সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

যুদ্ধে ইরান জিতেছে বলে মনে করেন বেশিরভাগ ইসরায়েলি, নেতানিয়াহুর গদিতে টান!

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১:৮
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। বেশিরভাগ ইসরায়েলিই মনে করেন না যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল জয়লাভ করেছে।


ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং কান ১১-এর পৃথক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে।


বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। 


প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান।   এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না।   ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে।   সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর।   সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।   একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৮
নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ

অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহার কমাচ্ছে যুক্তরাজ্য, ছোট নৌকায় পারাপারেও নিয়ন্ত্রণ

বন্যায় নিহতের মরদেহ থেকে স্বর্ণ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল
বন্যায় নিহতের মরদেহ থেকে স্বর্ণ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, তদন্তে পুলিশ

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যার মধ্যে নিহত এক নারীর মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার খুলে নেওয়ার অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ২৬ আগস্ট নেপালে আকস্মিক বন্যার পর বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মৃত বন্যাকবলিত নারীদের মরদেহের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। ভিডিওটির সঙ্গে থাকা পোস্টে দাবি করা হয়, নিহতদের শরীরে থাকা স্বর্ণের কানের দুল ও নাকের অলংকার খুলে নেওয়া হয়েছে।   ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দুর্যোগের মধ্যে যখন স্বজনরা নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের খুঁজছেন এবং উদ্ধারকাজ চলছে, তখন মৃতদেহ থেকেও মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।   তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির প্রতিটি দৃশ্যের স্থান, সময় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ভিডিওতে দেখা ঘটনাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগটি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কারা এতে জড়িত এবং সত্যিই নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ থেকে স্বর্ণালংকার সরানো হয়েছিল কি না, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   নেপালে সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। উদ্ধারকারীরা বিভিন্ন এলাকায় মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিহতদের মরদেহ শনাক্ত করা এবং পরিবারের কাছে যথাযথ মর্যাদায় হস্তান্তর করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   দুর্যোগের সময় মানুষের জীবন রক্ষার পাশাপাশি মৃতদের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। কোনো ব্যক্তির মরদেহ থেকে মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকলে, সেটি প্রমাণিত হওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসতে পারে।   এদিকে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই দুর্যোগের মধ্যেও মানবিকতা ও মৃতদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশি তদন্ত শেষ হলে ভাইরাল ভিডিওটির প্রকৃত ঘটনা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৭:৪
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১৩ বছরের ব্রিটিশ কিশোরীসহ নিখোঁজ ৩৩ ব্রিটিশ পর্যটক

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই এক বসায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ তেলাওয়াত ফিলিস্তিনি কিশোরীর

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

লাইভ এআই সহায়তায় মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার, বিশ্বের প্রথম রোগীর টিউমার সফলভাবে অপসারণ

পা দেখানো শুরু করতেই আকাশচুম্বী টিপ, উবার ইটস ড্রাইভারের দাবি তরুণীর
ডেলিভারির ছবিতে পা দেখাতেই আকাশচুম্বী টিপ পাচ্ছেন, দাবি তরুণী উবার ইটস ড্রাইভারের

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে উবার ইটসের এক নারী ডেলিভারি ড্রাইভারের অভিনব এক কৌশল সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জেড ফিনিক্স নামের ওই তরুণী খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর গ্রাহকের কাছে যে কনফার্মেশন ছবি পাঠাতে হয়, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের স্যান্ডেল পরা পা ও নতুন করা পেডিকিউর প্রদর্শন করেন।   আর এই অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী কৌশলের কারণেই নাকি গ্রাহকদের কাছ থেকে তিনি আকাশচুম্বী টিপ বা বকশিশ পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন।   ফিনিক্স জানান, অ্যাপে ডেলিভারি সম্পন্ন হওয়ার প্রমাণস্বরূপ যখন ছবি আপলোড করতে হয়, তখন তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে ফ্রেমে নিজের পা দৃশ্যমান রাখেন। পেডিকিউর করা সুন্দর পা ছবিতে দেখার পরই অনেক গ্রাহক তাদের টিপের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে তিনি লক্ষ্য করেন।   নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যের কথা অনলাইনে শেয়ার করার পরপরই তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অন্যান্য অনেক ডেলিভারি ড্রাইভারও কৌতূহলবশত একই কৌশল অবলম্বন করার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ ছবিতে নিজেদের পা রাখার পর আয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসার দাবি করেছেন।   তবে এই কৌশলটি যে সব সময় জাদুর মতো কাজ করে, এমনটাও নয়। ফিনিক্স নিজেই স্বীকার করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে এমন ছবি দেওয়ার পরও তিনি কোনো বাড়তি টিপ পাননি।   তবুও একটি সাধারণ ডেলিভারি কনফার্মেশন ছবিকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা গিগ ইকোনমিতে ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডিং এবং টিপ সংস্কৃতির অনিশ্চয়তা নিয়ে অনলাইনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   নেটিজেনদের একাংশ এটিকে গ্রাহকের মনোযোগ আকর্ষণের একটি বুদ্ধিদীপ্ত ও মজার কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই বিষয়টিকে টিপিং সংস্কৃতির এক অপ্রত্যাশিত দিক বলে মনে করছেন।   সামগ্রিকভাবে, তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ডেলিভারি দুনিয়ায় আয়ের পরিমাণ বাড়াতে এমন ছোট ও ব্যতিক্রমী কৌশলও যে কত বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, ফিনিক্সের এই অভিজ্ঞতাই তার প্রমাণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৭:৪৩
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬০, নিখোঁজ সহস্রাধিক; নিখোঁজদের মধ্যে ব্রিটিশ, মার্কিন ও কানাডীয় পর্যটক

প্রবল জল ও কাদার স্রোতে নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ ৩৪ অস্ট্রেলীয় নাগরিক, তাদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছরের দুই শিশুও রয়েছে

উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার ও যাত্রীদের বিরক্ত করার ঘটনায় দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। ছবি: সংগৃহীত

‘যিশুকে বিশ্বাস না করলে নরকে যাবেন’, ফ্লাইটে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার, দুই যাজকের শাস্তি

0 Comments