যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অভিবাসন অভিযান চলাকালে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর এক কর্মকর্তার গুলিতে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নিহত ব্যক্তি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে নিহতের পরিবার এবং অভিবাসী অধিকারকর্মীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার হিউস্টনে পরিচালিত একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে। আইসিই জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহো। সংস্থাটির দাবি, তিনি মেক্সিকোর নাগরিক ছিলেন এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানায়, কর্মকর্তারা তার গাড়ি থামানোর নির্দেশ দিলেও তিনি তা অমান্য করেন। বরং একটি আইসিই গাড়িতে ধাক্কা দেন এবং গাড়িটিকে অস্ত্রের মতো ব্যবহার করে এক কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই পরিস্থিতিতে এক কর্মকর্তা গুলি চালান বলে ডিএইচএসের দাবি।
তবে নিহতের ছেলে রোনালদো সালগাদো স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল টেলেমুন্ডো হিউস্টন-কে জানান, তার বাবা ওই এলাকায় দিনমজুর নিয়োগের উদ্দেশ্যে শ্রমিক খুঁজতে গিয়েছিলেন। পরিবারের দাবি ও সরকারি বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও রয়টার্স পর্যালোচনা করেছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা ভ্যানের পাশে একজন ব্যক্তি মাটিতে পড়ে আছেন এবং তাকে ঘিরে রয়েছেন একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। তবে ভিডিওটিতে গুলি চালানোর মুহূর্তটি দেখা যায়নি।
এ ঘটনার পর টেক্সাস থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়া নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, ঘটনার সব ভিডিও, যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য আলামত সংরক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।
অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠন লিগ অব ইউনাইটেড ল্যাটিন আমেরিকান সিটিজেনস (LULAC)-এর প্রধান নির্বাহী হুয়ান প্রোয়ানোও একই দাবি জানিয়েছেন। তার ভাষায়, শুধু ডিএইচএসের বক্তব্যের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া দরকার এবং সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও প্রকাশ করা উচিত।
সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করার পর থেকে আইসিই বা অন্যান্য ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে মিনিয়াপোলিসে রেনি গুড নামে এক মার্কিন নাগরিকও আইসিই অভিযানের সময় গুলিতে নিহত হন। সে সময়ও ডিএইচএস দাবি করেছিল, তিনি গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে স্থানীয় কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এ ধরনের কয়েকটি ঘটনার পর আইসিই তাদের কিছু বিতর্কিত অভিযান সীমিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান বাড়ানো হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে আইসিই।
হিউস্টনের এই ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিকে গুলি করার পেছনের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের দাবিই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হওয়া বাকি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে টেসলা গাড়ি ২৫০ ফুট গভীর খাদে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসক ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে আনা হত্যা চেষ্টার সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্দেশে দুই বছরের মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে। ৪৫ বছর বয়সী ধর্মেশ প্যাটেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২৩ সালের ২ জানুয়ারি ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান মাটেও কাউন্টির ডেভিলস স্লাইড এলাকায় হাইওয়ে-১ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের টেসলা গাড়িটি ২৫০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় গাড়িটি নিচের পাথুরে সৈকতে আছড়ে পড়লেও অলৌকিকভাবে বেঁচে যান তিনি, তার স্ত্রী নেহা প্যাটেল এবং তাদের দুই সন্তান। উদ্ধারকর্মীরা গাড়ি কেটে তাদের বের করেন। তদন্তের শুরুতে প্যাটেলের স্ত্রী তদন্তকারীদের জানান, তার স্বামী ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়িটি খাদে ফেলেছিলেন। অন্যদিকে প্যাটেল প্রথমে দাবি করেন, টায়ারের সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরে স্যান মাটেও কাউন্টির প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যাচেষ্টার তিনটি অভিযোগ দায়ের করেন। বিচার চলাকালে প্রতিরক্ষা আইনজীবীরা যুক্তি দেন, ঘটনার সময় ধর্মেশ প্যাটেল গুরুতর বিষণ্নতা ও মানসিক বিভ্রমে ভুগছিলেন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে অযৌক্তিক ভয়ের মধ্যে ছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে আদালত তাকে ক্যালিফোর্নিয়ার মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। দুই বছর ধরে চিকিৎসা, নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, ওষুধ গ্রহণ এবং আদালতের নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত সফলভাবে পালন করার পর চলতি মাসে স্যান মাটেও কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্ট তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ খারিজ করে দেয়। আদালত তার পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দেন। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসা স্যান মাটেও কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি স্টিভ ওয়াগস্টাফ বলেন, হত্যা চেষ্টার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রেও মানসিক স্বাস্থ্য ডাইভারশন কর্মসূচির মাধ্যমে ফৌজদারি অভিযোগ খারিজ হওয়ার সুযোগ থাকা নিয়ে তার আপত্তি রয়েছে। তার মতে, এ ধরনের মামলায় আইন পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। ডেভিলস স্লাইডের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। একদিকে একটি পরিবারের অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার ঘটনা, অন্যদিকে মানসিক অসুস্থতা এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর সেই বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল আতশবাজির প্রদর্শনীর পর কয়েক ঘণ্টার জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরে পরিণত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি। বিশ্লেষকদের মতে, মাত্র ৪০ মিনিটের আতশবাজির প্রদর্শনী শহরজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কর্তৃপক্ষ জনস্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়। বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিটি মুভমেন্ট মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজি প্রদর্শনীর পর বাতাসে ক্ষুদ্র কণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম) ঘনত্ব স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ দশমিক ৭ গুণ বেড়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াশিংটনজুড়ে স্থাপিত ২৬টি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল প্রকাশ করেছে। এসব যন্ত্র স্থানীয় জ্বালানি ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগিতায় পরিচালিত হয়। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ুর মান এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) 'সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে বিবেচনা করে। কয়েকটি এলাকায় দূষণের মাত্রা এর চেয়েও বেশি ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আতশবাজি প্রদর্শনী শেষ হওয়ার প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর, রোববার ভোর ৪টার দিকে দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর আরও প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বায়ুদূষণ উচ্চমাত্রায় স্থায়ী ছিল। পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসি কর্তৃপক্ষ 'কোড রেড' সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, প্রবীণ, শিশু এবং শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য বাইরের বাতাস স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি সাধারণ মানুষও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ওয়েস্ট পোটোম্যাক পার্কে আতশবাজি নিক্ষেপের একটি প্রধান স্থান থাকার পাশাপাশি রাতের আবহাওয়ার কারণে ধোঁয়া ওই এলাকায় আটকে থাকায় দূষণ বেশি হয়েছে। ক্ল্যারিটি মুভমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড লু বলেন, দূষিত বাতাস সম্ভবত প্রতিবেশী ভার্জিনিয়ার আর্লিংটন এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেখানে পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ যন্ত্র না থাকায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার ভাষায়, এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয় কেন তাৎক্ষণিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা জরুরি। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকলে বড় ধরনের দূষণের ঘটনা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। বিশ্লেষকরা আরও বলেছেন, রোববার সন্ধ্যায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাতাসের দূষণ কিছুটা কমে আসে এবং সম্ভাব্য আরও বড় সংকট এড়ানো সম্ভব হয়। এবারের স্বাধীনতা দিবসের বিশেষ আতশবাজি প্রদর্শনীর আয়োজন করে ট্রাম্প-সমর্থিত অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম ২৫০। আয়োজকদের দাবি, শনিবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া প্রদর্শনীতে রাজধানীর ১০টি স্থান থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি আতশবাজি ফোটানো হয়। তুলনামূলকভাবে ওয়াশিংটনে সাধারণ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রায় ১৭ হাজার আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রদর্শনীকে 'তার দেখা সবচেয়ে দর্শনীয় আতশবাজির অনুষ্ঠান' বলে মন্তব্য করেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার এয়ারনাউ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি প্রদর্শনীর পর কিছু সময়ের জন্য বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে ওয়াশিংটনের বায়ুমান ছিল সবচেয়ে খারাপ। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স বলেন, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সবচেয়ে বড় আতশবাজির প্রদর্শনী। তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরই স্বাধীনতা দিবসের আতশবাজির পর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে স্বল্প সময়ের জন্য বায়ুদূষণ বেড়ে যায়। এবারের ঘটনাও তার ব্যতিক্রম নয়। অন্যদিকে আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ড আতশবাজি ব্যবহার করা হয়। এসব আতশবাজি থেকে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইডসহ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর বিভিন্ন গ্যাস ও সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের আতশবাজির প্রদর্শনী স্বল্প সময়ের জন্য হলেও বায়ুমানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী নারী এবং শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ ধরনের দূষণ তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১৮ মাস বয়সী যমজ সন্তান টিকা নেওয়ার কারণে মারা গেছে বলে দাবি করে সহানুভূতি কুড়িয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহো অঙ্গরাজ্যের এক নারী। তবে এবার চাঞ্চল্যকর এক মোড় নিয়েছে ঘটনাটি। পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টিকার কারণে নয়, বরং নিজের হাতেই সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন ওই মা। এই লোমহর্ষক অভিযোগে ২৩ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া শ নামের ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তার বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বছর টিকা-বিরোধী সংগঠন ‘চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্স’-এর একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আন্দ্রেয়া শ দাবি করেছিলেন, ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ কয়েকটি রোগের টিকা নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তার যমজ সন্তান মারা যায়। তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে, দুই নার্স শিশু দুটিকে একই সময়ে টিকা দেওয়ার পরপরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বরাবরই বলে আসছেন যে, শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হেপাটাইটিস-এ, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং ডিটিএপি (DTaP) টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও কার্যকর এবং বিশ্বের স্বনামধন্য স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো নিয়মিত এসব টিকা নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করে থাকে। পায়েট পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শিশু দুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার প্রমাণ মিলেছে। গত ২৯ জুন একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ গঠন করে। এরপর মঙ্গলবার বোইসি শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হয়। বর্তমানে তিনি ২০ লাখ ডলারের জামিনে আটক রয়েছেন। অপরাধ প্রমাণিত হলে তার আজীবন কারাদণ্ড কিংবা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। আগামী ১৪ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও আন্দ্রেয়ার আইনজীবী জো ফিলিচেত্তি দাবি করেছেন, তার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাষ্ট্রপক্ষ এই অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবে। চাঞ্চল্যকর এই মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন আন্দ্রেয়া শ নিজেই একটি ফেডারেল মামলার বাদী। চিলড্রেনস হেলথ ডিফেন্সের সাথে মিলে তিনি আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন, যেখানে অভিযোগ করা হয় শিশুদের টিকার নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন পরিবারগুলোকে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ওই মামলায় আন্দ্রেয়াকে এমন একজন ভুক্তভোগী মা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার সন্তানরা নিয়মিত টিকা নেওয়ার পর মারা গেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস আদালতকে মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়ে বলেছে, এটি বিজ্ঞানভিত্তিক টিকানীতিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার অংশ।