ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় কম খরচে খাবার কিনতে অনেক পরিবার ডলার স্টোরের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মানের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের গবেষকদের এই গবেষণা ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ডলার স্টোরের খাবারের সঙ্গে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার বেশি হারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষণার প্রথম লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যান বলেন, গ্রোসারি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ তুলনামূলক কম দামের এবং বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষকেরা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের ‘ফাইভ হান্ড্রেড সিটিজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য বিশ্লেষণ করেন। পাশাপাশি আবাসিক এলাকার কাছাকাছি কতগুলো ডলার স্টোর রয়েছে, সেটিও হিসাব করা হয়। কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ১০ মিনিটের গাড়ি চালানোর দূরত্বের মধ্যে থাকা ডলার স্টোরের সংখ্যাও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে ডলার স্টোরের উপস্থিতির সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রচলিত গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় ডলার স্টোরের সংখ্যা বেশি, সেখানে এই সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল।
তবে গবেষকেরা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। এই গবেষণা ডলার স্টোরের খাবার সরাসরি স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের কারণ প্রমাণ করেনি। বরং ডলার স্টোরের উপস্থিতি এবং এসব স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে একটি সম্পর্ক বা যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, সমস্যার সমাধান শুধু ডলার স্টোরের সংখ্যা কমানো নয়। বরং এসব দোকানেই তাজা ফলমূল, শাকসবজি এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সরবরাহ বাড়ানো যেতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব, কৃষকের বাজার এবং খাদ্য সহায়তা কেন্দ্রের সুযোগ বাড়ানোর মতো উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ছোট স্থানীয় মুদি দোকান রয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প পাওয়া যায়। এসব দোকানের প্রভাব গবেষণার তথ্যের মধ্যে পুরোপুরি ধরা পড়েনি। ফলে স্থানীয় ছোট দোকানগুলোর উপস্থিতি ডলার স্টোরের খাবারের ওপর নির্ভরতার প্রভাব কিছুটা কমিয়ে থাকতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।
খাদ্যবিজ্ঞানী ও নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ ড. শাই বিষ্ণুমোহন বলেন, মানুষ সাধারণত তাদের বাজেট, সময় এবং আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে খাবার নির্বাচন করে। তাই সাশ্রয়ী খাবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাবারও সহজলভ্য করা জরুরি।
গবেষকদের আশা, এই গবেষণা নীতিনির্ধারকদের কম আয়ের ও তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্যকর খাবারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করবে। তাদের মতে, মানুষের নাগালের মধ্যে কম দামে পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreবাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। তবে আদালতের এই রায়কে ৭৫ দেশের সব আবেদনকারীর ভিসা পজ তাৎক্ষণিকভাবে উঠে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। রায়ে সরাসরি মামলার বাদীর ভিসা আবেদন পুনরায় ব্যক্তিগতভাবে বিবেচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক অ্যামিট পি. মেহতা এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। মামলাটি করেন ব্রাজিলের নাগরিক নিউটন দে মোরাউ গোমেস এবং তার পরিবারের সদস্যরা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইবি-৫ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন করেছিলেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু স্থগিত করে। সরকারের যুক্তি ছিল, এসব দেশের আবেদনকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। নীতিটির আওতায় আবেদনকারীরা আবেদন জমা দিতে ও ইন্টারভিউ দিতে পারলেও ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখা হয়। বিচারক মেহতা তার রায়ে বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নীতি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তার মতে, একজন আবেদনকারী পাবলিক চার্জ হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আবেদন পর্যালোচনার মাধ্যমে নেওয়ার ক্ষমতা কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর blanket policy বা সামগ্রিকভাবে একটি দেশের নাগরিকদের ভিসা আটকে রেখে সেই ক্ষমতা সীমিত করতে পারে না। আদালত গোমেস পরিবারের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র দপ্তরকে তাদের আবেদন ব্যক্তিগতভাবে পুনরায় মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। আবেদনটি সম্পূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে তা পুনরায় বিচার করার নির্দেশ রয়েছে। তবে আদালত সরাসরি ভিসা দেওয়ার নির্দেশ দেননি। আবেদনকারীর ক্ষেত্রে অন্য কোনো আইনগত কারণে অযোগ্যতা পাওয়া গেলে কনস্যুলার কর্মকর্তা সেই বিষয় বিবেচনা করতে পারবেন। বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য এই রায়ের গুরুত্ব রয়েছে, কারণ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ৭৫ দেশের তালিকায় রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রায়টি নীতিটিকে বেআইনি ঘোষণা করলেও আদালতের আদেশে ৭৫ দেশের প্রতিটি আবেদনকারীর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা ইস্যু পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়নি। মামলাটির সরাসরি প্রতিকার গোমেস পরিবারকে কেন্দ্র করেই দেওয়া হয়েছে। এর আগে একই ভিসা পজ নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে আরও কয়েকটি মামলা হয়েছে। জুনে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত বাংলাদেশি এক আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছিল। আগস্টে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতও গোমেস ও উল্লাহ মামলার সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করে একই নীতির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ফলে বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের জন্য রায়টি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অগ্রগতি হলেও, ভিসা পজ পুরোপুরি উঠে গেছে বা সব আবেদনকারীর ভিসা এখনই ইস্যু হবে, এমন দাবি এই মুহূর্তে সঠিক নয়। নীতিটির ভবিষ্যৎ কার্যকারিতা এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন আরও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ‘টিচার অব দ্য ইয়ার’ আইসিই হেফাজতে, বন্ডে মুক্তি মেলেনি
ডলার স্টোরের খাবার নিয়ে সতর্কবার্তা, গবেষণায় নতুন তথ্য সাশ্রয়ী খাবারের আড়ালে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
মাসে আয় ১০ লাখ ডলার, অসুস্থ মা-বাবাকে রাজকীয় জীবন উপহার দিলেন ২৩ বছরের তরুণী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯ বছর বয়সী নাতনি কাই ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাকে এক ব্যক্তি বারবার বিরক্ত ও অনুসরণ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাই। এ ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পেয়েছেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বড় মেয়ে কাইয়ের আবেদনের পর ২৬ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রের বিরুদ্ধে এই আদেশ জারি করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম টিএমজেডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাইয়ের অভিযোগের পর এপ্রিল মাসে প্রথমে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। পরে মে মাসে আদালত সেই আদেশ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কার্যকর রাখে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গারজা কাইয়ের বাসস্থান, কর্মস্থল বা তিনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়বেন তার ৫০০ ফুটের মধ্যে যেতে পারবেন না। কাই যেসব অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, সেখানেও তার উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে কাইকে অনুসরণ, অনলাইনে হয়রানি বা তার শারীরিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এমন কোনো অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আদালতের আদেশে ওই ব্যক্তির আগ্নেয়াস্ত্র রাখার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কাইয়ের আবেদনের ভিত্তিতেই তার নিরাপত্তার জন্য এসব বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কাই সম্প্রতি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেছেন। শরৎ মৌসুমে মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। নতুন শিক্ষাজীবন শুরুর আগে নিরাপত্তা নিয়ে এমন উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আদালতের এই আদেশ তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে কাইয়ের জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবারই প্রথম নয়। ২০২৫ সালের জুনেও তাকে ঘিরে একটি ঘটনা সামনে এসেছিল। ওই সময় টেক্সাসের ২৩ বছর বয়সী অ্যান্থনি রেয়েস ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো এলাকায় ট্রাম্প পরিবারের সম্পত্তির সীমানার দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক মুখপাত্র সে সময় জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করার পর অ্যালার্ম সক্রিয় হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রেয়েস পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে ধর্মীয় বার্তা পৌঁছাতে এবং কাইকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে কাই এর আগেও জনসমক্ষে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন। লোগান পলের ‘ইমপলসিভ’ পডকাস্টে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, একবার জনসমক্ষে একজন ব্যক্তি তার কাছে এসে তার দাদাকে অপছন্দ করার কথা জানিয়েছিলেন। কাই আরও বলেন, ট্রাম্প পরিবারের সদস্য হওয়ায় অনেকে তাকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনেও বিচার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু পদবি দেখে কেউ তাকে মূল্যায়ন না করে ব্যক্তিগতভাবে জানার সুযোগ দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগের মুখে পড়েছেন। ট্রাম্পের ছোট ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকেও ২০২৬ সালে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ব্যারনকে খুঁজে বের করে হামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন এবং ৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাম্প পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ গত কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে দুটি হত্যাচেষ্টার পর তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা জোরালো হয়। মার-এ-লাগোসহ ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন সম্পত্তিতে অনুপ্রবেশের ঘটনাও এর আগে ঘটেছে। কাই ট্রাম্প বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ। গলফ খেলোয়াড় হিসেবেও তার পরিচিতি রয়েছে। ২০২৪ সালের রিপাবলিকান জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। ফলে জনসমক্ষে তার উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। সাম্প্রতিক আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল গারজা জুনিয়রকে ২০২৭ সালের মে পর্যন্ত কাইয়ের কাছ থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। তবে আদালতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সব বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। তাই অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে নয়, কাইয়ের করা অভিযোগ এবং তার ভিত্তিতে জারি হওয়া আদালতের সুরক্ষা আদেশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাড়ির দাম বাড়ায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান? যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের তালিকা প্রকাশ
ফ্লোরিডায় অভিনব প্রতারণা, গ্রেপ্তারের পর নারীর গোপনা ঙ্গে মিলল ৩২০০ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে পেপ্যাল প্রতারণায় দুই ভারতীয় দোষী সাব্যস্ত, স্থগিত ৫ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে যাওয়ার একটি ফ্লাইটের আগে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসা যাত্রীদের দীর্ঘ সারির একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্সের ব্যবহার ও সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভ্রমণবিষয়ক কমেন্টেটর প্রিয়েশ শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছবিটি প্রকাশ করেন। ছবিতে একটি ডিপার্চার গেটের কাছে বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে হুইলচেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের অনেককে বয়স্ক মনে হলেও কয়েকজনকে মধ্যবয়সী বা তুলনামূলক কম বয়সী বলেও দেখা যায়। ছবির সঙ্গে শর্মা লেখেন, “Flight to India (this is insane)।” ছবিটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানবন্দরের বিনামূল্যের হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স কি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে একই ফ্লাইটে এত বেশি যাত্রী একসঙ্গে এই সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শুধু চেহারা বা বয়স দেখে কোনো যাত্রীর হুইলচেয়ার সহায়তা প্রয়োজন নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। সব ধরনের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা চলাফেরার সমস্যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন বা ডট এর নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবন্ধী যাত্রী প্রয়োজন জানালে এয়ারলাইনকে বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। এই সহায়তার জন্য যাত্রীর কাছ থেকে আলাদা ফি নেওয়া যায় না। তবে ডট একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কোনো যাত্রীর প্রতিবন্ধিতা না থাকলে এবং শুধু সিকিউরিটি বা ইমিগ্রেশনে অগ্রাধিকার পাওয়ার উদ্দেশ্যে হুইলচেয়ার সেবা নেওয়া হলে এয়ারলাইন সেই সেবা দিতে বাধ্য নয়। প্রয়োজন নিয়ে যুক্তিসংগত সন্দেহ থাকলে এয়ারলাইন যাত্রীকে তার কী ধরনের সহায়তা প্রয়োজন এবং সেটি কীভাবে তার চলাফেরার সমস্যায় সহায়তা করছে, সে বিষয়ে জানতে চাইতে পারে। ফলে ভাইরাল ছবিটি বিমানবন্দরের এক্সেসিবিলিটি নিয়ে পুরোনো একটি প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের জন্য দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যদিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই সুবিধা নেওয়া হলে সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। তবে ভাইরাল ছবিতে থাকা যাত্রীদের কেউ হুইলচেয়ার সেবার অপব্যবহার করেছেন কি না, তা ছবিটি দেখে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একইভাবে ভারতীয়, বাংলাদেশি বা পাকিস্তানি যাত্রীদের মধ্যে এই সুবিধার অপব্যবহারের হার বেশি, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি পরিসংখ্যানও পাওয়া যায়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট কমিউনিটিকে দায়ী করার মতো তথ্য এই ছবিতে নেই। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের অধিকার এয়ার ক্যরিয়ার এক্সেস এক্ট এর আওতায় সুরক্ষিত। আইন অনুযায়ী এয়ারলাইনগুলোকে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হয়। ফলে হুইলচেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি প্রকৃত প্রয়োজন থাকা যাত্রীদের অধিকার ও এক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
টেক্সাসে ট্রাকের ট্রেইলারে লুকিয়ে রাখা ২০ অভিবাসী উদ্ধার, চালক আটক
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের নবজাতক সন্তানকে শ্বাসরোধে হ ত্যা করে ব্যাগে লুকিয়েছিলেন মৃ তদেহ, আদালতে মায়ের স্বীকারোক্তি