- প্রচ্ছদ
- Topic
চিকিৎসা
ঢাকার বনশ্রী এলাকার গৃহিণী জোসনা বেগম লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশে চিকিৎসার কথা ভাবছিলেন। ভারতে লিভার ট্রান্সপ্লান্টে প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচের কথা জানতে পেরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হয় পরিবারকে। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে তাঁর লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয়। গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হওয়া ওই অস্ত্রোপচারে জোসনার জন্য নিজের লিভারের একাংশ দান করেন তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ। তিনি এই হাসপাতালে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট কার্যক্রম পুনরায় শুরুর পর প্রথম রোগী। জোসনার অস্ত্রোপচারের পর গত এক বছরে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে মোট ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশে নিয়মিতভাবে এই জটিল চিকিৎসা চালু করার লক্ষ্যেই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আরও চারজন রোগীকে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। বিএমইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রতি মাসে গড়ে দুটি লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করার সক্ষমতা তৈরি করা হবে। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোসনার লিভারের সমস্যা ধরা পড়ে ২০২২ সালে। এরপর তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা লিভার ট্রান্সপ্লান্টের পরামর্শ দেন। পরিবার তখন ভারতের চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেখানে অস্ত্রোপচারের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হতে পারে বলে জানানো হয়। ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে এত বড় অর্থের ব্যবস্থা করা পরিবারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। পরে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকের পরামর্শে জোসনার পরিবার বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে যায়। সেখানে প্রায় তিন ধাপে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও মূল্যায়ন শেষে তাঁর ট্রান্সপ্লান্টের সিদ্ধান্ত হয়। অস্ত্রোপচারের পর জোসনা প্রায় এক মাস হাসপাতালে ছিলেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদ ছিলেন প্রায় ১৫ দিন। পরে দুজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। জোসনা বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন এবং চিকিৎসকদের ফলোআপে রয়েছেন। জোসনার ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দের আওতায় লিভার ট্রান্সপ্লান্টটি বিনামূল্যে করা হয়। তবে পরীক্ষা, ওষুধ ও পরবর্তী চিকিৎসা মিলিয়ে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করাতে যাতায়াত, থাকা ও চিকিৎসাসহ মোট ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে সরকারি সহায়তায় বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে বিএমইউ জানিয়েছে। বিএমইউর ছয়টি ট্রান্সপ্লান্টে ১৯টি বিভাগের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি দল কাজ করেছে। হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়াটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্টেশন সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক বিধান চন্দ্র দাস এবং তাঁর সহকর্মী অধ্যাপক মহসেন চৌধুরী ও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ভারতের হায়দরাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের একটি চিকিৎসক দলও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। বাংলাদেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টের ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। দেশের প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০১০ সালের জুনে বারডেম জেনারেল হাসপাতালে। এরপর আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেও নিয়মিতভাবে এই সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। বিএমইউ প্রথম লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করে ২০১৯ সালে এবং পরবর্তী আরেকটি ট্রান্সপ্লান্ট হয় ২০২৩ সালে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও নিয়মিত সেবা হিসেবে কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বিএমইউর হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ কোনো না কোনো ধরনের লিভার রোগে আক্রান্ত। প্রতি বছর লিভারজনিত রোগে প্রায় ২২ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে তিনি জানান, যাদের বড় একটি অংশ সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় এক হাজার রোগীর লিভার ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে বিএমইউই দেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেখানে এই কার্যক্রম চালু রয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। জোসনার জন্য এই চিকিৎসার অর্থ শুধু বিদেশে যাওয়ার বড় খরচ থেকে বেঁচে যাওয়া নয়, দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগও। অস্ত্রোপচারের পর নিজের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেন জানিয়ে তিনি চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর ছেলে সাজ্জাদও বলেছেন, দেশেই জটিল চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হলে রোগীদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিএমইউর ধারাবাহিক ছয়টি সফল ট্রান্সপ্লান্ট এখন সেই সক্ষমতাকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবায় রূপ দেওয়ার নতুন উদ্যোগের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। সূত্র: ডেইলি স্টার
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে ডোরড্যাশের খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় ২৮ বছর বয়সী এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গুলি করে আহত করেছেন এক আইসিই কর্মকর্তা। ২০ সেপ্টেম্বরের এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি গুরুতর আহত হলেও পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে তার আইনজীবী জানিয়েছেন। আহত ব্যক্তির নাম উইলবার রাফায়েল গার্সেস পেরেজ। তার আইনজীবী কেট লিংকন-গোল্ডফার্ব জানিয়েছেন, গুলির সময় পেরেজ ডোরড্যাশের হয়ে একটি ডেলিভারি দিচ্ছিলেন। ডোরড্যাশও নিশ্চিত করেছে, ঘটনার সময় তিনি একটি ডেলিভারির কাজে ছিলেন। অস্টিন পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উত্তর অস্টিনের অ্যান্ডারসন স্কয়ার এলাকায় দুপুরের দিকে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলি চালানোর আগে একটি গাড়ি ধাওয়া ও পরে পায়ে ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পেরেজের শরীরে একটি গুলি লাগে। স্থানীয় পুলিশ ওই গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিল না। ঘটনার পর পেরেজকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার আইনজীবীর দাবি, চিকিৎসা শেষে তাকে আইসিইর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তার বর্তমান অবস্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না বলেও আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পেরেজের অভিবাসন অবস্থান নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ ছিল। তবে পেরেজের আইনজীবী বলেছেন, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী পেরেজ বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং আগে বৈধ ওয়ার্ক পারমিটও ছিল। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। ঘটনার তদন্তে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে থাকবে এফবিআই। একই সঙ্গে অস্টিনের স্থানীয় কর্মকর্তারাও তদন্তে যুক্ত হতে চান। মেয়র কার্ক ওয়াটসন বলেছেন, স্থানীয় পুলিশের অংশগ্রহণ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ঘটনার সময় গুলির পরিস্থিতি নিয়ে এখনো সব তথ্য প্রকাশ হয়নি। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা প্রাথমিক পর্যায়ে খুব বেশি তথ্য হাতে পায়নি। তাই গুলি চালানোর সুনির্দিষ্ট কারণ, ধাওয়া কীভাবে শুরু হয়েছিল এবং পেরেজের সঙ্গে আইসিই কর্মকর্তাদের ঠিক কী ঘটেছিল - এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। আইসিইর চলমান অভিবাসন অভিযান নিয়ে অস্টিনে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে তদন্তের পদ্ধতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেরেজের অভিবাসন মামলার পাশাপাশি গুলি চালানোর পরিস্থিতিও এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে।
স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়। ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান। ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে। পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
হাসপাতালে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক সেফেপাইম নিয়ে নতুন এক গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একই শ্রেণির কিছু অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইম গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির হার কিছুটা বেশি ছিল। জেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত এই গবেষণায় ১১০টি র্যান্ডমাইজড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় ২২ হাজারের বেশি রোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ই ছিলেন। নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, মেনিনজাইটিসসহ বিভিন্ন গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। গবেষণায় সেফেপাইম গ্রহণকারী ১১ হাজার ৭২৬ রোগীর মধ্যে ৭৭৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। অন্য অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ। চিকিৎসা শুরুর প্রায় ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন কারণে ঘটে যাওয়া প্রাণহানির তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। বেইজিয়ান মেটা-অ্যানালাইসিসে গবেষকেরা দেখেছেন, অন্যান্য বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় সেফেপাইমের সঙ্গে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শুধু পিয়ার-রিভিউ হওয়া ৭৩টি প্রকাশিত গবেষণা নিয়ে বিশ্লেষণ করলে এই সম্ভাবনা বেড়ে ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশ হয়। তবে গবেষণাটি সেফেপাইম সরাসরি প্রাণহানির কারণ—এমন প্রমাণ দেয়নি। গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্লেষণে ওষুধটির ব্যবহার এবং প্রাণহানির মধ্যে একটি সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গবেষণাগুলোর নকশা, রোগীদের ধরন, ওষুধের মাত্রা এবং তুলনা করা অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে পার্থক্য থাকায় গবেষণাটির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সম্পর্ক শিশুদের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে শ্বেত রক্তকণিকার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাওয়া ‘ফিব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া’তে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এই সম্পর্ক বেশি ছিল। তবে এসব রোগীর মূল শারীরিক অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় প্রাণহানির পেছনে ওষুধের ভূমিকা আলাদাভাবে নির্ধারণ করা কঠিন বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। গুরুতর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় সেফেপাইম এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গবেষকেরা সেফেপাইম ব্যবহার বন্ধ করার সুপারিশ করেননি। বরং ওষুধটির নিরাপত্তা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পেতে অতিরিক্ত গবেষণা এবং চিকিৎসকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট নির্দেশনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন। গবেষণায় ওষুধের মাত্রার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। মাত্রা খুব কম হলে সংক্রমণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ নাও হতে পারে। আবার মাত্রা বেশি হলে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি ও কিডনির সমস্যায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি, চেতনা কমে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। গবেষকদের মতে, রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেফেপাইমের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বেশি মাত্রা ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হলেও এতে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফক্স নিউজের সঙ্গে কথা বলার সময় গবেষণায় অংশ না নেওয়া চিকিৎসক মার্ক সিগেলও পুরোনো গবেষণাগুলো নতুন করে বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে মূল অসুস্থতা, ওষুধের মাত্রা এবং চিকিৎসার ফলাফল—সবকিছু আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন। ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে। আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না। চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন। সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।
নিউইয়র্কে স্বাস্থ্যবিমা না থাকলেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা চিকিৎসার খরচ বহনের সক্ষমতা না থাকলেও নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা পাওয়া যায়। সিটির অভিবাসী বিষয়ক দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা হলো এনওয়াইসি কেয়ার। এটি কোনো স্বাস্থ্যবিমা নয়। যারা মেডিকেইড বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নেই কিংবা বিমার খরচ বহন করতে পারেন না, তাদের জন্য নিউইয়র্ক সিটির এই কর্মসূচির মাধ্যমে কম খরচে বা বিনা খরচে স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এনওয়াইসি কেয়ারের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ, টিকা এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যায়। পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে চিকিৎসার খরচ নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে কোনো খরচ ছাড়াই সেবা পাওয়া সম্ভব। এ কর্মসূচির জন্য কোনো মাসিক সদস্য ফি বা প্রিমিয়াম দিতে হয় না। এনওয়াইসি কেয়ারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান জানতে চাওয়া হয় না। তবে আবেদনকারীর নিউইয়র্ক সিটিতে বসবাস, পরিচয়, পরিবারের আয় ও সদস্যসংখ্যা সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে ৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাসপাতাল ও বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রেও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা না থাকলে কিংবা প্রয়োজনীয় বিমার খরচ বহন করতে না পারলে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করা যায়। হাসপাতালের আর্থিক পরামর্শদাতার সঙ্গে কথা বললে নিজের যোগ্যতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। ম্যানহাটানে স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এনওয়াইসি ফ্রি ক্লিনিকও একটি বিকল্প। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত এই ক্লিনিকে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের বিনা খরচে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ১৬ ইস্ট ১৬তম স্ট্রিটে অবস্থিত এই ক্লিনিকে সাধারণত আগে থেকে সময় নিতে হয়। যাওয়ার আগে বর্তমান সময়সূচি ও রোগী গ্রহণের নিয়ম নিশ্চিত করা উচিত। ইস্ট হারলেম এলাকায় মাউন্ট সিনাইয়ের ইস্ট হারলেম হেলথ আউটরিচ পার্টনারশিপও স্বাস্থ্যবিমাহীন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনামূল্যের চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি কিছু বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। নিউইয়র্কে আরও কিছু শিক্ষার্থী পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টেকের পিলার্স এনওয়াইসি কমিউনিটি ফ্রি ক্লিনিক হারলেম এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়। স্বাস্থ্যবিমা না থাকা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থানও এসব সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা নয়। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগের যৌনস্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলো থেকেও কম খরচে বা বিনা খরচে চিকিৎসা নেওয়া যায়। ১২ বছর বা তার বেশি বয়সীরা অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি পরীক্ষা এবং চিকিৎসা, এইচআইভি প্রতিরোধের ওষুধ, জরুরি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, জন্মনিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন সেবা নিতে পারেন। অধিকাংশ সেবা সরাসরি গিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। টিকা ও যক্ষ্মা চিকিৎসার জন্যও সিটির আলাদা ক্লিনিক রয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদান কেন্দ্রে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নির্বিশেষে কম খরচে বা বিনা খরচে কিছু টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিনা খরচে যক্ষ্মা পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। কুইন্সসহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় থাকা প্রবাসীদের জন্য প্রথমে কাছের সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসাকেন্দ্রে গিয়ে আর্থিক সহায়তা বিভাগের সঙ্গে কথা বলা ভালো। সেখানে এনওয়াইসি কেয়ার, আর্থিক সহায়তা কিংবা অন্য কোনো স্বাস্থ্যবিমার জন্য আপনি যোগ্য কি না, তা যাচাই করে দেওয়া যেতে পারে। তবে জীবন-ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কম খরচের ক্লিনিকের জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান বা অর্থ দেওয়ার সক্ষমতা নির্বিশেষে জরুরি চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। গুরুতর অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৯১১ নম্বরে কল করে নিকটস্থ জরুরি বিভাগে যেতে হবে। প্রবাসীদের আরও একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। স্বাস্থ্যসেবা ও অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ না করে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা সিটি পরিচালিত আইনি সহায়তা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। চিকিৎসাকেন্দ্রে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ সময়সূচি, সেবার ধরন, যোগ্যতার শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।
বংশগত গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে যুক্তরাজ্যে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত আটটি শিশু জন্ম নিয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতিকে বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের মানব নিষেক ও ভ্রূণবিজ্ঞান নিয়ন্ত্রক সংস্থা এইচএফইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টের জন্য ৩৫ জন রোগীকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৫ জন প্রোনিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতির চিকিৎসা নিয়েছেন। এই চিকিৎসার লক্ষ্য হলো মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ায় থাকা ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন সন্তানের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো। মাইটোকন্ড্রিয়া মানুষের প্রায় সব কোষে থাকা ক্ষুদ্র কাঠামো, যা কোষের প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাইটোকন্ড্রিয়ার জিনে ক্ষতিকর পরিবর্তন থাকলে গুরুতর ও কখনও প্রাণঘাতী রোগ হতে পারে। এসব রোগ মায়ের মাধ্যমে সন্তানের মধ্যে বংশগতভাবে যেতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশন ট্রিটমেন্টে মা ও বাবার মূল জিনগত উপাদানের সঙ্গে একজন সুস্থ নারী ডোনারের ডিম্বাণু থেকে নেওয়া সুস্থ মাইটোকন্ড্রিয়া ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী মায়ের পারমাণবিক জিনগত উপাদান এমন একটি ডোনার ডিম্বাণুতে স্থানান্তর করা হয়, যার নিজস্ব পারমাণবিক জিনগত উপাদান আগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর শুক্রাণু ব্যবহার করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। এ কারণেই এ ধরনের শিশুকে অনেক সময় গণমাধ্যমে ‘থ্রি-প্যারেন্ট বেবি’ বলা হয়। তবে বৈজ্ঞানিক ও আইনগত অর্থে ডোনারকে শিশুটির তৃতীয় অভিভাবক হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ডোনারের অবদান মূলত মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ পর্যন্ত সীমিত এবং এটি শিশুর মোট জিনগত উপাদানের ১ শতাংশেরও কম। এই চিকিৎসা বিশেষভাবে তাঁদের জন্য, যাঁদের গুরুতর মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগ সন্তানের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি। যুক্তরাজ্যে প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রে আলাদাভাবে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এটি সাধারণ আইভিএফ চিকিৎসার মতো সবার জন্য উন্মুক্ত কোনো পদ্ধতি নয়। যুক্তরাজ্য ২০১৫ সালে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডোনেশনকে নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হয়। দেশটির আইন অনুযায়ী, অনুমোদিত ক্লিনিকগুলোকে প্রতিটি চিকিৎসার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। বর্তমানে নিউক্যাসল ফার্টিলিটি সেন্টার অ্যাট লাইফ এই চিকিৎসা পরিচালনার জন্য যুক্তরাজ্যের একমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত কেন্দ্র। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা এখনো এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন। এইচএফইএ জানিয়েছে, পদ্ধতিটি তুলনামূলকভাবে নতুন হওয়ায় ঝুঁকি ও সফলতার হার সম্পর্কে প্রমাণ এখনো সীমিত। জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বাস্থ্য ও বিকাশ পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই সাফল্য গুরুতর বংশগত মাইটোকন্ড্রিয়াল রোগে আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য নতুন আশার পথ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এই প্রযুক্তির প্রভাব, নিরাপত্তা এবং জিনগত চিকিৎসার নৈতিক সীমা নিয়ে গবেষণা ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের জন্য চিকিৎসা পেশাজীবী নিয়োগ দিচ্ছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর। বর্তমানে নিবন্ধিত নার্স এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদে যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। বিদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ও সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামোর পরিবেশে কাজ করতে হবে এসব পদে। নিবন্ধিত নার্স পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সেবার চিকিৎসা দলের অংশ হিসেবে বিদেশি কর্মস্থলে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেবেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন, আঘাতজনিত রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও টিকা দেওয়া, হাসপাতালে রোগী দেখানো, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়া দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করাও তাঁদের দায়িত্বের অংশ। এসব নার্সকে সপ্তাহের সাত দিন, ২৪ ঘণ্টা জরুরি দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এই পদের বার্ষিক বেতন ৮২ হাজার ৪৫০ থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৮০ ডলার। এটি পূর্ণকালীন ও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক নিয়োগের মেয়াদ ১৮ মাস হলেও কর্মদক্ষতা ও দপ্তরের প্রয়োজন অনুযায়ী তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। বর্তমানে ইরাক, পাকিস্তান ও হাইতিসহ উচ্চঝুঁকির কিছু কর্মস্থলে এসব নার্স নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। নিবন্ধিত নার্স পদে আবেদনকারীর অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি স্বীকৃত নার্সিং শিক্ষাক্রম থেকে কমপক্ষে দুই বছরের ডিগ্রি, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য বা কলাম্বিয়া জেলায় বৈধ নিবন্ধিত নার্স লাইসেন্স এবং বর্তমান মৌলিক জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। গত ছয় বছরের মধ্যে অন্তত পাঁচ বছর নিবন্ধিত নার্স হিসেবে সরাসরি রোগীসেবার অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন। অন্যদিকে, চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদটি আরও বিশেষায়িত। এই পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা এবং চিকিৎসা সুরক্ষা দলের অংশ হিসেবে কাজ করবেন। গুরুতর আহত ব্যক্তিকে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা দেওয়া, দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা হামলার পর জরুরি চিকিৎসা দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে স্থল, সমুদ্র বা আকাশপথে রোগী সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করা তাঁদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে। এই চাকরিতে সাধারণ হাসপাতালের কাজের তুলনায় ঝুঁকি বেশি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সীমিত চিকিৎসা অবকাঠামো, চরম আবহাওয়া কিংবা দুর্গম এলাকায় কাজ করতে হতে পারে। দায়িত্ব পালনের সময় অস্ত্র বহন করতে হবে এবং উচ্চঝুঁকির পরিবেশে বিশেষ কৌশলগত প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ব্যবহারের দক্ষতা বজায় রাখতে হবে। চিকিৎসা সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ পদের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৩ থেকে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪২৭ ডলার। এটিও সীমিত মেয়াদের বৈদেশিক সেবা নিয়োগ। প্রাথমিক মেয়াদ ১৮ মাস হলেও তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এই পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, বৈধ ইউএস ড্রাইভার লাইসেন্স থাকা এবং সর্বোচ্চ গোপনীয়তার বিশেষ নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জরুরি চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ নিবন্ধন সংস্থার প্যারামেডিক সনদ, মৌলিক জীবন রক্ষা এবং উন্নত হৃদ্যন্ত্র জীবন রক্ষা প্রশিক্ষণের সনদ প্রয়োজন। জরুরি বা সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসায় কমপক্ষে দুই বছরের প্যারামেডিক অভিজ্ঞতাও চাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নিয়োগ মূলত দেশটির নাগরিকদের জন্য। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী এবং কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে চিকিৎসা ও জরুরি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন পেশাজীবীদের জন্য এটি বৈদেশিক সেবায় কাজের সুযোগ তৈরি করছে। এসব পদে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, ফেডারেল অবসর সুবিধা এবং বেতনসহ ছুটির মতো বিভিন্ন সুযোগও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়সে পৌঁছালেই সরকার বিনা শর্তে টাকা, বাড়ি ও চিকিৎসার সব খরচ বহন করে, এমন ধারণা ঠিক নয়। তবে ২০২৬ সালে সিনিয়রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার, সম্পূরক নিরাপত্তা আয়, মেডিকেড, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সহায়তা এবং কর সুবিধাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি রয়েছে। প্রতিটি সুবিধা পাওয়ার জন্য আলাদা যোগ্যতা, আয়, কাজের ইতিহাস ও অভিবাসন-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে। প্রথম বড় সুবিধা হলো সামাজিক নিরাপত্তা অবসর ভাতা। যোগ্য ব্যক্তিরা ৬২ বছর বয়স থেকেই এই সুবিধা নেওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ৬২ বছর বয়সে নিলে মাসিক ভাতার পরিমাণ কমে যায়। ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পূরক নিরাপত্তা আয়ে ২ দশমিক ৮ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় যোগ হয়েছে। এতে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক ভাতা প্রায় ৫৭ ডলার বেড়ে ২ হাজার ৭১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই সুবিধার জন্য সাধারণত কাজ করে পর্যাপ্ত সামাজিক নিরাপত্তা ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। ২০২৬ সালে একটি ক্রেডিট পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ আয় প্রয়োজন। বেশিরভাগ মানুষের অবসর ভাতার জন্য ৪০টি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়। পূর্ণ অবসরের বয়স জন্মসাল অনুযায়ী ৬৬ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে। তাই ৬৫ বছর হলেই সবাই একই পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাবেন, এমন নয়। দ্বিতীয় বড় সুবিধা হলো মেডিকেয়ার। সাধারণত ৬৫ বছর বয়সে মেডিকেয়ারের জন্য যোগ্য হওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ কর্মজীবনে যথেষ্ট মেডিকেয়ার কর দেওয়ার কারণে হাসপাতালভিত্তিক পার্ট এ-এর জন্য মাসিক প্রিমিয়াম দেন না। তবে পার্ট বি বিনামূল্যে নয়। ২০২৬ সালে এর স্ট্যান্ডার্ড Part B মাসিক প্রিমিয়াম ২০২ দশমিক ৯০ ডলার এবং বার্ষিক কর্তনযোগ্য অর্থ ২৮৩ ডলার। আয় বেশি হলে পার্ট বি-এর প্রিমিয়াম আরও বাড়তে পারে। মেডিকেয়ারের পার্ট এ মূলত হাসপাতালসহ নির্দিষ্ট রোগী ভর্তি চিকিৎসা কভার করে। পার্ট বি চিকিৎসক ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা কভার করে এবং পার্ট ডি প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচে সহায়তা করে। কম আয়ের মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য চিকিৎসা ব্যয় কমাতে আলাদা সহায়তা কর্মসূচিও রয়েছে। তবে ৬৫ বছর পূর্ণ হলেই সব ধরনের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যায় না। তৃতীয় সুবিধা হলো সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, অন্ধ বা প্রতিবন্ধী এবং খুব কম আয় ও সীমিত সম্পদের মানুষ এই সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। ২০২৬ সালে ফেডারেল পর্যায়ে এসএসআই-এর সর্বোচ্চ মাসিক হার একজনের জন্য ৯৯৪ ডলার এবং যোগ্য দম্পতির জন্য ১ হাজার ৪৯১ ডলার। তবে আয়, সম্পদ ও অন্যান্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ কম হতে পারে। চতুর্থ সুবিধা হলো মেডিকেড। কম আয়ের সিনিয়রদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। তবে মেডিকেডের যোগ্যতা ও সুবিধা অঙ্গরাজ্যভেদে আলাদা। কোথাও দাঁতের চিকিৎসা বা চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা থাকতে পারে, আবার কোথাও নিয়ম ভিন্ন। তাই শুধু ৬৫ বছর বয়স হলেই মেডিকেড পাওয়া যায় না। পঞ্চম সুবিধা হলো খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি বা এসএনএপি, যা অনেকের কাছে ফুড স্ট্যাম্প নামে পরিচিত। যোগ্য নিম্ন আয়ের সিনিয়ররা খাবার কেনার জন্য এই সহায়তা পেতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরে ৪৮টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একজনের পরিবারের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক এসএনএপি বরাদ্দ ২৯৮ ডলার। তবে প্রকৃত সুবিধার পরিমাণ পরিবারের আয় ও অন্যান্য তথ্যের ওপর নির্ভর করে। ষষ্ঠ সুবিধা হলো আবাসন সহায়তা। সেকশন ৮ বা হাউজিং চয়েস ভাউচার কর্মসূচিতে নিম্ন আয়ের পরিবার, সিনিয়র, সাবেক সেনাসদস্য এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যোগ্য হতে পারেন। তবে সরকার সবার রেন্টের নির্দিষ্ট ৭০ শতাংশ দিয়ে দেয়, এমন কোনো সাধারণ নিয়ম নেই। পরিবারের আয়, সদস্যসংখ্যা ও স্থানীয় নিয়মের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। অনেক এলাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকায়ও থাকতে হয়। সপ্তম গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার মধ্যে রয়েছে সিনিয়রদের জন্য অতিরিক্ত ফেডারেল কর ছাড়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য করদাতারা ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের করবর্ষে জনপ্রতি অতিরিক্ত ৬ হাজার ডলার কর ছাড় দাবি করতে পারেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যোগ্য হলে যৌথভাবে এই অতিরিক্ত কর ছাড় ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমা অতিক্রম করলে সুবিধাটি ধীরে ধীরে কমে যায়। এ ছাড়া ৬২ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিন নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য জাতীয় উদ্যানের আজীবন সিনিয়র পাস রয়েছে। ২০২৬ সালে এই পাসের দাম ৮০ ডলার। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট ফেডারেল বিনোদনমূলক এলাকায় প্রবেশ ফি ও কিছু সুবিধায় ছাড় পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৫ বছর বয়স সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হলেও এটি কোনোভাবেই ‘সবকিছু ফ্রি’ পাওয়ার বয়স নয়। কোন সুবিধা পাওয়া যাবে, কত টাকা পাওয়া যাবে বা কতটা খরচ কমবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির কাজের ইতিহাস, আয়, সম্পদ, অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান, বসবাসের অঙ্গরাজ্য এবং পারিবারিক পরিস্থিতির ওপর। তাই কোনো কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার আগে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ৪০ বছর বয়সী রিস উইলার্ড প্রথমে বুঝতেই পারেননি, তার শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধছে গুরুতর এক রোগ। কয়েক মাস ধরে ক্লান্তি, রাতে অতিরিক্ত ঘাম ও দ্রুত ওজন কমার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও সেগুলোকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। কিন্তু হঠাৎ শরীরজুড়ে বড় বড় কালশিটে দেখা দেওয়ার পর রক্ত পরীক্ষা করাতেই সামনে আসে ভয়ংকর সত্য—তিনি অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত। ডালাসে স্ত্রী সারাহ উইলার্ড ও মেয়েকে নিয়ে থাকেন রিস। কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড ক্লান্তিতে ভুগছিলেন তিনি। রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাতে গেলেও ক্লান্তি কাটছিল না। পরে শুরু হয় রাতে অতিরিক্ত ঘাম, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া এবং ত্বকে ছোট ছোট লাল দাগ। শুরুতে এসব উপসর্গ খুব একটা গুরুতর মনে হয়নি। একদিন রিসের শরীরের পাশে বেশ কিছু লাল দাগ দেখতে পান তার স্ত্রী। গ্লাস দিয়ে চাপ দিয়ে দেখে ওই জায়গার ছবি তোলেন তিনি। পরে ছবিটি চ্যাটজিপিটিতে দিলে সেটি দাগগুলোকে ‘পিটেকিয়া’ হতে পারে বলে জানায়। ছোট রক্তনালি থেকে ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হলে এমন লাল দাগ দেখা দিতে পারে। তবে তখনও বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত হননি তারা। পরিস্থিতি বদলে যায় প্রায় ছয় সপ্তাহ পর। রিস নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও আউটডোর কার্যক্রম করতে পছন্দ করেন। একবার ২৭ মাইল বা প্রায় ৪৩ কিলোমিটার হাঁটার পর বাড়ি ফিরে তার শরীরজুড়ে বিশাল বিশাল কালশিটে দেখতে পান সারাহ। মুষ্টির সমান আকারের এসব কালশিটে ছিল তার হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে। সারাহ বলেন, এতটা শারীরিক পরিশ্রমের পরও এমন কালশিটে হওয়া স্বাভাবিক নয়। তখনই বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর আগের চ্যাটজিপিটি কথোপকথনে রিসের নতুন উপসর্গের কথা জানান সারাহ। এবার দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিস হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা তার সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফল হাতে পেয়েই তারা বুঝতে পারেন, পরিস্থিতি গুরুতর। তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে আরও পরীক্ষা শুরু করা হয়। পরদিন একজন ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রিসকে জানান, তার শ্বেত রক্তকণিকার ৮৭ শতাংশই মাইলোব্লাস্ট। এটি লিউকেমিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। পরে বোন ম্যারো বা অস্থিমজ্জার পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়, রিস অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। এএমএল একটি দ্রুতগতির রক্তের ক্যানসার। এই রোগে ক্লান্তি, জ্বর, ওজন কমে যাওয়া ও রাতে ঘামের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রক্তের বিভিন্ন কোষের মাত্রা কমে গেলে সহজেই কালশিটে পড়া, বারবার সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টও হতে পারে। রিসকে পরে বেইলর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর শুরু হয় চিকিৎসা। একপর্যায়ে তিনি সেপটিক শকেও আক্রান্ত হন। এএমএলের চিকিৎসায় তাকে অত্যন্ত শক্তিশালী কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। এতে তার রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা আরও কমে যায় এবং প্রচণ্ড ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তবে চিকিৎসায় সাড়া দিয়েছেন রিস। বর্তমানে তিনি গভীর রেমিশনে রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে তার রক্তের মাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরছে। টানা ৩০ দিন হাসপাতালে থাকার পর অবশেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। এক মাস পর স্বামীকে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি সারাহ। এই অভিজ্ঞতার পর রিসের জীবন সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে গেছে। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি অন্যদের শরীরের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার পরামর্শ, জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শরীরের সংকেতগুলো যেন কেউ উপেক্ষা না করেন। অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে জিনগতভাবে পরিবর্তিত (জিন-এডিটেড) শূকরের কিডনি নিয়ে রেকর্ড ২৭১ দিন বেঁচে থাকার নতুন ইতিহাস গড়েছেন টিম অ্যান্ড্রুজ (৬৬) নামের এক ব্যক্তি। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের এই প্রক্রিয়াটি ‘জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন’ (Xenotransplantation) নামে পরিচিত। নতুন এক গবেষণাপত্রে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে অ্যান্ড্রুজের শরীরে এই কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় নয় মাস তাকে কোনো ডায়ালাইসিস নিতে হয়নি। পরবর্তীতে কিডনিটির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলে গত ২৩ অক্টোবর সেটি অপসারণ করে তাকে পুনরায় ডায়ালাইসিসে নেওয়া হয়। অবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সফলভাবে একজন মানব দাতার কিডনি গ্রহণ করেন। ম্যাস জেনারেল ব্রিগহ্যামের ট্রান্সপ্লান্টেশন সায়েন্সেস সেন্টারের প্রধান ও গবেষণাপত্রের মূল লেখক ড. লিওনার্দো রিয়েলা জানান, টিম অ্যান্ড্রুজের এই ঘটনা কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের জন্য একটি অভাবনীয় মাইলফলক। বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ১ লাখেরও বেশি মানুষ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগেরই কিডনি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত মানব অঙ্গের অভাবে প্রতি বছর অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। গবেষকদের মতে, মানব কিডনি পাওয়ার আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ডায়ালাইসিসের কষ্ট থেকে রোগীদের সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে জেনোট্রান্সপ্লান্টেশন একটি যুগান্তকারী সমাধান হতে পারে। ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করা গেলে এটি হয়তো স্থায়ী চিকিৎসায়ও পরিণত হতে পারে। এর আগে অন্য প্রাণীর অঙ্গ মানবদেহে প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টাগুলো খুব বেশি দিন সফল হয়নি। ২০২৪ সালে ম্যাস জেনারেল হাসপাতালেই শূকরের কিডনি গ্রহণকারী প্রথম রোগী ৫২ দিন বেঁচে থাকার পর মারা যান, তবে তার মৃত্যুর কারণ ট্রান্সপ্লান্ট-সংক্রান্ত ছিল না। এরপর গত বছর আলাবামার এক নারীর শরীরে শূকরের কিডনি ১৩০ দিন টিকে থাকার রেকর্ড গড়েছিল। অ্যান্ড্রুজ এবার সেই রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। চিকিৎসকরা এই অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অ্যান্ড্রুজসহ গবেষণায় অংশ নেওয়া সাহসী রোগীদের 'প্রকৃত অগ্রদূত' হিসেবে আখ্যায়িত করে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসা সেবায় অর্থই যে সব নয়, মানবিকতাই যেখানে মুখ্য—এমনই এক অনন্য ও হৃদয়স্পর্শী ঘটনার সাক্ষী হলো বলিভিয়া। গুরুতর প্রস্টেটের সমস্যায় আক্রান্ত এক বয়স্ক কৃষকের জীবন বাঁচাতে কোনো প্রকার ফি ছাড়াই বিনামূল্যে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন এক মানবিক চিকিৎসক। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মুহূর্তে সেই চিকিৎসককে উপহার দেওয়ার মতো কোনো টাকা বা মূল্যবান সম্পদ কৃষকের ছিল না। তাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্বল দুটি পোষা মুরগি চিকিৎসকের হাতে তুলে দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। অসুস্থতার তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ওই কৃষক যখন হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন চিকিৎসকরা জানান অবিলম্বে তার অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থাভাবে জর্জরিত কৃষকের পক্ষে সেই ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানো একেবারেই অসম্ভব ছিল। অসহায় কৃষকের এমন করুণ পরিস্থিতি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক। বরং নিঃস্বার্থভাবে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই সফলভাবে তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। নতুন জীবন ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতায় আপ্লুত হয়ে পড়েন ওই কৃষক। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর ধন্যবাদ জানাতে দুটি পোষা মুরগি নিয়ে চিকিৎসকের সামনে হাজির হন তিনি। কৃষকের এই সরল ও অকৃত্রিম উপহার দেখে চিকিৎসকও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে চিকিৎসক জানান, তার প্রয়াত বাবাও একসময় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা করতেন। তখন অনেক রোগী অর্থের সংস্থান করতে না পেরে পরম ভালোবাসায় মুরগি, ডিম কিংবা নিজেদের ফলানো কৃষিপণ্য দিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন। দুটি মুরগির আর্থিক মূল্য হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু নিঃস্ব একজন কৃষকের হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতার কাছে তা যেকোনো মূল্যবান উপহারের চেয়েও অনন্য হয়ে উঠেছে।
ভয়াবহ হোটেল অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতা প্রশাসনের নিরাপত্তা অভিযানে একের পর এক কম খরচের হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসার জন্য শহরটিতে যাওয়া বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা বড় আবাসন সংকটে পড়েছেন। অনেককে আগের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে, আবার কেউ কেউ হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাই খুঁজে পাচ্ছেন না। গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ আগুনে নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। আগুনের পর কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন, দমকল বিভাগ ও পুলিশ শহরের হোটেল-গেস্টহাউসগুলোতে নিরাপত্তা ও অনুমোদন যাচাই শুরু করে। এরপরই শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ২২ আগস্টের মধ্যে কেন্দ্রীয় কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ হয়ে যায় বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। পরে অভিযান আরও বিস্তৃত হয় এবং দ্য ডেইলি স্টারের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতাজুড়ে ১০০টির বেশি হোটেল ও গেস্টহাউস বন্ধ হয়েছে অথবা বন্ধ হওয়ার মুখে রয়েছে। বাংলাদেশিদের জনপ্রিয় আবাসিক এলাকাতেই বেশি চাপ নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, লিন্ডসে স্ট্রিট, কলিন লেন ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো এলাকাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি রোগী, স্বজন ও পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয়। কারণ, এসব এলাকায় তুলনামূলক কম দামে থাকার জায়গা পাওয়া যেত এবং হাসপাতাল, ফার্মেসি, রেস্তোরাঁ ও যাতায়াতের সুবিধাও কাছাকাছি। হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই কম খরচের আবাসনের বড় অংশই হারিয়ে গেছে। ফলে অবশিষ্ট হোটেলগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং সঙ্গে বাড়ছে ভাড়াও। টিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশি এক ব্যবসায়ী জানান, আগে তিনি যে হোটেলে প্রতি রাত ৯০০ রুপি দিতেন, বিকল্প হোটেলগুলোতে এখন ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ রুপি পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা নিতে এসে হোটেলই বন্ধ সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া রোগীরা। টিবিএস জানিয়েছে, ঢাকার উত্তরা থেকে যাওয়া দুই বোনের একজন ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা নিয়মিত যে হোটেলে থাকতেন, সেটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজতে হয়। তাদের চিকিৎসার একটি রিপোর্ট পাওয়ার কথা ছিল ৮ সেপ্টেম্বর এবং পরদিন দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। আরেক বাংলাদেশি পরিবার তাদের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানের ফলোআপ চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়ে দেখেন, আগে থেকে বুক করা হোটেলটিই বন্ধ হয়ে গেছে। তারা ১ হাজার রুপির মধ্যে থাকার জায়গা খুঁজছিলেন, কিন্তু ওই এলাকায় এমন কক্ষ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ক্যানসার রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি ও একাধিকবার হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় হাসপাতালের কাছাকাছি থাকা অনেক সময় অপরিহার্য। দূরের হোটেলে চলে গেলে প্রতিদিনের যাতায়াত যেমন বাড়ে, তেমনি অসুস্থ রোগীর শারীরিক কষ্টও বাড়ে। শুধু নিউ মার্কেট নয়, সংকট ছড়িয়েছে মুকুন্দপুরেও অভিযানের প্রভাব এখন শুধু নিউ মার্কেট এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই। দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকাতেও কয়েকটি হোটেল বন্ধের নির্দেশ পেয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ মার্কেট থেকে সরে যাওয়া অনেক বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজন মুকুন্দপুরের হোটেলগুলোতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও অভিযান শুরু হওয়ায় তাদের কেউ কেউ বেশি ভাড়ার বাণিজ্যিক হোটেলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ চিকিৎসার ফলোআপ শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরার কথা ভাবছেন। অভিযানে যেসব সমস্যার কথা সামনে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে ধোঁয়া ও তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থা না থাকা, অ্যালার্মের ঘাটতি এবং জরুরি বের হওয়ার পথ না থাকা। কেন এত বড় অভিযান? এই অভিযানের পেছনে রয়েছে ১৯ আগস্টের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। তদন্তে উঠে এসেছে, শিখা ইন যে ভবনে ছিল সেখানে একাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ছিল। ভবনটির ভেতরে ঘনবসতিপূর্ণ ও সংকীর্ণ ব্যবস্থাপনার কারণে আগুনের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হলেও নয়জনের মৃত্যু হয়। পুলিশের তদন্তে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, হোটেলটির বৈধ ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট ছিল না এবং দ্বিতীয় তলায় থাকা অতিথিদের জন্য জরুরি বের হওয়ার পথও ছিল না বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলের লিজধারী আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মালিক বীরেশ্বর মিত্রকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে বৈদ্যুতিক ত্রুটি, অবহেলা ও অগ্নিনিরাপত্তা ঘাটতির মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা দরকার, কিন্তু বিকল্প কোথায়? হোটেলগুলোর নিরাপত্তা যাচাই ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি নেই। কিন্তু একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক বাজেট হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে স্থানীয় ব্যবসায়ী রমেন মল্লিক প্রশ্ন তুলেছেন, ১০ থেকে ১৫ দিনের চিকিৎসার জন্য যারা কলকাতায় আসেন, হঠাৎ তাদের থাকার জায়গা বন্ধ হয়ে গেলে দায়িত্ব নেবে কে? তার মতে, হোটেল বন্ধ করার আগে বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে পরিবহন ব্যবসায়ী সোনা সাহার মতে, দীর্ঘমেয়াদে অভিযান ইতিবাচক ফল দিতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হোটেলগুলো চিহ্নিত করে নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি রোগী ও পর্যটকরাই বেশি উপকৃত হবেন। বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সতর্কতা পরিস্থিতির মধ্যে কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করেছে। চিকিৎসা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কলকাতা যাওয়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেটি তখনও চালু আছে কি না, কক্ষ পাওয়া যাবে কি না এবং হাসপাতাল থেকে দূরত্ব কত - এসব যাচাই করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন শুধু কলকাতায় যাওয়ার টিকিট ও চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেই হচ্ছে না। হোটেলটি বাস্তবে চালু আছে কি না এবং সেখানে গিয়ে থাকা যাবে কি না - সেটিও আগে নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে কলকাতা প্রশাসনের অভিযান চলছে, অন্যদিকে সেই অভিযানের কারণে সাশ্রয়ী থাকার জায়গা হারিয়ে চিকিৎসা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিরা পড়েছেন নতুন সংকটে। এখন বড় প্রশ্ন - ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল বন্ধের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা কত দ্রুত করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের চার সন্তানের মা কাইলি গ্রাইমস এক রাতে ৯১১-এ ফোন করেছিলেন সন্তানদের কোনো জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতির জন্য নয়, নিজের ভেঙে পড়ার মুহূর্তে সাহায্য চেয়ে। দীর্ঘদিনের ঘুমের ঘাটতি, একসঙ্গে দুই সন্তানের টাইপ ১ ডায়াবেটিসের যত্ন এবং চার সন্তান সামলানোর চাপের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, আর একা সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই রাতে। সেদিন স্বামী কাইল কাজে থাকায় সন্তানদের নিয়ে বাড়িতে একাই ছিলেন কাইলি। এর আগের কয়েক মাসে পরিবারের ওপর একের পর এক চাপ তৈরি হয়। তাদের ছোট ছেলে নোবেলের বয়স যখন মাত্র সাত মাস, তখন তার টাইপ ১ ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এর ৬৩ দিন পর একই রোগে আক্রান্ত হয় তাদের ছয় বছর বয়সী মেয়ে গোল্ডিও। পরিবারের আগে এমন রোগের ইতিহাস ছিল না। দুই সন্তানের ডায়াবেটিসের যত্ন নিতে গিয়ে কাইলির ঘুম ও বিশ্রাম প্রায় হারিয়ে যায়। ছোট সন্তানের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ওষুধ ও খাবারের হিসাবসহ প্রতিদিনের নানা দায়িত্ব তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। ৩১ জুলাই রাতেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সন্তানরা রাতের খাবারের জন্য অপেক্ষা করছিল। এর মধ্যেই ছোট নোবেল একটি ঘরের গাছের টবের মাটি মুখে নিয়ে ফেললে কাইলি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরও তিনি বুঝতে পারেন, মানসিকভাবে তিনি আর স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। কাইলি প্রথমে স্বামীকে ফোন করে সাহায্য চান। কিন্তু তিনি তখনও প্রায় ৩০ মিনিট দূরে ছিলেন। একপর্যায়ে কাইলি ৯১১-এ ফোন করেন। ডিসপ্যাচার জানতে চান, জরুরি পরিস্থিতি কী। কাইলি বলেন, তিনি আর পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না, তিনি ভীষণ চাপে আছেন এবং সাহায্য প্রয়োজন। এরপর যখন আবার জানতে চাওয়া হয়, আসল জরুরি বিষয়টি কী, তখন তার উত্তর ছিল, “আমাকে ইমারজেন্সি বাঁচান'।” কাইলি স্পষ্ট করে জানান, তিনি নিজেকে বা সন্তানদের ক্ষতি করতে যাচ্ছেন না। তিনি শুধু বুঝতে পেরেছিলেন যে তার জরুরি সহায়তা প্রয়োজন এবং সন্তানদের নিরাপদ রাখার জন্যও তাকে কিছুটা সহায়তা নিতে হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন পুলিশ অফিসার বাড়িতে পৌঁছান। পরে অন্য ফার্স্ট রেসপন্ডাররাও আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তাকে একজন সোশ্যাল ওয়ার্কারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। এই ঘটনার পর কাইলি পরিবার ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে আরও সহায়তা নিতে শুরু করেন। পরে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানের যত্ন নিতে গিয়ে কোনো মা বা কেয়ারগিভার মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে সেটিকে লুকিয়ে রাখার বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। কাইলির অভিজ্ঞতা বিশেষ করে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান বা পরিবারের সদস্যের অতিরিক্ত যত্নের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, সাহায্যের প্রয়োজন হওয়া ব্যর্থতার লক্ষণ নয়। বরং নিজের সীমা বুঝে সময়মতো সহায়তা চাওয়াও দায়িত্বশীলতার অংশ। কাইলি পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মাতৃত্ব, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত সন্তানদের যত্ন এবং কেয়ারগিভার হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন। তার এই খোলামেলা অবস্থান অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তান লালনপালনের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং প্রয়োজনের সময় সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মরক্কোর জাহরা আবুতালিবের ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে লিথোপেডিয়নের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। ১৯৫৫ সালে গর্ভাবস্থার শেষ দিকে প্রসববেদনা শুরু হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা শুনে এবং সেখানে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনা দেখে তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে যান। পরবর্তী সময়ে প্রসববেদনা থেমে যায়, কিন্তু গর্ভের ভ্রূণ আর জন্ম নেয়নি। প্রায় ৪৬ বছর পর, ২০০১ সালে বৃদ্ধ বয়সে জাহরার তীব্র পেটব্যথা শুরু হলে চিকিৎসকের কাছে যান তিনি। পরীক্ষায় প্রথমে পেটের ভেতরের শক্ত অংশটিকে টিউমার বলে ধারণা করা হলেও স্ক্যানের পর চিকিৎসকেরা বুঝতে পারেন, সেখানে কয়েক দশক ধরে একটি মৃত ও ক্যালসিয়াম জমে শক্ত হয়ে যাওয়া ভ্রূণ রয়েছে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই বিরল অবস্থাকে বলা হয় ‘লিথোপেডিয়ন’। শব্দটির অর্থ ‘পাথরের শিশু’। সাধারণত এটি পেটের ভেতরে হওয়া এক ধরনের একটোপিক বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে। ভ্রূণটি মারা যাওয়ার পর শরীর সেটিকে শোষণ করতে না পারলে সময়ের সঙ্গে তার চারপাশে ক্যালসিয়াম জমে শক্ত আবরণ তৈরি হতে পারে। লিথোপেডিয়ন অত্যন্ত বিরল একটি চিকিৎসাবস্থা। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে এমন ঘটনা সাধারণত আল্ট্রাসাউন্ড, এক্স-রে বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি বহু বছর পর্যন্ত শরীরে অবস্থান করলেও উপসর্গ স্পষ্ট না হওয়ায় পরে অন্য কোনো কারণে পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জাহরার ঘটনাটি পরে চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন লেখায় আলোচিত হয় এবং লিথোপেডিয়নের সবচেয়ে পরিচিত নথিবদ্ধ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ঘটনাকে স্বাভাবিক গর্ভধারণের দীর্ঘস্থায়ী রূপ হিসেবে দেখা ঠিক নয়; এটি মূলত বিরল ও জটিল একটোপিক গর্ভধারণের পরিণতি।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে আইসিই হেফাজতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী বেলারুশের নাগরিক কাতসিয়ারিনা বার্তকোর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। থাইরয়েড ও প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি অস্ত্রোপচারে অপসারণের পর গত ১১ বছর ধরে নিয়মিত হরমোন ও ক্যালসিয়াম ওষুধের ওপর নির্ভরশীল এই নারীকে ওষুধ সরবরাহে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, তার হরমোনের মাত্রা মারাত্মকভাবে অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে এবং চিকিৎসকরা মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন। বার্তকোকে গত জুনে ফ্লোরিডা থেকে কানসাসের লিভেনওয়ার্থে আইসিইর একটি ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। তার আগে ৬ থেকে ৯ জুনের মধ্যে মাত্র চার দিনে তাকে তিনবার হাসপাতালে নিতে হয়েছিল। একটি জরুরি বিভাগে তাকে তীব্র শারীরিক সংকটে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং শিরায় ক্যালসিয়াম দেওয়া হয়। বার্তকোর পার্টনার দিমিত্রি শিশভের অভিযোগ, কানসাসের ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার পর তার প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহে একাধিকবার সমস্যা হয়। চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন তার লেভোথাইরক্সিন ওষুধটি নিয়ে নেওয়া হয় এবং ১০ জুলাই পর্যন্ত সেটি তাকে নিয়মিত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ওষুধ বন্ধ থাকার কয়েক দিনের মধ্যেই বার্তকো চিকিৎসাকর্মীদের কাছে বুকের নিচে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখার কথা জানান। ২৬ জুনের একটি মেডিকেল ফর্মে এসব উপসর্গের কথা লিখলেও নিচে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসাকর্মী উল্লেখ করেন, এ সময় কোনো চিকিৎসা হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নেই এবং তিনি স্থিতিশীল রয়েছেন। ২ জুলাইয়ের একটি মেডিকেল নোটে বলা হয়, বার্তকো লেভোথাইরক্সিনে অ্যালার্জির কথা জানিয়েছেন। তবে ফিজিশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস -এর চিকিৎসক সারাহ রাজা আদালতে দেওয়া নথিতে প্রশ্ন তোলেন, ওই নোটে বার্তকোর স্বাক্ষর নেই এবং তার দীর্ঘদিনের চিকিৎসা নথিতে লেভোথাইরক্সিন ও ক্যালসিয়াম নিয়মিত ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির ইঙ্গিত মিলেছে রক্ত পরীক্ষায়। ১১ আগস্টের পরীক্ষায় তার TSH মাত্রা ১৪৮ দশমিক ৭৭ mIU/L পাওয়া যায়, যেখানে স্বাভাবিক মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা প্রায় ৪ দশমিক ৫। চিকিৎসক সারাহ রাজা এই ফলকে গুরুতর হরমোন ঘাটতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বার্তকোর মিক্সিডিমা কোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, মিক্সিডিমা কোমায় পৌঁছানো রোগীদের মৃত্যুহার ২৫ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে বার্তকো বর্তমানে কোমায় রয়েছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কানসাসে স্থানান্তরের পর দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে কোনো এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট বা অন্য কোনো বাইরের বিশেষজ্ঞ দেখেননি বলে ফেডারেল কোর্টে জমা দেওয়া নথিতে আইসিই স্বীকার করেছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারের মেডিকেল স্টাফ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং অফসাইট বিশেষজ্ঞের পরামর্শকে জরুরি নয়, বরং রুটিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আইসিই ও ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী কোর সার্ভিক বার্তকো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে। তবে তার আইনজীবী ও পার্টনার চিকিৎসা নথির ভিত্তিতে এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছেন। বার্তকোর যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শুরু হয় ২০২২ সালের মার্চে এফ -১ স্টুডেন্ট ভিসায়। বেলারুশে ২০২০ সালের সরকারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি বেলারুশের সমর্থনের প্রকাশ্য বিরোধিতা করার কারণে তিনি দেশটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন বলে তার পার্টনার জানিয়েছেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি অ্যাসাইলামের জন্য আবেদন করেন। এর আগে গত ৫ মে মিয়ামিতে একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বিরোধের ঘটনায় তাকে মিসডিমিনর ব্যাটারি অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ২ জুন ফ্লোরিডার স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি আর এগোয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড হয়নি। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ স্টুডেন্ট ভিসা সংক্রান্ত অভিবাসন বিষয়কে কেন্দ্র করে আইসিই তাকে হেফাজতে নেয়। ২২ জুলাই একজন ইমিগ্রেশন জাজ বার্তকোর বন্ড আবেদন নাকচ করেন এবং তাকে ফ্লাইট রিস্ক হিসেবে বিবেচনা করেন। একই সময়ে তিনি অন্যদের জন্য হুমকি নন বলে বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছিল বলে তার পক্ষের বক্তব্য। এদিকে বার্তকোর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ফেডারেল আদালতে নতুন আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আগস্টে তিনি হেবিয়াস কর্পাস আবেদন করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা অথবা তাকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে লিভেনওয়ার্থের ডিটেনশন সেন্টারেই রয়েছেন বার্তকো। তার অ্যাসাইলাম শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। তার পার্টনার দিমিত্রি শিশভের আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা অব্যাহতভাবে ব্যাহত হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের ৪১ বছর বয়সী ডেভিড বাউন মস্তিষ্কের নিম্নমাত্রার টিউমারের চিকিৎসায় আট বছরের বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এনএইচএসের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগে মামলা করেছেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে টেমোজোলোমাইড নামের কেমোথেরাপির ওষুধ দীর্ঘ সময় ধরে দেওয়া হয়। অথচ চিকিৎসা নির্দেশনায় এ ধরনের টিউমারের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে ১২ মাসের বেশি কেমোথেরাপি দেওয়ার কথা নয়। ২০১৬ সালে খিঁচুনির সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে বাউনের মস্তিষ্কে নিম্নমাত্রার টিউমার শনাক্ত হয়। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করায় তার অবস্থার গুরুতর অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের চার দিন পর করা স্ক্যানে বাউনের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও ফুলে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাউন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে কোমায় চলে যান। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্তের জমাট অপসারণ করা হয় এবং আরও কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর বাউনের চিকিৎসায় টেমোজোলোমাইড কেমোথেরাপি শুরু হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় ধরে এই চিকিৎসা চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তিনি আট বছরেরও বেশি সময় ধরে কেমোথেরাপি নেন। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও তার আইনজীবীদের তথ্যেই দীর্ঘ সময় ধরে এই চিকিৎসা চলার বিষয়টি উঠে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ফলে বাউনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থায় স্থায়ী প্রভাব পড়েছে বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে গেছে এবং দৃষ্টিশক্তিরও আংশিক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজের জন্য তাকে পুরোপুরি বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, বাউন বিষণ্নতায়ও ভুগছেন। দীর্ঘ সময় ধরে কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তার জীবনে যে শারীরিক ও মানসিক প্রভাব পড়েছে, সেটিই মামলার অভিযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বাউনের করা এই মামলা চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। একই হাসপাতাল ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে আরও কয়েকজন রোগীর অভিযোগও রয়েছে বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন। মামলায় বাউনের অভিযোগের পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের পর তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন বিষয়ও সামনে এসেছে। বিশেষ করে সময়মতো এমআরআই স্ক্যান না করা, পরবর্তী সময়ে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দীর্ঘ সময় কেমোথেরাপি চলার বিষয়গুলো নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে বাউনের করা মামলাসহ এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনো আদালতের আইনি প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হয়নি। ফলে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে। ঘটনাটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রোগীর অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা নির্দেশনা অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বাউনের দীর্ঘ আট বছরের বেশি সময় কেমোথেরাপি নেওয়ার ঘটনাটি তার করা মামলার অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এতটাই বেড়েছে যে হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকা সত্ত্বেও অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করছেন বা চিকিৎসা এড়িয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট হেলথ ও গ্যালাপের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৪৯ শতাংশ আমেরিকান নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের খরচ বহন করার মতো আর্থিক সক্ষমতার মধ্যে ছিলেন। এক বছরে প্রায় ২৮ লাখ মানুষ এই আর্থিক নিরাপত্তার অবস্থান থেকে ছিটকে পড়েছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ শুধু নিম্নআয়ের বা হেলথ ইন্স্যুরেন্সবিহীন মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কমনওয়েলথ ফান্ডের ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, কর্মক্ষম বয়সী আমেরিকানদের ২৩ শতাংশ সারা বছর ইন্স্যুরেন্সের আওতায় থাকলেও উচ্চ ব্যক্তিগত খরচ ও বেশি ডিডাক্টিবলের কারণে তারা পর্যাপ্ত কভারেজ পাননি। এই শ্রেণির ৫৭ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেননি। চিকিৎসা নিতে দেরি করার প্রভাবও গুরুতর হতে পারে। জরিপে খরচের কারণে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়া কর্মক্ষম বয়সী মানুষের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাদের স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত অনেক মানুষ ওষুধের খরচ বেশি হওয়ায় প্রয়োজনীয় ডোজ বাদ দিয়েছেন বা প্রেসক্রিপশন পূরণ করেননি। ডায়াবেটিস ও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসার ব্যয়ের সঙ্গে বাড়ছে মেডিকেল ঋণের চাপও। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপ অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানুষের প্রায় ৩০ শতাংশ চিকিৎসা বা ডেন্টাল বিলের ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করছিলেন। যাদের মেডিকেল ঋণ রয়েছে, তাদের প্রায় ৪৮ শতাংশের বকেয়া ছিল ২ হাজার ডলার বা তার বেশি। এই ঋণের প্রভাব শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সীমাবদ্ধ থাকছে না। মেডিকেল ঋণ থাকা পরিবারের এক-তৃতীয়াংশের বেশি জানিয়েছে, ঋণের কারণে পরিবারের কেউ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বা প্রেসক্রিপশন ওষুধ নেওয়া পিছিয়ে দিয়েছেন। একইভাবে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক পরিবার খাবার, ঘরের গরম রাখার খরচ বা ভাড়ার মতো মৌলিক ব্যয় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অনেকেই সঞ্চয়ের অর্থ চিকিৎসা ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করেছেন। চিকিৎসার খরচের চাপ বয়স্কদেরও ছাড়ছে না। কমনওয়েলথ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মেডিকেয়ার সুবিধাভোগীদের ২১ শতাংশ খরচের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে দেরি করেছেন বা তা বাদ দিয়েছেন। প্রায় ১৮ শতাংশের চিকিৎসা বিল বা ঋণ পরিশোধ নিয়ে সমস্যাও রয়েছে। হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকলেও সব চিকিৎসা খরচ যে পুরোপুরি কভার হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেশি ডিডাক্টিবল, কো-পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত খরচের কারণে অনেক বীমা করা মানুষও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বাধার মুখে পড়ছেন। কমনওয়েলথ ফান্ডের জরিপে দেখা গেছে, সারা বছর ইন্স্যুরেন্স থাকা কিন্তু পর্যাপ্ত কভারেজ না থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ চিকিৎসার খরচ সামলাতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সেবা বাদ দিয়েছেন বা পিছিয়ে দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ওয়েস্ট হেলথের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ৫ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে হাসপাতালের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং প্রেসক্রিপশন ওষুধের ব্যয় প্রায় ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসার ব্যয় এখন শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, মানুষের চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সময়মতো না পাওয়া বা ওষুধের ডোজ বাদ দেওয়া একদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে, অন্যদিকে পরে আরও বড় চিকিৎসা ব্যয়ের কারণ হতে পারে। ওয়েস্ট হেলথ, গ্যালাপ ও কমনওয়েলথ ফান্ডের গবেষণাগুলো মিলিয়ে যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসা ব্যয় কমানো, হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং মেডিকেল ঋণের ঝুঁকি কমানো যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা কতটা উন্নত, তার পাশাপাশি মানুষ সেই চিকিৎসা বাস্তবে কতটা বহন করতে পারছেন, সেটিও এখন স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
ভারতের কেরালায় এক চিকিৎসক কনে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে এমন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা বর্তমানে নেট দুনিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে। বিয়ের আনন্দ-উৎসব চলাকালেই হঠাৎ ক্যাটারিংয়ের দুই কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে নিজের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা থামিয়ে ত্বরিত তাদের সাহায্যে ছুটে যান ডা. শিরিন সুবায়ের। তার এই উপস্থিত বুদ্ধি ও পেশাদারিত্বের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওই দুই কর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা পান। জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় হঠাৎ করেই ক্যাটারিংয়ের এক কর্মীর নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং অন্য আরেকজন কর্মী মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হন। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে নিজের বিয়ের জমকালো সাজ বা উৎসবের কথা বিন্দুমাত্র চিন্তা না করে একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেন ডা. শিরিন। তিনি যেহেতু জরুরি চিকিৎসা বিভাগের (ইমার্জেন্সি মেডিসিন) একজন চিকিৎসক, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নিজের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ওই দুই কর্মীকে ফার্স্ট এইড বা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। বিয়ের সাজে কনের এই মানবিক পদক্ষেপের একটি ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনরা এই চিকিৎসক কনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও, ডা. শিরিন সুবায়ের নিজে বিষয়টিকে খুবই স্বাভাবিকভাবে নিয়েছেন। এই প্রশংসনীয় কাজের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানান, এটি কেবলই একজন চিকিৎসক হিসেবে তার কর্তব্য ছিল, এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।
কানাডার মন্ট্রিয়লে ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে সংরক্ষিত একটি চিকিৎসাবিষয়ক নমুনা শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে আছে। নমুনাটি আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর শ্বাসনালি। জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, একটি চিনাবাদাম শ্বাসনালির বিভাজনস্থলে আটকে গিয়ে বাতাস চলাচলের পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। শিশুটির ফুসফুস স্বাভাবিক ছিল, কিন্তু বাদাম আটকে যাওয়ার কারণে শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ম্যাকগিলের মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়াম বহু বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও রোগতত্ত্বের বিভিন্ন নমুনা সংরক্ষণ করে আসছে। সেখানে থাকা এই নমুনায় শ্বাসনালিটি পেছনের দিক দিয়ে কেটে খোলা হয়েছে, যাতে দেখা যায় কীভাবে চিনাবাদামটি শ্বাসনালির ঠিক সেই জায়গায় আটকে ছিল, যেখান থেকে ডান ও বাম ফুসফুসের দিকে প্রধান শ্বাসনালি ভাগ হয়ে গেছে। জাদুঘরের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটির বয়স ছিল আড়াই বছর। চিনাবাদাম শ্বাসনালিতে ঢোকার পর অল্প সময়ের মধ্যেই শ্বাসরোধে তার মৃত্যু হয়। ফুসফুসে কোনো রোগ ছিল না। অর্থাৎ মূল সমস্যা ছিল শ্বাসনালিতে খাবার আটকে যাওয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পেছনে শারীরিক কারণ রয়েছে। ছোট শিশুদের শ্বাসনালি প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সরু। একই সঙ্গে তারা খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে গুঁড়ো করার মতো দক্ষতাও পুরোপুরি অর্জন করে না। বিশেষ করে মোলার দাঁত পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার আগে শক্ত খাবার চিবিয়ে নিরাপদভাবে গিলে ফেলা কঠিন হতে পারে। খাবার খাওয়ার সময় শিশুর দৌড়ানো, হাঁটা, কথা বলা, হাসা কিংবা তাড়াহুড়ো করে খাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এসব কারণে খাবার ভুল পথে শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও ছোট শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় বসিয়ে রাখা এবং তাদের নজরদারিতে রাখার পরামর্শ দেয়। বিশেষ করে চিনাবাদাম ও অন্যান্য বাদাম, বীজ, পপকর্ন, আস্ত আঙুর, শক্ত ক্যান্ডি, কাঁচা শক্ত সবজি এবং বড় বা শক্ত খাবারের টুকরো শিশুদের জন্য দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বর্তমান নির্দেশনায় চার বছর বয়স পর্যন্ত বা শিশুর বিকাশ ও পরিপক্বতা অনুযায়ী আরও বেশি সময় এসব উচ্চঝুঁকির খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার নয়, ছোট খেলনার অংশ, কয়েন, বেলুনসহ বিভিন্ন ছোট বস্তু থেকেও শিশুদের দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসাবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা শ্বাসনালির গঠন এবং খাবার চিবিয়ে গেলার দক্ষতা পুরোপুরি বিকশিত না হওয়ায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে। মড অ্যাবট মেডিকেল মিউজিয়ামে থাকা চিনাবাদামের এই নমুনাটি তাই শুধু একটি পুরোনো চিকিৎসাবিষয়ক নিদর্শন নয়। একটি ছোট শিশুর জীবনে সামান্য একটি খাবার কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটিও এটি স্পষ্টভাবে দেখায়। শিশুদের খাবার দেওয়ার সময় বয়স ও চিবানোর সক্ষমতা বিবেচনা করা, ঝুঁকিপূর্ণ খাবার ছোট করে বা নিরাপদভাবে প্রস্তুত করা এবং খাওয়ার সময় শিশুকে নজরদারিতে রাখা দম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাকগিলের সংগ্রহে কয়েক দশক ধরে সংরক্ষিত সেই ছোট্ট শ্বাসনালিটি আজও যেন একই সতর্কবার্তাই দিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।