- প্রচ্ছদ
- Topic
বিশ্বকাপ
ফিফার বিশ্বকাপসহ প্রধান আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে ফিফার সব ধরনের প্রতিযোগিতা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা এবং এর ৫৫টি সদস্যদেশ। ফলে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জরুরি বৈঠক শেষে উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের ৫৫টি সদস্যদেশ সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ফিফা যদি বিশ্বকাপ ও অন্যান্য প্রতিযোগিতার মালিকানার অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়, তাহলে উয়েফাভুক্ত কোনো জাতীয় দল ফিফার প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। সংস্থাটির ভাষ্য, বিশ্বকাপ ফুটবলের ঐতিহ্য ও বৈশ্বিক সম্পদ, এটি কোনো বিনিয়োগ পণ্য নয় এবং এর মালিকানা বিক্রির জন্য নয়। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফিফার প্রস্তাবিত নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই)’। ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যায়নের এই প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু অংশ দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা হবে। এই উদ্যোগ থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্বজুড়ে সদস্যদেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে বলে দাবি করেছে ফিফা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্যদেশগুলোকে পাঠানো প্রস্তাবে বলেছেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে ২০২৭-২০৩০ মেয়াদে প্রতিটি সদস্যদেশের জন্য ‘ফিফা ফরওয়ার্ড’ কর্মসূচির অনুদান ৮০ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে ২ কোটি ডলারে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ফিফার দাবি, এই বিনিয়োগের ফলে বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং প্রতিষ্ঠানটির ওপর খেলাধুলাবিষয়ক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে ফিফার হাতেই থাকবে। তবে উয়েফা এই প্রস্তাবকে কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা যথাযথ আলোচনা বা অংশীজনদের মতামত ছাড়াই অনুমোদনের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের মতে, জাতীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর সামনে এক ধরনের বিকল্পহীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে পরিকল্পনায় সম্মতি না দিলে আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উয়েফা আরও বলেছে, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এমন বিনিয়োগকারীদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়, যাদের প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো খেলাধুলার স্বার্থের পরিবর্তে বাণিজ্যিক লাভের বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ৫৫টি সদস্যদেশ যদি সত্যিই ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জন করে, তবে বিশ্বকাপের ক্রীড়ামূল্য ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। কারণ বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় অনেক দলই উয়েফার সদস্য। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপগুলোর নকআউট পর্বেও ইউরোপীয় দলগুলোর আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটে আগামী সেপ্টেম্বরে এই প্রস্তাবের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনের পাশাপাশি ফিফা কাউন্সিলের অনুমোদনও প্রয়োজন। ফলে ইউরোপের পাশাপাশি অন্যান্য মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর অবস্থানও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে কনকাকাফও প্রস্তাবটির প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যদিও তারা এখনও বয়কটের ঘোষণা দেয়নি।
২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির উত্তরসূরি থিয়াগো? আর্জেন্টাইনদের নতুন স্বপ্নের কেন্দ্রে জ্যেষ্ঠ পুত্র। লিওনেল মেসির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষের পথে—এমন আলোচনা যতই জোরালো হোক, আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কল্পনায় নতুন এক স্বপ্ন জায়গা করে নিচ্ছে। সেই স্বপ্নের নাম থিয়াগো মেসি। বাবার পথ অনুসরণ করে একদিন আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামতে পারে মেসির জ্যেষ্ঠ ছেলে—এমন সম্ভাবনাকে ঘিরেই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে ভক্তদের মধ্যে। বর্তমানে ১৩ বছর বয়সী থিয়াগো মেসি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে নিয়মিত অনুশীলন করছে। ইতোমধ্যে অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে তার অগ্রগতি নজর কাড়ায় অনেক সমর্থকই ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তাকে দেখার আশা করছেন। নেটমাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো বিভিন্ন আলোচনায় বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের সময় থিয়াগোর বয়স হবে প্রায় ১৮ বছর। সে সময়ের মধ্যে যদি তার ফুটবলীয় উন্নতি প্রত্যাশিত গতিতে এগোয় এবং পেশাদার পর্যায়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তাহলে আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে সেটি এখনই নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই; সবকিছুই নির্ভর করবে তার পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ওপর। থিয়াগোর সামনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ও রয়েছে। জন্মসূত্রে স্পেনের হয়ে খেলার সুযোগ থাকলেও, বিভিন্ন সময় সে আর্জেন্টিনার জার্সিতেই খেলার ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। বাবার মতোই আকাশি-নীল জার্সি গায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাই তার স্বপ্ন বলে উল্লেখ করেছে একাধিক সাক্ষাৎকারে। মেসি পরিবারের ফুটবল চর্চা অবশ্য শুধু থিয়াগোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তার দুই ছোট ভাই মাতেও ও চিরোও বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ফুটবল খেলছে। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, লিওনেল মেসির মতো কিংবদন্তির সন্তানের ওপর স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়। তাই থিয়াগোর বিকাশের এই পর্যায়ে অযথা চাপ না দিয়ে তাকে স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। লিওনেল মেসির অসাধারণ ক্যারিয়ারের উত্তরসূরি হিসেবে থিয়াগো নিজেকে কতটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, সেটি সময়ই বলে দেবে। তবে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থকের কাছে নতুন প্রজন্মের এই ফুটবলার ইতোমধ্যেই ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনার নাম।
বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ফিফার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন (এনএফএফ)। ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস জানিয়েছেন, বিষয়টি তাদের পরবর্তী বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে অভিযোগটি ফিফার স্বাধীন তদন্ত কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে। বিতর্কের সূত্রপাত বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বালোগুনের লাল কার্ড পাওয়ার পর। নিয়ম অনুযায়ী তাঁর পরের ম্যাচে নিষিদ্ধ থাকার কথা ছিল। কিন্তু পরে ফিফা সেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে তাঁকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়। পরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। এরপর ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে ইউরোপের ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যদি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়ে থাকে, তবে তা ফুটবলের নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক নজির। এর আগেও ট্রাম্পকে ফিফার প্রস্তাবিত ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিল নরওয়ে। ফেডারেশন জানিয়েছে, নতুন অভিযোগে সেই বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ফিফা বলেছে, তাদের বিচারিক সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত ফিফার প্রচলিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসারেই নেওয়া হয়েছে। বালোগুনকে ঘিরে এই বিতর্ক এখন শুধু একটি শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং বিচারিক স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই মাঠের বাইরের আরেকটি দারুণ জয় উদ্যাপন করতে পারেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। এক বছর আগে মায়ামির একটি সুউচ্চ আবাসিক ভবনে করা তাঁর বিশাল বিনিয়োগ এখন লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে। গত বসন্তে 'সিপ্রিয়ানি রেসিডেন্সেস মায়ামি' (Cipriani Residences Miami) নামক একটি বিলাসবহুল টাওয়ারে চারটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন মেসি। তাঁর এই দূরদর্শী সিদ্ধান্তের পর আবাসন প্রকল্পটির প্রতি ক্রেতাদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে হস্তান্তরের জন্য নির্ধারিত এই ভবনের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে চূড়ায় পৌঁছেছে এবং হস্তান্তরের আগেই এর ৮০ শতাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, মেসির পদাঙ্ক অনুসরণ করে আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন ফুটবলারও সেখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। পাশাপাশি নিউইয়র্ক এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সিটিডেল ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও এই সুউচ্চ ভবনে থাকার জন্য ছুটছেন। অভ্যন্তরীণ ক্রেতাদের পাশাপাশি মেক্সিকো, ইতালি, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টিরও বেশি দেশের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এখানে বিনিয়োগ করেছেন। ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান মাস্ট ক্যাপিটাল ক্রেতাদের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কারও নাম প্রকাশ না করলেও, প্রকল্পটির এই অভূতপূর্ব সফলতার কথা নিশ্চিত করেছে। জানা গেছে, মেসি প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৫ লাখ মার্কিন ডলার খরচ করে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুটের একটি ৪-বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছিলেন। সেই সময় ভবনটির প্রাথমিক কাজ চলছিল এবং ২০২৮ সালে হস্তান্তরের কথা ছিল। তবে এখন কাজ দ্রুত এগিয়ে চলায় আগামী বছরেই ক্রেতারা ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন। প্রায় ৯৫০ ফুট উঁচু ৮৫ তলাবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মাণ শেষ হলে নিউইয়র্ক সিটির দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে উঁচু আবাসিক ভবনে পরিণত হবে। সিপ্রিয়ানি পরিবারের উত্তর আমেরিকায় গড়ে তোলা এই প্রথম গ্রাউন্ড-আপ রেসিডেনশিয়াল প্রকল্পে ৩৯৭টি ইউনিট থাকবে। বাসিন্দাদের জন্য এখানে ৫০ হাজার বর্গফুটেরও বেশি জায়গা জুড়ে অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৭ তলায় বিসকে উপসাগরমুখী স্পিকইজি, রিসোর্ট স্টাইলের পুল ডেক, স্পা, প্রাইভেট স্ক্রিনিং রুম এবং সিপ্রিয়ানি পরিবারের প্রায় শতবর্ষের পুরোনো ঐতিহ্যে ভরপুর নিজস্ব ডাইনিং সুবিধা। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের মতে, এই মাইলফলক মায়ামির আবাসন খাতকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্যে পরিণত করারই একটি বড় প্রমাণ।
২০২৬ বিশ্বকাপ একদম শেষ প্রান্তে। যেখানে শিরোপা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এরইমাঝে শুরু হয়ে গেছে ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে এবার এক অভিনব আয়োজন করতে যাচ্ছে ফিফা। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিন মহাদেশ ও ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের ২৪তম আসরের মূল আয়োজক হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। তবে ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালের ভেন্যু উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিও'র ঐতিহাসিক এস্তাদিও সেন্টেনারিও স্টেডিয়ামে একটি উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এইরেসের এস্তাদিও মনুমেন্টাল এবং প্যারাগুয়ের রাজধানী আসুনসিওনের এস্তাদিও ওসভালদো ডোমিঙ্গেজ দিব স্টেডিয়ামেও একটি করে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে। এরপর মূল পর্বের বাক সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ইউরোপ ও আফ্রিকায়।
আগামী রবিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। তবে এবারের গ্রীষ্মকালীন এই ফিফা বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমাজের অপ্রত্যাশিত কিছু ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। এবারের বিশ্বকাপের তিন আয়োজক দেশের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্র। আটলান্টা, বোস্টন, ডালাস, মিয়ামি, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেসসহ মোট ১১টি মার্কিন শহরে এবারের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠা এই শহরগুলোতে তৈরি হয়েছে ভিন্ন রকম এক উন্মাদনা। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসিন্দাদের কাছে এবারের বিশ্বকাপটি যেন শুধুই একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডেটিংঅ্যাডভাইস ডটকম (DatingAdvice.com)-এর দেশব্যাপী পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। জরিপ অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসের অবিবাহিত বা সিঙ্গেল মানুষদের মধ্যে ৪৫ শতাংশই জানিয়েছেন যে, তারা বিশ্বকাপ উপলক্ষে আসা কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে ডেটে গেছেন বা রোমান্টিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। টুর্নামেন্ট কেন্দ্রিক ডেটিংয়ের হার সবচেয়ে বেশি থাকা শহরগুলোর তালিকায় অন্যতম শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। শুধু একটি শহরই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো আয়োজক শহরের সামগ্রিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া আয়োজক শহরগুলোর ৬৮ শতাংশ সিঙ্গেল মানুষের দাবি, বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ডেটিং জীবনে বেশ ইতিবাচক পরিবর্তন ও উন্নতি এসেছে।
চলমান বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও সংবাদমাধ্যমগুলোর আগ্রহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকে। এবার কানসাসে আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। নিউইয়র্ক থেকে সময়ের হিসেবে এক ঘণ্টা পিছিয়ে থাকা কানসাসে স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সাধারণত অন্যান্য বিশ্বকাপে ম্যাচের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মিডিয়া সেন্টার খোলা থাকলেও, আমেরিকায় নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। এখানে খেলা শুরুর ঠিক চার ঘণ্টা আগে মিডিয়া সেন্টারের দরজা খোলে। আর অবাক করা বিষয় হলো, দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই সাংবাদিকদের পদচারণায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় কানসাস স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টার। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এবারের বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, যা মিডিয়ার এই বিপুল আগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ। কানসাস শহরটি মূলত এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বেসক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখান থেকেই টুর্নামেন্টে নিজেদের যাত্রা শুরু করেছিল দলটি, আর এবার সেই একই ভেন্যুতে তারা কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মাঠে নামছে। স্টেডিয়ামের মূল ফটক থেকে প্রায় দশ মিনিট হাঁটার পর মিডিয়া সেন্টারে পৌঁছাতে হয়। সেখানে কয়েক শ সাংবাদিকের জন্য আসন বরাদ্দ থাকলেও, খেলা শুরুর অনেক আগেই তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এমনকি সেন্টারের এক পাশে থাকা ক্যাফেটেরিয়াতেও বসার জায়গা না পেয়ে অনেক সাংবাদিককে দাঁড়িয়েই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। মিডিয়া সেন্টারে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকরাও আর্জেন্টিনা ম্যাচ ঘিরে এমন বাড়তি উন্মাদনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা জানান, অন্য যেকোনো দলের ম্যাচের তুলনায় আর্জেন্টিনার ম্যাচের দিন সাংবাদিকদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো বেশি। ফুটবল বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ পাঁচবারের শিরোপাজয়ী দল ব্রাজিলের ম্যাচেও সাধারণত প্রচুর সাংবাদিকের সমাগম ঘটে। তবে এবারের আসরে সব হিসাব-নিকাশ ছাপিয়ে সংবাদমাধ্যমের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা। কানসাসে খেলা শুরুর চার ঘণ্টা আগেই মিডিয়া সেন্টারের এমন উপচে পড়া ভিড় যেন সেই সত্যেরই সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক বিদায়ের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার পরই জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির ঘোষণা দেন তিনি। ব্রাজিলের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম গ্লোবো জানিয়েছে, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় নেইমার জানান, ব্রাজিলের হয়ে এটাই ছিল তার শেষ ম্যাচ। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "আমি চেষ্টা করেছি। নিজের সর্বোচ্চটাই দিয়েছি। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার পথচলা শুরু হয়েছিল, আর এখানেই শেষ হলো। এখন সব শেষ।" এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে প্রায় দেড় দশকের এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ২০১০ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর দ্রুতই দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন নেইমার। জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। ব্রাজিলের হয়ে ৮০টি গোল করেছেন এই তারকা, যা দেশের ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক। এছাড়া জাতীয় দলের জার্সিতে তার রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিক। প্রতিপক্ষ হিসেবে জাপানের বিপক্ষে সর্বোচ্চ নয়টি গোল করেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে ব্রাজিলকে ২০১৩ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন নেইমার। এছাড়া ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণপদক এনে দেওয়ার অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। এবারের বিশ্বকাপে অবশ্য প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলোয় আর্লিং হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় সেলেসাওদের। এই জয়ে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে নর্ডিক দেশটি। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশার মধ্যেই নেইমারের অবসরের ঘোষণা ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য আরও বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের মূল ভরসা ছিলেন তিনি। তার বিদায়ের মাধ্যমে ব্রাজিল ফুটবলের একটি স্মরণীয় অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।
টেক্সাসের ডালাসে বিশ্বকাপ চলাকালে মিশর জাতীয় ফুটবল দলের এক কর্মকর্তার সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনার অবসান হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ঘটনার পর ডালাস পুলিশ ও মিশর দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে এবং উভয় পক্ষ সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে উপহার বিনিময় করে। ঘটনাটি ঘটে ২ জুলাই ডালাসে মিশর দলের হোটেলে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মিশর দলের টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানের উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির দৃশ্য দেখা যায়। সে সময় দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। মিশর দলের দাবি, একজন খেলোয়াড় ভক্তদের সঙ্গে ছবি তুলছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে হস্তক্ষেপ করেন এবং টিম ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসানকে ধাক্কা দেন। অন্যদিকে ডালাস পুলিশ জানায়, হোটেল কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তারা সেখানে গিয়েছিল এবং পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) যাচাইকে কেন্দ্র করেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর শনিবার ডালাস পুলিশ জানায়, তারা মিশর দলের প্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ জার্সি ও স্মারক উপহার বিনিময় করে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়। মিশর দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও পরে জানান, পুলিশ তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং তিনি বিষয়টিকে সমাপ্ত বলে মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশংসা করেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন পুরোপুরি থেমে যায়নি। ডালাস সিটি কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডাম বাজালদুয়া ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে মিশরের জাতীয় ফুটবল দল। নকআউট পর্বের শেষ বত্রিশের এই অবিস্মরণীয় জয়কে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত ও সম্মানিত মানুষের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছেন মিশরের হেড কোচ হোসাম হাসান। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের আর্লিংটনের ডালাস স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ পর্বে জায়গা করে নেয় মিশর। এটি বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মিশরের প্রথম কোনো জয়ের রেকর্ড। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে ড্র হওয়ার পর ম্যাচটি ভাগ্যনির্ধারণী টাইব্রেকারে গড়ায়। এর আগে খেলার ১৩তম মিনিটে ইমাম আশুরের চমৎকার হেডারে এগিয়ে যায় মিশর। তবে ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে মোহামেদ হানির একটি আত্মঘাতী গোলের কারণে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। পরবর্তীতে টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউটার এবং লুকাস হ্যারিংটন পেনাল্টি মিস করলে মিশরের হোসাম আবদেলমাগুইদ ঠান্ডা মাথায় লক্ষ্যভেদ করে দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন। শেষ ১৬-এর লড়াইয়ে মিশর এখন আর্জেন্টিনা অথবা কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে। ম্যাচ শেষে আয়োজিত এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলনে মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, ঈশ্বর যেন ফিলিস্তিনের মানুষকে চূড়ান্ত বিজয় দান করেন এবং তাদের শহীদদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই অসাধারণ জয়টি তিনি একই সাথে মিশরের সাধারণ মানুষ এবং ফিলিস্তিনের সদয় ও সম্মানিত জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করছেন। ম্যাচ জয়ের পর মাঠের ভেতরেই কোচ হোসাম হাসান মিশরের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকাও ওড়ান এবং পুরো মিশরীয় দল একসঙ্গে মাঠে সেজদা দিয়ে এই জয় উদযাপন করে। মিশরের এই জয়কে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকাজুড়ে এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের মাঝে এবং শরণার্থী শিবিরের অস্থায়ী তাঁবুর সামনে বড় পর্দায় ম্যাচটি দেখছিলেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। মিশরের ঐতিহাসিক জয়ের পর তারা গভীর রাত পর্যন্ত বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। গাজার অনেক শিশু ও কিশোর তাদের গালে মিশরের জাতীয় পতাকা এঁকে আনন্দ প্রকাশ করে। গাজার বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দীর্ঘদিনের অবরুদ্ধ দশা ও কষ্টের মাঝে মিশরের এই জয় তাদের মুখে কিছুটা সময়ের জন্য হলেও খুশির ঝিলিক এনে দিয়েছে। এদিকে এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মিশরের ফুটবল দলের সদস্যরা হোটেল চত্বরে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। মিশরীয় জাতীয় দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, শুক্রবার ডালাসের একটি হোটেলে এক ভক্তের সঙ্গে ছবি তোলার সময় সেখানকার একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাদের ডিরেক্টর ইব্রাহিম হাসান এবং তারকা খেলোয়াড় ত্রেজেগেকে ধাক্কা দেন। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পরবর্তীতে ডালাস পুলিশ বিভাগ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ দেয় এবং জানায় যে ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
কাতার বিশ্বকাপের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে এক ধরনের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে যে, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। অনেক ফুটবল বোদ্ধা ও সমালোচক আর্জেন্টিনাকে উপহাস করে ‘কমিটির দল’ বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। চলমান বিশ্বকাপে অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে এই পুরোনো বিতর্কটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা দলের কোচ লিওনেল স্কালোনির দিকে এই বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়। বিশ্বকাপে তাঁর দল বিশেষ কোনো সুবিধা পাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে বেশ ক্ষুব্ধ হন এই মাস্টারমাইন্ড। তবে নিজের ক্ষোভ সামলে নিয়ে এই সমালোচনার বেশ সোজাসাপ্টা ও কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। কোচ স্কালোনি এই বিতর্কের সহজ সমাধান দিয়ে বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন আলোচনা থেকে দূরে থাকার একমাত্র উপায় হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম না পড়া। তিনি সবাইকে সোশ্যাল মিডিয়া দেখা বন্ধ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানুষ যদি এসব না দেখে, তবে অবান্তর বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনাও তৈরি হবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক নিয়ে নিজের চরম বিরক্তি প্রকাশ করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, আজকাল যে কেউ কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই ইন্টারনেটে যা খুশি পোস্ট করে দিতে পারে। দুর্ভাগ্যবশত মানুষ কোনো একটি ছোট বিষয়কে বিশাল আকার দিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে দেয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। তাই এসব বিষয়কে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার কোনো কারণ তিনি দেখছেন না। স্কালোনি দৃঢ়তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেন যে, আলবিসেলেস্তেদের বর্তমান সাফল্য কারও দয়া বা কোনো কমিটির বিশেষ সুবিধার ফল নয়। এই গৌরব পুরো দলের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। তিনি স্পষ্ট জানান, লিওনেল মেসি থেকে শুরু করে দলের কিটম্যান মারিও দে স্তেফানো পর্যন্ত প্রত্যেকের অক্লান্ত পরিশ্রম ও অবদান রয়েছে এই অর্জনের পেছনে। তাই তারা মাঠের বাইরের কোনো নেতিবাচক গুঞ্জনে মোটেও কান দিচ্ছেন না।
চলমান ২০২৬ ফিফা পুরুষ বিশ্বকাপ এবং স্থানীয় ‘ডেকাটুর ওয়াচফেস্ট’ (WatchFest) কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের মেট্রো আটলান্টা অঞ্চলে খেলাপ্রেমী ও পর্যটকদের ঢল নেমেছে। এর ফলে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডেকাটুর শহরের স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বারগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ বেচাকেনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ডেকাটুর স্কয়ারের ঐতিহ্যবাহী ‘দ্য ব্রিক স্টোর পাব’ (The Brick Store Pub)-এর ম্যানেজার ও বারটেন্ডার লি ফেওয়েল জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাদের এখানে তিল ধারণের জায়গা নেই। অতিরিক্ত ক্রেতা সামলাতে তারা রেস্তোরাঁর পেছনের বাগানে বাড়তি টেলিভিশনের ব্যবস্থা করেছেন, যা প্রতি মুহূর্তে কানায় কানায় পূর্ণ থাকছে। তিনি বলেন, “চলতি মাসেই আমাদের এই রেস্তোরাঁ চালুর ২৯ বছর পূর্ণ হবে। কিন্তু সাধারণত গ্রীষ্মকালে এখানে ব্যবসা কিছুটা মন্দা থাকে। এবারের বিশ্বকাপ আমাদের সব কল্পনাকে ছাড়িয়ে গেছে, বিশেষ করে মার্কিন জাতীয় দল যেদিন তাদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল, সেদিন আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হয়েছে।” স্কয়ারের ঠিক অপর পাশে অবস্থিত ‘সিয়াম থাই রেস্টুরেন্ট’ (Siam Thai Restaurant)-এর চিত্রও একই রকম। রেস্তোরাঁটির কর্মী নারিত নরাজিত-ম্যাকক্রারি জানান, ফুটবল ভক্তদের ভিড়ে তাদের মজুত থাকা সব বিয়ার নিমেষেই শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে সোমবারের বাড়তি চাপ সামলাতে তাঁকে নিজে সুপারমার্কেটে গিয়ে নতুন করে মালপত্র কিনে আনতে হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই গ্রীষ্মে সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ রেস্তোরাঁগুলোতে ভিড় করছেন। বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতির এই নজিরবিহীন চাঙ্গা ভাব ব্যবসায়ীদের মুখে বড় হাসি ফুটিয়েছে।
সব শঙ্কা, স্নায়ুচাপ আর নাটকীয়তার অবসান ঘটল শেষ মুহূর্তের এক দুর্দান্ত আক্রমণে। নির্ধারিত সময়ের খেলা যখন ১-১ সমতায় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে জাপানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল ব্রাজিল। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ছিল জাপানের দখলে। ২৯ মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাইশু সানো দুর্দান্ত এক দূরপাল্লার শটে জাপানকে এগিয়ে দেন। গোলের পর কোচ হাজিমে মোরিয়াসু দলকে আরও রক্ষণাত্মক করে তোলেন। ৫-৪-১ ছকে গড়ে ওঠা জাপানের শক্ত রক্ষণে প্রথমার্ধজুড়ে ছন্দ খুঁজে পায়নি ব্রাজিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে কার্যকরভাবে আটকে রাখে ব্লু সামুরাইরা। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৫৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাসেমিরো দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে সমতায় ফেরান পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সেলেসাওরা। ৫৮ মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জিওন সুজুকির স্পর্শে পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপরও একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও জাপানের রক্ষণ ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিল। ম্যাচের শেষভাগে একের পর এক পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি যোগ করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ৬৫ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার পরিবর্তে মাঠে নামেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। এনদ্রিক ও রায়ানের গতিময় ফুটবলে ক্রমেই চাপে পড়ে জাপানের রক্ষণভাগ। ৮৫ মিনিটে রায়ানের ফ্রি-কিক এবং পরে ব্রুনো গিমারাইসের প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে অতিরিক্ত সময়ই যেন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এরই মধ্যে ৮৯ মিনিটে ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়েন কাসেমিরো। তার জায়গায় নামেন ফাবিনিও। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান ঘটে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে। মাঝমাঠ থেকে ব্রুনো গিমারাইসের নিখুঁত পাস ধরে জাপানি ডিফেন্ডারদের ফাঁক গলে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠান মার্তিনেল্লি। জাপানের গোলরক্ষক সুজুকির কিছুই করার ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি জাপান। ২-১ গোলের নাটকীয় জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। নেইমারকে পুরো ম্যাচ বেঞ্চে রেখেই গুরুত্বপূর্ণ এই জয় তুলে নেয় কার্লো আনচেলত্তির দল।
আগের দুই ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তুরস্কের। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছিল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ফলে শেষ গ্রুপ ম্যাচটি ছিল তুরস্কের জন্য সম্মান রক্ষার লড়াই, আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রুপপর্ব অপরাজিত থেকে শেষ করার সুযোগ। তবে নাটকীয় এক ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে স্বাগতিকদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় নিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে তারা। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখতে উপস্থিত ছিলেন হলিউড তারকা ব্র্যাড পিট, এডওয়ার্ড নর্টন ও ওয়েন উইলসন। উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের মাত্র ২ মিনিট ১৩ সেকেন্ডে কর্নার থেকে পাওয়া বল নিচু শটে জালে পাঠিয়ে গোল করেন সেল্টিকের ডিফেন্ডার অস্টন ট্রাস্টি। এটি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে ৩০ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন ক্লিন্ট ডেম্পসি। তবে দ্রুতই ম্যাচে ফিরে আসে তুরস্ক। বারিস আলপার ইলমাজের চমৎকার ব্যাকহিল পাস থেকে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে দলের প্রথম গোল করেন আরদা গুলের। এরপর বাঁ দিক থেকে গড়ে ওঠা আক্রমণে অরকুন ককচুর শট বারিস আলপার ইলমাজের গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় তুরস্ক। এই গোলের আক্রমণ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরদা গুলের। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলও পায় তারা। ২০ গজ দূর থেকে সেবাস্টিয়ান বারহাল্টারের দুর্দান্ত শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। বদলি হিসেবে মাঠে নামা ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেন। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী শট অসাধারণ দক্ষতায় রক্ষা করেন তুরস্কের গোলরক্ষক উগুরচান চাকির। অন্যদিকে তুরস্কও পাল্টা আক্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করতে থাকে। কেনান ইলদিজের বাঁকানো শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বারিস আলপার ইলমাজও একটি নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে কান উজুনের ছোঁয়া থেকে আসা বল জালে পাঠিয়ে তুরস্ককে ৩-২ ব্যবধানের নাটকীয় জয় এনে দেন কান আয়হান। এই জয়েও অবশ্য টুর্নামেন্টে তুরস্কের ভাগ্য বদলায়নি। দুই হার ও এক জয় নিয়ে তারা গ্রুপের তলানিতে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় গ্রুপসেরা হিসেবেই নকআউট পর্বে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২ জুলাই ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় রাউন্ড অব ৩২-এ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা।
চলমান ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম এবং ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকার আকাশে অবৈধ ড্রোন ওড়ানো বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই (FBI)। ডালাস এফবিআই ইতিমধ্যে ডজন ডজন অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছে এবং এ বিষয়ে পাইলট ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। খেলা চলাকালীন এবং এর আগে-পরে স্টেডিয়ামের আশপাশের নির্দিষ্ট আকাশসীমায় যেকোনো ধরণের ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডালাস এফবিআইয়ের বিশেষ কর্মকর্তা আর. জোসেফ রথ্রক জানিয়েছেন, গত ১১ জুন থেকে ডালাস স্টেডিয়াম এবং ফেয়ার পার্কের ফিফা ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে তারা এ পর্যন্ত ৫৪টি অবৈধ ড্রোন জব্দ করেছেন। তিনি জানান, বেশিরভাগ ড্রোন চালকই জানেন না যে খেলা উপলক্ষে সাময়িক উড্ডয়ন নিষেধাজ্ঞা (TFR) জারি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ শুরুর ৩ ঘণ্টা আগে থেকে ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডালাস স্টেডিয়ামের চারপাশের ৩ নটিক্যাল মাইল এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ড্রোন ওড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া ফ্যান ফেস্টিভ্যাল এলাকায় এই উচ্চতা সর্বোচ্চ ৪০০ ফুট। এফবিআই জানিয়েছে, আকাশে কোনো ড্রোন শনাক্ত হওয়ার সাথে সাথে সেটিকে প্রাথমিকভাবে একটি বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইতিমধ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অপরাধে লুইস মাউরিসিও ফ্লোরেস অর্ডনিজ নামের ৩৩ বছর বয়সী এক হন্ডুরান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি গত ১৪ জুন জাপান বনাম নেদারল্যান্ডস ম্যাচের ঠিক আগে ডালাস স্টেডিয়ামের प्रतिबंधित আকাশসীমায় একটি অবনিবন্ধিত ড্রোন ওড়াচ্ছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে ফেডারেল আইনে তার সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। স্থানীয় পেশাদার ড্রোন চালক এবং 'দ্য ডালাস ড্রোন গাই' নামে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী সেথ ব্রুকস অন্য চালকদের এই নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, শখের বশে বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ড্রোন ওড়াতে হলেও মার্কিন বিমান প্রশাসন (FAA)-এর লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। ড্রোন ওড়ানো লুকিয়ে করা অসম্ভব, কারণ ড্রোন চালু করলেই তার উচ্চতা, ব্যাটারির তথ্য এবং রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত ফোন নম্বর ও ইমেল আকাশে ডিজিটাল সংকেত হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে, যা সহজেই ট্র্যাক করা যায়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ড্রোন ওড়ালে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা ও ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন সরকার বিশ্বকাপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে বিশেষ ড্রোন-প্রতিরোধী প্রশিক্ষণ দিয়েছে। স্টেডিয়ামের আশেপাশে কোনো অবৈধ ড্রোন ওড়াতে দেখলে অবিলম্বে তা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ ফুটবল ভক্তদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই।
বিশ্বকাপের মঞ্চে অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল ইকুয়েডর। ‘ই’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টের নকআউট রাউন্ড নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার এই ফুটবল পরাশক্তি। প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের কাছে হার এবং নবাগত কুরাসাওয়ের সঙ্গে হতাশার ড্রয়ের পর অনেকেই ইকুয়েডরের বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী জার্মানদের হারিয়ে ঠিকই রাউন্ড অব ৩২-এর টিকিট আদায় করে নিয়েছে দলটি। লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মতো পরাশক্তিকে হারিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বিশ্বকাপে এসেছিল ইকুয়েডর। কিন্তু মূলমঞ্চে শুরুতে সেই চেনা ছন্দের দেখা মেলেনি। বিশেষ করে যে কুরাসাওকে জার্মানি ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছিল, তাদের সঙ্গেই পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছিল ইকুয়েডরকে। তবে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই জার্মানদের হারিয়েই ইতিহাস গড়ল তারা। এর আগে জার্মানির বিপক্ষে দুবারের দেখায় কখনোই জয়ের মুখ দেখেনি দলটি। ২০০৬ বিশ্বকাপে স্বাগতিক জার্মানির কাছে ৩-০ এবং ২০১৩ সালের প্রীতি ম্যাচে ৪-০ গোলে হেরেছিল তারা। কাকতালীয়ভাবে সেই ২০০৬ সালের পর দীর্ঘ ২০ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে পা রাখল ইকুয়েডর। ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল ইকুয়েডর। দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্লোরিয়ান ভির্টজের পাস থেকে গোল করে জার্মানিকে লিড এনে দেন লেরয় সানে, যা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১৮তম গোল। তবে এই লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি টানা দুই জয়ে আগেই নকআউট নিশ্চিত করা জার্মানরা। নবম মিনিটে জার্মান মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচার কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পেদ্রো ভিতে পাস দেন নিলসন আঙ্গুলোকে। বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার এক ড্রিবলিং ও দুর্দান্ত শটে জার্মান গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান তিনি। ম্যাচজুড়ে জার্মানদের রক্ষণে কড়া পরীক্ষা নেওয়া ইকুয়েডর কাঙ্ক্ষিত লিড পায় ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে। গঞ্জালো প্লাতা ইকুয়েডরের হয়ে দলের জয়সূচক গোলটি করেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা একটি বল ধরতে ৪০ বছর বয়সী তারকা গোলরক্ষক নয়্যার এগিয়ে এলে তড়িৎ গতিতে বাঁ পায়ের আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে ইকুয়েডরের ঐতিহাসিক জয় ও নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেন প্লাতা।
সাংহাইয়ের একটি স্পোর্টস বারে তখন উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ। বিশাল পর্দায় জাপানের আক্রমণ। মুহূর্তের মধ্যেই আয়াসে উয়েদার হেডে বল জড়িয়ে গেল জালে। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জাপানের চতুর্থ গোল। সঙ্গে সঙ্গে নীল জার্সি পরা সমর্থকদের চিৎকারে কেঁপে ওঠে পুরো বার। দৃশ্যটি হয়তো খুব স্বাভাবিক। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় আসরে এমন উন্মাদনা প্রায় সব দেশেই দেখা যায়। তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম ছিল। যারা জাপানের গোল উদযাপন করছিলেন, তারা জাপানি নন; তারা চীনা। ইতিহাস, রাজনীতি ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে চীন ও জাপানের সম্পর্ক কখনোই খুব সহজ ছিল না। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সাম্প্রতিক নানা উত্তেজনা প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়। কিন্তু ফুটবল কখনো কখনো এমন একটি ক্ষেত্র তৈরি করে, যেখানে সীমান্ত, জাতীয়তা কিংবা রাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। সাংহাইয়ের সেই সমর্থকগোষ্ঠীর অন্যতম সংগঠক ফ্যান বলেন, তাদের জাপান-প্রেমের উৎস রাজনীতি নয়, শৈশবের স্মৃতি। তার ভাষায়, “আমাদের প্রজন্মের অনেকেই জাপানি অ্যানিমে দেখে বড় হয়েছি। বিশেষ করে ‘ক্যাপ্টেন সুবাসা’। ফুটবলের প্রতি ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই।” তবে শুধু অ্যানিমেই নয়, জাপানকে সমর্থনের পেছনে রয়েছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ফ্যানের মতে, জাপান এখন এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে সফল প্রতীক। বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন কোনো এশীয় দল ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে লড়াই করে, তখন অনেক চীনা সমর্থকও নিজেদের স্বপ্ন ও প্রতিনিধিত্ব খুঁজে পান সেই দলে। এই অনুভূতির পেছনে বাস্তবতারও ভূমিকা রয়েছে। চীনের ফুটবল এখনো কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পায়নি। দেশটি মাত্র একবার, ২০০২ সালে, বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলেছিল। সেই আসরে তিনটি ম্যাচেই পরাজিত হয়েছিল এবং একটি গোলও করতে পারেনি। অন্যদিকে জাপান নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলছে, ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোতে খেলোয়াড় পাঠাচ্ছে এবং বিশ্বের সেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। জাপান নিয়ে বই লেখা চীনা লেখক ফু জিনইউর মতে, দেশটির সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শক্তিশালী যুব উন্নয়ন কাঠামো এবং সুসংগঠিত ফুটবল সংস্কৃতি। তার ভাষায়, জাপান এখন এমন একটি দল, যারা ইউরোপীয় মানের প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে সক্ষম। তবে চীনে জাপানকে সমর্থন করা সব সময় সহজ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাপানের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করার কারণে অনেক ভক্তকে সমালোচনা, বিদ্রূপ এবং অপমানের মুখোমুখি হতে হয়। কেউ কেউ তাদের ‘দেশদ্রোহী’ বলেও আখ্যা দেন। পূর্ব চীনের ৩০ বছর বয়সী আকি ইয়াং জাপান জাতীয় দলকে ঘিরে একটি জনপ্রিয় ফ্যান পেজ পরিচালনা করেন। অনুসারী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কটূক্তিও বেড়েছে। তবু তিনি থামেননি। কারণ তার বিশ্বাস, ফুটবল মানুষের মধ্যে বিভাজনের দেয়াল ভাঙতে পারে। একই বিশ্বাস পোষণ করেন ফ্যানও। তিনি বলেন, “আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন হলো দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের একটি সেতু তৈরি করা।” কথাগুলো হয়তো আদর্শবাদী মনে হতে পারে। কিন্তু ফুটবলের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, এই খেলা এমন অনেক কিছু করতে পারে, যা রাজনীতি পারে না। এটি অপরিচিত মানুষকে বন্ধু বানায়, প্রতিপক্ষ দেশের পতাকাকেও সম্মান করতে শেখায় এবং কখনো কখনো পুরোনো বৈরিতার মধ্যেও একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করে। সাংহাইয়ের সেই উচ্ছ্বসিত বিকেল তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের গল্প নয়। এটি এমন এক মানবিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি, যেখানে মানুষ কখনো কখনো জাতীয়তার চেয়ে আনন্দ, প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে ভালোবাসা এবং রাজনীতির চেয়ে খেলাকে বড় করে দেখে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিদিন ছয়টি করে ম্যাচ চলছে। টানা এতগুলো ম্যাচ দেখা অনেকের কাছেই ক্লান্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু কেভিন আকোতো ও অস্টিন ফ্রাঙ্কলিনের জন্য সেটিই এখন পূর্ণকালীন চাকরি। বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ দেখার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন ৫০ হাজার ডলার করে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স ওয়ানের ‘চিফ ওয়ার্ল্ড কাপ ওয়াচারস’ (প্রধান বিশ্বকাপ দর্শক) হিসেবে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এই দুই ফুটবলপ্রেমী। নিজেদের এই ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে। নিউইয়র্কের বিখ্যাত টাইমস স্কয়ারে তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে কাচে ঘেরা একটি বিশেষ কিউবিক্যাল। পথচারীরা বাইরে থেকে তাদের দেখতে পারেন, আর ভেতরে বসেই তারা দেখছেন বিশ্বকাপের ম্যাচ। কাচঘেরা ওই ঘরে রয়েছে রিক্লাইনার চেয়ার, বাদামি চামড়ার সোফা, বড় পর্দার দুটি টেলিভিশন এবং একটি ফুসবল টেবিল। পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের পছন্দের নানা মার্চেন্ডাইজ ও বিভিন্ন ধরনের খাবারও রাখা হয়েছে। কেভিন বলেন, “বিশ বছর বয়সী একজন তরুণ যেমন স্বপ্নের ঘরের কথা কল্পনা করে, এটি ঠিক তেমনই। একজন ফুটবল ভক্ত হিসেবে আপনি যা যা চাইবেন, প্রায় সবই এখানে আছে।” ফ্লোরিডায় বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন কেভিন। অন্যদিকে অস্টিন ফিলাডেলফিয়ার একজন কনটেন্ট নির্মাতা ও ইনফ্লুয়েন্সার। হাজারো আবেদনকারীর মধ্যে থেকে নির্বাচিত হয়ে তারা এই দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের কাজ শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বিশ্বকাপ ঘিরে ভক্তদের জন্য বিভিন্ন ধরনের কনটেন্টও তৈরি করা। বিশ্বকাপের পুরো আসরজুড়ে কাজ চালিয়ে যেতে হওয়ায় শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেদের প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করছেন তারা। কেভিন বলেন, “আমি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, অস্টিনও ক্লান্ত। তাই এই জীবনযাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি।” অস্টিনের মতে, অভিজ্ঞতাটি অনেকটা সামার ক্যাম্পের মতো। একেকটি দিন যেন অন্য দিনের সঙ্গে মিশে যায়। তিনি বলেন, “এটা একটা বিশাল ম্যারাথন। কাজটা শুনতে সহজ—সোফায় বসে ফুটবল দেখা। কিন্তু বাস্তবে এটি বেশ ক্লান্তিকর।”তবে তাদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়ও আছে। শিফট শেষ হওয়ার পর টাইমস স্কয়ারের কাচঘেরা ঘরে থাকতে হয় না। তারা নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন কেভিন ও অস্টিন। একদিন আর্জেন্টাইন বারবিকিউ উপভোগ করার সময়ই তারা দেখেছেন লিওনেল মেসির একটি ঐতিহাসিক গোল, যা তাকে বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাদের কাজের আরেকটি আকর্ষণ হলো, যেসব দেশের ম্যাচ চলছে, সেসব দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হয় তাদের জন্য। ম্যাচের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন তারা। টাইমস স্কয়ারে জড়ো হওয়া হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের সঙ্গে কথা বলেছেন। নরওয়ের ভক্তদের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রোয়িং’ উদযাপনও কাছ থেকে দেখেছেন। অস্টিন বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফুটবল সমর্থকদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, তাদের সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতার গল্প শোনাই এই কাজের সবচেয়ে আনন্দের অংশ। তার ভাষায়, “অনেক সময় আমি ভুলেই যাই যে আমি টাইমস স্কয়ারে বসে আছি এবং মানুষ আমাকে দেখছে। ম্যাচে এতটাই ডুবে থাকি যে হঠাৎ চারপাশে তাকিয়ে অবাক হয়ে যাই।” বিশ্বকাপের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন নিয়ে দুইজনের মত কিছুটা আলাদা। কেভিনের পছন্দ স্পেন। যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ঘানাকেও সমর্থন করছেন। অস্টিন নরওয়ের সমর্থক। তার মতে, আর্লিং হলান্ডের নেতৃত্বে দলটি শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রাখে। তিনি বলেন, “স্পেন বা ফ্রান্সের নাম বলা সহজ। কিন্তু আমার বিশ্বাস, ভাগ্য সহায় হলে নরওয়েও বিশ্বকাপ জিততে পারে।” এই ব্যতিক্রমী চাকরি নিয়ে দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও ভিন্ন ভিন্ন।নরওয়ের সমর্থক ইমুন্ড লিল্যান্ড ও তার মেয়ে ক্যামিলের মতে, কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ছাড়া ১০৪টি ম্যাচ টানা দেখা কিছুটা বাড়াবাড়ি। অন্যদিকে ১৮ বছর বয়সী ম্যাথিউ মেন্ডেজ মনে করেন, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বসে বিশ্বকাপ উপভোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। তবে ২০ বছর বয়সী মিগুয়েল সানচেজের চোখে এটি স্বপ্নের চাকরি। তার মন্তব্য, “বিশ্বকাপ দেখার জন্য টাকা পাওয়া? এটা তো মাঠে গিয়ে খেলা দেখার চেয়েও ভালো। সত্যিই অবিশ্বাস্য!”
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মায়ামির হার্ডরক স্টেডিয়ামে ‘সি’ গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। আর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের প্রথমার্ধেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে গেছে সেলেসাওরা। বল দখলে স্কটিশরা এগিয়ে থাকলেও আক্রমণের ধার এবং ফিনিশিংয়ে পুরো প্রথমার্ধ জুড়েই আধিপত্য বিস্তার করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কটল্যান্ড যেখানে গোলের জন্য নেওয়া কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি, সেখানে ব্রাজিলের নেওয়া ১১টি শটের মধ্যে ৩টি অন টার্গেটে ছিল। ম্যাচের মাত্র সাত মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় ব্রাজিল, যা অনেকটা উপহার হিসেবেই পেয়েছেন ভিনিসিয়ুস। রাফিনিয়ার ইনজুরিতে শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া তরুণ ফরোয়ার্ড রায়ানের প্রেসিংয়ে বল হারিয়ে বসেন স্কটিশ সেন্টার-ব্যাক স্কট ম্যাককেনা। দুর্বল এই ডিফেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ভিনিসিয়ুস। স্কটিশ গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গুনকে অনায়াসে বোকা বানিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে চলতি বিশ্বকাপে নিজের তৃতীয় গোলটি তুলে নেন তিনি। এরপর ২২ মিনিটের মাথায় আরও একবার বল জালে পাঠিয়েছিলেন এই তারকা। তবে গোলরক্ষকের পায়ের নিচ দিয়ে শট নেওয়ার আগে এক স্কটিশ ডিফেন্ডারকে পেছন থেকে ট্যাকল করায় ভিএআর (VAR) যাচাই শেষে রেফারি গোলটি বাতিল করেন। পিছিয়ে পড়ে স্কটল্যান্ড আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চালালেও সেগুলো খুব একটা কার্যকর ছিল না। বাতিল হওয়া গোলের আক্ষেপ ভিনিসিয়ুস মেটান প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তে। অতিরিক্ত হিসেবে দেওয়া ৫ মিনিটের তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো গুইমারেসের নিখুঁত এক ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের চতুর্থ গোলটি পূরণ করে কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে চিরচেনা নাচে মেতে ওঠেন ভিনিসিয়ুস। প্রথমার্ধে ম্যাথিউস কুনহা ও রায়ান নিজেদের পাওয়া দারুণ কিছু সুযোগ হাতছাড়া না করলে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বিরতির আগেই ব্রাজিলের লিড আরও বড় হতে পারত।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে ইরান। নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের পর প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলটির সামনে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বস্তির খবর পেয়েছে ইরানি ফুটবল দল। তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইরানের জাতীয় ফুটবল দল এখন তাদের ম্যাচের দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। এর আগে প্রথম দুই ম্যাচের ক্ষেত্রে দলটিকে কেবল ম্যাচের আগের দিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে শিথিলতার পরও কিছু বিধিনিষেধ বহাল থাকছে। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ শেষে একই দিন দেশ ছাড়তে হবে ইরান দলকে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দলটি বর্তমানে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় অবস্থান করছে। সেখান থেকে বুধবার সিয়াটলের উদ্দেশে যাত্রা করবে তারা। বিশ্বকাপের আগে থেকেই ইরান দলের অংশগ্রহণ ঘিরে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দলটির ভ্রমণ ও লজিস্টিক ব্যবস্থাপনায় একাধিক বাধা দেখা দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানের বেস ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে। কিন্তু নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করা হয়। এ ছাড়া ইরান দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় দলটির প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, শুরু থেকেই ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি বলেন, “প্রথম দুই ম্যাচে তাদের যাতায়াত ও অবস্থান কীভাবে পরিচালিত হয়, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করতে চেয়েছিলাম। সবকিছু স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন হওয়ায় এখন দীর্ঘ ভ্রমণ সময়ের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।” এদিকে মাঠের লড়াইয়েও ইরানের সামনে বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে জয় পেলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে পারবে দলটি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মাঠের বাইরের অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতার মধ্যেও ইরানের পারফরম্যান্স প্রশংসার দাবি রাখে। বিশেষ করে ভ্রমণসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা, বেস ক্যাম্প পরিবর্তন এবং ভিসা জটিলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দলটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের সম্ভাবনা ধরে রেখেছে। এখন মিশরের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে ঘিরে ইরান শিবিরে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সিদ্ধান্তে দলটির প্রস্তুতি কিছুটা সহজ হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ 'জি'-এর ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হয়েছিল ইরান। তবে খেলা শুরুর আগে স্টেডিয়ামজুড়ে আবারও এক নজিরবিহীন ও বৈরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। মাঠে যখন ইরানের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হচ্ছিল, তখন গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক তীব্র ক্ষোভে দুয়োধ্বনি ও ভুভুজেলা বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের নিজেদের প্রথম ম্যাচেও একই ধরনের চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল দলটিকে। ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের ফিফা ঘোষক উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্য করে ‘শান্তির জন্য হাততালি’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাঠের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে সেই আহ্বানে খুবই মৃদু সাড়া পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের এই বিশ্বকাপ অভিযান এমন এক সময়ে শুরু হলো যার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছেন। ম্যাচটি শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে ইরান সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীরা জানান, তারা এই ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখতে চান না, কারণ এতে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করা বোঝাবে। মূলত ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক দেশ ছেড়ে ফ্লোরিডা ও লস অ্যাঞ্জেলেসে আশ্রয় নেন। বর্তমানে ইরানের বাইরে লস অ্যাঞ্জেলেসকেই ইরানি সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় বাসস্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শুরু থেকেই দলটির বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ নিয়ে চরম বিতর্ক চলছিল। এর আগে জানুয়ারি মাসে ইরানে গণতন্ত্রকামী আন্দোলনকারীদের ওপর সরকারের কঠোর দমনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার জের ধরে সম্প্রতি ইরানি ফুটবল দল তাদের প্রশিক্ষণ শিবির অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া তাদের বেশ কয়েকজন স্টাফকে মার্কিন ভিসা না দেওয়া এবং সমর্থকদের টিকিট বাতিল করার বিষয়ে ফিফার কাছে অভিযোগ করেছিল ইরান ফুটবল ফেডারেশন। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কোনো মিথ্যা অজুহাতে ইরানি দলকে এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ করানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে সোমবার সকালে এক জরুরি শুনানির পর ইরানের বিপ্লব-পূর্ববর্তী ঐতিহাসিক পতাকা স্টেডিয়ামে বহনের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখেন মার্কিন আদালত। ওই পতাকায় বর্তমান পতাকার মতোই রং থাকলেও মাঝে একটি সিংহ ও সূর্যের প্রতীক রয়েছে, যা দেশটির পূর্ববর্তী শাহ আমলের শাসনের প্রতিনিধিত্ব করে। ফিফার নিয়মানুযায়ী স্টেডিয়ামের ভেতর যেকোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক, আপত্তিকর বা বৈষম্যমূলক’ পোশাক এবং পতাকা প্রদর্শন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে বিচারক কার্টিস কিন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, বাক-স্বাধীনতা অবশ্যই অত্যন্ত পবিত্র এবং সমাজের অন্যতম ভিত্তি। তবে কোনো বেসরকারি সম্পত্তির ওপর বেসরকারি পক্ষের ক্ষেত্রে এর নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং পূর্ববর্তী মামলার নজির অনুযায়ী এটি একটি যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ফিফার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে করা আবেদনটি খারিজ করা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।