ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে এক নারী সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রথমে সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরি ও পারিবারিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ২৩ বছর বয়সী মেয়ে আয়ুষী শর্মা আত্মীয়দের সহযোগিতায় মাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত নীরজ শর্মা (৪৫) জয়পুরের একটি আদালতে নিম্ন বিভাগীয় কেরানি (এলডিসি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ৩ জুলাই বিকেলে তিনি ছেলেকে কোচিং সেন্টারে নামিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্করপিও গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা মনে হলেও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা। পরে তদন্তে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ সামনে আসে।
জয়পুর পুলিশের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার রঞ্জিতা শর্মা জানান, নীরজ শর্মার স্বামী প্রায় এক বছর আগে মারা যান। তার মৃত্যুর পর অনুকম্পাভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে নীরজ শর্মা সরকারি চাকরি পান। তদন্তে পুলিশ দাবি করেছে, মেয়ে আয়ুষী সেই চাকরি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি গত দুই থেকে তিন বছর ধরে মা ও মেয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
পুলিশের অভিযোগ, আয়ুষী তার কাকা মোহন স্বরূপ এবং চাচাতো ভাই বলরাম ওরফে রবির সঙ্গে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, ভরতপুরের বাসিন্দা হেমন্ত শর্মাকে ৭ লাখ রুপির বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা প্রথমে একটি থার গাড়ি ভাড়া করে নীরজ শর্মার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করলেও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে প্রায় এক মাস নজরদারি চালিয়ে ৩ জুলাই স্করপিও গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার দিন কয়েকজন অভিযুক্ত নীরজ শর্মার অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে একে অপরকে তথ্য দিচ্ছিলেন বলেও অভিযোগ পুলিশের।
ঘটনার পর নিহতের ভাই রাকেশ কুমার শর্মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি পুলিশকে জানান, নীরজ শর্মা জীবিত থাকতেই সম্পত্তি নিয়ে মেয়ে ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে বিরোধের কথা বলেছিলেন। তিনি একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ এ ঘটনায় আয়ুষী শর্মাসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বলরাম ওরফে রবি নামে একজন অভিযুক্ত এখনো পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আয়ুষী স্বীকার করেছেন যে তিনি বাবার মৃত্যুর পর সরকারি চাকরিটি নিজের নামে পেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার মা সেই চাকরিতে যোগ দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এরপর সম্পত্তি ও চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি রয়েছে।
ঘটনাটি ভারতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি ও অনুকম্পাভিত্তিক সরকারি চাকরিকে কেন্দ্র করে এমন হত্যার অভিযোগে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পুলিশ তদন্ত শেষ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের করাচির উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পর একটি বোয়িং ৭৩৭ কার্গো উড়োজাহাজের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরব সাগরে বিমানটির সন্ধানে নৌ ও আকাশপথে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উড়োজাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানায়, করাচিভিত্তিক বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালিত বোয়িং ৭৩৭-৪০০ উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। মঙ্গলবার রাত ৯টা ১৮ মিনিটের দিকে পাইলট বিমানটির নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানোর মাত্র তিন মিনিট পর রাডারে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছে এবং হঠাৎ দিক পরিবর্তন করছে। এরপরই রাডার ও বেতার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে সময় বিমানটি করাচি থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঘটনার পরপরই পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র সক্রিয় করে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ, নৌবাহিনীর টহল বিমান এবং জাতীয় শিপিং করপোরেশনের জাহাজসহ একাধিক সংস্থা আরব সাগরে যৌথ অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে। বিশ্বব্যাপী ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ সেবা ফ্লাইটরাডার২৪-এর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে উড়োজাহাজটি প্রথমে দ্রুত উচ্চতা হারায়, এরপর কিছুটা ওপরে ওঠে এবং তারপর আবার আকস্মিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্ভাব্য দুর্ঘটনার ইঙ্গিত দিতে পারে, তবে অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। কেটু এয়ারওয়েজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ পাঁচ ক্রু সদস্যের নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালে নির্মিত এই বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি প্রথমে যাত্রীবাহী বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে ২০১২ সালে এটিকে কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়। ২০২৪ সালে এটি কেটু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয় এবং বর্তমানে এটিই এয়ারলাইনটির একমাত্র উড়োজাহাজ। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দিলেও একটি উড়োজাহাজ কিছু সময় ভেসে চলতে পারে। কিন্তু এই উড়োজাহাজের হঠাৎ দ্রুত নিচে নেমে যাওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উড়োজাহাজটির অবস্থান এবং পাঁচ আরোহীর ভাগ্য সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি উদ্ধার তৎপরতা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় নিভে এসেছে। সর্বশেষ সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রতিদিন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার। ভূমিকম্পের পরদিন মঙ্গলবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ও সমন্বয় ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিদেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন। স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাদা-দাদির সন্ধানে সহায়তা চেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে বসবাস করতেন পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ। ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্পেনে থাকা ভ্যালেরিয়া ভেলোজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের বলেছেন, ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সম্ভাব্য জীবিত বা মৃতদের খুঁজে পেতে হলে অন্তত ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে। এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ক্রেনের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেদ্রো ভেলোজ বলেন, “ভবনটি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে ক্রেন ছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানো প্রায় অসম্ভব।” উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে গত রোববার নতুন একটি সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ। এই ইউনিট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করবে। এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি—প্রায় ৫৯ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দুর্বল জনসেবা ব্যবস্থা, খাদ্যসংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। এই ভূমিকম্প সেই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। ওই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী।” উদ্ধারকাজের ধীরগতি, বিপুল প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংস—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখন নজর কেবল নিখোঁজদের খোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দিকে।
চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কানসু প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় শক্তিশালী ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত ১৬ জন এখনও মাটির নিচে আটকা পড়ে আছেন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র বজ্রঝড় ও ঝোড়ো হাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ২৭৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। প্রাদেশিক জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাথমিক তথ্যের বরাতে চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, ভূমিধসের শুরুতে মোট ৩৩ জন আটকা পড়েছিলেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১৬ জনের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘটনার পরপরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিখোঁজদের দ্রুত খুঁজে বের করা এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ঘটে যাওয়া এই ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে চলতি সপ্তাহজুড়ে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়ার প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চীনের সরকারি সংবাদসংস্থা সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাতে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক ঝড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। হুবেইর হুয়াংশি, হুয়াংগাং, এঝৌ এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়, যা ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ঝড়ের কারণে অন্তত ২৭৫ জন মানুষ আহত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছে। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে আগামী দিনগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গুয়াংশি এবং পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু ও শানডং প্রদেশে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে, যা নতুন করে ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি বাড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব এলাকায় প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাস হওয়ায় সম্ভাব্য দুর্যোগের প্রভাবও বড় আকার ধারণ করতে পারে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় টর্নেডোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই পরিস্থিতির মধ্যেই চীন এখন সুপার টাইফুন ‘বাভি’ নিয়ে উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগর পেরিয়ে তাইওয়ানের দিকে অগ্রসরমান এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি ইতোমধ্যে গুয়াম, টিনিয়ান, সাইপান ও রোটা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্যমতে, এসব এলাকায় আঘাত হানার সময় ঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করা হলেও আবহাওয়ার প্রতিকূলতা পরিস্থিতি সামাল দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।