পরিবেশ

ইতিহাসে প্রথমবার: বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশ পুরস্কার ‘গোল্ডম্যান প্রাইজ’ জিতলেন ৬ নারী

পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন: ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে। সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন। থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা। অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন। ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।" ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চীনা জাহাজে সায়ানাইডের অভিযোগ: দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায়

দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত জলসীমায় একটি চীনা জাহাজে বিষাক্ত সায়ানাইড পাওয়ার দাবি করেছে ফিলিপাইন, যা অঞ্চলটিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।   ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, Second Thomas Shoal এলাকায় নৌ অভিযানের সময় জব্দ করা উপকরণ পরীক্ষার পর সায়ানাইডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই এলাকাটি ফিলিপাইনে আইয়ুনগিন শোল নামে পরিচিত এবং দীর্ঘদিন ধরে চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।   ফিলিপাইনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু পরিবেশগত অপরাধ নয়, বরং একটি সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড। তাঁদের আশঙ্কা, সায়ানাইড ব্যবহার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করতে পারে, মাছের মজুত কমিয়ে দিতে পারে এবং প্রবাল প্রাচীরের কাঠামো দুর্বল করে ফেলতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই প্রবাল প্রাচীর ফিলিপাইনের কৌশলগত অবস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে তাদের একটি নৌজাহাজ অবস্থান করছে, যা ম্যানিলার আঞ্চলিক দাবিকে শক্তিশালী করে। ফলে প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ফিলিপাইনের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।   এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন South China Sea এলাকায় চীন ও ফিলিপাইনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার দুই দেশের নৌবাহিনী মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৪ সালে এক সংঘর্ষে ফিলিপাইনের এক নাবিক আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।   ফিলিপাইন অভিযোগ করে আসছে, চীন তাদের রসদ সরবরাহে বাধা দিচ্ছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বরং ফিলিপাইনকেই নিজেদের জলসীমা লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করছে।   উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যার মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল চীনের বিস্তৃত দাবিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও চীন সেই রায় প্রত্যাখ্যান করে।   বিশ্লেষকদের মতে, সায়ানাইডের এই অভিযোগ সমুদ্রবিরোধে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক নয়, বরং পরিবেশগত নিরাপত্তাকেও এখন এই বিরোধের অংশ করে তুলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পাবলো এসকোবারের 'কোকেন হিপো'র বিষয়ে কঠোর হচ্ছে কলম্বিয়া

কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবারের ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া 'কোকেন হিপো' বা জলহস্তীগুলো এখন কলম্বিয়ার পরিবেশের জন্য এক বিশাল মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলম্বিয়া সরকার অন্তত ৮০টি জলহস্তীকে 'ইউথানাসিয়া' বা যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আশির দশকে মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবার তার ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানার জন্য অবৈধভাবে চারটি জলহস্তী আফ্রিকা থেকে কলম্বিয়ায় নিয়ে আসেন। ১৯৯৩ সালে পুলিশের অভিযানে এসকোবার নিহত হওয়ার পর তার খামারের অন্যান্য প্রাণী সরিয়ে নেওয়া হলেও জলহস্তীগুলো রয়ে যায়। গত তিন দশকে এদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৯-এ। বিজ্ঞানীদের মতে, কলম্বিয়ার ম্যাগডালেনা নদী অববাহিকায় এই জলহস্তীগুলোর কোনো প্রাকৃতিক শিকারি নেই। ফলে এরা অবাধে বংশবিস্তার করছে। এদের অতিরিক্ত মল নদীর পানির গুণমান নষ্ট করছে, যার ফলে স্থানীয় মাছ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ২০৩০ সালের মধ্যে এদের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। কলম্বিয়ার পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিটি জলহস্তীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দিতে সরকারের খরচ হবে প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া কিছু জলহস্তীকে ভারত ও মেক্সিকোর বিভিন্ন অভয়ারণ্যে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে বংশগত ত্রুটি এবং উচ্চ পরিবহন খরচের কারণে সব প্রাণীকে স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে বন্ধ্যাকরণ বা জন্মনিরোধক ওষুধ দিয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হলেও তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। তাই পরিবেশ রক্ষায় এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে কলম্বিয়া সরকার।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ?

২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
‘বাংলাদেশে পরিবেশগত ন্যায়বিচার: প্রেক্ষিত নদী ও পানি’ শীর্ষক অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা। রাজধানীর আইডিবি ভবনে, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ছবি: সংগৃহীত
নদী রক্ষায় কমিশনকে মন্ত্রণালয় থেকে স্বাধীন করতে তাগিদ পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের

দেশের নদ–নদী রক্ষায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে মন্ত্রণালয় থেকে প্রভাবমুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, কমিশনকে স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে না পারলে দেশের নদী রক্ষা কার্যক্রম কার্যকর হবে না।   সোমবার রাজধানীর আইডিবি ভবনে জাতিসংঘের উন্নয়ন সংস্থা ইউএনডিপি আয়োজিত ‘বাংলাদেশে পরিবেশগত ন্যায়বিচার: প্রেক্ষিত নদী ও পানি’ শীর্ষক অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ বক্তব্য রাখা হয়।   এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভসের নির্বাহী পরিচালক মনির হোসাইন চৌধুরী বলেন, নদী কমিশনের মূল উদ্দেশ্য দেশের নদী রক্ষা করা। কিন্তু কমিশনের হাত-পা বেঁধে মন্ত্রণালয়ের কাছে সঁপে দেওয়া হয়েছে, যা তার কার্যকারিতা সীমিত করছে।   পরিবেশ রক্ষাবিষয়ক সংগঠন ধরার সদস্যসচিব শরিফ জামিল বলেন, আদালতের আদেশ অনুসারে কমিশনকে স্বাধীনভাবে গড়ে তোলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এটি মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়েছে। গত তিন দশকে নদী ধ্বংসের বড় ভূমিকা রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।   তিনি আরও বলেন, দূষণ বন্ধ করে প্রকৃতিকে নদীকে নিজেই সারিয়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত। নদী রক্ষায় হাইব্রিড গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কমিউনিটি কাজ করবে এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ও নীতি তাদের পাশে থাকবে।   রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন বলেন, শুধু গবেষণা নয়, নদীর দৃশ্যমান পরিবর্তন দরকার। তিনি জার্মান দার্শনিক কার্ল মার্ক্সের উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, পৃথিবীকে যথেষ্ট ব্যাখ্যা করা হয়েছে, এখন প্রয়োজন তাকে পরিবর্তন করা।   বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম বলেন, নদী রক্ষায় আদালতের আদেশ মেনে চলা হচ্ছে না। আইন কার্যকর হচ্ছে না। সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নেই। তবু আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সোচ্চার থাকতে হবে।   সাবেক জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ ফউজুল আজিম বলেন, পরিবেশের দূষণের এই হারে আর বেশি দিন না গেলে পুরো বাংলাদেশকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। পরিস্থিতি পরিবর্তন দরকার।   সভায় ইউএনডিপির ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ সারওয়ার আলম পরিবেশগত সুবিচার বিষয়ে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইরানি চিকিৎসা গবেষক ডঃ জহরা শোকরি ভারনিয়াব এবং তার স্বামী আশকান পুরাভারি ল্যাঙরউডি | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড জটিলতায় অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার রোগীর চিকিৎসক ডা. ফয়সাল

ডেস্ক রিপোর্ট মে ৯, ২০২৬ 0