বিশ্ব

ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে।

 

বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে।

 

গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন।

 

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে।   বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে।   গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:২৬
ছবি: সংগৃহীত

কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে দুঃসাহসিক হামলার বিবরণ দিলেন ইরানি পাইলটরা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি উত্তেজনার প্রভাবে হংকংয়ে ক্লড এআই নিষিদ্ধ জেপিমরগানের

ছবি: সংগৃহীত

‘ওরা ঈর্ষান্বিত, খারাপ লোক অথবা নির্বোধ’, ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন বহর পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে আরও সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার সক্ষমতা দেবে।   সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক। সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সহায়তায় নির্মিত ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি আধুনিক সাবমেরিন সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। চীন থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।   সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানের সামুদ্রিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। তার ভাষায়, এই শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।   তিনি আরও জানান, শুধু একটি নয়, একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বহর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর এলাকায় পাকিস্তানের নৌ উপস্থিতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।   বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ১৯৭১ সালের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন এই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সামুদ্রিক কার্যক্রম মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগর শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য এই জলসীমা বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে আসছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের সদর দপ্তর বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত। এছাড়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতকে এই অঞ্চলে বাড়তি সামুদ্রিক সক্ষমতা দিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন কর্মসূচি মূলত নৌ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অংশ। তবে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।   চীনের সহায়তায় নির্মিত হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। কমোডর ওমর ফারুক সাক্ষাৎকারে এই সাবমেরিনগুলোকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও উল্লেখ করেছেন।   তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মোতায়েন পরিকল্পনা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বঙ্গোপসাগরে এই উপস্থিতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৭:৫০
ছবি: সংগৃহীত

রাজস্থানে ৬ মসজিদ-মাদরাসায় এক দিনের উচ্ছেদ নোটিশ, মানবাধিকার সংগঠনের ক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপে আবর্জনা পরিষ্কার, কিন্তু ঘরের কাজে নয়? ভাইরাল মিমে জাপানি পুরুষদের কটাক্ষ

ছবি: সংগৃহীত

৬০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল সৌদির তিন সুপারট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে দুই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা জার্মানির, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতে বিশেষ নজর

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কৌশলগত তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযানে দ্রুত অংশগ্রহণের প্রস্তুতি হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।   বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থানরত জার্মান নৌবাহিনীর মাইন অপসারণকারী জাহাজ ‘ফুলদা’ এবং সরবরাহকারী জাহাজ ‘মোজেল’ ইতোমধ্যে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে লোহিত সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, এটি মূলত একটি আগাম প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক কোনো অভিযান শুরু হলে যাতে জার্মানি দ্রুত সাড়া দিতে পারে, সে লক্ষ্যেই জাহাজ দুটি কৌশলগতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   বরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, “প্রয়োজন দেখা দিলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে কোনো অভিযান শুরু হলে আমরা দ্রুত অংশ নিতে প্রস্তুত থাকব। আমাদের লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য সবচেয়ে কম সময়ে হরমুজ প্রণালিতে পৌঁছানোর সক্ষমতা নিশ্চিত করা।” বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।   জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে যেকোনো সামরিক বা নৌ অভিযান পরিচালনার আগে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো এবং জার্মান পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। তিনি জানান, সম্ভাব্য কোনো আন্তর্জাতিক মিশনে অংশ নিতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমঝোতা হতে হবে। এরপর জাতিসংঘ বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেট জারি করা হলে জার্মান সরকার পার্লামেন্টে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আবেদন করবে।   সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন দেশ বিকল্প নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই পদক্ষেপ শুধু সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলেরও অংশ। কারণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দামে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে।   জার্মান সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি উদ্বেগেরও ইঙ্গিত বহন করছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সামরিক অভিযান শুরু হয়নি, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার নীতি অনুসরণ করছে বার্লিন।   এদিকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। সেই বাস্তবতায় জার্মানির এই পদক্ষেপকে একটি কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৬:৫৫
ছবি: সংগৃহীত

আমরা ইরানের প্রচুর অর্থ নিয়েছি, সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে বিজেপি নেতাসহ তিনজনকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত

উত্তেজনা থাকলেও কেন একে অপরের পরমাণু কেন্দ্রে হামলা করে না ভারত-পাকিস্তান?

0 Comments