ইসরায়েল

বেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট
ইসরায়েলের নিশানায় এবার তুরস্ক? মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের দামামা!

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে তুরস্ককে ঘিরে রণকৌশল সাজাচ্ছে ইসরায়েল।   সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বেনেটের মতে, আঙ্কারার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইসরায়েলের জন্য এক নতুন ‘আঞ্চলিক হুমকি’।   একদিকে গাজা ও লেবাননে সংঘাত, অন্যদিকে তেহরানের সাথে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা—এই ত্রিমুখী চাপের মুখেও তুরস্ককে ‘শত্রু’ হিসেবে চিহ্নিত করা কি কেবলই রাজনৈতিক চাল, নাকি নতুন কোনো যুদ্ধের পূর্বাভাস? প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ভারত, গ্রীস ও সাইপ্রাসকে নিয়ে যে নতুন অক্ষ তৈরির পরিকল্পনা করছেন, তার মূল লক্ষ্যই কি তুরস্ককে কোণঠাসা করা?   বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে ইসরায়েল সবসময়ই কোনো না কোনো ‘হুমকি’ সামনে রাখতে চায়। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের সমর্থন এবং সৌদি-মিশরের সাথে এরদোয়ানের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের ঘুম কেড়ে নিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

নিলুফা ইয়াসমিন ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি | ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের সীমানা বিস্তারের মন্তব্যে ১৪ দেশের তীব্র নিন্দা

ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানসহ বিশ্বের ১৪টি দেশ। হাকাবি ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল অংশ দখল করে নেয়, তাতে তার কোনো আপত্তি থাকবে না। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই নিন্দার কথা জানায়।   গত শুক্রবার ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাকাবি দাবি করেন, ইসরায়েলের সীমানা মূলত বাইবেল দ্বারা নির্ধারিত। পাল্টা প্রশ্নে তিনি বলেন, বাইবেলের বর্ণনা অনুযায়ী ইরাকের দজলা নদী থেকে মিশরের নীল নদ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল দখল করলেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।   এই মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তান, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, ওমান, তুরস্ক, সৌদি আরব, বাহরাইন, লেবানন, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যৌথ বিবৃতি দেন। এতে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, আরব লীগ এবং জিসিসি সংহতি প্রকাশ করে।   যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের চরম লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। একই সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বা অন্য কোনো আরব ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই বলে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শান্তি উদ্যোগের পরিপন্থী এবং এতে শান্তি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা ও সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তাবাস্সুম ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬ 0
গাজার শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা মাইসুন আল-বারবারাউইর ছেলের হাতে ধরা লন্ঠন। ছবি: আল জাজিরা
রমজানে গাজাবাসী: যুদ্ধ ও ইসরায়েলের হুমকির মধ্যেও আশা ও প্রার্থনা

পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দারা এখনও যুদ্ধ ও গণহত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। শরণার্থী মাইসুন আল-বারবারাউই তার ৯ বছরের ছেলে হাসানের জন্য তাঁবু সাজিয়ে রেখেছেন, রঙিন আলপনা ও রমজানের লণ্ঠনের মাধ্যমে শিশুর জন্য কিছু খুশি মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন।   মাইসুন বলেন, “আমি চাইছিলাম, এই সাজসজ্জা গত দুই বছরের যুদ্ধ ও দুঃখের পরিবেশ থেকে মুক্তির এক ছোট উপায় হোক। প্রতিদিনও যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।” গত দুই বছরের সংঘাতের সময় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।   বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি এনেছে, তবে এখনও গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তার শঙ্কা রয়ে গেছে। খাদ্য সংকটও চলমান; অনেক ফিলিস্তিনি মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রমজানের প্রথম দিনে হানান আল-আত্তার একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে খাবারের পার্সেল পেয়েছেন।   আল আকসা মসজিদে উত্তেজনা প্রতিবারের মতো এবছরও রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার ফলে হামাস প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদে নিষিদ্ধ করার আদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। প্রতি রমজানেই মসজিদে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি থাকে।   মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু দেশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে, তবে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান এখনও অংশ নিচ্ছে না।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার দক্ষিণ গাজায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যদিও নিজেদের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে।   ফিলিস্তিনিরা এই রমজানে শান্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছেন। মাইসুন বলেন, “যুদ্ধ থামেনি, ভয় ও শঙ্কা রয়ে গেছে। তবুও আমরা আশা করি, এই রমজান কিছু শান্তি নিয়ে আসবে।”

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি। সংগৃহীত ছবি
ভারতে ইসরায়েলি পর্যটক ধর্ষণ ও সঙ্গীকে হত্যা—৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক ইসরায়েলি নারী পর্যটকসহ দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।   সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের মার্চে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তিনজন হলেন—মল্লেশ ওরফে হান্দিমাল্লা, সাই ও শরণাপ্পা।   আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মার্চ রাতে হাম্পির অদূরে সানাপুরা এলাকায় তুঙ্গভদ্রা খালের পাশে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা এক ইসরায়েলি নারী পর্যটক, একজন নারী হোটেল পরিচালক এবং তাদের সঙ্গে থাকা তিন পুরুষ পর্যটকের কাছে টাকা দাবি করে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন পুরুষকে খালে ফেলে দেওয়া হয় এবং দুই নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়।   খালে পড়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও উড়িষ্যার এক পর্যটক পানিতে ডুবে মারা যান।   মামলার শুনানিতে আদালত এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রায়ে বিচারক বলেন, পর্যটকদের ওপর এমন জঘন্য হামলা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য অপরাধ।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে এই ঘটনার পর ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় থার্মোবারিক হামলায় ‘নিখোঁজ’ হাজারো ফিলিস্তিনি, দেহ মিলছে না

গাজায় চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজার আল-তাবিন স্কুলে ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি সাদ মাহানির কোনো খোঁজ পাননি। হাসপাতাল ও মর্গে দিনের পর দিন অনুসন্ধান করেও তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।   গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।   তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে মানুষের দেহ মুহূর্তে ভস্মে পরিণত হচ্ছে। রুশ সামরিক বিশ্লেষক ভাসিলি ফাতিগারভ জানিয়েছেন, থার্মোবারিক বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণে ২,৫০০–৩,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করে। এতে দেহের তরল অংশ দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি, তাই চরম তাপ ও চাপের কারণে দেহের টিস্যু মুহূর্তেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু বিশেষ বোমার ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে, যেগুলো ভবনের কাঠামো অক্ষত রেখে ভেতরের মানুষ পুরোপুরি ধ্বংস করে।   আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু হামলাকারী ইসরায়েলের নয়, অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোরও। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্র ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত।   যুদ্ধাহতদের স্বজনদের কাছে এসব আইনি ব্যাখ্যার তেমন গুরুত্ব নেই। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে চার সন্তান হারানো রফিক বদরান জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের দেহের সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওরা কোথায় চলে গেল?”   এই অনুসন্ধান বিশ্বের কাছে গাজার হামলার প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরছে, যেখানে বেসামরিক মানুষদের জীবন ও মর্যাদা ধ্বংসের শিকার হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়াই ইরানে হামলা চালাবে ইসরায়েল

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এক চরম মাত্রায় পৌঁছেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন তাদের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। এই হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই এককভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাবে।   রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। ইসরায়েলের দাবি, তারা ইতিমধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান যদি ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ক্ষেত্রে তাদের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে, তবে ইসরায়েল কালক্ষেপণ না করে একাই সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।   যদিও ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের মূল্যায়নে ইরান এখনো সেই চূড়ান্ত সীমা পার করেনি, তবে দেশটির ভেতরে চলমান প্রযুক্তিগত উন্নয়ন অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইসরায়েল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো ধ্বংস করার একটি সুনির্দিষ্ট ও বিশাল পরিকল্পনা পেশ করেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার এটিই শ্রেষ্ঠ এবং ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’।   তবে এই যুদ্ধ পরিকল্পনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা সন্দিহান ইসরায়েলি কমান্ডারেরা। তাদের আশঙ্কা, ট্রাম্প হয়তো ইয়েমেনের হুতিদের মতো ইরানের ওপর একটি সীমিত বা ছোট আকারের হামলা চালিয়ে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন। এতে ইরানের মূল সামরিক শক্তি অক্ষত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, "আমাদের ভয় হলো ট্রাম্প হয়তো হুতিদের মতো কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেই দায়িত্ব শেষ করবেন, আর যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি সামলানোর দায়ভার পুরোপুরি ইসরায়েলের ওপর ছেড়ে দেবেন।" সব মিলিয়ে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং ইসরায়েলের অনমনীয় অবস্থান বিশ্বকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ইরানে কোনো হামলা হলে ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে

ইরানে কোনো ধরনের হামলা হলে এর জবাবে দখলদার ইসরায়েলের গভীরে হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানি।   শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন হুঁশিয়ারি দেন। ইরানি বার্তাসংস্থা ইরনা জানিয়েছে, উপদেষ্টা শামখানি বলেছেন, “শত্রুর যে কোনো পদক্ষেপের বিপরীতে আনুপাতিক, কার্যকর এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”   তিনি দাবি করেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে কী পরিকল্পনা করছে সেটি তারা জেনে গেছেন এবং এর বিপরীতে কি পদক্ষেপ নিতে হবে সেখানে তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি হুমকি দেন, সময়মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে যেটি তাদের পরিকল্পনাকে শুরুতেই চেপে ধরবে।   এরআগে ইরানের সেনাপ্রধান জেনারেল আমির হাতামি ইরানে হামলা চালানো থেকে বিরত থাকতে সতর্কতা দেন। তিনি হুমকির সুরে বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির পর ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।    তিনি বলেছেন, ‌‌শত্রু যদি ভুল করে তাহলে নিঃসন্দেহে তা নিজের নিরাপত্তা, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নিরাপত্তাকে বিপদের মুখে ফেলবে। আমির হাতামি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘‘সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক ও সামরিক প্রস্তুতিতে’’ রয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের দুই সপ্তাহব্যাপী সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের রক্তক্ষয়ী অভিযানের পর সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নৌ-বহর পাঠিয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই রণসজ্জায় ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান আগেই সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হামলা হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদের—বিশেষ করে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাবে।   সূত্র: আনাদোলু  

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
ইরানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল
ইরানে সরকার পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি বাড়ানো নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন আশ্চর্যজনকভাবে নীরব অবস্থান নিয়েছে ইসরায়েল। ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানানো ছাড়া দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে খুব কমই কথা বলেছেন, নীরব থেকেছে তার সরকারও।   বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতাই আসলে ইসরায়েলের কৌশল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থায় ২৫ বছর কাজ করা ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক উপস্থিতি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা নেতানিয়াহুর কাছে একটি ‘সুবর্ণ সুযোগ’। তার মতে, নেতানিয়াহু এই মুহূর্ত কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চান না।   ইসরায়েলের সাবেক সিগন্যাল গোয়েন্দা কর্মকর্তা আসাফ কোহেন বলেন, ইসরায়েল চায় এবার যুক্তরাষ্ট্রই নেতৃত্ব দিক। তার কথায়, যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী, সামরিক সক্ষমতা বেশি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাদের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশি। তাই ইসরায়েল ইচ্ছা করেই নীরব রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নীরব সমন্বয় ইসরায়েলের নীরবতার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ নেই। চলতি সপ্তাহে ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান শ্লোমি বাইন্ডার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।   ড্যানি সিত্রিনোভিচের দাবি, নেতানিয়াহু গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সরকার পরিবর্তনমূলক বড় ধরনের হামলার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। তার মতে, মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু যখন ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপে সংযত থাকতে বলেন, তখন আসলে তার আপত্তি ছিল—প্রস্তাবিত হামলাটি খুবই সীমিত।   এর আগেও নেতানিয়াহু ইরানিদের তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। গত বছর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বার্তা দেন।   ইসরায়েলের দৃষ্টিতে সম্ভাব্য লাভ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত প্রতীকী হামলা থেকে শুরু করে পূর্ণমাত্রার সরকার পরিবর্তন—সব ধরনের বিকল্প বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে। একদিকে প্রকাশ্যে যেমন তিনি সামরিক হুমকি দিচ্ছেন, অন্যদিকে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাবও দিচ্ছেন।   যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্র দেশ সতর্ক করে বলছে, ইরানের সরকার উৎখাতের চেষ্টা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। তবে ইসরায়েলের ভেতরে অনেকে এটিকে নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইসরায়েলের ধারণা, তেহরানে সরকার পরিবর্তন হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে, হিজবুল্লাহসহ ইরানসমর্থিত আঞ্চলিক মিলিশিয়াগুলোর শক্তিও দুর্বল হবে। ইসরায়েলের আলমা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মতে, শুধু লেবানন সীমান্তেই হিজবুল্লাহর হাতে এখনো প্রায় ২৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট রয়েছে।   তবে ইসরায়েলের কিছু আইনপ্রণেতা মনে করেন, সীমিত হামলা বা নতুন কোনো চুক্তি উল্টো ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ তাতে বর্তমান ইরানি সরকার টিকে যাবে। বিরোধী দল ইয়েশ আতিদের সংসদ সদস্য মোশে তুর-পাজ বলেন, ‘পূর্ণমাত্রার অশুভ শক্তির মোকাবিলা কখনো সীমিতভাবে করা যায় না।’   প্রতিশোধের আশঙ্কা ও ঝুঁকি গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় হামলা চালালে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর কিছু ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে তেল আবিবের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে, এতে অন্তত ২৮ জন নিহত হন।   বিশ্লেষকদের মতে, সেই সংঘর্ষ থেকে ইরান শিক্ষা নিয়েছে এবং কৌশল বদলেছে। বর্তমানে তারা আবার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত গড়ে তুলছে। সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তেল আবিবে ‘তাৎক্ষণিক ও নজিরবিহীন’ জবাব দেওয়া হবে।   ড্যানি সিত্রিনোভিচ বলেন, নেতানিয়াহুর ভয় হলো—ইসরায়েল আবারও বড় ধরনের হামলার শিকার হবে, কিন্তু ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে না। তার মতে, ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি বন্ধ করতে হলে সরকার পরিবর্তন জরুরি, আর তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমেই সম্ভব।   সুযোগ না ঝুঁকি? বিশ্লেষকদের মতে, ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক প্রতিরক্ষা দুর্বল, আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব হয়েছে এবং দেশের ভেতরে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে—এই পরিস্থিতি অনেকের চোখে একবার আসা সুযোগ। আসাফ কোহেন বলেন, ‘ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায়। অনেকেই মনে করেন, এখন না করলে আর কখনো করা যাবে না।’   তবে ঝুঁকিও কম নয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির চারপাশে সামরিক ও ধর্মীয় জোটে বড় কোনো ফাটল নেই। বিরোধী আন্দোলনও বিভক্ত। সরকার পতন হলে কে ক্ষমতায় আসবে, তা অনিশ্চিত। গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা শুধু ইরানের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্যই ভয়াবহ হতে পারে।   ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু এ বছর নির্বাচনের মুখে রয়েছেন। হামাসের হামলার পর ‘নিরাপত্তার প্রতীক’ হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি ফেরাতে তিনি মরিয়া। ইরানে সরকার পরিবর্তন বা খামেনির হত্যাকাণ্ড তার জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য হতে পারে, আবার বড় ঝুঁকিও।   সিত্রিনোভিচের ভাষায়, ‘এটি এক ধরনের হিসাব করা জুয়া। নেতানিয়াহু পরদিন কী হবে, তা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তার লক্ষ্য—ট্রাম্পের সঙ্গে দাঁড়িয়ে দেখানো যে তিনি ইরানি সরকার ধ্বংস করেছেন। যদি নিশ্চিত হন যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি যাবে, তবে এই ঝুঁকি নিতে তিনি প্রস্তুত।’   তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর, আর এটাই ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।   সূত্র: বিবিসি

তাবাস্সুম জানুয়ারী ৩১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

ভিসা নিয়ে বড় সুখবর দিলো যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে।   নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা।   ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল।   তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে।   এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশ: বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টনের খসড়া তালিকা

ঢাকা: দেশের সম্ভাব্য নতুন সরকার গঠনকে সামনে রেখে প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো সংবলিত একটি আনুষ্ঠানিক কমিউনিক্যে প্রকাশিত হয়েছে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টনের একটি খসড়া তালিকা তুলে ধরা হয়েছে।   কমিউনিক্যে বলা হয়েছে, এটি সরকারি নথি ও আনুষ্ঠানিক রেফারেন্সের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা একটি প্রস্তাবিত কাঠামো, যেখানে প্রতিষ্ঠিত সরকারি প্রোটোকল অনুযায়ী সম্ভাব্য নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়গুলো উল্লেখ রয়েছে।   প্রস্তাবিত দায়িত্ব বণ্টন অনুযায়ী—     •    রাষ্ট্রপতি: ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন     •    জাতীয় সংসদের স্পিকার: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন / নিতাই রায় চৌধুরী     •    প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তারেক রহমান      •    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর     •    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী: শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (অ্যানি)     •    পররাষ্ট্রমন্ত্রী: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী: ড. হুমায়ুন কবির     •    অর্থমন্ত্রী: ড. এ. বি. মির্জা আজিজুল ইসলাম / ড. রেজা কিবরিয়া (তালিকায় উল্লেখিত অনুযায়ী)     •    শিক্ষামন্ত্রী: আনাম এহসানুল হক মিলন, প্রতিমন্ত্রী: সাঈদ আল নোমান     •    আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী: মো. আসাদুজ্জামান     •    তথ্যমন্ত্রী: আন্দালিব রহমান পার্থ, প্রতিমন্ত্রী: ড. মাহদি আমিন     •    পরিকল্পনামন্ত্রী: ড. আব্দুল মঈন খান     •    বাণিজ্যমন্ত্রী: আব্দুল মুক্তাদির     •    শিল্পমন্ত্রী: আব্দুল আউয়াল মিন্টু     •    নৌপরিবহন মন্ত্রী: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ     •    শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী: নজরুল ইসলাম খান     •    পানি সম্পদ মন্ত্রী: আসাদুল হাবিব দুলু     •    মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: ফজলুর রহমান     •    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী: আমানউল্লাহ আমান     •    সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী: জোনায়েদ সাকি     •    স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী: ড. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন     •    যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী: আলী আজগর লবি     •    ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী: শামীম কায়সার লিংকন     •    বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী: আলতাফ হোসেন চৌধুরী     •    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী: ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু     •    কৃষিমন্ত্রী: শামসুজ্জামান দুদু     •    গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী: মির্জা আব্বাস     •    ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী: নুরুল হক নুর     •    রেলপথমন্ত্রী: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়     •    জনপ্রশাসন মন্ত্রী: ড. ইসমাইল জাবিউল্লাহ     •    সমাজকল্যাণ মন্ত্রী: রুহুল কবির রিজভী     •    পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী: দীপেন দেওয়ান   কমিউনিক্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি একটি প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার কাঠামো—চূড়ান্ত ঘোষণা, নিয়োগ এবং শপথ গ্রহণ সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।

Top week

মাহদী
জাতীয়

মাহদীকে বিমানবন্দরে আটকে দিল ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ: তোলপাড় রাজনৈতিক অঙ্গনে

আরাফাত ইবনে আব্দুল্লাহ ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0