আমেরিকা

কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়, ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১১:১৪
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কান্না থামানোর চেষ্টা হিসেবে মাত্র ৯ দিনের এক নবজাতকের মুখে বারবার কামড় দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর তার পুরো বাঁ গালে গুরুতর কালশিটে ও কামড়ের দাগ দেখা গেলে ঘটনাটি সামনে আসে।

 

আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কেডেন শ্রাম। গত ১৫ জুলাই শিশুটিকে ব্লুমিংটনের এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক আঘাতগুলো দেখে ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড সার্ভিসেস এবং পুলিশকে জানান। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 

 

তদন্তকারীদের কাছে শ্রাম দাবি করেন, ভোর প্রায় চারটার দিকে শিশুটি তার তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কান্না শুরু করে। কান্না থামাতে প্রথমে তিনি শিশুটির গালে হালকা কামড় দিতে শুরু করেন। পরে সেটি আরও সহিংস হয়ে ওঠে এবং তিনি শিশুটির গালের চামড়ে বারবার জোরে কামড় দেন বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটির মুখের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রাম একটি অত্যন্ত অমানবিক মন্তব্য করেন। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

হাসপাতালে থাকা অবস্থায় শ্রাম পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটির আঘাতের জন্য নিজেকে দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের সম্পর্ক কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।

 

কেডেন শ্রামের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে আঘাত করার অভিযোগে ফেলোনি ব্যাটারি চার্জ আনা হয়েছে। পৃথক কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাটারি, ক্রিমিনাল রেকলেসনেস এবং মিসডিমিনর ব্যাটারির অভিযোগও রয়েছে বলে কোর্ট রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। 

 

রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুর ওপর নির্যাতনের মামলায় ২১ জুলাই তিনি ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরে অন্য মামলার বন্ড বাতিলসংক্রান্ত ওয়ারেন্টে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।

 

ঘটনাটি শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং নবজাতকের কান্নার সময় নিরাপদভাবে পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ানায় শিশু নির্যাতন বা অবহেলার সন্দেহ হলে রাজ্যের চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট হটলাইনে পরিচয় গোপন রেখেও রিপোর্ট করা যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়
কান্না থামাতে ৯ দিনের নবজাতকের মুখে বারবার কামড়, ইন্ডিয়ানায় গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কান্না থামানোর চেষ্টা হিসেবে মাত্র ৯ দিনের এক নবজাতকের মুখে বারবার কামড় দেওয়ার অভিযোগে ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর তার পুরো বাঁ গালে গুরুতর কালশিটে ও কামড়ের দাগ দেখা গেলে ঘটনাটি সামনে আসে।   আদালতের নথির বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম কেডেন শ্রাম। গত ১৫ জুলাই শিশুটিকে ব্লুমিংটনের এক শিশু চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে চিকিৎসক আঘাতগুলো দেখে ইন্ডিয়ানা ডিপার্টমেন্ট অব চাইল্ড সার্ভিসেস এবং পুলিশকে জানান। শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি।    তদন্তকারীদের কাছে শ্রাম দাবি করেন, ভোর প্রায় চারটার দিকে শিশুটি তার তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় কান্না শুরু করে। কান্না থামাতে প্রথমে তিনি শিশুটির গালে হালকা কামড় দিতে শুরু করেন। পরে সেটি আরও সহিংস হয়ে ওঠে এবং তিনি শিশুটির গালের চামড়ে বারবার জোরে কামড় দেন বলে আদালতের নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর শিশুটির মুখের অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে শ্রাম একটি অত্যন্ত অমানবিক মন্তব্য করেন। তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তার বক্তব্যও মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   হাসপাতালে থাকা অবস্থায় শ্রাম পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের কাছে শিশুটির আঘাতের জন্য নিজেকে দায়ী করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে অভিযুক্তের সঙ্গে নবজাতকের সম্পর্ক কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে পরিষ্কার হয়নি।   কেডেন শ্রামের বিরুদ্ধে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুকে আঘাত করার অভিযোগে ফেলোনি ব্যাটারি চার্জ আনা হয়েছে। পৃথক কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাটারি, ক্রিমিনাল রেকলেসনেস এবং মিসডিমিনর ব্যাটারির অভিযোগও রয়েছে বলে কোর্ট রেকর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশুর ওপর নির্যাতনের মামলায় ২১ জুলাই তিনি ৫ হাজার ৫০০ ডলারের বন্ডে মুক্তি পেয়েছিলেন। পরে অন্য মামলার বন্ড বাতিলসংক্রান্ত ওয়ারেন্টে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়।   ঘটনাটি শিশুদের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ এবং নবজাতকের কান্নার সময় নিরাপদভাবে পরিস্থিতি সামলানোর গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ানায় শিশু নির্যাতন বা অবহেলার সন্দেহ হলে রাজ্যের চাইল্ড অ্যাবিউজ অ্যান্ড নেগলেক্ট হটলাইনে পরিচয় গোপন রেখেও রিপোর্ট করা যায়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১১:১৪
আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার

আবেদন ছাড়াই মিলতে পারে ভর্তি ও ২৪,০০০$ স্কলারশিপের অফার, কলেজে ভর্তির ঝামেলা কমাতে নতুন উদ্যোগ

৭ জুলাইয়ের পর বিদেশি অভিযানে আহত ২৩৮ মার্কিন সেনা

পেন্টাগনের নতুন হিসাব, ৭ জুলাইয়ের পর বিদেশি অভিযানে আহত ২৩৮ মার্কিন সেনা

বার পরীক্ষার হলে লুটিয়ে পড়ে নীল হয়ে যাচ্ছিলেন তরুণী

বার পরীক্ষার হলে লুটিয়ে পড়ে নীল হয়ে যাচ্ছিলেন তরুণী, তবুও অন্যদের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ চিত্র
৪ জনের বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজারে কত খরচ? যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ চিত্র

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী একটি চার সদস্যের বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজার খরচ এখন কত এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সরকারি মূল্যস্ফীতি-সংক্রান্ত তথ্য, বাজারদর এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির কেনাকাটার ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, পরিবারভেদে প্রতি মাসে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে প্রায় ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। বিশেষ করে দেশি চাল, মাছ, গরুর মাংস ও মসলার কারণে অনেক বাংলাদেশি পরিবারের বাজার খরচ জাতীয় গড়ের তুলনায় কিছুটা বেশি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে মুদি পণ্যের দাম প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে বাংলাদেশি পরিবারের খাদ্যাভ্যাস মূলধারার মার্কিন পরিবারের তুলনায় আলাদা হওয়ায় তাদের মাসিক বাজারের হিসাবেও পার্থক্য দেখা যায়।   বাজার বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেখা গেছে, একটি চার সদস্যের পরিবারের মাসিক খরচ সাধারণত চারটি ভাগে বিভক্ত।   দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস, ভোজ্যতেল, টিস্যু, সাবানসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে মাসে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডলার ব্যয় হয়।   অন্যদিকে দেশি চাল, রুই বা কোরাল মাছ, হালাল গরুর মাংস, খাসির মাংস, ডাল, মসলা ও অন্যান্য দেশি খাদ্যপণ্যে গড়ে আরও ২৫০ থেকে ৩৫০ ডলার খরচ হয়।   সবজি ও ফলমূলের জন্য মাসে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ডলার এবং শিশুদের নাস্তা, জুস ও স্কুলে নেওয়ার খাবারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসে আরও ৮০ থেকে ১২০ ডলার ব্যয় হতে পারে।   সব মিলিয়ে হিসাব করলে মিতব্যয়ী একটি বাংলাদেশি পরিবারের মাসিক বাজার খরচ সাধারণত ৬৫০ থেকে ৮০০ ডলারের মধ্যে থাকে। মাঝারি ব্যয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই খরচ ৮৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছায়। আর যারা নিয়মিত দেশি মাছ, গরুর মাংস বা খাসির মাংস কেনেন এবং তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করেন, তাদের মাসিক বাজার খরচ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি চার সদস্যের পরিবারের গড় খাদ্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৫০ ডলার। তবে বাংলাদেশি পরিবারের ক্ষেত্রে দেশি খাদ্যপণ্যের চাহিদার কারণে এই ব্যয় গড়ে আরও ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই খরচ কমাতে কয়েকটি কৌশল অনুসরণ করেন। বড় পরিমাণে মাংস, ডিম ও দুধ একসঙ্গে কিনলে তুলনামূলক কম দাম পড়ে। আবার অনেক পরিবার একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মাছ কিনে ভাগ করে সংরক্ষণ করেন, এতে প্রতি পাউন্ডে কয়েক ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় হয়। এছাড়া বিভিন্ন সুপারমার্কেটের সাপ্তাহিক মূল্যছাড় ও ডিজিটাল কুপন ব্যবহার করেও প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বাঁচানো সম্ভব।   তবে বাজার খরচ অঙ্গরাজ্য, শহর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়ার মতো উচ্চ ব্যয়বহুল এলাকায় একই ধরনের পরিবারের মাসিক বাজার খরচ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।   এই প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যান, বাজারদর এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির কেনাকাটার ধারা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যয় পরিবার ও এলাকার ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ১০:৭
আবদুল এল-সায়েদ: ইতিহাসের দোরগোড়ায়।ছবি:সংগৃহীত

মিশিগানে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ; যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে

জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিজে কাজ করা ব্রিটিশ মেকআপ শিল্পী আভা গিলিস।ছবি:সংগৃহীত

‘বার্বি’ ও ‘ব্রিজারটন’-এর মেকআপ আর্টিস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত! ২৬ বছরেই থেমে গেল সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ার

অভিযানে পুলিশ। ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য সতর্কবার্তা: ১০টি সাধারণ ভুলেই গুনতে হতে পারে হাজার ডলারের জরিমানা

অস্ত্রধারী। ছবি:সংগৃহীত
ট্রাম্পের নির্ধারিত উপস্থিতির আগে ভেন্যুতে অস্ত্রধারীকে গ্রেপ্তার, তদন্তে এফবিআই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্যালিফোর্নিয়ার ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবে অস্ত্রসহ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ট্রাম্পের নির্ধারিত সফরের মাত্র কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ বছর বয়সী জিনিন জন টায়েলে নামের ওই ব্যক্তিকে র্যাঞ্চো পালোস ভার্দেসে অবস্থিত ট্রাম্প ন্যাশনাল গলফ ক্লাবের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তিনি গলফ কোর্সের বিভিন্ন অংশের ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করছেন বলে সন্দেহ হয়।   স্থানীয় শেরিফের কর্মকর্তারা তাকে আটক করে তল্লাশি চালিয়ে একটি লোডেড পিস্তল, গুলিভর্তি ম্যাগাজিন এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করেন। পরে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও আগ্নেয়াস্ত্র, বডি আর্মার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ম্যাগাজিন এবং উদ্বেগজনক কিছু নোটবুক জব্দ করা হয়। তদন্তে এফবিআইয়ের যৌথ সন্ত্রাসবাদবিরোধী টাস্কফোর্স এবং ইউএস সিক্রেট সার্ভিসও যুক্ত হয়েছে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন, নিষিদ্ধ গোলাবারুদ রাখাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি।   যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা হুমকির ঘটনার পর এই ঘটনাও বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য কী ছিল এবং তিনি একাই কাজ করছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ৫, ২০২৬ ৭:১৭
অফিসে একজন কর্মী।ছবি:সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাংলাদেশিদের জন্য কোন শহরে কাজ পাওয়া সহজ? প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।ছবি:সংগৃহীত

শেখ হাসিনার পতনের পেছনে ‘গ্যাং অব ফোর’? কী বলছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

আমেরিকার পাবলিক স্কুল।ছবি:সংগৃহীত

আমেরিকার পাবলিক স্কুলে সন্তানের জন্য ৮টি ফ্রি সুবিধা, যা অনেক বাংলাদেশি অভিভাবক জানেন না

0 Comments