- প্রচ্ছদ
- Topic
#নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল। সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন। এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান। রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন। দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে। মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে। প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না। সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।
নেদারল্যান্ডস যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় সংরক্ষিত নিজেদের সোনার মজুতের প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করেছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদার করতেই এই সিদ্ধান্ত। ২০২৬ সালের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর করা হয়। এর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ কানাডার অটোয়ায় ছিল। স্থানান্তরের পর দুই জায়গাতেই রয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে সঞ্চিত সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান সোনা বাণিজ্যকেন্দ্র হওয়ায় সেখানে সোনা রাখলে প্রয়োজনের সময় দ্রুত তা লেনদেন করা সম্ভব। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে সোনা ছড়িয়ে রাখায় ঝুঁকিও কমে। তবে নেদারল্যান্ডসই প্রথম নয়। ফ্রান্স ও জার্মানিও অতীতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ থেকে নিজেদের সোনা সরিয়েছে। ফ্রান্স ২০২৫-২৬ সময়ে নিউইয়র্কে থাকা ১২৯ টন সোনা বিক্রি করে ইউরোপে সমপরিমাণ নতুন সোনা কিনেছে। ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ওই সোনা আন্তর্জাতিক মানে না থাকায় বিক্রি করে ইউরোপে নতুন সোনা কেনা হয়েছিল। জার্মানি ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ টন এবং প্যারিস থেকে ৩৭৪ টন সোনা ফ্রাঙ্কফুর্টে স্থানান্তর করে। ২০১৭ সালের আগস্টে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, দেশটির মোট সোনার ৫০ দশমিক ৬ শতাংশ তখন জার্মানিতেই সংরক্ষিত ছিল। তবে এসব স্থানান্তরকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনাস্থার প্রমাণ বলা ঠিক হবে না। দেশগুলো মূলত সোনার নিরাপত্তা, ঝুঁকি বণ্টন এবং সংকটের সময় দ্রুত ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার কারণ দেখিয়েছে।
নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (ডিএনবি) যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের সোনার মজুতের ৮৬ টন যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে সংকট দেখা দিলে যাতে দ্রুত সোনা ব্যবহার বা বাজারজাত করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। ডিএনবির ২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা প্রায় ৩১৩ টন সোনার মধ্যে প্রায় ৮৬ টন লন্ডনে স্থানান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, লন্ডন বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভৌত সোনার বাণিজ্যকেন্দ্র। সেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের কাছে সংরক্ষিত সোনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিক মান পূরণ করে এবং তুলনামূলকভাবে সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে কোনো সংকট পরিস্থিতিতে এই সোনা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ডিএনবির গভর্নর ওলাফ স্লেইপেন বলেন, সোনার মজুত কখনো ব্যবহার করতে হবে না বলেই তারা আশা করেন। তবে দেশের স্থিতিস্থাপকতা ও সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি বাড়ানো প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থা সোনার মজুতকে আরও দ্রুত ব্যবহারযোগ্য করেছে বলেও জানান তিনি। নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ ৬১২ দশমিক ৪ টন। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এর মূল্য ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি কমাতে দেশটির সোনা বিভিন্ন দেশে ও বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষণ করা হয়ে আসছে। নতুন স্থানান্তরের আগে ডিএনবির মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার অটোয়ায়। লন্ডনে ছিল ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানান্তরের পর নিউইয়র্ক ও অটোয়া, দুই জায়গাতেই ডাচ সোনার অংশ দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ করে। অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার অংশ বেড়ে হয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে থাকা সোনার অংশ ৩০ দশমিক ৮ শতাংশই রয়েছে। তবে পুরো ৮৬ টন সোনা শারীরিকভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়া হয়নি। ডিএনবি জানিয়েছে, প্রায় ৫৯ টন সোনা নিউইয়র্কে বিক্রি করে লন্ডনে আন্তর্জাতিক বাজারের মানসম্পন্ন সমপরিমাণ সোনা কেনা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা শারীরিকভাবে নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। একই পরিমাণ আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়েছে। এর ফলে পুরোনো সোনার বার গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি। ব্যাংকটির মতে, সোনা কেনাবেচা এবং সীমিত পরিমাণ শারীরিক স্থানান্তর একসঙ্গে করার ফলে বিপুল পরিমাণ সোনা পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত ঝুঁকিও কমানো গেছে। ভবিষ্যতে কোনো সংকটের সময় সোনা সরানোর প্রয়োজন হলে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও জানিয়েছে ডিএনবি। ডিএনবির এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু সোনা সংরক্ষণের বিষয় নয়, বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। ডিএনবি নিজেও ২০২৬ সালে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সাইবার হামলা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফ্রান্সের ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরাঁ শোয়ার্টজ দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো প্রায় এক দশক ধরে বিভিন্ন স্থানে নিজেদের সোনার মজুত পুনর্বিন্যাস করছে। তার মতে, লন্ডনের সোনার বাজার গভীর ও বেশি তারল্যপূর্ণ হওয়ায় সংকটের সময় সেখানে রাখা সোনা তুলনামূলক দ্রুত ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে সিটি জেসশন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার মনে করেন, ডাচ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কোনো সংকট দেখা দিলে সোনাকে আরও দ্রুত কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করা। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকও যদি একইভাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সোনা সরাতে শুরু করে, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে জার্মানিতেও নিউইয়র্কে সংরক্ষিত দেশটির সোনার নিরাপত্তা নিয়ে চলতি বছরের শুরুতে আলোচনা হয়েছিল। তবে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনা সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। ব্যাংকটি জানিয়েছে, নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তাদের সোনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষণস্থল হিসেবে এখনও বহাল রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে সোনা এখনো কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সংকটের সময় এর মূল্য ও বাজারজাত করার সক্ষমতা থাকায় অনেক দেশই ঝুঁকি ছড়িয়ে দিতে নিজেদের সোনা একাধিক দেশে সংরক্ষণ করে। নেদারল্যান্ডসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশলকেই আরও জোরদার করেছে বলে ডিএনবির বক্তব্যে উঠে এসেছে। সূত্র: ডি নেদারল্যান্ডশে ব্যাংক (DNB), দ্য গার্ডিয়ান
ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় করায় উবারকে ৯৬৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছে নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। ১৭ আগস্ট দেওয়া সিদ্ধান্তে কর্তৃপক্ষ জানায়, উবার পর্যাপ্তভাবে না জানিয়ে এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে। শুক্রবার নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করে। উবারের বিরুদ্ধে আরোপ করা জরিমানার পরিমাণ ৮২৫ মিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৯৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমান। ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালার আওতায় এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বৃহত্তম জরিমানা। এর আগে ২০২৩ সালে আয়ারল্যান্ডে মেটাকে ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়েছিল। নেদারল্যান্ডসের ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের উপপ্রধান মনিক ভারডিয়ার বলেন, উবার সতর্কতা বা মানবীয় সম্পৃক্ততা ছাড়াই ড্রাইভারদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করেছে। এর ফলে ড্রাইভাররা হঠাৎ করে তাদের আয়ের উৎস হারিয়েছেন। বড় ধরনের প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত কোনো কম্পিউটারের এককভাবে নেওয়া উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। উবার অবশ্য এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্ত এবং জরিমানার পরিমাণকে অযৌক্তিক মনে করছে। উবারের দাবি, তারা ড্রাইভারদের অধিকারকে গুরুত্ব দেয় এবং তাদের নীতিতে মানবীয় পর্যালোচনার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট স্থগিতের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর সুযোগ রয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ঘটনাগুলো ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ইউরোপে ঘটেছে। একটি ফরাসি অভিযোগের সূত্র ধরে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে। উবারের ইউরোপীয় সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে হওয়ায় বিষয়টি দেশটির ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের অধীনে তদন্ত করা হয়। উবার প্রতারণার সন্দেহে কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এর মধ্যে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় পথে যাওয়া অথবা যাত্রা শেষ করার ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও ভ্রমণ গ্রহণ করার মতো বিষয় ছিল। উবার জানিয়েছে, এসব স্থগিতাদেশ সাধারণত স্বল্প সময়ের জন্য ছিল এবং মানবীয় পর্যালোচনা ছাড়া স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হতো না। তবে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কম গ্রাহক রেটিং পাওয়া কিছু ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট কম্পিউটারের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। উবার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত তারা কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেয়নি। উবার আরও জানিয়েছে, জরিমানার পরিমাণ অযৌক্তিক হওয়ার একটি কারণ হলো এতে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রাইভারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ইউরোপে কম গ্রাহক রেটিংয়ের কারণে ১২৬ জন ড্রাইভারের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উবারের ২০২৫ সালের বার্ষিক আয়ের একটি অংশ হিসাব করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। ইউরোপের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা অনুযায়ী, মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে এমন সিদ্ধান্ত শুধু কম্পিউটার অ্যালগরিদমের মাধ্যমে নেওয়া যাবে না। এ ধরনের সিদ্ধান্তে অর্থবহ মানবীয় পর্যালোচনা এবং সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকতে হবে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন পারসোনালডাটা ডট আইও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনটি ফরাসি উবার ড্রাইভারদের কর্মসংক্রান্ত অ্যালগরিদমিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে তথ্য পেতে সহায়তা করেছিল। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা পল অলিভিয়ের দেহায়ে জানিয়েছেন, ড্রাইভারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে উবারের বিরুদ্ধে একটি যৌথ মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
শৈশবে আলাদা হয়ে যাওয়া দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী কিশোরী বয়সে একে অপরের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। চেহারার অদ্ভুত মিল দেখে আশপাশের মানুষ অবাক হলেও তারা কেউই জানতেন না, আসলে তারা আপন দুই বোন। প্রায় তিন দশক পর একটি ডিএনএ পরীক্ষায় সেই সত্য সামনে আসে। দুই নারীর নাম মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল টিজসেন। দুজনেরই জন্ম ভারতে। শিশুকালে তাদের আলাদা এতিমখানায় রাখা হয় এবং পরে নেদারল্যান্ডসের দুটি ভিন্ন পরিবার তাদের দত্তক নেয়। ফলে একই দেশে বড় হলেও নিজেদের রক্তের সম্পর্ক সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না তাদের। ১৯৯৬ সালে দত্তক নেওয়া শিশুদের একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। তখন তারা দুজনই কিশোরী। পরিচয়ের পর দ্রুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। চেহারার মিলও নজর এড়ায়নি বন্ধুদের। ঠিকানা বিনিময় করে চিঠি চালাচালিও শুরু করেন তারা। এমনকি মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন। কিন্তু সেই সময় কেউই জানতেন না, কথাটি কেবল মজার ছলে বলা নয়। বাস্তবেই তারা আপন দুই বোন। পরে জীবনের ব্যস্ততায় তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৫ বছর একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এর মধ্যে দুজনের জীবন এগিয়েছে আলাদা পথে। মীনা নেদারল্যান্ডসে থেকে যান এবং তিন সন্তানের মা হন। মিনাল তার সঙ্গী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের এপ্রিলে আসে জীবনের সবচেয়ে বড় চমক। ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানায়, মীনা ও মিনালের মধ্যে পূর্ণ ভাইবোনের সম্পর্ক রয়েছে। তখনই বহু বছরের পুরোনো বন্ধুত্ব নতুন অর্থ পায়। ফল হাতে পাওয়ার পর প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি মিনাল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে নিশ্চিত হন, ডিএনএ পরীক্ষায় যে আপন বোনের সন্ধান মিলেছে, তিনি সেই পুরোনো বান্ধবীই। দুই বোনের আবেগঘন পুনর্মিলন হয় ১১ আগস্ট নেদারল্যান্ডসে। দীর্ঘদিন পর মুখোমুখি হয়ে তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। কান্না আর হাসিতে কাটে সেই মুহূর্ত। জীবনের এতটা সময় আলাদা থাকার পর প্রথমবার তারা জানতেন, এবার আর তারা শুধু পুরোনো বন্ধু নন, আপন দুই বোন। মীনা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তার মনে হতো জীবনে যেন কিছু একটা অপূর্ণ রয়ে গেছে। বোনকে ফিরে পাওয়ার পর সেই শূন্যতা অনেকটাই পূরণ হয়েছে। মিনালের অনুভূতিও একই রকম। দত্তক পরিবারে ভালোবাসা পেলেও নিজের জন্মপরিচয় ও রক্তের সম্পর্কের কাউকে না জানার একটি শূন্যতা তার মধ্যে ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। এখন আলাদা দেশে থাকলেও নিয়মিত যোগাযোগ করছেন দুই বোন। প্রায় ৩০ বছর আগে যে সম্পর্ক শুরু হয়েছিল বন্ধুত্ব দিয়ে, তিন দশক পর সেই সম্পর্কের আসল পরিচয় সামনে এসেছে। একটি ডিএনএ পরীক্ষা শুধু তাদের জন্মপরিচয়ের রহস্যই ভাঙেনি, ফিরিয়ে দিয়েছে বহু বছর ধরে অজানা থেকে যাওয়া আপন সম্পর্কও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।