- প্রচ্ছদ
- Topic
নিউ জার্সি
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে থাকা ৪১ বছর বয়সী আলিমামি সেসাই একাধিক অস্ত্রোপচারের পরও নিউ জার্সির নিউয়ার্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পায়ের সঙ্গে বিছানায় শিকলবন্দী থাকছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে থাকলেও তাঁর বাগদত্তা ও পাঁচ মাস বয়সী ছেলেকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। সেসাইকে গত ২৮ মে আইসিই আটক করে। হারিয়ে যাওয়া চালকের লাইসেন্সের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিতে তিনি নিজেই নিউয়ার্কের একটি ফেডারেল ভবনে গিয়েছিলেন। সেখানে অপেক্ষা করার সময় একজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তদারকি আদেশ অনুযায়ী তিনি একটি নির্ধারিত সাক্ষাতে উপস্থিত হননি। এরপর তাঁকে আটক করা হয় এবং ইউনিয়ন কাউন্টির এলিজাবেথ কন্ট্রাক্ট ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়। জুলাইয়ের শুরুতে অন্ত্রের সমস্যার চিকিৎসার জন্য সেসাইকে নিউয়ার্কের ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রায় দুই মাস হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর একাধিক অস্ত্রোপচার হয়েছে। এর মধ্যে গত মাসে তাঁর বৃহদান্ত্রের একটি অংশ অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর পেটের বড় ক্ষত বন্ধ রাখতে চামড়া প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। ক্ষত থেকে তরল বের করার জন্য পেটে একটি নলও রাখা হয়েছে এবং অন্তত ছয় মাস তাঁকে কলোস্টমি ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হাসপাতালে থাকার সময়ে সেসাইয়ের ওজনও দ্রুত কমেছে। আটকের সময় তাঁর ওজন ২০০ পাউন্ডের বেশি ছিল। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তা কমে ১৩৪ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্ষত পরিষ্কার করার সময় চিকিৎসকদের সহায়তা করতে হয় বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, চিকিৎসকেরা ক্ষত পরিষ্কার করার সময় কখনো কখনো বেশি চাপ প্রয়োগ করেন, তাই তিনি নিজেই ক্ষত পরিষ্কারের কাজে সহযোগিতা করেন। সেসাইয়ের অভিযোগ, শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রায়ই তাঁর পা বিছানার সঙ্গে শিকল বা হাতকড়া দিয়ে আটকানো থাকে। এতে অস্বস্তি হয় এবং ঘুমাতেও সমস্যা হয় বলে জানান তিনি। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো, হাসপাতালে থাকার সময়ে তাঁর বাগদত্তা জেনা কার্টার এবং তাঁদের পাঁচ মাস বয়সী ছেলে কিং সালিম সেসাইকে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না। কার্টার জানান, সেসাই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পর্যন্ত তিনি বিষয়টি জানতেন না। জুলাইয়ে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সেসাইয়ের শারীরিক অবস্থা বা চিকিৎসা সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারেননি এবং তাঁকে দেখার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। ২০ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবার সেসাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেন তিনি। পরে সেসাইয়ের একটি ছবি দেখে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন কার্টার। ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, আটক ব্যক্তি ও অন্য রোগীদের দর্শনার্থী প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কি না এবং এ বিষয়ে আইসিই কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না। হাসপাতাল এসব প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানায়, তাদের চিকিৎসক, নার্স ও চিকিৎসা দল প্রত্যেক রোগীকে সহানুভূতিশীল ও মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসন অধিকারকর্মীদের দাবি, সেসাইয়ের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাঁদের মতে, নিউ জার্সির এলিজাবেথ ও নিউয়ার্কের ডেলানি হলসহ বিভিন্ন আটককেন্দ্রের আটক ব্যক্তিদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে না দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কাইজার ফ্যামিলি ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিবেদনে হাসপাতালে ভর্তি আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে স্বজনদের তথ্য না দেওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে দেখা যায় এমন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। সেসাইয়ের চিকিৎসার পাশাপাশি এলিজাবেথ ডিটেনশন সেন্টারে থাকার সময় একজন নার্সের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মৌখিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, ঘাড় ও কাঁধের ব্যথার চিকিৎসার জন্য সেখানে যাওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। ডিটেনশন সেন্টার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোরসিভিক জানিয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করা হয়েছে এবং তা ভিত্তিহীন পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, তাদের নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সেসাইয়ের আইনজীবী র্যাচেল মারানডেট তাঁকে আইসিই হেফাজত থেকে মুক্ত করতে নিউ জার্সির ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন। আটক ব্যক্তিদের করা এ ধরনের আবেদনের মাধ্যমে সরকারকে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আইনি ভিত্তি আদালতের কাছে ব্যাখ্যা করতে হয়। সেসাইয়ের আবেদনটি নিউয়ার্কের ফেডারেল আদালতের বিচারক মাইকেল শিপের সামনে বিচারাধীন রয়েছে। সেসাই কিশোর বয়সে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরা লিওন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ১১ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেয়েছিলেন। তবে প্রায় এক দশক আগে গাঁজা-সংক্রান্ত একটি মামলায় দণ্ডিত হওয়ার পর তাঁর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল হয় বলে তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সেসাইকে বহিষ্কার স্থগিত রাখার আদেশ এবং তদারকির আওতায় থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারতেন। সেসাই সায়রভিলে একটি গুদামে কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে এক অনুষ্ঠানে জেনা কার্টারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের সন্তান জন্ম নেয় এবং তাঁরা নিউ জার্সিতে একটি বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছিলেন। সেসাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাঁর বাড়ি এবং এখানেই তিনি তাঁর ছেলেকে বড় করতে চান। তাঁর ভাষ্য, জীবনের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর সিয়েরা লিওনে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং কবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাবেন, তা জানা নেই। সূত্র: এনজে ডটকম
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ল্যানোকা হারবারের ১৪ বছর বয়সী চেলসি ডিহল ২০২৪ সালের ৩ মার্চ মারা যায়। মৃত্যুর পর তার বাবাকে মেয়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুরোনো ছবিতে বাবা ও মেয়েকে একসঙ্গে দেখা যায়, আর পরের ছবিগুলোতে একই বাবাকে মেয়ের সমাধির পাশে দেখা যাচ্ছে। চেলসি লেসি টাউনশিপ মিডল স্কুলের অনার রোলের শিক্ষার্থী ছিল। পাশাপাশি সে প্রাইড এলিট কম্পিটিটিভ চিয়ারের সদস্য ছিল। চিয়ারলিডিংয়ের বাইরে ফুটবল ও আইস স্কেটিংও ছিল তার পছন্দের। চেলসি ছিল ব্রায়ান ডিহল ও লিন কনক্লিনের মেয়ে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরদের আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়। তার স্মৃতি ধরে রাখতে লেসি টাউনশিপ স্কুল ডিস্ট্রিক্টের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্কলারশিপ ফান্ডও গড়ে তোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, বাবা ব্রায়ান প্রতি বছর মেয়ের কবরের কাছে গিয়ে একটি করে সেলফি তোলেন। তবে এই বার্ষিক রীতির দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। যা নিশ্চিতভাবে জানা যায়, চেলসির পরিবার তার স্মৃতিকে একটি ইতিবাচক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রাখার চেষ্টা করছে। তার নামে গড়ে ওঠা স্কলারশিপ ফান্ডটি লেসি টাউনশিপের শিক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। ভাইরাল ছবিগুলোর পেছনে তাই শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি আবেগঘন গল্প নয়, রয়েছে ১৪ বছরের এক কিশোরীর জীবন, তার পরিবার এবং তাকে হারানোর দীর্ঘস্থায়ী শোক।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ট্রেন্টনে রোববার ভোরে বন্দুক হামলায় দুইজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে শহরের ১০০ ব্লক লোকাস্ট স্ট্রিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ট্রেন্টন পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় মোট ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই বা পরে মারা যান এবং নয়জন আহত অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আহতদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার পর জরুরি সেবা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে একাধিক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। হামলার কারণ এবং কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। ঘটনাটি তদন্তাধীন থাকায় নিহত ও আহতদের পরিচয়ও এখনো প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ হামলার পরিস্থিতি ও এর পেছনের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি মুদি দোকানের পার্কিং লটে লাইসেন্সবিহীন এক চালকের বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় ৯ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন শিশুটির মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী বড় বোন। শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে জ্যাকসন টাউনশিপের কোশার মুদি দোকান এনপিজিএস (NPGS)-এর পার্কিং লটে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে ওশান কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস। জানা গেছে, ২০ বছর বয়সী মারিয়া কোবনগুজমান নামের ওই তরুণী একটি ফোর্ড ফিউশন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার কখনোই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। পার্কিং লট দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি স্ট্রলারে করে সন্তান নিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন। দুর্ঘটনার পরপরই মা এবং তার দুই সন্তানকে উদ্ধার করে জার্সি শোর ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ৯ মাসের শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে আহত মা এবং তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় মারিয়া কোবনগুজমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া, বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালিয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটানো এবং গাড়ি দিয়ে হামলার দুটি পৃথক অভিযোগেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি পুরোপুরি জেনেও মারিয়াকে গাড়ি চালাতে দেওয়ায় আরিয়াদনা লাজারো-ফ্লোরেস (২২) নামের আরেক তরুণীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অন্যের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করার অভিযোগে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুজনকেই বর্তমানে ওশান কাউন্টি কারাগারে রাখা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি হাইস্কুলে কিশোরী শিক্ষার্থী পরিচয়ে ভর্তি হয়ে চার দিন ক্লাস করার পর ধরা পড়েছেন ২৯ বছর বয়সী এক নারী। হায়েজিয়ং শিন নামের ওই নারী ভুয়া জন্মসনদ ব্যবহার করে নিজেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে নিউ ব্রান্সউইক হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নিউ জার্সির নিউ ব্রান্সউইক শহরে। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৪ জানুয়ারি শিনের বিরুদ্ধে পরিচয় বা বয়স যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ভুয়া সরকারি নথি দেওয়ার অভিযোগে তৃতীয় মাত্রার অপরাধের একটি মামলা করা হয়। তিনি স্কুল বোর্ডে একটি জাল জন্মসনদ জমা দিয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভর্তি হওয়ার পর শিন প্রায় চার দিন স্কুলে যান। তিনি অন্যান্য শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই শ্রেণিকক্ষে ছিলেন এবং স্কুলের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া নথি যাচাই করার সময় তথ্যের অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয় এবং শিনকে স্কুলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। নিউ ব্রান্সউইক পাবলিক স্কুলের তৎকালীন সুপারিনটেনডেন্ট অউব্রে জনসন স্কুল বোর্ডের এক বৈঠকে জানান, ভুয়া নথি জমা দিয়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থী পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে ঘটনাটির পেছনে সহিংসতা বা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্য পাওয়া যায়নি বলে পরে নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানায়। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক ফলোআপ বিবৃতিতে পুলিশ বলেছিল, শিন কেন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন তা বোঝার জন্য তদন্ত অব্যাহত ছিল। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি নির্দোষ বলে গণ্য হবেন। ঘটনার পর শিনের আইনজীবী ড্যারেন গেলবার তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন। পরে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীর ভাষ্য ছিল, শিন একাকিত্বে ভুগছিলেন এবং নিজের স্কুলজীবনের তুলনামূলক নিরাপদ ও আনন্দের সময়টিতে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আইনজীবী দাবি করেন, তার ক্লায়েন্টের উদ্দেশ্য কারও ক্ষতি করা ছিল না। শিনের শিক্ষাগত পরিচয়ও পরে সামনে আসে। তিনি রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ ব্রান্সউইক ক্যাম্পাসের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি চীনা ভাষায় একটি বিষয়ে পড়াশোনা করেছিলেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছিলেন। নিউ জার্সির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি সংক্রান্ত কিছু নিয়মও ঘটনাটিকে সম্ভব করে তুলেছিল। রাজ্যের আইন ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষ পরিস্থিতিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সব নথি না থাকলেও দ্রুত স্কুলে ভর্তি করার বিধান রয়েছে। পরে বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের জন্য নথি পরীক্ষা করা যায়। নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ জানিয়েছে, শিন এই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে ভুয়া জন্মসনদ জমা দিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কয়েকজন অভিভাবক স্কুলের নিরাপত্তা ও ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে ভুয়া নথি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া আরও পর্যালোচনা করার কথা জানায়। পরবর্তী সময়ে শিন অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। মে ২০২৩ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস জানায়, তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রথমবারের অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত একটি বিচারপূর্ব কর্মসূচিতে তিন বছর অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। ঘটনাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। বিশেষ করে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে ভুয়া পরিচয় ও নথি ব্যবহার করে একটি উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরেছিলেন, সেটিই আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে শিক্ষার্থী বা স্কুলের কর্মীদের ক্ষতি করার কোনো উদ্দেশ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সূত্র: নিউ ব্রান্সউইক পুলিশ বিভাগ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ৭৭ বছর বয়সী জেফরি মাস প্রতারণার শিকার হয়ে অবসরের সঞ্চয় থেকে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। প্রতারকেরা প্রথমে পেপ্যালের পরিচয় দিয়ে তাকে ফোনে ফাঁদে ফেলে, পরে ভুল ব্যাংক লেনদেনের তথ্য দেখিয়ে সোনা কিনতে বাধ্য করে। ২০২৪ সালের ৫ জুন মাসের কাছে নরটন অ্যান্টিভাইরাসের নামে একটি ই-মেইল আসে। সেখানে ৬৯১ ডলার ৫ সেন্টের একটি পেমেন্টের কথা জানানো হয়। তিনি এমন কোনো সেবা নেননি বুঝতে পেরে ই-মেইলে দেওয়া হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করেন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পেপ্যালের কর্মকর্তা ‘জেসন গ্রিন’ পরিচয় দিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর মাধ্যমে প্রতারকেরা মাসের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে প্রতারক মাসকে একটি জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেখিয়ে দাবি করে, ভুল করে তার অ্যাকাউন্টে ৩ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এই অর্থ ফেরত না দিলে আইআরএসের জরিমানা হতে পারে বলেও ভয় দেখানো হয়। এরপর আরেক প্রতারক তাকে সোনা কিনে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেয়। প্রতারকদের নির্দেশে মাস নিজের ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ডলার স্থানান্তর করে নিউ জার্সির একটি মূল্যবান ধাতু বিক্রেতার কাছে। সেখানে গিয়ে সোনা কিনে তা প্রতারকদের লোকজনের হাতে তুলে দেন। পরদিন একই কৌশলে তাকে আবার জানানো হয়, তার অ্যাকাউন্টে আরও ১ লাখ ডলার জমা হয়েছে। এবার তিনি ব্যাংক থেকে আরও ৯০ হাজার ডলার তুলে সোনা কেনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে মাস পুলিশে অভিযোগ করেন। তদন্তে সোনা সংগ্রহ করতে আসা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পুলিশ। জয়নেশ প্যাটেল নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনার পর মাস তার ব্যাংকের কাছে লেনদেনগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলেও অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রতারণার ঘটনায় মাসের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যেরও গুরুতর প্রভাব পড়ে। প্রচণ্ড মানসিক চাপের কারণে তিনি দুবার জ্ঞান হারান এবং দুইবারই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে সামাজিক উদ্বেগ ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা এড়িয়ে চলার সমস্যাতেও ভুগেছেন বলে জানান তিনি। ঘটনাটি নিয়ে মাস ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে ব্যাংকের কর্মীদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের লেনদেনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে যথেষ্ট প্রশ্ন না করার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে ব্যাংক ও সোনা বিক্রেতার পক্ষ থেকে অভিযোগের দায় অস্বীকার করা হয়েছে। অবসরের পর স্ত্রীকে নিয়ে ইউরোপ ভ্রমণ, নাতি-নাতনিদের জন্য অর্থ রাখা এবং সন্তানদের উত্তরাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মাস দম্পতির। প্রতারণায় সেই সঞ্চয়ের প্রায় অর্ধেক হারানোর পর এখন অন্যদের সতর্ক করতে চান ৭৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি।
নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না। কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের একটি সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে অভাবনীয় এক আবিষ্কার করে বসেছেন এক বাবা ও ছেলে। সৈকতের পাথরের ফাঁক থেকে তারা উদ্ধার করেছেন পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিশাল আকৃতির হাঙর 'মেগালোডন'-এর একটি জীবাশ্ম দাঁত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ংকর এই প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁতটি অন্তত ৩৬ লাখ বছরের পুরোনো। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। পেনসিলভানিয়ার মননগাহেলা এলাকার বাসিন্দা ৪২ বছর বয়সী মাইকেল বোওয়ারস তার ১১ বছর বয়সী ছেলে বো-কে নিয়ে গত মঙ্গলবার নিউ জার্সির 'সি আইল সিটি' সৈকতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। সৈকতের জেটি ধরে হাঁটার সময় হঠাৎ পাথরের একটি সরু খাঁজে বিশাল আকৃতির অদ্ভুত কিছু একটা দেখতে পান তারা। মাইকেল বোওয়ারস জানান, পাথরের ওই খাঁজটি এতোটাই সরু ছিল যে সেখানে তিনি হাত ঢোকাতে পারছিলেন না। তখন তার ছেলে বো খুব সহজেই সেখানে হাত ঢুকিয়ে সেই পুরোনো ও বিশাল দাঁতটি বের করে আনে। গণমাধ্যমকে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে মাইকেল বলেন, "আমি প্রায়ই পানিতে অদ্ভুত সব জিনিস খুঁজে পাই। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও ভাবিনি যে এমন অসাধারণ কিছু একটা পেয়ে যাব। দাঁতটি হাতে পাওয়ার পর আমার ছেলে আনন্দে একেবারে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। আর আমার তো খুশিতে পা কাঁপছিল। জীবনে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার স্বপ্নই দেখতাম আমি।" উদ্ধার করা বিশাল এই দাঁতটি আসল কিনা তা যাচাই করার জন্য তারা 'কেপ মে হোয়েল ওয়াচ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার'-এর শরণাপন্ন হন। সেখানকার গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে, এটি সত্যিই একটি মেগালোডন হাঙরের জীবাশ্ম। রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মেলিসা লরিনো জানান, এই বিশাল দাঁতটি একটি মেগালোডনের। ভয়ংকর এই হাঙরগুলো লম্বায় প্রায় ৬০ ফুট পর্যন্ত হতো এবং এদের একেকটি দাঁত মানুষের হাতের তালুর সমান বড় ছিল। আজ থেকে প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বিশাল এই সামুদ্রিক শিকারি প্রাণীটি, যা বর্তমানে বিভিন্ন হলিউড হরর সিনেমার কল্যাণে মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। নিউ জার্সির সৈকতে মেগালোডনের জীবাশ্ম পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। নিউ জার্সি স্টেট মিউজিয়ামের কিউরেটর ডানা এহার্টের মতে, এই অঙ্গরাজ্যে এখন পর্যন্ত পাঁচটিরও কম মেগালোডনের দাঁত আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু এত লাখ বছর আগের দাঁত হঠাৎ সৈকতে কীভাবে এল? গবেষকরা ধারণা করছেন, গত জুলাই মাসে ইউএস আর্মি কর্পস অব ইঞ্জিনিয়ার্স-এর উদ্যোগে সি আইল সিটিতে সৈকত সংস্কারের যে কাজ হয়েছিল, তখনই এটি গভীর সমুদ্র থেকে বালুর সঙ্গে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে মেলিসা লরিনো বলেন, "সৈকত সংস্কারের জন্য যদি কয়েক মাইল গভীর সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করা হয়ে থাকে, তবে সেই বালুর সঙ্গেই এই দাঁতটি সৈকতে চলে আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এমন এক আবিষ্কার, যা বোওয়ারস পরিবার সারাজীবন অমূল্য সম্পদ হিসেবে আগলে রাখবে।"
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি স্কুল ডিস্ট্রিক্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কাচ ও ধাতব পানির বোতলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বোতলগুলোকে মারামারি বা বিবাদের সময় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ হয়েছেন অভিভাবকেরা। তাদের দাবি, এর ফলে শিশুদের বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করতে হবে, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। হাওয়েল টাউনশিপ পাবলিক স্কুলস নামের ওই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট কর্তৃপক্ষ গত বুধবার অভিভাবকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই নিষেধাজ্ঞার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। এরপরই ক্রিস্টিন বাস্টার্ডি নামের এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক ‘চেঞ্জ ডট অর্গ’ ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে একটি পিটিশন চালু করেন। ইতোমধ্যে এক হাজারেরও বেশি মানুষ এই পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। বাস্টার্ডি তার পিটিশনে উল্লেখ করেছেন, প্লাস্টিকের বোতল থেকে পানিতে বিসফেনল এ (বিপিএ)-এর মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ মিশে যেতে পারে, যা শিশুদের হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিকাশজনিত সমস্যা তৈরি করে। পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি আরও জানান, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো পুনর্ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় তা কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে প্লাস্টিকের বোতল পরিবেশ দূষণ বাড়ায় এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে। স্কুলের বোর্ড অব এডুকেশনের সভাপতি জেনিফার ওকারসন ও সুপারিনটেনডেন্ট জোসেফ আইসোলার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ধাতব ও কাচের বোতলগুলো ভারী ও শক্ত হওয়ায় কোনো বিবাদের সময় এগুলো ছুড়ে মারলে মারাত্মক আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের পাত্র ব্যবহার করে অতীতে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও সতর্ক করা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর কাছে এমন বোতল পাওয়া গেলে তা বাজেয়াপ্ত করে স্কুল অফিসে জমা রাখা হবে এবং পরে অভিভাবকদের তা এসে নিয়ে যেতে হবে। প্রি-কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদানকারী এই স্কুল ডিস্ট্রিক্টের নিরাপত্তা উদ্বেগের সমাধানে বাস্টার্ডি তার পিটিশনে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন। ঢালাওভাবে বোতল নিষিদ্ধ করার বদলে নির্দিষ্ট মানদণ্ড যাচাই করে নিরাপদ ধাতব ও কাচের বোতল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অভ্যাসের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতামূলক শিক্ষামূলক কর্মসূচি চালুরও দাবি জানিয়েছেন এই অভিভাবক।
ক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্কে অবস্থিত আইসিই (ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) পরিচালিত ডিলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রে আটক থাকার পর আরও এক অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তি গুয়াতেমালার নাগরিক হোসে চাখোন-রাখসোন। ট্রাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পুনরায় চালু হওয়া ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এটি তৃতীয় মৃত্যুর ঘটনা। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে কেন্দ্রটি আবার চালু করা হয়েছিল। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা অবস্থায় হোসে চাখোন-রাখসোন হঠাৎ খিঁচুনির মতো শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হন। দায়িত্বরত একজন নার্স তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীদের ডাকা হয়। এরপর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। আইসিই জানায়, গত ১৮ জুলাই চাখোন-রাখসোনকে গ্রেপ্তার করে ডিলানি হলে আনা হয়। তবে চার দিন পর, ২২ জুলাই তাকে আইসিইর হেফাজত থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। কেন তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল বা এরপর হাসপাতালে তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। ডিএইচএস এক বিবৃতিতে বলেছে, আইসিইর নীতিমালা অনুযায়ী, কেউ হেফাজতের বাইরে চলে গেলে তার পরবর্তী মৃত্যু পর্যবেক্ষণ বা পর্যালোচনার দায়িত্ব সংস্থার থাকে না। তবে এই অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেছেন নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, এই নীতির কারণে একটি "ফাঁক" তৈরি হয়েছে। এর ফলে কাউকে হেফাজত থেকে ছেড়ে দিয়ে পরে তার মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত বা কংগ্রেস ও জনগণকে জানানো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের শুরুতে আইসিই একটি নীতিগত পরিবর্তন আনে। এর আগে বাইডেন প্রশাসনের সময় ২০২১ সালে চালু হওয়া নীতি অনুযায়ী, হেফাজত থেকে মুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে সেটিও প্রকাশ করা হতো। নতুন নীতিতে সেই বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। চাখোন-রাখসোনের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে প্রকাশ্যে আসেনি। গত সপ্তাহে কংগ্রেসম্যান রব মেনেনডেজ বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি সামনে আসে। ডিলানি হল আটককেন্দ্রে এর আগেও দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে আইসিইর হেফাজতে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর এল সালভাদরের নাগরিক এডউইন লোপেজ-করনেহোর মৃত্যু হয়। এর আগে গত ডিসেম্বরে একই কেন্দ্রে আটক থাকা হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসেরও মৃত্যু হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসিইর হেফাজতে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এসব সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোর চিকিৎসাসেবা ও বন্দিদের জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। ডিলানি হল আটককেন্দ্র নিয়েও গত কয়েক মাসে নানা অভিযোগ উঠেছে। বন্দিদের ওপর প্রহরীদের শারীরিক নির্যাতন, নষ্ট খাবার সরবরাহ এবং অপর্যাপ্ত সেবার অভিযোগে একাধিক বিক্ষোভ হয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে অন্তত ৩০০ অভিবাসী অনশন ও কর্মবিরতিতে অংশ নেন। পরে নারী বন্দিরাও পৃথকভাবে অনশন শুরু করেন। তাদের দাবি ছিল, আটককেন্দ্রের পরিস্থিতির উন্নতি এবং ২১ বছরের কম বয়সী নারী, অসুস্থ নারী ও মায়েদের মুক্তি দেওয়া। তবে আইসিইর দাবি, তাদের হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সমারভিল শহরে নিজ বাসা থেকে ৪৬ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যাওয়ার পর ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহত নারীর নাম অ্যালিন এসপিনাল (৪৬)। তিনি সমারভিলের ব্রুকসাইড অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসায় বসবাস করতেন। তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার কিছু আগে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ একটি ফোন আসে। ফোনে ওই বাসায় বসবাসকারী এক নারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার ভেতরে অ্যালিন এসপিনালকে গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার বুক, গলা ও উরুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্বামী ইগনাসিও এসপিনালকে (৫৫) সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে মঙ্গলবার নিউ জার্সির ওয়েস্ট নিউ ইয়র্ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির হত্যা, বেআইনি উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখার অভিযোগ এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, বিভিন্ন আলামত ও ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করছেন এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালিয়ে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা করছেন। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে ঘটনার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। নিউ জার্সির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সোমারসেট কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় যৌথভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন। সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন। চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক মিলনের সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ব্রেইন ডেথ হওয়া এক ব্যক্তির অঙ্গ সংগ্রহের চেষ্টা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কেইথ লট নামের ৪৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নিলেও, একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থা পরিবারের আপত্তি গ্রাহ্য না করে তার অঙ্গ নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৬ মে, যখন কেইথ এবং তার স্ত্রী ব্রুক সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। হঠাৎ কেইথ ঢলে পড়েন এবং তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে থাকে। স্ত্রী ব্রুক তাৎক্ষণিকভাবে ৯১১-এ কল করেন এবং প্যারামেডিকস এসে তাকে কুপার ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১৯ মে তাকে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা করা হয়। কেইথকে মৃত ঘোষণার এক ঘণ্টার মধ্যেই ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ নামের একটি অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা হাসপাতালে হাজির হন। তারা কেইথের অঙ্গ সংগ্রহের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে পরিবার এতে তীব্র আপত্তি জানায়। পরিবার জানায়, কেইথ দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী মৃত্যুর পর মানবদেহে কোনো পরিবর্তন আনা সমর্থন করতেন না। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে ২০২৫ সালে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের সময় তিনি নিজেকে অঙ্গদাতার তালিকা থেকে সরিয়ে নেন। তা সত্ত্বেও সংস্থার প্রতিনিধিরা দাবি করেন, অতীতে একবার দাতা হিসেবে নিবন্ধন করায় সেটি আজীবন চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন লাইসেন্স দেখানো হলেও তারা যুক্তি দেন যে, কেইথকে নিজে গিয়ে নিবন্ধন বাতিল করা উচিত ছিল। মুসলিম রীতিনীতি অনুযায়ী পরিবার কেইথকে তিন দিনের মধ্যে দাফন করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংস্থাটির অযৌক্তিক দাবির কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার লাইফ সাপোর্ট খুলতে পারছিল না। এমনকি ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ পরিবার ও হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত কেইথের ভাতিজি ব্লেইক, যিনি স্টেট সিনেটর পল মরিয়ার্টির অফিসে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করতেন, তিনি সহকর্মীদের মাধ্যমে আইনি সহায়তা নেন। আইনি বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালকে জানান যে সংস্থার এই কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি, কারণ কেইথের বর্তমান লাইসেন্সে তিনি অঙ্গদাতা নন এবং এখানে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়টিও জড়িত। আইনি হস্তক্ষেপের পর সংস্থাটি পিছু হটে এবং কেইথের মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। অবশেষে তাকে দাফন করা সম্ভব হয়। এই ঘটনার পর স্টেট সিনেটর মরিয়ার্টি একটি নতুন বিল উত্থাপন করেছেন, যেখানে অঙ্গ সংগ্রহকারী সংস্থাগুলোকে মোটর ভেহিক্যাল কমিশনের (এমভিসি) সর্বশেষ আপডেট করা তথ্য যাচাই করতে বাধ্য করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমভিসি জানিয়েছে, তাদের তথ্যভাণ্ডার তাৎক্ষণিকভাবে আপডেট হয় এবং সংস্থাগুলোকে রিয়েল-টাইম অ্যাক্সেস দেওয়া থাকে। কেন ‘এনজে শেয়ারিং নেটওয়ার্ক’ কেইথের নতুন তথ্য দেখতে পায়নি বা মানতে চায়নি, তা এখনো অস্পষ্ট। প্রতারণা, তথ্য গোপন ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংস্থাটির বিরুদ্ধে বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটির তদন্ত চলছে। এদিকে কেইথের মা মিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করে অন্যদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শোকের মুহূর্তে আর কোনো পরিবারকে এমন অবর্ণনীয় হয়রানির শিকার হতে না হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জনের ভুল ভোটার নিবন্ধনের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। তবে এ ঘটনাকে ভোট জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেছেন শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং অভিবাসন ও ভোটাধিকারবিষয়ক গবেষক প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা। তার মতে, এটি কোনো পরিকল্পিত ভোট জালিয়াতি নয়; বরং সরকারি সফটওয়্যারের ত্রুটির ফল, যা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজের মতামতমূলক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, নিউ জার্সির মোটর ভেহিকেল কমিশনের (MVC) একটি পুরোনো সফটওয়্যার সমস্যার কারণে প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হন, যদিও তারা আবেদন করার সময় স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি কোনো তথ্য গোপন করেননি কিংবা মিথ্যা তথ্য দেননি। বরং সরকারি ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই তাদের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়। পরে গভর্নর মিকি শেরিল বিষয়টি জানতে পেরে তা প্রকাশ করেন এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেন। প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনা, যিনি নিজেও একজন স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, লেখায় নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পেতে তার পরিবারকে বছরের পর বছর আইন মেনে চলতে হয়েছে, কর পরিশোধ করতে হয়েছে, নাগরিকত্ব পরীক্ষা ও ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। তাই নতুন অভিবাসীরা ভোটাধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন এবং আইন ভঙ্গের ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসীদের ভোট জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে। অথচ বর্তমান ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সেই দাবি সমর্থন করে না। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিউ জার্সিতে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৭ লাখ। ভুলবশত নিবন্ধিত ৬ হাজার ৬০০ জন মোট ভোটারের ০.০১ শতাংশেরও কম। তাদের মধ্যে মাত্র ৪০০ জন ভোট দিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে পড়া ৪৩ লাখ ভোটের ০.০০৯ শতাংশেরও কম। কাম্পোস-মেদিনার মতে, এসব পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে ঘটনাটি ব্যাপক ভোট জালিয়াতির প্রমাণ নয়। বরং এটি একটি প্রশাসনিক ত্রুটি, যা দ্রুত শনাক্ত ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি গভর্নর শেরিলের প্রশংসা করে বলেন, একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি বিষয়টি গোপন না করে প্রকাশ করেছেন, তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং ভুলভাবে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তদন্তে কীভাবে সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সুপারিশ দেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই প্রতিবেদনটি প্যাট্রিসিয়া কাম্পোস-মেদিনার একটি মতামতমূলক নিবন্ধের ভিত্তিতে তৈরি। এতে প্রকাশিত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও মতামত তার ব্যক্তিগত অবস্থান, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে থাকা এক সালভাদোরীয় অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই জানিয়েছে, চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মৃত ব্যক্তির নাম এডউইন লোপেজ-কর্নেজো। তার বয়স ৪১ বছর। তিনি নিউ জার্সির নিউয়ার্কে অবস্থিত ডেলানি হল ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে আটক ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, শনিবার তাকে একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, লোপেজ-কর্নেজো যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আটক ছিলেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, তার আগের বহিষ্কার আদেশ পুনর্বহালের ভিত্তিতে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। তবে লোপেজ-কর্নেজোর পরিবার তার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। অভিবাসী অধিকারকর্মী একটি সংগঠনের প্রকাশ করা ভিডিওতে তার মা মারিয়া কর্নেজো জানান, তার ছেলে খিঁচুনি, ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ওষুধ গ্রহণ করতেন। মারিয়া কর্নেজো বলেন, মৃত্যুর আগে শুক্রবার তিনি ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলেছিলেন। তখন তার ছেলে মুখের ডান পাশ ও ডান হাতে অসাড়তার কথা জানিয়েছিলেন। তার আরও কিছু পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল বলেও তিনি জানান। আইসিই এক বিবৃতিতে বলেছে, আটক অবস্থায় লোপেজ-কর্নেজো যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছেন এবং তাকে চিকিৎসা পেশাজীবীরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের নিরাপদ, সুরক্ষিত ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঘটনার পর নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রাপ্য হলো ঘটনার বিষয়ে পূর্ণ তথ্য জানা। তার প্রশাসন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করে মৃত্যুর বিষয়ে সব তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি। নিউ জার্সির ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রব মেনেনডেজ জানিয়েছেন, লোপেজ-কর্নেজো ডেলানি হল কেন্দ্রে তার শারীরিক সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন এবং পরে সেখানে পড়ে যান। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান। আইসিইর তথ্য অনুযায়ী, লোপেজ-কর্নেজো ২০০৬ সালে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছিলেন। পরে আদালতের আদেশে তাকে সালভাদরে ফেরত পাঠানো হয়। এরপর তিনি আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। লোপেজ-কর্নেজোর মৃত্যুর পর ডেলানি হল আটক কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। নিউ জার্সির গভর্নর ও নিউয়ার্কের মেয়র রাস জে বারাকা কেন্দ্রটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডেলানি হল কেন্দ্রে আটক হাইতির নাগরিক জিন উইলসন ব্রুটাসের মৃত্যু হয়েছিল। আইসিই তখন জানিয়েছিল, তিনি স্বাভাবিক কারণে মারা গেছেন। এবিসি নিউজের হিসাব অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে আইসিই হেফাজতে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড টাউনশিপে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগে (থার্ড ডিগ্রি থেফট বাই ডিসেপশন) মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা বা পপ-আপ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায়, তার কম্পিউটারের সমস্যার কারণে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি এফবিআই পর্যন্ত গড়াতে পারে। কথিত সেই ঝুঁকি এড়াতে তাকে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে বাড়ির বাইরে একটি বাক্সে রেখে দিতে বলা হয়, যাতে ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা এসে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন। পুলিশ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে সেই অর্থ নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্র আবার যোগাযোগ করে আরও ৩০ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশকে জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের গোয়েন্দারা ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং আরও অর্থ দেওয়ার নামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমডি এন. ইসলাম নিউ জার্সির এগ হারবার টাউনশিপ এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম ওয়েস্টভিল এলাকার বাসিন্দা। আদালতে হাজিরার সমনের শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ জেড. ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তবে এই তথ্য রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বা মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি এবং স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রযুক্তি সহায়তা কর্মী কিংবা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কোনো ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনো গ্রাহককে ফোন করে নগদ অর্থ তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলে না। এ ধরনের নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ একই ধরনের প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে ১২ ফুট গভীর একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে আটকে যাওয়া একটি সাদা লেজওয়ালা হরিণকে সফলভাবে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় পুলিশ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা। উদ্ধার অভিযানের পর হরিণটিকে নিরাপদে আবার বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিউ জার্সির সাসেক্স কাউন্টির হোপাটকং বরো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, হরিণটি একটি পুরোনো ইটের তৈরি কূপের ঢাকনা ভেঙে নিচে পড়ে যায়। কূপটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত এবং শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানে পানি ছিল না। তবে প্রায় ১২ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যাওয়ায় প্রাণীটি নিজে থেকে বের হতে পারেনি। পুলিশ প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, কূপের একেবারে নিচে আটকে রয়েছে হরিণটি। খবর পাওয়ার পর হোপাটকং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিউ জার্সি ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে বিশেষ সরঞ্জাম ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে হরিণটিকে কূপের ভেতর থেকে ওপরে তুলে আনা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় প্রাণীটির যেন কোনো অতিরিক্ত আঘাত না লাগে, সেদিকে বিশেষভাবে নজর রাখেন কর্মকর্তারা। উদ্ধারের পর হরিণটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে তাকে কাছাকাছি একটি নিরাপদ বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাণীটি সুস্থ অবস্থায় প্রকৃতিতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়েছে। ঘটনার পর হোপাটকং পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, বাড়ি বা জমিতে থাকা পরিত্যক্ত কূপ, খোলা গর্ত কিংবা জরাজীর্ণ স্থাপনা শুধু মানুষের জন্য নয়, বন্যপ্রাণীর জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের স্থান নিরাপদভাবে ঢেকে রাখা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নিউ জার্সিতে হরিণের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় প্রায়ই তারা বসতিপূর্ণ এলাকায় চলে আসে। খাবারের সন্ধান কিংবা চলাচলের সময় অসাবধানতাবশত পরিত্যক্ত স্থাপনায় পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার ঘটনাও মাঝে মধ্যে ঘটে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে বাসিন্দাদের পরিত্যক্ত কূপ ও বিপজ্জনক গর্তগুলো নিরাপদ করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।
ক্যাপিটল হিলে জানুয়ারি ৬ তারিখের হামলার সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিহত ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তা ব্রায়ান সিকনিকের নামে বিশেষ দিবস ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য। বৃহস্পতিবার গভর্নর মিকি শেরিল দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ব্রায়ান সিকনিক দিবস’ ঘোষণা করেন। ৩০ জুলাই ছিল এই কর্মকর্তার জন্মদিন। গভর্নর মিকি শেরিল বলেন, ব্রায়ান সিকনিক ছিলেন নিউ জার্সির অন্যতম সেরা সন্তান। তিনি জানান, জানুয়ারি ৬ তারিখের ঘটনায় প্রতিনিধি পরিষদের কক্ষ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় তিনি গ্যাস মাস্ক প্রস্তুত করেছিলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সেই সময় সিকনিক ক্যাপিটল ভবন ও কংগ্রেসের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন। ব্রায়ান সিকনিক ১৯৭৮ সালের জুলাই মাসে নিউ ব্রান্সউইকে জন্মগ্রহণ করেন এবং সাউথ রিভারে বেড়ে ওঠেন। ১৯৯৭ সালে তিনি নিউ জার্সি এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দেন। সেখানে ১০৮তম সিকিউরিটি ফোর্সেস স্কোয়াড্রনের সদস্য ও দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ চলাকালে তিনি সৌদি আরব ও কিরগিজস্তানে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৩ সালে সম্মানজনকভাবে অবসর নেন। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশে যোগ দেন। সেখানে ফার্স্ট রেসপন্ডার্স ইউনিট এবং মাউন্টেন বাইক ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার সময় দাঙ্গাকারীদের হামলার শিকার হন ব্রায়ান সিকনিক। পরে তিনি দুটি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরদিন রাতে মারা যান। কর্তব্য পালন করতে গিয়েই তিনি প্রাণ হারান। ব্রায়ান সিকনিকের ভাই ক্রেইগ সিকনিক বলেন, তার ভাই সারাজীবন অন্যদের সেবা এবং নিজের প্রিয় দেশকে রক্ষা করার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি গভর্নর মিকি শেরিল এবং নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, জন্মদিনে এই সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ব্রায়ান সিকনিকের সাহস, আত্মত্যাগ এবং আজীবনের সেবাকে স্মরণীয় করে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে সড়কে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানোর প্রবণতা ঠেকাতে অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি পুলিশ বিভাগ। ঝোপের ছদ্মবেশ ধারণ করে সড়কের পাশে অবস্থান নেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাত্র ছয় ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে ৭৪ জন চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মিডলসেক্স কাউন্টির ডানেলেন পুলিশ বিভাগ ২৯ জুলাই এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। শহরের নর্থ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউর ১০০ নম্বর ব্লকে অভিযানটি চালানো হয়। এলাকাটি যানবাহন ও পথচারীদের ব্যস্ত চলাচলের জন্য পরিচিত। পুলিশ জানায়, নিউ জার্সির হাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে গাড়ি চালানো সংক্রান্ত আইন কার্যকর করা এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়ানোই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। অভিযানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ঝোপের মতো পোশাক পরে রাস্তার পাশে অবস্থান নেন। তার সঙ্গে ছিল দূরবীন। তিনি গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী চালকদের শনাক্ত করেন। এরপর সামনে অবস্থান নেওয়া অন্য পুলিশ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট যানবাহন থামিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেন। অভিযানের আরও একটি ছবিতে একজন কর্মকর্তাকে "আমি পুলিশ নই" লেখা টি-শার্ট পরেও দেখা যায়, যা অভিযানের গোপনীয়তা বজায় রাখতে ব্যবহার করা হয়েছিল। ডানেলেন পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, মাত্র ছয় ঘণ্টায় ৭৪টি জরিমানার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিভাগটি মজার ছলে লিখেছে, "আমাদের 'ঝোপ' কিন্তু বেশ ব্যস্ত ছিল।" একই সঙ্গে চালকদের উদ্দেশে বার্তায় বলা হয়, "কোনো বার্তা বা নোটিফিকেশন অপেক্ষা করতে পারে। সড়কে গাড়ি চালানোর সময় দৃষ্টি রাখুন রাস্তায়, মোবাইলের পর্দায় নয়।" নিউ জার্সির আইনে গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ। প্রথমবার এ আইন ভঙ্গ করলে ২০০ থেকে ৪০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ এবং অন্যান্য শাস্তিও বাড়তে পারে। রাজ্যের কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন, বিভ্রান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মাঝে মধ্যেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। কোথাও সাধারণ পোশাকে, কোথাও আবার ভিন্ন ধরনের ছদ্মবেশ ব্যবহার করে আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করা হয়। ডানেলেন পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে সড়কে আইন মেনে চলার বিষয়ে কার্যকর সচেতনতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের অভিবাসী আদালতগুলোতে কড়াকড়ি বাড়ায় বড় ধরনের আইনি ঝুঁকিতে পড়েছে শিশুরা। ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগ মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে দ্রুত বিচারকাজ পরিচালনার নীতি গ্রহণ করায় নিউআর্ক ফেডারেল আদালতে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীদের নির্বাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় অভিবাসী আইনজীবী ও প্রবক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন মাসে নিউআর্কের আদালতে একসঙ্গে অনেক মানুষের উপস্থিতি ও অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত শুনানির প্রবণতা ব্যাপকভাবে লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের বিশাল মামলার তালিকার সঙ্গেই শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের বিচারকাজে যুক্ত করা হচ্ছে, যা শিশুদের সুরক্ষার আইনগত বিধানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। আইনি সহায়তার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকা এবং বিচারকাজ দ্রুত শেষ করার তীব্র তাগিদে বহু শিশু আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগই পাচ্ছে না। ফলে তারা প্রতিনিয়ত গুরুতর আইনি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং কোনো ধরনের আইনি প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই তাদের আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ভেরা ইনস্টিটিউট অব জাস্টিসের তথ্য মতে, বিগত ছয় মাসে আদালতে যাওয়া শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ৮১ শতাংশকেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের শেষ ছয় মাসের তুলনায় এই নির্বাসনের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইনজীবীরা আরও বলছেন, বিশেষ অভিবাসী শিশু মর্যাদা পাওয়ার পরও বর্তমান আইনি ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে অনেক শিশু এখন নির্বাসন থেকে কোনো ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছে না। ফলে এসব অসহায় শিশু ও তরুণদের ভবিষ্যৎ জীবন চরম অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মুখে পতিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এবং অভিবাসন বিষয়ক নির্বাহী পর্যালোচনা কার্যালয় অবশ্য জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও যথাসময়ে সম্পন্ন করতেই মূলত মামলার জট কমানোর ওপর এই বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, তাড়াহুড়ো করে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ফলে অভিবাসী শিশুরা চরম অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক মানবিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে সরকার নতুন অভিবাসন বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শদাতা ও আইনজীবীর তীব্র সংকটের কারণে অভিবাসী পরিবার ও শিশুরা চরম আইনি সহায়তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির এক জীবিত ব্যক্তিকে টানা পঞ্চম বছরের মতো সরকারি নথিতে মৃত হিসেবে দেখাচ্ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)। এই প্রশাসনিক ভুলের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের আর্থিক ও সরকারি জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। নিউ জার্সি ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি জীবিত থাকা সত্ত্বেও আইআরএসের রেকর্ডে তাকে মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে তার করসংক্রান্ত কার্যক্রম, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি পরিষেবা ব্যবহারে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে কয়েক বছর আগে। এরপর সংশোধনের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত সমস্যার পুরোপুরি সমাধান হয়নি। প্রতি বছর নতুন করে একই ভুলের কারণে তিনি আবারও জটিলতায় পড়ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তিকে ভুলবশত মৃত হিসেবে চিহ্নিত করা হলে তা গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ সরকারি সংস্থাগুলো সাধারণত মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে কর রেকর্ড, সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিবর্তন আনে। এ ধরনের ভুলের ফলে ব্যাংক হিসাব, ঋণ আবেদন, কর জমা দেওয়া এবং পরিচয় যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাধা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ডেটাবেজে তথ্যের অসামঞ্জস্য, নামের মিল বা নথি প্রক্রিয়াকরণের ভুলের কারণে মাঝে মাঝে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ভুল সংশোধন না হওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আইআরএস সাধারণত এ ধরনের সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় যাচাই, প্রয়োজনীয় নথি জমা এবং রেকর্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব প্রক্রিয়া অনেক সময় দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়ে। নিউ জার্সির ওই বাসিন্দার ঘটনা আবারও দেখিয়েছে, সরকারি রেকর্ডে একটি ভুল তথ্য একজন জীবিত মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।