সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে।

 

বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
সৌদি আরবের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে।   হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়।   ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না।   এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে।   এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।   এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ২৩:২৭
মসজিদে নববীর নামাজের স্থানে বিছানো কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

প্রতিদিন ৪৩০ মেশিনে পরিষ্কার হয় মসজিদে নববীর ২৫ হাজার কার্পেট

শারজাহে মারা যাওয়া দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

শারজাহে হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসকের মৃত্যু

রান যুদ্ধ ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের প্রতিবেদন। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে স্কুলে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার প্রমাণ পেল জাতিসংঘ

ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় এড শিরানের ট্যুর থেকে পাওয়া ১০ লাখ ডলার দানের ঘোষণা দিয়েছেন ম্যাকলমোর। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিনকে ট্যুরের ১০ লাখ ডলার আয়ের পুরোটাই দিচ্ছেন ম্যাকলমোর

এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’ থেকে পাওয়া নিজের পুরো ১০ লাখ ডলার নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় দান করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। ট্যুরের উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া এই অর্থ ছয়টি সংস্থার মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এর পর রবার্ট ক্রাফট জানিয়েছেন, এড শিরান ও তিনি প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে ওই অঞ্চলের মানবিক সহায়তায় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।   ফিলিস্তিনের পক্ষে মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অংশ থেকে ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এই ঘোষণা এলো। ম্যাকলমোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের পর তিনি আলোচনাকে আবার ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে চান।   ম্যাকলমোর জানান, তাঁর ১০ লাখ ডলারের পুরো নিট আয় ফিলিস্তিনিদের সরাসরি সহায়তা করা ছয়টি সংস্থাকে দেওয়া হবে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ড, হিল প্যালেস্টাইন, গাজা স্যুপ কিচেন, মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টিনিয়ানস, ইউএনআরডব্লিউএ ইউএসএ ন্যাশনাল কমিটি এবং আনেরা।   ম্যাকলমোর একই সঙ্গে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক ও গিলেট স্টেডিয়ামের মালিক রবার্ট ক্রাফটকে তাঁর অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ক্রাফট একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি জানান, এড শিরান তাঁকে ফোন করে ২০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং তিনি সেই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রাফট নিজেও আরও ২০ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানান।   ক্রাফটের বক্তব্য অনুযায়ী, ম্যাকলমোরের প্রকাশ্য আহ্বানের আগেই শিরানের সঙ্গে তাঁর এ বিষয়ে কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিরান ২০ লাখ ডলার দিতে চেয়েছেন এবং তিনি নিজেও একই পরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিরান অন্যান্য স্টেডিয়াম মালিকের সঙ্গেও এ ধরনের সহায়তা নিয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও ক্রাফট জানান।   এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে এড শিরানের সঙ্গে সফরের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানান এবং গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরের মানুষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের পর ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে একটি আবেদন শুরু করে।   পরবর্তী সময়ে ম্যাকলমোর জানান, সফরের কয়েকটি ভেন্যুর মালিক তাঁকে সঙ্গে রেখে অনুষ্ঠান আয়োজন না করার অবস্থান নিয়েছেন। সফরের প্রোমোটার মেসিনা ট্যুরিং গ্রুপও জানায়, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বাকি অনুষ্ঠানগুলোতে ম্যাকলমোর আর অংশ নেবেন না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাকলমোরের দাবি ছিল, কয়েকজন স্টেডিয়াম মালিক তাঁর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন।   এড শিরান পরে স্পষ্ট করেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ছিল না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্তটি নিয়েছে সফরের প্রোমোটার ও ভেন্যু কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেন্যু ও প্রোমোটারের সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়।   ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার পর সফরের বাকি উদ্বোধনী শিল্পীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফিনিয়াস, লুকাস গ্রাহাম, অ্যারন রো এবং বেওগা সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাঁরা ম্যাকলমোরের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন এবং শিল্পীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন।   রবার্ট ক্রাফট অবশ্য ম্যাকলমোরকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন। তাঁর ভাষ্য, ম্যাকলমোরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পাশাপাশি অতীতে ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহারের অভিযোগও সিদ্ধান্তের পেছনে ছিল। ম্যাকলমোর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ইসরায়েল সরকারের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়। রয়টার্সও জানিয়েছে, এই অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্য নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ভিন্ন।   ম্যাকলমোরের ট্যুর থেকে বাদ পড়ার ঘটনাটি এখন সংগীতাঙ্গনের বাইরেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। সাবেক এনএফএল খেলোয়াড় কলিন ক্যাপারনিকও ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।   তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মানবিক সহায়তার বিষয়টি। ম্যাকলমোর তাঁর ট্যুরের আয় থেকে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ক্রাফটের বিবৃতি অনুযায়ী, শিরান ও ক্রাফটের পক্ষ থেকে আরও ৪০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে। ফলে তিন পক্ষের ঘোষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে মোট ৫০ লাখ ডলার। তবে এই অর্থের ব্যবহার ও কোন কোন সংস্থা তা পাবে, বিশেষ করে শিরান ও ক্রাফটের ঘোষিত ৪০ লাখ ডলারের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান-

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৭:৩৫
মাহমুদ আব্বাসসহ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্টসহ কর্মকর্তাদের এবারও ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লাইয়েন। ছবি: সংগৃহীত

কানাডাকে ইইউর সহযোগী সদস্য করলে ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান নিয়ে কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ একদম শেষের পথে, ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি চুক্তির দাবি ট্রাম্পের

ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ
ছেলের হার্ট সার্জারির টাকা বিয়ন্সের কনসার্টে খরচ, স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স দিলেন স্বামী

বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনতে এক নারী তাঁর প্রেমিকের অ্যাকাউন্ট থেকে শিশুর হার্ট সার্জারির জন্য জমিয়ে রাখা টাকা চুরি করেছেন, এমন একটি গল্প ২০২৩ সালে টিকটকে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছিল। দাবি করা হয়, প্রেমিক কনসার্টের টিকিট কিনে দিতে রাজি না হওয়ায় ওই নারী নিজেই টাকা নিয়ে নেন। তবে পরে গল্পটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি সত্যিই ঘটেছিল কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ভাইরাল গল্পটি ছড়িয়ে দেন টিকটক ব্যবহারকারী নোয়া গ্লেন কার্টার। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, ওই নারী জানতেন যে তাঁর প্রেমিক নিজের সন্তানের হার্টের অস্ত্রোপচারের খরচ মেটাতে টাকা জমাচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ন্সের কনসার্টে যাওয়ার ইচ্ছা পূরণ না হওয়ায় তিনি সেই টাকা নিয়ে টিকিট কিনেছিলেন বলে দাবি করা হয়। গল্পটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।    কেউ কেউ ওই নারীকে ভবিষ্যতে বিয়ন্সের কনসার্টে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। আবার কয়েকজন মন্তব্য করেন, ঘটনাটি সত্য হলে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। একজন মন্তব্যকারী দাবি করেন, চুরি করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে এই অর্থের পরিমাণেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এরপরই গল্পটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। নোয়া গ্লেন কার্টারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টের মধ্যে স্কিট বা অভিনয়ভিত্তিক ভিডিও রয়েছে বলে ব্যবহারকারীরা উল্লেখ করেন। ফলে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন, ভাইরাল ঘটনাটিও হয়তো বাস্তব ঘটনা নয়, বরং বিনোদন বা প্রতিক্রিয়া তৈরির জন্য বানানো কনটেন্ট হতে পারে।    ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা দেখা যায়। ডেক্সার্টোর প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ওই নারী সত্যিই শিশুর হার্ট সার্জারির টাকা নিয়ে বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কিনেছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কোনো নিশ্চিত পরিচয়, আদালতের মামলা বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণও সামনে আসেনি।    তবু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গল্পটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রমাণ দেখার আগেই ঘটনাটিকে সত্য ধরে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন অনলাইন আলোচনায় কেউ কেউ গল্পটির ভিডিওকে সাজানো বা রেজবেইট বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এসব মন্তব্যও নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের ধারণা, প্রমাণিত তথ্য নয়।    এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল কোনো দাবিকে যাচাই না করে সত্য ধরে নেওয়ার ঝুঁকিও সামনে আনে। গল্পটি যত দ্রুত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ততটা পাওয়া যায়নি। ফলে শিশুর চিকিৎসার টাকা চুরি এবং বিয়ন্সের কনসার্টের টিকিট কেনার পুরো ঘটনাটিকে নিশ্চিত বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ৪:৫৭
গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

গর্ভধারিনী মার দেখাশোনা করতে ৩০ বছরেই সেনাবাহিনী ছাড়লেন রাষ্ট্রপতির সাবেক এডিসি ঋষভ

মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

১,৬৩৮টি বৈধ ক্রেডিট কার্ড! মণীশের নামে গিনেস বিশ্বরেকর্ড

সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

মেয়ে হয়ে একা একা ঘোরা! সোলো ট্রিপে আফগানিস্তানে গিয়ে গ্রেপ্তার কেরালার তরুণী

0 Comments