বিশ্ব

ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
আকাশেই ধ্বংস হবে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র, সফল পরীক্ষায় নতুন উচ্চতায় ভারত

টানা তিনটি সফল উড্ডয়ন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেদের বহুমুখী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার (বিএমডি) অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে ভারত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, গত ১০ ও ১১ জুন এই যুগান্তকারী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই গুটিকয়েক শক্তিশালী দেশের কাতারে যুক্ত হলো, যাদের কাছে শত্রুর দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই রুখে দেওয়ার মতো সর্বাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) এই অসামান্য অর্জন দেশটির সার্বিক সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।   প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ধারাবাহিক সামরিক পরীক্ষার প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্ভাব্য শত্রুর বহুমুখী ও জটিল হুমকি থেকে দেশকে নিশ্ছিদ্র পাহারায় রাখা। পরপর তিনটি ফ্লাইট টেস্টের মাধ্যমে মূলত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ঠেকানোর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং মাঝারিপাল্লার জাহাজ বিধ্বংসী সক্ষমতা গভীরভাবে যাচাই করা হয়েছে।   এর মাধ্যমে একটির পর একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে সেটির কার্যকারিতা ও নিখুঁত নিশানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা হয়। বিশেষত, এই পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো মাঝারিপাল্লার নৌবাহিনীর জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের সফল উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। ফলস্বরূপ, ভারত এখন স্বল্প, মাঝারি ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাশাপাশি সমুদ্রপথেও যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলতে সম্পূর্ণ সক্ষম।   নতুন উদ্ভাবিত এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দুই ধরনের বিশেষায়িত ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এই শক্তিশালী প্রযুক্তি ২,০০০ কিলোমিটার থেকে শুরু করে ৫,০০০ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (আইআরবিএম) নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বায়ুমণ্ডলের ভেতরে এবং বাইরে—উভয় স্থানেই ধেয়ে আসা লক্ষ্যবস্তুকে প্রতিহত করার সুযোগ দেয়। ফলে মহাকাশ থেকে আসা যেকোনো ধরনের আকস্মিক হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের আকাশসীমায় একটি অত্যন্ত নমনীয় ও সুদৃঢ় সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়েছে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথে চরম সংকট: দ্বিগুণ বেড়েছে জ্বালানির দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল এখন ইতিহাসের সবচাইতে কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব ও আকাশছোঁয়া দাম বিমান সংস্থাগুলোকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানি বা কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণ বেড়েছে যা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে। জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে তাদের বেশ কিছু বিমান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা ভাবছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেক সংস্থা লোকসানি রুটগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টি-অ্যাওয়ে এয়ার ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট সহসা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাসেলসের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। তারা বিমানের জ্বালানি কেনায় বিশেষ সরকারি ছাড় এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন কর সাময়িকভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। যুদ্ধের কারণে এই খরচ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক দুর্বল সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের ফলে অনেক ছোট বিমান সংস্থা টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সাথে একীভূত হতে পারে। আমেরিকার বড় দুটি এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা এখন যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয় দুটিই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিটি স্তরে। বিমান চলাচল সংকট, জ্বালানি তেলের দাম, ইরান যুদ্ধ ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আকাশপথের বিপর্যয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
মোজতবা খামেনি
মোজতবা খামেনি হয় মৃত নয়তো খুব খারাপ অবস্থায় আছেন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দেশটির নেতৃত্ব নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ট্রাম্পের মতে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হয়তো ইতিমধ্যে মারা গেছেন অথবা তিনি অত্যন্ত সংকটজনক শারীরিক অবস্থায় রয়েছেন। ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এই দাবি করেন যা মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।   গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে ট্রাম্প জানান যে গত কয়েকদিন ধরে মোজতবা খামেনিকে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না এবং তেহরানের উচ্চপর্যায়ে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরান ও ইসরায়েল সংঘাতের কারণে পুরো অঞ্চল একটি বড় ধরণের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি হলে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বড় ধরণের পরিবর্তন আসতে পারে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ট্রাম্পের এই দাবি যদি সত্যি হয় তবে তা ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হবে। মোজতবা খামেনি তার পিতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পশ্চিমা বিশ্বের কড়া নজরদারিতে ছিলেন। তার মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতার খবর ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে হোয়াইট হাউস ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এবং ট্রাম্পের এই বক্তব্য তেহরানের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Unknown মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
পশ্চিমাদের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা ইরানের আইআরজিসির
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের ‘টোল বুথ’: বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন অস্থিরতার আশঙ্কা

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এবার ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারকে এখন থেকে ইরানকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি বা শুল্ক প্রদান করতে হবে। ইরানের পার্লামেন্ট ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত একটি খসড়া আইন প্রস্তুত করেছে। দেশটির দাবি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান পালন করছে, তাই এই করিডোর ব্যবহারের জন্য আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে অর্থ প্রদান করা যুক্তিসঙ্গত।   ইরানের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে তেহরান এই নৌপথটিকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি স্মার্টফোন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সার ও ওষুধের বাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।   ইতিমধ্যে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এই টোল ব্যবস্থা তদারকি শুরু করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার জাহাজ আটকা পড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেক দেশ এখন এই পথ দিয়ে তাদের জাহাজ নিরাপদে পার করার জন্য ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি এই টোল আইন চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়, তবে এটি কেবল তেলের বাজার নয় বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মন্দার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Unknown মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইসরায়েলের পারমাণবিক নীতি কেন বিশ্বের জন্য বড় হুমকি?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মাঝে ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতি বা 'নিউক্লিয়ার ডকট্রিন' নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আহমেদ নাজ্জার সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েল তার পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে সীমা (threshold) নির্ধারণ করে রেখেছে, তা অত্যন্ত নিচু এবং বিপজ্জনক। নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি 'উন্মুক্ত গোপন রহস্য' হিসেবে গণ্য করা হলেও দেশটি কখনোই এর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবে স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (SIPRI) তথ্যমতে, ইসরায়েলের কাছে অন্তত ৮০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলো নিক্ষেপ করার মতো অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেম রয়েছে। সাধারণত পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো অন্য দেশের পারমাণবিক হামলা ঠেকাতে (Deterrence) এই অস্ত্র রাখে। কিন্তু ইসরায়েলের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তার অস্তিত্বের ওপর সামান্যতম হুমকি অনুভব করলেই এই বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে—এমনকি প্রতিপক্ষ কোনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ না হলেও। একে সামরিক পরিভাষায় অনেক সময় ‘স্যামসন অপশন’ (Samson Option) বলা হয়, যার অর্থ হলো পরাজয়ের মুখে পড়ার আগে চূড়ান্ত ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেওয়া। বর্তমানে ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের ডিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েল যেভাবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট যে তাদের সামরিক কৌশল অত্যন্ত আগ্রাসী। গাজায় ইতিমধ্যে যে পরিমাণ বিস্ফোরক ফেলা হয়েছে, তার শক্তি হিরোশিমা পারমাণবিক বোমার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলো আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) তদারকির অধীনে থাকলেও, ইসরায়েল এখন পর্যন্ত 'নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি' (NPT)-তে স্বাক্ষর করেনি। ফলে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ নেই। নিবন্ধে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, বর্তমানে ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকা ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টরপন্থী সরকার এই ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলি সমাজের ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদী মানসিকতা সামান্য বিরোধকেও ‘অস্তিত্ব রক্ষার যুদ্ধ’ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মনস্তাত্ত্বিক বাধাকে কমিয়ে দিতে পারে। পরিশেষে, আহমেদ নাজ্জার বিশ্ব সম্প্রদায় এবং পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েলের এই অস্পষ্ট ও বিপজ্জনক পারমাণবিক নীতি যে কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বকে একটি পারমাণবিক মহাপ্রলয়ের (Armageddon) দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইসমাইল হোসাইন মার্চ ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0