বিশ্বকাপ

ছবি: সংগৃহীত
সমালোচনার জবাবে যা বললেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   পর্তুগালের প্রথম ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। ম্যাচের শুরুতে জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে যায় পর্তুগাল। তবে বিরতির আগেই ইয়োয়ানে উইসার গোলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ একাধিক পরিবর্তন আনলেও রোনালদো পুরো ৯০ মিনিটই মাঠে থাকেন।   ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স ছিল নিষ্প্রভ। তিনি মাত্র ২৫টি টাচ করতে সক্ষম হন। তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে ছিল না। ফলে তার শুরুর একাদশে থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমর্থকদের একটি অংশ।   তবু এই ম্যাচের মাধ্যমে তিনি ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ফুটবলার হিসেবে তিনি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩, যা পর্তুগালের সর্বোচ্চ।   ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রোনালদো বলেন, শুরুটা প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। তবে তিনি দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে শুরু করতে চেয়েছিলাম, সেভাবে হয়নি। কিন্তু এটা এখনো শেষ হয়নি। মাথা উঁচু রেখে পরের ম্যাচে মনোযোগ দিতে হবে।”   রোনালদোর এই বার্তাকে সমর্থকরা দলকে মানসিকভাবে চাঙা রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ গোলদাতাকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়া যুক্তিসংগত নয়, কারণ গোলের প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডই সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প।   পর্তুগাল এখন গ্রুপ পর্বে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এরপর কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে দলটি।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে আবর্জনা পরিষ্কার, কিন্তু ঘরের কাজে নয়? ভাইরাল মিমে জাপানি পুরুষদের কটাক্ষ

বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত দৃশ্য আবারও আলোচনায় এসেছে। খেলা শেষে স্টেডিয়ামে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তারা। তবে এবার সেই প্রশংসার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ভিন্ন ধরনের বিতর্ক।   নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপানের বিশ্বকাপ ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করতে দেখা যায় জাপানি সমর্থকদের। বহু বছর ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে তাদের এই আচরণ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশংসিত হয়ে আসছে। দায়িত্বশীল নাগরিক আচরণের উদাহরণ হিসেবে প্রায়ই তাদের উল্লেখ করা হয়।   কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ব্যঙ্গাত্মক ছবি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে একদিকে দেখা যায়, একজন জাপানি ফুটবল সমর্থক স্টেডিয়ামের আবর্জনা পরিষ্কার করছেন। অন্যদিকে একটি ঘরোয়া দৃশ্যে একজন নারী বাসন ধুচ্ছেন, আর জাতীয় দলের জার্সি পরা একজন পুরুষ সোফায় আরাম করে বসে আছেন।   ছবিটির নিচে লেখা ছিল, “অনুগ্রহ করে ঘরেও এটি করুন।” সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এই মিমটি হাজার হাজার বার শেয়ার হয়েছে। অনেকেই এটিকে জাপানি সমাজে গৃহস্থালি কাজের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।   মিমটির মূল বার্তা হলো, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার মতো দায়িত্বশীল আচরণ যদি প্রশংসার যোগ্য হয়, তাহলে একই দায়িত্ববোধ ঘরের কাজেও দেখা উচিত। বিশেষ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাজার করা, শিশু লালন-পালন এবং অন্যান্য অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে পুরুষদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।   অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) তথ্য অনুযায়ী, গৃহস্থালি কাজের ক্ষেত্রে জাপানি পুরুষদের অংশগ্রহণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলকভাবে নিচের দিকে রয়েছে। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, তবুও সরকারি তথ্য বলছে নারী ও পুরুষের মধ্যে গৃহস্থালি কাজের ব্যবধান এখনও উল্লেখযোগ্য।   জাপান সরকারের ২০২১ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, পুরুষরা দৈনিক গড়ে ৫১ মিনিট গৃহস্থালি ও পরিচর্যাসংক্রান্ত কাজে ব্যয় করেন। অন্যদিকে নারীরা একই ধরনের কাজে প্রতিদিন গড়ে ৩ ঘণ্টা ২৪ মিনিট সময় দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানে নারীদের কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়লেও পরিবারে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে এখনও ঐতিহ্যগত ধ্যানধারণার প্রভাব রয়েছে। ফলে অনেক পরিবারে গৃহস্থালি কাজের বড় অংশ নারীদের ওপরই থেকে যায়।   সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, ভাইরাল হওয়া এই মিমটি কেবল একটি হাস্যরসাত্মক ছবি নয়; বরং এটি জাপানি সমাজে লিঙ্গভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   এদিকে অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী মনে করেন, স্টেডিয়াম পরিষ্কার করার জন্য জাপানি সমর্থকদের প্রশংসা করা উচিত, তবে একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে দায়িত্ব ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা প্রয়োজন।   বিশ্বকাপের মাঠে জাপানি সমর্থকদের ইতিবাচক আচরণ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি একটি ভাইরাল মিম দেশটির সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। ফলে ফুটবল মাঠের বাইরেও জাপানের সমাজব্যবস্থা ও পারিবারিক সংস্কৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেসির জাদুতে মুগ্ধ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা, ব্রাজিল দলে খেলার রসিকতাও করলেন

বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে দাপুটে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। তার এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা।   সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেসির বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাস্যরসের ভঙ্গিতে লুলা বলেন, তিনি মেসিকে ব্রাজিলের হয়ে খেলানোর জন্য সই করানোর কথা ভাবছেন।   ফুটবল বিশ্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে ব্রাজিল প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এটি রসিকতা হিসেবে বলা, তবুও মেসির পারফরম্যান্স যে প্রতিপক্ষ দেশের নেতাদেরও মুগ্ধ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে লুলার বক্তব্যে।   এদিকে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করেছে ব্রাজিল ড্র দিয়ে। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। এই প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন লুলা। তিনি বলেন, স্পেন কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র করেছে, সেটি আরও খারাপ ফলাফল।   এবারের বিশ্বকাপ মেসির জন্যও বিশেষ হয়ে উঠেছে। এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা তাকে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ের্মো ওচোয়ার পাশে বসিয়েছে সর্বাধিক বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে।   আলজেরিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার পর গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে। ২২ জুনের ওই ম্যাচে জয় পেলে নকআউট পর্বের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে মেসির দল।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভিসা জটিলতা শেষে স্বস্তি, বিশ্বকাপে ছেলেকে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মা

কেপ ভার্দে জাতীয় ফুটবল দলের গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার (Vozinha) মা শেষ পর্যন্ত তার ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখতে পারবেন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে আগেই তার যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   বুধবার এক বিবৃতিতে জেফ্রিস জানান, ভোজিনিয়ার মায়ের ভিসা দ্রুত ইস্যু করা হবে এবং সব ধরনের ফি মওকুফ করা হয়েছে। ফলে তিনি আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারবেন।   তিনি আরও বলেন, “সব ফি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মওকুফ করা হয়েছে। এখন মা ও ছেলের পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।” যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রেয়া শহরের ভিসা টিম ভোজিনিয়ার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।   এর আগে ভোজিনিয়া জানান, তার মা ভিসা সংক্রান্ত খরচ ও বন্ডের কারণে আগের ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তিনি বলেন, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। কেপ ভার্দে এমন ৫০টি দেশের মধ্যে একটি, যাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী ভিসা বন্ড হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা দিতে হয়। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন বা ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান না ছাড়ার উচ্চ ঝুঁকির কারণে এই নিয়ম চালু রয়েছে।   তবে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের পরিবারের সদস্যদের জন্য ভিসা বন্ড মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এর আওতায় খেলোয়াড়, কোচ এবং প্রয়োজনীয় সাপোর্ট স্টাফদের পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রাও অন্তর্ভুক্ত থাকেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ভোজিনিয়ার মায়ের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদন বা সক্রিয় প্রক্রিয়ার কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি এখনো পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছেন।   ভোজিনিয়া সম্প্রতি বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে সাতটি সেভ করেন এবং দলের ঐতিহাসিক ড্রয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের খেলোয়াড়ি জীবন মূলত পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ঘিরে।   ম্যাচ শেষে তার পারফরম্যান্স এবং দলের সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে বলে জানা গেছে। আগামী রোববার মায়ামিতে উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে কেপ ভার্দে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো ম্যাচের আগে ফিফার স্পন্সর হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একটি বিতর্কিত খনি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ান এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবাদী সংগঠন 'মাইটি আর্থ'-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে ‘নোংরা স্টিল সরবরাহ চেইনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। হুন্দাই মূলত দক্ষিণ আমেরিকার খনি কোম্পানি 'টার্নিয়াম' থেকে ইস্পাত তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ আকরিক লোহা কেনে। এই টার্নিয়াম কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি মেক্সিকোর দুজন মানবাধিকার কর্মীকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মেক্সিকোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের দাবিতে গুয়াদালাজারার প্লাজা দে লা লিবেরাসিওনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।   জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে টার্নিয়াম কোম্পানির গ্রামীণ এলাকা ধ্বংসের নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর গুয়াদালাজারা থেকে দুজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারা হলেন—বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী রিকার্ডো আরতুরো লাগুনেজ গাসকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আন্তোনিও দিয়াজ ভ্যালেন্সিয়া। খনি বিরোধী এক সভা থেকে ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশে গুলিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আন্দোলনকারীরা হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে 'স্পোর্টসওয়াশিং' বা খেলাধুলার আড়ালে অপরাধ ঢাকার অভিযোগ এনেছেন এবং টার্নিয়াম কোম্পানিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবি তুলেছেন।   হুন্দাই এবং কিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। তারা খেলোয়াড়, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি এবং ৫০০টিরও বেশি বাস সরবরাহ করেছে। বিশ্বকাপের মেক্সিকো অংশে এই বিক্ষোভ বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচের দিনও মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন।   অবশ্য টার্নিয়াম মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই গুমের ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা সবসময় আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে এই বিক্ষোভের বিষয়ে হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে জয়ের পর জার্মান শিবিরে উদ্বেগ, ক্যাম্পে বিষধর ‘কপারহেড’ সাপের উপস্থিতি

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করার পর জার্মান জাতীয় দলের শিবিরে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনার উইনস্টন-সালেমে অবস্থিত দলের বেস ক্যাম্পে বিষধর ‘কপারহেড’ সাপের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় খেলোয়াড়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।   জার্মান অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ক্যাম্পের ভেতরে একটি বিষাক্ত সাপ দেখা যাওয়ার পর থেকে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “গতকালই আমরা আমাদের ক্যাম্পের ভেতর একটি সাপ দেখতে পাই। পরে আমাদের জানানো হয় যে সেটি বেশ বিষাক্ত ছিল। এর কামড় খেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটতে হবে। এরপর থেকেই সবার মাঝে ভয় কাজ করছে।”   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যাম্পে দেখা পাওয়া সাপটি ছিল ‘কপারহেড’ প্রজাতির। এই বিষাক্ত সাপটি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঞ্চলে সাধারণত দেখা যায়। রাজ্যটিতে প্রায় ৩৭ প্রজাতির সাপের বসবাস রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।   কিমিখ আরও বলেন, এই পরিস্থিতি মাঠের প্রস্তুতির বাইরেও খেলোয়াড়দের বাড়তি সতর্কতায় রাখতে বাধ্য করছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপের মতো আসরে সাধারণত কৌশল, ইনজুরি আর পরবর্তী প্রতিপক্ষ নিয়েই খেলোয়াড়রা চিন্তা করে। কিন্তু এখানে মাঠের ঘাসে কী আছে, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।”   তিনি জানান, সাপটি বিষাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে পুরো দলই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়রা এখন মাঠে পা ফেলার আগে আশপাশ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।   জার্মানি তাদের পরবর্তী ম্যাচে আইভরি কোস্টের মুখোমুখি হবে। আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা মাঠের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নিজেদের ক্যাম্প নিরাপত্তা পরিস্থিতিও সামাল দেওয়ার চ্যালেঞ্জে থাকবে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক! আলজেরিয়ার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নিলেন মহাতারকা

ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায় যোগ করলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনার তিনটি গোলই এসেছে মেসির পা থেকে, আর তাতেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড, শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনের মালিক হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনও হ্যাটট্রিক করতে পারেননি তিনি। অবশেষে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমে সেই অপূর্ণতাও দূর করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। বিরতির পরও তার দুর্দান্ত ছন্দ অব্যাহত থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুটি গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ বারবার চেষ্টা করেও তাকে থামাতে পারেনি।   এই ম্যাচটি মেসির জন্য আরও একটি বিশেষ উপলক্ষ হয়ে এসেছে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নেমে তিনি আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি একটি বিরল অর্জন, যা তার দীর্ঘ ও সফল ক্যারিয়ারের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যাও আরও বাড়িয়েছেন মেসি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে শিরোপার স্বাদ দেওয়া এই তারকা ২০২৬ বিশ্বকাপেও একইভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ৩৮ বছর বয়সেও তার ফিটনেস, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা এবং গোল করার দক্ষতা ফুটবলবিশ্বকে মুগ্ধ করছে।   ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেসির এই কীর্তি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই এটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসে তার অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে উল্লেখ করছেন।   বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারের আসরেও শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে। আর প্রথম ম্যাচেই অধিনায়কের এমন ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স দলটির সমর্থকদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে বহু স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেওয়া মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, সময়ের সঙ্গে তার প্রতিভার দীপ্তি কমেনি; বরং নতুন নতুন অর্জনে আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে তার কিংবদন্তির গল্প।   তবে ম্যাচটি চলমান থাকায় চূড়ান্ত ফলাফল এবং পরিসংখ্যান ম্যাচ শেষে পরিবর্তিত হতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে | ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও ফিফার নতুন নিয়মে ফুটবল বিশ্বকাপ এখন এক অন্যরকম ডায়াসপোরা টুর্নামেন্ট

বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রায় এক শতাব্দীর ইতিহাসে অভিবাসন এবং ঔপনিবেশিক সম্পর্ক খেলোয়াড়দের জাতীয় পরিচয় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে লিভারপুলে জন্ম নেওয়া জর্জ মুরহাউস ইংল্যান্ডের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, যা ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের ভিন্ন দেশের হয়ে খেলার প্রথম ঘটনা। সেই আসরে মার্কিন দলে স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া আরও পাঁচজন ফুটবলার ছিলেন, যারা তৎকালীন নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন। বর্তমান ফুটবল বিশ্বকাপেও এই চিত্র আরও ব্যাপকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, যেখানে বহু খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় এক দেশে হলেও জন্ম ও বেড়ে ওঠা অন্য দেশে।   এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী মোট ১,২৪৮ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৯২ জনই নিজেদের প্রতিনিধিত্ব করা দেশের বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন। অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে মাত্র আটটি দল ছাড়া বাকি সব দলের স্কোয়াডেই অন্তত একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কুরাসাও, যাদের স্কোয়াডের একজন ছাড়া বাকি সব খেলোয়াড়ই নেদারল্যান্ডসে জন্মগ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে মরক্কো ও কাতারের মতো দলগুলো প্রকৃত অর্থেই বহুজাতিক রূপ ধারণ করেছে, যেখানে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে থাকা ১১ জন খেলোয়াড়ের সবাই দেশের বাইরে জন্মেছিলেন।   বিশ্ব ফুটবলে খেলোয়াড় সরবরাহের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে ফ্রান্স। চলতি বিশ্বকাপে মোট ৯৮ জন ফরাসি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে ৭৬ জনই ফ্রান্সের বাইরে অন্য দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে আলজেরিয়া, যাদের দলে সর্বোচ্চ ১৩ জন ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফুটবলার রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে হাইতি, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। সেনেগাল দলের ১০ জন খেলোয়াড় ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করলেও পারিবারিক শিকড়ের টানে তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের দেশের হয়ে মাঠে নামছেন।   ফিফার জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা নির্ধারণের নিয়মে বেশ কিছু ঐতিহাসিক পরিবর্তন এই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে। নাগরিকত্বের পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বাবা-মা বা দাদা-দাদির জন্মসূত্র অথবা সংশ্লিষ্ট দেশে ন্যূনতম পাঁচ বছর বসবাসের শর্ত প্রযোজ্য হয়। ২০০৪ সালের আগে বয়সভিত্তিক দলে খেললে অন্য দেশে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। তবে আলজেরিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির মুখে ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করে শর্তসাপেক্ষে ২১ বছর বয়সের আগে একবার জাতীয়তা পরিবর্তনের সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ এবং ২০২০ সালে এই নিয়ম আরও শিথিল করা হয়, যার ফলে দিয়েগো কস্তা বা ডেকলান রাইসের মতো তারকারা প্রীতি ম্যাচ খেলার পরও অন্য দেশের জাতীয় দলকে বেছে নিতে পেরেছেন।   খেলোয়াড়দের এই জটিল আন্তর্জাতিক স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্পেনে জন্ম নেওয়া মুনির আল হাদ্দাদির মামলাটি ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে। ২০১৪ সালে স্পেনের হয়ে মাত্র ১৩ মিনিট খেলার কারণে মরক্কোর হয়ে তার খেলার আবেদন প্রথমে বাতিল হলেও ২০২০ সালের নতুন নিয়মে তিনি খেলার অনুমতি পান। নতুন নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ২১ বছরের আগে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেললেও তিন বছর অপেক্ষা করে একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করা যাবে। তবে শুধুমাত্র খেলার উদ্দেশ্যে নাগরিকত্ব কেনা যাবে না, খেলোয়াড়কে দেশের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক প্রমাণ করতে হবে।   বর্তমান সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশন প্রবাসী বা দ্বৈত নাগরিকত্বধারী প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ স্কাউট নিয়োগ করছে। তারা ট্রান্সফার মার্কেটের মতো ডাটাবেস ব্যবহার, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, লিংকডইন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস অনুসন্ধান করছে। এমনকি জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ফুটবল ম্যানেজার’-এর ডেটা ব্যবহার করে চিলির ফুটবল ফেডারেশন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া বেন ব্রেরেটন দিয়াজের মায়ের চিলিয়ান নাগরিকত্বের তথ্য খুঁজে বের করে। জন্মভূমি ও পূর্বপুরুষের দেশের মধ্যকার এই টানাপোড়েনই আধুনিক বিশ্বকাপকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য বহুজাতিক মঞ্চে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে নেইমার-ভিনিসিয়ুসকে ‘এলিয়েন অপহরণ করবে’, ব্রাজিলীয় জ্যোতিষীর দাবি ঘিরে তোলপাড়

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অদ্ভুত ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রাজিলের এক আধ্যাত্মিক গুরু ও জ্যোতিষী দাবি করেছেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে ভিনগ্রহী প্রাণীদের আগমন ঘটতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে শত শত মানুষ নিখোঁজ হতে পারেন।   ব্রাজিলে ‘ভো বাহিয়ানা’ নামে পরিচিত এই নারী জ্যোতিষীর প্রকৃত নাম এলিসাঞ্জেলা দে সুজা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত জ্যোতিষশাস্ত্র, ট্যারোট পাঠ এবং আধ্যাত্মিক বিষয়ক ভিডিও প্রকাশ করেন। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, কয়েকবার একই ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন, যেখানে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ চলাকালে আকাশ থেকে বিশাল মহাকাশযান নেমে আসে।   তার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রথমে একটি ছোট মহাকাশযান মাঠের কিছু খেলোয়াড়কে তুলে নিয়ে যায়। এরপর আরও বড় একটি মহাকাশযান বা ‘মাদারশিপ’ এসে স্টেডিয়ামের আশপাশ থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, স্বপ্নে নিজেকেও সেই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে দেখেছেন।   ভো বাহিয়ানা আরও বলেন, তার দেখা দৃশ্যগুলোতে দুই ধরনের ভিনগ্রহী প্রাণী ছিল। একদলকে তিনি শান্ত ও উন্নত বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করেন। অন্যদিকে আরেক দলকে তিনি আক্রমণাত্মক ও সরীসৃপ-সদৃশ প্রাণী হিসেবে উল্লেখ করেন, যাদের আচরণ ছিল ভয়ঙ্কর ও উদ্বেগজনক। তার দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ২০২৬ সালের ২৪ অথবা ২৬ জুনের দিকে ঘটতে পারে। তিনি তার অনুসারীদের ওই সময় মায়ামির স্টেডিয়াম এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শও দিয়েছেন।   ভবিষ্যদ্বাণীতে ব্রাজিল জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের নামও উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো ফুটবলাররাও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারেন। পাশাপাশি স্কটল্যান্ড দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের কথাও উল্লেখ করেছেন। তবে বিজ্ঞানী, জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মতে, পৃথিবীতে ভিনগ্রহী প্রাণীর উপস্থিতি বা মানুষের অপহরণের মতো ঘটনার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে এ ধরনের দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থন করার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অস্বাভাবিক ও চমকপ্রদ দাবি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বপ্ন, কল্পনা বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার বর্ণনা বাস্তব ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে প্রচারিত হয়। কিন্তু সেগুলোকে যাচাইযোগ্য তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।   এদিকে এই ভবিষ্যদ্বাণী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক কল্পকাহিনি হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি হওয়া আরেকটি ভাইরাল আলোচনার বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছেন। অনেক ব্যবহারকারী হাস্যরসাত্মক মন্তব্য করে লিখেছেন, যদি সত্যিই ভিনগ্রহীরা পৃথিবীতে আসে, তবে তারা হয়তো ফুটবল ম্যাচ দেখতেই আসবে।   বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রতি আসরেই নানা গুজব, ভবিষ্যদ্বাণী ও আলোচনার জন্ম হয়। তবে মায়ামির একটি স্টেডিয়ামে এলিয়েন আগমন এবং গণ-অপহরণের এই দাবি এখন পর্যন্ত কেবল একটি ব্যক্তিগত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এর পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, সরকারি সতর্কতা বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসী শিকড়েই গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল, বিশ্বকাপের মঞ্চে আলোচনায় খেলোয়াড়দের পারিবারিক ইতিহাস

২০২৬ বিশ্বকাপের স্বাগতিক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই আসরে দারুণ সূচনা করেছে মার্কিন পুরুষ ফুটবল দল। উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে তারা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অন্য একটি কারণেও আলোচনায় রয়েছে দলটি। সেটি হলো খেলোয়াড়দের বহুজাতিক ও অভিবাসী পটভূমি।   মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দলে অন্তত ১২ জন খেলোয়াড়ের পারিবারিক শিকড় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। ছয়জন খেলোয়াড়ের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে, আর অর্ধেকেরও বেশি খেলোয়াড় দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী। আফ্রিকা, ইউরোপ, ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং লাতিন আমেরিকাসহ অন্তত আটটি দেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এই ফুটবলারদের।   এই বৈচিত্র্যময় পটভূমি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করছে এবং নাগরিকত্ব ও সীমান্ত নীতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন জাতীয় দলের অনেক খেলোয়াড়ের জীবনকাহিনি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।   দলের অন্যতম আলোচিত তারকা ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন এর অন্যতম উদাহরণ। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। বালোগুনের জন্ম ২০০১ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে। তার মা ছিলেন নাইজেরিয়ার নাগরিক এবং লন্ডনে বসবাস করতেন। গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে ফেরার চেষ্টা করলেও বিমান সংস্থার বিধিনিষেধের কারণে তিনি যাত্রা করতে পারেননি। ফলে বালোগুনের জন্ম হয় যুক্তরাষ্ট্রে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কারণে তিনি মার্কিন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পান। পরবর্তীতে সেই নাগরিকত্বই তাকে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ করে দেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বালোগুনের গল্প বর্তমান রাজনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়ম সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে সেই উদ্যোগ এখনো কার্যকর হয়নি। শুধু বালোগুনই নন, মার্কিন দলের আরও অনেক খেলোয়াড়ের পারিবারিক ইতিহাস অভিবাসনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।   উইঙ্গার টিম ওয়েহর বাবা জর্জ ওয়েহ আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়ার কিংবদন্তি ফুটবলার এবং দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট। তার মা জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত। টিম ওয়েহ যুক্তরাষ্ট্র, লাইবেরিয়া, ফ্রান্স ও জ্যামাইকা, চার দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেন। হাজি রাইটের বাবা ঘানার এবং মা লাইবেরিয়ার নাগরিক। বর্তমানে তিনি ইংল্যান্ডের ক্লাব ফুটবলে খেলছেন। অন্যদিকে রিকার্ডো পেপির জন্ম টেক্সাসে হলেও তার বাবা-মা মেক্সিকান। একইভাবে ক্রিস্টিয়ান রোলদানও মেক্সিকান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক।   মার্কিন দলের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচের পারিবারিক শিকড় ক্রোয়েশিয়ায়। তার দাদা ইউরোপ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেছিলেন। সেই সূত্রে পুলিসিচ ক্রোয়েশিয়ার পাসপোর্টও পেয়েছিলেন, যা অল্প বয়সে জার্মানিতে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করতে সহায়তা করে।   ওয়েস্টন ম্যাককেনির জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তার শৈশব কেটেছে জার্মানিতে। বিমান বাহিনীতে কর্মরত বাবার দায়িত্ব পালনের কারণে পরিবারের সঙ্গে তিনি ইউরোপে থাকতেন এবং সেখানেই ফুটবল শেখার সুযোগ পান। বর্তমান দলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড়দের সংখ্যাও কম নয়।   সেরজিনো ডেস্টের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। তার বাবা সুরিনামি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এবং মা ডাচ। অ্যান্টনি রবিনসনের জন্ম ইংল্যান্ডে। মালিক টিলম্যানের জন্ম জার্মানিতে। জিও রেইনা এবং সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের জন্মও ইংল্যান্ডে, কারণ তাদের বাবারা সে সময় সেখানে পেশাদার ফুটবল খেলতেন।   অন্যদিকে আলেহান্দ্রো জেন্দেখাসের জন্ম মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেজে। মাত্র কয়েক মাস বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন তিনি। পরে দুই দেশের নাগরিকত্বই ধরে রাখেন। বিশ্বকাপে শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, অনেক জাতীয় দলই এখন অভিবাসী ও প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এমন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যেখানে তাদের জন্ম হয়নি।   মরক্কোর ২৬ সদস্যের দলে ১৯ জন খেলোয়াড় বিদেশে জন্ম নিয়েছেন। তাদের অনেকেই ফ্রান্স বা স্পেনে বড় হয়েছেন। একইভাবে তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, কুরাসাও, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, কঙ্গো এবং কাতারের জাতীয় দলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় রয়েছেন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বায়ন, অভিবাসন এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ আধুনিক ফুটবলের চিত্র বদলে দিয়েছে। অনেক খেলোয়াড় এখন জন্মভূমি নয়, বরং পারিবারিক শিকড় বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে জাতীয় দল বেছে নিচ্ছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির প্রভাব এবারের বিশ্বকাপেও দেখা গেছে। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাননি। ইরাক দলের কয়েকজন সদস্যকেও দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ভিসা জটিলতার কারণে ইরান জাতীয় দলও তাদের বিশ্বকাপ কার্যক্রমের একটি অংশ মেক্সিকোতে পরিচালনা করছে।   এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের গল্প শুধু ফুটবলের গল্প নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের অভিবাসন, পরিচয় এবং নাগরিকত্বের পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো | ছবি: সংগৃহীত
কানাডার ম্যাচ রেখে প্রেমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখায় সমালোচনায় জাস্টিন ট্রুডো

কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো নিজ দেশের প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দেখতে যাওয়ায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মূলত সেখানে প্রেমিকা ও জনপ্রিয় পপ তারকা কেটি পেরির লাইভ পারফরম্যান্স উপভোগ করতে এবং তাঁর প্রতি সমর্থন জানাতেই ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে হাজির হন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এমন আচরণে কানাডিয়ান নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।   গত রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে ট্রুডো লেখেন, কখনো কখনো সাপোর্টিভ বয়ফ্রেন্ড বা সহায়ক প্রেমিকের দায়িত্বও তো পালন করতে হয়। তবে আপনারা সবাই ভালো করেই জানেন যে, বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের জন্য আমি আসলে কোন দলকে সমর্থন করছি। নিজের লেখার শেষ অংশে তিনি কানাডার জাতীয় পতাকার একটি ইমোজিও যুক্ত করে দেন।   একই দিনে টরন্টো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় একই সময়ে দুটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ট্রুডো টরন্টোতে অনুষ্ঠিত কানাডা বনাম বসনিয়ার ম্যাচটি বর্জন করে লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের ম্যাচটি উপভোগ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সেই ভেন্যুতে কেটি পেরি মঞ্চে পারফর্ম করার পর দৌড়ে এসে ট্রুডোকে চুমু খেয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।   পরবর্তীতে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে দুজনকে একসাথে বিয়ার খেতে, আলিঙ্গন করতে এবং প্রেমে মগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। তাদের এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে কানাডিয়ানদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দেশের ফুটবলপ্রেমী অনেক নাগরিক ট্রুডোর এই সিদ্ধান্তকে দেশের মুখে চড় মারার শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকে তাঁকে 'প্রতারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   টরন্টোর সেই উদ্বোধনী ম্যাচে কানাডা ফুটবল দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ে। অন্যদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের ম্যাচে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র দল প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুভসূচনা করে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেটি পেরি তাঁর ২০২৪ সালের অ্যালবাম থেকে তুলনামূলক কম পরিচিত 'ওয়ান্ডার' গানটি পরিবেশন করেন।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ও কেটি পেরির প্রেমের সম্পর্কটি গত বছরের জুলাই মাস থেকে ব্যাপক আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করার মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, ট্রুডোর আগের স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ারের সঙ্গে দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে ২০২৩ সালে, যেখানে তাঁদের তিন সন্তান রয়েছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
তোপের মুখে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিন। ছবি: সংগৃহীত
উয়েফা সভাপতির মন্তব্যে ক্ষোভ, পাল্টা বিবৃতি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৩ দেশের

বিশ্বকাপে কিছু ম্যাচ একপেশে হতে পারে—উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফারিনের এমন মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশ। তারা যৌথ বিবৃতিতে সেফারিনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বিশ্বকাপের সব ম্যাচের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে।   সম্প্রতি বিদেশি একটি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেফারিন বলেন, বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ একপেশে হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়।   এর জবাবে গতকাল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৩টি দেশ এক যৌথ বিবৃতি দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের দেশগুলোর জন্য বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন নয়। এই ম্যাচগুলোকে কোনোভাবেই কম গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করা অত্যন্ত হতাশাজনক।”   বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব, ফুটবল প্রশাসক এবং সমর্থকেরা এই প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলা হয়।   প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কেপ ভার্দে, কুরাসাও ও উজবেকিস্তানসহ ১৩টি দেশ এই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করে। তারা জানায়, প্রত্যেক দল নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে এবং প্রতিটি সমর্থকের স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে সব ম্যাচের গুরুত্ব রয়েছে। তাই আমরা উয়েফা সভাপতির মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি।” বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ডিআর কঙ্গো, হাইতি, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, মিসর, ঘানা, সেনেগাল, আইভরি কোস্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা।   সবশেষ কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দল অংশ নিলেও এবার প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করা এই আসরে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৬টি স্টেডিয়ামে। ১১ জুন শুরু হওয়া এই বিশ্বকাপ শেষ হবে ১৯ জুলাই। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে।

শাহারিয়া নয়ন জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দের বিপক্ষে খেলছেন লামিন ইয়ামাল, নিশ্চিত করলেন স্পেন কোচ

স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এইচ’-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার এই উদীয়মান ফুটবলার।   ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে জানান, ইয়ামাল পুরোপুরি সুস্থ আছেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি পুরো ৯০ মিনিট খেলবেন কি না, সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ইয়ামাল ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট সময় মাঠে থাকবেন এবং দলের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তাকে ব্যবহার করা হবে।   শুধু ইয়ামালই নন, স্পেন শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছে নিকো উইলিয়ামসের সুস্থতাও। তিনিও ম্যাচের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ফলে টুর্নামেন্টের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার আগে বড় দুই তারকাকে পাওয়া স্পেনের জন্য ইতিবাচক খবর।   সংবাদ সম্মেলনে নিজের দল নিয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেখা গেছে স্পেন কোচকে। বিশেষ করে মিডফিল্ড বিভাগ নিয়ে তার মন্তব্য আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দে লা ফুয়েন্তে দাবি করেন, বর্তমান সময়ে বিশ্বের সেরা মিডফিল্ড স্পেনেরই।   তিনি বলেন, তাদের দলে ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলার রয়েছে, পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্দি, ফাবিয়ান রুইজ, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন। এত বেশি মানসম্পন্ন খেলোয়াড় থাকায় একাদশ নির্বাচনই কখনও কখনও সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়ায়। একজনকে খেলাতে গেলে আরেকজন ভালো খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রাখতে হয়, যা কোচ হিসেবে তার জন্য সুখকর সমস্যার মতো।   তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ দেখছেন না স্পেন কোচ। বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চায়। দলের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু প্রতিটি প্রতিপক্ষই কঠিন। তাই শুরু থেকেই সর্বোচ্চ মনোযোগ ধরে রাখতে হবে। নিজেদের অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ভাবার কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দেকে নিয়েও বেশ সতর্ক স্পেন কোচ। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকলেও আফ্রিকার এই দলটিকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না তিনি। দে লা ফুয়েন্তের মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অপ্রত্যাশিত ফল দেখা গেছে। তাই র‌্যাঙ্কিং কিংবা কাগজে-কলমের হিসাব দিয়ে কোনো ম্যাচ বিচার করার সুযোগ নেই। তিনি কেপ ভার্দেকে একটি সুসংগঠিত ও দ্রুতগতির দল হিসেবে বর্ণনা করেন এবং স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা ইতোমধ্যেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ক্যামেরুনকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করেছে।   স্পেন কোচের বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম চমকপ্রদ দল হতে পারে কেপ ভার্দে। সে কারণেই উদ্বোধনী ম্যাচে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামছে স্পেন। ইউরোপীয় ফুটবলের ঐতিহ্য, অভিজ্ঞতা এবং প্রতিভাবান তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে। আর সেই অভিযানের শুরুতেই লামিন ইয়ামালের মাঠে নামার বিষয়টি স্প্যানিশ সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে খেলা শেষে গ্যালারি পরিষ্কার করে ভাইরাল জাপানের সমর্থকেরা

বিশ্বকাপের মাঠে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে। তবে খেলা শেষ হওয়ার পর ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে জাপানি সমর্থকদের একটি পরিচিত ও প্রশংসিত অভ্যাস। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে পড়ে থাকা আবর্জনা নিজেরাই পরিষ্কার করতে দেখা গেছে তাদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দৃশ্য আবারও বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের আরলিংটনে অবস্থিত ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচ শেষে জাপানের সমর্থকদের হাতে দেখা যায় বড় বড় ময়লার ব্যাগ। তারা গ্যালারির বিভিন্ন অংশে ঘুরে প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের মোড়ক এবং অন্যান্য বর্জ্য সংগ্রহ করেন। অনেকেই নিজেদের আসনের আশপাশের পাশাপাশি অন্য দর্শকদের ফেলে যাওয়া আবর্জনাও তুলে নেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ কাভারেজে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এনএফএল তারকা এবং বর্তমানে সম্প্রচারক জেমিস উইনস্টনকেও কয়েকজন জাপানি সমর্থকের সঙ্গে আবর্জনা সংগ্রহে অংশ নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো দ্রুতই ব্যাপক সাড়া ফেলে।   জাপানের জাতীয় ফুটবল দল ‘সামুরাই ব্লু’-এর সমর্থকদের এই অভ্যাস নতুন নয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছিলেন তারা। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরেও একই আচরণ দেখা গেছে। এবারের বিশ্বকাপেও সেই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখেছেন জাপানি দর্শকেরা।   জাপানের সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি ও ইতিহাসের অধ্যাপক কোইচি নাকানো বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের এই আচরণ তাদের সামাজিক ও শিক্ষাগত সংস্কৃতিরই প্রতিফলন। ছোটবেলা থেকেই তারা শিখে যে কোনো স্থান ব্যবহার করার পর সেটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রেখে যেতে হবে।   ফক্স স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে জাপানি একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদও উল্লেখ করা হয়েছে। “তাতসু তোরি আতো ও নিগোসাজু” নামে পরিচিত এই কথাটির অর্থ হলো, “যেভাবে পেয়েছিলে, সেভাবেই রেখে যাও।” জাপানে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শিক্ষার্থীদের নিজেদের শ্রেণিকক্ষ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার করার দায়িত্ব পালন করতে শেখানো হয়। অনেকেই মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে জাপানি সমর্থকদের আচরণের পেছনে এই সামাজিক শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে।   অন্যদিকে মাঠের খেলাটিও ছিল দারুণ উপভোগ্য। প্রথমার্ধে কোনো দল গোল করতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে জমে ওঠে ম্যাচ। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ভার্জিল ফন ডাইক ও ক্রিসেনসিও সামারভিল দুটি গোল করেন। তবে প্রতিবারই জবাব দেয় জাপান। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে দাইচি কামাদার হেড থেকে পাওয়া গোলে ২-২ সমতা ফেরায় ‘সামুরাই ব্লু’।   শেষ পর্যন্ত উভয় দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তবে ম্যাচের পর গ্যালারি পরিষ্কার করার দৃশ্য অনেকের কাছেই খেলাটির সবচেয়ে ইতিবাচক মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।   বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সাধারণত সমর্থকদের আবেগ, উল্লাস এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি আলোচিত হয়। কিন্তু জাপানি সমর্থকদের এই উদ্যোগ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, ক্রীড়াসুলভ আচরণ শুধু মাঠের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরেও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য ব্যবহারকারী তাদের এই উদ্যোগকে অন্য দেশের সমর্থকদের জন্যও অনুকরণীয় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকদের নিষিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ

ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় ১৩ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। মূলত সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া, আদালতের নির্দেশ অমান্য করা এবং বিভিন্ন আইনি জটিলতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।   বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করছে। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল প্রথম ম্যাচ খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। এরপর তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। মাঠের লড়াইয়ে শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি মাঠের বাইরে সমর্থকদের আচরণ ও নিরাপত্তা নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে বুয়েনস আইরেস।   স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্জেন্টাইন কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কয়েক হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে। তালিকাভুক্তদের বড় একটি অংশের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সহিংসতা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   আর্জেন্টিনা সরকারের অবস্থান হলো, যারা নিজেদের সন্তানদের মৌলিক আর্থিক দায়িত্ব পালন করেন না, তারা দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলের খেলা দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে অংশ নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারান। বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি এ বিষয়ে বলেন, “যদি কেউ নিজের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে না পারে, তাহলে তার কোনো স্টেডিয়ামে প্রবেশের অধিকার থাকা উচিত নয়।”   এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে আর্জেন্টিনা। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য হলো আদালতে প্রমাণিত অপরাধী, ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তি এবং ক্রীড়া ভেন্যুতে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে স্টেডিয়ামে প্রবেশে বাধা দেওয়া।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পর থেকে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ফুটবল ম্যাচে দর্শকদের পরিচয় যাচাইয়ের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩২৮টি ম্যাচে ৪০ লাখের বেশি দর্শকের তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। এই সময়ে ১ হাজার ১৬৬ জনের বিরুদ্ধে বিদ্যমান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা শনাক্ত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশি ব্যক্তির একটি বিস্তৃত তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ সীমিত বা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। আর্জেন্টিনার স্টেডিয়ামে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে সহিংসতা বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো জায়গা নেই।”   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রীড়া ভেন্যুগুলোকে আরও নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশে রূপান্তর করতে বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন নীতি গ্রহণ করছে। আর্জেন্টিনার এই পদক্ষেপও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। বিশেষ করে ফুটবলকে ঘিরে সহিংসতা, দর্শক বিশৃঙ্খলা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নে দেশটির সরকার ক্রমেই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে।   বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয়ের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছে আর্জেন্টিনা। ফলে এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, ইতিহাস গড়ার সামনে আর্জেন্টাইন মহাতারকা

গত ১১ জুন পর্দা উঠেছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসরের। বিশ্বমঞ্চের এই মহাযজ্ঞ শুরু হলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এখনও মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী বুধবার সকালে ‘জে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিতে মাঠে নামার সঙ্গেই সঙ্গেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়বেন লিওনেল মেসি। মাঠে নামার আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ২০০৬ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছয়টি আসরের ছবি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করে মেসি ক্যাপশনে লিখেছেন—‘২০০৬⚽২০২৬’।    ২০ বছর আগের জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রার শেষটা যেন একই ফ্রেমে বেঁধেছেন তিনি। মেসির পাশাপাশি চলতি আসরে পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর গুইলার্মো ওচোয়ার সামনেও ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ রয়েছে।   ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ছোঁয়ার পাশাপাশি এবার মেসির সামনে রয়েছে বেশ কিছু মহাকাব্যিক মাইলফলক ভাঙার সুযোগ। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া। বর্তমানে ১৬ গোল নিয়ে এই রেকর্ডের শীর্ষে আছেন জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসা। এরপর আছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিও (১৫ গোল) এবং জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। লিওনেল মেসি বর্তমানে ১৩টি গোল নিয়ে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে আছেন। তবে এই রেকর্ড ভাঙার দৌড়ে মেসির একমাত্র প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, যিনি মাত্র ২৭ বছর বয়সে নিজের তৃতীয় বিশ্বকাপে নেমেই মেসির সমান ১৩টি গোল নিয়ে অপেক্ষায় আছেন।   গোলের পাশাপাশি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট বা গোল করানোর রেকর্ডও নিজের করে নিতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তিনি ৮টি গোলে সরাসরি সহায়তা করেছেন। ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে। পেলেকে ছুঁতে মেসির প্রয়োজন আর মাত্র ২টি এবং এককভাবে শীর্ষে উঠতে প্রয়োজন ৩টি অ্যাসিস্ট। শুধু তাই নয়, আর্জেন্টিনা যদি এবারও ফাইনালে উঠতে পারে, তবে পেলে, কাফু, রোনালদো নাজারিও এবং জার্মানির লোথার ম্যাথাউস ও পিয়েরে লিটবারস্কির পর ইতিহাসের ষষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার রেকর্ড স্পর্শ করবেন মেসি।   ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার এবং রেকর্ড ২৩০০ মিনিট মাঠে থাকার কীর্তি মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৬ সালের এই নতুন ফরম্যাটে একটি দলের সর্বোচ্চ ৮টি ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকায়, মেসি যদি তার ম্যাচ এবং মিনিটের এই সংখ্যাকে আরও অনেক উঁচুতে নিয়ে যান, তবে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক অলক্ষ্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।

বায়জিদ হাসান জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ এলেই কেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা জ্বরে কাঁপে বাংলাদেশ, কখনো কখনো কেন তৈরি হয় সংঘাত?

বিশ্বকাপ ফুটবলের পর্দা উঠতেই আবারও রঙিন হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চল। বাড়ির ছাদ, অলিগলি, বাজার, সড়কের মোড় কিংবা খেলার মাঠ, সর্বত্রই চোখে পড়ছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। যদিও এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের কোনো অংশগ্রহণ নেই, তবুও ফুটবল উন্মাদনায় বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম এবং বিশেষ করে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে বিশ্বকাপ শুরু হলেই ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আবেগের অংশ হয়ে ওঠে।   রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে দেখা গেছে বিশাল আকারের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পতাকা। কোথাও কোথাও তৈরি করা হয়েছে ফুটবল তারকাদের বিশাল কাটআউট। বাজারে বেড়েছে বিভিন্ন দেশের জার্সির চাহিদাও। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক Lionel Messi এবং ব্রাজিলের তারকা Neymar-এর জার্সি কিনতে ভিড় করছেন সমর্থকেরা।   বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক সম্পর্ক না থাকলেও কয়েক প্রজন্ম ধরে এই দুই দেশের ফুটবল দলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অসাধারণ এক আবেগ। বিশ্বকাপের সময় বন্ধু, প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়দের মধ্যেও দেখা যায় মজার প্রতিদ্বন্দ্বিতা। তবে কখনো কখনো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি করে।   সম্প্রতি হবিগঞ্জে স্থানীয় একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার খবর আলোচনায় আসে। আবার শরীয়তপুরে কিছু তরুণ ঘোষণা দিয়েছেন, ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে না পারা ব্রাজিল শিরোপা না জেতা পর্যন্ত তারা বিয়ে করবেন না। এসব ঘটনা বাংলাদেশের ফুটবল আবেগের ব্যতিক্রমী দিকগুলোই তুলে ধরে।   তবে শুধু ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা নয়, মাঝে মাঝে অন্য দেশগুলোকেও ঘিরে তৈরি হয় আগ্রহ। সম্প্রতি এক প্রবীণ ফুটবলপ্রেমী নিজের জমির একটি অংশ বিক্রি করে প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় আসেন। তার আশা, একদিন এই বিশাল পতাকা জার্মানির কোনো জাদুঘরে স্থান পাবে।   এবারের বিশ্বকাপে ২৮ বছর পর জায়গা করে নেওয়া নরওয়েও বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশিদের তাদের দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দেয়। সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর নরওয়ের দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।   বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশদের হাত ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ফুটবলের আগমন ঘটে। পরে পূর্ব পাকিস্তান আমলে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক পরিবর্তনের সময় তরুণদের কাছে ফুটবল হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার উৎস।   ষাট ও সত্তরের দশকে ব্রাজিলের কিংবদন্তি Pelé বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার সাফল্য এবং ব্রাজিলের আধিপত্য অনেককে ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট করে। পরবর্তী সময়ে টেলিভিশনের প্রসার ঘটার পর আশির দশকে বিশ্বকাপ আরও বেশি মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়।   বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই আসরে আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি Diego Maradona-র নৈপুণ্য ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স অসংখ্য দর্শকের হৃদয় জয় করে। অনেকের কাছে সেটি ছিল কেবল ফুটবল নয়, বরং ইতিহাস ও আবেগের এক প্রতীকী মুহূর্ত।   ম্যারাডোনার অবসরের পর নতুন প্রজন্মের কাছে সেই আবেগের জায়গা দখল করেন লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রিয় মুখ নেইমার। ফলে বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের একটি বড় অংশ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা বিশ্বকাপ এলেই আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   তবে এই আবেগ কখনো কখনো বিপজ্জনক রূপও নিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা ও সংবাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ চলাকালে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগে ২০১৪ সালে পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েকজনের মৃত্যু ঘটে। ২০১৮ সালেও ব্রাজিলের পতাকা লাগাতে গিয়ে এক কিশোর প্রাণ হারায়।   বিশ্লেষকদের মতে, ফুটবল মানুষের আনন্দ, পরিচয় ও আবেগের জায়গা হলেও সেটি যেন সুস্থ প্রতিযোগিতা ও উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের একসঙ্গে খেলা উপভোগ করার মধ্যেই নিহিত।   এবারের বিশ্বকাপ ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। আর সেই সঙ্গে বাংলাদেশের রাস্তাঘাট, ছাদ ও আড্ডায়ও চলবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা বিতর্ক, যা বিশ্বকাপের এক অনন্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে বহু বছর ধরেই।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভিনিসিউসের ঝলকে হার এড়াল ব্রাজিল, মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলের ড্র

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের বহুল প্রতীক্ষিত লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় কোনোটিই দেখেনি ফুটবলপ্রেমীরা। মরক্কোর বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ায় ব্রাজিল, তবে ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো দলই ব্যবধান গড়তে না পারায় ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি।   ম্যাচের শুরুটা ছিল মরক্কোর দখলে। আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে তারা প্রথম থেকেই ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে দেখা যায় কিছুটা অগোছালো ছন্দে। প্রথম কয়েক মিনিটে খেলার বেশিরভাগ সময়ই বল ছিল ব্রাজিলের অর্ধে।   ষষ্ঠ মিনিটেই প্রথম সুযোগ তৈরি করে মরক্কো। নাইল এল আইনাউইয়ের শট শেষ মুহূর্তে বাধা দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গাব্রিয়েল। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ব্রাজিল। ১২তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পান ইগোর থিয়াগো। তবে ভিনিসিউস জুনিয়রের দারুণ ক্রস থেকে পাওয়া হেডটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি।   সুযোগ নষ্টের মাশুল গুনতে হয় ব্রাজিলকে। ম্যাচের ২১তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মরক্কো। মাঝমাঠ থেকে ব্রাহিম দিয়াসের চমৎকার থ্রু বল ধরে দৌড়ে যান ইসমায়েল সাইবারি। গোলরক্ষক আলিসন ডি-বক্সের বাইরে চলে আসার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিখুঁত চিপ শটে বল জালে পাঠান পিএসভি আইন্দহোভেনের এই ফরোয়ার্ড।   বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই গোলের দেখা পান ২৫ বছর বয়সী সাইবারি। তার গোলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও অনেকটা নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মরক্কো। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকতে হয়নি ব্রাজিলকে। ৩২তম মিনিটে জাতীয় দলের হয়ে নিজের ৫০তম ম্যাচ খেলতে নামা ভিনিসিউস জুনিয়র অসাধারণ এক ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সমতায় ফেরান দলকে। ব্রুনো গিমারেসের পাস ধরে ডি-বক্সে ঢুকে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে জোরালো শটে গোল করেন রেয়াল মাদ্রিদ তারকা।   জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল ভিনিসিউসের দশম গোল এবং বিশ্বকাপ মঞ্চে দ্বিতীয়। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাওয়া এই গোল ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার দুর্দান্ত ভলি শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনো। প্রথমার্ধে গোলের জন্য নেওয়া শটের সংখ্যায় স্পষ্ট এগিয়ে ছিল মরক্কো। তারা ১২টি শট নেয়, যেখানে ব্রাজিলের শট ছিল ছয়টি। তবে উভয় দলই লক্ষ্যে রাখতে পারে দুটি করে শট।   বিরতির পর ম্যাচের চিত্র বদলানোর প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে দুই দলই অনেক বেশি সতর্ক ফুটবল খেলে। ফলে খেলার গতি কমে যায় এবং আক্রমণভাগে ধারও দেখা যায়নি তেমন। দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বেশি আক্রমণ করলেও পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বারবার ভুল পাস ও শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তহীনতায় নষ্ট হয়েছে সম্ভাবনাময় আক্রমণ।   ৭৯তম মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি পান রাফিনিয়া। ভিনিসিউসের পাস থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়েও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি বার্সেলোনা তারকা। তার দুর্বল শট সহজেই সামলে নেন বোনো। কিছুক্ষণ পর মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপের ভুল ব্যাকপাস থেকে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হলেও দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেন বোনো।   যোগ করা সময়ের শেষদিকে নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হয় ব্রাজিলের বক্সে। প্রতিপক্ষের একটি শট প্রথমে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি আলিসন। ফিরতি বলে শট নেন আইনাউই। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আবারও বল আটকে দিয়ে সম্ভাব্য বিপদ থেকে দলকে রক্ষা করেন লিভারপুলের এই গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও হার এড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি পাবে ব্রাজিল। অন্যদিকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে মরক্কো।   পরিসংখ্যানের একটি দিকও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ম্যাচের দুই গোলদাতা ইসমায়েল সাইবারি ও ভিনিসিউস জুনিয়র জাতীয় দলের হয়ে যেসব ম্যাচে গোল করেছেন, সেসব ম্যাচে তাদের দল কখনও হারেনি। নিউ জার্সির এই ম্যাচেও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকল। গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী শনিবার হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। একই দিনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো। দুই দলের জন্যই পরের ম্যাচগুলো গ্রুপের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
মরক্কো ফুটবল দল | ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের সাথে খেলার আগেই মরক্কো দলে বড় ধাক্কা, চোটের কারণে ২ খেলোয়াড় বাদ

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো ফুটবল দল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ইনজুরি বা চোট দল গঠনে বড় প্রভাব ফেলে। আর সেই ইনজুরির কারণেই এবার মরক্কোর মূল দল থেকে ছিটকে গেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা খেলোয়াড়। যার ফলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলে দুটি বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে মরক্কোকে।   জানা গেছে, সম্প্রতি নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলা একটি প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েন রিয়াল বেটিসের তারকা ফরোয়ার্ড আবদে এজালজুলি। তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের তরুণ ফুটবলার আমিনে সাবাই।   অন্যদিকে, উরুর অস্ত্রোপচারের কারণে গত মার্চ মাসের পর থেকে আর কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বা মাঠে নামতে পারেননি মার্সেইর অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক নায়েফ অগার্ড। দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে নিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোনো ধরনের বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। যে কারণে মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই অগার্ডের পরিবর্তে দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে মারওয়ানে সাদানেকে।   দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।   পিএসজি তারকা হাকিমি তার ব্যক্তিগত পোস্টে লিখেছেন, ফুটবল খেলাটা অনেক সময় সত্যিই ভীষণ নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তোমরা এই দলটিকে যা দিয়েছো, তার জন্য তোমাদের দুজনকে অনেক ধন্যবাদ। মাঠে আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করব এবং জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করব। আমরা তোমাদের দুজনকে অনেক ভালোবাসি।   উল্লেখ্য, আগামী রোববার (১৪ জুন) ভোররাত চারটায় গ্রুপ-সি’র প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ব্রাজিল। ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কো এই নতুন দল নিয়ে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
টিজুয়ানা স্টেডিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।   ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের, প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন বালোগুন

লস অ্যাঞ্জেলেস: ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল দুর্দান্ত এক জয়ে। ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের জোড়া গোলে ভর করে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর দল।   এই জয়ের মাধ্যমে শুধু তিন পয়েন্টই অর্জন করেনি যুক্তরাষ্ট্র, বিশ্বকাপ ইতিহাসেও একটি বিশেষ রেকর্ডের অংশ হয়ে গেছে দলটি। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ে ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর এটিই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি।   ম্যাচের নায়ক ছিলেন ২৪ বছর বয়সী ফোলারিন বালোগুন। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করা মাত্র দ্বিতীয় মার্কিন ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের বিপক্ষেই বার্ট প্যাটেনডিউড এক ম্যাচে তিন গোল করেছিলেন।   প্রায় ৭০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে জমজমাট পরিবেশে ম্যাচ শুরু হওয়ার পর প্রথম গোল পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে হয় মাত্র সাত মিনিট। আক্রমণের সূচনা করেন দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। দুই ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে তিনি বল বাড়িয়ে দেন ওয়েস্টন ম্যাককেনির কাছে। ম্যাককেনির কাটব্যাক ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া। আত্মঘাতী সেই গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।   প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি আক্রমণ চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ২৮ মিনিটে বালোগুনের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও মাত্র তিন মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। পুলিসিচের নিখুঁত পাস থেকে শক্তিশালী শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মোনাকো তারকা।   এরপর ৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন বালোগুন। মালিক টিলম্যানের বাড়ানো বল ধরে ডিফেন্ডার ওমার আলদেরেতেকে পেছনে ফেলে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে পরাস্ত করে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান তিনি।   প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে ৬৫ মিনিটে একটি গোল শোধ দেয় প্যারাগুয়ে। সাবেক ব্রাইটন ফরোয়ার্ড হুলিও এনসিসোর পাস থেকে ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত মিডফিল্ডার মাউরিসিও গোল করে ব্যবধান কমান।   তবে প্যারাগুয়ের সেই প্রত্যাবর্তনের আশা বেশিক্ষণ টেকেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় জিওভানি রেইনা অসাধারণ এক গোল করে যুক্তরাষ্ট্রের জয়কে আরও উজ্জ্বল করে তোলেন। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে নেওয়া তার বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ম্যাচের শেষ কিকেই আসে দর্শনীয় এই গোল।   বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগীতশিল্পী ক্যাটি পেরিসহ বেশ কয়েকজন আন্তর্জাতিক তারকা অংশ নেন। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ডেভিড বেকহ্যাম ও হলিউড তারকা টম ক্রুজও।   তবে মাঠের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বালোগুন। নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া এই ফরোয়ার্ড ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান এবং আর্সেনালের একাডেমিতে বেড়ে ওঠেন। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেললেও ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।   আর্সেনালে সুযোগ সীমিত থাকায় মিডলসব্রো ও পরে ফ্রান্সের রেইমসে ধারে খেলতে যান বালোগুন। রেইমসের হয়ে ২০২২-২৩ মৌসুমে ২১ গোল করে আলোচনায় আসেন এবং পরে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে ফরাসি ক্লাব মোনাকোতে যোগ দেন।   সাম্প্রতিক মৌসুমেও দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ২০২৫-২৬ মৌসুমে মোনাকোর হয়ে ১৩ লিগ ম্যাচে ৯ গোল করেছেন। সেই ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপের মঞ্চেও ধরে রাখলেন এই ফরোয়ার্ড।   ম্যাচ শেষে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, বালোগুনের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ যদি একই ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে এবারের বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারে যুক্তরাষ্ট্র।   বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে এমন আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স স্বাগতিকদের জন্য বড় প্রাপ্তি। ১৯৯৪ সালের পর আবারও নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র। আয়োজক দেশ হিসেবে ভালো ফল করার চাপ থাকলেও প্রথম পরীক্ষায় সফলভাবেই উত্তীর্ণ হয়েছে পোচেত্তিনোর দল।   এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। আগামী ১৯ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে একই দিনে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে মাঠে নামবে প্যারাগুয়ে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে।   পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন।   ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।   এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।   তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব

ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যুর পর বাবারও মরদেহ উদ্ধার , একসঙ্গে দাফন করা হবে বাবা-মেয়েকে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০ 0