- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউ জার্সি
নিউ জার্সিতে ফেডারেল এজেন্ট সেজে মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে প্রতারকেরা। ফোনের স্ক্রিনে সরকারি অফিসের নম্বর দেখানোর পাশাপাশি তারা ব্যবহার করছে প্রকৃত এজেন্টদের নাম। এই কৌশল নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সতর্ক করেছে এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। এফবিআই জানিয়েছে, প্রতারকেরা নিজেদের এফবিআই, মাদকবিরোধী সংস্থা ডিইএ কিংবা সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কলার আইডিতে সংস্থার আসল নম্বর দেখানো হচ্ছে। কেউ অফিসে ফোন করে উল্লেখ করা এজেন্টের নাম জানতে চাইলে জানতে পারেন, ওই নামে সত্যিই একজন কর্মী আছেন। কিন্তু তাতে আগের ফোনটি তাঁর কাছ থেকেই এসেছিল বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। একটি ঘটনায় ভিডিও কলের পেছনের দৃশ্যও এফবিআই অফিসের মতো সাজানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেখানে টেবিল, এফবিআইয়ের প্রতীক এবং স্যুট পরা একজনকে দেখা যায়। এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য ছিল পরিচয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা। এফবিআইয়ের পরামর্শ, এমন ফোন পেলে প্রতারকের দেওয়া নম্বর ব্যবহার না করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার অফিসিয়াল নম্বর নিজে খুঁজে যোগাযোগ করতে হবে। শুধু ওই নামে এজেন্ট কাজ করেন কি না, তা জেনে থামলে চলবে না; তিনি সত্যিই ফোন করেছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে কেউ টাকা চাইলে তা পাঠাতে নিষেধ করেছে সংস্থাটি। সমস্যাটির পরিসরও বড়। এফবিআইয়ের ইন্টারনেট ক্রাইম কমপ্লেইন্ট সেন্টারের হিসাবে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তার পরিচয়ে প্রতারণার প্রায় ৬১ হাজার অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে জানানো মোট আর্থিক ক্ষতি ১৬০ কোটি ডলারের বেশি। সংখ্যাটি সব ধরনের সরকারি কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগের, শুধু নিউ জার্সির নতুন কৌশলটির নয়।
নিউ জার্সির ম্যানালাপান হাইস্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আইজা হাসান যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জের সেরা ৩০০ জুনিয়র উদ্ভাবকের তালিকায় স্থান পেয়েছে। অষ্টম শ্রেণিতে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলে পড়ার সময় মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ নিয়ে করা গবেষণার জন্য এই জাতীয় স্বীকৃতি পেয়েছে আইজা। সোসাইটি ফর সায়েন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ৯৯৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্র ও এর বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আইজা তাদেরই একজন। আইজার গবেষণার বিষয় ছিল ‘নেচার’স সলিউশন টু মাইক্রোপ্লাস্টিকস: ইকো-ফ্রেন্ডলি রিমুভাল অব মাইক্রো-অ্যান্ড ন্যানোপ্লাস্টিকস ইউজিং প্ল্যান্ট অ্যান্ড ফাঙ্গাই-ডেরাইভড বায়োপলিমারস’। অর্থাৎ উদ্ভিদ ও ছত্রাক থেকে তৈরি বায়োপলিমার ব্যবহার করে পানি থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ন্যানোপ্লাস্টিক পরিবেশবান্ধব উপায়ে অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছে সে। সোসাইটি ফর সায়েন্সের প্রকাশিত তালিকায় আইজাকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে মার্লবোরো মেমোরিয়াল মিডল স্কুলের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। তার গবেষণাটি ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিযোগিতায় পৌঁছায়। ডেলাওয়্যার ভ্যালি সায়েন্স ফেয়ারের ২০২৬ সালের ফলাফলেও আইজার নাম রয়েছে। থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক জুনিয়র ইনোভেটরস চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক গবেষণা প্রতিযোগিতা। সোসাইটি ফর সায়েন্স পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে সোসাইটি-অনুমোদিত বিজ্ঞান মেলায় নিজেদের গবেষণা উপস্থাপন করতে হয়। স্থানীয় বিজ্ঞান মেলায় শীর্ষ ১০ শতাংশের মধ্যে থাকা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় আবেদন করার সুযোগ পায়। ২০২৬ সালের সেরা ৩০০ শিক্ষার্থী ৩৪টি অঙ্গরাজ্য, পুয়ের্তো রিকো ও গুয়াম থেকে নির্বাচিত হয়েছে। তাদের গবেষণার বিষয়ের মধ্যে পরিবেশ, প্রকৌশল, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণও এবারের নির্বাচিত গবেষণাগুলোর অন্যতম বিষয়। সোসাইটি ফর সায়েন্স জানিয়েছে, সেরা ৩০০ থেকে ৩০ জনকে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তারা অক্টোবর মাসে ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালস উইকে অংশ নেবে। তবে আইজা সেরা ৩০০-তে স্থান পেলেও চূড়ান্ত ৩০ জনের তালিকায় তার নাম রয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনের জন্য ব্যবহৃত তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। পরিবেশ দূষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে অল্প বয়সে গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পাওয়া আইজা হাসানের এই অর্জন তার বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক।
শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়ে নিউ জার্সির সার্ফ সিটির রাস্তায় পানি জমেছে। এর মধ্যে প্লাবিত একটি রাস্তায় হাঙরের মতো একটি প্রাণী সাঁতার কাটার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্ট এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে প্রাণীটিকে রাস্তার জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে একটি বাড়ির গাড়ি রাখার জায়গার দিকে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ ১২ জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের এক দর্শক পাঠিয়েছেন। প্রাণীটি হাঙর কি না, তা নিশ্চিত না হওয়ায় তারা এটিকে সম্ভাব্য হাঙর দেখা যাওয়ার ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। এদিকে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ঝড়ের প্রভাবে নিউ জার্সির উপকূলে প্রবল বাতাস, উঁচু ঢেউ ও জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। নিচু উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকে রাস্তা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিও ছিল। ভাইরাল ভিডিওতে প্রাণীটির পরিচয় নিয়ে আলোচনা চললেও এর প্রজাতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড ও পেনসিলভানিয়ায় শক্তিশালী উপকূলীয় ঝড়ে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর শত শত ফ্লাইট বাতিল হয়। ঝড়ের একপর্যায়ে এক লাখের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার রাত পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট ৪৪৫টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৩ হাজার ১৬টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়। বোস্টনের লোগান বিমানবন্দরেও বহু ফ্লাইট বাতিল হয়। শনিবার রাতের পরের হিসাবে ওই ছয় রাজ্যে ৭৩ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ছিল না। এর আগে দিনের একপর্যায়ে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন গ্রাহকের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছিল। ভারী বৃষ্টি ও দমকা বাতাসে নিউ জার্সির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় পানি ঢুকেছে। আবহাওয়া বিভাগ উপকূলীয় বন্যা ও প্রবল স্রোতের বিষয়ে সতর্ক করেছে। ঝড়ের আগেই নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির গভর্নররা বেশি ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা কয়েকটি এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে স্থানীয়ভাবে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, রোববার রাত পর্যন্ত এ ঝুঁকি থাকতে পারে। তবে ‘আকস্মিক বন্যার সতর্কবার্তা’ জারি হয়েছে বলে উল্লেখ করেনি দপ্তরটি। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে রোববার রাত পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটিতে আরও ২ থেকে ৪ ইঞ্চি এবং আশপাশের অনেক এলাকায় দেড় থেকে ৩ ইঞ্চি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানানো হয়েছে। বৃষ্টির কোনো কোনো অংশে অল্প সময়ে বেশি পানি জমতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউ জার্সির উপকূলীয় কিছু এলাকায় উপকূলীয় বন্যার পৃথক সতর্কবার্তা কার্যকর রয়েছে। জোয়ারের পানিতে উপকূল প্লাবিত হওয়ার এই সতর্কবার্তা ভারী বৃষ্টির কারণে সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থেকে আলাদা। বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্য দেখতে এবং পানিতে ডুবে থাকা সড়ক এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নিচু এলাকা ও পানি জমার প্রবণতা থাকা পথে চলাচলের আগে পরিস্থিতি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার উদ্দেশ্যে এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে ভুয়া বিয়েতে জড়ানোর কথা আদালতে স্বীকার করেছেন রোমানিয়ার এক নারী। নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটির বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আন্তোনিয়া-বিয়াত্রিস মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়, নিউ জার্সি জেলার তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ক্যামডেনের ফেডারেল আদালতে বিচারক ক্রিস্টিন পি. ও'হার্নের সামনে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তিনি মার্কিন নাগরিক ভিক্টর পুরিলার সঙ্গে এমন একটি বিয়েতে জড়িয়েছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পথ তৈরি করা। মিরচেয়া ও পুরিলা ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে বিয়ে করেন। পরের বছর ২০২৫ সালের জুনে তারা আটলান্টিক সিটির বোর্ডওয়াক এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য যৌথভাবে ভাড়ার চুক্তিও করেন। বাইরে থেকে দেখলে এতে তাদের একসঙ্গে বসবাসের প্রমাণ তৈরি হচ্ছিল। কিন্তু আদালতের নথি অনুযায়ী, বাস্তবে পুরিলা ওই অ্যাপার্টমেন্টে মিরচেয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন না। তিনি কাছের শহর অ্যাবসিকনে নিজের পরিবারের বাড়িতে থাকতেন। পরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেওয়া নথিতে অবশ্য দুজনই দাবি করেন, তারা আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে একসঙ্গে থাকেন। ২০২৫ সালের আগস্টের দিকে পুরিলা মিরচেয়ার জন্য অভিবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের কাছে ফরম আই-১৩০ জমা দেন। ওই ফরমে তিনি মিরচেয়ার সঙ্গে আটলান্টিক সিটিতে একই বাসায় বসবাস করার কথা উল্লেখ করেন। মিরচেয়াও পরে ফরম আই-৪৮৫-এ একই ধরনের তথ্য দেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে অবশ্য তাদের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির অসঙ্গতি পাওয়া যায়। আদালতের নথি অনুযায়ী, পুরিলার মোবাইল ফোন ও গাড়ির অবস্থান পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, বেশিরভাগ রাতেই সেগুলো অ্যাবসিকনে ছিল। এর ভিত্তিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, তিনি আটলান্টিক সিটির ওই অ্যাপার্টমেন্টে নিয়মিত বসবাস করতেন না। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা মিরচেয়া ও পুরিলাকে আলাদাভাবে সাক্ষাৎকার নেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, কীভাবে তাদের পরিচয় হয়েছিল, তারা কীভাবে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পুরিলা কত ঘন ঘন তাঁর বাবা-মায়ের বাড়িতে যেতেন এবং তারা কীভাবে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন, এসব বিষয়ে দুজনের বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া যায়। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, এসব তথ্য ও কর্মকাণ্ড তাদের বিয়েটি প্রকৃত দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য ছিল না, বরং অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। শেষ পর্যন্ত মিরচেয়া বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এই মামলায় পুরিলার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং বিবাহ জালিয়াতির অভিযোগের বিচার এখনো চলমান। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, পুরিলা এর আগে ২০১৪ সালে এক বুলগেরিয়ান নাগরিককে বিয়ে করেছিলেন। ওই নারী পরবর্তীতে সেই বিয়ের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন। ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মিরচেয়ার বিরুদ্ধে বিবাহ জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা এবং তিন বছর পর্যন্ত তত্ত্বাবধানে মুক্তির বিধান রয়েছে। তবে এগুলো সর্বোচ্চ শাস্তি, চূড়ান্ত সাজা নয়। তাঁর সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি। মামলাটির তদন্ত করেছে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের নিউয়ার্ক কার্যালয়। নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নি রবার্ট ফ্রেজার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রকৃত সম্পর্কের পরিবর্তে কাগুজে বা সাজানো বিয়ের ব্যবহার ফেডারেল আইনে অপরাধ। এই মামলাতেও প্রসিকিউটরদের মূল অভিযোগ ছিল, বিয়েটিকে অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে মিরচেয়া দোষ স্বীকার করলেও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আগামী বছরের জানুয়ারিতে তাঁর সাজা ঘোষণার পরই আদালত তাঁর ক্ষেত্রে কী শাস্তি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারণ করবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, নিউ জার্সি জেলার মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয়; ফেডারেল আদালতের নথি
নিউ জার্সির ডেলানি হল আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে দুই মাসের বেশি সময় আটক থাকার কারণে নিজের প্রম, হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েশন এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক মুহূর্ত মিস করেছেন ১৮ বছর বয়সী স্পেনের নাগরিক আদ্রিয়ানা জুম্বা। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ডিটেনশনে থাকার পর মুক্তি পেয়ে গ্রীষ্মকালীন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করেন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত হাইস্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরে তার স্কুল আলাদাভাবে তার জন্য গ্র্যাজুয়েশন আয়োজন করে। স্পেন থেকে ৯ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা জুম্বার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই। তার স্পেশাল ইমিগ্র্যান্ট জুভেনাইল স্ট্যাটাসও অনুমোদিত ছিল। এই স্ট্যাটাস নির্যাতন, অবহেলা বা পরিত্যাগের শিকার নির্দিষ্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আইনি সুরক্ষার একটি ব্যবস্থা। তবুও চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে আইসিই হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরে ডেলানি হলে রাখা হয়। ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে জুম্বা জানান, ৯ এপ্রিল তাকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি নিজের হাইস্কুলের শেষ বছর শেষ করছিলেন। ২৮ মে তার সহপাঠীদের সঙ্গে গ্র্যাজুয়েশন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিটেনশনে থাকায় সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত মুক্তির পর পড়াশোনার ঘাটতি পূরণ করতে সামার স্কুলে ভর্তি হন। ডেলানি হলে থাকার সময় খাবার ও পানির মান, অতিরিক্ত ভিড় এবং কমিসারি পণ্যের দাম নিয়ে জুম্বা অভিযোগ করেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, কিছু কর্মীর আচরণও ছিল দুর্ব্যবহারপূর্ণ। তিনি বলেন, কখনো কখনো পাহারাদাররা চিৎকার করে আটক ব্যক্তিদের ঘুম থেকে জাগাতেন এবং এমন খাবার সামনে খেতেন, যা আটক ব্যক্তিদের দেওয়া হতো না। ডিটেনশনে থাকা অবস্থায় অন্য আটক ব্যক্তিদের জন্য অনুবাদ করেও সময় কাটিয়েছেন জুম্বা। অনেক আটক ব্যক্তি ইংরেজিতে কথা বলতে না পারায় বিভিন্ন নথি বুঝতে তাদের সহায়তা করতেন তিনি। ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে তাকে ডেলানি হলের ভেতরে এক ধরনের অনানুষ্ঠানিক অনুবাদক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ডেলানি হলে আটক ব্যক্তিদের একটি হাঙ্গার স্ট্রাইকেও অংশ নিয়েছিলেন জুম্বা। ডিটেনশন সেন্টারের পরিস্থিতির প্রতিবাদে আটক ব্যক্তিদের এই কর্মসূচি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে। তবে জুম্বার বক্তব্য অনুযায়ী, যারা খাবার খেতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে চার্জ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে তিনি হাঙ্গার স্ট্রাইক থেকে সরে আসেন। ডেলানি হলের পরিস্থিতি নিয়ে সে সময় বাইরে থেকেও প্রতিবাদ হয়। মে মাসে শত শত আটক ব্যক্তি খাবার ও কাজ বর্জনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে ডেমোক্রেসি নাও জানিয়েছে। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ডিটেনশনের পরিবেশ এবং তাদের মামলার প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। ডেলানি হল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপ পরিচালিত একটি আইসিই ডিটেনশন সেন্টার। জুম্বার ঘটনা সামনে আসার পর তার পরিবার ও অভিবাসন অধিকারকর্মীরাও তার মুক্তির জন্য কাজ করেন। ইউনিভিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মা, মুভিমিয়েন্তো কোসেচা এবং নিউ জার্সির কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। স্পেনের নিউইয়র্ক কনস্যুলেটও তার বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। ১ জুন ডিটেনশন থেকে মুক্তি পান জুম্বা। তবে মুক্তির পরও স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার কাজ বাকি ছিল। সামার স্কুলে গিয়ে তিনি সেই ঘাটতি পূরণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরে তার স্কুল শুধু তার জন্য একটি গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ডিটেনশনের অভিজ্ঞতা জুম্বার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছে। এখন তিনি আইন নিয়ে পড়াশোনা করতে চান। বিশেষ করে নিজের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মানুষদের আইনি সহায়তা করার লক্ষ্য নিয়েছেন তিনি। জুম্বা বলেন, তার অভিজ্ঞতা তাকে নিজের শক্তি সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। জীবনে কিছু করার সুযোগ পাওয়ায় এবং নিজের মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য মানুষদের সাহায্য করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন। সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার। ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেসাইয়ের আইনজীবী র্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে। সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই। সূত্র: এনজে ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ল্যানোকা হারবারের ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহল ২০২৪ সালের ৩ মার্চ মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বাবাকে মেয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ছবিতে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখা যায়, আর পরের ছবিগুলোতে একই বাবাকে মেয়ের সমাধির পাশে দেখা যাচ্ছে। চেলসি লেসি টাউনশিপ মিডল স্কুলের অনার রোলের শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে প্রাইড এলিট কম্পিটিটিভ চিয়ারের সদস্য ছিল। চিয়ারলিডিংয়ের বাইরে ফুটবল ও আইস স্কেটিংও ছিল তার পছন্দের। চেলসি ছিল ব্রায়ান ডিহল ও লিন কনক্লিনের মেয়ে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। তার স্মৃতি ধরে রাখতে লেসি টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্কলারশিপ ফান্ডও গড়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাবা ব্রায়ান প্রতি বছর মেয়ের কবরের কাছে গিয়ে একটি করে সেলফি তোলেন। তবে এই বার্ষিক রীতির দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়, চেলসির পরিবার তার স্মৃতিকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। তার নামে গড়ে ওঠা স্কলারশিপ ফান্ডটি লেসি টাউনশিপের শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। ভাইরাল ছবিগুলোর পেছনে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আবেগঘন গল্প নয়, রয়েছে ১৪ বছরের এক কিশোরীর জীবন, তার পরিবার এবং তাকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী শোক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলায় দুইজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে শহরের ১০০ ব্লক লোকাস্ট স্ট্রিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রেন্টন পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় মোট ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই বা পরে মারা যান এবং নয়জন আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার পর জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে একাধিক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। হামলার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় নিহত ও আহতদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ হামলার পরিস্থিতি ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মুদি দোকানের পার্কিং লটে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী বড় বোন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে জ্যাকসন টাউনশিপের কোশার মুদি দোকান এনপিজিএস (NPGS)-এর পার্কিং লটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ওশান কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস। জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী মারিয়া কোবনগুজমান নামের ওই তরুণী একটি ফোর্ড ফিউশন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার কখনোই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। পার্কিং লট দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্ট্রলারে করে সন্তান নিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন। দুর্ঘটনার পরপরই মা এবং তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে জার্সি শোর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ৯ মাসের শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় মারিয়া কোবনগুজমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটানো এবং গাড়ি দিয়ে হামলার দুটি পৃথক অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি জেনেও মারিয়াকে গাড়ি চালাতে দেওয়ায় আরিয়াদনা লাজারো-ফ্লোরেস (২২) নামের আরেক তরুণীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অন্যের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকেই বর্তমানে ওশান কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না। শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন। নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। প্রতারকেরা প্রথমে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোনে ফাঁদে ফেলে, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে। ২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন। পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে। অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না। কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে অভাবনীয় এক আবিষ্কার করে বসেছেন এক বাবা ও ছেলে। সৈকতের পাথরের ফাঁক থেকে তারা উদ্ধার করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল আকৃতির হাঙর 'মেগালোডন'-এর একটি জীবাশ্ম দাঁত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ংকর এই প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁতটি অন্তত ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পেনসিলভানিয়ার মননগাহেলা এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মাইকেল বোওয়ারস তার ১১ বছর বয়সী ছেলে বো-কে নিয়ে গত মঙ্গলবার নিউ জার্সির 'সি আইল সিটি' সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সৈকতের জেটি ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ পাথরের একটি সরু খাঁজে বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কিছু একটা দেখতে পান তারা। মাইকেল বোওয়ারস জানান, পাথরের ওই খাঁজটি এতোটাই সরু ছিল যে সেখানে তিনি হাত ঢোকাতে পারছিলেন না। তখন তার ছেলে বো খুব সহজেই সেখানে হাত ঢুকিয়ে সেই পুরোনো ও বিশাল দাঁতটি বের করে আনে। গণমাধ্যমকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইকেল বলেন, "আমি প্রায়ই পানিতে অদ্ভুত সব জিনিস খুঁজে পাই। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে এমন অসাধারণ কিছু একটা পেয়ে যাব। দাঁতটি হাতে পাওয়ার পর আমার ছেলে আনন্দে একেবারে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। আর আমার তো খুশিতে পা কাঁপছিল। জীবনে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নই দেখতাম আমি।" উদ্ধার করা বিশাল এই দাঁতটি আসল কিনা তা যাচাই করার জন্য তারা 'কেপ মে হোয়েল ওয়াচ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর শরণাপন্ন হন। সেখানকার গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে, এটি সত্যিই একটি মেগালোডন হাঙরের জীবাশ্ম। রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মেলিসা লরিনো জানান, এই বিশাল দাঁতটি একটি মেগালোডনের। ভয়ংকর এই হাঙরগুলো লম্বায় প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের একেকটি দাঁত মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। আজ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশাল এই সামুদ্রিক শিকারি প্রাণীটি, যা বর্তমানে বিভিন্ন হলিউড হরর সিনেমার কল্যাণে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। নিউ জার্সির সৈকতে মেগালোডনের জীবাশ্ম পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিউ জার্সি স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর ডানা এহার্টের মতে, এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটিরও কম মেগালোডনের দাঁত আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু এত লাখ বছর আগের দাঁত হঠাৎ সৈকতে কীভাবে এল? গবেষকরা ধারণা করছেন, গত জুলাই মাসে ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর উদ্যোগে সি আইল সিটিতে সৈকত সংস্কারের যে কাজ হয়েছিল, তখনই এটি গভীর সমুদ্র থেকে বালুর সঙ্গে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মেলিসা লরিনো বলেন, "সৈকত সংস্কারের জন্য যদি কয়েক মাইল গভীর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেই বালুর সঙ্গেই এই দাঁতটি সৈকতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এমন এক আবিষ্কার, যা বোওয়ারস পরিবার সারাজীবন অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রাখবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাচ ও ধাতব পানির বোতলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বোতলগুলোকে মারামারি বা বিবাদের সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, এর ফলে শিশুদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে হবে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাওয়েল টাউনশিপ পাবলিক স্কুলস নামের ওই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ গত বুধবার অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপরই ক্রিস্টিন বাস্টার্ডি নামের এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটি পিটিশন চালু করেন। ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। বাস্টার্ডি তার পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে বিসফেনল এ (বিপিএ)-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশে যেতে পারে, যা শিশুদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করে। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশ দূষণ বাড়ায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে। স্কুলের বোর্ড অব এডুকেশনের সভাপতি জেনিফার ওকারসন ও সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ আইসোলার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো ভারী ও শক্ত হওয়ায় কোনো বিবাদের সময় এগুলো ছুড়ে মারলে মারাত্মক আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করে অতীতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এমন বোতল পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে স্কুল অফিসে জমা রাখা হবে এবং পরে অভিভাবকদের তা এসে নিয়ে যেতে হবে। প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানকারী এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধানে বাস্টার্ডি তার পিটিশনে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢালাওভাবে বোতল নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড যাচাই করে নিরাপদ ধাতব ও কাচের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন এই অভিভাবক।
ক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে চাখোন-রাখসোন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না। তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া। তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন। সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক মিলনের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ব্রেইন ডেথ হওয়া এক ব্যক্তির অঙ্গ সংগ্রহের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেইথ লট নামের ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নিলেও, একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থা পরিবারের আপত্তি গ্রাহ্য না করে তার অঙ্গ নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ মে, যখন কেইথ এবং তার স্ত্রী ব্রুক সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ কেইথ ঢলে পড়েন এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। স্ত্রী ব্রুক তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করেন এবং প্যারামেডিকস এসে তাকে কুপার ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১৯ মে তাকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা হয়। কেইথকে মৃত ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ নামের একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা হাসপাতালে হাজির হন। তারা কেইথের অঙ্গ সংগ্রহের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে পরিবার এতে তীব্র আপত্তি জানায়। পরিবার জানায়, কেইথ দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানবদেহে কোনো পরিবর্তন আনা সমর্থন করতেন না। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ২০২৫ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় তিনি নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নেন। তা সত্ত্বেও সংস্থার প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অতীতে একবার দাতা হিসেবে নিবন্ধন করায় সেটি আজীবন চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন লাইসেন্স দেখানো হলেও তারা যুক্তি দেন যে, কেইথকে নিজে গিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা উচিত ছিল। মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী পরিবার কেইথকে তিন দিনের মধ্যে দাফন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটির অযৌক্তিক দাবির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার লাইফ সাপোর্ট খুলতে পারছিল না। এমনকি ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ পরিবার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত কেইথের ভাতিজি ব্লেইক, যিনি স্টেট সিনেটর পল মরিয়ার্টির অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন, তিনি সহকর্মীদের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালকে জানান যে সংস্থার এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি, কারণ কেইথের বর্তমান লাইসেন্সে তিনি অঙ্গদাতা নন এবং এখানে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টিও জড়িত। আইনি হস্তক্ষেপের পর সংস্থাটি পিছু হটে এবং কেইথের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। অবশেষে তাকে দাফন করা সম্ভব হয়। এই ঘটনার পর স্টেট সিনেটর মরিয়ার্টি একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থাগুলোকে মোটর ভেহিক্যাল কমিশনের (এমভিসি) সর্বশেষ আপডেট করা তথ্য যাচাই করতে বাধ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমভিসি জানিয়েছে, তাদের তথ্যভাণ্ডার তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট হয় এবং সংস্থাগুলোকে রিয়েল-টাইম অ্যাক্সেস দেওয়া থাকে। কেন ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ কেইথের নতুন তথ্য দেখতে পায়নি বা মানতে চায়নি, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রতারণা, তথ্য গোপন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির তদন্ত চলছে। এদিকে কেইথের মা মিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শোকের মুহূর্তে আর কোনো পরিবারকে এমন অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন। প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম। কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।