ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখেন মা
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক মায়ের গল্প ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া পোস্টগুলোতে দাবি করা হচ্ছে, লা গুয়াইরা এলাকার একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে ওই মা টানা ১১ দিন বুকের দুধ খাইয়ে তার তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন। পরে উদ্ধারকারীরা তাদের চারজনকেই জীবিত উদ্ধার করেন।
ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, লা গুয়াইরার ওপিপি ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা ওই মা নিজের বুকের দুধ খাইয়েই শিশুদের বাঁচিয়ে রাখেন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত মা ও তার তিন সন্তানকে জীবিত উদ্ধার করলে ঘটনাটি অনেকের কাছে 'অলৌকিক' হিসেবে বিবেচিত হয়।
গল্পটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ ওই মায়ের সাহস, আত্মত্যাগ ও মাতৃত্বের প্রশংসা করছেন। অনেকেই তাকে 'নায়ক' হিসেবে উল্লেখ করছেন।
তবে এ ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সরকারি কর্তৃপক্ষ কিংবা আন্তর্জাতিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
কয়েকটি স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনাটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার কিছু অংশ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনও আশঙ্কা করা হয়েছে যে, ভূমিকম্প-পরবর্তী বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানের তথ্য একসঙ্গে মিশে এই বর্ণনা তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পে লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ হতাহত বা নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকেরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করার ঘটনাও ঘটেছে।
তবে ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা এক মা ১১ দিন ধরে বুকের দুধ খাইয়ে তিন সন্তানকে জীবিত রেখেছিলেন, এমন দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ও স্বাধীন নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত তথ্যের পরিবর্তে ভাইরাল দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreস্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক চাঁদকে শুধু নভোচারীদের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্যও উন্মুক্ত করার স্বপ্ন দেখছেন। তাঁর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো চাঁদের বুকে স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলা, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘মুন বেস আলফা’। মাস্কের পরিকল্পনায় স্পেসএক্সের স্টারশিপ ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ কার্গো চাঁদের পৃষ্ঠে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আবাসন, রোভার, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো স্থাপনের পথ তৈরি হতে পারে। স্পেসএক্সের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, স্টারশিপ চাঁদে কার্গো পরিবহন এবং ভবিষ্যতে মুন বেস তৈরিতে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচিতেও স্টারশিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নাসা ও স্পেসএক্স মিলে স্টারশিপ হিউম্যান ল্যান্ডিং সিস্টেম তৈরি করছে, যা আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনে নভোচারীদের চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃষ্ঠে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনার সামনে বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পৃথিবীর কক্ষপথে স্টারশিপকে জ্বালানি দেওয়া। চাঁদে যাওয়ার আগে স্টারশিপকে কক্ষপথে থাকা একটি প্রপেল্যান্ট ডিপো থেকে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি নিতে হবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় একাধিক ট্যাংকার স্টারশিপ কক্ষপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে। নাসার ইন্সপেক্টর জেনারেলের ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্টেমিস-৩ ও আর্টেমিস-৪ মিশনের জন্য ১০টির বেশি ট্যাংকার উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। কক্ষপথে ক্রায়োজেনিক জ্বালানি স্থানান্তর প্রযুক্তি এখনো বড় ধরনের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নাসা জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ চন্দ্র ও গভীর মহাকাশ মিশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্পেসএক্স ২০২৪ সালের একটি পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে তরল অক্সিজেন স্থানান্তরের প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছিল। মাস্কের এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে এখনো অনেক সময় ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন। তবে তাঁর লক্ষ্য শুধু কয়েকজন নভোচারীকে চাঁদে পাঠানো নয়। দীর্ঘমেয়াদে চাঁদের বুকে এমন একটি স্থায়ী মানব বসতি গড়ে তোলাই তাঁর পরিকল্পনা, যেখানে একদিন সাধারণ মানুষও ভ্রমণ করতে পারবে।
'চাকি’ মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে ঘিরে রহস্য, লস অ্যাঞ্জেলেসে থাকার আশঙ্কা
নিউ গিনির দুর্গম বনাঞ্চলে আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির সাপের নাম ‘স্ল্যাশ’
কানাডার জাদুঘরে সংরক্ষিত চিনাবাদামে শ্বাসবন্ধ হয়ে মারা যাওয়া ২ বছরের শিশুর শ্বাসনালি
গাজায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, পণ্যের সীমিত সরবরাহ ও প্রবেশে নানা বাধার কারণে খাবার, জ্বালানি, ব্যাটারি ও চিকিৎসা সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার বড় একটি অংশ যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত। দীর্ঘদিন ধরে পণ্য ও মানবিক সহায়তা প্রবেশে কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় বাজারে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক নেই। এই সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের দামে। যুদ্ধের আগে প্রায় ১৪০ ডলারে বিক্রি হওয়া একটি গাড়ির ব্যাটারির দাম এখন ২ হাজার ৩০০ ডলারের বেশি। একইভাবে সোলার প্যানেলের দামও যুদ্ধের আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। সিগারেট ও তামাকের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্যাকেটের দাম সাম্প্রতিক সময়ে ১৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। পূর্ণ অবরোধের সময় দাম আরও অনেক বেশি হয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষের ব্যবহার্য পণ্য নয়, হাসপাতালগুলোও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকটে পড়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধার কারণে হাসপাতাল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিকল্প পথে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে হচ্ছে। আরব নিউজের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, গাজায় পণ্য পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষকে বাড়তি অর্থ দিতে হয় বলে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। পরিবহন, গুদামজাতকরণ এবং সীমান্ত পারাপারের বিভিন্ন ধাপে এই অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যয় গিয়ে যোগ হচ্ছে পণ্যের দামের সঙ্গে। ইসরায়েল কিছু পণ্যের প্রবেশ সীমিত করেছে এবং কংক্রিট, স্টিলের পাইপ, গাড়ির যন্ত্রাংশ ও এক্স-রে মেশিনসহ বেশ কিছু পণ্যকে ‘ডুয়াল-ইউজ’ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। ইসরায়েলের দাবি, এসব পণ্য সামরিক কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। তবে গাজার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধের কারণে প্রয়োজনীয় অনেক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য খাবার, বিদ্যুৎ, চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকটের মধ্যে সীমিত সরবরাহ, অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় এবং পণ্য প্রবেশের নানা বাধা মিলে গাজার বাজারে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মূল্যচাপ। ফলে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের সংকটও সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
হিন্দ রাজাব হত্যার তদন্ত করবে ইসরায়েল, ‘ইসরায়েলের কোনো বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা নেই’: শিশু হিন্দের মা
রাবার শ্রমিকের মেয়ে থেকে ব্রাজিলের মন্ত্রী: যিনি ১৬ বছর বয়সেও পড়তে জানতেন না তিনি বাঁচালেন আমাজন বন
কিম জং উনের সঙ্গে কথা বলতে মরিয়া ট্রাম্প, তবে ট্রাম্পের ফোন ধরছেন না কিম
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন। অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে। অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়। ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল