সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৮:৪৯

নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিশোরদের একটি অংশের গ্যাং সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কিশোর ও তরুণদের বিরুদ্ধে মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি, অস্ত্র বহন ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তবে এসব বিচ্ছিন্ন মামলার ভিত্তিতে পুরো বাংলাদেশি তরুণ সমাজকে গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক হবে না।


ঠিকানা নিউজের এক প্রতিবেদনে নিউইয়র্ক পুলিশের সাম্প্রতিক তথ্য ও কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির মামলার নথির বরাতে কিশোরদের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরে সামগ্রিকভাবে গুলির ঘটনা কমলেও সহিংস অপরাধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।


২০২৫ সালে নিউইয়র্কে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের ১৪ শতাংশের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে। একই বছরে গুলি চালানোর ঘটনায় সন্দেহভাজন বা অভিযুক্তদের ১৮ শতাংশই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। ২০১৮ সালে এই তথ্য সংগ্রহ শুরু হওয়ার পর এটি ছিল সর্বোচ্চ হার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


কুইন্সে সাম্প্রতিক একটি মামলায় কথিত ব্লিটজ গ্যাং-৪-এর ২২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২৩ সাল থেকে ওই গ্যাং ও প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ১১টি গুলির ঘটনা এবং একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে।


এর মধ্যে ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ক্যামব্রিয়া হাইটসের একটি ম্যাকডোনাল্ডসের পার্কিং লটে সংঘর্ষের সময় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগ। ওই কিশোর প্রতিপক্ষের দিকে একাধিক গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। মামলাটির অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।


কিশোরদের সহিংসতার আরও কয়েকটি ঘটনাও সামনে এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ফ্লাশিংয়ের কিসেনা পার্কে দুই কিশোরকে মারধরের ঘটনায় সাতজন ১৭ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের আরেক ঘটনায় অ্যাস্টোরিয়ার একটি সাবওয়ে স্টেশনে ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একটি দল মারধর ও টেজার দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ ওঠে।


চলতি বছরের এপ্রিলেও কুইন্সের রয় উইলকিনস পার্কে কিশোরদের একটি বড় জমায়েতে ১৫ বছর বয়সী জাদেন পিয়েরেকে দলবদ্ধভাবে হামলা এবং পরে গুলি করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে হত্যা ও গ্যাং অ্যাসাল্টের অভিযোগ এবং ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোরের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগও আদালতে প্রমাণসাপেক্ষ।


নিউইয়র্কের কিশোর গ্যাং সংস্কৃতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তাদের মতে, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, ভিডিও, গান এবং অনলাইনে প্রতিপক্ষকে অপমান বা হুমকি দেওয়ার ঘটনা কখনো কখনো বাস্তব জীবনের সংঘর্ষকে উসকে দিতে পারে।


বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং সবসময় বড় কোনো সংগঠিত অপরাধী চক্রের অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে না। একই স্কুল, মহল্লা, হাউজিং কমপ্লেক্স বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিতদের নিয়ে তৈরি ছোট গ্রুপও ধীরে ধীরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা পরে পুরো গ্রুপের প্রতিশোধের লড়াইয়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা থাকে।


নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কোনো একটি লক্ষণ দেখেই কিশোরকে গ্যাং সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। স্কুলে অনুপস্থিতি, হঠাৎ নতুন ও গোপন বন্ধুমহল, রাতে বাড়ির বাইরে থাকা, অজানা উৎস থেকে টাকা বা দামি জিনিস পাওয়া, মারামারির ভিডিও ধারণ কিংবা অস্ত্র ও গ্যাং-সম্পর্কিত ছবি প্রকাশের মতো একাধিক পরিবর্তন একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।


নিউইয়র্কের আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে হলেই গুরুতর অপরাধের দায় থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুক্তি পাওয়া যায় না। রাজ্যের রেইজ দ্য এজ আইনের অধীনে সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে ফৌজদারি বিচারের বয়স ১৮ করা হলেও নির্দিষ্ট গুরুতর ও সহিংস অপরাধে ১৬ ও ১৭ বছর বয়সীদের বিরুদ্ধেও ক্রিমিনাল কোর্টে মামলা চলতে পারে।


বাংলাদেশি কমিউনিটির অধিকাংশ কিশোর স্বাভাবিক শিক্ষা ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই কয়েকটি মামলার কারণে পুরো কমিউনিটিকে দায়ী করা যেমন অনুচিত, তেমনি কিশোরদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকির ঘটনাগুলো উপেক্ষা করাও বিপজ্জনক। পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটির সমন্বিত নজরদারি এবং সময়মতো সহায়তা কিশোরদের অপরাধের পথে যাওয়া ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


সূত্র: ঠিকানা নিউজ


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
পেন্সিল ব্যবহার করে জেলের সেলের দরজা খুলে পালিয়ে যান ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী
পেন্সিল দিয়েই কারাগারের সেল খুলে পালালেন বন্দী, ৩০ মিনিটেই ফের আটক

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনার একটি কাউন্টি জেল থেকে মাত্র একটি পেন্সিল ব্যবহার করে সেলের দরজা খুলে পালিয়েছিলেন ৩০ বছর বয়সী এক বন্দী। তবে তার পালিয়ে থাকার সময় বেশি দীর্ঘ হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই তাকে জেল থেকে কিছু দূরে আটক করেন ডেপুটিরা। পুরো ঘটনার কিছু অংশ নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজেও ধরা পড়ে।  ঘটনাটি ঘটে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের দিকে চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে। বন্দীর নাম চার্লস আলেকজান্ডার ডিটারিখ। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি সেলের দরজাটি সামান্য ওপরে তুলে লকিং মেকানিজমের ভেতর পেন্সিল ঢুকিয়ে সেটি নাড়াচাড়া করেন। এরপর দরজাটি সরিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।  সেল থেকে বের হওয়ার পর ডিটারিখ জেলের রান্নাঘর দিয়ে এগিয়ে একটি আনলকড দরজা দিয়ে বাইরে চলে যান। দরজাটি জেলের রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা বন্দীদের ময়লা বাইরে নেওয়া এবং বড় একটি রেফ্রিজারেটরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। এরপরও তিনি পুরোপুরি মুক্ত ছিলেন না। জেলের বাইরের একটি সুরক্ষিত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া ছিল। ডিটারিখ সেই বেড়া টপকে পালানোর চেষ্টা করেন এবং এতে শরীরে কেটে যায়। পরে তিনি জেল এলাকা থেকে দূরে চলে যান।  প্রায় ২০ মিনিট পর নিয়মিত তল্লাশির সময় জেলকর্মীরা সেলের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান। অন্য বন্দীরা ডিটারিখ পালিয়ে যাওয়ার কথা জানালে দ্রুত ডেপুটিদের খবর দেওয়া হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডেপুটিরা তাকে জেল থেকে কিছু দূরে জোন্স রোড এলাকায় শনাক্ত করেন। তাকে আটক করার সময় তিনি এক ডেপুটিকে হামলা করেন বলে শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে। পরে কাঁটাতারের কারণে হওয়া আঘাতের চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা ছাড়পত্র দেওয়ার পর তাকে আবার চেস্টারফিল্ড কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।  ডিটারিখ এর আগে চুরি করা গাড়ি সংক্রান্ত অভিযোগ, নিয়ন্ত্রিত মাদক বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার অভিযোগ এবং পুলিশের সংকেত অমান্য করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৩ আগস্ট এসব মামলায় তিনি দোষ স্বীকার করেন এবং সময়ের সাজা পান। তবে নর্থ ক্যারোলাইনার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হোল্ড থাকায় তাকে হেফাজতেই রাখা হয়েছিল।  পালানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এখন বেআইনিভাবে পালানো, গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া, পুলিশ অফিসারের ওপর হামলা এবং সম্পত্তির ক্ষতিসহ নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর চেস্টারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যে সেল ও লকিং মেকানিজম ব্যবহার করে ডিটারিখ বেরিয়ে যান, সেটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। শেরিফ ক্যাম্বো স্ট্রিটার বলেছেন, ঘটনাটি জেলের নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি দুর্বলতা সামনে এনেছে। জেলের পুরোনো অংশের কিছু স্থাপনা ১৯৭২ সালের বলে জানিয়েছেন তিনি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৯:১৭

নিউইয়র্কে গ্যাং সহিংসতায় বাংলাদেশি তরুণদের নাম, কমিউনিটিতে আতঙ্ক

টেট বর্তমানে তার ভাই ট্রিস্টান টেটের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামির ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন

নাবালিকাকে যৌন শোষণের অভিযোগে ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেটের বিরুদ্ধে রোমানিয়ায় নতুন মামলা

নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ

ফ্লোরিডার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নথিবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিষিদ্ধ

ড্রোন হামলার পর কোকা-কোলার কারখানা এলাকায় ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়
কিয়েভে কোকা-কোলার কারখানায় রুশ ড্রোন হামলা, জেলেনস্কির দাবি ‘আমেরিকার জন্য স্পষ্ট বার্তা’

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে কোকা-কোলার একটি কারখানায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই হামলাকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ‘স্পষ্ট বার্তা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।   কিয়েভ অঞ্চলে টানা অষ্টম দিনের মতো রুশ হামলার সময় ব্রোভারি এলাকার কাছে কোকা-কোলার উৎপাদনকেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দিনের হামলায় অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন। তবে কারখানাটিতে কর্মরত কোনো কর্মী আহত হননি বলে জানিয়েছে ইউক্রেনে থাকা আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স।   বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ভালোভাবেই জানে যে কোকা-কোলা একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। তিনি বলেন, কোকা-কোলার মতো একটি প্রতিষ্ঠানে রুশ ড্রোন হামলা চালানোকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বার্তা হিসেবেই দেখা উচিত।   জেলেনস্কি আরও বলেন, “কোকা-কোলা এখন তাদের কাছে এমন এক শত্রু হয়ে গেছে যে তারা শাহীদ ড্রোন দিয়ে সেটিতেও হামলা চালাচ্ছে।” হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে।   হামলার পর ঘটনাস্থলের ভিডিও ও ছবিতে কারখানা এলাকায় আগুন নেভাতে জরুরি বিভাগের কর্মীদের কাজ করতে দেখা যায়। কারখানার ওপর ও আশপাশের মাঠের দিকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতেও দেখা গেছে।   ইউক্রেনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ডি হান্ডার জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মূল্যায়নে প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি বলেন, কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।   এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের কয়েকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে কোকা-কোলার পণ্য দেশটির বাজার থেকে সাময়িকভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনো কোকা-কোলা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।   একই দিনে ইউক্রেনের আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনাতেও হামলা হয়েছে। ডিনিপ্রো শহরে নোভা পোশতার একটি ডিপো ও শাখায় ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন হামলায় একজন কর্মী নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।   নোভা পোশতা এক বিবৃতিতে বলেছে, রাশিয়া আবারও বেসামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিক অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে এবং এতে তাদের একজন সহকর্মীর প্রাণ গেছে।   অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরেও দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়াচ্ছে ইউক্রেন। শুক্রবার স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, ইউক্রেনের সীমান্ত থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের স্টেরলিতামাকে একটি সামরিক-শিল্প স্থাপনায় হামলা হয়েছে।   স্থানীয় রুশ টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোর দাবি, স্টেরলিতামাক পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্ট ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য ছিল। ওই কারখানায় বিমান জ্বালানিসহ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উৎপাদন করা হয়।   এ ছাড়া বৃহস্পতিবার রাতেও রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় শহর সোচিতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনের নৌবাহিনী প্রকাশিত একটি ভিডিওতে রাশিয়ার সামুদ্রিক ও জ্বালানি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ‘নেফ্রিত’ নামের একটি জাহাজে নৌ-ড্রোন হামলার পরের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।   রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার মধ্যে কিয়েভের কাছে একটি মার্কিন কোম্পানির কারখানায় হামলার ঘটনা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া উত্তেজনার বিষয়টিকে সামনে এনেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ৭:৬
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় রোগীর সঙ্গে গোপন যৌন সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে থেরাপিস্ট মিশেল লুচাউ-রেবোরা গ্রেফতার হয়েছেন। ছবি: সংগৃহীত

থেরাপি সেশনে রোগীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগ, নারী থেরাপিস্ট গ্রেফতার

গোলাবারুদের ঘাটতির খবর নাকচ করে সমালোচকদের কড়া জবাব ট্রাম্পের

গোলাবারুদের ঘাটতি নেই দাবি করে সমালোচকদের ‘বিশ্বাসঘাতক আবর্জনা’ বললেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং সঠিক নম্বরে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া সহজ হয়। ছবি: সংগৃহীত

আমেরিকায় নতুন? ৯১১ ছাড়াও জরুরি সময়ে কাজে লাগবে যেসব নম্বর, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ চালু করল টেসলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে চালকবিহীন ‘সাইবারক্যাব’ রাইড চালু করেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা। স্টিয়ারিং হুইল ও প্যাডেলবিহীন দুই আসনের এই গাড়ির মাধ্যমে রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় ওয়েমোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার পথে আরও এক ধাপ এগোল ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার ৩ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সাইবারক্যাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।    সোনালি রঙের সাইবারক্যাব প্রথমবার প্রদর্শন করা হয়েছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গাড়িটিতে প্রচলিত স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক ও অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল নেই। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলার জন্য গাড়িটি ক্যামেরা ও বিভিন্ন সেন্সরনির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে।    প্রথম ধাপে অস্টিনের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সাইবারক্যাব রাইড দেওয়া হচ্ছে। এর আগে টেসলা অস্টিনসহ কয়েকটি শহরে মডেল ওয়াই গাড়ি ব্যবহার করে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করেছিল। টেসলার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে অস্টিন, ডালাস ও হিউস্টনসহ টেক্সাসের কয়েকটি শহর এবং ফ্লোরিডার মিয়ামি, অরল্যান্ডো ও টাম্পায় তাদের রোবোট্যাক্সি সেবা চলছে।    সাইবারক্যাবের আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে টেসলার স্বয়ংক্রিয় পরিবহন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে এই বিশেষভাবে তৈরি গাড়িকে তাদের রোবোট্যাক্সি বহরের মূল যান হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। জুলাইয়ে টেসলা জানিয়েছিল, সাইবারক্যাবের উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং পাবলিক রোডে এর ইঞ্জিনিয়ারিং টেস্ট ড্রাইভও শুরু করা হয়েছিল।    অন্যদিকে, চালকবিহীন রাইড-হেইলিং বাজারে ওয়েমো ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি ১ সেপ্টেম্বর ডেনভার, সান ডিয়েগো ও টাম্পায় পাবলিক রাইড চালু করে জানায়, এর মাধ্যমে ১৪টি শহরে তাদের সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় রাইড সেবা পৌঁছেছে।    তবে টেসলার নতুন সেবার বিস্তার নিয়ে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অস্টিনে সাইবারক্যাব চালুর বিষয়টি তারা মূল্যায়ন করছে।    সাইবারক্যাবের যাত্রা শুরু হলেও টেসলা কত দ্রুত এই সেবা বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারবে এবং এটি কতটা লাভজনক হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং যাত্রীদের আস্থাই রোবোট্যাক্সি ব্যবসায় টেসলার ভবিষ্যৎ সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ২:৩৯
পাঁচ বছরের মেয়ে শার্লট বাসকিকে অনাহার ও পানিশূন্যতায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

অনাহারে মৃত্যু ৫ বছরের শিশুর, আলমারিতে মিলল মল ও উকুনে ঢাকা অবস্থায় দেহ, বাবা আটক

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও দীর্ঘ সময় চাকরি না পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বৃদ্ধি! চাকরি না পেয়ে হতাশ লাখ লাখ মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী এক দশকে সবচেয়ে দ্রুত বাড়তে যাওয়া ১০টি পেশার ছয়টিই স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সহায়তা খাতের। ছবি: সংগৃহীত

আগামী দিনের সেরা ১০ চাকরির ৬টিই স্বাস্থ্যসেবায়! যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে যে পেশাগুলোর চাহিদা

0 Comments