মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে অনড় নীতি মালয়েশিয়ার রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের অনুপ্রবেশের সত্যতা মেলে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটিকে ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজির আহ্বানে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। মাসিক দেড় হাজার ডলার ফি দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকদের গোপন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বিদেশিদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও তারা ইমিগ্রেশন আইন (১৯৫৯/৬৩) পুরোপুরি মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিবিড় তদন্ত চলছে। পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি কিংবা অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইনের যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে সতর্ক করেছেন।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইসরায়েলকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে এবার ইউরোপের ভেতরেই কূটনৈতিক ও ক্রীড়া পর্যায়ে চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নরওয়ে। রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ) ইউরোপীয় ফুটবল মহলে এ বিষয়ে সমর্থন গড়ে তুলতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এনএফএফ সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস। তিনি একজন আইনজীবী, নরওয়ে নারী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমানে উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার মতে, কোনো দেশকে একতরফাভাবে বয়কট করার পরিবর্তে ফিফা ও উয়েফার আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। গত বছর অসলোতে নরওয়ে ও ইসরায়েলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের আগে ক্লাভেনেস প্রকাশ্যে বলেন, নরওয়ে বিশ্বাস করে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করা উচিত। তার ভাষায়, বিষয়টি মূলত ফুটবলের নিয়ম ও নীতিমালা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগের প্রশ্ন। তবে নরওয়ে সেই ম্যাচ বয়কট করেনি। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, ম্যাচে অংশ না নিলে ইসরায়েল ওয়াকওভার পেয়ে যেত, যা তাদের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিত। শেষ পর্যন্ত নরওয়ে ম্যাচটি ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে জিতে নেয়। নরওয়ের অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি হলো ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনের পর ফিফা ও উয়েফার নেওয়া সিদ্ধান্ত। সে সময় রাশিয়ার জাতীয় দল ও ক্লাবগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যেও ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে। ক্লাভেনেস এবং তার সমর্থকদের দাবি, এই দুই ঘটনার ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ ফুটবলের নীতিমালা ও মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ২০২৪ সালে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগের মধ্যে ছিল গাজায় সামরিক অভিযান, ফিলিস্তিনি ও আরব ক্রীড়াবিদদের প্রতি বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোর ইসরায়েলি লিগে অংশগ্রহণ। মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকজন আইনজীবীও দাবি করেছেন, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মানবাধিকারবিষয়ক মানদণ্ড এবং অধিকৃত অঞ্চলে ক্লাব পরিচালনা সংক্রান্ত ফিফার বিভিন্ন বিধিমালা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন লঙ্ঘন করেছে। পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নরওয়ের সক্রিয় ভূমিকার ফলে বিষয়টি এখন আর শুধু আরব বা এশিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলোর আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এদিকে অসলোতে নরওয়ে-ইসরায়েল ম্যাচকে ঘিরেও ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতির বিভিন্ন কর্মসূচি দেখা যায়। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ম্যাচের টিকিট বিক্রির অর্থ গাজার চিকিৎসা সহায়তার জন্য দান করে। ম্যাচ চলাকালে গ্যালারিতে বহু দর্শক ফিলিস্তিনের পতাকা ও কেফিয়েহ প্রদর্শন করেন। স্টেডিয়ামে "শিশুদের বাঁচতে দাও" লেখা একটি ব্যানারও টানানো হয়। একই সময়ে স্টেডিয়ামের বাইরে শত শত বিক্ষোভকারী ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে সমাবেশ করেন। চলতি বছরের মার্চে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ক্লাবগুলোর ইস্যুতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে ফিফা। তবে বৈষম্য ও আপত্তিকর আচরণসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে সংস্থাটিকে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করা হয়। এর পাশাপাশি ফিফা ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে বাধ্যতামূলক বৈষম্য প্রতিরোধ পরিকল্পনা গ্রহণ, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার এবং ম্যাচে বৈষম্যবিরোধী বার্তা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়। ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার দাবি নিয়ে আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকজন ফুটবল কর্মকর্তা এ বিষয়ে ফিফা ও উয়েফার আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ফিফা বা উয়েফা।
মার্কিন সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র লিন্ডসে গ্রাহাম আর নেই। শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি মারা যান। তার কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংক্ষিপ্ত ও আকস্মিক অসুস্থতার’ পর তার মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে এ সময় সবার কাছে দোয়া চেয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “লিন্ডসে গ্রাহাম আমার পরিচিত সবচেয়ে অসাধারণ মানুষ ও সিনেটরদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যিকারের মার্কিন দেশপ্রেমিক। তাকে গভীরভাবে মিস করা হবে।” সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও গ্রাহামকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী’ উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্বাধীনতাপন্থী দেশগুলোর পক্ষে তিনি সারাজীবন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথমবার সিনেটে নির্বাচিত হন গ্রাহাম। এর আগে তিনি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। বিশেষ করে ইরান, রাশিয়া ও ইউক্রেনসহ বৈদেশিক নীতি ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তিনি ইউক্রেন সফর করে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজ এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন রাজনীতিতে গ্রাহাম ছিলেন ‘হকিশ’ বা কঠোর পররাষ্ট্রনীতির প্রবল সমর্থক। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য থাকাকালে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার নীতির পক্ষে অবস্থান নেন। সিনেটে দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিচারবিষয়ক কমিটি এবং সর্বশেষ বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একসময় রিপাবলিকান সিনেটর জন ম্যাককেইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন গ্রাহাম। ম্যাককেইন ও সাবেক সিনেটর জো লিবারম্যানকে নিয়ে গঠিত ‘থ্রি অ্যামিগোস’ জোট বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি গ্রাহামকে ‘ইসরায়েলের মহান বন্ধু’ এবং ‘ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক জোরদারে তিনি আজীবন কাজ করেছেন। গ্রাহামের মৃত্যুতে মার্কিন সিনেটে রিপাবলিকানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন শূন্য হলো। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অস্থায়ীভাবে একজন সিনেটর নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী মেয়াদ শুরু হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন, রামাল্লাহ, বেথলেহেম, জেনিন ও নাবলুসে ইসরায়েলি বাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের পৃথক অভিযানে অন্তত কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। হেবরনে একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় ১০ বছর বয়সী এক শিশু মাথায় আঘাত পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, রামাল্লাহর পূর্বে আল-মুঘাইয়ির গ্রামে মোহাম্মদ হামেদ আবু আলিয়ার বাড়িতে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীরা। এ সময় একজন ফিলিস্তিনি জীবন্ত গুলিতে উরুতে আহত হন এবং আরও দুজন রাবার মোড়ানো ধাতব বুলেটে আহত হন। এছাড়া ১০ বছর বয়সী রায়েদ ওদেহ আবু আলিয়া স্টান গ্রেনেডের আঘাতে মাথায় আহত হয়। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী বেথলেহেমের পশ্চিমে দোহা শহরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় মোতায়েন হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গ্রেপ্তার বা বাড়িতে তল্লাশির খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে জেনিনের দক্ষিণে খাবিরাত মাসউদ এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা তাদের ভেড়ার পাল ফিলিস্তিনিদের কৃষিজমিতে ছেড়ে দেয়। এতে ফসল ও গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাবলুসের দক্ষিণে কাবালান এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করছিলেন এমন পৌরসভার কর্মীদেরও হামলার মুখে পড়তে হয়। হামলার কারণে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সামরিক অভিযান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা এ ধরনের হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব হামলার মাধ্যমে তাদের কৃষিজমি ও বসতি থেকে উচ্ছেদের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর সফরের সময় ইসরায়েলি সেটেলার ও সেনাবাহিনীর হাতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেলধারী সেটেলাররা তার বহরের পথরোধ করে এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। রয়টার্সের বরাত দিয়ে আল আরাবিয়া জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে অবস্থানকালে রো খান্না এ অভিযোগ করেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নির্বাচিত এই মার্কিন আইনপ্রণেতা বলেন, বুধবার দক্ষিণ পশ্চিম তীরের খিরবেত যানুতা এলাকায় সফরের সময় তাদের বহরের মাইক্রোবাস ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেটেলাররা। খান্নার ভাষ্য, তিনি এমন একটি গ্রাম পরিদর্শন করছিলেন, যেটি সেটেলারদের হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তার দাবি, সেখানে স্কুল ও অন্যান্য স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সশস্ত্র সেটেলাররা তাদের পথ আটকে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) ডেকে আনে। তিনি বলেন, “তারা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এম-৪ রাইফেল নিয়ে আসে, রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং আমাদের আটকে রাখে। পরে আইডিএফ আসে, কিন্তু তারা আমেরিকানদের নয়, সেটেলারদের পক্ষেই অবস্থান নেয়।” খান্নার সফরসঙ্গী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে রাখা হয়েছিল। পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে তারা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ বলে মনে হওয়া একদল কর্মকর্তা এসে হস্তক্ষেপ করলে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে যেতে সক্ষম হন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, খিরবেত যানুতার কাছে কিছু যানবাহন সেটেলাররা আটকে রেখেছে—এমন খবর পাওয়ার পর সেনা ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দাবি, সেখানে পৌঁছে তারা ইসরায়েলি বেসামরিকদের ছত্রভঙ্গ করে এবং আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে নিরাপদে চলাচলের সুযোগ করে দেয়। খিরবেত যানুতা দক্ষিণ হেবরন এলাকার একটি ছোট ফিলিস্তিনি গ্রাম। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর ওই এলাকায় ইহুদি সেটেলারদের হামলার মুখে গ্রামটির বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হন এবং বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। এরপর থেকে এলাকাটি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য ইসরায়েলি পুলিশ ও জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রো খান্নার অভিযোগও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের সময় উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ফলে ইরান তাদের ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিনগুণ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সৈয়দ মাজিদ ইবনে রেজা। শনিবার পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ তথ্য জানান। পরে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা তার বক্তব্য প্রকাশ করে। রেজার দাবি, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগই সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান অত্যন্ত উন্নত সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ প্রযুক্তির মুখোমুখি হয়েছিল। ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ১৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি কোম্পানি সহায়তা দিয়েছিল। তবে এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে পেরেছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের হামলা মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীসহ সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তবে রেজার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই দাবি অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার এক অভাবনীয় সাফল্যের কথা জানিয়েছে ইরান। যুদ্ধের এমন চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মাঝেও দেশটির ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা। শনিবার (১১ জুলাই) এই অভূতপূর্ব অর্জনকে তিনি সম্পূর্ণ ‘দেশীয় দক্ষতার ফল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ যৌথ বৈঠকে অংশ নেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি ড্রোন উৎপাদন বৃদ্ধির এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জেনারেল মজিদ ইবন আল-রেজা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক এই সংঘাত সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে, ইরানের দেশীয় অভিজাত শ্রেণি এবং উন্নত প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই হচ্ছে দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী স্তম্ভ। প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার বার্তায় আরও জানান, যুদ্ধের চরম মুহূর্তে যখন চারপাশ থেকে একের পর এক আগ্রাসন ও বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা আসছিল, তখনও ইরানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে যায়নি। বরং এমন চরম প্রতিকূল ও আগ্রাসী পরিস্থিতির মাঝেই নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতা ও মেধা কাজে লাগিয়ে তেহরান তাদের ড্রোন উৎপাদন ক্ষমতা তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সামরিক খাতে ইরানের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি শত্রুদের জন্য একটি কড়া বার্তা বলেই মনে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণে অন্তত নয়জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসাকর্মীরা জানান, গাজা সিটির একটি বিদ্যালয়ের কাছে চালানো বিমান হামলায় একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হন। এছাড়া খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন, যাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। একই দিনে গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ইসরায়েলি গুলিতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। গাজা সিটির অন্য দুটি হামলায় আরও তিনজন নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা সশস্ত্র যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালিয়েছে। তবে বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি এবং ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও গাজায় নিয়মিত হামলা ও পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, তারা হামাস-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের লক্ষ্য করছে। অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতও এর আগে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত উভয় পক্ষই বিভিন্ন সময়ে লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি এবং চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের নির্ধারিত নিউইয়র্ক সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের ‘ইউএন চিফস অব পুলিশ সামিট (ইউএনসিওপিএস)’-এ অংশ নিতে তার নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা ছিল। তবে সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি তার দপ্তর। এর আগে তার সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিক্ষোভের প্রস্তুতি, তদন্তের দাবি এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের আহ্বান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনটি মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সফরের কয়েকদিন আগেই ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে খবর আসে, বেন-গভির নিউইয়র্ক সফর থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। যদিও তার কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে সফর বাতিলের কারণ ব্যাখ্যা করেনি। বেন-গভিরের সম্ভাব্য সফরের খবর প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, ফিলিস্তিনপন্থী কর্মী এবং কয়েকটি প্রগতিশীল ইহুদি সংগঠন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে বেলজিয়ামভিত্তিক হিন্দ রাজাব ফাউন্ডেশন ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ কয়েকটি সংগঠন মার্কিন বিচার বিভাগ ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে তার বিরুদ্ধে তদন্ত এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায়। অভিযোগকারীদের দাবি, গাজা যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে তার ভূমিকার কারণে বেন-গভিরের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করা উচিত। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষও তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। এদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিক জোহরান মামদানি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয়ে অতীতে সমর্থনসূচক অবস্থান নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, বেন-গভির নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা হতে পারে। তবে সফর বাতিলের সঙ্গে মামদানির বক্তব্যের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেনি। ইতামার বেন-গভির ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী সরকারের অন্যতম আলোচিত মন্ত্রী। গাজা যুদ্ধ, পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি তার অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। এর আগে তার বিদেশ সফর ঘিরেও বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা গেছে। সফর বাতিলের প্রকৃত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না হলেও, নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আইনি চাপ, গ্রেপ্তারের দাবি এবং বিক্ষোভের প্রস্তুতি ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম নিরাপত্তার কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায়—ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এমন দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এই বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন লেবাননের সীমান্তবর্তী একটি খ্রিস্টান শহরের মেয়র, যিনি এটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। রোববার (৫ জুলাই) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, দক্ষিণ লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম হিজবুল্লাহর প্রভাব ও হামলার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তার এই বক্তব্য প্রকাশের পরই লেবাননের ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, বিশেষ করে সীমান্ত অঞ্চলের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিন্ত জবেইল জেলার অন্তর্গত খ্রিস্টান অধ্যুষিত শহর রমিশের মেয়র হান্না আল-আমিল এই দাবিকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। দক্ষিণ লেবাননের কোনো শহর বা গ্রামের মানুষ কখনোই এমন কোনো আবেদন করেনি।” মেয়র আল-আমিল আরও বলেন, দেশের ভূখণ্ডকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার চিন্তাই লেবাননের জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য। “এ ধরনের প্রস্তাব কেবল অবাস্তবই নয়, আমাদের জাতীয় চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক,”—যোগ করেন তিনি। তার মতে, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন এলাকা নয়; বরং এগুলো দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যেখানে মানুষের মধ্যে গভীর দেশপ্রেম এবং লেবাননের প্রতি অটুট আনুগত্য রয়েছে। “আমরা লেবাননের মানুষ, এবং আমাদের পরিচয়, ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ এই দেশকে ঘিরেই,”—বলেন তিনি। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগও সামনে এসেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান তুলে ধরে জানায়, দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় বজায় রাখলেও তারা জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার এই সময়ে এমন বক্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ফলে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও নজর বাড়ছে।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান তীব্র ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেই নিজেদের বিমানবাহিনীকে অভাবনীয় মাত্রায় শক্তিশালী করতে রাশিয়ার সঙ্গে বিশাল সামরিক চুক্তির পথে হেঁটেছে ইরান। জানা গেছে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ তেহরানের কাছে ৩০টি অত্যাধুনিক ‘সু-৩৫’ ফাইটার জেট হস্তান্তর করতে যাচ্ছে মস্কো। রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২০টি যুদ্ধবিমানের উৎপাদন পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১০টি ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রস্তুত হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হতে যাচ্ছে ইরানের সবচেয়ে বড় সামরিক অস্ত্র চুক্তি। মূলত রাশিয়ার কাছ থেকে মোট ৪৮টি অত্যন্ত শক্তিশালী ‘সু-৩৫’ যুদ্ধবিমান কিনছে তেহরান। বর্তমানে ইরানের বিমানঘাঁটিগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ চলছে, যা শেষ হলেই এই যুদ্ধবিমানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। এই বৃহৎ চুক্তির পাশাপাশি ইরান সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে ১২টি ব্যবহৃত ‘সু-৩০এসএম২’ দূরপাল্লার ফাইটার জেটেরও অর্ডার দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের ‘সু-৫৭’ স্টিলথ ফাইটার জেট কেনার বিষয়েও দুপক্ষের আলোচনা বেশ ইতিবাচকভাবে এগিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিবর্তিত সামরিক ভারসাম্য ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে রাশিয়া ও ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, রাশিয়ার তৈরি এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের বিমানবাহিনীর আক্রমণ ও প্রতিরোধ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। ভিয়েতনাম যুদ্ধের আমলের পুরোনো এফ-৪ এবং এফ-৫ বিমান ব্যবহার করেই ইরান যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও তাদের মিত্রদের নিশ্ছিদ্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার যুদ্ধ ব্যাসার্ধের সু-৩৫ যুক্ত হলে আঞ্চলিক আকাশসীমায় তেহরানের সামরিক প্রভাব ও আধিপত্য যে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান আলোচনা কোনোভাবেই দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তির নামে ইসরায়েলের কাছে নিজ দেশের এক ইঞ্চি ভূখণ্ডও ছেড়ে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এই দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট আউন বলেন, লেবাননের জন্য যুদ্ধ ও বিদেশি প্রভাবের যুগ থেকে বেরিয়ে আসার সময় হয়েছে। অধিকাংশ লেবানিজ নাগরিক এই শান্তির পথকে সমর্থন করেন, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ, যারা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ ভূখণ্ডে বসবাসের অধিকার রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কয়েক মাসের দীর্ঘ আলোচনা শেষে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ও লেবানন একটি কাঠামোগত বা ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তিতে সই করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তি দীর্ঘদিনের সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার একটি বাস্তবসম্মত পথ তৈরি করবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতা দুই দেশের সংঘাত অবসানের পথে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে লেবাননের ভেতরে এই চুক্তি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ চুক্তিটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। হিজবুল্লাহ মহাসচিব নাঈম কাসেম চুক্তিটিকে ‘অবৈধ ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত অনুযায়ী লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। চুক্তির মাধ্যমে কার্যত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার কিছু অংশ ছাড় দেওয়ার অভিযোগে সমালোচকরা যখন সরব, তখন প্রেসিডেন্ট আউন এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, চুক্তির ধারাগুলো লেবাননের অধিকার ও মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং পূর্ণাঙ্গভাবে সেই অধিকার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা সার্বভৌমত্বের নীতিকে সম্মান করেন, তাদের রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকেও সম্মান জানানো উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সার্বিক বিতর্কের মাঝে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে হওয়া ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ নির্ধারণের জন্য একটি নির্দেশনামূলক কাঠামো মাত্র। লেবাননের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট’ শব্দটি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে; এটি মূলত শেষ পর্যন্ত একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করবে। ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনার ব্যাপারে লেবানন উৎসাহিত না হলেও, দুটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পর হাজারো মানুষের প্রাণহানির কঠিন বাস্তবতাই তাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী সালাম।
সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে আবারও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। প্রদেশটির পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ কৃষিজমিকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরের দিকে জামলাহ গ্রামের আশপাশের ফসলি জমিতে একটি কামানের গোলা আঘাত হানে। একই সময় ওই এলাকার আকাশে একটি ইসরায়েলি নজরদারি ড্রোন ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা’র সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই গোলাবর্ষণে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। এর আগে গত রোববারও দারা প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের আবদিন গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী একটি আকস্মিক অভিযান চালায়। অভিযানের পর গ্রামটির উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পাথর ছুড়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে ইসরায়েলি সেনারা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলেও সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকেই সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় অভিযান, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং সামরিক চেকপোস্ট স্থাপনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। সাম্প্রতিক এই গোলাবর্ষণের ঘটনাও সেই ধারাবাহিকতার অংশ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই প্রতিবেদনটি আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইসরায়েলকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখা। অন্যথায় ইরানই ‘উপযুক্ত শিক্ষা’ দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বুধবার (২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের বক্তব্যের জবাবেই তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। আরাগচি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং সবার জন্য উন্মুক্ত। ওই সমঝোতার আওতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেল আবিবে তার ‘পোষ্যদের’ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যদি তারা (ইসরায়েল) তাদের প্রভুর নির্দেশ না মানে, তাহলে ইরানই তাদের শিক্ষা দেবে। আমাদের জনগণ বা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকির জবাব তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালীভাবে দেওয়া হবে।’ এর আগে সোমবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু’। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় ছাড় আদায়ের চেষ্টা করছে। তবে তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। যদিও কোনো চুক্তির মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জিত হলে সেটিই ভালো হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে হওয়া সমঝোতায় সংঘাত এড়িয়ে চলার কথা উল্লেখ থাকলেও ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা এই চুক্তির পক্ষ নয়। ইসরায়েলের অবস্থান হলো, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা অব্যাহত রাখবে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে, কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন দফার পরোক্ষ আলোচনার আগে ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায়ের অধিকারের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে তেহরান অনড় অবস্থানে রয়েছে। প্রয়োজন হলে শক্তি প্রয়োগের পথেও হাঁটতে প্রস্তুত তারা। সূত্রগুলোর দাবি, চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সমঝোতার আওতায় ইরান ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছিল। তবে কোন জাহাজ চলবে এবং কোন রুট ব্যবহার করবে, সেই নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকবে বলে তারা মনে করে। ইরানি সূত্রগুলোর ভাষ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সময় শেষ হওয়ার পরও এই নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে চায় তেহরান। এ বিষয়ে সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় অন্য কোনো বিষয়ে অগ্রসর হবে না ইরানি আলোচকরা। তারা আরও জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো না হলে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায় শুরু করতে পারে ইরান। তবে কী পরিমাণ ফি নেওয়া হবে বা কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আগামী নির্বাচনের চার মাস আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক জনাকীর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আহ্বান জানান। প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে আইজেনকট বলেন, "ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।" তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরে যে সরকার গঠিত হবে, তারা যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে। আইজেনকট বলেন, "আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।" গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন। মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তার ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান। ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। সমাবেশে আইজেনকট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার ভাষায়, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্ন মতের মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন। তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, "এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।" আইজেনকটের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ইসরায়েলের জন্য দেওয়া বার্ষিক ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির উত্থাপিত একটি সংশোধনী প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ক্যাসার। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্কও নতুন করে তীব্র হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি গ্রেগ ক্যাসার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন, গাজায় ইসরায়েলি সরকার যুদ্ধাপরাধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে সহায়তা করেছে। তাঁর ভাষায়, মার্কিন জনগণের অর্থ দিয়ে আর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের জন্য অস্ত্র কেনা উচিত নয়। ক্যাসার জানান, কংগ্রেসে উত্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবটির পক্ষে তিনি ভোট দেবেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসির প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র দপ্তরের অর্থায়ন বিলের আওতায় ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ রাখা সব অর্থও বাতিলের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরকারের গাজা অভিযান এবং ইরান সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলছে। এদিকে গত মাসে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী এড গ্যালরেইনের কাছে পুনর্নির্বাচনে পরাজিত হন। ম্যাসিকে পরাজিত করতে পরিচালিত নির্বাচনী প্রচারণাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রাইমারি নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁকে হারাতে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করা হয়। এর বেশির ভাগ অর্থ এসেছে ইসরায়েলপন্থি সংগঠন এবং ট্রাম্প-সমর্থিত রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে। ম্যাসির প্রস্তাবিত সংশোধনীটি চলতি সপ্তাহেই মার্কিন কংগ্রেসে ভোটের জন্য উত্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নীতিকে ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গাজা ও দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও বসতি সম্প্রসারণ নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা যে পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এই সপ্তাহে তার বাস্তবায়নের বিভিন্ন লক্ষণ দৃশ্যমান হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে এবং এটি গণহত্যার উদ্দেশ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মতরিচ সম্প্রতি হেবরন চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। একই সময়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যমগুলো সরকারের পরিকল্পিত ‘নীরব সংযুক্তিকরণ’ কৌশল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সপ্তাহজুড়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকেরা। হেবরনে ইসরায়েলি বাহিনী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে ইব্রাহিমি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদের খোলা চত্বরে ইস্পাতের বিম বসানোর কাজ শুরু করে। মসজিদের পরিচালক এই পরিবর্তনকে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির চরিত্রে মৌলিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সময়ে সেখানে টানা দেড় সপ্তাহ ধরে মুসলিমদের আজান বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। গাজায় নতুন করে বসতি স্থাপনের পরিকল্পনাও প্রকাশ্যে এনেছেন স্মতরিচ। তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বাধীন সেটেলমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন গাজার উত্তরাঞ্চলে তিনটি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি তা অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে গাজার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণসীমা নির্দেশকারী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পাশে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের সিমেন্টের সীমাচিহ্ন আরও পশ্চিমে সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে নিয়ন্ত্রিত এলাকা আরও বিস্তৃত হয়েছে। নেতানিয়াহু আলাদাভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দিকে এগোচ্ছে। পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। রামাল্লাহর উত্তরে সিনজিল এলাকার কাছে ৪৬৫ দুনাম বা ০.৪৬৫ বর্গকিলোমিটার জমিকে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ ঘোষণা করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল গিভাত হারোয়েহ আউটপোস্টকে পশ্চাৎমুখীভাবে বৈধতা দেওয়া এবং রুট-৬০ বরাবর বৃহত্তর বসতি কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা। আউটপোস্টটি ২০২৩ সালে আনুষ্ঠানিক বসতিতে রূপান্তরিত হয়। ওয়াফা ও স্থানীয় কর্মী নেটওয়ার্কগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বসতি স্থাপনকারীরা কোবার ও বেইতিল্লুর কাছে ব্যক্তিমালিকানাধীন ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করেছে এবং আল-মাজরা আশ-শারকিয়া ও কাফর মালেকের মাঝখানে নতুন আউটপোস্ট গড়তে জমি ঘিরে ফেলেছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ২৩ জুন মধ্যরাতে বেইত লাহিয়ার কাছে একটি কোয়াডকপ্টার থেকে দাহ্য গোলাবারুদ ফেলা হয় বলে জানা গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত মানুষের তিনটি তাঁবুতে আগুন লাগে। ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী আশ্রয়শিবিরের পাশে একটি হলুদ সিমেন্ট ব্লক স্থাপন করে, যা নিয়ন্ত্রণরেখা আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এই রেখার আশপাশে প্রায় ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে গাজার ৬৫ শতাংশ এলাকা ‘প্রবেশ-সীমাবদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ২৩ জুন জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে এবং হত্যা করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত অন্তত ২০ হাজার ১৭৯ শিশু নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতদের প্রায় ৩০ শতাংশ। কমিশনের ভাষ্য, শিশুদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা গণহত্যার উদ্দেশ্য প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে ইসরায়েল এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবেদিটিকে ‘মানহানিকর প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেছে। এর কয়েক দিন পর ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বি’তসেলেম জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৪১ জন ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এটি এমন এক নীতির ফল, যা কার্যত কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই ফিলিস্তিনিদের হত্যাকে সম্ভব করেছে। ২৯ জুন রামাল্লাহ সংলগ্ন এল-বিরেহ শহরে ১৫ বছর বয়সী আহমদ জাওয়াদ জাবের ইসরায়েলি অভিযানের সময় মাথা ও বুকে গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। রামাল্লাহর গভর্নর লাইলা ঘান্নাম ঘটনাটিকে ‘দিবালোকে সংঘটিত স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেন। গাজার চিকিৎসাসূত্র ও ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, ১৩ বছর বয়সী আইলিন আল-ফারা স্প্লিন্টারের আঘাতে মারা যায়। দেইর আল-বালাহর কাছে আট বছর বয়সী মালিক আবু শাওয়িশ নিহত হয়। একই দিন আল-মাওয়াসিতে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলি হামলায় ২৩ বছর বয়সী ডায়ানা আবু দারাজ এবং তাঁর শিশু কন্যা সুয়ার নিহত হয়। যুদ্ধবিরতির আওতায় ওই এলাকাকে নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। রামাল্লাহ অঞ্চলের দার ফাজা ও পূর্ব তাইবেহ এলাকায় নতুন আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠার পর ১১টি বসতি স্থাপনকারীর হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা স্থানীয়দের একমাত্র পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ২০০ জনের বেশি মানুষের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একই সড়কপথের ১০টি বেদুইন সম্প্রদায়ের মধ্যে ৯টি এলাকা ইতিমধ্যে প্রায় খালি হয়ে গেছে। তবে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনায় ব্যবস্থা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। ১৪ জুন দেইর দিবওয়ানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ছয়জন বসতি স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একজন ১৮ বছর বয়সী। ওই হামলায় যানবাহন ও একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২৫ জুন বেইত আনোটের একটি বসতি আউটপোস্টে কয়েকটি ঘর ভেঙে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন বসতি স্থাপনকারী নেতারা। একই সময়ে ওয়াফার তথ্য অনুযায়ী, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত ছিল। এ সময় ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে রেড ক্রসের সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করতে আনা একটি বিলও ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হয়নি। অতিরক্ষণশীল ধর্মীয় আইনপ্রণেতাদের ভোট বর্জনের কারণে বিলটি আটকে যায়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তথাকথিত যুদ্ধবিরতির প্রায় নয় মাস পর যুদ্ধবিরতি-পরবর্তী নিহতের সংখ্যা অন্তত ১ হাজার ৪৫ জনে পৌঁছেছে। গত সপ্তাহে ২৫ জুন বেইত লাহিয়ায় একটি হামলায় একজন নিহত হন। ২৬ জুন মাঘাজি শরণার্থীশিবিরের কাছে একটি গাড়িতে হামলায় তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ২৭ জুন আল-মাওয়াসিতে আরেক হামলায় দুই ভাইবোন নিহত হয়। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে, প্রয়োজনীয় সরবরাহ না থাকায় গাজার প্রায় অর্ধেক ডায়ালাইসিস মেশিন অচল হয়ে গেছে। কারণ হিসেবে ইসরায়েলের চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ২৫ শতাংশেরও কম পেয়েছে।
ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দকৃত ৩৩০ কোটি ডলারের মার্কিন সহায়তা পুরোপুরি বন্ধের প্রস্তাবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরে গভীর মতবিরোধ ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বও এ ইস্যুতে একক অবস্থান নিতে পারছে না। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব দলীয় সদস্যদের নিজ নিজ বিবেক অনুযায়ী ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ এই বিল নিয়ে দলটির ভেতরে ঐক্যের অভাব রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ সদস্য বেনি থম্পসন দ্য হিল পত্রিকাকে জানিয়েছেন, তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ইসরায়েল ইস্যুতে এমন উত্তপ্ত ও নজিরবিহীন বিতর্ক তিনি আগে দেখেননি। বিষয়টি এখন কেবল পররাষ্ট্রনীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের রূপ নিয়েছে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আইনপ্রণেতা রাশিদা তলাইব জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাবের ওপর ভোট হতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং রিপাবলিকানদের বিরোধিতার কারণে বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ডেমোক্র্যাট পার্টির প্রগতিশীল অংশের নেতারা—বিশেষ করে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-করতেজ ও রাশিদা তলাইব—এই বিলের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার সময় এসেছে। তবে দলের মধ্যপন্থী অংশ এ প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগ মিকস জুইশ ইনসাইডারকে জানিয়েছেন, তিনি এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেবেন। তার ভাষ্য, ইসরায়েলকে প্রয়োজনীয় সামরিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। একই অবস্থান নিয়েছেন হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির প্রধান ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিলটি পাস হলে ইসরায়েলের জন্য নির্ধারিত সামরিক সহায়তার পাশাপাশি মানবিক সহায়তাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। একই সঙ্গে এটি ডেমোক্র্যাট পার্টির ভেতরের আদর্শিক বিভাজনকেও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।
ইসরায়েলের সংবেদনশীল সামরিক ও সরকারি স্থাপনার তথ্য সংগ্রহ করে ইরান-সংশ্লিষ্ট একটি নেটওয়ার্কে সরবরাহের অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিককে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্ত এই যুবকের বয়স মাত্র ২০ বছর বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি পুলিশ। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, আটক ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের সঙ্গে যুক্ত এক এজেন্টের সঙ্গে নিয়মিত ডিজিটাল যোগাযোগ বজায় রাখছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও সরকারি স্থাপনার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে ওই এজেন্টের কাছে পাঠাতেন। এর বিনিময়ে প্রতিটি কাজের জন্য কয়েক ডলার থেকে শুরু করে শত শত ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করতেন তিনি। জেরুজালেম জেলা পুলিশ গত ৯ জুন একটি গোপন অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইতোমধ্যে আদালতে প্রসিকিউটরস ডিক্লারেশন দাখিল করা হয়েছে এবং শিগগিরই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র গঠন করা হবে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাইবার ও তথ্যভিত্তিক যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। এদিকে, অন্য এক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননের দুটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়নি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত তদারকি ব্যবস্থার বিষয়ে পূর্ণ সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সেনা প্রত্যাহার একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বাহিনী হিজবুল্লাহর কার্যক্রম ও সামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ইসরায়েল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই দুই ঘটনাই অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সূত্র: আল জাজিরা
মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনায় রেখে নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম এমন লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের সরকার। সোমবার সামরিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত কোনো দেশেরই মহাকাশ থেকে সরাসরি হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা নেই, তবে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসরায়েল। তিনি আরও বলেন, এই সক্ষমতা অর্জন করা গেলে তা শুধু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানা ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দেবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কাটজ একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি স্পষ্ট করে মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েল স্থলভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ নামে একটি লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা স্বল্প দূরত্বের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাটজের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইসরায়েল ইরানের মহাকাশ-সম্পর্কিত কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যেগুলো স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার দৌড়ে ইসরায়েল একা নয়। রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে পরীক্ষামূলক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে মহাকাশকে কেন্দ্র করে নতুন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অচল করা বা ধ্বংস করার পাশাপাশি মহাকাশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ এখন স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, সংকেত জ্যামিং বা কক্ষপথ পরিবর্তনের মতো বিকল্প কৌশল নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার যুদ্ধোত্তর পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামাস তাদের অস্ত্র সমর্পণ না করলেও গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ইসরায়েলের কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার আলোকে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। প্রস্তাবের বিষয়বস্তু থেকে ইঙ্গিত মিলছে, গাজায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সুযোগ ক্রমেই সীমিত হয়ে আসছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র এখন ইসরায়েল সরকারের কাছ থেকে এই শান্তি উদ্যোগে লিখিত সম্মতি বা আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর চাইছে, যাতে পুনর্গঠন প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করা যায়। মার্কিন পরিকল্পনায় গাজার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের ফলে এসব খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, যা গাজার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সরকার। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় টানা সংঘাতের পর আন্তর্জাতিক মহলে পুনর্গঠন নিয়ে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে দ্রুত অবকাঠামো পুনরুদ্ধার জরুরি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা থাকলেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া আলাদাভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, অবকাঠামো পুনর্গঠন ও মানবিক সহায়তা ছাড়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।