সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বাংলাদেশি কমিউনিটি

বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ
বাফেলোয় এনামুল হককে আইসিইর আটকের খবরে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলোয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ এনামুল হককে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই আটক করেছে বলে জানিয়েছেন কমিউনিটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর রাতে তাঁকে আটক করা হয়।   দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে বসবাসের পর সম্প্রতি বাফেলোয় স্থানান্তরিত হন এনামুল হক। সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁকে আটকের খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।   কমিউনিটির নেতারা জানিয়েছেন, বাফেলো ও ওয়েস্টার্ন নিউইয়র্ক অঞ্চলে অভিবাসন অভিযান নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এ অবস্থায় সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিজেদের আইনগত অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।   কেউ আইসিইর হেফাজতে গেলে তাঁর অবস্থান জানতে সংস্থাটির অনলাইন ডিটেইনি লোকেটরে খোঁজ নেওয়া এবং দ্রুত অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে কম খরচে দাঁতের চিকিৎসার সুযোগ
নিউ ইয়র্কে ইন্স্যুরেন্স ছাড়াই কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা কোথায় পাবেন? জেনে নিন তালিকা

নিউ ইয়র্ক সিটিতে ডেন্টাল ইন্স্যুরেন্স না থাকলেও কম খরচে দাঁতের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারি হাসপাতাল, কমিউনিটি হেলথ সেন্টার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকে আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে ছাড় পাওয়া যায়। কিছু প্রতিষ্ঠানে দাঁত পরিষ্কার ও নির্দিষ্ট প্রতিরোধমূলক সেবা বিনা খরচেও দেওয়া হয়। তবে সব চিকিৎসা ফ্রি নয় এবং একেক প্রতিষ্ঠানের ফি, যোগ্যতা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম আলাদা।   এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের মাধ্যমে দাঁতের চিকিৎসা নেওয়া যায়। এনওয়াইসি কেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সদস্য ও অন্য ইন্স্যুরেন্সবিহীন রোগীদের জন্য ডেন্টাল সেবায় স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা রয়েছে। এতে রোগীর আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে খরচ নির্ধারণ করা হয়। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও উপযুক্ত চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৮৪৪-৬৯২-৪৬৯২ নম্বরে।   ম্যানহাটনে এই নেটওয়ার্কের গভর্নর কেন্দ্রের ঠিকানা ২২৭ ম্যাডিসন স্ট্রিট। ব্রুকলিনে কাম্বারল্যান্ড কেন্দ্র ১০০ নর্থ পোর্টল্যান্ড অ্যাভিনিউ এবং ইস্ট নিউ ইয়র্ক কেন্দ্র ২০৯৪ পিটকিন অ্যাভিনিউতে অবস্থিত। কুইন্সের জ্যাকসন হাইটসে রুজভেল্ট কেন্দ্রের ঠিকানা ৩৭-৫০, ৭২তম স্ট্রিট। এসব কেন্দ্রে কোন ডেন্টাল সেবা পাওয়া যাবে এবং নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, তা কেন্দ্রীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বরে জেনে নেওয়া যাবে।   ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের জন্য বেলভিস কেন্দ্রের ঠিকানা ৫৪৫ ইস্ট ১৪২তম স্ট্রিট। কুইন্সে এলমহার্স্ট হাসপাতালের ঠিকানা ৭৯-০১ ব্রডওয়ে। উভয় প্রতিষ্ঠানেই ডেন্টাল চিকিৎসক রয়েছেন। নির্দিষ্ট চিকিৎসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও আর্থিক সহায়তার নিয়ম আগে নিশ্চিত করতে হবে।   কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোর মধ্যে চার্লস বি. ওয়াং কমিউনিটি হেলথ সেন্টার একটি বিকল্প। প্রতিষ্ঠানটির ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে ম্যানহাটনের ১২৫ ওয়াকার স্ট্রিটের দ্বিতীয় তলায় এবং কুইন্সের ফ্লাশিংয়ে ১৩১-৭২, ৪০তম রোডে। দুই কেন্দ্রের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-৫৮৭-১১১১। এখানে দাঁতের পরীক্ষা, ক্লিনিং, এক্স-রে, ফিলিং, ক্রাউন, দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল এবং ডেনচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি Medicaid গ্রহণ করে এবং যোগ্য রোগীদের আয়ভিত্তিক ছাড় দেয়।   চার্লস বি. ওয়াংয়ের ছাড় নির্ধারণে পরিবারের মোট আয় ও সদস্যসংখ্যা বিবেচনা করা হয়। আয়ের প্রমাণ হিসেবে সর্বশেষ ফেডারেল ট্যাক্স রিটার্ন, সাম্প্রতিক এক মাসের পে-স্টাব অথবা বেতনের তথ্যসহ নিয়োগকর্তার চিঠি নেওয়া যেতে পারে। এসব কাগজ না থাকলে শেষ বিকল্প হিসেবে নিজের আয়ের ঘোষণাও বিবেচিত হতে পারে। আয়ের প্রমাণ দিতে না পারলে প্রথমে সর্বোচ্চ ভিজিট ফি নেওয়া হতে পারে। তবে ভিজিটের দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রমাণ জমা দিলে ফি সমন্বয় করে রিফান্ড বা ক্রেডিট দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   বাংলাভাষী রোগীদের জন্যও এখানে ভাষাগত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, কর্মীরা বাংলাসহ একাধিক ভাষায় কথা বলেন এবং ভিডিও বা অডিওর মাধ্যমে দোভাষীর ব্যবস্থাও রয়েছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। নতুন রোগীর প্রথম ভিজিটে সাধারণত দাঁতের পরীক্ষা হয়; ক্লিনিংয়ের জন্য আলাদা অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হয়।   ব্রুকলিনের ব্রাউন্সভিলে বিএমএসের মেডিকেল ও ডেন্টাল কেন্দ্রের ঠিকানা ২৫৯ ব্রিস্টল স্ট্রিট। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের প্রকাশিত স্লাইডিং ফি তালিকায় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আয়ের রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ডেন্টাল পরীক্ষা ও নিয়মিত ক্লিনিংয়ের ফি শূন্য ডলার দেখানো হয়েছে। এক সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে এই আয়সীমা বছরে ১৫ হাজার ৯৬০ ডলার। তবে এটি সব ধরনের ডেন্টাল চিকিৎসা বিনা খরচে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৩৪৫-৫০০০।   ম্যানহাটনের হারলেমে ফ্যামিলি হেলথ সেন্টার অব হারলেমের ঠিকানা ১৮২৪ ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ। ডেন্টাল বিভাগের নম্বর ২১২-৪২৩-৪৪০০। ব্রুকলিনে এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের সানসেট পার্ক ফ্যামিলি হেলথ সেন্টারের ডেন্টাল সেবা রয়েছে ১৫০, ৫৫তম স্ট্রিটে। সেখানে যোগাযোগের নম্বর ৭১৮-৬৩০-৬৮৭৫। চিকিৎসার ধরন, ইন্স্যুরেন্স গ্রহণ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ ফোন করে জেনে নেওয়া উচিত।   শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্লিনিকেও চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির কলেজ অব ডেন্টাল মেডিসিনের জেনারেল অ্যান্ড স্পেশালটি ডেন্টিস্ট্রি ক্লিনিকের ঠিকানা ম্যানহাটনের ৬২২ ওয়েস্ট ১৬৮তম স্ট্রিট। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ২১২-৩০৫-৬১০০। এখানে প্রথমে রোগীর প্রয়োজন মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের স্লাইডিং ফি ব্যবস্থা নেই এবং তারা বিনা খরচে চিকিৎসা দেয় না। চিকিৎসা শুরুর আগে পরিকল্পনা ও ফি জেনে নেওয়া জরুরি।   বিনা খরচে প্রতিরোধমূলক ডেন্টাল সেবার একটি সুযোগ রয়েছে ব্রঙ্কসের হোস্টোস কমিউনিটি কলেজে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকে প্রধানত ক্লিনিং ও ডেন্টাল এক্স-রে সেবা দেওয়া হয়। ঠিকানা ৫০০ গ্র্যান্ড কনকোর্স, বি বিল্ডিং। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য কল করা যাবে ৭১৮-৩১৯-৭৯৪৩ নম্বরে। এই সেবাকে রুট ক্যানেল, ফিলিং বা দাঁত তোলাসহ পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার বিকল্প ধরে নেওয়া যাবে না।   ব্রুকলিনের সিটি টেকের ডেন্টাল হাইজিন ক্লিনিকের ঠিকানা ২৮৫ জে স্ট্রিট, একাডেমিক বিল্ডিংয়ের সপ্তম তলায়, কক্ষ এ-৭০১। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নম্বর ৭১৮-২৬০-৫০৭৪। এখানে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডেন্টিস্ট ও ডেন্টাল হাইজিনিস্টের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা সেবা দেন। ক্লিনিকটি ফল ও স্প্রিং সেমিস্টারে চলে; জানুয়ারি ও গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে বন্ধ থাকে। প্রতি ভিজিটে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে এবং একাধিকবার যেতে হতে পারে। বর্তমান ফি ও সময়সূচি ফোন করে নিশ্চিত করতে হবে।   যাদের হেলথ ইন্স্যুরেন্স নেই, তারা এনওয়াইসি কেয়ারের যোগ্যতা যাচাই করতে পারেন। এটি ইন্স্যুরেন্স নয়, নিউ ইয়র্ক সিটির যোগ্য বাসিন্দাদের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার একটি কর্মসূচি। এতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে সেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নাম লেখানো ও আর্থিক সহায়তার তথ্য জানতে কল করা যাবে ১-৬৪৬-৬৯২-২২৭৩ নম্বরে। ডেন্টাল সেবার খরচও আলাদাভাবে জেনে নিতে হবে।   যাওয়ার আগে ফোন করে নতুন রোগী নেওয়া হচ্ছে কি না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেখানে হয় কি না এবং মোট আনুমানিক খরচ কত, তা নিশ্চিত করা জরুরি। আয়ভিত্তিক ছাড় চাইলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাওয়া কাগজপত্র সঙ্গে নিতে হবে। কম খরচের ক্লিনিক মানেই সব চিকিৎসা ফ্রি নয়; পরীক্ষা, ক্লিনিং ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আলাদা ফি বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লাগতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
কাজী আজিজুল হক খোকন
নিউইয়র্কে তিন দিন ধরে নিখোঁজ কাজী আজিজুল হক খোকন, উদ্বেগে পরিবার ও কমিউনিটি

নিউইয়র্কের কুইন্সে গত তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত মুখ কাজী আজিজুল হক খোকন। দীর্ঘদিন ধরে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় বসবাস ও কাজের সুবাদে পরিচিত খোকনের হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তাঁর স্বজন, পরিচিতজন এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৬ অক্টোবর প্রকাশিত একাধিক স্থানীয় প্রতিবেদনে তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।    প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, খোকন কুইন্সের কিউ গার্ডেনস এলাকায় একাই বসবাস করতেন। প্রায় ৩০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে আসা তাঁর দেশের বাড়ি মাগুরা জেলায়। জ্যাকসন হাইটসের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে তিনি কাজ করতেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে নিয়মিত চলাফেরা করায় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের কাছেই তিনি পরিচিত মুখ।    গত তিন দিন ধরে খোকন কর্মস্থলেও যাননি। সাধারণত নিয়মিত কাজে উপস্থিত থাকা একজন পরিচিত ব্যক্তির হঠাৎ অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে তাঁর পরিচিতজনেরা খোঁজ শুরু করেন। পরে তাঁর কিউ গার্ডেনসের বাসায়ও পুলিশ যায় বলে সংশ্লিষ্টদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।    প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, পুলিশ বাসার দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেও খোকনের সন্ধান পায়নি। তবে তিনি কীভাবে নিখোঁজ হলেন, কোথায় থাকতে পারেন কিংবা তাঁর সঙ্গে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশিত হয়নি।    খোকনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রতিবেদনে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মাগুরা জেলা সোসাইটির সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের একটি প্রকাশ্য তালিকায় তাঁকে মাগুরা জেলা সোসাইটির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।    তাঁর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পরিচিতজন ও কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর সন্ধান নেওয়ার চেষ্টা করছেন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ডা. মাসুদুজ্জামান বিভিন্ন হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন বলেও স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হাসপাতাল থেকে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।    এদিকে খোকনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে কমিউনিটিতে নানা ধরনের আলোচনা ও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, তিনি হয়তো ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর হেফাজতে থাকতে পারেন। তবে আইসিইর হাতে তাঁকে আটক করা হয়েছে এমন কোনো সরকারি নিশ্চিত তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি আপাতত আশঙ্কা বা গুঞ্জনের মধ্যেই রয়েছে।    প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তাঁর পরিচিতজনেরা কর্মস্থলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খোকনের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা এই পরিচিত বাংলাদেশির হঠাৎ নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্বজন ও কমিউনিটির মানুষ দ্রুত তাঁর সন্ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।    এখন পর্যন্ত কাজী আজিজুল হক খোকনের নিখোঁজের কারণও স্পষ্ট নয়। তাঁর সন্ধান পাওয়া গেলে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁর আটক, অপহরণ বা অন্য কোনো ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়ে কোনো অনুমানকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার না করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অংশ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের ক্যাটারিং ব্যবসার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কে ক্যাটারিং বিজনেস শুরু করতে চান? বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ধাপে পূর্ণ গাইড

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন কিংবা অফিস পার্টিতে বিরিয়ানি, কাবাব, রোস্টসহ দেশি খাবারের চাহিদা রয়েছে। অনেকেই পরিচিতজনের অর্ডার নিয়ে নিজের বাসার রান্নাঘর থেকেই ছোট পরিসরে এই ব্যবসা শুরু করার কথা ভাবেন। তবে মাংস, মাছ বা এমন খাবার, যেগুলো নিরাপদ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ প্রয়োজন, সেগুলো নিউইয়র্কের সাধারণ হোম প্রসেসর ছাড়ের আওতায় পড়ে না। ফলে নিয়মিত ক্যাটারিং ব্যবসা করতে চাইলে শুরুতেই বৈধ ব্যবসায়িক কাঠামো, অনুমোদিত রান্নাঘর, স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুমতি এবং করসংক্রান্ত নিয়ম বুঝে এগোতে হবে।   প্রথমেই ব্যবসার আইনি কাঠামো ঠিক করতে হবে। কেউ একক মালিকানা, অংশীদারি ব্যবসা বা এলএলসি হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। এলএলসি করলে নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটে ‘আর্টিকেলস অব অর্গানাইজেশন’ জমা দিতে বর্তমানে ২০০ ডলার ফাইলিং ফি লাগে। নিউইয়র্কে অধিকাংশ নতুন এলএলসিকে প্রতিষ্ঠার পর নির্ধারিত দুটি সংবাদপত্রে টানা ছয় সপ্তাহ নোটিশ প্রকাশ করতে হয়। এরপর ১২০ দিনের মধ্যে ‘সার্টিফিকেট অব পাবলিকেশন’ জমা দিতে হয়। এই সার্টিফিকেট জমার সরকারি ফি ৫০ ডলার। তবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন প্রকাশের খরচ কাউন্টি ও পত্রিকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই এ খাতে নির্দিষ্ট অঙ্ক ধরে বাজেট করা ঠিক হবে না।   এরপর ব্যবসার জন্য আইআরএস থেকে ‘ইআইএন’ নেওয়া যায়। কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা এবং বিভিন্ন কর ও প্রশাসনিক কাজে এই নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। তবে শুধু এলএলসি করলেই ব্যক্তিগত দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়—এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যবসার কাঠামো, চুক্তি, বীমা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অর্থ আলাদা রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ক্যাটারিং ব্যবসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোথায় খাবার তৈরি হবে। নিউইয়র্ক স্টেটের ‘হোম প্রসেসর এক্সেম্পশন’ নির্দিষ্ট কিছু অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকির খাবারের জন্য প্রযোজ্য। কিছু বেকড পণ্য, ক্যান্ডি, গ্র্যানোলা বা এ ধরনের অনুমোদিত খাবার ঘরে তৈরি করা গেলেও মাংস, মাছ, পোলট্রি এবং যেসব খাবার ঠান্ডা করে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন, সেগুলো এই ছাড়ের আওতায় নেই।   ফলে বিরিয়ানি, মাংসের কারি, রোস্ট বা কাবাবের মতো পূর্ণাঙ্গ ক্যাটারিং মেনু বাসার রান্নাঘরে তৈরি করে সাধারণ হোম প্রসেসর অনুমোদনের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না।   এ ধরনের ব্যবসার জন্য অনুমোদিত বাণিজ্যিক বা শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করা একটি প্রচলিত পথ। নিউইয়র্ক সিটির নিয়ম অনুযায়ী, শেয়ার্ড কিচেন ব্যবহার করেও খাবারের ব্যবসা চালাতে ‘ফুড সার্ভিস এস্টাবলিশমেন্ট পারমিট’ প্রয়োজন হতে পারে। বেশিরভাগ লাভজনক খাবার পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য এই পারমিটের বর্তমান বার্ষিক ফি ২৮০ ডলার। শেয়ার্ড কিচেনে জায়গা ভাড়া নিয়ে কাজ করা শেফ বা রাঁধুনির ক্ষেত্রেও ২৮০ ডলারের পারমিট ফি প্রযোজ্য বলে সিটির আবেদনপত্রে উল্লেখ আছে।   একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো, সম্পূর্ণ আবেদন জমা দেওয়ার ২২ দিন পর ব্যবসা কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ রয়েছে, পারমিট তখনও হাতে না এলেও। তবে এর অর্থ এই নয় যে স্বাস্থ্যবিধির অন্য শর্তগুলো উপেক্ষা করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড মেন্টাল হাইজিন পরবর্তী সময়ে পরিদর্শন করতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধির সব শর্ত পূরণ করতে হবে। ২২ দিনের আগেই ব্যবসা চালু করতে চাইলে প্রি-অপারেটিং ইন্সপেকশনের ব্যবস্থা করতে হয়।   খাবার তৈরির সময় একজন যোগ্য ‘ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট’ধারী ব্যক্তির উপস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির অনলাইন ‘ফুড প্রোটেকশন কোর্স’ বিনামূল্যে করা যায়। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য বর্তমানে প্রায় ২৪ ডলার ফি রয়েছে এবং পরীক্ষা সরাসরি নির্ধারিত কেন্দ্রে দিতে হয়। যে ব্যক্তি খাবার তৈরির কার্যক্রম তদারকি করবেন, তাকে প্রতিষ্ঠান চালু থাকা অবস্থায় খাদ্য প্রস্তুতির কাজের ওপর নজর রাখতে হয়।   করসংক্রান্ত বিষয়ও শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি। নিউইয়র্কে যেসব ব্যবসা করযোগ্য পণ্য বা সেবা বিক্রি করে, তাদের নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স থেকে ‘সার্টিফিকেট অব অথরিটি’ নিতে হয়। সাধারণভাবে ব্যবসা শুরু করার অন্তত ২০ দিন আগে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে বলা হয়।   ক্যাটারিংয়ের ক্ষেত্রে খাবার, পানীয় এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত অধিকাংশ খরচ করের আওতায় পড়ে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আলাদা করে দেখানো সার্ভিস চার্জ বা অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খরচও পুরো ক্যাটারিং বিলের করযোগ্য অংশ হতে পারে।   কর্মী থাকলে বীমার নিয়মও গুরুত্ব দিতে হবে। নিউইয়র্কের সরকারি পারমিট বা লাইসেন্সের জন্য আবেদনকারী ব্যবসাকে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘ওয়ার্কার্স কমপেনসেশন’, ‘ডিসঅ্যাবিলিটি’ এবং ‘পেইড ফ্যামিলি লিভ’ কভারেজের প্রমাণ দিতে হয়। তবে সব ব্যবসার পরিস্থিতি এক নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান আইনগতভাবে কভারেজ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য হলে নির্ধারিত এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট ব্যবহার করতে পারে। ফলে কর্মী নেই এমন ছোট ব্যবসা এবং কর্মীসহ ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক হবে না।   অনুষ্ঠানে অ্যালকোহল বিক্রি বা পরিবেশনের পরিকল্পনা থাকলে আলাদা লাইসেন্সের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট লিকার অথরিটির ‘অফ-প্রিমাইসেস ক্যাটারিং এস্টাবলিশমেন্ট লাইসেন্স’-এর বর্তমান ফি নিউইয়র্ক, কিংস, ব্রঙ্কস ও কুইন্স কাউন্টিতে ৩ হাজার ১০২ ডলার। এর মধ্যে ২০০ ডলারের ফাইলিং ফি অন্তর্ভুক্ত। তবে কোন ধরনের অনুষ্ঠানে কোন লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, সেটি ব্যবসার কার্যক্রম এবং অ্যালকোহল বিক্রির ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।   কর্মী নিয়োগ করলে বেতনের নিয়মও মাথায় রাখতে হবে। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে সাধারণ ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৭ ডলার। হসপিটালিটি শিল্পের যোগ্য খাবার পরিবেশনকারী কর্মীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নগদ মজুরি ঘণ্টায় ১১ দশমিক ৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৬৫ ডলার টিপ ক্রেডিট মিলিয়ে ১৭ ডলারের ন্যূনতম মজুরি পূরণ করা যায়। তবে টিপ পেলেই সব কর্মীর ক্ষেত্রে এই কম নগদ মজুরি প্রযোজ্য হবে—এমন নয়।   আরেকটি পরিবর্তন এসেছে বাণিজ্যিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়। নিউইয়র্ক সিটির ‘কমার্শিয়াল ওয়েস্ট জোনস’ কর্মসূচি ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় চালু হচ্ছে। কোনো এলাকার বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে সেখানকার ব্যবসাকে ওই জোনের অনুমোদিত বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে হয়। তবে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত পুরো শহরের সব জোন একই সময়ে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তাই ব্যবসার ঠিকানা কোন জোনে পড়ছে এবং সেখানে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।   সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে ক্যাটারিং ব্যবসা শুরু করতে সবার জন্য একই ধরনের নির্দিষ্ট মোট খরচ নেই। এলএলসি ফাইলিং, প্রকাশনা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, কিচেন ভাড়া, বীমা, বর্জ্য সংগ্রহ, কর্মী এবং প্রয়োজন হলে অ্যালকোহল লাইসেন্সের কারণে বাজেট দ্রুত বদলে যেতে পারে। তাই কয়েক হাজার ডলারের একটি নির্দিষ্ট প্যাকেজকে সরকারি বাধ্যতামূলক খরচ হিসেবে ধরে নেওয়ার বদলে প্রতিটি খাত আলাদাভাবে হিসাব করাই নিরাপদ।   বাংলাদেশি কমিউনিটিকে লক্ষ্য করে ছোট পরিসরে শুরু করতে চাইলে আগে বৈধ কিচেন ও প্রয়োজনীয় পারমিট নিশ্চিত করে সীমিত মেনু দিয়ে শুরু করা যেতে পারে। মেনুতে প্রতি ট্রে বা প্রতি ব্যক্তির দাম, সর্বনিম্ন অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ এবং কতজনের খাবার হবে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করলে গ্রাহকের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি কমে। একই সঙ্গে প্রতিটি অর্ডারের চালান, বিক্রয় কর এবং ব্যবসার আয়-ব্যয়ের রেকর্ড নিয়মিত সংরক্ষণ করা উচিত।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসার রান্নাঘর থেকে পরিচিতজনকে খাবার দেওয়া আর নিয়মিত বাণিজ্যিক ক্যাটারিং পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। অর্ডার বড় হওয়ার আগেই ব্যবসার কাঠামো, অনুমোদিত কিচেন, স্বাস্থ্যবিষয়ক পারমিট, ফুড প্রোটেকশন সার্টিফিকেট, বিক্রয় করের নিবন্ধন এবং প্রয়োজনীয় বীমা গুছিয়ে নিলে পরে জরিমানা বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।   তবে নিয়ম ও ফি পরিবর্তন হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট সংস্থার সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১৪:০
ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধারের খবর
ডালাসে নিখোঁজের পর বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীর মৃ ত দে হ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি মোহাম্মদ আলীকে মৃ ত অবস্থায় পেয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁর মৃ ত দে হ উদ্ধারের খবর জানানো হয়।   এক শোকবার্তায় মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও ঠিক কোথায় এবং কীভাবে তাঁর মৃ ত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।   মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ডালাসের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, মোহাম্মদ আলী চারটি ছোট সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।   শোকবার্তায় আরও তাঁর মাগফিরাত ও জান্নাতুল ফেরদৌস কামনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময় পার করার জন্য ধৈর্য, শক্তি ও সান্ত্বনা কামনা করা হয়েছে।   মোহাম্মদ আলীর মৃ ত্যুর কারণ বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের অনুমান করা হচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতি বা নতুন তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে।   ডালাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি একটি বেদনাদায়ক ঘটনা। চার সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   সূত্র: ডালাস বাংলাদেশ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০
প্রতীকী ছবি
নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে নির্মাণ হবে ৮ মিলিয়ন ডলারের মসজিদ

নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজন পার্কে নতুন আল ফুরকান মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববারের এ আয়োজনে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও মুসল্লিরা অংশ নেন।   নতুন মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনতলা ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদটি নির্মিত হলে ওজন পার্ক ও আশপাশের এলাকায় বসবাসকারী মুসল্লিদের নামাজ আদায়, ধর্মীয় শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য আরও বড় পরিসরের সুযোগ তৈরি হবে।   আল ফুরকান জামে মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে ওজন পার্কের মুসলিম কমিউনিটিতে ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে একটি ছোট বেসমেন্ট থেকে কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ, ঈদের নামাজ, জানাজা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি ইসলামি স্কুল, কোরআন তাফসির ও ধর্মীয় শিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।   মসজিদটির বর্তমান ঠিকানা ৭৬-১৮ গ্লেনমোর অ্যাভিনিউ, ওজন পার্ক, কুইন্স। স্থানীয় বিভিন্ন তথ্যসূত্রেও এটিকে ওই এলাকার মুসলিম কমিউনিটির একটি পরিচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগের বিষয়ে কুইন্স কমিউনিটি বোর্ড ১০-এর ২০২৬ সালের জুনের সভার নথিতেও আল-ফুরকান-সংক্রান্ত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে প্রস্তাবিত নতুন ভবনের জন্য খননকাজের অনুমতির বিষয়টি আলোচনায় আসে।   রোববারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও তহবিল সংগ্রহের আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তুলে ধরে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ হলে নতুন ভবনটি শুধু নামাজের স্থান হিসেবে নয়, ধর্মীয় শিক্ষা ও কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্যও ব্যবহৃত হবে।   ওজন পার্ক কুইন্সের একটি বহুজাতিক এলাকা, যেখানে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করেন। আল ফুরকান জামে মসজিদও দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার মুসলিমদের ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের একটি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। মসজিদের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এটি একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক ধর্মীয় সংগঠন।   নতুন তিনতলা মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারের যে তহবিল প্রয়োজন হবে, তা সংগ্রহে কমিউনিটির সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।   তবে নতুন ভবনের মোট আয়তন, আসনসংখ্যা এবং নির্মাণের নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ সম্পর্কে মসজিদের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এসব বিষয়ে আয়োজকদের ঘোষণাকেই প্রাথমিক তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
কুইন্সের অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত আবু চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকে নিউইয়র্কের রাজা দাবি করা বাংলাদেশি সুপারমার্কেট মালিক অপহরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত

নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে প্রতিশোধমূলক অপহরণের একটি চক্র পরিচালনার দায়ে আবু চৌধুরী নামে ৩৬ বছর বয়সী এক সুপারমার্কেট মালিককে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতের জুরি। দুই সপ্তাহের বিচার শেষে বৃহস্পতিবার মাত্র দুই ঘণ্টা deliberation করে জুরি তাকে তিনটি অপহরণ এবং তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন।   মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ থেকে মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ছয় সপ্তাহের ব্যবধানে তিনজনকে অপহরণের ঘটনায় চৌধুরীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়েছে। মামলায় ভুক্তভোগীদের আদালতে জন ডো-১, জন ডো-২ ও জন ডো-৩ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।   চৌধুরী কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় বিডি ফ্রেশ সুপারমার্কেটের সহ-মালিক। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের প্রভাব ও সুনাম বাড়ানোর পাশাপাশি তৎকালীন প্রেমিকা এবং বর্তমানে স্ত্রী ইফফাত লুবনার সম্মান রক্ষার দাবিতে তিনি অপহরণের পরিকল্পনাগুলোতে জড়িয়েছিলেন। আদালতে সরকারি কৌঁসুলি জোশুয়া ট্যানেন বলেন, চৌধুরী নিজেকে ‘কিং অব নিউইয়র্ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইতেন।   মামলার প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ। প্রসিকিউশন অনুযায়ী, কুইন্সের জ্যামাইকার ১৮১তম স্ট্রিট ও হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে হাঁটছিলেন জন ডো-১। সেখান থেকে তাকে জোর করে একটি হোন্ডা এসইউভিতে তোলা হয়। এরপর প্রায় ১৩ ঘণ্টা ধরে তাকে কুইন্সের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়।   আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণ অনুযায়ী, ওই ঘটনায় চৌধুরী ভুক্তভোগীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে একটি আবাসিক এলাকায় নগ্ন অবস্থায় দাঁড় করিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। পরে অপহরণকারীরা তাকে পানি দেয়, যাতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। ওই পানি পান করার পর তিনি জ্ঞান হারান এবং পরদিন এক স্থানীয় হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান।   দ্বিতীয় ও তৃতীয় অপহরণের ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের মে মাসে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চৌধুরী ও লুবনা জন ডো-৩কে প্রলুব্ধ করে নিজেদের গাড়িতে তোলেন। বাংলাদেশে কলেজে পড়ার সময় তাদের পরিচয় ছিল এবং পরে দুজনই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর আবার যোগাযোগ হয়। লুবনার সম্পর্কে ওই ব্যক্তির করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয় বলে প্রসিকিউটররা আদালতে জানান।   ১০ মে থেকে শুরু হওয়া ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীকে কুইন্সের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। পরে তাকে অন্য একটি ভুক্তভোগীর সঙ্গে একটি হোটেল কক্ষে নেওয়া হয়। মামলার প্রমাণ অনুযায়ী, সেখানে তাকে ভয় দেখিয়ে অপর ভুক্তভোগীকে মারধর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়।   এর পরদিন, ১১ মে, আরেক ব্যক্তিকে কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় অপহরণ করা হয়। ওই ব্যক্তি লুবনার সঙ্গে দেখা করার জন্য একটি রেস্তোরাঁর কাছে অপেক্ষা করছিলেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, চৌধুরী তাকে জোর করে একটি মিনিভ্যানে তুলে নেন এবং মারধর করেন। পরে তাকে একটি হোটেলে নেওয়া হয়। সেখানে চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।   এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবার কাছে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অপহরণের তৃতীয় দিনে ভুক্তভোগীকে হাত-পা বেঁধে ও চোখ ঢেকে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রেখে যাওয়া হয়। পরে তিনি নিজের বাঁধন খুলে একটি জানালা ভেঙে বের হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাহায্য চান। গুরুতর আঘাতের কারণে তাকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়।   মামলাটিতে চৌধুরীর স্ত্রী ইফফাত লুবনাও আগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। চলতি বছরের ৯ এপ্রিল জুরি তাকে জন ডো-২ ও জন ডো-৩কে অপহরণ এবং অপহরণের ষড়যন্ত্রের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে। এছাড়া সাইয়েদ রুবেল আহমেদ ও সুলতানা রাজিয়াও জন ডো-১কে অপহরণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চৌধুরী, লুবনা, আহমেদ ও রাজিয়া দোষী সাব্যস্ত হওয়া অপরাধগুলোর জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারেন। তাদের সাজা পরে আদালত নির্ধারণ করবে।   ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা বলেন, আসামি ও তার সহযোগীদের কর্মকাণ্ড ছিল নিষ্ঠুর ও অর্থহীন এবং এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। এফবিআই ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের যৌথ সহিংস অপরাধবিরোধী টাস্কফোর্স তদন্তে সহায়তা করেছে।   আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রায়ের পরও চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে যাননি। বিচারক নিনা মরিসন তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে, গৃহবন্দি অবস্থায় থাকার সুযোগ দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা ওই জামিন বাতিলের আবেদন করেছেন। রায়ের পর শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   কুইন্সের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচিত এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালের অপহরণগুলোর তদন্ত থেকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ প্রথমবার চৌধুরীসহ সাতজনের বিরুদ্ধে সহিংস অপহরণের অভিযোগের কথা জানায়। তখন কর্তৃপক্ষ বলেছিল, অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা একই জাতিগত কমিউনিটির সদস্য ছিলেন।   চলতি বছরের এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরের পৃথক বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিভিন্ন আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। সর্বশেষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তিনটি অপহরণ ও তিনটি অপহরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ শেষ হলো।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক; নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬ ১৪:০
পেনসিলভানিয়ার ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপের কাউপাথ রোডে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষের পর উদ্ধারকাজ। ছবি: সংগৃহীত
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপে দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে আবুল কালাম আজাদ নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাউপাথ রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজাদের দেশের বাড়ি চাঁদপুর। তিনি ল্যান্সডেলে বসবাস করতেন এবং হ্যাটফিল্ড মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আওয়াজ বিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার দুপুর ১টা ৭ মিনিটে কাউপাথ রোডের ১০০ ব্লকে একটি ধূসর ও একটি রুপালি রঙের সেডানের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে আবুল কালাম আজাদ নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য গ্র্যান্ড ভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর কাউপাথ রোডের একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। লেইডি রোড থেকে মিডো উড লেন পর্যন্ত সড়কটি যান চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল কাজ করে।   ফ্রাঙ্কোনিয়া টাউনশিপ পুলিশ দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে হ্যাটফিল্ড ও টোওয়ামেসিন পুলিশ এবং মন্টগোমারি কাউন্টি ডিটেকটিভ ব্যুরো সহায়তা করছে। তবে দুই গাড়ির সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   নিহত আবুল কালাম আজাদ চার ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। সন্তানদের মধ্যে ১৪ ও ৮ বছর বয়সী দুই ছেলে, ৭ বছর বয়সী এক মেয়ে এবং ৯ মাস বয়সী যমজ দুই ছেলে রয়েছে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে ল্যান্সডেল ও হ্যাটফিল্ড এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে মরহুমের রুহের মাগফিরাত এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি জানতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: আওয়াজ বিডির

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
৪০তম সম্মেলন শেষ হওয়ার পর টেক্সাসের হিউস্টনে ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
৪০তম ফোবানা শেষে হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু, স্পনসরশিপ প্যাকেজ ঘোষণা

৪০তম ফোবানা কনভেনশন শেষ হওয়ার পর এবার ৪১তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৭ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে টেক্সাসের হিউস্টনে। উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় এই আয়োজনের হোস্ট হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন। এরই মধ্যে সম্মেলনের ভেন্যু, হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটি এবং বিভিন্ন স্তরের স্পনসরশিপ প্যাকেজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৪১তম ফোবানা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে হিউস্টনের Wyndham Houston-এ। ভেন্যুটির ঠিকানা ৮৬৮৬ কিরবি ড্রাইভ, হিউস্টন, টেক্সাস ৭৭০৫৪। সম্মেলনে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।   ৪১তম ফোবানার আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টন ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি নিবন্ধিত অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন। গ্রেটার হিউস্টনের বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও মানবিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সংগঠনটি কাজ করে আসছে। তাদের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে হেলথ ক্লিনিক, বাংলা ক্লাস, ইউনিভার্সিটি স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, SAT/PSAT প্রোগ্রাম, দুর্যোগ সহায়তা, খেলাধুলা, কনস্যুলার সার্ভিস, ফুড ব্যাংক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পরিবারকে সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ।   ৪১তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট এক্সিকিউটিভ কমিটিতেও দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। কমিটির কনভেনার হিসেবে রয়েছেন ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল। মেম্বার সেক্রেটারি খন্দকার ইসলাম রিয়াজ এবং ডেপুটি কনভেনার ইশফাক হোসাইন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে রয়েছেন সোহেলা সাবুর হাসান লাভলি।   এ ছাড়া চিফ অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, চিফ প্যাট্রন ইকবাল চৌধুরী, ডিরেক্টর অব ফাইন্যান্স মুহাম্মদ মান্নাফ ডায়মন্ড, চিফ কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মদ জামান টুটুল এবং কালচারাল কমিটির চেয়ার হিসেবে রয়েছেন কায়সার আবেদিন শিবলী।   এবারের আয়োজনকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিভিন্ন স্পনসরশিপ প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্র্যান্ড স্পনসরশিপের মূল্য ৫০ হাজার ডলার, টাইটেল স্পনসরশিপ ২৫ হাজার ডলার, প্লাটিনাম স্পনসরশিপ ১০ হাজার ডলার, গোল্ড স্পনসরশিপ ৫ হাজার ডলার এবং সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলার।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫০ হাজার ডলারের গ্র্যান্ড স্পনসর প্যাকেজ ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে টাইটেল, প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার স্পনসরশিপ প্যাকেজগুলোর মধ্যে এখনও অ্যাভেলেবেল আছে।   সিলভার স্পনসরদের জন্য রয়েছে আর্লি বার্ড অফারও। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলভার স্পনসরশিপের মূল্য ১ হাজার ৮০০ ডলারের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।   ফোবানা ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশন ও কমিউনিটিকে একটি প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে। সংগঠনটির বার্ষিক কনভেনশনে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণ থাকে।   ৪০তম ফোবানা শেষ হওয়ার পর এবার হিউস্টনে ৪১তম আয়োজনকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু হওয়ায় উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বড় পরিসরের অংশগ্রহণের লক্ষ্য, বিভিন্ন স্পনসরশিপ সুবিধা এবং হিউস্টনের সক্রিয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অংশগ্রহণে ২০২৭ সালের এই আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পাশে ফোবানার নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির, ডান পাশে নতুন নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন চেয়ারম্যান জহির, নির্বাহী সচিব প্রিয়লাল

উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর ফেডারেশন ফোবানার ২০২৬–২৭ মেয়াদের নতুন নির্বাহী কমিটি নির্বাচিত হয়েছে। এতে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান এবং ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব নির্বাচিত হয়েছেন।   রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে ফোবানার বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে নতুন কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফোবানার ৪০তম সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক বছরের জন্য ২০২৬–২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়।   প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব রেজা রহিমের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোবানার নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেন অ্যাটর্নি মোহাম্মদ আলমগীর ও ডিউক খান।   নির্বাচনে মোহাম্মদ এম. রহমান জহির চেয়ারম্যান, আবীর আলমগীর ভাইস চেয়ারম্যান, ড. প্রিয়লাল কর্মকার নির্বাহী সচিব, অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এবং নাহিদা নাসের ইয়াসমিন ট্রেজারার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার নতুন নির্বাহী কমিটিতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এম. রহমান জহির ফ্লোরিডার, ভাইস চেয়ারম্যান আবীর আলমগীর নিউইয়র্কের, নির্বাহী সচিব ড. প্রিয়লাল কর্মকার ও জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি অ্যান্থনি পিয়ুস গোমেজ ভার্জিনিয়ার এবং ট্রেজারার নাহিদা নাসের ইয়াসমিন হিউস্টন, টেক্সাসের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   নতুন কমিটির পাশাপাশি নয়জনকে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। তারা হলেন রবিউল করিম বেলাল, ড. জয়নুল আবেদীন, মো. ইকবাল, শামসুদ্দোহা সাগর, মুহাম্মদ আলী মানিক, মাহবুবুর ভূঁইয়া, মকবুল এম. আলী, বাবুল হাই এবং ড. আব্দুস সাত্তার। তারা পেনসেলভেনিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, জর্জিয়া, ইলিনয়, ফ্লোরিডা ও ভার্জিনিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন।   এ ছাড়া ফোবানার সদস্য সংগঠনগুলোর মধ্য থেকে ১৭ জনকে এক্সিকিউটিভ মেম্বার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটি অব গ্রেটার হিউস্টনের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব গ্রেটার কানসাস সিটির রেহান রেজা এবং ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির আবু রুমি রয়েছেন।   এ তালিকায় আরও রয়েছেন ভার্জিনিয়ার বিএআইটিপিওর শামসুদ্দিন মাহমুদ, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি ডিএমভির আক্তার হোসাইন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের হাশমত মবিন, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশ মেলা ইনকের তৌফিক সুলেমান খান তুহিন এবং গ্রেটার ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নুরুল আমিন।   এ ছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকা ইনকের দিলশাদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন হিউস্টনের আজমল খান, ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি হিউস্টনের নাদিম ভূঁইয়া, ভার্জিনিয়ার সুন্দরবনের করিম সালাউদ্দিন, বাংলাদেশি আমেরিকান সোসাইটির সায়েদুল হক এবং জর্জিয়ার বেঙ্গলি বয়েজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের রাসেল ভূঁইয়াও এক্সিকিউটিভ মেম্বার নির্বাচিত হয়েছেন।   ফোবানার অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ মেয়াদে রবিউল করিম বেলাল চেয়ারম্যান এবং এম. রহমান জহির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে জহির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আসছেন এবং সংগঠনটির নেতৃত্বে নতুন এক বছরের মেয়াদ শুরু হচ্ছে।    লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনটি ফোবানার ৪০তম কনভেনশন গত ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ইউনিভার্সাল সিটির হিলটন হোটেলে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।    নতুন নির্বাহী কমিটি আগামী এক বছর ফোবানার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রয়েছে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিশোরদের একটি অংশের গ্যাং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর ও তরুণদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র বহন ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন মামলার ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি তরুণ সমাজকে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না। ঠিকানা নিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মামলার নথির বরাতে কিশোরদের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরে সামগ্রিকভাবে গুলির ঘটনা কমলেও সহিংস অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ২০২৫ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের ১৪ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে। একই বছরে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের ১৮ শতাংশই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৮ সালে এই তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ হার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুইন্সে সাম্প্রতিক একটি মামলায় কথিত ব্লিটজ গ্যাং-৪-এর ২২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে ওই গ্যাং ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ১১টি গুলির ঘটনা এবং একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ক্যামব্রিয়া হাইটসের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। ওই কিশোর প্রতিপক্ষের দিকে একাধিক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। কিশোরদের সহিংসতার আরও কয়েকটি ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লাশিংয়ের কিসেনা পার্কে দুই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় সাতজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের আরেক ঘটনায় অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাবওয়ে স্টেশনে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একটি দল মারধর ও টেজার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের এপ্রিলেও কুইন্সের রয় উইলকিনস পার্কে কিশোরদের একটি বড় জমায়েতে ১৫ বছর বয়সী জাদেন পিয়েরেকে দলবদ্ধভাবে হামলা এবং পরে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে হত্যা ও গ্যাং অ্যাসাল্টের অভিযোগ এবং ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগও আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ। নিউইয়র্কের কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের মতে, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ভিডিও, গান এবং অনলাইনে প্রতিপক্ষকে অপমান বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সংঘর্ষকে উসকে দিতে পারে। বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং সবসময় বড় কোনো সংগঠিত অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে না। একই স্কুল, মহল্লা, হাউজিং কমপ্লেক্স বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতদের নিয়ে তৈরি ছোট গ্রুপও ধীরে ধীরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা পরে পুরো গ্রুপের প্রতিশোধের লড়াইয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো একটি লক্ষণ দেখেই কিশোরকে গ্যাং সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। স্কুলে অনুপস্থিতি, হঠাৎ নতুন ও গোপন বন্ধুমহল, রাতে বাড়ির বাইরে থাকা, অজানা উৎস থেকে টাকা বা দামি জিনিস পাওয়া, মারামারির ভিডিও ধারণ কিংবা অস্ত্র ও গ্যাং-সম্পর্কিত ছবি প্রকাশের মতো একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে হলেই গুরুতর অপরাধের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পাওয়া যায় না। রাজ্যের রেইজ দ্য এজ আইনের অধীনে সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ফৌজদারি বিচারের বয়স ১৮ করা হলেও নির্দিষ্ট গুরুতর ও সহিংস অপরাধে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিরুদ্ধেও ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা চলতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ কিশোর স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই কয়েকটি মামলার কারণে পুরো কমিউনিটিকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকির ঘটনাগুলো উপেক্ষা করাও বিপজ্জনক। পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটির সমন্বিত নজরদারি এবং সময়মতো সহায়তা কিশোরদের অপরাধের পথে যাওয়া ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: ঠিকানা নিউজ

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা আয়োজকেরা। ছবি: সংগৃহীত
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ।   এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।   তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।   ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: তারেক আম্বিয়া, বাংলা প্রেস
গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল, শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি তারেক আম্বিয়া গ্রেপ্তার

কানেকটিকাটের ম্যানচেস্টারে গাড়িচাপায় চার বছর বয়সী আকারি কর্টেসের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত গাড়িচালক তারেকুল আম্বিয়াসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ১০ জুন ভোরে ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনার তদন্ত শেষে ২৮ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।   ম্যানচেস্টার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৪৯ বছর বয়সী তারেকুল আম্বিয়া ওই সময় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মোটরযানের মাধ্যমে অসদাচরণজনিত মৃত্যু, বেপরোয়া গাড়ি চালানো, গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য এবং সঠিক লেনে গাড়ি না চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ বলছে, গাড়ি চালানোর সময় হাতে মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগটি তার বিরুদ্ধে তৃতীয়বারের মতো এসেছে।  পুলিশ জানায়, ১০ জুন ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ইস্ট সেন্টার স্ট্রিটে একটি গাড়ির ধাক্কায় আকারি গুরুতর আহত হয়। জরুরি চিকিৎসা দিয়ে তাকে কানেকটিকাট চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়। স্টেট অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভোঁতা আঘাতজনিত জখম উল্লেখ করা হয়েছে।    ঘটনার তদন্তে আকারির বাবা-মাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৮ বছর বয়সী টেইলর বিরন ও ২৬ বছর বয়সী নাথায়েল কর্টেসের বিরুদ্ধে শিশুকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও কানেকটিকাট ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজের তথ্য অনুযায়ী, আকারির মৃত্যুর আগে শিশুটির যথাযথ তত্ত্বাবধান না করার অভিযোগে ১ জুন ও ৫ জুন দুটি রিপোর্ট পেয়েছিল ডিএফসি। দুটিই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মাধ্যমে জমা পড়েছিল।  ডিএফসি জানিয়েছে, আকারির মৃত্যুর সময় পরিবারটির বিষয়ে তাদের তদন্ত চলছিল। তদন্তের অংশ হিসেবে শিশুটি যাতে একা বাড়ি থেকে বের হতে না পারে, সে জন্য অতিরিক্ত দরজার লকও বসানো হয়েছিল। তবে পরে আবারও যথাযথ তত্ত্বাবধানের ঘাটতি দেখা যায় বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। আকারির মৃত্যুর ঘটনায় ডিএফসি তাদের তদন্ত শেষ করেছে এবং পরিবারের অন্য শিশুদের একজন আত্মীয়ের কাছে নিরাপদে রাখা হয়েছে।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর তারেকুল আম্বিয়া ঘটনাস্থলেই ছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি ৫০ হাজার ডলারের সিওরিটি বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন। তার ম্যানচেস্টার সুপিরিয়র কোর্টে হাজিরার তারিখ ৪ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হয়েছে। আকারির বাবা-মা প্রত্যেকে ২৫ হাজার ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছেন এবং তাদের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।  তবে গ্রেপ্তার বা ফৌজদারি অভিযোগের অর্থ এই নয় যে অভিযুক্তরা অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনত নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, তদন্তের পর পুলিশ গাড়িচালক ও শিশুটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযোগ এনেছে। মামলাগুলো এখন আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে।  সূত্র: বাংলা প্রেস

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নতুন মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে মসজিদ আল-রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় নতুন মসজিদ নির্মাণে ২.৯ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশিদের এগিয়ে আসার আহ্বান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার কামিং এলাকায় ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটির জন্য নতুন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ আল-রহমানের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি ক্রয়ে মোট ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১,০৩৩,৬১৬ ডলার সংগ্রহ হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে জমি কেনার ক্লোজিং সম্পন্ন করতে বাকি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।   নতুন মসজিদের জন্য ১৩০০ Peachtree Parkway এ ৭.৫ একর জমি কেনার চুক্তি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে ৩০০টির বেশি পার্কিং স্পেস, একটি মাল্টিপারপাস হল এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগসহ নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হবে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে প্রতি জুমায় ৫০০ এর বেশি মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। বর্তমান স্থানে জায়গা ও পার্কিং সংকট ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে রমজানে নারীদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা এবং বয়স্কদের জন্য অ্যাক্সেসিবল সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে। নতুন মসজিদে এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশু ও তরুণদের জন্য থাকবে আলাদা কার্যক্রম এবং আউটডোর স্পোর্টসের সুযোগ।   নতুন মসজিদ নির্মাণের পাশাপাশি ১২৩৫ Peachtree Parkway এ অবস্থিত বর্তমান ভবনটিকে একটি ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুলটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে।   তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিও বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। মসজিদ কমিউনিটির পক্ষ থেকে আমেরিকা বাংলাকে জানানো হয়, এটি কোনো একক দেশের মানুষের মসজিদ নয়। বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের মুসলিমদের সমন্বয়ে এখানে একটি বৃহৎ কমিউনিটি গড়ে উঠেছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির যার যতটুকু সামর্থ্য আছে, সাধ্যমতো দান করার পাশাপাশি যারা প্রকল্পটি সম্পর্কে জানেন না, তাদেরও বিষয়টি জানিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রচারাভিযানে ১০০ ডলারকে একটি ইট, ১,০০০ ডলারকে একটি নামাজের স্থান বা মুসাল্লা, ৬,০০০ ডলারকে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫,০০০ ডলারকে একটি ক্লাসরুমের প্রতীকী অনুদান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এককালীন অনুদানের পাশাপাশি মাসিক ভিত্তিতেও দানের সুযোগ রয়েছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে শুধু বর্তমান স্থান সংকটের সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্থায়ী ইসলামিক ও কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। ৩১ আগস্টের ক্লোজিং সামনে রেখে বাংলাদেশিসহ বৃহত্তর মুসলিম কমিউনিটির সবাইকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মসজিদ প্রকল্পটি সরাসরি দেখতে এবং অনুদান দিতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন: https://cummingcommunitycenter.com

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
নিজের দক্ষতা ও সময় অনুযায়ী টিউটরিং, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। ছবি: সংগৃহীত
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-টাইম চাকরি করেও অনেকের মাসিক আয় থেকে বাড়তি সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, গাড়ির খরচ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবারই মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের জন্য এমন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যা মূল চাকরির সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং সপ্তাহের সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে করা যায়।   বর্তমানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ শুধু রাইডশেয়ার বা ফুড ডেলিভারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং হাতে থাকা সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। তবে কোন কাজ থেকে কত আয় হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ধরন, অবস্থান, সময়, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর।   চাকরির পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে এমন ১০টি কাজ হলো:   ১. রাইডশেয়ার ড্রাইভিং - নিজের গাড়ি থাকলে উবার বা লিফট এর মতো রাইডশেয়ার প্ল্যাটফর্মে ড্রাইভিং অনেকের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি পরিচিত পথ। অফিসের আগে বা পরে কয়েক ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহান্তে কাজ করা যায়। তবে আয় হিসাব করার সময় গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইনস্যুরেন্স এবং গাড়ির মূল্য কমে যাওয়ার মতো খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।   ২. ফুড ডেলিভারি - ডোরড্যাশ, উবারইটস সহ বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ডিনার সময় বা সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যারা যাত্রী বহনের পরিবর্তে খাবার বা পণ্য ডেলিভারি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।   ৩. অনলাইন বা প্রাইভেট টিউটরিং - যাদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স বা অন্য কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করতে পারেন। অনেক টিউটর সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তে কাজ করেন, ফলে এটি ফুল-টাইম চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টিউটরদের বড় একটি অংশ পার্ট-টাইম কাজ করেন এবং তাদের সময়সূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের কাজও রয়েছে।   ৪. ফ্রিল্যান্সিংআইটি, সফটওয়্যার টেস্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো কাজ শেখার চেয়ে নিজের বর্তমান পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগানো অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৫. ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি - বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত হয়। যাদের ক্যামেরা পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা রয়েছে, তারা মূল চাকরির পাশাপাশি সপ্তাহান্তে এসব কাজ করতে পারেন।   ৬. ক্লিনিং সার্ভিস - বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট অফিস পরিষ্কারের কাজও পার্ট-টাইম আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে নিজস্ব ছোট ক্লিনিং সার্ভিসও গড়ে তুলতে পারেন। সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য এই কাজটি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ৭. চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিং - যাদের শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পার্ট-টাইম চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিংয়ের কাজ বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ডকেয়ার সেক্টরে পার্ট-টাইম কাজ প্রচলিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের সময়ও কাজের প্রয়োজন হয়। তবে শিশু দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   ৮. হ্যান্ডিম্যান ও হোম সার্ভিস - ফার্নিচার অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং, ইয়ার্ডের কাজ বা ছোটখাটো মেরামতের মতো কাজে দক্ষ হলে সপ্তাহান্তে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং বা লাইসেন্স প্রয়োজন এমন কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৯. অনলাইন রিসেলিং - বাড়িতে অব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি দিয়ে অনলাইন রিসেলিং শুরু করা যায়। পরে পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, হস্তশিল্প বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে পণ্য কেনা, স্টোরেজ, শিপিং এবং প্ল্যাটফর্মের ফি হিসাব করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ১০. সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট সার্ভিস - ছোট ব্যবসা বা কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, পোস্ট লেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজও করা যেতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক ছোট ব্যবসা ও সংগঠনের নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজন থাকায় এই ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তবে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করার আগে শুধু সম্ভাব্য আয় নয়, সংশ্লিষ্ট খরচও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি কাজের ক্ষেত্রে গাড়ির গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকে, সেটি বিবেচনা করা উচিত।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পার্ট-টাইম বা গিগ কাজের আয়ও ট্যাক্সের আওতায় পড়ে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, গিগ কাজ থেকে পাওয়া আয় পার্ট-টাইম, অস্থায়ী বা সাইড কাজের আয় হলেও তা ট্যাক্স রিটার্নে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো ব্যক্তির self-employment থেকে নেট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণত self-employment tax-এর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আয় ও খরচের রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছে আইআরএস।   তাই ফুল-টাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সময়, দক্ষতা, খরচ এবং সম্ভাব্য নেট আয় বিবেচনা করা। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার একটি পার্ট-টাইম কাজও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে প্রার্থী মোহাম্মদ কাজল।
ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল

উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা বা ফোবানার পরবর্তী নির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন মেরিল্যান্ডের কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ কাজল। দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার ফোবানার নেতৃত্বে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়েছেন বলে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছেন তিনি।   ফোবানার ৪০তম কনভেনশন ২০২৬ সালের ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই কনভেনশনকে ঘিরেই সংগঠনটির পরবর্তী নির্বাহী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাচ্ছে। ফোবানার বর্তমান নির্বাহী কমিটির মেয়াদ ২০২৫-২০২৬ এবং বর্তমান কমিটিতে মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজল নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন।   আমেরিকা বাংলাকে মোহাম্মদ কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে সংগঠনটির কার্যক্রম, সম্ভাবনা এবং কমিউনিটির প্রত্যাশা সম্পর্কে তাঁর ভালো ধারণা তৈরি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফোবানাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে এবার তিনি সভাপতি পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।   কাজল বলেন, “আমি যেহেতু অনেকদিন ধরে ফোবানার সঙ্গে জড়িত রয়েছি, তাই ফোবানাকে আরও ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। উত্তর আমেরিকার আরও বেশি বাংলাদেশি কমিউনিটিকে ফোবানার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সংগঠনটিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এবার সভাপতি পদে নির্বাচন করছি।”   তিনি বলেন, ফোবানার কার্যক্রমে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো, কমিউনিটির নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করা এবং ফোবানার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দিতে চান।   ফোবানার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া সদস্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে কাজল বলেন, যারা ফোবানার সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছেন, তারা তাঁর প্রার্থিতা ও পরিকল্পনা বিবেচনা করে তাকে সমর্থন করবেন বলে তিনি আশা করেন। ভোটার সদস্য সংগঠনগুলোর সমর্থন পেলে ফোবানার নেতৃত্বে থেকে সংগঠনটিকে আরও গতিশীল করার জন্য কাজ করতে চান বলেও জানান তিনি।   মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা: মোহাম্মদ কাজল মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের একজন। সংগঠনটি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছে। ফোবানার অফিসিয়াল তালিকাতেও মেরিল্যান্ড ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি একটি সদস্য সংগঠন হিসেবে রয়েছে এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে এই সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে মোহাম্মদ কাজলের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।   নোয়াখালীর সন্তান কাজল দীর্ঘদিন ধরে মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কমিউনিটি উদ্যোগেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে।   কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিসরেও তিনি সক্রিয়। তিনি মেরিল্যান্ড স্টেট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে ফোবানায় তাঁর প্রার্থিতার বিষয়ে তিনি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে কমিউনিটি সংগঠন ও ফোবানার কার্যক্রমকে সামনে রেখে কাজ করার লক্ষ্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন।   ফোবানার নেতৃত্বে নতুন পরিকল্পনার প্রত্যাশা: ফোবানার সভাপতি পদে নিজের প্রার্থিতা সম্পর্কে কাজল বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য শুধু একটি পদে দায়িত্ব নেওয়া নয়। বরং উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি সংগঠন ও কমিউনিটিকে আরও কার্যকরভাবে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা।   তিনি মনে করেন, ফোবানার মাধ্যমে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রেও ফোবানা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।   ফোবানার বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, সংগঠনটির নির্বাহী কমিটিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ও ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। সদস্য সংগঠনগুলোর নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে তিন দিনব্যাপী ফোবানার ৪০তম সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে ফোবানার ৪০তম সম্মেলন, আর মাত্র ১৯ দিন পর শুরু

আর মাত্র ১৯ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল সিটিতে শুরু হচ্ছে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ফোবানার ৪০তম সম্মেলন। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে।   লেবার ডে উইকেন্ড এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের সম্মেলন ঘিরে ইতোমধ্যে আয়োজকদের প্রস্তুতি জোরদার হয়েছে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।   এবারের সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ফোবানা হোস্ট কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।   এর আগে গত ২০ মে ঢাকায় মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে লস অ্যাঞ্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রতিনিধিদল আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সম্মতি দেন বলে সে সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।   ফোবানার ৪০তম সম্মেলনকে সামনে রেখে গত ২৮ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবালসহ ফোবানা ও হোস্ট কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   এবারের সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপসহ নানা আয়োজন থাকছে।   দেশ ও উত্তর আমেরিকার জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে তিন দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এবারের সম্মেলনের বড় আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। এর আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পরীমনি, লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকীব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফসহ বেশ কয়েকজন শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম যুক্ত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।   সম্মেলনের আয়োজন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল।   ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রাবিউল করিম বেলাল এবং এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফও সম্মেলনের সার্বিক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চার দশকের মাইলফলককে সামনে রেখে এবারের সম্মেলনকে বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে।   সম্মেলনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। অতিথি ব্যবস্থাপনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রচার ও প্রকাশনা, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং বিভিন্ন কর্মসূচির সমন্বয় নিয়ে কাজ চলছে।   আয়োজকদের প্রত্যাশা, ৪০তম ফোবানা সম্মেলন উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের একত্রিত করার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংযোগ আরও শক্তিশালী করবে।   ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত সব বাংলাদেশিকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

তাবাস্সুম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
বাফলার ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
বাফলার নবনির্বাচিত কমিটির শপথ, সভাপতি ইলিয়াস শিকদার ও সম্পাদক নাসির জেবুলের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা

লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর নবনির্বাচিত ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কমিটির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় বাফলার কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলের নেতৃত্বে নতুন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।   অনুষ্ঠানে সদ্যবিদায়ী কমিটির সদস্য, নির্বাচন কমিশনের সদস্য এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) চেয়ার ড. রুবিনা নাজিব নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৯টি বাংলাদেশি সংগঠনকে নিয়ে বাফলা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে কাজ করে আসছে।   নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন—সহ-সভাপতি দাউদ বাফাতিয়া, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি খোরশেদ আলম রতন, পাবলিক রিলেশনস অফিসার মাসুক আল হোসাইন এবং কালচারাল সেক্রেটারি সায়লা রুমি।   শপথ গ্রহণের পর বক্তব্যে সভাপতি ইলিয়াস এম. শিকদার সদ্যবিদায়ী কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাফলা দীর্ঘদিন ধরে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির অন্যতম প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে আসছে। ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।   সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুল বলেন, বাংলাদেশ ডে প্যারেডসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে নতুন কমিটি কাজ করবে। এ সময় নতুন কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দায়িত্ব নিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন।   অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সদ্যবিদায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে বাফলা লস অ্যাঞ্জেলেসের বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ, ঐক্য, সম্প্রীতি ও সার্বিক কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: জর্জিয়ার কামিংয়ে মুসলিম কমিউনিটির জন্য ৭.৫ একর জমিতে নতুন মসজিদের উদ্যোগ।
তিন জামাতেও হচ্ছে না জায়গা, জর্জিয়ার কামিংয়ে নতুন মসজিদের জমি কিনতে ২.৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহে কর্তৃপক্ষ

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের কামিং শহরে দ্রুত বর্ধনশীল মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে নতুন মসজিদ নির্মাণের জন্য ৭ দশমিক ৫ একর জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে মাসজিদ আল রহমান (Cumming Community Center)। জমিটি কিনতে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে ২ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহ অভিযান শুরু করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি বিক্রির জন্য মালিকের সঙ্গে চুক্তি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে প্রকল্পটি ডিউ ডিলিজেন্স পর্যায়ে রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করা গেলে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর নতুন মসজিদ ও কমিউনিটি ক্যাম্পাস নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।   বর্তমানে কামিংয়ের পিচট্রি পার্কওয়েতে অবস্থিত মাসজিদ আল রহমান উত্তর জর্জিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ইসলামিক সেন্টার। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমা, ইসলামিক শিক্ষা এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও গত কয়েক বছরে মুসল্লির সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে বিদ্যমান অবকাঠামো আর চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।   বিশেষ করে কামিং, আলফারেটা, জনস ক্রিক, সুয়ানি ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম পরিবারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর আটলান্টার এই অঞ্চলটি তথ্যপ্রযুক্তি ও করপোরেট খাতের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের কেন্দ্র হওয়ায় দেশ-বিদেশের অনেক পেশাজীবী পরিবার এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে। ফলে স্থানীয় মসজিদগুলোতেও মুসল্লির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।   মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান মসজিদে জুমার দিন মুসল্লিদের চাপ সামাল দিতে তিনটি পৃথক জামাত আয়োজন করতে হয়। এরপরও অনেক মুসল্লিকে জায়গার সংকটে পড়তে হয়। রমজান, ঈদ এবং বিভিন্ন কমিউনিটি আয়োজনেও একই ধরনের স্থান সংকট দেখা দেয়।   এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান মসজিদ থেকে প্রায় ৪০০ মিটারের মধ্যে অবস্থিত ৭ দশমিক ৫ একর জমি কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে উত্তর জর্জিয়ার মুসলিম কমিউনিটির চাহিদা পূরণে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার কার্যত কোনো বিকল্প নেই।   পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন ক্যাম্পাসে একটি বৃহৎ মসজিদ, ৩০০টির বেশি পার্কিং সুবিধা, একটি বহুমুখী কমিউনিটি ভবন এবং বর্তমান স্থানে ইসলামিক স্কুল প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বহুমুখী ভবনটি জুমার অতিরিক্ত জামাত, ঈদের নামাজ, বড় কমিউনিটি সমাবেশ, ক্রীড়া কার্যক্রম এবং অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা হবে।   তহবিল সংগ্রহ অভিযানে বিভিন্ন পর্যায়ে অনুদান দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। কেউ ১০০ ডলারে প্রতীকী একটি ইট, এক হাজার ডলারে একটি মুসাল্লা বা নামাজের স্থান, ৬ হাজার ডলারে একটি পার্কিং স্পেস এবং ২৫ হাজার ডলারে একটি শ্রেণিকক্ষের ব্যয় বহনে অংশ নিতে পারবেন।   মসজিদ কর্তৃপক্ষ মুসলিম কমিউনিটির সদস্যদের এই উদ্যোগকে সদাকায়ে জারিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের মধ্যেও এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে দিয়ে জমি অধিগ্রহণের তহবিল সংগ্রহে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   মাসজিদ আল রহমান পরিচালনাকারী কামিং কমিউনিটি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ৫০১(সি)(৩) অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে দেওয়া অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত কর আইনের আওতায় কর-ছাড়ের জন্য যোগ্য।   নতুন মসজিদ প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য, মাস্টারপ্ল্যান, অগ্রগতির সর্বশেষ অবস্থা এবং অনলাইনে অনুদান দেওয়ার সুবিধা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুন: https://cummingcommunitycenter.com/

নুরুল্লাহ সাইদ জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: স্বপ্নের আমেরিকা এখন শুধু নিউইয়র্কেই সীমাবদ্ধ নয়
নিউইয়র্ক আর একমাত্র গন্তব্য নয়, বাংলাদেশিদের নতুন পছন্দের ১০ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় আবাস এখনো নিউইয়র্ক। তবে গত কয়েক বছরে বাড়িভাড়া, বাড়ির মূল্য, সম্পত্তি কর, গাড়ির বীমা, ডে-কেয়ার, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পরিবার নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন। বিশেষ করে যারা প্রথম বাড়ি কিনতে চান, সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়াতে চান কিংবা অবসরের পর তুলনামূলক শান্ত ও সাশ্রয়ী জীবন কাটাতে চান, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা স্পষ্ট।   যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরো, আবাসন বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কের তুলনায় দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একই সঙ্গে এসব এলাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, মুসলিম কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বসতির মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।   আমেরিকা বাংলার বিশ্লেষণে আবাসন ব্যয়, মধ্যম পারিবারিক আয়, চাকরির সুযোগ, বাংলাদেশি কমিউনিটি, মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হালাল ব্যবসা, সন্তানের শিক্ষার পরিবেশ এবং নিউইয়র্কের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা বিবেচনা করে বাংলাদেশি পরিবারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ১০টি অঙ্গরাজ্যের চিত্র তুলে ধরা হলো।   জর্জিয়া: দক্ষিণের নিউইয়র্ক বাংলাদেশি পরিবারের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি জর্জিয়া। আটলান্টা মেট্রো এলাকার ডুলুথ, লিলবার্ন, ডোরাভিল, চ্যাম্বলি, টাকার, নরক্রস, আলফারেটা, কামিং ও ডিকেটর গত এক দশকে বাংলাদেশি কমিউনিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   অঙ্গরাজ্যটিতে মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৯০ থেকে ৪১০ হাজার ডলারের মধ্যে। নিউইয়র্কে যে দামে একটি ছোট কনডো কেনা যায় না, সেই অর্থে জর্জিয়ায় অনেক ক্ষেত্রে চার বা পাঁচ বেডরুমের বাড়ি কেনা সম্ভব।   বাংলাদেশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আটলান্টা মেট্রো এলাকায় অসংখ্য বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল সুপারমার্কেট, মাছ-মাংসের দোকান, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, চিকিৎসক, আইনজীবী এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অনেক বাংলাদেশি মার্কেট সপ্তাহের সাত দিন গভীর রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, এমনকি কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টা সেবাও দেওয়া হয়।   ধর্মীয় পরিবেশও সমৃদ্ধ। আটলান্টা অঞ্চলে ডজনখানেক বড় মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, হিফজ প্রোগ্রাম এবং সানডে মাদ্রাসা রয়েছে। ঈদ জামাত, রমজানের ইফতার, ইসলামিক কনফারেন্স এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক অনুষ্ঠান নিয়মিত আয়োজন করা হয়।   এ কারণেই অনেক বাংলাদেশি এখন আটলান্টাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে “দক্ষিণের নিউইয়র্ক” বলে উল্লেখ করেন।   ফ্লোরিডা: বাংলাদেশের আবহাওয়ার কাছাকাছি, অবসরজীবনের নতুন গন্তব্য নিউইয়র্ক থেকে স্থানান্তরিত হওয়া বাংলাদেশিদের অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য এখন ফ্লোরিডা। ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো, কিসিমি, জ্যাকসনভিল ও মায়ামিতে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।   ফ্লোরিডায় ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর নেই। মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৭৫ হাজার ডলার এবং একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৪২০ হাজার ডলার ।   বাংলাদেশি পরিবারের কাছে ফ্লোরিডার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর আবহাওয়া। বছরের অধিকাংশ সময় উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিরাজ করায় অনেকেই এটিকে বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। এখানকার প্রকৃতি, সবুজ পরিবেশ এবং দীর্ঘ গ্রীষ্মকাল নতুন অভিবাসীদের সহজে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।   ফ্লোরিডায় আম, কাঁঠাল, কলা, পেঁপে, পেয়ারা, নারিকেল, লিচুসহ বিভিন্ন উষ্ণমণ্ডলীয় ফলের চাষ হয় এবং স্থানীয় বাজারে সহজেই পাওয়া যায় এমনকি অনেক বাংলাদেশি পরিবারের ব্যাকয়ার্ডে এসব ফলমূলের বাগান রয়েছে। যারা এই অঙ্গরাজ্যে থাকেন তারা মনে করেন, খাবার ও আবহাওয়ার দিক থেকে ফ্লোরিডা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বাংলাদেশের কাছাকাছি অনুভূতি দেয়।   অবসরপ্রাপ্তদের কাছেও ফ্লোরিডা অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাজ্য আয়কর না থাকা, উষ্ণ আবহাওয়া এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাংলাদেশি সিনিয়র নাগরিক অবসরের পর এখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা করছেন।   ট্যাম্পা, অরল্যান্ডো ও জ্যাকসনভিলে বর্তমানে একাধিক মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, ফুল-টাইম ইসলামিক স্কুল, উইকএন্ড মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   টেক্সাস: চাকরি ও কর সুবিধার বড় কেন্দ্র ডালাস, হিউস্টন, প্লানো, আরভিং, অস্টিন ও সুগার ল্যান্ডে বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।   মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য প্রায় ৩৪০ থেকে ৩৬০ হাজার ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ওপর কোনো অঙ্গরাজ্য কর না থাকায় অনেক পরিবার টেক্সাসকে দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের জন্য বেছে নিচ্ছেন।   প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ এবং ব্যবসায়িক খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামিক সেন্টার, ইসলামিক একাডেমি, মসজিদ, হালাল সুপারমার্কেট এবং বাংলাদেশি ব্যবসা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।   নিউ জার্সি: নিউইয়র্কের সবচেয়ে কাছের বিকল্প যারা নিউইয়র্কে চাকরি বা ব্যবসা বজায় রাখতে চান কিন্তু বসবাসের জন্য তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক পরিবেশ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিউ জার্সি অন্যতম সেরা বিকল্প।   জার্সি সিটি, প্যাটারসন, এডিসন, উডব্রিজ ও নর্থ ব্রান্সউইকে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ নিউইয়র্কে যাতায়াত করেন। অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি, রেস্টুরেন্ট এবং কমিউনিটি সংগঠনের কারণে নতুন অভিবাসীদের জন্য এখানকার পরিবেশ বেশ পরিচিত।   মেরিল্যান্ড: নিউইয়র্কের কাছাকাছি, চাকরির বড় বাজার বাল্টিমোর, সিলভার স্প্রিং, এলিকট সিটি ও ডিসি মেট্রো এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটি দ্রুত বাড়ছে।   মধ্যম পারিবারিক আয় এক লাখ ডলারের বেশি, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চগুলোর মধ্যে অন্যতম। স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেক, শিক্ষা, সরকারি সংস্থা এবং ফেডারেল কন্ট্রাক্টিং খাতে প্রচুর কর্মসংস্থান রয়েছে। বাল্টিমোর থেকে কয়েক ঘণ্টার ড্রাইভেই নিউইয়র্কে পৌঁছানো যায়।   এখানেও বাংলাদেশি গ্রোসারি, হালাল ব্যবসা, ইসলামিক সেন্টার ও মসজিদের সংখ্যা বাড়ছে।   নর্থ ক্যারোলাইনা: প্রযুক্তি খাতের নতুন গন্তব্য র্যালি, ক্যারি, মরিসভিল ও শার্লটে তথ্যপ্রযুক্তি, গবেষণা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের চাকরির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের সংখ্যা বাড়ছে। ভালো পাবলিক স্কুল, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ক্রমবর্ধমান মুসলিম কমিউনিটি এই অঙ্গরাজ্যকে পরিবারগুলোর কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে।   মিশিগান: পুরোনো বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্ত ঘাঁটি হ্যামট্রাম্যাক, ট্রয়, ক্যান্টন ও ওয়ারেনে বহু বছর ধরেই বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ২৬০ হাজার ডলার, যা তালিকার অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় কম। মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিফজ মাদ্রাসা, হালাল মার্কেট এবং বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট সহজেই পাওয়া যায়।   পেনসিলভানিয়া: কম খরচে নিউইয়র্কের কাছাকাছি ফিলাডেলফিয়া, হ্যারিসবার্গ ও পিটসবার্গে বাংলাদেশি কমিউনিটি ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হচ্ছে। মধ্যম বাড়ির মূল্য প্রায় ৩০০ হাজার ডলারের কাছাকাছি। নিউইয়র্কের তুলনায় আবাসন ব্যয় অনেক কম হওয়ায় অনেক পরিবার এই অঙ্গরাজ্য বেছে নিচ্ছেন।   ভার্জিনিয়া: উচ্চ আয় ও উন্নত শিক্ষা ফেয়ারফ্যাক্স, অ্যাশবার্ন, আলেকজান্দ্রিয়া ও উডব্রিজ এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ফেডারেল সরকারের চাকরির বড় বাজার রয়েছে। মধ্যম পারিবারিক আয় ১ লাখ ডলারের কাছাকাছি। উন্নত পাবলিক স্কুল, ইসলামিক স্কুল এবং শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটির কারণে বাংলাদেশি পেশাজীবীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় অঙ্গরাজ্য।   মিনেসোটা: নিরাপদ পরিবেশ ও ইসলামিক কমিউনিটি মিনিয়াপোলিস, ব্লুমিংটন ও ইডেন প্রেইরিতে শক্তিশালী মুসলিম কমিউনিটি, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে বাংলাদেশি পরিবারের আগ্রহ বাড়ছে। সোমালি, দক্ষিণ এশীয় ও অন্যান্য মুসলিম কমিউনিটির উপস্থিতির কারণে অসংখ্য মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, হালাল ব্যবসা এবং ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার আগে শুধু বাড়ির দাম বা ভাড়া নয়, চাকরির সুযোগ, সন্তানের স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, সম্পত্তি কর, গাড়ি ও বাড়ির বীমা, নিকটস্থ মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, বাংলাদেশি গ্রোসারি এবং কমিউনিটি সাপোর্ট—সবকিছু একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।   এক সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের স্বপ্নের ঠিকানা ছিল শুধু নিউইয়র্ক। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, নিউ জার্সি, মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া, ভার্জিনিয়া ও মিনেসোটায় দ্রুত গড়ে উঠছে নতুন বাংলাদেশি জনপদ। ফলে অনেক প্রবাসী এখন মনে করছেন, আমেরিকায় ভালো জীবন মানেই শুধু নিউইয়র্ক নয়; বরং যেখানে কম খরচে নিজের বাড়ি, সন্তানের জন্য ভালো স্কুল, শক্তিশালী বাংলাদেশি ও মুসলিম কমিউনিটি এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ রয়েছে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে আগামী দিনের নতুন প্রবাসী বাংলাদেশ।

তাবাস্সুম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে শক্তিশালী বজ্রঝড়ের পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে কথা বলছেন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী | ছবি: আমেরিকা বাংলা
ঝড়ে অন্ধকারে মিশিগানের বহু এলাকা, তীব্র গরমে দুর্ভোগে বাংলাদেশি পরিবার

মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়।     শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে।     এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার।   এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই।   মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।”   তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০