস্তবতায় অনেকেই সেই স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ভিন্ন দেশে নতুন জীবনের সন্ধান করছেন।   ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্য থেকে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানো জো রিগ্যান এমন অসংখ্য মার্কিনির একটি নিখুঁত উদাহরণ। দশ বছর পর বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ইতালির আব্রুজ্জোতে এক শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন শিশু পরিচর্যা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের খরচ মেটাতে হিমশিম খেলেও, ইতালিতে তিনি মাত্র ২৪ হাজার ইউরো বা ২৭ হাজার ডলারে একটি বাড়ি কিনেছেন। এখন তাকে চিকিৎসা ব্যয় বা স্কুলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা করতে হয় না।   বিদেশে বসবাসরত মার্কিনীদের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও দ্য ফেডারেল ভোটিং অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (এফভিএপি) তথ্যমতে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩৩ লাখ মার্কিন নাগরিক বিদেশে বসবাস করছিলেন, যা ২০১০ সালের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকানস ওভারসিজ-এর হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৫৫ লাখ।   দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ২০২৫ সালেই কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন। ফ্লোরেন্স-ভিত্তিক মার্কিন আর্থিক উপদেষ্টা অ্যালেক্স ইনগ্রিম জানান, আগে মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বিদেশে পাড়ি জমালেও, গত কয়েক বছরে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ পরিবারগুলোর মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।   দেশ ছাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতাকে দায়ী করছেন অনেকেই। ২০১২ সালের স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে মর্মান্তিক গুলির ঘটনার পর থেকে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকরা চরম উদ্বিগ্ন। এর পাশাপাশি রয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজন এবং অর্থনৈতিক অসন্তোষ।   সাম্প্রতিক ইকোনমিস্ট/ইউগভ এবং রয়টার্স/ইপসস-এর জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনায় যথাক্রমে ৬৩ এবং ৭০ শতাংশ মার্কিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে স্পেন, পর্তুগাল বা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশগুলোতে ছুটে যাচ্ছেন তারা। জো রিগ্যানের ভাষায়, নতুন জীবনের এই প্রশান্তি ছেড়ে আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা, গাড়ি ব্যবহার, সন্তানদের শিক্ষা ও অবসর জীবনের ব্যয়সহ আমেরিকান ড্রিম পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণে আজীবন খরচ ৫৩ লাখ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকান ড্রিম’ পূরণ করতে একজন মানুষের জীবনে মোট ব্যয় হতে পারে ৫৩ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি। নিজের বাড়ি, দুটি নতুন গাড়ি, দুই সন্তানের লালন-পালন ও উচ্চশিক্ষা, অবসর জীবনের আর্থিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, বিয়ে, পোষা প্রাণী এবং প্রতিবছর ছুটি কাটানোর খরচ হিসাব করে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে জীবনযাপনের এসব ব্যয় যে হারে বাড়ছে, সে তুলনায় বাড়ছে না মানুষের বেতন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত স্বচ্ছন্দ ও নিরাপদ জীবনের স্বপ্ন পূরণ ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রকাশনা ইনভেস্টোপিডিয়ার ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয় বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। অন্যদিকে, একই সময়ে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন ও মজুরি বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ, আয়ের বৃদ্ধির চেয়ে জীবনযাপনের কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনের খরচ দ্রুত বাড়ছে।      আমেরিকান ড্রিম বলতে সাধারণত এমন একটি জীবনকে বোঝানো হয়, যেখানে একজন মানুষ পরিশ্রমের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা অর্জন করবেন, নিজের বাড়ির মালিক হবেন, সন্তানদের ভালো শিক্ষা দিতে পারবেন এবং অবসরে স্বচ্ছন্দে জীবন কাটাবেন। ধারণাটি শুধু সম্পদ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তিস্বাধীনতা, সমান সুযোগ এবং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার প্রত্যাশাও এর সঙ্গে জড়িত। তবে জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আয়ের সঙ্গে তার ব্যবধান এই স্বপ্ন বাস্তবে অর্জন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করছে। ১৯৩১ সালে প্রকাশিত ‘এপিক অব আমেরিকা’ বইয়ে লেখক জেমস ট্রাসলো অ্যাডামসের লেখার মধ্য দিয়ে ‘আমেরিকান ড্রিম’ ধারণাটি ব্যাপক পরিচিতি পায়। তিনি এমন একটি দেশের স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, যেখানে সবার জীবন আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও পরিপূর্ণ হওয়ার সুযোগ থাকবে। প্রায় এক শতাব্দী পরও ধারণাটি মার্কিন সমাজে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, সেই জীবন অর্জনের সামর্থ্য নিয়ে মানুষের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনমত জরিপ সংস্থা গ্যালাপের ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৬৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে আমেরিকান ড্রিম অর্জন করতে পারবেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই হার চার শতাংশীয় পয়েন্ট কম। একই জরিপে ৭৮ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক মানুষের এই স্বপ্ন অর্জনের সুযোগ রয়েছে।      ইনভেস্টোপিডিয়ার হিসাবে, আমেরিকান ড্রিমের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাড়ির মালিক হওয়া, দুটি নতুন গাড়ি ব্যবহার এবং অবসর জীবনের অর্থ জোগাড় করা। এই তিন খাতেই মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ চলে যায়। বাড়ি কেনার পাশাপাশি বন্ধকের সুদ, সম্পত্তির কর, বিমা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচও এতে অন্তর্ভুক্ত। সন্তানদের লালন-পালন ও কলেজের শিক্ষাব্যয়ও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি করছে। নিজের বাড়ির মালিক হতে একজনের জীবনে আনুমানিক ১২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮২ ডলার ব্যয় হতে পারে। বিশ্লেষণে একটি একক পরিবারের বাড়ির গড় দাম ৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি ধরা হয়েছে। ৩০ বছর মেয়াদি গৃহঋণের সুদসহ মূল অর্থ পরিশোধে প্রায় ৮ লাখ ৩৭ হাজার ডলার খরচ হতে পারে। এর সঙ্গে সম্পত্তির কর, বাড়ির বিমা এবং তিন দশকের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় যোগ হয়ে মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ১২ লাখ ৭৬ হাজার ডলার। হিসাবটিতে গৃহঋণের গড় সুদের হার ৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ধরা হয়েছে। দুটি নতুন গাড়ি কেনা ও সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ব্যয়ও প্রায় একই রকম বেশি। এ খাতে আজীবন খরচের হিসাব ১২ লাখ ৫ হাজার ৬২৭ ডলার। নতুন গাড়ির ঋণ, বিমা, মেরামত, নিবন্ধন এবং জ্বালানি খরচ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। হিসাবের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় ১৫ হাজার মাইল গাড়ি চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকানা শুধু কেনার সময়ের ব্যয় নয়, বরং কয়েক দশক ধরে চলতে থাকা একটি বড় আর্থিক দায়। অবসর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণও ১২ লাখ ডলারের বেশি। বাড়ির ঋণ পরিশোধ হয়ে গেছে, এমন একটি বিবাহিত দম্পতির অবসর-পরবর্তী ২০ বছরের স্বচ্ছন্দ জীবন চালানোর ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ ৫ হাজার ১১৯ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খরচ বেড়েছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। অবসরকালীন সঞ্চয়, নিয়মিত আয় এবং সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার ওপর নির্ভরশীলতার বিষয়টি এখানে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কর্মজীবনে পর্যাপ্ত অর্থ জমাতে না পারলে অবসরের পর জীবনযাত্রার মান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। দুই সন্তানকে ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত লালন-পালন এবং পরে কলেজে পড়ানোর সম্মিলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৭৬৩ ডলার। আগের বছরের তুলনায় এই খাতে ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শিশুদের পরিচর্যা বা ডে-কেয়ারের খরচ বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যার গড় বার্ষিক ব্যয় প্রতি শিশুর জন্য ১৩ হাজার ডলারের বেশি। এর সঙ্গে চার বছরের জন্য অঙ্গরাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ব্যয় যোগ হয়ে পরিবারের মোট খরচ আরও বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আজীবন গড় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ১৩ হাজার ২৭১ ডলার। ২০২৫ সালের তুলনায় এই খরচ প্রায় ৯০০ ডলার কমেছে, যা আটটি খাতের মধ্যে একমাত্র ব্যয়হ্রাসের উদাহরণ। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত পরিবারের নিজস্ব অর্থ থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত ব্যয়ের হিসাব এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই হিসাবের অর্থ এই নয় যে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের চিকিৎসায় সমান খরচ হবে। ব্যক্তির স্বাস্থ্য, বিমা সুবিধা এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকৃত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হতে পারে। প্রতিবছর একবার ছুটি কাটানোর জন্য পুরো জীবনে আনুমানিক ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৯৯ ডলার ব্যয় হতে পারে। ২২ থেকে ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত বছরে একটি ভ্রমণের হিসাব ধরে এই পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি কুকুর ও একটি বিড়াল পোষার জন্য খাবার, পশুচিকিৎসা এবং বিমাসহ আজীবন ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ হাজার ৭৭২ ডলার। বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হলেও তা ৩৮ হাজার ৮০০ ডলার। এর মধ্যে বিয়ের অনুষ্ঠান ও অভ্যর্থনার পাশাপাশি বাগদানের আংটির খরচও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। একজন কর্মজীবী মানুষের আয় দিয়ে এই জীবনযাপনের ব্যয় মেটানো কতটা সম্ভব, তারও একটি হিসাব দিয়েছে ইনভেস্টোপিডিয়া। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রিধারী একজন পূর্ণকালীন কর্মী ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়স পর্যন্ত কাজ করে মধ্যম আয়ের ভিত্তিতে প্রায় ৩৬ লাখ ডলার উপার্জন করতে পারেন। অবসরের পর গড়ে ২০ বছরের সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা যোগ করলে তাঁর মোট প্রাপ্তির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪১ লাখ ডলার। তারপরও আমেরিকান ড্রিম পূরণের আনুমানিক ব্যয়ের তুলনায় ঘাটতি থেকে যায় প্রায় ১২ লাখ ডলার। তবে এই হিসাবকে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট ব্যয় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাড়ির দাম, বসবাসের এলাকা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মজীবনের দৈর্ঘ্য এবং অবসরকালীন সুবিধার ওপর প্রকৃত ব্যয় নির্ভর করে। একইভাবে, প্রত্যেক পরিবারের দুটি নতুন গাড়ি, পোষা প্রাণী বা প্রতিবছর ভ্রমণের প্রয়োজনও নেই। ফলে ৫৩ লাখ ডলারের বেশি ব্যয়ের হিসাবটি মূলত একটি প্রচলিত মধ্যবিত্ত জীবনধারার বিভিন্ন পর্যায়কে একত্র করে তৈরি করা অনুমান। তবু বিশ্লেষণটি যুক্তরাষ্ট্রের জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়ের মধ্যকার ব্যবধান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। বাড়ি কেনা, সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা এবং অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তার মতো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে শুধু ব্যক্তিগত পরিশ্রম যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। গ্যালাপের জরিপে আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টাকে অধিকাংশ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও, সবার জন্য সমান সুযোগ রয়েছে বলে বিশ্বাস করেন তুলনামূলক কমসংখ্যক উত্তরদাতা। অর্থাৎ, স্বপ্নটির গুরুত্ব এখনো অটুট থাকলেও সেটি অর্জনের বাস্তব সামর্থ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সূত্র: ইনভেস্টোপিডিয়া, গ্যালাপ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
৬-ক্যারেট হীরা আমেরিকান ড্রিম
১২ বছরের খোঁজের অবসান, মিলল ৬ ক্যারেটের হীরা ‘আমেরিকান ড্রিম’, মূল্য হতে পারে ১০ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের আর্কানসাসের ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কে ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে হীরা খুঁজছিলেন জ্যাক পিয়ারাডিন। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তার হাতে এসেছে ৬ দশমিক ০৩ ক্যারেটের একটি হলুদ হীরা। ‘আমেরিকান ড্রিম’ নাম দেওয়া এই হীরাটি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পার্কটিতে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা। পিয়ারাডিনের দাবি, কয়েকজন কালেক্টর এর মূল্য ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে তাকে জানিয়েছেন। তবে একজন অভিজ্ঞ জেম অ্যাপ্রাইজার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেছেন, হীরাটির মান ও বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এর মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে।    মিসৌরি থেকে আসা পিয়ারাডিন একজন নেভি রিজার্ভিস্ট। ২০১৩ সাল থেকে তিনি নিয়মিত এই পার্কে হীরা খুঁজছেন। এ পর্যন্ত তার হাতে এসেছে ৩০০টিরও বেশি রত্ন। হীরা খোঁজার প্রতি তার আগ্রহ এতটাই গভীর যে পার্কের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি মুরফ্রিসবরো শহরে চলে আসেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি জানান, শখটির প্রতি তার এতটাই ভালোবাসা যে কাছাকাছি চলে আসাটাও তার কাছে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত ছিল।    এবারের আবিষ্কারটি আসে একটি টিকটক লাইভের সময়। নুড়ি ও মাটি ধুয়ে একটি বালতির পাথর টেবিলের ওপর ঢেলে দেওয়ার পর চকচকে পাথরটি তার চোখে পড়ে। হীরাটি দেখতে প্রায় একটি নখের সমান। সেটি হাতে নিয়ে উচ্ছ্বসিত পিয়ারাডিন চিৎকার করে বলেন, “ওহ মাই গড! ওহ মাই গড!” এরপর হীরাটির আকার বুঝতে পেরে তিনি বলেন, “আমরা বড় একটা পেয়েছি!”    পিয়ারাডিন পরে হীরাটির নাম দেন ‘আমেরিকান ড্রিম’। তার ভাষায়, এটি একটি বিশাল ও আকর্ষণীয় হলুদ হীরা। হীরাটি তিনি একাই খুঁজে পাননি। উইসকনসিনের সহকারী জেম হান্টার মাইকেল শুমাখার সেই বালতির নুড়ি ও মাটি সংগ্রহের কাজে তাকে সহায়তা করেছিলেন। পিয়ারাডিন জানিয়েছেন, হীরাটি বিক্রি করে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা তিনি শুমাখারের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন। ভবিষ্যতে সেই অর্থ দিয়ে নিজের একটি ক্রিস্টাল মাইন খোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।    ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্কের বিশেষত্ব হলো, এখানে সাধারণ মানুষ নিজেরাই হীরা খুঁজতে পারেন এবং পাওয়া রত্ন সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। সাবেক ওপেন-পিট ডায়মন্ড মাইনটি ১৯৭২ সালে স্টেট পার্কে পরিণত হয়। এরপর থেকে দর্শনার্থীরা সেখানে ৩৭ হাজারের বেশি হীরা খুঁজে পেয়েছেন। পার্কে প্রবেশ করে হীরা খোঁজার জন্য ১৫ ডলারের ফি দিতে হয় এবং একটি পাঁচ গ্যালনের বালতি ভর্তি নুড়ি নিয়ে অনুসন্ধান করা যায়।    পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর সেখানে সাধারণত ৪০০ থেকে ৮০০টি হীরা পাওয়া যায়। তবে অধিকাংশ হীরার ওজন প্রায় এক-চতুর্থাংশ ক্যারেটের মতো। এর আগে ২০২০ সালে একজন আর্কানসাস ব্যাংক ম্যানেজার ৯ ক্যারেটের একটি হীরা এবং ২০২৪ সালে এক ফরাসি নাগরিক ৭ ক্যারেটের একটি হীরা খুঁজে পান।    তবে ‘আমেরিকান ড্রিম’ যুক্তরাষ্ট্রে পাওয়া সবচেয়ে বড় হীরা নয়। সেই রেকর্ড এখনো ‘আঙ্কল স্যাম’ নামের ৪০ দশমিক ২৩ ক্যারেটের হীরাটির দখলে। ১৯২৪ সালে একই এলাকায় এটি পাওয়া যায়। পরে হীরাটি কেটে ১২ দশমিক ৪২ ক্যারেটের রত্নে পরিণত করা হয় এবং বর্তমানে সেটি স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে প্রদর্শিত হচ্ছে।    জেম অ্যাপ্রাইজার লরা স্ট্যানলির হিসাবে, ক্রেটার অব ডায়মন্ডসের সাধারণ শূন্য দশমিক ১৭ ক্যারেটের একটি হীরা প্রায় ৭০০ ডলারে বিক্রি হতে পারে। আর ভালো মানের ৬ ক্যারেটের হলুদ হীরার মূল্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হতে পারে। ফলে পিয়ারাডিনের বলা ১০ লাখ ডলারের সম্ভাব্য মূল্য এখনো নিশ্চিত বাজারমূল্য নয়।    ক্রেটার অব ডায়মন্ডস স্টেট পার্ককে বিশেষ করে তোলে এর উন্মুক্ত ব্যবস্থাপনা। জেমোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট অব আমেরিকার কর্মকর্তা নাথান রেনফ্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে হীরার দুটি পরিচিত প্রাথমিক প্রাকৃতিক উৎসের একটি এই আর্কানসাসের এলাকা। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য এখানে নিজ হাতে হীরা খুঁজে পাওয়ার সুযোগটি বিশ্বজুড়েই বিরল।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
আবাসন ব্যয় বাড়ায় অনেক আমেরিকানের জন্য নিজের বাড়ির মালিক হওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা অনেকের নাগালের বাইরে, কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকাই সাশ্রয়ী

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ি কেনা কিংবা ভাড়ায় থাকা দুটোই সাধারণ মানুষের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। একসময় নিজের একটি দোতলা বা ছিমছাম বাড়ি আমেরিকান স্বপ্নের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল। কিন্তু এখন শুধু বাড়ি কেনাই নয়, পরিবারের জন্য একটি বাড়ি ভাড়া পাওয়াও বেশ দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রিয়েলটর ডটকম একটি নতুন সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকায় বর্তমানে একটি নতুন বা প্রাথমিক বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়ায় থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। তবে যারা ভাড়ায় থাকতে চান, তাদের জন্যও একক পরিবারের বাড়ির বা সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে।   রিয়েলটর ডটকমের জুলাই ২০২৬ এর রেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের সম্পত্তির জন্য জাতীয় গড় ভাড়া ছিল ১,৬৯৫ ডলার। এটি এক বছর আগের তুলনায় ২৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কম। তবে একই এলাকায় এ ধরনের একটি প্রাথমিক বা স্টার্টার হোম কেনার মাসিক খরচ গত মাসে ছিল ২,৫৫৩ ডলার, যা ভাড়ার চেয়ে ৮৫৮ ডলার বেশি।   এই মাসিক খরচের হিসাবটি করা হয়েছে শূন্য থেকে দুই বেডরুমের বাড়ির তালিকাভুক্ত গড় দাম, ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট, ৩০ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বন্ধকি বা মর্টগেজ রেট, হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ফি, কর এবং মেট্রো স্তরের গড় হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের ওপর ভিত্তি করে।   স্টার্টার হোমের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম ভাড়া পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত রেডফিনের একটি বিশ্লেষণে সেনসাস ডেটা বা আদমশুমারির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে মাত্র ১৩.৭ শতাংশ বা ১ কোটি ১৩ লাখ সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে ভাড়াটিয়ারা বসবাস করছিলেন। এটি ইতিহাসের তৃতীয় সর্বনিম্ন রেকর্ড।   এর বিপরীতে একই বছরে বড় বহুতল বা মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ভাড়ায় বসবাসকারী ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এছাড়া ছোট মাল্টিফ্যামিলি ভবনে ১ কোটি এবং টাউনহোমে ৩১ লাখ ভাড়াটিয়া ইউনিট ছিল।   এটি এখন আমেরিকার জন্য এক নতুন বাস্তবতা। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, ২০২১ সালেও দেশটির ভাড়ার বাজারের সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম। অন্যদিকে ২০১৯ সালের আগে এবং মহামারির সময় যখন বাড়ি কেনার হিড়িক পড়েছিল, তখন বড় মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো ছিল পছন্দের তালিকার তৃতীয় স্থানে।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে বহুকাল ধরেই নিজের একটি সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করা আত্মপরিচয় ও ব্যক্তিগত সাফল্যের প্রতীক। কিন্তু এখন সেই স্বপ্নে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।   সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো থেকে বোঝা যায়, যারা এখনও নিজস্ব সম্পত্তির মালিক হতে পারেননি, তাদের জন্য আমেরিকান স্বপ্নের সংজ্ঞা কতটা বদলে গেছে। এখন বেশিরভাগ ভাড়াটিয়া তাদের স্বপ্নের সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমে বসবাস করছেন না, বরং বড় অ্যাপার্টমেন্ট ভবনেই তাদের থাকতে হচ্ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩.১ শতাংশ নাগরিকের প্রধান বাসস্থান হয়ে উঠেছে এসব বড় অ্যাপার্টমেন্ট।   ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকে এবং বিশেষ করে মহামারির সময় সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের চেয়ে ২০ বা তার বেশি ইউনিটের মাল্টিফ্যামিলি ভবনগুলো বেশি দ্রুত গতিতে নির্মিত হয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো মহামারির সময় এসব ভবনের বেশিরভাগই ভাড়াটিয়াদের বদলে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।   ফ্রেডি ম্যাকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জাতীয় পর্যায়ে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড রেট মর্টগেজের গড় ছিল ৬.৬৫ শতাংশ। চড়া সুদের হারের কারণে অনেক বাড়ির মালিক এখন তাদের বাড়ি বিক্রি করতে চাইছেন না। এর ফলে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভাড়ার জন্য বহুতল ভবনগুলোই এখন মানুষের কাছে বেশি সাশ্রয়ী বিকল্প। অন্যদিকে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোমগুলো কেবল মুষ্টিমেয় বিত্তবানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।   নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর জোনিং আইন, জমির ন্যূনতম আয়তন সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আবাসন শিল্পের পরিবর্তনের কারণে সারা দেশেই এখন স্টার্টার হোম নির্মাণের হার কমে গেছে। হোমবায়িং ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৮০ এর দশকের শুরুতে নতুন নির্মাণের প্রায় ৪০ শতাংশই ছিল স্টার্টার হোম, কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে আসে মাত্র ৭ শতাংশে। ২০২৬ সালে এসে এগুলো পাওয়া আগের দশকগুলোর চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্রেতাদের সামর্থ্যের চাপের কারণে সিঙ্গেল ফ্যামিলি হোম নির্মাণও সার্বিকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।   প্রথমবার বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়ী বিকল্প না থাকায় লাখো মানুষ এখন আবাসন বাজারের বাইরে ছিটকে পড়ছেন, যার গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আমেরিকান সমাজে। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্স এর মতে, ২০২৫ সালে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ২১ শতাংশ কিনেছেন প্রথমবার ক্রেতারা। ঐতিহাসিকভাবে এই হার সাধারণত ৪০ শতাংশ থাকে। এছাড়া প্রথমবার বাড়ি কেনার গড় বয়সও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ বছরে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ।   তবে যারা এখনও বাড়ির মালিক হননি তাদের জন্য কিছুটা আশার আলোও রয়েছে। রিয়েলটর ডটকম বলছে, একটি স্টার্টার হোম ভাড়া নেওয়া এবং কেনার খরচের ব্যবধান কিছুটা কমতে শুরু করেছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে স্টার্টার হোমের মাসিক খরচ ২,৬৪২ ডলার থেকে কমে ২,৫৫৩ ডলারে নেমেছে।   এর মধ্যে ৫৭ ডলার কমেছে বাড়ির তালিকাভুক্ত দাম কমার কারণে এবং ৩৩ ডলার কমেছে মর্টগেজ রেট কমার কারণে। গত এক বছরে ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজ রেট ৬.৭২ শতাংশ থেকে কমে ৬.৫৪ শতাংশে নেমে এসেছে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভাড়ায় থাকা এখনও সস্তা হলেও এমন অনেক বাজার তৈরি হচ্ছে যেখানে ভাড়ার চেয়ে স্টার্টার হোমের দাম দ্রুত কমছে এবং মানুষের সাপ্তাহিক গড় আয় জাতীয় হার ৩.৮ শতাংশের বেশি বা সমান গতিতে বাড়ছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা সিটি, ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, সিয়াটল, মিয়ামি, ফ্লোরিডার টাম্পা, লাস ভেগাস এবং ন্যাশভিল।   শীর্ষ ৫০টি মেট্রো শহরে জুলাই মাসে স্টার্টার হোমের তালিকাভুক্ত গড় দাম বার্ষিক ২.৯ শতাংশ কমেছে, যেখানে ভাড়ার হার কমেছে ১.৪ শতাংশ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
যে স্বপ্নের টানে মানুষ ছুটে যায় আমেরিকায়, কতটা পূরণ হয় সেই স্বপ্ন?

আমেরিকান ড্রিম- শব্দ দুটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে নানা ছবি। কারও কল্পনায় আসে স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মশাল, কারও মনে জায়গা করে নেয় ফুলের বাগানঘেরা একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি। আবার কেউ হয়তো কল্পনা করেন লাস ভেগাসের ঝলমলে আলো কিংবা ক্যাসিনোর ঘূর্ণায়মান রুলেট। কিন্তু আসলে কী এই আমেরিকান ড্রিম, যার টানে বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ নিজের দেশ, পরিবার ও পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবনের সন্ধানে পাড়ি জমায়?   এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সাহিত্য, ইতিহাস, অর্থনীতি ও সমাজের নানা স্তরে চোখ রাখতে হয়।   আমেরিকান ড্রিম নিয়ে রচিত সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম মার্কিন নাট্যকার আর্থার মিলারের কালজয়ী নাটক ‘ডেথ অব আ সেলসম্যান’। নাটকটিতে একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত আমেরিকান পরিবারের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যারা বছরের পর বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত আমেরিকান ড্রিম অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সংগ্রামের পরও তাদের জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসে না।   নাটকের প্রতিটি চরিত্রের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ ভিন্ন। কেউ অর্থনৈতিক সফলতাকে গুরুত্ব দেয়, কেউ সামাজিক স্বীকৃতিকে। সময়ের সঙ্গে প্রতিকূলতা বাড়ে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় স্বপ্নের সংজ্ঞাও।   বাস্তব জীবনেও চিত্রটি অনেকটা একই। একজন মানুষের কাছে একসময় বাড়ির সামনে দুটি গাড়ি থাকাই ছিল আমেরিকান ড্রিম। আজ হয়তো একটি গাড়ি ধরে রাখতে পারাটাই বড় সাফল্য। যে ব্যক্তি একসময় নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তার কাছে এখন ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় অর্জন।   আমেরিকান ড্রিমের উৎপত্তি ১৯৩১ সালে মার্কিন লেখক জেমস ট্রুসলো অ্যাডামস তার ‘দ্য এপিক অব আমেরিকা’ গ্রন্থে প্রথম ‘দ্য আমেরিকান ড্রিম’ শব্দবন্ধটি জনপ্রিয় করেন। তবে তার ব্যাখ্যায় বস্তুগত সম্পদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল সুযোগের সমতা এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে উন্নতির সম্ভাবনা। তার ভাষায়, আমেরিকা এমন একটি ভূমি, যেখানে সবার জন্য জীবন হবে আরও ভালো, আরও সমৃদ্ধ এবং আরও পরিপূর্ণ; যেখানে মানুষের সুযোগ নির্ধারিত হবে তার যোগ্যতা ও অর্জনের ভিত্তিতে।   যদিও এই ব্যাখ্যা ছিল বেশ সরল, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন লেখক ও গবেষক এ ধারণাকে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেছেন। ফলে আমেরিকান ড্রিম নিয়ে আলোচনা যেমন বিস্তৃত হয়েছে, তেমনি নতুন প্রশ্নও সামনে এসেছে।   অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ব্যাপক অভিবাসনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ইউরোপের মতো বংশ, গোত্র বা জাতিগত ঐতিহ্যের ভিত্তিতে নয়, বরং একটি অভিন্ন আদর্শকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজন ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আমেরিকান ড্রিমের ধারণা আরও শক্ত ভিত্তি পায়।   এ প্রসঙ্গে ১৯১৬ সালে প্রবন্ধকার অ্যাগনেস রিপলাইয়ারের ‘আমেরিকানিজম’ প্রবন্ধের কথাও উল্লেখ করা হয়, যেখানে অভিন্ন জাতীয় চেতনার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   আমেরিকান ড্রিম কী? অনেক গবেষকের মতে, আমেরিকান ড্রিমের ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেও প্রতিফলিত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সব মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী এবং প্রত্যেকের জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার রয়েছে।   সাধারণ মানুষের কাছে আমেরিকান ড্রিমের অর্থ আরও সহজ। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থার উন্নয়ন, সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া এবং ধর্ম, বর্ণ কিংবা সামাজিক পরিচয়ের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিজের জীবন নিজের মতো করে গড়ে তোলার সুযোগই এর মূল ভিত্তি।   সমাজতাত্ত্বিক এমিলি রোজেনবার্গ আমেরিকান ড্রিমের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন। এগুলো হলো- বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য আমেরিকাকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে দেখা, মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রতি আস্থা রাখা, মুক্ত বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা, তথ্য ও সংস্কৃতির অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা, বেসরকারি উদ্যোগে সরকারি সহায়তাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখা।   এতক্ষণ পর্যন্ত আলোচনায় আমেরিকান ড্রিমকে একটি আদর্শিক ধারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণার সঙ্গে বাড়ি, গাড়ি ও আর্থিক সমৃদ্ধির সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হলো?   প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর সমাজতন্ত্র ও কমিউনিজমের প্রভাব মোকাবিলায় মার্কিন প্রশাসন নাগরিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ছাড়া প্রকৃত স্বাধীনতা সম্ভব নয়। ক্ষুধা ও বেকারত্ব একটি সমাজকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।   পরবর্তী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রসার, সহজ ঋণ সুবিধা, বাড়ির মালিকানা বৃদ্ধি এবং ভোক্তাকেন্দ্রিক অর্থনীতির বিকাশের ফলে আমেরিকান ড্রিমের সঙ্গে বস্তুগত সফলতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে অনেকের কাছে আমেরিকান ড্রিম বলতে বোঝায় নিজের বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি, সন্তানের উন্নত শিক্ষা, পোষা প্রাণী, সফল ক্যারিয়ার কিংবা নিজের ব্যবসার মালিক হওয়া।   তবে সময়ের সঙ্গে এই স্বপ্ন অর্জন করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, ঋণের বোঝা এবং কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা আমেরিকান ড্রিমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একসময় বাড়ির মালিক হওয়া ছিল এই স্বপ্নের প্রধান প্রতীক। কিন্তু বর্তমানে আবাসন খাতে মূল্যবৃদ্ধি ও কঠোর ঋণনীতির কারণে অনেকের কাছে সাশ্রয়ী ভাড়ায় বাসস্থান নিশ্চিত করাই বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।   ক্রেডিট ডটকমের এক জরিপ অনুযায়ী, ২৮ শতাংশ আমেরিকান পর্যাপ্ত সঞ্চয় নিয়ে অবসর জীবন কাটাতে চান। ২৩ শতাংশের কাছে ঋণমুক্ত জীবনই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। তরুণদের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ কম নয়। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর অনেকের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শিক্ষাঋণের চাপ থাকে। কর্মসংস্থানের বাজারও প্রতিযোগিতাপূর্ণ। ফলে অর্থনৈতিক সফলতা ও সামাজিক অগ্রগতির যে প্রতিশ্রুতি একসময় আমেরিকান ড্রিমের কেন্দ্রবিন্দু ছিল, তা অনেকের কাছেই ক্রমশ অধরা হয়ে উঠছে।   তবুও আমেরিকান ড্রিমের আবেদন ফুরিয়ে যায়নি। সময়ের সঙ্গে এর সংজ্ঞা বদলেছে, অগ্রাধিকার বদলেছে, কিন্তু উন্নত জীবনের প্রত্যাশা ও সুযোগের সন্ধান এখনো লাখো মানুষের কাছে এই স্বপ্নকে জীবন্ত করে রেখেছে।

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০