- প্রচ্ছদ
- Topic
জনস্বাস্থ্য
যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছর দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আগেই ভাইরাসের সক্রিয়তা দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মশাবাহিত রোগের বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে ডেলাওয়্যারসহ কিছু এলাকায় বিশেষ পদ্ধতিতে মুরগি ব্যবহার করছেন জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র বা সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম অস্বাভাবিকভাবে আগেই শুরু হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ৩৮ জনের রোগ ছিল গুরুতর স্নায়ুতন্ত্রজনিত। একই সময়ে ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ভাইরাসের সক্রিয়তার খবর পাওয়া যায়। ২০০৪ সালের পর বছরের এই সময়ে এত বেশি মানব সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি বলে সিডিসি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা যে পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন, সেটি কয়েক দশক পুরোনো। সেখানে নির্দিষ্ট এলাকায় মুরগির ছোট ছোট দল রাখা হয়। এসব মুরগিকে বলা হয় ‘সেন্টিনেল চিকেন’ বা নজরদারি মুরগি। মশা কোনো ভাইরাস বহন করছে কি না, তা সরাসরি মশার সংখ্যা দেখে বোঝার বদলে এই মুরগিগুলোর শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে তৈরি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। পদ্ধতিটির মূল সুবিধা হলো, মুরগি ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মতো কিছু মশাবাহিত ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সাধারণত সেই ভাইরাস ছড়ানোর উৎস হয়ে ওঠে না। অর্থাৎ তারা ভাইরাসের উপস্থিতি সম্পর্কে সংকেত দিতে পারে, কিন্তু নিজেরা সংক্রমণ ছড়িয়ে দেয় না। ডেলাওয়্যারের মশা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান টম মোরানের ভাষায়, মুরগিগুলো অনেকটা খনির ভেতর বিপদের আগাম সংকেত দেওয়া পাখির মতো কাজ করে। ডেলাওয়্যারে ১৯৮০-এর দশকের শুরু থেকেই এই কর্মসূচি চলছে। বর্তমানে অঙ্গরাজ্যটির ২০টি স্থানে চারটি করে মুরগি রাখা হয়। নিয়মিত তাদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়, কোনো মশাবাহিত ভাইরাসের সংস্পর্শে তারা এসেছে কি না। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ বা ডিএনআরইসি জানিয়েছে, বছরের প্রথমবারের মতো তাদের একটি নজরদারি মুরগির মধ্যে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আগেই ওই এলাকায় ভাইরাসের সক্রিয়তার একটি সতর্কসংকেত পাওয়া গেছে। এ ধরনের তথ্য জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়লে সেখানে মশা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম জোরদার করা যায়। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক করা সম্ভব হয়। চিকিৎসকদের জন্যও এই তথ্য কাজে আসে। বিশেষ করে মশাবাহিত রোগের মৌসুমে কোনো রোগীর জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকেরা ওয়েস্ট নাইলসহ সংশ্লিষ্ট রোগের বিষয়টি দ্রুত বিবেচনায় নিতে পারেন। ঘোড়ার ক্ষেত্রেও আগাম সতর্কতা পাওয়া যায়, কারণ ওয়েস্ট নাইল ও ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিস ঘোড়ার জন্যও গুরুতর হতে পারে এবং টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়। ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। মশা সাধারণত আক্রান্ত পাখি থেকে ভাইরাস গ্রহণ করে এবং পরে মানুষ বা অন্য প্রাণীকে কামড়ানোর মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ায়। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থতা হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ভাইরাস মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের মৌসুম গ্রীষ্মে শুরু হয়ে শরৎ পর্যন্ত চলতে থাকে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সাধারণত আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তাই মৌসুমের শুরুতেই ভাইরাসের গতিবিধি শনাক্ত করা জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মশার দল পরীক্ষা করেও ভাইরাস শনাক্ত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন মশার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়, যা মুরগির তুলনায় দ্রুত ফল দিতে পারে। কারণ মশার কামড়ের পর মুরগির শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তবু ডেলাওয়্যার কর্মকর্তারা মুরগির ওপর নির্ভর করাকেই কার্যকর মনে করছেন। কারণ মশা উড়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলে যেতে পারে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা মুরগি সেখানেই থাকে। ফলে কোনো মুরগির পরীক্ষায় ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেলে কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে ওই নির্দিষ্ট এলাকার আশপাশে সংক্রমিত মশা সক্রিয় রয়েছে। ফ্লোরিডাতেও দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি মুরগির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কয়েক দশকের এসব তথ্য এখন শুধু বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য নয়, ভবিষ্যতে ওয়েস্ট নাইল বা ইস্টার্ন ইকুইন এনসেফালাইটিসের মৌসুম কতটা গুরুতর হতে পারে, তা অনুমানের গবেষণাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব ও নিমাটোলোজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক লিন্ডসে ক্যাম্পবেল দীর্ঘদিনের কাগজের রেকর্ড ডিজিটাল করে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। তার গবেষণায় তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, ভূমির ধরন এবং পাখির চলাচলের মতো পরিবেশগত তথ্যও বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু ভাইরাস কোথায় ছড়িয়েছে তা জানা নয়, বরং কোন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ বাড়তে পারে সেটিও বোঝা। উদাহরণ হিসেবে কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমের কয়েক মাস আগে তাপমাত্রা বা বৃষ্টিপাতের ধরন পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট নাইলের সংক্রমণের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গবেষক রবার্ট গুরালনিকের মতে, দীর্ঘদিনের নজরদারি মুরগির তথ্য ভাইরাসের গতিবিধি বোঝার জন্য মূল্যবান। অতীতের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে ভাইরাসের ওঠানামার সম্পর্ক খুঁজে বের করা সম্ভব হচ্ছে। তবে এই পদ্ধতিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভাইরাসের বিস্তার নির্ভর করে মশা, পাখি, অন্যান্য প্রাণী এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের ওপর। ফলে কোনো মৌসুমে সংক্রমণ কতটা বাড়বে, তা একক কোনো সূচকের ভিত্তিতে নির্ভুলভাবে বলা কঠিন। তবু দীর্ঘ সময় ধরে সংগৃহীত তথ্য সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগাম ধারণা তৈরিতে সহায়তা করছে। ডেলাওয়্যারের কর্মকর্তারা কয়েক দশকের অভিজ্ঞতায় মুরগির জাত নিয়েও পরীক্ষা করেছেন। কর্মসূচির শুরুর দিকে তারা সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি ব্যবহার করতেন। কিন্তু এসব মুরগি সহজেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করত। পরে রোড আইল্যান্ড রেড জাতের মুরগি ব্যবহার শুরু করলে পরিস্থিতি অনেক সহজ হয়। এদিকে মশাবাহিত রোগ শনাক্তে আরও দ্রুত ও কম খরচের পদ্ধতি খুঁজতে গবেষণা চলছে। মশা ধরতে মধুর ফাঁদ ব্যবহারের মতো নতুন পদ্ধতিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে আপাতত কয়েক দশকের পুরোনো এই নজরদারি ব্যবস্থায় মুরগির ভূমিকা শেষ হয়ে যাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে ওয়েস্ট নাইল ভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিডিসির তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ হচ্ছে। সিডিসি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের তথ্য প্রাথমিক এবং পরবর্তীতে পরিবর্তিত হতে পারে। সংবাদসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ডেলাওয়্যার প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ
রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে। হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য। মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা। পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে। ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবার থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা যাদব। বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন তিনি। শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই লংলা চা-বাগানের অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে উঠলেও ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল শান্তার। চা-বাগানের জীবন এবং সেখানকার শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের নানা বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। লংলা চা-বাগানে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন শান্তা। এরপর চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন নিয়ে তাঁর আগ্রহ আরও গভীর হয়। নিজের বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতাও এই আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। চা-বাগানের মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনমানের বাস্তবতা তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়। স্নাতক শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন শান্তা। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভর্তির সুযোগ পেলেও নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক স্নাতকোত্তর কর্মসূচি বেছে নেন তিনি। এই কর্মসূচিতে বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য, মানুষের কাছে কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন শান্তা। তাঁর পড়াশোনার জন্য প্রায় দুই কোটি টাকা সমপরিমাণ বৃত্তি পাওয়ার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। শান্তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের অধ্যবসায় ও নিজের শিকড় থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা। শৈশব থেকেই তিনি দেখেছেন, চা-বাগান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ কতটা সীমিত হতে পারে। সেই বাস্তবতাই তাঁকে জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্য স্থির করতে সাহায্য করেছে। শিক্ষাজীবনে চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের নিয়েও কাজ করেছেন শান্তা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে পড়ার সময় তিনি চা-ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চা-বাগানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও যুক্ত ছিলেন তিনি। উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে চা-বাগানের শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে শান্তার। তাঁর লক্ষ্য নিজের অর্জিত জ্ঞানকে এমন কাজে ব্যবহার করা, যা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। লংলা চা-বাগানের সীমিত সুযোগের পরিবেশ থেকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর শান্তার এই পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি দেশের চা-বাগান ও অন্যান্য প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ। শুরুর জায়গা সীমিত হলেও শিক্ষা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় লক্ষ্য একজন মানুষকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে পারে, শান্তার পথচলা তারই একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কম খরচে খাবার কিনতে অনেক পরিবার ডলার স্টোরের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মানের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকদের এই গবেষণা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডলার স্টোরের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। গবেষণার প্রথম লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যান বলেন, গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তুলনামূলক কম দামের এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষকেরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘ফাইভ হান্ড্রেড সিটিজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কতগুলো ডলার স্টোর রয়েছে, সেটিও হিসাব করা হয়। কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানোর দূরত্বের মধ্যে থাকা ডলার স্টোরের সংখ্যাও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ডলার স্টোরের উপস্থিতির সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় ডলার স্টোরের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল। তবে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা ডলার স্টোরের খাবার সরাসরি স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণ প্রমাণ করেনি। বরং ডলার স্টোরের উপস্থিতি এবং এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ডলার স্টোরের সংখ্যা কমানো নয়। বরং এসব দোকানেই তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, কৃষকের বাজার এবং খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ছোট স্থানীয় মুদি দোকান রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প পাওয়া যায়। এসব দোকানের প্রভাব গবেষণার তথ্যের মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। ফলে স্থানীয় ছোট দোকানগুলোর উপস্থিতি ডলার স্টোরের খাবারের ওপর নির্ভরতার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। খাদ্যবিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ড. শাই বিষ্ণুমোহন বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের বাজেট, সময় এবং আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে খাবার নির্বাচন করে। তাই সাশ্রয়ী খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও সহজলভ্য করা জরুরি। গবেষকদের আশা, এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কম আয়ের ও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী ‘ক্যান্ডিডা অরিস’ নামের এক ধরনের ছত্রাকের উপস্থিতি বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ২৭ অঙ্গরাজ্যে এই ছত্রাকের ৩ হাজার ৪৩৭টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম। একই সময়ে ২০২৫ সালে ৪ হাজার ২৯০টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ক্যান্ডিডা অরিস মূলত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ছড়ায় এবং গুরুতর অসুস্থ, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা কিংবা জটিল চিকিৎসা প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শ্বাস নেওয়ার যন্ত্র, কেন্দ্রীয় শিরায় ক্যাথেটার বা অন্য কোনো আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্র ব্যবহার করা রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্র ও নার্সিংহোমের বাসিন্দারাও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। ক্যান্ডিডা অরিস এক ধরনের ইস্ট বা ছত্রাক। এটি প্রথম শনাক্ত হয় ২০০৯ সালে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। এরপর দেশটিতে প্রতিবছর ক্লিনিক্যাল কেসের সংখ্যা বেড়েছে। সিডিসির ২০২৬ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ২ হাজার ৮৮২টি ক্লিনিক্যাল কেস শনাক্ত হয়েছিল। ২০২৩ সালে তা বেড়ে ৪ হাজার ৪২৮ এবং ২০২৪ সালে ৬ হাজার ১৯৭-এ পৌঁছায়। তবে বছরওয়ারি বৃদ্ধির হার সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসাবেও ক্যালিফোর্নিয়ায় সবচেয়ে বেশি কেস শনাক্ত হয়েছে। ২৫ জুলাই পর্যন্ত সেখানে ৮৭৩টি কেস পাওয়া যায়। এরপর টেক্সাসে ৪৩৩ এবং টেনেসিতে ২৮৩টি কেস শনাক্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, ক্যান্ডিডা অরিসের অনেক ধরন প্রচলিত ছত্রাকনাশক ওষুধে প্রতিরোধী। সিডিসির জুলাই ২০২৬-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অধিকাংশ ক্যান্ডিডা অরিস নমুনা ফ্লুকোনাজল নামের বহুল ব্যবহৃত ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী। সাধারণত এ ধরনের সংক্রমণের চিকিৎসায় ইকাইনোক্যান্ডিন শ্রেণির ওষুধকে প্রথম সারির চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ইকাইনোক্যান্ডিন প্রতিরোধী এবং একাধিক শ্রেণির ছত্রাকনাশক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী কিছু ধরনও শনাক্ত হয়েছে। এতে চিকিৎসার সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে। তবে ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত হলেই যে ব্যক্তি অসুস্থ, এমন নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে শরীরে ছত্রাকটির উপস্থিতি কিন্তু কোনো উপসর্গ না থাকাকে ‘কলোনাইজেশন’ বলা হয়। অর্থাৎ, ছত্রাকটি ত্বক বা শরীরের অন্য কোনো অংশে থাকতে পারে, কিন্তু তখনও সংক্রমণ বা অসুস্থতা তৈরি নাও করতে পারে। সিডিসি বলছে, ক্যান্ডিডা অরিসের ক্লিনিক্যাল সংক্রমণের উপসর্গ নির্দিষ্ট নয়। শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে এবং সংক্রমণের মাত্রা কতটা, তার ওপর উপসর্গ নির্ভর করে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি রক্তে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। রক্তে ছত্রাক পাওয়া সাধারণত আক্রমণাত্মক সংক্রমণের ইঙ্গিত দেয়। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিডিসি জানিয়েছে, ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মোট ১৩ হাজার ৫০৭টি ক্লিনিক্যাল কেস রিপোর্ট করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৮ শতাংশ রোগীর বয়স ছিল ৪৫ বছর বা তার বেশি। সবচেয়ে বেশি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তীব্র চিকিৎসা দেওয়া হাসপাতাল এবং দীর্ঘমেয়াদি তীব্র চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে। ক্যান্ডিডা অরিসের বিস্তার সাধারণত বাতাসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানোর মতো নয়। বরং আক্রান্ত বা ছত্রাক বহনকারী ব্যক্তির শরীরের সংস্পর্শ এবং দূষিত চিকিৎসা-সরঞ্জাম বা পৃষ্ঠের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে। হাসপাতালের বিছানার রেলিং, দরজার হাতলসহ বিভিন্ন পৃষ্ঠে ছত্রাকটি দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারে। এ কারণে হাসপাতাল ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জীবাণুনাশক ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন জীবনে ক্যান্ডিডা অরিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা নেই এমন মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করে না। বরং দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকা, গুরুতর অসুস্থতা, আক্রমণাত্মক চিকিৎসা-যন্ত্রের ব্যবহার এবং সাম্প্রতিক সময়ে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যান্ডিডা অরিস মোকাবিলায় তাই দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চঝুঁকির রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করলে শরীরে ছত্রাকটি থাকা অবস্থায়ই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। সিডিসির জুলাই ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাত পরিষ্কার রাখা, ক্যান্ডিডা অরিসের বিরুদ্ধে কার্যকর জীবাণুনাশক ব্যবহার, প্রয়োজন অনুযায়ী সংস্পর্শভিত্তিক সতর্কতা এবং রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের সময় তার ক্যান্ডিডা অরিসের অবস্থার তথ্য জানানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডিডা অরিসের শনাক্তকরণ আরও বাড়তে পারে। এর একটি কারণ হলো এখন আগের তুলনায় বেশি পরীক্ষা ও নজরদারি হচ্ছে। ফলে কেসের সংখ্যা বাড়ার একটি অংশ উন্নত শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ফলও হতে পারে। সিডিসিও জানিয়েছে, ক্যান্ডিডা অরিস শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং স্ক্রিনিং বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরও বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সিডিসির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ক্যান্ডিডা অরিসের সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর বিরুদ্ধে ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা চিকিৎসাকে কঠিন করে তুলতে পারে। তাই উচ্চঝুঁকির রোগীদের শনাক্তকরণ, নিয়মিত নজরদারি এবং হাসপাতালগুলোতে কঠোর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আবারও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সিডিসির ১৩ আগস্ট পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশজুড়ে ৩৮টি পৃথক প্রাদুর্ভাব (আউটব্রেক) শনাক্ত হয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯৪ শতাংশই এসব চলমান প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ জন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা এবং ১৬ জন আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারী। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬টি অঙ্গরাজ্য ও ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়াসহ মোট ৪৭টি প্রশাসনিক এলাকায় হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। সর্বশেষ উইসকনসিনেও নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বিস্তারের অন্যতম কারণ শিশুদের মধ্যে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার হার কমে যাওয়া। একটি এলাকায় হার্ড ইমিউনিটি বা সামষ্টিক রোগ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাধারণত অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুর টিকাপ্রাপ্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় সেই হার এখন এর নিচে নেমে গেছে। উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের টিকাদান নিবন্ধন তথ্য অনুযায়ী, ২৪ মাস বয়সী শিশুদের মধ্যে এমএমআর টিকার কভারেজ ২০১৯ সালের ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে কমে ৭৯ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে ছয় বছর বয়সী শিশুদের টিকাদানের হারও ৮১ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে। ক্লার্ক, মনরো, ভার্নন ও ক্রফোর্ড কাউন্টির মতো কিছু এলাকায় এই হার ৭০ শতাংশেরও নিচে নেমেছে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের হামে আক্রান্তদের ৯৩ শতাংশই টিকা নেননি অথবা তাদের টিকাদানের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম টিকাদানের এলাকাগুলোতেই পারিবারিক ও কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নতুন নির্বাহী আদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত সম্মিলিত এমএমআর টিকাকে ভবিষ্যতে তিনটি পৃথক টিকায় বিভক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যদি দেশীয় উৎপাদন সম্ভব হয়। পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন টিকা একসঙ্গে না দিয়ে আলাদা আলাদা সময়ে দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও শিশু চিকিৎসকেরা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু ও কিশোরস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মেলিসা স্টকওয়েল নিউজউইককে বলেন, এমএমআর টিকাকে আলাদা করে দিলে পরিবারের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ বাড়বে। এতে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে সব ডোজ সম্পন্ন না হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং তারা দীর্ঘ সময় সুরক্ষার বাইরে থাকবে। তিনি বলেন, হাম নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহসহ গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। 'মিজলস কোলাবোরেটিভ'-এর নির্বাহী পরিচালক ডা. প্যাটসি স্টিঞ্চফিল্ড বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে সম্মিলিত এমএমআর টিকা নিরাপদভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই ডোজ টিকা নেওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি মানুষের শরীরে কার্যকর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তার ভাষায়, "এমএমআর টিকাকে আলাদা করার এই সুপারিশের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।" লুইজিয়ানার রিপাবলিকান সিনেটর ও চিকিৎসক বিল ক্যাসিডিও এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, টিকাদান নীতিতে এ ধরনের পরিবর্তন টিকা নিয়ে দ্বিধা আরও বাড়াতে পারে এবং শিশুদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে হাম, মাম্পস ও রুবেলার পৃথক টিকা বাজারে সহজলভ্য নয়। টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকেও আলাদা টিকা উৎপাদনের কোনো ঘোষণা আসেনি। ফলে সিডিসি এখনো তাদের বিদ্যমান নির্দেশনা বহাল রেখেছে। সংস্থাটি ১২ থেকে ১৫ মাস এবং ৪ থেকে ৬ বছর বয়সে দুটি ডোজ সম্মিলিত এমএমআর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। উইসকনসিনসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগও অভিভাবকদের বর্তমান সিডিসি নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, চলমান সংক্রমণের মধ্যে সময়মতো টিকা নেওয়াই হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: সিডিসি, নিউজউইক।
ফ্লোরিডায় বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। অঙ্গরাজ্যের ম্যারিয়ন কাউন্টির ৬০ থেকে ৭৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা এই সংক্রমণে মারা গেছেন। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল দুইজনে, আর মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য এবং ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিব্রিও ব্যাকটেরিয়া সাধারণত উষ্ণ, লবণাক্ত বা অল্প লবণাক্ত উপকূলীয় পানিতে স্বাভাবিকভাবেই থাকে। শরীরে কোনো কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই পথ দিয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করতে পারে। সংক্রমণের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও এটি খুব দ্রুত গুরুতর রূপ নিতে পারে। গত বছর ফ্লোরিডায় এ ব্যাকটেরিয়ায় মোট ৩৩ জন আক্রান্ত হন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৪টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের শুরুতে লক্ষণ সাধারণ মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই এটি জীবনহানিকর অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। ব্যাকটেরিয়াটি ত্বক ও নরম টিস্যু দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেই এটি অনেক সময় ‘মাংসখেকো ব্যাকটেরিয়া’ নামে পরিচিত। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি মানুষের মাংস খায় না; বরং গুরুতর সংক্রমণের কারণে টিস্যুর ক্ষয় ঘটায়। এই সংক্রমণ থেকে বেঁচে যাওয়া জেনেভিভ গ্যালাঘার জানান, পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের সময় শরীরে একটি ছোট ক্ষত নিয়ে পানিতে নামার পর কয়েক দিনের মধ্যেই তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি অন্যদের সতর্ক করে বলেন, শরীরে যদি সামান্য কাটা বা আঁচড়ও থাকে, এমনকি চুলকানোর কারণে খোলা মশার কামড়ের দাগও থাকে, তাহলে লবণাক্ত পানিতে নামা উচিত নয়। তার ভাষায়, “এটি অত্যন্ত গুরুতর। এমন ঝুঁকি নেওয়া ঠিক নয়।” সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিরোধে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছেন গবেষকেরা। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরিবেশ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আন্তারপ্রীত জুটলার নেতৃত্বে একটি গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নাসার স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করে উপকূলীয় পানিতে এই ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার আগাম শনাক্ত করার প্রযুক্তি তৈরি করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) অর্থায়নে পরিচালিত এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে একটি আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোন এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, তা আগে থেকেই স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে জানানো সম্ভব হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এআইয়ের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করবে। পরে সেগুলো ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণ করা হবে। এতে সম্ভাব্য সংক্রমণ ছড়ানোর আগেই জনগণকে সতর্ক করা এবং প্রাণহানি কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শরীরে কোনো ধরনের কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা লবণাক্ত পানিতে না নামাই নিরাপদ। পাশাপাশি উপকূলীয় পানি থেকে উঠে ক্ষতস্থান দ্রুত পরিষ্কার করা এবং সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির আপার ইস্ট সাইড এলাকায় লেজিওনেয়ার্স রোগের প্রাদুর্ভাবে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাতজনে। গত দুই সপ্তাহে নতুন কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও আগেই আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা একজনের মৃত্যু হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আবারও বেড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সর্বশেষ মৃত ব্যক্তির পরিচয় বা বয়স প্রকাশ করেনি নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মৃত্যুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো অতিরিক্ত মন্তব্যও করেনি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ১৭ জুলাইয়ের পর আর কোনো নতুন রোগী শনাক্ত হয়নি। কয়েকজন রোগী এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং অনেকেই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, সংক্রমণের বিস্তার এখন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তদন্তে দেখা গেছে, আপার ইস্ট সাইডের বিভিন্ন ভবনের কুলিং টাওয়ারে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। এসব কুলিং টাওয়ার দ্রুত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং আক্রান্ত সব স্থাপনাতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক সিটি স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মকর্তাদের ধারণা, সংক্রমণের উৎস ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। লেজিওনেয়ার্স রোগ এক ধরনের গুরুতর নিউমোনিয়া, যা লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়াযুক্ত ক্ষুদ্র পানিকণা শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে হতে পারে। এটি একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায় না। সাধারণত ভবনের কুলিং টাওয়ার, গরম পানির ব্যবস্থা, ফোয়ারা বা দীর্ঘদিন অপরিষ্কার পানির ব্যবস্থায় এই ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, ধূমপায়ী, দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শরীর ব্যথা বা ফ্লু-সদৃশ উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু হলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই প্রাদুর্ভাবের পর নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন কুলিং টাওয়ার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি যেসব ভবনে লেজিওনেলা ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত হয়েছিল, সেগুলোর তথ্যও জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ফ্লোরিডায় সাম্প্রতিক সময়ে কুষ্ঠরোগ বা হ্যানসেনস ডিজিজের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্কতা জারি করেছেন। তাদের ধারণা, দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপকভাবে দেখা যায় এমন নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো নামের একটি বন্য প্রাণী এ রোগের জীবাণু বহন করে মানুষের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে তারা একই সঙ্গে জোর দিয়ে বলছেন, কুষ্ঠরোগ এখনো যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত বিরল, সহজে একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না এবং আধুনিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে ছিল ৮টি, ২০২৩ সালে ২৩টি, ২০২৪ সালে ২০টি এবং ২০২৫ সালে ২৬টি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্য ফ্লোরিডা বর্তমানে সংক্রমণের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কুষ্ঠরোগের জন্য দায়ী মাইকোব্যাকটেরিয়াম লেপ্রি নামের ব্যাকটেরিয়া খুব ধীরে বৃদ্ধি পায়। ফলে সংক্রমণের পর লক্ষণ প্রকাশ পেতে কয়েক মাস থেকে প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ রোগ মূলত ত্বক, স্নায়ু, চোখ এবং নাকের ভেতরের আবরণকে আক্রান্ত করে। চিকিৎসা না করালে ত্বকে দাগ, অসাড়তা, হাত-পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়া, স্নায়ুর স্থায়ী ক্ষতি এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুষ্ঠরোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও ভুল ধারণা রয়েছে। বাস্তবে এ রোগ খুব সহজে ছড়ায় না। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয় এবং বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষের শরীরে এ রোগের বিরুদ্ধে স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা রয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই অন্যের জন্য আর সংক্রামক থাকেন না। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি মেডিসিন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুয়ান ম্যানুয়েল কাম্পোস ক্রাউয়ারের মতে, উত্তর আমেরিকার নয়-ডোরাকাটা আর্মাডিলো প্রাকৃতিকভাবে কুষ্ঠরোগের জীবাণু বহন করতে পারে। প্রাণীগুলো মাটির নিচে পোকামাকড় ও শামুক খুঁজে খাবার সংগ্রহ করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, আর্মাডিলোর বসবাস ও চলাচলের এলাকায় কিছু সময়ের জন্য মাটিতে জীবাণু থাকতে পারে। পরে সেই মাটিতে বাগান করা বা বাড়ির আশপাশে কাজ করার সময় মানুষ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে বহু বছর ধরেই আর্মাডিলোর বসবাস থাকলেও ধীরে ধীরে এদের বিস্তৃতি উত্তরাঞ্চলের দিকেও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, দেশটিতে প্রতিবছর সর্বোচ্চ প্রায় ২৫০টি কুষ্ঠরোগের ঘটনা শনাক্ত হয়। অধিকাংশ রোগী এমন দেশ থেকে সংক্রমিত হন, যেখানে এ রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়, যেমন ব্রাজিল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়া। তবে বিশেষজ্ঞরা আর্মাডিলো স্পর্শ না করার পরামর্শ দিয়েছেন। বাগান করা বা মাটি খোঁড়ার সময় গ্লাভস ব্যবহার করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বন্য প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া সড়কে আর্মাডিলো চাপা পড়লে গাড়ি ভালোভাবে পরিষ্কার করারও পরামর্শ দিয়েছেন কয়েকজন গবেষক। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লোরিডায় কুষ্ঠরোগের ঘটনা কিছুটা বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং সঠিক তথ্য জানা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিউইয়র্ক সিটি ও আশপাশের ট্রাই-স্টেট অঞ্চলে চলতি সপ্তাহজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার থেকে শহরে ‘এক্সট্রিম হিট ওয়ার্নিং’ (চরম তাপমাত্রার সতর্কতা) জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সপ্তাহের বেশিরভাগ সময় অনুভূত তাপমাত্রা ৯০ থেকে ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকতে পারে। বিশেষ করে বুধবার ও বৃহস্পতিবার গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি সতর্ক করে বলেছেন, “এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং শহরের প্রতিটি অংশ এর প্রভাব অনুভব করবে।” তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরজুড়ে শতাধিক ‘কুলিং সেন্টার’ চালু করা হয়েছে। স্কুল, গ্রন্থাগার এবং জ্যাভিটস সেন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে এসব কেন্দ্র খোলা থাকবে। পাশাপাশি নগরীর সুইমিং পুলগুলোর কার্যক্রমও বাড়তি সময় পর্যন্ত চালু রাখা হবে। এবার প্রথমবারের মতো নগর কর্তৃপক্ষ ১৫টি ‘কুলিং আউটরিচ ভ্যান’ মোতায়েন করছে। এসব ভ্যানে নার্স ও প্যারামেডিকরা থাকবেন এবং প্রয়োজনে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেবেন। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য কমিশনার ডা. জেমস ম্যাকডোনাল্ড বলেছেন, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে এটি সবচেয়ে গুরুতর তাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির ঘটনা হতে পারে। তিনি সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্থানে অবস্থান এবং হিট স্ট্রোক বা হিট ইনজুরির লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তাপজনিত কারণে ২১ জন নিউইয়র্কবাসীর মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জনই জুন মাসের তাপপ্রবাহের সময় মারা যান। অস্বাভাবিক গরমের কারণে নিউ জার্সির মনমাউথ কাউন্টিতে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ‘মনমাউথএনজে ২৫০: দ্য কনসার্ট অ্যাট পার্কস্টেজ’ অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি আগামী ১৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং পোষা প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন। শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক শহরে কুলিং টাওয়ার থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী জীবাণুর প্রাদুর্ভাবের পর কঠোর নতুন বিধিমালা জারি করতে যাচ্ছে নগর প্রশাসন। আগামী ৮ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে শহরের সব কুলিং টাওয়ারে আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নগর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কুলিং টাওয়ার সচল থাকা সময় বিশেষ করে গরমের মাসগুলোতে প্রতি মাসে অন্তত একবার জীবাণু পরীক্ষা করতে হবে। আগে এই পরীক্ষা ৯০ দিন অন্তর করা হতো। নতুন নিয়মে পরীক্ষাগুলো অবশ্যই দক্ষ পেশাজীবীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত গ্রীষ্মে হারলেম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ জীবাণুজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দূষিত কুলিং টাওয়ার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের টাওয়ারও ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই জীবাণু বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র পানিকণার মাধ্যমে ছড়ায় এবং তা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। হারলেম ও ব্রঙ্কস এলাকায় এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ হিসেবে সেখানে উঁচু ভবনের ঘনত্ব, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। নগর প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শহরে প্রায় ছয় হাজার কুলিং টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ারের তদারকি জোরদার করতে অতিরিক্ত পরিদর্শক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৭ দিনের (১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৭ দিনে দেশে মোট ২ হাজার ৪০৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের জনস্বাস্থ্য খাতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারতে কনডম উৎপাদনে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা মূল্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই বিশাল শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য লুব্রিকেন্ট (সিলিকন অয়েল) ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাই এই সংকটের প্রধান কারণ। কনডম উৎপাদনে ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতিমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো প্যাকেজিং উপকরণের চড়া দাম ও সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে ২২১ কোটি ইউনিট উৎপাদন করে। ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির সরকার জ্বালানি ও শক্তি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কনডম শুধু একটি পণ্য নয়, এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ (STI) প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। কম মুনাফার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাজার এখন খাদের কিনারায়। দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে বা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোর ওষুধের দোকানে কনডমের সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মিততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে। উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।
দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) এই বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৮৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন চারজনসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। সংক্রমণ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (R0) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।