গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দশটি অঙ্গরাজ্যে মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে। ফক্স ওয়েদারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবহাওয়ার এই অনুকূল পরিবেশ মশার বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করায় এই অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জন্য মশা গ্রীষ্মকালের একটি পরিচিত বিরক্তিকর বিষয় হলেও নির্দিষ্ট এই রাজ্যগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। মশার উপদ্রবে এগিয়ে থাকা শীর্ষ ১০ অঙ্গরাজ্যের বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো: টেক্সাস তালিকার শীর্ষে থাকা এই অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৮৫ প্রজাতির মশার উপদ্রব রয়েছে। আর্দ্র বন, উপকূলীয় নিচু সমভূমি এবং বড় বড় শহরে মশার বিস্তার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফ্লোরিডা উপক্রান্তিক জলবায়ু, উষ্ণ তাপমাত্রা ও প্রচুর বৃষ্টির কারণে এখানে সারা বছরই মশা সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে এভারগ্লেডস জলাভূমিতে এদের প্রকোপ তীব্র আকার ধারণ করে। নিউইয়র্ক জনবহুল শহর থেকে শুরু করে পাহাড়ি বনভূমি ও বালুকাময় উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৭০ প্রজাতির মশার বিস্তার রয়েছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এখানকার পার্ক ও ট্রেইলগুলোতে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। লুইজিয়ানা বাপ্পা, জলাভূমি এবং নদীনালাঘেরা এই রাজ্যে ৬৮ প্রজাতির মশার নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র রয়েছে। মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এখানকার দীর্ঘ ও একটানা মশার মৌসুম বজায় থাকে। জর্জিয়া ঘন বন, উপকূলীয় জলাভূমি ও দাঁড়িয়ে থাকা পানির কারণে এখানে ৬০ প্রজাতিরও বেশি মশার বিস্তার ঘটে। গ্রীষ্মের উষ্ণতা ও অতিরিক্ত আর্দ্রতা মশার বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আলাবামা উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের আর্দ্রতা মশার প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। বসন্ত থেকে শুরু করে শরৎকাল পর্যন্ত এই পতঙ্গের উপদ্রব বজায় থাকে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা উপকূলীয় মার্শ এবং ঘন ঘন গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টির কারণে মশার আদর্শ প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়। প্রায় ৬১ প্রজাতির মশার আবাসস্থল থাকায় এখানে গ্রীষ্মে মশার উৎপাত বেশি থাকে। উত্তর ক্যারোলাইনা পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে আটলান্টিক উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত ভৌগোলিক বৈচিত্র্য রয়েছে। উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে এখানে প্রায় ৬০ প্রজাতির মশা সক্রিয় থাকে। কেনটাকি গ্রীষ্মকালের তীব্র গরম, আর্দ্রতা এবং ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে এই অঙ্গরাজ্যের আবহাওয়া মশার বংশবিস্তারের জন্য বেশ উপযোগী। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার কার্যক্রম চরমে থাকে। মিশিগান হ্রদ, নদী ও বনাঞ্চলে ঘেরা এই রাজ্যে গ্রীষ্মকালের উষ্ণ আবহাওয়া মশার প্রজনন বাড়ায়। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মশার উপদ্রব এখানকার প্রধান গ্রীষ্মকালীন সমস্যাগুলোর একটি।
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে যখন সাধারণ নিয়ম মেনে অধিকাংশ সমুদ্রজন্তু ঠান্ডা পানির খোঁজে উত্তরের দিকে পাড়ি জমায়, তখন ঠিক তার উল্টো পথে হেঁটে সমুদ্রবিজ্ঞানীদের রীতিমতো চকচক করে দিয়েছেন এক বিশালাকার গ্রেট হোয়াইট শার্ক। প্রায় ১,৪০০ পাউন্ড (৬৩৫ কেজির বেশি) ওজনের এই পূর্ণবয়স্ক হাঙরটির নাম রাখা হয়েছে 'ব্রেটন'। গরমের দিনে ফ্লোরিডার উষ্ণ সাগরে তার হঠাৎ উপস্থিতি ও অদ্ভুত আচরণ দেখে এখন চরম বিস্ময় প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক সমুদ্রবিজ্ঞানীরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ওয়েদারের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, 'ওশিয়ার্চ' (OCEARCH) নামক একটি অলাভজনক সামুদ্রিক গবেষণা সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই বিশালাকার হাঙরটির চলাচলের ওপর নজর রাখছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কানাডার নোভা স্কোটিয়ার স্কাটারি দ্বীপের কাছে প্রথমবারের মতো ব্রেটনের শরীরে স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডিভাইস বা ট্যাগ বসানো হয়। এর পর থেকে প্রতি বছরই তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সাধারণত বছরের এই সময়ে ওশিয়ার্চ ট্র্যাকার মানচিত্রে দেখা যায়, প্রায় সব গ্রেট হোয়াইট শার্ক যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কোড কিংবা আটলান্টিক কানাডার ঠান্ডা পানিসীমায় সময় কাটায়, যেখানে খাবারের সংস্থানও প্রচুর। তবে গত ২০ জুলাই ব্রেটনের শরীরে থাকা স্যাটেলাইট ট্যাগ থেকে আসা সর্বশেষ সিগন্যাল বা 'পিং' বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সে ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলের দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বছরের এই সময়ে কোনো গ্রেট হোয়াইট শার্কের পক্ষে ওই এলাকায় অবস্থান করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক একটি ঘটনা। যেখানে ব্রেটন ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেখানকার সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে প্রায় ৮৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস), যা হাঙরের জন্য অতিরিক্ত উষ্ণ। স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী এত গরম পানিতে হাঙর বেশিক্ষণ থাকার কথা নয়। বিষয়টি নিয়ে ওশিয়ার্চের প্রবীণ তথ্য বিজ্ঞানী জন টাইমিনস্কি জানান, পৃষ্ঠের পানি গরম হলেও তার মানে এই নয় যে সেখানে হাঙরটির থাকার মতো পরিবেশ নেই। ব্রেটন বা এ জাতীয় গ্রেট হোয়াইট শার্কগুলো বেশ চতুর। গরমের অনুভূতি হলে তারা সমুদ্রের কয়েকশ মিটার গভীরে ডুব দেয়, যেখানে পানি অনেকটাই ঠান্ডা থাকে। তাই উপরিভাগের তাপমাত্রা বেশি হলেও পানির তলদেশে সে আরামদায়ক পরিবেশ ঠিকই খুঁজে নেয়। তবে প্রশ্ন উঠছে, প্রথার বাইরে গিয়ে কেন হঠাৎ ফ্লোরিডা উপকূলমুখী হলো এই বিশাল প্রাণীটি? বিজ্ঞানীরা শতভাগ নিশ্চিত করে না বলতে পারলেও ধারণা করছেন, খাবারের সন্ধান করতেই সে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্লোরিডা উপকূলে ঝাঁকে ঝাঁকে ঘুরে বেড়ানো এক বিশেষ ধরনের সাপের মতো বা খোলা সাগরের মাছ (পেলাজিক ফিশ) শিকার করতেই মূলত সে উল্টো স্রোতে হেঁটেছে। জন টাইমিনস্কি আরও বলেন, "হাঙর যে সব সময় প্রকৃতির বাধা-ধরা নিয়ম বা পাঠ্যবইয়ের ছক মেনে চলবে, তার কোনো মানে নেই। ব্রেটনের এই অপ্রত্যাশিত যাত্রা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সামুদ্রিক প্রাণীদের গতিপথ ও আচরণ কতটা জটিল। আমরা এখনও তাদের এই রূপকথার মতো পরিযানের পেছনের অনেক রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে যাচ্ছি।" উল্লেখ্য, ওশিয়ার্চ একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা যা তিমি, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও হাঙরসহ বিভিন্ন বিপন্ন সামুদ্রিক জীব রক্ষা ও গবেষণায় কাজ করে চলেছে। দূর থেকে প্রাণীদের অভ্যাস ও পরিযানের ধরন বুঝতে তারা এ পর্যন্ত চার শতাধিক সামুদ্রিক প্রাণীর শরীরে ট্র্যাকিং ডিভাইস যুক্ত করেছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষও যেকোনো সময় ব্রেটনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর রিয়েল-টাইম অবস্থান দেখতে পারেন। ব্রেটনের এই ভৌগোলিক অবস্থানের পরিবর্তন বিজ্ঞানের জগতে নতুন তথ্য যুক্ত করার সুযোগ করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
ফ্লোরিডার গ্রোভল্যান্ড পুলিশ বিভাগের এক সার্জেন্টকে কর্তব্যরত না থাকা অবস্থায় চিহ্নিত পুলিশ গাড়ি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২৪ মাইল গতিতে চালানো এবং কোনো জরুরি পরিস্থিতি ছাড়াই বারবার জরুরি সতর্কতাবাতি (ইমার্জেন্সি লাইট) ব্যবহারের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্রোভল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ২৩ পৃষ্ঠার অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্জেন্ট আলেকজান্ডার জ্যারেল মে মাসে অন্তত তিনবার দায়িত্বে না থেকেও চিহ্নিত পুলিশ এসইউভি ঘণ্টায় ১২০, ১১২ এবং সর্বোচ্চ ১২৪ মাইল গতিতে চালান। জিপিএস তথ্য বিশ্লেষণে এসব গতির প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সময় তিনি কাজে যোগ দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই ওই গতিতে গাড়ি চালিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তের সূত্রপাত হয়, যখন কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁকে কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই পুলিশের জরুরি লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেন। পরে জিপিএস তথ্য ও নজরদারি ভিডিও পর্যালোচনায় দেখা যায়, এক পর্যায়ে তিনি বিপরীত লেনে উঠে অন্য একটি গাড়িকে অতিক্রম করেন, ফলে অপর চালক জরুরি সাড়া দেওয়ার গাড়ি ভেবে রাস্তা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তদন্তে জ্যারেল স্বীকার করেন, তিনি অন্তত তিনবার কোনো জরুরি প্রয়োজন ছাড়াই ইমার্জেন্সি লাইট ব্যবহার করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু জিপিএসের গতির তথ্যের ভিত্তিতে ফৌজদারি ট্রাফিক মামলা বা গতিসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। কারণ ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগে সাধারণত রাডারে রেকর্ড করা গতির তথ্য প্রয়োজন হয়। তদন্ত শেষে সার্জেন্ট জ্যারেলকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। তাঁকে তিন দিনের বিনা বেতনের সাময়িক বরখাস্ত, ৩০ দিনের জন্য দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় মাসের চাকরিগত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদনটি ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্টে পাঠানো হবে, যাতে তাঁর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সনদ (সার্টিফিকেশন) বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন কি না, তা পর্যালোচনা করা যায়। গ্রোভল্যান্ড পুলিশ প্রধান শন র্যামসি বলেন, বিভাগীয় নীতিমালা অনুসারেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগটি সামনে আনা পুলিশ সদস্যদের প্রশংসা করে বলেন, কোনো অনিয়ম দেখলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোই একজন কর্মকর্তার দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
ডে কেয়ার থেকে সন্তানকে গাড়িতে তোলার সময় সাবেক স্বামীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার দায়ে ফ্লোরিডার এক মায়ের ১০০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। আদালতকক্ষে রায় ঘোষণার সময় এই নারী অপরাধী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, দণ্ডিত ওই মায়ের নাম মিন্ডি অস্টিন (৩৪)। তিনি স্টার্ক শহরের 'আন্টি লিলিস চাইল্ডকেয়ার সেন্টার'-এর বাইরে তার দুই শিশুসন্তানের সামনেই সাবেক স্বামী ক্রিস্টোফার ট্রাভিস জোন্সকে (৩৭) গুলি করে হত্যা করেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাঁকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে ডে কেয়ারে হঠাৎ হাজির হয়ে মিন্ডি প্রথমে জোন্স ও তাদের দুই ছেলেকে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু জোন্স শিশুদের গাড়িতে তুলে চালকের আসনে বসা মাত্রই মিন্ডি তাঁর ব্যাকপ্যাক থেকে একটি বন্দুক বের করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালান। প্রাণ বাঁচাতে জোন্স চিৎকার করতে করতে ডে কেয়ারের ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দ্বিতীয় নিরাপত্তা দরজায় আটকে যান। এ সময় মিন্ডি আরও কয়েকটি গুলি চালান, পরে বন্দুকটি জ্যাম হয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলি করার সময় মিন্ডি চিৎকার করে বলছিলেন, "দয়া করে, দানবটাকে মরতে দাও।" পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর জোন্স হামলাকারী হিসেবে মিন্ডির নাম জানান এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। সৌভাগ্যবশত এই ঘটনায় তাদের দুই শিশুসন্তান অক্ষত ছিল এবং বর্তমানে তাদের অন্য এক স্বজনের কাছে দত্তক দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর মিন্ডি ঘটনাটিকে আত্মরক্ষা বলে দাবি করলেও পরে তিনি দ্বিতীয় ডিগ্রি হত্যা এবং অস্ত্র সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের দায় স্বীকার করেন। বিচার শেষে আদালত তাকে ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন এবং জোন্সের পরিবারের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেন। নিহত জোন্সের এক স্বজন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, তিনি আশা করেন এই বিপজ্জনক নারী যেন আর কখনো কারাগার থেকে বাইরে আসার সুযোগ না পান।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ধনী ব্যবসায়ী ও রিয়ালিটি টিভি ব্যক্তিত্ব ইয়াকির লেভি ফ্লোরিডার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টের ২৮ তলা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। বন্ধুদের কাছে শেষ টেক্সট পাঠানোর মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবার ও বন্ধুরা একে আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ হলেও বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ বছর বয়সী ইয়াকির লেভি গত সোমবার রাতে সানি আইলস বিচের আকোয়াটিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সে দুই বন্ধুর সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল। বন্ধুরা যখন ভ্যালেটে গাড়ি থামান, ঠিক তখনই লেভি তাঁদের একটি মেসেজ পাঠান—‘আমি আসছি’। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরই তাঁরা একটি জোরালো শব্দ শুনতে পান এবং হোটেলের বারান্দা থেকে একজনের নিচে পড়ার খবরে অতিথিদের মধ্যে চিৎকার শুরু হয়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ইসরায়েলের রামলায় জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি একসময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিশেষ বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পকেটে মাত্র ৩০০ ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি মেরামতের একটি সফল বহুজাতিক কোম্পানি গড়ে তোলেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের গল্প নিয়ে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৩-এর রিয়ালিটি সিরিজ ‘দ্য আমেরিকানস’-এ পর্বও প্রচারিত হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী এবং চার, দশ ও বারো বছর বয়সী তিন সন্তানের জনক ছিলেন। মিয়ামি-ডেড শেরিফ অফিসের হোমিসাইড ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘অশ্রেণিভুক্ত মৃত্যু’ হিসেবে তদন্ত করছে। যদিও পুলিশ রিপোর্টে ঘটনাটিকে ‘আত্মহত্যাজনিত আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নিহতের পরিবার ও বন্ধুরা তা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ঘনিষ্ট বন্ধু এরান হার্শ জানান, মৃত্যুর আগের দিনও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নৌকায় সময় কাটিয়েছেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন, ফলে তাঁর আত্মহত্যা করার কোনো প্রশ্নই আসে না। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং তাঁর মরদেহ ইসরায়েলে দাফন করার কথা রয়েছে।
ফ্লোরিডার পিনেলাস পার্কে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরী সন্তান প্রসবের পর তার চাচা যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী নিজের গর্ভধারণের বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না। পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগ গত ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ১০টার দিকে হেলেন হাওয়ার্থ পার্ক থেকে এক নবজাতক উদ্ধারের পর এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ জানায়, নবজাতক ও ১২ বছর বয়সী মা উভয়কেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাঁরা সুস্থ আছেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরী নিজের গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানতেন না। তবে তিনি পিনেলাস পার্কের একটি বাসায় গত এক বছর ধরে তার চাচার দ্বারা একাধিকবার যৌন নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬১ বছর বয়সী ডেলফিন ব্যাক নামে ওই চাচাকে গ্রেপ্তার করে পিনেলাস কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর যৌন নিপীড়নের (ক্যাপিটাল সেক্সুয়াল ব্যাটারি) অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও তথ্য জানতে পারে এমন যে কাউকে পিনেলাস পার্ক পুলিশ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সমাজে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মার্টিন কাউন্টিতে একটি বাড়ি থেকে ৭০ থেকে ৮০টি বিড়াল ও কুকুরকে অস্বাস্থ্যকর ও অমানবিক পরিবেশে আটকে রাখার অভিযোগে ৭৭ বছর বয়সী গেইল জিউস্তিনোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আদালতের তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে অভিযান চালায় কর্তৃপক্ষ। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, কয়েক সপ্তাহ আগে অভিযোগ আসে যে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের একজন কর্মী তার দায়িত্ব পালনের সময় পথের বিড়াল সংগ্রহ করছেন। তদন্তে গেইল জিউস্তিনোর নাম সামনে আসে। পরে তার বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তারা অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ, তীব্র দুর্গন্ধ, প্রচণ্ড গরম এবং বাতাস চলাচলের প্রায় কোনো ব্যবস্থা না থাকার চিত্র দেখতে পান। শেরিফ জন বাডেনসিয়েক জানান, বাড়ির কিছু অংশে প্রায় এক ফুট পর্যন্ত প্রাণীর মল জমে ছিল। সেখানে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল না। বাড়ির ভেতরের পরিবেশ এতটাই অস্বাস্থ্যকর ছিল যে উদ্ধারকাজ সহজ করতে ফায়ার রেসকিউ সদস্যদের দিয়ে ঘরটি বাতাস চলাচলের উপযোগী করা হয়। গেইল জিউস্তিনো কর্তৃপক্ষকে জানান, তার বাড়িতে অন্তত ৭০টি খাঁচাবন্দি বিড়াল রয়েছে। তবে অভিযানের সময় বিড়াল ও কুকুর মিলিয়ে মোট কতটি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্যগত অবস্থাও এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে আরও জানা যায়, প্রাণী নিয়ন্ত্রণ বিভাগ অতীতেও একাধিকবার জিউস্তিনোর বাড়িতে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন অনিয়মের জন্য তাকে প্রায় ৬৫টি নোটিশ দিয়েছিল। প্রায় এক দশক আগে বাড়ির বায়ু চলাচল ও প্রাণীর পরিচর্যাসংক্রান্ত সমস্যাও সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কর্মকর্তারা আবারও পরিদর্শনে গেলে তিনি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করতে দেননি। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। মার্টিন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, জিউস্তিনোর বিরুদ্ধে দুটি মিসডিমিনার বা লঘু অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রাণীগুলো জব্দ করা হয়েছে, যাতে তাদের চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা যায় এবং তিনি আবার নতুন প্রাণী সংগ্রহ করতে না পারেন। শেরিফ বাডেনসিয়েক বলেন, জিউস্তিনো প্রাণীগুলোকে খাবার দিতেন। তবে মাছি ও পোকা দমনের স্প্রে ভুলভাবে ব্যবহারের কারণে অন্তত একটি প্রাণী আহত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা প্রাণীগুলোকে আপাতত স্থানীয় হিউম্যান সোসাইটির তত্ত্বাবধানে রাখা হবে। তাদের পরিচর্যার জন্য স্বেচ্ছাসেবক ও অস্থায়ী আশ্রয়দাতাদের সহায়তা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জিউস্তিনো অতীতে কোনো প্রাণী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণী জমা দিয়ে থাকলে সে তথ্য জানাতে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উদ্ধার করা প্রাণীগুলোর যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে গেইল জিউস্তিনোর জন্যও উপযুক্ত সহায়তার ব্যবস্থা করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিলাসবহুল হোটেলে ইসরায়েলি-আমেরিকান রিয়েলিটি টেলিভিশন তারকা ও ব্যবসায়ী ইয়াকির লেভি মারা গেছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট এবং মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফ্লোরিডার সানি আইলস বিচ এলাকার অ্যাকুয়ালিনা রিসোর্ট অ্যান্ড রেসিডেন্সেস থেকে জরুরি সহায়তার জন্য পুলিশ ও দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে সানি আইলস বিচ পুলিশ বিভাগ এবং মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ সদস্যরা ইয়াকির লেভিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের ধারণা, ঘটনার সময় ৪৫ বছর বয়সী লেভি একাই ছিলেন। তবে কী পরিস্থিতিতে ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন সন্তানের জনক ইয়াকির লেভিকে ইসরায়েলে দাফন করা হবে। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেন। ফেসবুকে লেভির বোন পরিচয়ে এক নারী লেখেন, “আমার প্রিয় ভাই, আমি তার আত্মাকে সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করছি। কেউ যেন আমাকে এই দুঃস্বপ্ন থেকে জাগিয়ে দেয়।” ইসরায়েলের রামলা শহরে জন্ম নেওয়া ইয়াকির লেভি চ্যানেল ১৩-এর জনপ্রিয় তথ্যচিত্রভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘দ্য আমেরিকানস’-এ অংশ নিয়ে পরিচিতি পান। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন গড়তে আসা অভিবাসীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নির্মিত ওই অনুষ্ঠানে তার সংগ্রামের গল্প দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। অনুষ্ঠানে লেভি জানিয়েছিলেন, মাত্র ৩০০ মার্কিন ডলার নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড ও অন্যান্য দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন সংস্কার ও পুনরুদ্ধারের ব্যবসার মাধ্যমে তিনি সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: টিএমজেড, জেরুজালেম পোস্ট।
সপ্তাহান্তের অবসর সময়ে বাড়ির পেছনের উঠোনে ফলের গাছ লাগানো ছিল তাদের শখ। সেই শখই একসময় রূপ নেয় সফল ব্যবসায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর বাসিন্দা মিকি পোপাট ও ভিকি পোপাট আজ একটি ব্যতিক্রমী ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। মিকি পোপাট ফাইন্যান্স খাতে এবং তার স্ত্রী ভিকি পোপাট শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান মিকি। নতুন দেশে এসে তিনি লক্ষ্য করেন, আম, পেয়ারা, লিচুসহ নানা ধরনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফলের সঙ্গে অনেক আমেরিকানই পরিচিত নন। নিজেদের বাড়ির বাগানে একের পর এক ফলের গাছ লাগাতে লাগাতে একসময় সেখানে ৮০টিরও বেশি গাছের সমাহার তৈরি হয়। বাড়িতে আসা অতিথিরা এসব ফল খেয়ে মুগ্ধ হতেন। পরে অনেকেই নিজেদের বাড়িতেও একই ধরনের ফলের গাছ লাগানোর জন্য তাদের পরামর্শ ও সহায়তা চাইতে শুরু করেন। সেখান থেকেই জন্ম নেয় নতুন ব্যবসার ধারণা। উদ্যোক্তা পরিবারে বেড়ে ওঠা এই দম্পতি বুঝতে পারেন, ফলদ গাছকে উপহার হিসেবে দেওয়ার একটি আলাদা বাজার তৈরি করা সম্ভব। ২০০৭ সালে তারা দুজনেই স্থায়ী চাকরি ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্ল্যান্টওগ্রাম’ (PlantOGram)। প্রতিষ্ঠানটির মূল ধারণা ছিল ফুলের তোড়ার পরিবর্তে জীবন্ত ফলের গাছ উপহার হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ব্যবসার শুরুতে তারা কোনো বাইরের বিনিয়োগ নেননি। নিজেদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি চালু করেন এবং ব্যয় কমিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করেন। সময়ের সঙ্গে তাদের উদ্যোগ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ফলদ ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছ উপহার হিসেবে সরবরাহ করতে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি বিশেষায়িত বাজারকে লক্ষ্য করেই তারা ব্যবসাটি গড়ে তোলেন। বর্তমানে বিভিন্ন উৎসব, জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী ও নতুন বাড়িতে ওঠার মতো বিশেষ উপলক্ষে ফলের গাছ উপহার দেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় তাদের ব্যবসাও সম্প্রসারিত হয়েছে। মিকি ও ভিকি পোপাটের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, একটি সাধারণ শখও সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং উদ্যোক্তা মানসিকতার মাধ্যমে সফল ব্যবসায় পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামি গার্ডেনসে এক পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই সৎ-নাতি-নাতনিকে কামড়ানোর অভিযোগে ৭৪ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইসাবেল বালতাজার নামের ওই নারীকে গত সোমবার শারীরিক হেনস্থা এবং গুরুতর আঘাত ছাড়া শিশু নির্যাতনের দুটি আলাদা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দেওয়া গ্রেপ্তারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার রাতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ওই শিশুদের সৎ বাবা (যিনি অভিযুক্ত ইসাবেলের ছেলে) এবং তাদের জন্মদাতা বাবার মধ্যে তীব্র শারীরিক সংঘাত শুরু হয়। দুই পক্ষের এই মারামারি থামাতে ওই দুই শিশু এবং বৃদ্ধা ইসাবেল হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ইসাবেল ওই দুই শিশুর পিঠে এবং হাতে জোরে কামড় বসিয়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃদ্ধার কামড়ে শিশুদের শরীরের চামড়া ছিলে যায় এবং কালশিটে দাগ পড়ে যায়। অন্যদিকে, এই ধস্তাধস্তির সময় ইসাবেলের হাতেও সামান্য আঁচড়ের দাগ লেগেছে। ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবার দপ্তরের (ডিসিএফ) এক কর্মী কামড়ের দাগ স্পষ্ট বোঝা যায় এমন ছবিগুলো প্রমাণ হিসেবে পুলিশ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে ইসাবেলকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের শুনানিতে পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ওই দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ১৭ ও ১৪ বছর। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিচারক ওই বৃদ্ধাকে ব্যক্তিগত মুচলেকার (Recognizance) বিনিময়ে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে শহরে গভীর রাতে এক বিশাল অ্যালিগেটর একটি পরিবারের বাড়ির মূল দরজার সামনে এসে অবস্থান নেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি লম্বা সরীসৃপটি দীর্ঘ সময় সেখানেই থাকায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের বাইরে বের হতে পারেননি। ফক্স ৩৫-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটে। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বুঝতেই পারেননি যে বাড়ির বাইরে কী আছে। পরে গ্যারেজে লাগানো গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকে মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা আসার পর বিষয়টি জানতে পারেন তারা। বাড়ির মালিক উইন জানান, সতর্কবার্তা পাওয়ার পর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, কাছের ঘাসের ভেতর থেকে একটি বড় অ্যালিগেটর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এসে সোজা তাদের মূল দরজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের সবাই জানালার আড়াল থেকে পুরো ঘটনাটি দেখেন। তিনি বলেন, “এমন দৃশ্য দেখে আমরা সত্যিই হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল।” পরিবারটির জন্য ঘটনাটি আরও উদ্বেগের কারণ ছিল তাদের ছোট পোষা কুকুর। রাতের দিকে নিয়মিত কুকুরটিকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। উইনের ভাষায়, নিরাপত্তা ক্যামেরার সতর্কবার্তা না পেলে কী ঘটতে পারত, তা ভেবে এখনও তিনি আতঙ্কিত। তিনি বলেন, “আমি এখন সব সময় সতর্ক থাকি। বারবার চারপাশে তাকাই, যেন আমি বা আমার কুকুর কোনো হামলার শিকার না হই। ও আমার পরিবারেরই একজন সদস্য।” ঘটনার পরপরই পরিবারটি জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করলে প্রথমে পাম বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের (এফডব্লিউসি) তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত একজন প্রাণী ধরার বিশেষজ্ঞ এসে অ্যালিগেটরটিকে নিরাপদে ধরে নিয়ে যান। সূর্য ওঠার আগেই সেটিকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরিমাপ করে দেখা যায়, অ্যালিগেটরটির দৈর্ঘ্য ছিল ঠিক ৭ ফুট ৬ ইঞ্চি। ফ্লোরিডার বিভিন্ন জলাশয় ও সংরক্ষণ পুকুরের আশপাশে অ্যালিগেটর দেখা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে উইন বলেন, এত বড় একটি অ্যালিগেটরকে বাড়ির মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে আসতে তিনি আগে কখনও দেখেননি। এ ঘটনার পর প্রতিবেশীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার পরামর্শ, রাতে বাইরে বের হওয়ার আগে টর্চলাইট দিয়ে চারপাশ দেখে নেওয়া এবং সম্ভব হলে গতিসংবেদনশীল নিরাপত্তা ক্যামেরা ব্যবহার করা উচিত। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুরো ফ্লোরিডায় প্রায় ১৩ লাখ অ্যালিগেটর রয়েছে। গরমের সময় এদের চলাচল ও সক্রিয়তা বেড়ে যায়। তাই বাসিন্দাদের জলাশয়ের ধারে সতর্ক থাকার, পোষা প্রাণীকে দড়িতে বেঁধে রাখার এবং কোনো অবস্থাতেই অ্যালিগেটরকে খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, কোনো অ্যালিগেটর মানুষের নিরাপত্তা, পোষা প্রাণী বা সম্পদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে দ্রুত তাদের নির্ধারিত হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত কর্মীরা গিয়ে প্রাণীটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেবেন। সূত্র: ফক্স ৩৫
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে জনপ্রিয় অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচয় করে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবকের আরও ভুক্তভোগী থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। এ কারণে যেসব নারী তার সঙ্গে কখনও যোগাযোগ বা সাক্ষাৎ করেছেন, তাদের সামনে এসে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের দপ্তর গত ১৪ জুলাই এক বিবৃতিতে জানায়, তদন্তকারীদের ধারণা, অভিযুক্ত ব্যক্তি অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আরও নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাই সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে বিশেষ ভিকটিমস ইউনিট জনসাধারণের সহযোগিতা চাচ্ছে। তদন্ত নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে একটি ফ্লোরিডার হাসপাতালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগকারী নারী পুলিশকে জানান, তিনি হিঞ্জ (Hinge) ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে স্টিফেন হাকিম নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের সঙ্গে অভিযুক্তের ডিএনএ মিল খুঁজে পান। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর রক্ত ও প্রস্রাবের নমুনা পরীক্ষায় একাধিক ঘুমের ওষুধের উপাদান শনাক্ত হয়। ওই নারী পুলিশকে জানান, তিনি এসব ওষুধ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেননি। ডেলরে বিচের বাসিন্দা ২৭ বছর বয়সী স্টিফেন হাকিমকে গত ৮ জুলাই গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরদিন ২৫ হাজার ডলারের বন্ডে তিনি মুক্তি পান। আদালতে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, হিঞ্জে পরিচয়ের পর প্রায় এক ঘণ্টা অ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন করেন দুজন। পরে তারা মোবাইল ফোনে বার্তা আদান-প্রদান এবং ভিডিও কলে কথা বলেন। সেদিন রাতেই তারা দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগকারী নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত তাকে রাত ১১টার দিকে গাড়িতে তুলে একটি বারে যাওয়ার কথা বললেও পরিবর্তে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী জানান, সেখানে তারা কয়েকটি বিয়ার পান করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত তাকে ম্যাসাজের প্রস্তাব দেন। এরপর তিনি হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে ঘুমঘুম অনুভব করতে থাকেন এবং নিজের শরীর নাড়াতে পারছিলেন না। পরে তার ওপর যৌন নিপীড়ন চালানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর তিনি প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, স্টিফেন হাকিমের আইনজীবী বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, তার মক্কেল অভিযোগে বর্ণিত সম্মতিবিহীন কোনো কাজ করেছেন, এমন দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করছেন। এদিকে, ঘটনাটিকে সামনে এনে অনলাইন ডেটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক করেছেন যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কাজ করা মার্কিন সংগঠন রেপ, অ্যাবিউজ অ্যান্ড ইনসেস্ট ন্যাশনাল নেটওয়ার্ক (RAINN)-এর ভিকটিম সার্ভিসেস বিভাগের প্রধান মেগান কাটার। তিনি বলেন, অনলাইন ডেটিং অ্যাপ স্বভাবগতভাবে বিপজ্জনক নয়। লাখো মানুষ এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সুস্থ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। তবে অপরাধীরা কখনও কখনও একই প্ল্যাটফর্মকে অপব্যবহার করে অপরাধ সংঘটিত করে থাকে। মেগান কাটারের পরামর্শ, নতুন পরিচয়ের ক্ষেত্রে যেসব প্রোফাইলে পর্যাপ্ত তথ্য নেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংযোগ নেই বা খুব দ্রুত অ্যাপের বাইরে ফোন নম্বর কিংবা ব্যক্তিগত যোগাযোগে যেতে চায়, সেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা উচিত। কারণ একবার ব্যক্তিগত তথ্য হাতে পেলে অপরাধীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য উপায়ে আরও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ডেটিং প্রোফাইলে ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত একই ছবি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে সহজেই ব্যক্তির পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য খুঁজে বের করা সম্ভব। এছাড়া ছবির মেটাডেটা মুছে দিয়ে আপলোড করলে অবস্থানসহ কিছু ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখা যায়। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৩ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ৫৩ শতাংশ জীবনের কোনো না কোনো সময় অনলাইন ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করেছেন। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময় সচেতনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। সূত্র: ফক্স নিউজ, পাম বিচ কাউন্টি শেরিফস অফিস।
ফ্লোরিডার নতুন নাম পাওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যেতে অনিচ্ছুক যাত্রীদের বিনা খরচে অন্য গন্তব্যে পাঠানোর কোনো বিশেষ নীতি চালু হয়নি বলে জানিয়েছে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস। যাত্রীসেবা কর্মীদের কাছে পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ বার্তাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার এ অবস্থান স্পষ্ট করে মার্কিন বিমান সংস্থাটি। ভ্রমণবিষয়ক প্রকাশনা লাইভ অ্যান্ড লেটস ফ্লাইয়ের হাতে আসা ওই বার্তায় ইউনাইটেডের রিজার্ভেশন কর্মীদের বলা হয়েছিল, কোনো যাত্রী নতুন নামের বিমানবন্দরে যেতে না চাইলে কাছাকাছি ফোর্ট লডারডেল বা মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার বিকল্প দেওয়া যেতে পারে। নির্দেশনায় টিকিট পরিবর্তনটি সমমূল্যের বিনিময় হিসেবে সম্পন্ন করার কথাও ছিল, যাতে যাত্রীকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়। তবে ইউনাইটেড এয়ারলাইনস বলেছে, বার্তাটির ভাষা যথাযথ ছিল না এবং এতে প্রতিষ্ঠানের নীতি সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, বিভিন্ন কারণে যাত্রীরা কোনো ফি ছাড়াই টিকিটে পরিবর্তনের সুযোগ পেতে পারেন। কিন্তু শুধু কোনো বিমানবন্দরের নাম বা তিন অক্ষরের কোড পছন্দ না হওয়ার কারণে গন্তব্য পরিবর্তনের অনুমতি ইউনাইটেডের নীতিতে নেই। এর ফলে ট্রাম্পের নামে বিমানবন্দরটির নামকরণের বিরোধিতা করা কোনো যাত্রী স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনা খরচে ফোর্ট লডারডেল কিংবা মিয়ামির ফ্লাইটে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন না। সাধারণ টিকিটের শর্ত, আসন খালি থাকা এবং এয়ারলাইনসের প্রচলিত পরিবর্তন নীতির ভিত্তিতেই প্রতিটি অনুরোধ বিবেচিত হবে। ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবর্তন করে ৯ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হয়। ফ্লোরিডার আইনসভায় পাস হওয়া সংশ্লিষ্ট বিলে গভর্নর রন ডেস্যান্টিস ৩০ মার্চ অনুমোদন দেন। আইনটি ১ জুলাই কার্যকর হওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন নাম চালু করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, বিমানবন্দরটির নতুন নাম অনুযায়ী তাদের চার্ট ও তথ্যভান্ডারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে যাত্রীদের টিকিট, বোর্ডিং পাস ও লাগেজ ট্যাগে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কোড ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পিবিআই থাকবে। এরপর আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার ব্যবহৃত কোড পরিবর্তিত হয়ে ডিজেটি হবে। নাম ও কোড পরিবর্তনের কারণে বিমানবন্দরের মালিকানা, পরিচালনা ব্যবস্থা, ফ্লাইট কিংবা যাত্রীসেবায় কোনো পরিবর্তন হবে না। পাম বিচ কাউন্টিই আগের মতো বিমানবন্দরটির নীতি, অর্থায়ন ও কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
নিজের তদন্তাধীন এক আসামির স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন পুলিশপ্রধান। আর সেই নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেন তিনি। ফ্লোরিডার হাউই-ইন-দ্য-হিলস শহরের সাবেক পুলিশপ্রধান মাইকেল গিডেনসের বিরুদ্ধে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত জুন মাসে নৈতিকতা তদন্তের মুখে পদত্যাগ করেন গিডেনস। সম্প্রতি লেক কাউন্টি শেরিফ অফিস থেকে প্রকাশিত ৭৮ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন লেফটেন্যান্ট গিডেনস এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঠিকাদারি জালিয়াতির মামলা তদন্ত শুরু করেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে গিডেনস ওই ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন, স্বামীকে খুঁজে বের করতে সাহায্য চেয়ে। সেখান থেকেই শুরু। দু'জনের মধ্যে লাঞ্চের আয়োজন হয়, তারপর বাড়তে থাকে বার্তা আদান-প্রদান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে 'সম্পর্কটি আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে'। তদন্তে আরও জানা যায়, গিডেনস ওই মহিলার সঙ্গে অন্তত দু'বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন, সেটাও চাকরির সময়ে। এলাকার দুটি হোটেলে এই ঘটনা ঘটে। যদিও এই সম্পর্ক ছিল 'সম্মতিমূলক' বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ওই মহিলা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে গিডেনসের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতি ঘটে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই সম্পর্ক চলার সময়েই ২০২৫ সালের অক্টোবরে গিডেনসকে পুলিশপ্রধান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠার আগেই তিনি এই পদ লাভ করেন। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্টে (এফডিএলই) নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে হাউই-ইন-দ্য-হিলস শহরে একটি বেনামি অভিযোগ জমা পড়ে, যা এফডিএলইর তদন্তকে সামনে আনে। এর ফলেই গিডেনসকে প্রথমে বরখাস্ত, পরে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং শেষ পর্যন্ত পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি। পদত্যাগপত্রে গিডেনস লেখেন, তিনি 'পুলিশপ্রধান কার্যালয়ের সততা রক্ষা' করতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, 'ব্যক্তিগত জীবনকে বিভ্রান্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেবেন না' তিনি। তবে তার পদত্যাগের কারণে শহর কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। শুধু তদন্তের ফলাফল নথি হিসেবে প্রকাশ করেছে তারা। বর্তমানে হাউই-ইন-দ্য-হিলস পুলিশ বিভাগ নতুন পুলিশপ্রধানের অনুসন্ধান শুরু করেছে। জন ব্যাচেলর এই পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। আমেরিকার এই ঘটনা শুধু স্থানীয় নয়, বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা যেকোনো দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশেও সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের বিরুদ্ধে নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনা আমাদের সবার জন্যই একটি সতর্কবার্তা—ক্ষমতার কোনো আসনই নৈতিকতার উর্ধ্বে নয়, আর আইন প্রয়োগকারীদের আচরণের দিকে সবসময় সবার নজর থাকে।
ফ্লোরিডা থেকে বোস্টনে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নোয়া কাহানের কনসার্ট দেখতে আসা এক নারী ফেরার পথে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের হাতে আটক হয়েছেন। তার আইনজীবীর দাবি, বর্তমানে তিনি ম্যাসাচুসেটসের বার্লিংটনে আইসের একটি আটককেন্দ্রে রয়েছেন। আটক হওয়া ৩২ বছর বয়সী মারিয়া রোসালেস যুক্তরাষ্ট্রে চার বছর বয়সে কলম্বিয়া থেকে আসেন এবং ফ্লোরিডায় বেড়ে ওঠেন। তার আইনজীবী টড পোমারলোর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচির সুবিধাভোগী ছিলেন। তবে তার ডাকা নবায়নের আবেদন ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অপেক্ষমাণ রয়েছে। আইনজীবী জানান, গত সপ্তাহে বাড়ি ফেরার জন্য বিমানে ওঠার সময় বিমানবন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তারা তাকে আটক করেন। তার দাবি, ২০১৭ সালের একটি বহিষ্কার আদেশ সম্পর্কে রোসালেস আগে অবগত ছিলেন না। ওই আদেশটি নিউ মেক্সিকোতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্বের একটি ঘটনার জেরে জারি হয়েছিল বলে তিনি জানান। ঘটনার পর রোসালেসের আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন করেন তার আইনজীবী। পরে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত জরুরি আদেশ দিয়ে মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে রাজ্যের বাইরে স্থানান্তর না করার নির্দেশ দেন। রোসালেস পেশায় একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সহকারী। পাশাপাশি তিনি ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি ইনডোর কালার গার্ড দলের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। তার বন্ধু ও সহকর্মীরা আদালতে পাঠানো সমর্থনপত্রে তাকে পরিশ্রমী ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত একজন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ ঘটনায় আইস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। তবে রোসালেসের আইনজীবী জানান, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন-সংক্রান্ত কারণে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তার দাবি, এসবের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের জনপ্রিয় ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ রাইডে চড়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়া এক দর্শনার্থীর মৃত্যুর ঘটনা তিন মাস পর প্রকাশ্যে এসেছে। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচার অ্যান্ড কনজিউমার সার্ভিসেসের দ্বিতীয় প্রান্তিকের থিম পার্ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২ এপ্রিল ম্যাজিক কিংডম পার্কে ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ বোট রাইডে ওঠার সময় ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হঠাৎ হৃদ্যন্ত্রের জরুরি সমস্যায় আক্রান্ত হন। তার আগে থেকেই হৃদ্রোগজনিত শারীরিক জটিলতা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তাকে দ্রুত একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার সময় এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বুধবার প্রকাশিত রাজ্য সরকারের দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের ফ্যান্টাসিল্যান্ডে অবস্থিত ‘ইটস আ স্মল ওয়ার্ল্ড’ পার্কটির উদ্বোধনের পর থেকেই অন্যতম জনপ্রিয় আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত। ধীরগতির প্রায় ১০ মিনিটের এই বোট রাইডটি সাধারণত পরিবার ও শিশুদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালেও আগে থেকে শারীরিক জটিলতায় ভোগা ২২ বছর বয়সী এক নারী একই রাইডে ওঠার পর অসুস্থ হয়ে মারা যান। ফলে এই আকর্ষণটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এটি দ্বিতীয় নথিভুক্ত মৃত্যুর ঘটনা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ড চালুর পর থেকে পার্কটিতে প্রায় ৭০টি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর বেশিরভাগই দর্শনার্থীদের আগে থেকে থাকা শারীরিক অসুস্থতা বা স্বাভাবিক স্বাস্থ্যগত কারণে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে ওয়াল্ট ডিজনি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের স্টেইনব্রেনার হাই স্কুলের শিক্ষার্থী বৈভব ভাস্কর এমন এক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন, যা শুধু রাজ্যের জিপিএ রেকর্ডই ভাঙেনি—পরবর্তীতে স্কুল জেলার গ্রেডিং নীতিও পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালে তিনি ১১.৯৯ ওয়েটেড জিপিএ নিয়ে স্নাতক হন, যা ফ্লোরিডার ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। লুটজ শহরের স্টেইনব্রেনার হাই স্কুলের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান বৈভব জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। পরে জানতে পারেন, ২০২২ সালে একই জেলার আরেক শিক্ষার্থী ডিলান মাজর্ড ১১.৮৪ জিপিএ নিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। তখন থেকেই সেই রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্যও যোগ হয় তার পরিকল্পনায়। এই অসাধারণ ফল অর্জনের জন্য বৈভব চার বছরে ২০টি অ্যাডভান্সড প্লেসমেন্ট কোর্স এবং ২৪টি ডুয়াল এনরোলমেন্ট কলেজ কোর্স সম্পন্ন করেন। এত বেশি কলেজ-স্তরের কোর্স শেষ করার ফলে হাই স্কুল ডিপ্লোমার পাশাপাশি তিনি একটি অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রিও অর্জন করেন। কখনও কখনও অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার কারণে তার মধ্যাহ্নভোজের বিরতিও থাকত না। তবে বৈভবের দাবি, তার জীবন শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি স্কুলের বিভিন্ন ক্লাব, মক ট্রায়াল দল, বিনিয়োগ ক্লাব এবং সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষার্থী-নেতৃত্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন, যা গৃহহীনদের আশ্রয়কেন্দ্র ও ফুড ব্যাংকের জন্য অনুদান সংগ্রহ করত। এছাড়া আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে দুটি গবেষণাপত্রও প্রকাশ করেন। স্টেইনব্রেনার হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক টিফানি ইওয়েল বলেন, বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল শুধু উচ্চ জিপিএ অর্জন নয়; বরং পড়াশোনার পাশাপাশি সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা, ক্লাব কার্যক্রম এবং কমিউনিটি সার্ভিসেও সমানভাবে যুক্ত থাকা। তার মতে, এত বড় অর্জনের পরও বৈভব বিষয়টিকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে দেখেছে, যা একজন উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে বিরল। বৈভবের বাবা ভাস্কর মালায়াপ্পান, যিনি রসায়নে পিএইচডি এবং ক্যানসার গবেষণায় পোস্টডক করেছেন, জানান, তার ছেলেও যে রাজ্যের জিপিএ রেকর্ড ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছিল, সেটি তারা আগে জানতেন না। রেকর্ডের খবর শুনে তারাও বিস্মিত হন। আগামীতে বৈভব যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স ও ইকোনমিকস নিয়ে পড়াশোনা করবেন। এর আগে তিনি একটি স্টক ট্রান্সফার এজেন্সি এবং একটি রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপও করেছেন। এদিকে বৈভবের এই নজিরবিহীন জিপিএ নতুন বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। হিলসবরো কাউন্টি স্কুল জেলা স্বীকার করেছে, আগের জিপিএ গণনার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত সংখ্যক উন্নত কোর্স নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে জিপিএ বাড়াতে পারত। এজন্য জেলা ইতোমধ্যে নতুন নীতি চালু করেছে, যেখানে ওয়েটেড জিপিএ ৫.০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। কর্মকর্তাদের মতে, এতে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা কমবে এবং কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াও আরও মানসম্মত হবে। বৈভব নিজেও এই পরিবর্তনকে সমর্থন জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বন্ধকী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে ফোরক্লোজারের মুখে পড়া বাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রিয়েল এস্টেট তথ্যপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটমের সর্বশেষ মধ্যবর্ষের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ২ লাখ ২৭ হাজার ৫৪৮টি সম্পত্তির বিরুদ্ধে ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি। এই সময়ে ফোরক্লোজারের হারে দেশের শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডা। রিয়েলটর ডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় প্রতি ১০ হাজার আবাসিক ইউনিটের মধ্যে প্রায় ২৭টি ফোরক্লোজারের আওতায় এসেছে। এই হার যুক্তরাষ্ট্রের সব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ। তালিকায় এরপর রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, ইন্ডিয়ানা, ডেলাওয়্যার ও ইলিনয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফোরক্লোজার কার্যক্রম শুধু সংখ্যায় বাড়েনি, আগের তুলনায় দ্রুতও শেষ হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে একটি সম্পত্তির ফোরক্লোজার প্রক্রিয়া শেষ হতে গড়ে ৫৬৩ দিন লেগেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম এবং ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে কম সময়। অ্যাটমের তথ্য বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকারি সহায়তা কর্মসূচির কারণে ফোরক্লোজারের হার অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সেই কর্মসূচিগুলো শেষ হওয়ার পর থেকে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে এবং ফোরক্লোজারের সংখ্যাও বাড়ছে। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি ২০০৮ সালের আর্থিক সংকট-পরবর্তী সময়ের তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। সে সময়ের তুলনায় এখনো ফোরক্লোজারের হার কয়েক গুণ কম। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক তুলনায় সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি দেখা গেছে আইডাহোতে, যেখানে ফোরক্লোজার ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। এরপর রয়েছে কলোরাডো, জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলাইনা ও মিসিসিপি। মহানগর এলাকার মধ্যে ফ্লোরিডার পুন্তা গোরদায় ফোরক্লোজারের হার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার লেকল্যান্ড। এছাড়া জ্যাকসনভিল, কেপ কোরাল ও ওকালাও সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে। এদিকে রিয়েলটর ডটকমের পৃথক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফোরক্লোজার শেষে ব্যাংকের মালিকানায় চলে যাওয়া এবং পরে বিক্রির জন্য বাজারে আসা বাড়িগুলো সাধারণ বাড়ির তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত এসব বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য সম্ভাব্য বাজারমূল্যের তুলনায় প্রায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ কম ছিল। একই সঙ্গে এসব সম্পত্তির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহও তুলনামূলক বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে একটি ছোট প্যারালিগ্যাল অফিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত ৯৫.৬ মিলিয়ন ডলারের কথিত নির্মাণ-খাতের জালিয়াতি ও অর্থপাচার চক্রের অভিযোগে একই পরিবারের ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের একজন এক সপ্তাহে ১৭০ ঘণ্টা কাজ করার তথ্য দেখিয়েছিলেন, যদিও একটি সপ্তাহে মোট সময়ই ১৬৮ ঘণ্টা। এই অসঙ্গতিসহ একাধিক প্রমাণ থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউপিবিএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাউথ মিলিটারি ট্রেইলে অবস্থিত ‘এমএলএস প্যারালিগ্যাল সার্ভিসেস’ নামের একটি অফিসকে কেন্দ্র করে ১০টি ভুয়া নির্মাণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রমিকদের বেতন প্রক্রিয়াকরণ, শ্রমিক ক্ষতিপূরণ (Workers’ Compensation) বীমার জাল সনদ ব্যবহার এবং লাইসেন্স ছাড়া চেক নগদায়নের মাধ্যমে বড় পরিসরে আর্থিক জালিয়াতি চালানো হতো। তদন্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই চক্রের মাধ্যমে ৯৫ কোটি ৬৬ লাখ ৪৪ হাজার ৪৫১ ডলারেরও বেশি মূল্যের পে-রোল চেক প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বীমা আবেদন করে সংগৃহীত সনদপত্র বীমাবিহীন ঠিকাদারদের কাছে ভাড়া দেওয়া হতো, যাতে তারা শ্রমিক ক্ষতিপূরণ বীমার নিয়ম এড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা একপর্যায়ে নিজেদের নজরদারিতে রয়েছে বলে সন্দেহ করেন। তারা একটি অচিহ্নিত গাড়িকে ঘিরে ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। পরে জানা যায়, গাড়িটিতে থাকা ব্যক্তিরাই ছিলেন গোপন অভিযানে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা। ওই ঘটনাই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দেয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি যৌথভাবে তদন্ত করেছে পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের অফিস এবং ব্রাওয়ার্ড শেরিফের অফিসের মানি লন্ডারিং টাস্কফোর্স। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, অর্থপাচার, বীমা জালিয়াতি ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
আনিছুর রহমান । ফোর্ট লডারডেল, ফ্লোরিডা | ১৪ জুলাই ২০২৬; যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেল-হলিউড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশত্যাগের সময় ৫৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি অঘোষিত নগদ অর্থ বহনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি)। পরবর্তী তদন্তে তাকে অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহ করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ফেডারেল ফৌজদারি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। সিবিপির তথ্যমতে, বহির্গামী যাত্রীদের ওপর নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি ঘোষণা করেন যে তার সঙ্গে কোনো নগদ অর্থ নেই। তবে বিস্তারিত তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ৫৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়, যা তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করেননি। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থ একটি সম্ভাব্য অর্থপাচার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এরপর মামলাটি ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কাছে পাঠানো হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ১০ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ নিয়ে দেশত্যাগ বা দেশে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ নয়। তবে এ ধরনের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে বাধ্যতামূলকভাবে ঘোষণা দিতে হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে তা গোপন করলে অর্থ জব্দ, অর্থপাচার তদন্ত এবং প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হতে পারে। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অর্থ পাচার, মাদক ব্যবসার অর্থ স্থানান্তর, মানবপাচার এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় আর্থিক অপরাধ ঠেকাতে বিমানবন্দরগুলোতে নিয়মিত বহির্গামী তল্লাশি পরিচালনা করা হয়। এ ধরনের অভিযানে অঘোষিত নগদ অর্থ উদ্ধার হলে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে শ্যালিকা মনিকা ইসলামকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা। সম্প্রতি লেক কাউন্টির একটি গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তপত্র (ইনডাইটমেন্ট) গঠন করেছে। ফ্লোরিডার পঞ্চম বিচারিক সার্কিটের স্টেট অ্যাটর্নি বিল গ্ল্যাডসনের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২ মে মনিকা ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মাউন্ট ডোরা এলাকার একটি সড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে তার মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাকে শেষবার শাহিদুল ইসলামের গাড়ির দিকে হেঁটে যেতে দেখা গিয়েছিল। তদন্তকারীরা জানান, হত্যাকাণ্ডের দিন সকালে শাহিদুল ইসলাম ইন্টারনেটে একাধিক সন্দেহজনক অনুসন্ধান করেছিলেন। পরে তার গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে মনিকা ইসলামের ডিএনএর সঙ্গে মিল থাকা রক্তের দাগ, যাত্রীর পাশের দরজায় আটকে থাকা একটি বুলেট এবং ভাঙা জানালার প্রমাণ উদ্ধার করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এসব আলামত তাকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যার পর শাহিদুল ইসলাম একটি ভাড়ার গাড়ি নিয়ে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের মামলায় ফেডারেল প্রক্রিয়া শেষে তাকে লেক কাউন্টিতে ফিরিয়ে এনে হত্যা মামলার বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এই হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হতে পারে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মনিকা ইসলাম পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় তার স্বামী রাশেদুল ইসলাম এবং দেবর শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে তাকে হুমকি দেওয়া ও নির্যাতনের অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে। স্টেট অ্যাটর্নি বিল গ্ল্যাডসন বলেছেন, নিহতের পরিবারের জন্য কোনো বিচারই তাদের ক্ষতি পূরণ করতে পারবে না, তবে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ জবাবদিহির আওতায় আনতে তার কার্যালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। এদিকে ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলাটিতে তারা মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।