বলিভিয়া

ছবি: সংগৃহীত
বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি, বিক্ষোভ দমনে রাস্তায় সেনাবাহিনী

বলিভিয়ায় টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। বিক্ষোভকারীদের সড়ক অবরোধ অপসারণে সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ ও বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবরোধে দেশটির জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী সংগঠন এবং কোকা চাষিদের বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন শহরে মিছিলের পাশাপাশি সড়কে পাথর, গাছের গুঁড়ি ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত করেছে।   এসব অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি, খাদ্য ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনীতিতে বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপও বেড়েছে।   সংকট নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে শনিবার ভোরে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।   জরুরি অবস্থার আওতায় বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকার সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আলতো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের বহর দেখা যায়। একই সঙ্গে বুলডোজারের সাহায্যে বিভিন্ন সড়ক অবরোধ অপসারণের কাজ শুরু হয়।   স্থানীয় অনেক বাসিন্দাকে নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাতে দেখা গেছে। এ সময় এক ব্যক্তি একটি পিকআপ ট্রাকে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার হাতে রুটিভর্তি একটি ব্যাগ তুলে দেন।   এএফপিকে ৩৯ বছর বয়সী দোকানদার কার্লা বুত্রোন বলেন, “আমি খুবই খুশি। প্রায় ৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে এল আলতোতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাচল ব্যাহত ছিল।”  

Unknown জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
অবরোধ ও বিক্ষোভে অচল বলিভিয়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনের জেরে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও তীব্র বিক্ষোভের মুখে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) বলিভিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এক বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে দেশজুড়ে এই জরুরি অবস্থা জারি করেন। দেশটির সাবেক বামপন্থী প্রেসিডেন্ট এভো মোরালেসের অনুসারী ও সমর্থকদের টানা আন্দোলনের মুখে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।   প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারীরা গত প্রায় ৫০ দিন ধরে দেশের প্রধান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলো অবরোধ করে রেখেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের কারণে বলিভিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে খাদ্যদ্রব্য, জরুরি জ্বালানি তেল এবং জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের এই টানা অবরোধের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।   এই সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বেতার ও টেলিভিশন ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আমি দেশের সব অবরুদ্ধ সড়কগুলো অবমুক্ত করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে জরুরি অবস্থা কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছি। বলিভিয়ার সাধারণ জনগণ আর এমন কোনো অন্যায় অবরোধের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না, যা তাদের স্বাভাবিক কাজকর্ম করা, সন্তানদের পড়াশোনা, জরুরি চিকিৎসা গ্রহণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করা এবং পরিবারের জীবিকা নিশ্চিত করার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।   প্রেসিডেন্ট পাজ তার ভাষণে আরও জানান, এই জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে দেশের সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার মতে, দেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাই এই জরুরি অবস্থা ঘোষণার একমাত্র উদ্দেশ্য। তিনি অভিযোগ করেন যে, মুষ্টিমেয় কিছু সুসংগঠিত রাজনৈতিক গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সহিংসতা সৃষ্টি করে পুরো দেশকে অচল করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কোনো একটি গণতান্ত্রিক সরকার মেনে নিতে পারে না।   উল্লেখ্য, মধ্যপন্থী রাজনৈতিক নেতা রদ্রিগো পাজ মাত্র সাত মাস আগে বলিভিয়ার ক্ষমতায় আসেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বামপন্থী শাসনের অবসানের পর দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের সময় তিনি মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার এই নির্বাচনি বিজয়কে বলিভিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়, কারণ ২০০৬ সাল থেকে দেশটি প্রায় একটানা বামপন্থী রাজনৈতিক দল 'মুভমেন্ট টু সোশ্যালিজম' (এমএএস)-এর কঠোর নিয়ন্ত্রণে ছিল।   ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রেসিডেন্ট পাজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীতল হয়ে পড়া কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে উন্নয়নের চেষ্টা করছেন, যা ২০০৯ সাল থেকে বন্ধ ছিল। গত সেপ্টেম্বর মাসে তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের একটি বড় অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রকাশ করেন, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। বর্তমান অস্থিরতার সূচনা হয় মূলত গত মে মাসে, যখন পাজ বাজেট ঘাটতি কমাতে দীর্ঘদিনের জ্বালানি ভর্তুকি একবারে কমিয়ে দেন, যার ফলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

তাবাস্সুম জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সিএনএন
অর্থনৈতিক সংকটে উত্তাল বলিভিয়া, দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

টানা কয়েক সপ্তাহের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, অবরোধের কারণে দেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।   প্রেসিডেন্ট পাজ জানান, সড়ক অবরোধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৫০ দিন ধরে চলমান অবরোধ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সংকট আরও তীব্র করেছে।   ভাষণে তিনি বলেন, “বলিভিয়ার জনগণ আর অবরোধের জিম্মি হয়ে থাকতে পারে না। কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।” জরুরি অবস্থার আওতায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও পুলিশকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।   বর্তমান বিক্ষোভে শ্রমিক সংগঠন, কৃষক গোষ্ঠী এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা অংশ নিচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবি প্রেসিডেন্ট পাজের পদত্যাগ। পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট নিরসন এবং মার্কিন ডলারের ঘাটতি দূর করার দাবিও জানানো হচ্ছে।   পাজ অভিযোগ করেন, কিছু সংগঠিত গোষ্ঠী সহিংসতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন সংলাপের চেষ্টা চালানো হলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছেন।   মাত্র সাত মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া মধ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট পাজ দেশের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে ক্ষমতায় আসেন। তার নির্বাচনের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক ধরে প্রভাবশালী বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার বাইরে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়।   ক্ষমতায় আসার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার উদ্যোগ নেন। গত সেপ্টেম্বর দুই দেশের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক সহযোগিতা পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা।   বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো জ্বালানি ভর্তুকি কমানোর সিদ্ধান্ত। বাজেট ঘাটতি কমাতে সরকার এ পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে শুরু করে।   বলিভিয়া বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি হ্রাস, জ্বালানি সংকট এবং চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখোমুখি। এসব কারণে জনজীবনে চাপ বাড়ছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনাও তীব্র আকার ধারণ করছে।

Unknown জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০