ইসরায়েল

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
যুদ্ধবিরতি হলেও ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: নেতানিয়াহু

লেবাননে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। নেতানিয়াহু লিখেছেন, "আমার নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী শাসন এবং তাদের প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।" একই পোস্টে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেন। এরদোয়ানকে ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে নেতানিয়াহু বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষ নিচ্ছেন এবং কুর্দি নাগরিকদের ওপর 'গণহত্যার' জন্য তিনিই দায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে তাদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরছে না, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক তিক্ততা এই বার্তার মাধ্যমে আরও প্রকট হয়ে উঠল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা: ওয়াশিংটনে আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিডিসিতে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।  ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এবং আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য পক্ষগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শর্তাবলি এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে "শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক" স্থাপন করা। তবে আলোচনার টেবিলে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা এখনো বিদ্যমান। লেবানন শুরু থেকেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, হামলার মুখে থেকে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। আজকের এই ঐতিহাসিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরবর্তী রূপরেখা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে ইরান জিতেছে বলে মনে করেন বেশিরভাগ ইসরায়েলি, নেতানিয়াহুর গদিতে টান!

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। বেশিরভাগ ইসরায়েলিই মনে করেন না যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং কান ১১-এর পৃথক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।  প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েল নিয়ে কড়া মন্তব্য, পরে পোস্ট মুছে ফেললেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্ট মুছে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।   বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন।   ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইরান এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করেন।   এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানের শীর্ষ ৫২ কর্মকর্তা নিহত, ক্ষমতার কেন্দ্রে বড় ধাক্কা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।   নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   খামেনির পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি-ও পৃথক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে।   সামরিক নেতৃত্বেও একের পর এক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আব্দোলরাহিম মুসাভি-ও একই পরিণতির শিকার হন। পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদ নিহত হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগে।   ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি এবং তাঁর উত্তরসূরি মোহাম্মদ পাকপোর নিহত হন। এতে বাহিনীর স্থল, নৌ ও মহাকাশ—তিনটি শাখাই দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ নিহত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতিও দুর্বল হয়েছে।   গোয়েন্দা কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ায় গোটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কর্মসূচির অগ্রগতিতে বড় প্রভাব পড়েছে।   এ ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল ব্যক্তি কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের নেটওয়ার্কেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং ইরানের সামরিক কমান্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে।   একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করছে—আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল ময়দানে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব তৈরি, নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। ফাইল ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’: আলোচনার আগে কড়া মন্তব্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।   খাজা আসিফ বলেন, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণ নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “প্রথমে গাজা, তারপর ইরান এবং এখন লেবানন—ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে রক্তপাত থামছে না।”   মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইসরায়েলকে ‘অশুভ শক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন এবং চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার আগমুহূর্তে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন কঠোর বক্তব্য কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।   সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও বিশ্বজুড়ে নিন্দা: অবশেষে লেবাননের সাথে সংলাপে বসছে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল তেল আবিব। লেবাননের সঙ্গে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য নিজের মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।  দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা কাটিয়ে এই দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি বসার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে থাকছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। নেতানিয়াহুর মতে, বৈরুতকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সদিচ্ছাকে ইসরায়েল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটনের চাপ। জানা গেছে, বুধবার এক ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির এই বার্তা কতটুকু আলোর মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস | ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা: ইরানে পুনরায় দূতাবাস খোলার ঘোষণা স্পেনের

লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটির সরকার লেবাননের ওপর এই আক্রমণকে ‘মানবতার বিবেকের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ইরানে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পুনরায় তেহরানে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া তেহরানের দূতাবাসটি দ্রুতই তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা সম্ভাব্য সব জায়গা থেকে যুক্ত হতে চাই, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীও অন্যতম।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্পেন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছে।  পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতিমধ্যে ওমান, কাতার এবং লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পেনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফাঁসির মঞ্চে ফিলিস্তিনি শিশুরা: ইসরায়েলের নতুন ‘জল্লাদ আইন’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়নের এক ভয়াবহ নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। সম্প্রতি ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া নতুন এক আইনে ফিলিস্তিনি শিশুদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মী ও বিশ্লেষকরা এই আইনকে ‘জল্লাদ আইন’ (The Gallows Law) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিলে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই আইনে শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় বা বয়সের সীমাবদ্ধতা রাখা হয়নি। ইসরায়েলি সামরিক আদালতগুলোতে বর্তমানে ১২ বছর বয়সী শিশুকেও বিচার করার বিধান রয়েছে, যা এখন এই প্রাণঘাতী আইনের আওতায় চলে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই আইন কেবল প্রাপ্তবয়স্ক নয়, বরং ইসরায়েলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ফিলিস্তিনি শিশুদেরও ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সতর্ক করে জানিয়েছে, এই আইন পাসের মাধ্যমে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের এক আইনি কাঠামো তৈরি করেছে। আইনের বিধান অনুযায়ী, দোষী সাব্যস্ত করার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে এবং আপিলের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই আইনের অন্যতম প্রধান সমর্থক। তিনি বারবার দাবি করে আসছেন যে, যারা ইসরায়েলিদের ওপর হামলা চালায় তাদের একমাত্র পরিণতি হতে হবে মৃত্যু। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মূলত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে ত্রাস সৃষ্টি এবং তাদের প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার। ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (DCIP) এর তথ্যমতে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রতি বছর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে এবং তাদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নতুন এই আইন কার্যকর হলে সামরিক আদালতে শিশুদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আরও সংকুচিত হবে এবং সামান্য অজুহাতে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই বিতর্কিত আইনের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক এই আইনকে ‘অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও বৈষম্যমূলক’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটি দ্রুত বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও ব্রিটেন এক যৌথ বিবৃতিতে এই আইনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ২১ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে নির্বিচারে হত্যার পাশাপাশি এখন ‘আইনের’ দোহাই দিয়ে শিশুদের ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া ইসরায়েলের চরম অমানবিকতারই প্রতিফলন। তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প
ন্যাটোর ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প: সম্পর্কে ফাটলের আশঙ্কা

ইরান ইস্যুতে ন্যাটোর রহস্যময় নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তায় এবার সরাসরি অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার হোয়াইট হাউসে ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নিজের চরম হতাশার কথা জানান তিনি। মূলত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ন্যাটোর দেশগুলোর সরাসরি অংশ না নেওয়া নিয়েই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৈঠকের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ ট্রাম্প এক বিস্ফোরক পোস্টে লেখেন, "আমাদের প্রয়োজনের সময় ন্যাটো পাশে ছিল না। ভবিষ্যতেও তাদের পাশে পাওয়ার কোনো আশা নেই।"  মার্ক রুটেকে সচরাচর 'ট্রাম্প হুইস্পারার' বলা হয়, কারণ তিনি ট্রাম্পের মেজাজ বুঝে সুকৌশলে সম্পর্ক বজায় রাখতে দক্ষ। এদিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুট বলেন, "আমাদের মধ্যে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। দুই বন্ধুর মধ্যে যেমনটা হয়, ঠিক তেমনই।"  তবে রুটের এই কূটনৈতিক বক্তব্য ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবকে কতটা শান্ত করতে পারবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘নৃশংস’, উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

লেবাননে একদিনে ইসরায়েলের চালানো ব্যাপক হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে ওই দিনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বর্ণনার অতীত।   ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ভঙ্গুর শান্তি আরও চাপে পড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো মানা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যবস্তুর পার্থক্য নির্ধারণ, আক্রমণের আনুপাতিকতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নীতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে এগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়: হোয়াইট হাউস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট।   তিনি বলেন, গত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ইসরায়েল এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছে এবং আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   লেবানন ভবিষ্যতে এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।   লেবাননে সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হিজবুল্লাহর এমন কিছু অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে, যেগুলোকে তারা নিরাপদ মনে করত। যুদ্ধবিরতির প্রথম দিনেই লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং এক হাজার ১৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। যদিও যুদ্ধবিরতি মেনে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ রেখেছিল হিজবুল্লাহ।   সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও লেবাননকে ঘিরে সংঘাত অব্যাহত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
ইরান যুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকতেই লেবানন সীমান্তে সংঘাত জিইয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এখন এক চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। একদিকে ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তির গুঞ্জন, অন্যদিকে নিজের দেশের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে নিজের গদি টিকিয়ে রাখতে তিনি এখন লেবানন ফ্রন্টকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের শুরুতে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের 'চূড়ান্ত বিজয়', ইরানি হুমকির অবসান এবং ওই অঞ্চলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'লায়ন’স রোর' বা সিংহের গর্জন, সেটিকে এখন ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা 'মাআরিভ'-এর সামরিক বিশ্লেষকরা 'হাউলিং ক্যাটস' বা বিড়ালের আর্তনাদ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী অবরোধ এবং ইরানি শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছে, যা তেহরানের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে। এই রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন দক্ষিণ লেবাননে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে রাখছেন নেতানিয়াহু। মূলত ভোটারদের এটা বোঝাতে চাইছেন যে, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। এদিকে নেতানিয়াহুর এই রণকৌশলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় 'রাজনৈতিক বিপর্যয়' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  লাপিদ বলেন: "সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, জনগণ অসীম ধৈর্য দেখিয়েছে, কিন্তু নেতানিয়াহু রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজের নির্ধারিত একটি লক্ষ্যও পূরণ করতে পারেননি। তার ঔদ্ধত্য এবং অদূরদর্শিতার কারণে দেশের যে কৌশলগত ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরের পর বছর সময় লাগবে।"

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
আজ রাত নিয়ে ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি: ‘মুছে যেতে পারে একটি সভ্যতা’

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, মঙ্গলবার রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে যা একটি পুরো সভ্যতার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   ট্রাম্প বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এমন কোনো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি দেখতে চান না, তবে বর্তমান অবস্থার কারণে এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। একইসঙ্গে তিনি পরিস্থিতিতে হঠাৎ পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন।   তার দাবি অনুযায়ী, সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে এবং আগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম কট্টর নেতৃত্ব সামনে আসছে। এর ফলে ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক কিছু ঘটার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা দুর্নীতি, সহিংসতা ও অস্থিরতার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে পারে এই সময়েই।   বার্তার শেষে তিনি ইরানের সাধারণ মানুষের জন্য শুভকামনা জানান। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বেড়েছে এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নজর রাখা হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইস্তাম্বুলে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের কাছে গুলিবর্ষণ, নিহত ২

তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কনস্যুলেটের আশপাশে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে অন্তত দুইজন হামলাকারী নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।   বুধবার স্থানীয় সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ঘটনাস্থলে কয়েক মিনিট ধরে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিরাপত্তা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের সামনে টানা গুলিবর্ষণ চলছে এবং এক ব্যক্তিকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য কিছু ফুটেজে এক হামলাকারীকে পার্ক করা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ির আড়াল নিয়ে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ও হ্যান্ডগান দিয়ে গুলি চালাতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলের আশপাশে দুইজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। কনস্যুলেটটি ওই এলাকার একটি বহুতল ভবনের ওপরের দিকে অবস্থিত।   ২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছিল।   অন্যদিকে, একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তুরস্কে কোনো ইসরায়েলি কূটনীতিক অবস্থান করছেন না। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানিয়েছেন, হামলায় জড়িত তিনজন একটি উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, যারা ধর্মকে অপব্যবহার করে। নিহতদের মধ্যে দুজন সহোদর ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
তুরস্কে ইসরায়েলি কনসুলেটের কাছে গোলাগুলি, ৩ হামলাকারী নিহত

তুরস্কের বাণিজ্যিক রাজধানী ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেটের বাইরে ভয়াবহ এক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে ঘটা এই সংঘর্ষে সন্দেহভাজন তিন হামলাকারী নিহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের লেভেন্ট ডিস্ট্রিক্টে অবস্থিত ইসরায়েলি কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হঠাৎ গোলাগুলি শুরু হয়। এতে দায়িত্বরত দুই পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় তুর্কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাল্টা গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিন হামলাকারী নিহত বা "নিউট্রালাইজড" হয়। তুর্কি চ্যানেল 'হ্যাবারতুর্ক'-এর প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের চারপাশ ঘিরে রেখেছে পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এবং বিশেষ ইউনিট। পুরো এলাকাটি বর্তমানে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঢাকা রয়েছে এবং সাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। আহত পুলিশ সদস্যদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ইস্তাম্বুল জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তুর্কি প্রশাসন জানিয়েছে, এটি কোনো পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স
ইরানে মার্কিন ক্রু উদ্ধারে ইসরায়েলের সহায়তা, দাবি নেতানিয়াহুর

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে ইসরায়েল সহায়তা করেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।   নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুপক্ষের ভূখণ্ড থেকে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্ত এবং সফল অভিযানের জন্য ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।   তিনি আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সহযোগিতা “নজিরবিহীন” পর্যায়ে পৌঁছেছে। একজন মার্কিন সেনাকে উদ্ধারে ভূমিকা রাখতে পেরে ইসরায়েল গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত শুক্রবার ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। ইরান দাবি করে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে।   ওই বিমানে থাকা দুই ক্রুর একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা হলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। পরে দুই দিনব্যাপী অনুসন্ধান শেষে একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে মার্কিন কমান্ডোরা তাকে উদ্ধার করে। তবে এই উদ্ধার অভিযানে ইসরায়েলের সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না—সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান অভিযোগ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল লক্ষ্য করে গণহত্যা চালাচ্ছে

ইরান জানিয়েছে, দেশটিতে বিমান হামলার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নেয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ বলেছেন, গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানজুড়ে ৬০০-এর বেশি স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষভাবে মিনাবের শাজারে তাইয়্যেবেহ স্কুলে হামলায় অন্তত ১৬০ শিশু নিহত হয়েছে।   তিনি বলেন, “এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও নির্মম আক্রমণের অংশ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকর্তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য বিবেচনায় নিয়ে এই হামলাকে গণহত্যার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে দেখা যেতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়। হামলায় নগর এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। মিনাবের স্কুল হামলায় অন্তত ১৭৫ জন নিহত হয়, যার মধ্যে ১৬০ শিশু। প্রথমদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ঘটনার জন্য ভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়; মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হামলাটি ইরান নিজেই চালিয়েছে।   পেন্টাগন তদন্ত শুরু করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাটি পুরনো লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানো হয়, যেখানে স্কুলটিকে সামরিক স্থাপনার অংশ হিসেবে ভুল চিহ্নিত করা হয়েছিল। একই দিনে দক্ষিণ ইরানের লামের্দ শহরে একটি স্কুল ও ক্রীড়া হলও লক্ষ্যবস্তু হয়; এতে অন্তত ২১ জন নিহত হন। এই হামলায় প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত হয় প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, যা বিস্ফোরিত হয়ে ছোট টাংস্টেন কণিকা ছড়িয়ে দেয়।   মিনাবের ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে রাশিয়া, ইতালি ও স্পেন। তবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ১,৩৪০-এর বেশি নিহত হয়েছে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বয়ে সামরিক অভিযান

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় তাত্ক্ষণিক কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।   হুথি গ্রুপ তাদের সংযুক্ত মিডিয়া আল মাসিরাহ-এর মাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে জানায়, তারা গুরুত্বপূর্ণ ইসরায়েলি স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইরান ও লেবাননের হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমন্বয় ছিল। হুথিরা দাবি করেছে, তাদের উদ্দেশ্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমী যুদ্ধের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপ ধাপে ধাপে করা হচ্ছে। বর্তমান স্তরে থেমে থাকবেন না, ভবিষ্যতের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।” আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নজরদারিতে রাখছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলের নতুন আইন, কঠোর নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

ইসরায়েলের সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য পাস হওয়া নতুন মৃত্যুদণ্ড আইনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী আটটি মুসলিম দেশ। দেশগুলোর দাবি, এই আইন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দেবে। ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া এই বিতর্কিত আইনের আওতায়, কোনো ফিলিস্তিনি যদি ইসরায়েলি নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালায়, তবে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এই আইনের সমর্থকদের দাবি, এটি ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হামলা বা অপহরণ রুখতে এক শক্তিশালী 'প্রতিরোধক' হিসেবে কাজ করবে। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আটটি মুসলিম প্রধান রাষ্ট্র। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনিদের কণ্ঠরোধ এবং বর্ণবাদী বৈষম্যকে বৈধতা দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির সদর দপ্তরের সামনে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে দেশগুলো অবিলম্বে এই আইন বাতিলের দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীদের আশঙ্কা, এই আইনের ফলে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর দমন-পীড়ন আরও বাড়বে এবং বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। বিশেষ করে সামরিক আদালতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আগে থেকেই যে বিতর্ক রয়েছে, এই আইনের ফলে তা আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের বিভিন্ন বিতর্কিত আইন ও ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্ব নিয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো সরব ভূমিকা পালন করে আসছে। এই নতুন আইন সেই কূটনৈতিক বিরোধকে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে গেল।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার জন্য ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী: চীন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালো চীন। গত বৃহস্পতিবার বেইজিং এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর "অবৈধ সামরিক পদক্ষেপই" কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার মূল কারণ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নৌ-পথ রুদ্ধ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি জোটের চালানো বেআইনি সামরিক অভিযান।" তিনি অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে শত্রুতা পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা এবং পাল্টাপাল্টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে এই রুটটি বর্তমানে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি বিশ্বনেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতির উন্নতির পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য উত্তেজনায় নতুন ঘি ঢেলেছে। মঙ্গলবার রাতে এক ভাষণে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব না দিয়ে উল্টো ইরানকে "বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার" হুমকি দিয়েছেন। বেইজিংয়ের মতে, এ ধরনের উস্কানিমূলক আচরণ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি স্বরূপ।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

ছবি: সংগৃহীত।
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0