সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ধর্মীয়স্বাধীনতা

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে ভিজন পার্টি। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ভিজন পার্টি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলেছে, মুসলিমদের শুধু অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরা সুইডিশ সমাজের নাগরিক, পেশাজীবী, অভিভাবক ও ভোটার এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অধিকারও অন্য নাগরিকদের মতোই সুরক্ষিত হওয়া উচিত।   ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিজন পার্টি সংখ্যালঘু অধিকার, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পরিবারনীতি এবং সমতার বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। নির্বাচনের আগে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এবারের নির্বাচন সুইডেনের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।   দলটির অভিযোগ, সুইডেনের রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম, মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্রবাদকে অনেক সময় একই আলোচনার মধ্যে আনা হচ্ছে। ভিজন পার্টির মতে, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা দুটি আলাদা বিষয়। তাদের আশঙ্কা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আড়ালে সাধারণ মুসলিম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।   এদিকে সুইডেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা রিচার্ড জোমশফ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আগস্টে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছিল, জোমশফ এক সাক্ষাৎকারে সুইডিশ মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক মূল্যবোধ।   জোমশফ অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামকে সুইডেনের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচনের আগে ইসলাম নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলাম ও তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।   এই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই ভিজন পার্টি জানিয়েছে, তারা সুইডেনে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলেছে। দলটির দাবি, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার অধীন তিনজন বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে ২১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে। সেখানে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে ৮৮টি তথ্যসূত্র ও নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির ভাষ্য, তারা সুইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম নিষিদ্ধ করার অভিযোগ করছে না। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুইডিশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাতে পারেন।   তবে সুইডেনে ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে শুধু ভিজন পার্টির অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। রিচার্ড জোমশফের বক্তব্য নিয়ে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক অধিকার।   জোমশফের বক্তব্যের পক্ষে তাঁর দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অকেরসনও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিতর্কে জোমশফের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।   এর আগে ইসলাম নিয়ে জোমশফের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সুইডেনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসলামকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। ২০২৪ সালেও ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।   ভিজন পার্টি বলেছে, মুসলিমদের জন্য তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না। তাদের দাবি মূলত সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন। দলটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন এবং মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।   দলটি ধর্মীয় বৈষম্য ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পোশাক, উপাসনা কিংবা মুসলিমদের পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদে আসন পাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, মুসলিমদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সুইডেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।   সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভিজন পার্টির অবস্থান এবং জোমশফের ইসলামবিষয়ক বক্তব্য দেশটির নির্বাচনী বিতর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এসভিটি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের হারলেমে একটি অনুষ্ঠানে কুরআনের কপি ছেঁড়ার ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের গির্জায় আবারও কুরআন ছিঁড়লেন ট্রাম্পের ক্ষমাপ্রাপ্ত জেক ল্যাং

নিউইয়র্কের হারলেম এলাকায় একটি গির্জায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুরআনের একটি কপি ছেঁড়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন অধিকারকর্মী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাটিতে জড়িত হিসেবে ডানপন্থী কর্মী জেক ল্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে।   প্রকাশিত ভিডিও ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুষ্ঠানের সময় ল্যাং কুরআনের একটি কপি হাতে নিয়ে সেটি ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় তিনি মুসলিমদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক বক্তব্যও দেন। তবে ঘটনাটির পূর্ণ ভিডিও, অনুষ্ঠানের আয়োজক এবং ল্যাংয়ের বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট নিয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই এখনো সীমিত।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের হারলেম এলাকার একটি গির্জায় হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বরের একটি গির্জার অনুষ্ঠান সম্পর্কেও অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জেক ল্যাংয়ের উপস্থিতির উল্লেখ রয়েছে।   জেক ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের একজন ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তিনি প্রায় চার বছর হেফাজতে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ জানুয়ারির ঘটনায় অভিযুক্ত ও দণ্ডিত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষমা ঘোষণা করলে ল্যাংও মুক্তি পান।   কারাগার থেকে মুক্তির পর ল্যাং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে ইসলাম ও মুসলিমদের বিরোধিতা করে সমাবেশ আয়োজনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক, মিশিগান ও মিনেসোটাসহ বিভিন্ন এলাকায় তার নেতৃত্বে বা অংশগ্রহণে ইসলামবিরোধী কর্মসূচির খবর প্রকাশিত হয়েছে।   এর আগে মার্চে নিউইয়র্কের গ্রেসি ম্যানশনের বাইরে ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একটি ইসলামবিরোধী সমাবেশকে কেন্দ্র করে পাল্টা বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার একপর্যায়ে দুটি সন্দেহজনক বিস্ফোরক ডিভাইস ছোড়া হয়। নিউইয়র্ক পুলিশ পরে একটি ডিভাইসকে বিস্ফোরক হিসেবে শনাক্ত করে। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেসি ম্যানশনের ওই সমাবেশে ল্যাংয়ের কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল নিউইয়র্কে কথিত ‘ইসলামিক দখল’ বা ইসলামায়নের বিরোধিতা। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি তখন ল্যাংয়ের কর্মসূচিকে বিদ্বেষ ও বর্ণবাদের সঙ্গে যুক্ত বলে সমালোচনা করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি পাল্টা বিক্ষোভে সহিংসতারও নিন্দা জানান।   সাম্প্রতিক হারলেমের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় বিদ্বেষের সীমা নিয়ে বিতর্ক চলছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী ব্যাপক মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করলেও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক দীর্ঘদিনের।   বিশেষ করে ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার মতো কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। একদিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন থাকে, অন্যদিকে কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে হারলেমের ঘটনাটিও এই বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে উঠেছে।   তবে এখন পর্যন্ত হারলেমের ঘটনায় নিউইয়র্ক পুলিশ বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা কোনো মামলা বা তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে গির্জা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।   এদিকে জেক ল্যাংয়ের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। আগস্টে মিশিগানের ডিয়ারবর্নে তার নেতৃত্বে ইসলামবিরোধী সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদে এসেছে।   হারলেমের সর্বশেষ ঘটনাটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় গ্রন্থ ছেঁড়ার ঘটনা হিসেবে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান বিতর্কের নতুন একটি উদাহরণ হিসেবেও আলোচনায় এসেছে। তবে ঘটনার আইনগত পরিণতি বা কর্তৃপক্ষের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।   সূত্র: মিশরভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মাসরাওয়ি, সিবিএস নিউজ, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের কার্যালয় এবং অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
অস্ট্রিয়ার স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের হিজাব পরা নিষিদ্ধ, না মানলে জরিমানা ৮০০ ইউরো

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী ছাত্রীদের স্কুলে হিজাব বা ইসলামি রীতিতে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় স্কুলেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। আইনটি নিয়ে দেশটির মুসলিম সংগঠনগুলোর তীব্র আপত্তি রয়েছে এবং বিষয়টি সাংবিধানিক আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   অস্ট্রিয়ার সংশোধিত স্কুলশিক্ষা আইনের ৪৩এ ধারায় বলা হয়েছে, ১৪ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ছাত্রী স্কুলে ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী মাথা আবৃত করে এমন হেডস্কার্ফ পরতে পারবে না। তবে স্কুলের বাইরে অনুষ্ঠিত শিক্ষা কার্যক্রম, বাড়িতে শিক্ষা এবং স্কুলের বাইরে আয়োজিত শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।   সরকারের ভাষ্য, আইনটির লক্ষ্য মুসলিম মেয়েদের স্বাধীনতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সমতা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ওপর ধর্মীয় বা সামাজিক চাপ কমানো। ক্ষমতাসীন অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও নিওসের জোট সরকার এই আইন প্রণয়ন করে। পার্লামেন্টে এটি পাস হওয়ার সময় ডানপন্থি ফ্রিডম পার্টিও সমর্থন দেয়।   তবে দেশটির প্রধান মুসলিম সংগঠন ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটি ইন অস্ট্রিয়া বা আইজিজিও এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। সংগঠনটির মতে, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ তৈরি করছে এবং বিশেষভাবে মুসলিম ছাত্রীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা মনে করে, শিশুদের সুরক্ষার কথা বলা হলেও এই পদক্ষেপ উল্টো সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   আইজিজিও জানিয়েছে, নতুন আইনের কারণে কোনো ছাত্রী বা পরিবারের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তারা আইনি সহায়তা দেবে। সংগঠনটি আইনটি সাংবিধানিক আদালতে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে।   এর আগে অস্ট্রিয়ায় স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ আদালতের বাধার মুখে পড়েছিল। ২০২০ সালে দেশটির সাংবিধানিক আদালত ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে। আদালত তখন বলেছিল, ওই বিধান একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গোষ্ঠীর শিশুদের আলাদাভাবে প্রভাবিত করে এবং রাষ্ট্রের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   নতুন আইন নিয়ে আইজিজিওর করা আগের দুটি আবেদনও জুলাইয়ে আদালত গ্রহণ করেনি। তবে এর কারণ ছিল আইনটি তখনো কার্যকর না হওয়া। অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত জানায়, ১ সেপ্টেম্বর আইন কার্যকর হওয়ার আগে আবেদনকারীরা সরাসরি ওই আইনের আওতায় পড়ছিলেন না। ফলে তখন তাদের আবেদন করার আইনি যোগ্যতা তৈরি হয়নি।   আইন কার্যকর হওয়ার পর স্কুলগুলোতে নিয়ম ভাঙার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথমবার কোনো ছাত্রী হিজাব পরে স্কুলে এলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে তা খুলে ফেলতে বলবে এবং ছাত্রী ও তার অভিভাবকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবে। পুনরায় নিয়ম ভাঙলে শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং আরও একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। একাধিকবার নিয়ম ভাঙার পর শেষ পর্যায়ে অভিভাবকের ওপর ১৫০ থেকে ৮০০ ইউরো পর্যন্ত প্রশাসনিক জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। জরিমানা আদায় করা সম্ভব না হলে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহের বিকল্প কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে।   নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শিক্ষকদের ওপর এমন একটি নিয়ম কার্যকর করার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলে তাদের মূল শিক্ষাদান কার্যক্রমে চাপ বাড়তে পারে। বিরোধী গ্রিন পার্টির রাজনীতিক সিগি মাউরারও শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত দায় চাপানোর সমালোচনা করেছেন।   অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রী ক্রিস্টফ ভিডারকেয়ার স্বীকার করেছেন, আইনটি সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জে টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তার দাবি, আইনটি সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ব্যাপক পরামর্শ করেছে।   নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগেই ভিয়েনায় এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১১ বছর বয়সী এক ছাত্রীর হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘আমার হিজাব, আমার পছন্দ’। আইনটির বিরোধীরা বলছেন, ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে শিশু ও পরিবারের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   অস্ট্রিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষ ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনা, লোয়ার অস্ট্রিয়া ও বুর্গেনল্যান্ডে শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য অঞ্চলের স্কুলগুলো পরবর্তী সপ্তাহে খুলছে। ফলে নতুন আইনটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হয় এবং এর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জে আদালতের অবস্থান কী হয়, তা এখন নজরে রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য নিউ অ্যারা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।   মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।   তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।   মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
টেক্সাসের দুই বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর সুবিধা নিয়ে আপত্তি। ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে মুসলিমদের ওজু সুবিধা নিয়ে আপত্তি, বিচার বিভাগে গেলেন টেক্সাসের গভর্নর

টেক্সাসের ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর জন্য থাকা সুবিধা নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের তদন্ত চেয়েছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। শুক্রবার, ২১ আগস্ট, দুই সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরের এসব সুবিধাকে ধর্মীয় বৈষম্যমূলক বলে দাবি করে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।    অ্যাবটের অভিযোগ, বিমানবন্দর দুটির ওজু সুবিধা একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। তার ভাষ্য, সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দর কোনো একটি ধর্মকে অন্য ধর্মের তুলনায় অগ্রাধিকার দিতে পারে না। তিনি মার্কিন বিচার বিভাগকে বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।    এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওজু বা ইসলামী ধর্মীয় পবিত্রতার জন্য পানি দিয়ে হাত, মুখ ও পা ধোয়ার ব্যবস্থা। ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দরে আগে থেকেই দুটি ওজু স্টেশন চালু রয়েছে। নতুন করে আরও কয়েকটি স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পরিকল্পনা বাতিল করে।    অন্যদিকে, হিউস্টনের জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল ডিতে ২০২৪ সাল থেকে একটি ওজু কক্ষ এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত নামাজের কক্ষ চালু রয়েছে। হিউস্টন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব সুবিধা শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়। টার্মিনাল ডিতে প্রবেশাধিকার থাকা সব ধর্মের যাত্রী, কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।    হিউস্টনের মেয়র জন হুইটমায়ারও অ্যাবটের অভিযোগের জবাবে বলেছেন, বিমানবন্দরের এই সুবিধা নির্মাণে নগরীর করদাতাদের অর্থ, রাজ্য অনুদান কিংবা ফেডারেল অনুদান ব্যবহার করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনগুলোর কাছ থেকে নেওয়া ফি দিয়ে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় এটি তৈরি করা হয়েছে।    অ্যাবট এর আগে বিমানবন্দর দুটির এসব ধর্মীয় সুবিধা নিয়ে রাজ্য অনুদান পর্যালোচনার ঘোষণা দেন এবং মার্কিন পরিবহন বিভাগ ও ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের কাছে তদন্তের অনুরোধ জানান। তার ওই পদক্ষেপের পর ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থ বিমানবন্দর অতিরিক্ত ওজু সুবিধা স্থাপনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।    এবার বিষয়টি মার্কিন বিচার বিভাগের কাছে পাঠানোয় বিতর্কটি ফেডারেল পর্যায়ে গড়াল। বিচার বিভাগ অভিযোগটি কীভাবে পর্যালোচনা করবে এবং বিমানবন্দর দুটির বিদ্যমান ওজু সুবিধা নিয়ে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব খুলতে বাধ্য করায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে দুই মুসলিম নারীর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং অরেঞ্জ কাউন্টি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন (ইউসি আরভিন) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের পর বুকিং প্রক্রিয়ার সময় তাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল।   বাদী দুই নারীর নাম সালমা নাসুরউদ্দিন এবং শেনাই আইনি। মামলাটি দায়েরে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, লস অ্যাঞ্জেলেস (CAIR-LA) এবং এশিয়ান ল' ককাস। মামলায় ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ইউসি আরভিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মীর সঙ্গে এই দুই নারীও গ্রেপ্তার হন। পরে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর বুকিংয়ের জন্য তাদের হিজাব খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।   আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হিজাব ছাড়া তোলা ছবিগুলো এমন একটি ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে পুরুষ কর্মীদেরও সেগুলো দেখার সুযোগ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এটি তাদের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় আঘাতের কারণ।   অন্যদিকে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের বুকিং প্রক্রিয়ায় অনুসৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা সবার জন্য একই। বিভাগের দাবি, হিজাব অপসারণের প্রয়োজন হলে তা ব্যক্তিগত কক্ষে এবং নারী ডেপুটিদের উপস্থিতিতেই করা হয়, যা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মানসম্মত পদ্ধতির অংশ।   এদিকে মামলাটি আদালতে যাওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেন, বাদীদের হিজাববিহীন ছবি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না, জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না এবং সংরক্ষিত ছবিতে তাদের চুল, ঘাড় ও কান আড়াল করতে হবে।   নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই মামলা শুধু দুই নারীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল ছবি
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ইফতার

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নির্দেশনা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ আইন বিভাগের ডিন অঞ্জু ভালি টিকু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগে থেকে পরিকল্পিত একটি ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে একদল শিক্ষার্থী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ক্যাম্পাসের খোলা জায়গায় প্রতিবাদী ইফতারের আয়োজন করেন।   বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাউথ ক্যাম্পাসের ডিরেক্টর রজনী আব্বি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলে পরবর্তীতে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘না’ বলা কঠিন হয়ে পড়বে এবং এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা এই যুক্তিকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে জানান, এর আগে ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা ও গণেশ পূজা উদযাপিত হলেও তখন নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠেনি।   আয়োজক শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ইফতার কেবল মুসলমানদের নয়, বরং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনুষ্ঠান ছিল। ইফতারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে শিক্ষার্থী নাদিম নাকি মহাত্মা গান্ধীর লবণ আইন ভঙ্গের উদাহরণের সাথে তুলনা করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতের জাতীয় যুব কংগ্রেসের সমন্বয়কসহ অনেক সাবেক শিক্ষার্থীও এই প্রতীকী ইফতারে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন।   উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, স্লোগান ও মশাল মিছিল নিষিদ্ধ করে একটি নোটিশ জারি করেছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশনাটি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ইফতার বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

তাবাস্সুম মার্চ ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০