প্রবাদ আছে, "কেউ যখন আপনাকে বারবার তার আসল রূপ দেখায়, তখন সেটিই বিশ্বাস করা উচিত।" গত ১৪ মাস ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন ঠিক সেটিই করে দেখাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং তাদের আদর্শকে লক্ষ্যবস্তু করা, ক্রমাগত সমালোচনা আর শুল্ক বা হুমকির মাধ্যমে পুরনো মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা এখন হোয়াইট হাউসের নিয়মিত কৌশলে পরিণত হয়েছে। এতদিন ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের রোষ এড়াতে তোষামোদি বা আলোচনার মাধ্যমে তাকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে আসছিলেন। কিন্তু ইরানের যুদ্ধ কি তবে সেই সমীকরণে পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছে? পরিবর্তনটি শুরু হয়েছে ধীরে ধীরে। প্রথমে স্পেন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং তাদের ভূখণ্ডে থাকা ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে সরাসরি অস্বীকার করে। ব্রিটেনও শুরুতে একই ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এসেছে বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি আর কড়া সমালোচনা। কিন্তু গত কয়েক দিনে চিত্রপট আরও বদলে গেছে। ফ্রান্স, পোল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস একে একে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এমনকি ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে পরিচিত ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও এবার সুর পাল্টেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের এই সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইউক্রেন যখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লড়ছে, তখন রাশিয়ার ওপর থেকে তেলের নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার মার্কিন সিদ্ধান্তে ইউরোপীয় দেশগুলো হতবাক। গত চার বছর ধরে যারা পুতিনের আগ্রাসন ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে, তাদের কাছে এটি এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা। ইউরোপ অনুভব করছে যে, তারা এক অনির্ভরযোগ্য এবং তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে আটকা পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ হয়তো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুরোপুরি বিচ্ছেদ চাইছে না, কিন্তু সংকটের মুহূর্তে তারা এখন ওয়াশিংটনের পরিবর্তে নিজেদের ঐক্যের ওপরই বেশি ভরসা রাখতে শুরু করেছে। ট্রাম্পের 'টাফ লাভ' বা কঠোর নীতি কি তবে শেষ পর্যন্ত ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিল? সেই উত্তর হয়তো সময়ের কাছেই তোলা আছে।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার পারস্য উপসাগরের এই কৌশলগত জলসীমায় অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে জাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ফলে অধিকাংশ নাবিককে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি ও যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও)-র তথ্যমতে, হামলার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার ‘মায়ুরি নারি’ ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অগ্নিকাণ্ডের শিকার এই জাহাজটির আগুন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহ থেকে ২৫ নটিক্যাল মাইল দূরে জাপানি কন্টেইনার জাহাজ ‘ওয়ান ম্যাজেস্টি’ এবং দুবাইয়ের উত্তর-পশ্চিমে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী ‘স্টার গুইনেথ’ নামের আরও একটি জাহাজ অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দুটি জাহাজের নাবিকরা সুরক্ষিত আছেন বলে নিশ্চিত করেছে মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভ্যানগার্ড। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার পর এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক এই তিনটি হামলাসহ সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজে হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হলো।
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া যুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্য ও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। হোয়াইট হাউস যখন তেহরানের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী যুদ্ধের ক্ষেত্র তৈরি করছে, তখন আইনপ্রণেতাদের একাংশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন এবং এর সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের পক্ষ থেকে কথিত ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া সামরিক কৌশলের বিষয়ে আইনপ্রণেতারা স্পষ্টত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে। এই হুমকি মোকাবিলায় ‘প্রতিরক্ষামূলক’ যুদ্ধের কোনো বিকল্প নেই বলে তারা মনে করছেন। রিপাবলিকান দলের কট্টরপন্থী অনেক নেতা এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের আগ্রাসন রুখতে কঠোর পদক্ষেপের সময় এসেছে। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অধিকাংশ সদস্য এবং কিছু যুদ্ধবিরোধী রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই গোয়েন্দা তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, প্রশাসন যুদ্ধের সপক্ষে যে প্রমাণগুলো উপস্থাপন করছে তা অপর্যাপ্ত এবং অতিরঞ্জিত হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন অনেকটা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ভ্রান্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকলেও, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রেসিডেন্টরা প্রায়ই বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন। অনেক আইনপ্রণেতা এখন ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ (War Powers Act) ব্যবহারের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের এই ক্ষমতা সীমিত করার দাবি তুলছেন। তারা জোর দিয়ে বলছেন, কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করা যাবে না। ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও যুদ্ধের দামামা বিশ্ব রাজনীতিতেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় মিত্ররা আগে থেকেই এই উত্তেজনার সমালোচনা করে আসছে এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সাথে এই সংঘাত যদি শেষ পর্যন্ত সরাসরি যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে ক্যাপিটল হিলে এই বিতর্ক তুঙ্গে এবং আগামী দিনগুলোতে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে এই উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এক বছরে রেকর্ড ১২৯ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই মোট মৃত্যুর দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই সরাসরি দায়ী ইসরায়েল। সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন 'কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস' (সিপিজে) এর সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু ও ইসরায়েলের দায় সিপিজে-এর তথ্যমতে, ১৯৯২ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর থেকে গত বছরটি ছিল গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর নিহত ১২৯ জনের মধ্যে ৮৬ জনই ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এটি বিশ্বজুড়ে মোট নিহতের প্রায় ৬৭ শতাংশ। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলকে এই বিপুল সংখ্যক সাংবাদিক হত্যার জন্য দায়ী করা হলো। টার্গেট কিলিং এবং ড্রোন হামলা সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, ৪৭ জন সাংবাদিককে সুপরিকল্পিতভাবে বা ‘টার্গেট কিলিং’ এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮১ শতাংশ ঘটনার সাথে ইসরায়েল জড়িত। এছাড়া সাংবাদিক হত্যায় ড্রোনের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৩৯ জন সাংবাদিক ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮টি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। অঞ্চলভেদে পরিসংখ্যান নিহত সাংবাদিকদের সিংহভাগই ফিলিস্তিনি, যারা গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহ করছিলেন। এছাড়া ইয়েমেনের একটি হুতি মিডিয়া সেন্টারে ইসরায়েলি হামলায় ৩১ জন গণমাধ্যমকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে সিপিজে তাদের রেকর্ডে সাংবাদিকের ওপর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইসরায়েল ছাড়াও সুদান (৯ জন), মেক্সিকো (৬ জন), রাশিয়া (৪ জন) এবং ফিলিপাইনে (৩ জন) সাংবাদিক নিহতের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশেও একজন সাংবাদিক অপরাধচক্রের হাতে নিহত হওয়ার বিষয়টি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সিপিজে-এর প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ এক বিবৃতিতে বলেন, “এমন এক সময়ে সাংবাদিকদের রেকর্ড সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে যখন তথ্যের অবাধ প্রবাহ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ আসলে সব ধরণের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের পূর্বাভাস। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা জরুরি।” ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু সাংবাদিক নয়, তাদের পরিবারকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত সাংবাদিকদের প্রায় ৭০০ জন নিকটাত্মীয় ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইসরায়েলের অবস্থান বরাবরের মতো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। অনেক ক্ষেত্রে নিহত সাংবাদিকদের সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ততার দাবি করা হলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এসব দাবিকে ‘ভিত্তিহীন অপপ্রচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও এর চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরঙ্কুশ বিজয় এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী এই প্রথম নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো। রয়টার্সের বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আশা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির এই বিজয় দলটির ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সাফল্য। সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে যে, এই ভোটের মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এএফপি: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর প্রকাশ করেছে। তাদের শিরোনাম: ‘নির্বাসন থেকে ক্ষমতায়: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সে তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশীয় দেশটির নেতৃত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দেশকে আরও উন্নত করার উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান: ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানেও বাংলাদেশের সংবাদ প্রকাশ করেছে। তাদের খবরের শিরোনাম, ‘হাসিনার উৎখাতের পর ঐতিহাসিক প্রথম নির্বাচনে বিএনপির জয় দাবি’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। বিবিসি: রাজপথ থেকে ক্ষমতার শীর্ষ চূড়ায় ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি তারেক রহমানকে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের পরিবার কয়েক দশক ধরে রাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করলেও তার এই পথ মসৃণ ছিল না। বাবার হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তার এই ফিরে আসাকে একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখছে বিবিসি। সিএনএন: সামনে পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তারেক রহমানের বিজয়ের পাশাপাশি তার আগামীর চ্যালেঞ্জগুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর অস্থিরতা কাটিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং তৈরি পোশাক খাতকে পুনর্গঠন করাই হবে তার নতুন সরকারের প্রধান কাজ। তারেক রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন উল্লেখ করে, "প্রতিহিংসা ভালো কিছু আনে না, বরং ধ্বংস করে।" ভারতীয় গণমাধ্যম ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মুহূর্ত ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক 'দ্য হিন্দু' তারেক রহমানের এই জয়কে একটি "চমকপ্রদ রাজনৈতিক অভিষেক" হিসেবে বর্ণনা করেছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সেই মুহূর্তটি, যখন দীর্ঘ নির্বাসন শেষে তারেক রহমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে জুতা খুলে জন্মভূমির মাটিতে পা রাখেন। দলটি জানিয়েছে, বিজয় পরবর্তী কোনো আনুষ্ঠানিক সমাবেশ তারা করবে না। বিশ্ব গণমাধ্যমের সার্বিক বিশ্লেষণে এটি স্পষ্ট যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন পথচলার ওপর এখন সারা বিশ্বের নজর। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখাই হবে নবনির্বাচিত এই নেতৃত্বের জন্য অ্যাসিড টেস্ট।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারত ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা কর্মসূচিগুলোতে ভারতীয় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে। এক খসড়া নথি অনুযায়ী, এই ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটতে যাচ্ছে, যখন ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে অন্য অঞ্চলের সঙ্গে সহযোগীতামূলক সম্পর্ক গড়তে চাচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। উক্ত নথিতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা হুমকি, ভূরাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি এবং প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ইইউ এবং ভারতের মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়াচ্ছে। নতুন অংশীদারত্বে প্রতি বছর নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সংলাপ হবে। এতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার হুমকি, সন্ত্রাসবিরোধী উদ্যোগ এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ইইউএর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা কর্মসূচিতে ভারতের অংশগ্রহণ উভয়পক্ষের জন্য যুতসই ও লাভজনক কিনা, তাও এই আলোচনায় খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি, মঙ্গলবার ভারত ও ইইউ দীর্ঘ আলোচনার পর একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা করতে যাচ্ছে। এই নতুন অংশীদারত্ব মূলত ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ়ই করবে। সেই সাথে পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় উভয়পক্ষের সার্বভৌমত্বের উপর হুমকি মোকাবেলায় এই অংশীদারত্ব ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস