অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
রাশিয়ার দক্ষিণ ফ্রন্টে সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের নতুন প্রজন্মের মধ্য-পাল্লার ড্রোন হামলা রুশ লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করছে। ব্রিজ, ট্রেন ও জ্বালানি ট্রাকসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এসব হামলায় ক্রিমিয়া ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে সরবরাহ চেইনে উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ। ফরাসি ওপেন সোর্স বিশ্লেষক ক্লেমেন্ট মোলিন এবং স্বেচ্ছাসেবী OSINT গ্রুপ জিওকনফার্মডের তথ্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫০টি হামলার ভিডিও ও ছবি যাচাই করা হয়েছে। এসব ফুটেজে রুশ জ্বালানি ট্যাঙ্কার, সামরিক ট্রাক এবং রেল নেটওয়ার্কে ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পেছনের সরবরাহ রুটগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের “কিল জোন” তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মধ্য-পাল্লার ড্রোন মিশনের সংখ্যা ২৮ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের লক্ষ্য রুশ বাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা কমিয়ে আনা এবং দখলকৃত অঞ্চলের লজিস্টিক চেইন অকার্যকর করা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রিমিয়া থেকে রুশ মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক সড়ক এখন কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হাইওয়েতে জ্বালানি ট্যাঙ্কার ও সামরিক যানবাহনে নিয়মিত হামলার কারণে পরিবহন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ইউক্রেনের ড্রোন ইউনিটগুলো একাধিক সড়ক ও সেতু লক্ষ্য করে আঘাত হানায় বিকল্প রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে রুশ বাহিনী। তবে সেসব বিকল্প রুটও হামলার ঝুঁকির বাইরে নেই বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সামরিক সূত্র। ক্রিমিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগকারী কের্চ ব্রিজ এখন সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে আরও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই ড্রোন কৌশল রুশ বাহিনীর জন্য “লজিস্টিক লকডাউন” তৈরি করছে, যার ফলে সামনের সারিতে আক্রমণ চালানোর সক্ষমতা দুর্বল হচ্ছে। রুশ সামরিক ব্লগারদের দাবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ঘাটতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটে যান চলাচল সীমিত বা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সুবিধা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রাশিয়া প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও উন্নত করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে ইরাকের আটটি সূত্রের বরাতে বলা হয়, আগে ব্যবহৃত প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্ক এড়িয়ে এবার ছোট আকারের, আরও গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত সেল কাঠামো গড়ে তুলেছে আইআরজিসি। এসব সেল সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কাছে প্রতিবেদন দিচ্ছে। সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে, যার প্রতিটিতে রয়েছেন প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। এদের মাধ্যমে গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়ার মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা। বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে এমন অঞ্চলগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে জানায় ইরাকি সূত্রগুলো। তিন থেকে চারটি সেল গঠন করা হয়েছে—প্রতিটি সেলে রয়েছে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা। স্থানীয় নিরাপত্তা ও মিলিশিয়া কমান্ডারদের বরাতে বলা হয়, এসব যোদ্ধার একটি অংশ এসেছে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামের ছাতার সংগঠন থেকে, তবে নতুন সেলগুলো ওই কাঠামোর বাইরে স্বাধীনভাবে ও সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশে কাজ করছে। রয়টার্সকে তথ্য দেওয়া আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন ইরাকি সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডাররা। তাদের দাবি, নতুন এই কাঠামো ইরানের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বড় মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের পরিবর্তে ছোট ও নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে। ইরাক শিয়াপ্রধান দেশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানপন্থি একাধিক মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের নেটওয়ার্ক ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ ব্যানারে বিভিন্ন গোষ্ঠী ইতোমধ্যে ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলার পাল্টা জবাবে মার্কিন বাহিনীও বিমান হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ইরাকি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে, এসব নতুন সেল আরও গোপনীয়, ছোট এবং মতাদর্শিকভাবে কঠোর। তাদের মতে, ইরানের সম্পদ সীমিত হয়ে আসা এবং প্রক্সি নেটওয়ার্ক দুর্বল হওয়ার কারণে এই কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সম্প্রতি দেশটির সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্র ও বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানা যায়। তবে এসব গোষ্ঠীর অস্তিত্ব ও কার্যক্রম এখনো আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরাক সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন আইআরজিসি ও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াগুলোর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। রয়টার্স জানায়, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জি-৭ সম্মেলনে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ‘অনুনয়’ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘বানানো গল্প’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মেলোনি। ট্রাম্পের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি। দুই নেতার এই প্রকাশ্য বাকবিনিময় এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানকে ঘিরে মার্কিন নীতির প্রশ্নে গত কয়েক মাসে তাদের একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সের এভিয়াঁ-লে-বেঁ শহরে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনিকে দীর্ঘ সময় আলাপ করতে দেখা যায়। সম্মেলন শেষে ইতালির প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি এবং পারস্পরিক কোনো ক্ষোভও নেই। কিন্তু এরপর ইতালির টেলিভিশন চ্যানেল লা-৭-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, “উনি (মেলোনি) আমার সঙ্গে একটা ছবি তোলার জন্য অনুনয় করছিলেন; তার জন্য আমার মায়া হচ্ছিল।” এভিয়াঁর সম্মেলনে একাধিকবার দুই নেতাকে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করা হয়। একটি ছোট সোফায় বসে তাদের গভীর আলোচনায় মগ্ন থাকতেও দেখা যায়। সেসময় মেলোনিকে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, তাতেই হয়তো উনি খুশি।” তবে লা-৭ চ্যানেলটি ট্রাম্পের মূল ইংরেজি বক্তব্য প্রচার না করে তার ইতালীয় অনুবাদ সম্প্রচার করেছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তীব্র অবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন মেলোনি। ইনস্টাগ্রামে তার ৭০ লাখ অনুসারীর উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় তিনি বলেন, “আমি সত্যিই স্তম্ভিত।” তিনি আরও বলেন, “জানি না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কেন মিত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম নয়। মেলোনির ভাষায়, “আমি শুধু এটুকুই বলতে পারি, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমের শত্রুদের বিরুদ্ধে তিনি এই ধরনের দৃঢ়তা দেখান না, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। উল্টো ওই সব শত্রু দেশের নেতাদের প্রতি তার অনেক বেশি নরম মনোভাব দেখা যায়।” তিনি আরও বলেন, “তবে তার একটা জিনিস মনে রাখা উচিত: আমি বা ইতালি, কেউই কখনও কারও কাছে অনুনয় করে না।” এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে মেলোনির প্রতিক্রিয়া আকস্মিক নয়। এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনার কারণে দুই নেতার রাজনৈতিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন ২০২২ সালে ক্ষমতায় আসা মেলোনি। ইউরোপীয় ইউনিয়নও মেলোনিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাব্য সেতু হিসেবে দেখছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন মেলোনি। এর প্রেক্ষাপটে গত এপ্রিলে ইতালীয় দৈনিক ‘কোরিয়েরে দেল্লা সেরা’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমি ভেবেছিলাম তার সাহস আছে, কিন্তু আমার ভুল হয়েছিল।” পোপ চতুর্দশ লিওকে নিয়ে ট্রাম্প যখন ‘অপরাধ দমনে দুর্বল ও পররাষ্ট্রনীতিতে অত্যন্ত খারাপ’ হওয়ার অভিযোগ তোলেন, তখন মেলোনি ওই মন্তব্যকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছিলেন।ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারের পর ইতালির প্রেসিডেন্ট সের্জিও মাত্তারেল্লা অবিলম্বে মেলোনিকে ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দেন। ইতালির প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতারাও মেলোনির সমর্থনে এগিয়ে আসেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এমন অহংকারী সুরে কথা বলার অধিকার কারও নেই। ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে বলেন, ইতালি এই ধরনের অপমান প্রাপ্য নয়। ওয়াশিংটনের অনুকম্পা পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের বিনিময়ে হতে পারে না। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির সিনেট নেতা লুচো মালান বলেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য বিভিন্ন ইউরোপীয় নেতার প্রতি তার ধারাবাহিক আপত্তিকর আচরণেরই অংশ। এর ফলে অন্য কারও নয়, খোদ ট্রাম্পের ভাবমূর্তি ও কর্তৃত্বই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, জি-৭ সম্মেলনের ভিডিওতে যে পরিস্থিতি দেখা গেছে, তা ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রয়োজনের মুহূর্তে ওয়াশিংটনকে ‘না’ বলার যে নজির মেলোনি গড়েছেন, সেটিই সম্ভবত মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিরক্ত করেছে। সরকারের জোটসঙ্গী লিগ পার্টির নেতা মাত্তেও সালভিনি বলেন, “যিনি জর্জিয়াকে আক্রমণ করছেন, তিনি আমাদের সবাইকেই আক্রমণ করছেন।” মেলোনি ও ট্রাম্পের এই বিরোধকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একসময় ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি তুলনামূলক সহনশীল অবস্থান নিলেও এখন তারা প্রকাশ্যে ভিন্নমত জানাতে বেশি আগ্রহী। আফগানিস্তানে ব্রিটেন ও যৌথ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাম্প্রতিক সময়ে মেলোনিসহ আরও কয়েকজন ইউরোপীয় নেতা ইরানকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপের প্রকাশ্য সমালোচনা করেছেন। নিজেদের বিমানঘাঁটি মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহারের অনুমতি দিতেও অনেক ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়েছেন তারা। কূটনীতিকদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পর ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে আরও দৃঢ় মনোভাব গড়ে উঠেছে। আটলান্টিকের ওপারের মিত্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার পরিবর্তে ইউরোপ কীভাবে কৌশলগতভাবে আরও স্বনির্ভর হতে পারে, তা নিয়ে মহাদেশটির বিভিন্ন রাজধানীতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইউরোপজুড়ে আসন্ন নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রনেতাদের অবস্থানেও সেই রাজনৈতিক প্রবণতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ফলে ইউরোপের যেসব ডানপন্থি রাজনৈতিক দল একসময় ট্রাম্পপন্থী শিবিরকে রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে বিবেচনা করত, তারাও এখন মার্কিন রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখছে।