সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ভিসা

ধীন এটিএমের ফি দেওয়া যোগ্য গ্রাহকরা সমঝোতার অর্থ পেতে পারেন
ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের সমঝোতা, জানুন টাকা আবেদনের শর্ত ও যোগ্যতা

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তুলতে ফি দিয়েছেন, এমন অনেক গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের মামলার সমঝোতা থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে যোগ্য ব্যক্তিদের ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি জমা দিতে হবে। সমঝোতাটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   মামলায় অভিযোগ করা হয়, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা অন্য নেটওয়ার্কে লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের খরচ কম হলেও গ্রাহকদের কম ফি নিতে পারতেন না। ফলে গ্রাহকদের বেশি ফি দিতে হয়েছে বলে মামলাকারীদের দাবি। ভিসা ও মাস্টারকার্ড কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি।   আদালত অনুমোদিত সমঝোতার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর অধীন অঞ্চলে স্বাধীন এটিএম থেকে কার্ড ব্যবহার করে নিজের ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা নগদ অর্থ তুলতে গিয়ে যাঁরা ফি দিয়েছেন, তাঁরা যোগ্য হতে পারেন। শর্ত হলো, তাঁদের ব্যাংক ওই ফি পুরোপুরি ফেরত দেয়নি। এখানে স্বাধীন এটিএম বলতে ব্যাংক বা অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়, এমন এটিএম বোঝানো হয়েছে।   ক্রেডিট কার্ড দিয়ে নগদ অগ্রিম নেওয়া কিংবা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই দাবির আওতায় পড়ে না। দাবি জমার সময় প্রমাণপত্র দিতে না হলেও পরে দাবির পক্ষে নথি চাইতে পারেন সমঝোতার প্রশাসক।   মোট তহবিলের পুরো অর্থ গ্রাহকদের মধ্যে ভাগ হবে না। আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, কর ও প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যোগ্য দাবিদারদের অর্থ দেওয়া হবে। একজন কত টাকা পাবেন, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।   আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সমঝোতাটির চূড়ান্ত অনুমোদন নিয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই দাবি জমা দিলেই অর্থ পাওয়া নিশ্চিত নয়; দাবির যোগ্যতা যাচাই এবং আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর তা নির্ভর করবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় দেওয়া অতিরিক্ত ফি নিয়ে ভিসা-মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত সমঝোতা।
এটিএম থেকে টাকা তুলতে অতিরিক্ত ফি দিয়েছেন! মিলতে পারে ভিসা-মাস্টারকার্ডের সেটেলমেন্টের টাকা

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাধীনভাবে পরিচালিত এটিএম থেকে টাকা তোলার সময় অতিরিক্ত ফি দেওয়া কিছু গ্রাহক ভিসা ও মাস্টারকার্ডের ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবিত ক্লাস অ্যাকশন সেটেলমেন্ট থেকে অর্থ পেতে পারেন। তবে সেটেলমেন্টটি এখনো আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।   মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, ভিসা ও মাস্টারকার্ডের নেটওয়ার্কের নিয়মের কারণে স্বাধীন এটিএম পরিচালনাকারীরা প্রতিযোগী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কম খরচে লেনদেন সম্ভব হলেও গ্রাহকদের জন্য কম এটিএম সারচার্জ নির্ধারণ করতে পারতেন না। এর ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অ্যাক্সেস ফি নেওয়া হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ভিসা ও মাস্টারকার্ড অবশ্য কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেনি।   প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ভিসা দেবে ৮৮.৭৭৫ মিলিয়ন ডলার এবং মাস্টারকার্ড দেবে ৭৮.৭২৫ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে সেটেলমেন্ট ফান্ডের পরিমাণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলার। তবে আইনজীবীদের ফি, মামলা পরিচালনার খরচ, প্রশাসনিক ব্যয়সহ অন্যান্য অনুমোদিত খরচ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।   কারা টাকা পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন?   সেটেলমেন্টের নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৪ আগস্টের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বা এর কোনো অঞ্চলে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন নয়—এমন স্বাধীন এটিএম থেকে নগদ টাকা তুলতে গিয়ে সারচার্জ বা অ্যাক্সেস ফি দিয়ে থাকলে আপনি সাধারণ শ্রেণির সদস্য হতে পারেন। সেই ফি আপনার ব্যাংক পুরোপুরি ফেরত দিয়ে থাকলে আপনি যোগ্য নাও হতে পারেন।   এ ক্ষেত্রে লেনদেনটি ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত এটিএম বা পিন-ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ তোলার হতে হবে। ক্রেডিট কার্ড, ক্যাশ অ্যাডভান্স বা প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এই শ্রেণির মধ্যে পড়ে না। ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস ও মিশিগানের কিছু বাসিন্দা আলাদা স্টেটওয়াইড ক্লাসের আওতায়ও পড়তে পারেন।   কত টাকা পাওয়া যাবে?   প্রত্যেক যোগ্য গ্রাহক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ ১৬৭.৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল থেকে আইনজীবীদের ফি, মামলা ও প্রশাসনিক খরচসহ অন্যান্য অনুমোদিত ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থ যোগ্য দাবিদারদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তাই ব্যক্তিপ্রতি অর্থের পরিমাণ দাবির সংখ্যা ও অন্যান্য বিষয় অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।   সেটেলমেন্ট আদালতের অনুমোদন পাওয়ার পর এবং কোনো আপিল না থাকলে অর্থ বিতরণ শুরু হতে পারে। অর্থ ইমেইলের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্ট হিসেবে পাঠানো হবে। পেপ্যাল বা ভার্চুয়াল ডেবিট কার্ডের মতো পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে এবং কাগজের চেকও চাওয়া যাবে।   কীভাবে আবেদন করবেন?   টাকা পেতে হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লেইম ফর্ম জমা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে ক্লেইম জমা দিতে হবে।   এই মুহূর্তে ক্লেইমের সঙ্গে কোনো নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে পরে দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসক ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা অন্য কোনো প্রমাণ চাইতে পারেন। তাই পুরোনো এটিএম লেনদেনের তথ্য বা ব্যাংক রেকর্ড থাকলে তা সংরক্ষণ করা ভালো।   ক্লেইম জমা দেওয়ার জন্য সেটেলমেন্টের সরকারি ওয়েবসাইটে ফর্ম পূরণ করা যায়। ডাকযোগে পাঠাতে হলে ঠিকানা হলো: নন-ব্যাংক এটিএম সারচার্জ ফি সেটেলমেন্ট, সি/ও এ.বি. ডেটা লিমিটেড, পি.ও. বক্স ১৭৩০৫৩, মিলওয়াকি, উইসকনসিন ৫৩২১৭।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
শ্রমিকসংকটের জরুরীভিত্তিতে কৃষি ভিসা দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া

ফসল কাটার মৌসুমে শ্রমিকসংকটের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া জরুরি কৃষিকাজে প্রয়োজনীয় কিছু বিদেশি কর্মীর ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কৃষি খাতের সংগঠনগুলো জরুরি প্রয়োজনের তথ্য তুলে ধরলে সংশ্লিষ্ট আবেদন অগ্রাধিকার পেতে পারে। এটি সবার জন্য নতুন ‘কৃষি ভিসা’ চালুর ঘোষণা নয়।    অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার যেসব আবেদনকারীর কৃষিকাজে নির্দিষ্ট দক্ষতা রয়েছে, কোনো নিয়োগকর্তার সঙ্গে কাজের চুক্তি হয়েছে এবং তিন মাসের মধ্যে তাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের আবেদন চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে কৃষক সংগঠনের সঙ্গে কাজ করবে বিভাগটি। অগ্রাধিকার পাওয়ার অর্থ ভিসা অনুমোদনের নিশ্চয়তা নয়।    গমসহ শীতকালীন ফসল কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় কৃষক সংগঠনগুলো ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা, প্রয়োজনের সময় অভিজ্ঞ কর্মীরা পৌঁছাতে না পারলে ফসল সংগ্রহ ব্যাহত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে জরুরি আবেদনগুলো দ্রুত দেখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।    বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য ভিসার ধরনটি আলাদা করে বোঝা জরুরি। কৃষিকাজের জন্য আবেদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার এই ব্যবস্থা কোনো উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নয়; শুধু কৃষিকাজে আগ্রহী হলেই এর আওতায় আবেদন করা যায় না। আবেদনকারীর নির্দিষ্ট ভিসার যোগ্যতা ও নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির মতো শর্ত প্রযোজ্য। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র বিভাগের কৃষিকাজসংক্রান্ত নির্দেশনাতেও কাজের সুযোগগুলো ভিসার ধরন অনুযায়ী আলাদা করে দেখানো হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইএস
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডে আনতে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত পরিবারের আকার অনুযায়ী ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়।   ৪৮টি কনটিগুয়াস স্টেট, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসে ২০২৬ সালের হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।   ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ করতে হবে।   হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে আয়সীমা তুলনামূলক বেশি। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৩৯ হাজার ২৭৫ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৬০০ ডলার। আট সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ৮০ হাজার ৮৮ ডলার। এরপর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যোগ হবে।   স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলেও সব ক্ষেত্রে আবেদন শেষ হয়ে যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা যেতে পারে, পরিবারের অন্য সদস্যের যোগ্য আয় ফর্ম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে হিসাব করা যেতে পারে অথবা নির্দিষ্ট যোগ্য সম্পদ ব্যবহার করে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।   ফর্ম আই-৮৬৪ মূলত এমন একটি আর্থিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে স্পনসর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানান যে তিনি স্পনসর করা অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্পনসর করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা নিলে সেই সুবিধার খরচ ফেরত দেওয়ার দায়ও স্পনসরের ওপর আসতে পারে।   তবে সামরিক বাহিনীর কিছু স্পনসরের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বা কোস্ট গার্ডের সদস্য যদি নিজের স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্পনসর করেন, তাহলে সাধারণ ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ভিসা জালিয়াতি ও অপব্যবহারের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ভিসা জালিয়াতি ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন ওয়েবসাইট যুক্তরাষ্ট্রের

ভিসা জালিয়াতি, অপব্যবহার ও অভিবাসন আইনের অন্যান্য লঙ্ঘনের অভিযোগ জানাতে নতুন অনলাইন পোর্টাল চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সাধারণ মানুষ এই পোর্টালের মাধ্যমে সন্দেহজনক ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের তথ্য জানাতে পারবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নতুন এই উদ্যোগের ঘোষণা দেন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে চালু করা পোর্টালটির লক্ষ্য হলো ভিসা সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা, যা প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ভিত্তি হতে পারে। দপ্তর জানিয়েছে, জমা দেওয়া প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হবে এবং মার্কিন আইন কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযোগ জানানোর সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে যত বেশি তথ্য দেওয়া সম্ভব, তত ভালো। নাম, যোগাযোগের তথ্যসহ বিস্তারিত তথ্য দিলে তদন্তকারীদের প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে যোগাযোগ করা সহজ হবে। তবে চাইলে পরিচয় গোপন রেখেও অভিযোগ জমা দেওয়া যাবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশনায় এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অপব্যবহারের প্রতিটি অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।   নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা ও অভিবাসন আইন প্রয়োগে আরও কঠোর অবস্থানের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন থেকে ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ সরকারি সংস্থার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও সরাসরি সংগ্রহ করা হবে।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জন্ম পর্যটন বা ‘বার্থ ট্যুরিজম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন ভিসা বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তারের ঘটনাও সামনে এসেছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভিসা জালিয়াতি ও ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ চুরির অভিযোগ রয়েছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, লেজিট ডট এনজি

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে
আমেরিকার শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় যেতে কত সম্পদ লাগবে? জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে মোট সম্পদের দিক থেকে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যে থাকতে হলে বর্তমানে অন্তত ১৮ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থ প্রয়োজন। ভিসার নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাড়ি ও শেয়ারের মতো সম্পদের মূল্য বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের এই সীমাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে।    ভিসার হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ মার্কিন পরিবারকে এই স্তরের সম্পদশালী পরিবারের মধ্যে ধরা যায়। শুধু নেট ওয়ার্থ নয়, বার্ষিক পারিবারিক আয় ২ লাখ ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি হলেও ভিসার সংজ্ঞায় একটি পরিবার শীর্ষ ১০ শতাংশের সম্পদশালী শ্রেণিতে পড়ে।    নেট ওয়ার্থ বলতে একজন ব্যক্তি বা পরিবারের মোট সম্পদ থেকে মোট ঋণ বাদ দেওয়ার পর যে পরিমাণ থাকে, সেটিকে বোঝানো হয়। এর মধ্যে বাড়ির মূল্য, গাড়ি, রিটায়ারমেন্ট অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও নগদ অর্থের মতো সম্পদ থাকতে পারে। বিপরীতে মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন, গাড়ির লোন ও ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া ঋণের মধ্যে পড়ে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব অঞ্চলে শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের সীমা একই নয়। ভিসার বিশ্লেষণে পশ্চিমাঞ্চলে নেট ওয়ার্থের সীমা প্রায় ২০ লাখ ডলার, নর্থইস্টে ১৯ লাখ ডলার, সাউথে ১৮ লাখ ডলার এবং মিডওয়েস্টে ১৭ লাখ ডলার। জীবনযাত্রার খরচ ও সম্পদের মূল্যের পার্থক্য এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে।    সম্পদের এই ব্যবধান বোঝার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি। ইউবিএসের ২০২৬ গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক প্রতি গড় সম্পদ ছিল প্রায় ৬ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭ ডলার। একই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশি নতুন ডলার মিলিয়নিয়ার যুক্ত হয়েছে।    ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সার্ভে অব কনজিউমার ফাইন্যান্সেসে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৯০০ ডলার। একই সময়ে শীর্ষ ১০ শতাংশ পরিবারের মধ্যম নেট ওয়ার্থ ছিল প্রায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার ৬০০ ডলার।    এখানে আয় ও নেট ওয়ার্থের পার্থক্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারও বার্ষিক আয় বেশি হলেও তার যদি বড় মর্টগেজ, স্টুডেন্ট লোন বা অন্য ঋণ থাকে, তাহলে নেট ওয়ার্থ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার তুলনামূলক মাঝারি আয় থাকলেও বাড়ির মূল্য, রিটায়ারমেন্ট সেভিংস ও বিনিয়োগের কারণে কারও নেট ওয়ার্থ অনেক বেশি হতে পারে।   ভিসার বিশ্লেষণ বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদশালী পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘ধনী’ হওয়ার প্রচলিত ধারণাটিও বদলাচ্ছে। একসময় ১০ লাখ ডলারের নেট ওয়ার্থকে বড় আর্থিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হলেও সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এখন সেটি দেশের শীর্ষ ১০ শতাংশে প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়।    তবে এসব হিসাব কোনো পরিবারের জীবনযাত্রার সামগ্রিক আর্থিক নিরাপত্তা বা স্বাচ্ছন্দ্য নির্ধারণ করে না। কোথায় বসবাস করছেন, বাড়ির দাম, মর্টগেজের পরিমাণ, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার খরচের ওপর একই পরিমাণ নেট ওয়ার্থের বাস্তব মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর
ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের এইচ-১বি ফি বাড়লো আরও এক বছর, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার নির্দিষ্ট আবেদনে ১ লাখ ডলারের অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা আরও এক বছর বাড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন ঘোষণায় এই বিধিনিষেধ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।    ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই নিয়ম চালু করা হয়। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট এইচ-১বি কর্মীদের নতুন ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হয়। তবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।    নতুন ঘোষণাটি এসেছে যখন এই ফি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে। ২০২৬ সালের জুনে একটি ফেডারেল আদালত এই অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতাকে বেআইনি বলে রায় দেয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান রয়েছে। ফলে নীতিটি আগামী এক বছর বহাল রাখার পাশাপাশি এর আইনি বৈধতাও আদালতে পর্যালোচনার মধ্যে থাকছে।    হোয়াইট হাউসের দাবি, এই নীতির লক্ষ্য এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং কম বেতনের বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের ওপর চাপ তৈরি বন্ধ করা। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর বড় আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোর এইচ-১বি নিবন্ধন ৯২ শতাংশ কমেছে।    তবে ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে এই নীতির প্রভাব নিয়ে আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য, অতিরিক্ত ব্যয় দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাধা তৈরি করতে পারে। প্রযুক্তি খাতসহ যেসব শিল্প এইচ-১বি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে নিয়োগ পরিকল্পনাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।    নতুন ঘোষণায় বর্তমান এইচ-১বি ভিসাধারীদের সব ক্ষেত্রকে একইভাবে এই ১ লাখ ডলারের অর্থের আওতায় আনা হয়নি। হোয়াইট হাউসের নথি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট নতুন এইচ-১বি কর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে এই অর্থ পরিশোধের শর্ত প্রযোজ্য। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মনে করলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথকভাবে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ পেশাজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা ও অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজের সুযোগ পান। তাই নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে এইচ-১বি ভিসায় যেতে আগ্রহী বিদেশি কর্মী এবং তাঁদের সম্ভাব্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যয়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল। তবে আদালতের চলমান মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নীতিটির ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করতে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনে নতুন নিয়ম, ফি ও সাক্ষাৎকার নিয়ে যা জানা জরুরি, জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ফি, সাক্ষাৎকারের স্থান এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের আবেদনকারীদের ভিসার ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ অধিকাংশ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে ১৮৫ ডলার। এই ফি ফেরতযোগ্য নয়। তবে কাজের জন্য H, L, O, P ও R শ্রেণির মতো পিটিশনভিত্তিক কিছু ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। E শ্রেণির ভিসায় ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য K শ্রেণির ভিসায় ২৬৫ ডলার ফি নির্ধারিত রয়েছে।   ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও আলাদা ফি প্রযোজ্য। অনুমোদিত I-130, I-600 বা I-800 পিটিশনের ভিত্তিতে পারিবারিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ফি ৩৪৫ ডলার এবং অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় ২০৫ ডলার নির্ধারিত রয়েছে।   ভিসা আবেদন করার ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকার কোথায় হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা আবেদনকারীদের সাধারণত নিজেদের নাগরিকত্বের দেশ বা বসবাসের দেশে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। অন্য দেশে আবেদন করলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসই ভিসা প্রসেসিংয়ের নির্ধারিত স্থানগুলোর একটি। তবে ভিসা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আবেদন ও সাক্ষাৎকারের পর কনস্যুলার অফিসার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।   এদিকে ২০২৬ সালে কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ভিসা সাক্ষাৎকারের সুযোগ নিয়েও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের পরীক্ষামূলক একটি কর্মসূচিতে নির্বাচিত কিছু পোস্টে যোগ্য B ভিসা আবেদনকারীরা অতিরিক্ত ৭৫০ ডলার ফি দিয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সাক্ষাৎকারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব দূতাবাসে চালু নয় এবং অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে।   তাই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসার ধরন, বর্তমান ফি, সাক্ষাৎকারের নিয়ম এবং দূতাবাসের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ফি পরিশোধের পর তা সাধারণত ফেরতযোগ্য নয় বলে আবেদনকারীদের সতর্কতার সঙ্গে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১৪:০
ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত
ভিসা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

ভিসা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় আইটি জায়ান্ট কগনিজ্যান্টের নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপের গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক ধাপ হওয়ায় এই সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের প্রক্রিয়ায় যেতে চাওয়া বিদেশি কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।   শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো ৮ সেপ্টেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, কগনিজ্যান্টের পার্ম ফাইলিং স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দপ্তর শ্রম বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হোয়াইট হাউস ফ্রড টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাজ করছে। তদন্তে ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং মার্কিন কর্মীদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   একই সময়ে সফটওয়্যার কোম্পানি ক্লাউডেরার পার্ম আবেদনও স্থগিতের কথা জানানো হয়েছে। তবে কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে, কতটি আবেদন এর আওতায় পড়েছে এবং স্থগিতাদেশ কতদিন থাকবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত জানায়নি। এই ঘটনায় কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও ঘোষণা করা হয়নি।   পার্ম হলো যুক্তরাষ্ট্রে অনেক কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। সাধারণত কোনো নিয়োগকর্তা বিদেশি কর্মীকে স্থায়ীভাবে স্পনসর করার আগে শ্রম বিভাগকে দেখাতে হয় যে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও আগ্রহী কোনো মার্কিন কর্মী সহজলভ্য নেই এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে থাকা মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।   পার্ম অনুমোদনের পর নিয়োগকর্তা সাধারণত গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যেতে পারেন। ফলে নতুন পার্ম আবেদন জমা দিতে না পারার কারণে কগনিজ্যান্টের যেসব কর্মীর ক্ষেত্রে এখনো এই ধাপ শুরু হয়নি, তাদের গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে।   তবে এই স্থগিতাদেশের অর্থ কগনিজ্যান্টের কর্মীদের আগে থেকে অনুমোদিত গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে গেছে, এমন নয়। একইভাবে, আগে অনুমোদিত পার্ম সার্টিফিকেশন বা বিদ্যমান ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাতিলের কথাও কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় বলা হয়নি।   কগনিজ্যান্ট যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এইচ-ওয়ান-বি স্পনসরকারী আইটি সেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে এর সদর দপ্তর নিউ জার্সির টিনেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের কার্যক্রম রয়েছে।   কগনিজ্যান্টের বিরুদ্ধে তদন্তটি কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বৃহত্তর নজরদারির অংশ। এর আগে শ্রম বিভাগ এইচ-ওয়ান-বি ও পার্ম কর্মসূচির সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং একাধিক আইটি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।   ইন্সপেক্টর জেনারেল ডি’এসপোসিটো পরবর্তী এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে কগনিজ্যান্ট ও ক্লাউডেরার এইচ-ওয়ান-বি প্রসেসিং স্থগিতের কথাও উল্লেখ করেন। তবে এইচ-ওয়ান-বি সংক্রান্ত এই পদক্ষেপের সুনির্দিষ্ট আইনি পরিধি, কোন ধরনের প্রসেসিং এর আওতায় পড়ছে এবং বিদ্যমান এইচ-ওয়ান-বি কর্মীদের ওপর এর প্রভাব কী হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ্যে আসেনি।   কগনিজ্যান্টের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিতের খবরটি এমন সময়ে এসেছে, যখন প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের কর্মীসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এক দিন আগে কগনিজ্যান্ট জানায়, তারা ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কলেজ গ্র্যাজুয়েট নিয়োগ করবে এবং ফ্রন্টিয়ার সার্টিফায়েড ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্রন্টিয়ার বিজনেস অপারেটর কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে ১৫ হাজার কর্মী করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফেডারেল তদন্ত চলমান থাকায় কগনিজ্যান্টের কর্মীদের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে তদন্তের ফল এবং শ্রম বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বর্তমান ঘোষণার ভিত্তিতে নতুন পার্ম আবেদন স্থগিত হওয়ায় যেসব কর্মীর গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপ এখনো এই ধাপে পৌঁছায়নি, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১৪:০
বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ
ডিভি লটারি ২০২৬: বাংলাদেশসহ ১৯ দেশের নাগরিকদের আবেদন নিষিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা বা ডিভি লটারি ২০২৬ কর্মসূচিতে বাংলাদেশসহ ১৯টি দেশের নাগরিকরা আবেদন করার যোগ্য ছিলেন না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগের পাঁচ বছরে এসব দেশ থেকে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করায় দেশগুলোকে ২০২৬ সালের ডিভি লটারির জন্য অযোগ্য ঘোষণা করা হয়।    বাংলাদেশ ছাড়াও অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, কানাডা, চীন, কলম্বিয়া, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও ভিয়েতনাম।    ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা কর্মসূচি, যা সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত, যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলক কম হারে অভিবাসী পাঠায় এমন দেশের নাগরিকদের জন্য স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে। আইনের আওতায় প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ডাইভারসিটি ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।    তবে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রকৃত ভিসা সংখ্যা ৫৫ হাজারের চেয়ে কম। নিকারাগুয়ান অ্যান্ড সেন্ট্রাল আমেরিকান রিলিফ অ্যাক্ট বা নাকারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিসা বাদ যাওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ অর্থবছরের ন্যাশনাল ডিফেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্টের সংশোধনের কারণে আরও ভিসা কমানো হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ডিভি-২০২৬-এর বার্ষিক সীমা প্রায় ৫২ হাজার ১০১-এ নেমে এসেছে।    ডিভি লটারিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে শুধু নাগরিকত্বই নয়, কোন দেশের ‘নেটিভ’ হিসেবে আবেদনকারী গণ্য হচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের অভিবাসন হার আগের পাঁচ বছরে নির্ধারিত সীমার বেশি হলে সেই দেশের নেটিভরা ডিভি কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারেন না।    বাংলাদেশিদের জন্য এই নিয়ম নতুন নয়। ডিভি-২০২৫ কর্মসূচির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অযোগ্য দেশগুলোর তালিকায় ছিল এবং আগের বছরগুলোর কর্মসূচিতেও একই কারণে বাংলাদেশি নেটিভরা আবেদন করতে পারেননি।    ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নির্বাচিত হওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। নির্বাচিত ব্যক্তিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব যোগ্যতা পূরণ করে ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। ২০২৬ অর্থবছরের ডিভি ভিসার সুবিধা পাওয়ার সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।    এদিকে ২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু করা সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীরা আবেদন ও সাক্ষাৎকারের প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারলেও বর্তমানে নতুন ডাইভারসিটি ভিসা ইস্যু করা হচ্ছে না।    তাই বাংলাদেশিদের জন্য ডিভি লটারি নিয়ে পুরোনো তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ১৪:০
আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব
আমেরিকার ভিসা পেতে কত টাকা লাগে? আবেদন থেকে ভিসা পাওয়া পর্যন্ত খরচ কত বাংলাদেশীদের জন্য নতুন হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে আবেদনকারীর খরচ ভিসার ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। বর্তমানে সাধারণ ভিজিটর ভিসা, অর্থাৎ ব্যবসা বা পর্যটনের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। শিক্ষার্থী ও অন্যান্য কিছু নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রেও ১৮৫ ডলার আবেদন ফি প্রযোজ্য। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য ২০২৬ সালে ভিসা বন্ডের নিয়ম চালু হওয়ায় মোট আর্থিক দায় অনেক বেড়েছে।    বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা বন্ডের নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ভিসা কর্মকর্তা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলারের বন্ড নির্ধারণ করতে পারেন। তবে ভিসা বন্ড দিতে হবে শুধু তখনই, যখন কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীকে এ নির্দেশ দেবেন। শুধু নিজের ইচ্ছায় বন্ডের টাকা জমা দিলে তা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।    এই বন্ড সাধারণ ভিসা ফি নয়। ভিসা অনুমোদনের পর নির্ধারিত শর্ত মেনে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ছাড়লে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বন্ডের টাকা যিনি জমা দেবেন, শর্ত পূরণ হলে ফেরতও তার কাছেই দেওয়া হবে।    ভিসা আবেদন ফি অবশ্য ফেরতযোগ্য নয়। অর্থাৎ আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি ফেরত পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বি-১/বি-২ ছাড়াও এফ-১ শিক্ষার্থী, এম-১ ভোকেশনাল স্টুডেন্ট, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটরসহ বেশ কয়েকটি নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ১৮৫ ডলার।    কাজের জন্য এইচ, এল, ও, পি, কিউ ও আর ক্যাটাগরির মতো পিটিশনভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ২০৫ ডলার। ই-ভিসার ক্ষেত্রে ফি ৩১৫ ডলার এবং মার্কিন নাগরিকের বাগদত্তা বা স্বামী-স্ত্রীর জন্য কে-ভিসার আবেদন ফি ২৬৫ ডলার।    ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে খরচের কাঠামো আলাদা। পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি বর্তমানে জনপ্রতি ৩২৫ ডলার। কর্মসংস্থানভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন ফি ৩৪৫ ডলার। অন্যান্য কিছু ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে ফি ২০৫ ডলার।    এর বাইরে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার পিটিশন, অর্থাৎ আই-১৩০ জমা দেওয়ার জন্য ৬৭৫ ডলার ফি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট পর্যালোচনার জন্য ১২০ ডলার ফিও প্রযোজ্য হতে পারে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর গ্রিন কার্ড তৈরির জন্য ইউএসসিআইএস ইমিগ্র্যান্ট ফিও দিতে হয়।    বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিসার মেয়াদ ও প্রবেশের সংখ্যা। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ রিসিপ্রোসিটি তালিকায় বি-১, বি-২ এবং বি-১/বি-২ ভিসার জন্য কোনো আলাদা রিসিপ্রোসিটি ফি দেখানো হয়নি। একই তালিকায় এসব ভিসার মেয়াদ তিন মাস এবং প্রবেশের সংখ্যা একবার উল্লেখ করা হয়েছে।    ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে কতদিন থাকা যাবে, সেটি ভিসার মেয়াদের সঙ্গে এক বিষয় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তা অনুমোদিত থাকার সময় নির্ধারণ করেন। তাই ভিসার গায়ে থাকা মেয়াদ দেখে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় নিশ্চিত ধরে নেওয়া উচিত নয়।   আরেকটি বিষয় হলো, ২০২৫ সালে আইন করে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের জন্য ২৫০ ডলারের ভিসা ইন্টেগ্রিটি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, এই ফি ভিসা ইস্যুর সময় নেওয়া হবে এবং পরবর্তী বছরগুলোতে মূল্যস্ফীতির ভিত্তিতে সমন্বয় করা যেতে পারে। তবে এই ফি কীভাবে এবং কোথায় সংগ্রহ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।    ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রয়োজনীয় ফি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী দিতে হয় এবং ভিসা না পেলে আবেদন ফি ফেরতযোগ্য নয়। ভিসার ধরন অনুযায়ী ফি পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করা জরুরি।    সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা করতে শুধু ১৮৫ ডলারের আবেদন ফি হিসাব করলেই হবে না। বিশেষ করে বি-১/বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ভিসা বন্ডের সম্ভাব্য অর্থ, ভ্রমণসংক্রান্ত অন্যান্য খরচ এবং প্রযোজ্য অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার
অভিবাসনবিরোধী উসকানিদাতা ইয়ান্নোপোলোসকে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করায় ব্রিটিশ ডানপন্থী ভাষ্যকার ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব মিলো ইয়ান্নোপোলোসকে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। নিউ অরলিন্সের লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গ্রেপ্তারের একদিন পর ২৮ আগস্ট তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী ইয়ান্নোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউইয়র্ক সিটি দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। চলতি বছরের ২২ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন জাজ তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেন। নির্ধারিত ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে তিনি উপস্থিত না হওয়ায় ওই আদেশ দেওয়া হয়।   আইসিই বৃহস্পতিবার নিউ অরলিন্স বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করে। পরদিনই তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়। ইয়ান্নোপোলোসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটির পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে তার দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের কারণে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি কঠোর ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। ২০২৫ সালের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দেন। এমনকি চলতি বছরের জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার সুপারমার্কেট, গ্যাস স্টেশন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলের প্রবেশপথে আইসিই চেকপয়েন্ট বসানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন।   ইয়ান্নোপোলোস একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনীতিতে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। প্রথম দফায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় তিনি ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম ব্রেইটবার্টের সম্পাদক হিসেবে পরিচিতি পান এবং ক্যাম্পাসে বক্তা হিসেবেও আলোচনায় আসেন। পরে বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে রক্ষণশীল রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রভাব কমে যায়।   তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় র‍্যাপার ইয়ে, যিনি আগে কানিয়ে ওয়েস্ট নামে পরিচিত ছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করেন। এর আগে জর্জিয়ার সাবেক কংগ্রেসওম্যান মার্জরি টেইলর গ্রিনের অফিসেও ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন।   ইয়ান্নোপোলোসের বহিষ্কার নিয়ে ডানপন্থী অ্যাক্টিভিস্ট লরা লুমারও প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ইয়ান্নোপোলোসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকা লুমার দাবি করেছেন, তিনিই তার ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নিয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। তবে তার অভিযোগই ইয়ান্নোপোলোসকে আটকের সরাসরি কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে ডিএইচএস কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।   ইয়ান্নোপোলোসের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট জোরদার করছে। তার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈধভাবে প্রবেশের পর অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান এবং ইমিগ্রেশন হিয়ারিংয়ে অনুপস্থিতির কারণেই তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৯, ২০২৬ ১৪:০
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিংয়ে বড় বিরতি, সেপ্টেম্বরে চালুর সম্ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রে সব ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রসেসিং সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ভিসা বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য এই বিরতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তাদের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ভিসা আবেদন যাচাই ও প্রসেসিংয়ের পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করতে পারেন এমন আবেদনকারীদের বিষয়ে নতুন বিধিনিষেধ কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটিই প্রশিক্ষণের অন্যতম বিষয়।   বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী এই স্থগিতাদেশ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট করে কোন তারিখে নিয়মিত প্রসেসিং পুরোপুরি শুরু হবে, তা স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়নি।   যেসব আবেদনকারীর চলতি মাসে ভিসা ইন্টারভিউ নির্ধারিত ছিল এবং এই সিদ্ধান্তের কারণে তা বাতিল বা পিছিয়ে গেছে, তাদের ইন্টারভিউ সেপ্টেম্বর, অক্টোবর অথবা নভেম্বর মাসে পুনর্নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এই সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির প্রভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কেউ সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা ভিসা যাচাইয়ের সময় আরও কঠোরভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   এর আগে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করার একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে গত সপ্তাহে ফেডারেল বিচারক জেনেট ভার্গাস রায় দেন, ওই নির্দেশনার মাধ্যমে রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। বিচারকের মতে, আইনসম্মত যোগ্যতা থাকা আবেদনকারীদের শুধু সরকারি সহায়তা নেওয়ার সম্ভাবনার কারণে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত নয়।    এর পরও ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন ব্যবস্থায় আরও কঠোর পরিবর্তনের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন অন্যান্য দেশের এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের B-1 ও B-2 বিজনেস ও ট্যুরিস্ট ভিসা বাতিলের প্রস্তুতিও নিচ্ছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাসাইলামের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে অ্যাসাইলাম প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ঘোষণা আসতে পারে।    ইমিগ্র্যান্ট ভিসা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিদের জন্য। অন্যদিকে ট্যুরিস্ট বা বিজনেস ভিসার মতো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এই সাময়িক স্থগিতাদেশের আওতায় নয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।    ফলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য এই সিদ্ধান্তে ভিসা প্রসেসিংয়ের সময় আরও পিছিয়ে যেতে পারে। তবে যাদের ইন্টারভিউ স্থগিত হয়েছে, তাদের আবেদন বাতিল হয়েছে এমন নয়; বরং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের ইন্টারভিউ পরবর্তী মাসগুলোতে পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া. ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
২ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে ঢাকায় নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস। আগামী ২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর কার্যক্রম শুরু হবে।   দূতাবাস জানিয়েছে, নতুন কেন্দ্র চালুর পর সাধারণ ভিসার আবেদন জমা দেওয়া এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের সব কার্যক্রম কোরিয়া ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার এর মাধ্যমে পরিচালিত হবে। ফলে এসব সেবার জন্য আবেদনকারীদের আর সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসে যেতে হবে না।   নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রটির ঠিকানা ২ এফ, বি অ্যান্ড টি নেহালিয়া টাওয়ার, প্লট ৮০, ব্লক বি, কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউ, ঢাকা ১২১৩।   সাধারণ ভিসার আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার তারিখ, পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ২৭ আগস্ট পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানাবে দূতাবাস।   তবে কূটনৈতিক ও অফিসিয়াল ভিসার ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। এসব ভিসার আবেদন, পাসপোর্ট সংগ্রহ এবং ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম আগের মতোই কূটনৈতিক নোটের ভিত্তিতে সরাসরি দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে।   এ ছাড়া নোটারাইজেশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটসংক্রান্ত সেবাও আগের নিয়মে দূতাবাস থেকেই দেওয়া হবে।   নতুন ভিসা আবেদন কেন্দ্রের কার্যক্রমের সময়সূচি, আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভিসা ফি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। আবেদনকারীদের সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের আশা, নতুন কেন্দ্র চালুর ফলে ভিসা আবেদনকারীদের ভোগান্তি কমবে এবং আবেদন জমা ও পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর হবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে
কানাডার ভিসা আবেদনে প্রতারণা বাড়ছে, ভুয়া ওয়েবসাইট ও দালাল থেকে সতর্ক করল কর্তৃপক্ষ

কানাডার ভিসা ও অভিবাসন আবেদনকে কেন্দ্র করে প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ভুয়া ওয়েবসাইট, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি এবং অনুমোদনহীন প্রতিনিধির মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছ থেকে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতারকেরা অনেক সময় সরকারি ওয়েবসাইট বা কর্মকর্তার পরিচয় নকল করে আবেদনকারীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করে। দ্রুত ভিসা করিয়ে দেওয়া, নিশ্চিতভাবে কানাডায় প্রবেশের সুযোগ বা উচ্চ বেতনের চাকরির নিশ্চয়তার মতো প্রলোভনও প্রতারণার অন্যতম লক্ষণ।    বিশেষ করে কোনো ওয়েবসাইটে আবেদন ফরম বা গাইড পেতে টাকা চাওয়া হলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আবেদন ফরম ও নির্দেশিকা তাদের সরকারি ওয়েবসাইটেই বিনামূল্যে পাওয়া যায়।    আবেদনকারীদের আরও বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই করতে। সরকারি কানাডীয় ওয়েবসাইট সাধারণত canada.ca অথবা .gc.ca ডোমেইন ব্যবহার করে। তবে শুধু ওয়েবসাইটে তালা চিহ্ন বা নিরাপদ সংযোগ দেখেই সেটিকে বৈধ ধরে নেওয়া উচিত নয়।    কর্তৃপক্ষের মতে, কোনো প্রতিনিধি বা পরামর্শদাতার মাধ্যমে আবেদন করলেও আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের দায় আবেদনকারীরই। তাই অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া কাউকে গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।    এ ছাড়া কেউ যদি ভিসা দ্রুত করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা, অস্বাভাবিক কম খরচে অভিবাসনের সুযোগ কিংবা আবেদন অনুমোদনের গ্যারান্টি দেয়, সেটিকে সম্ভাব্য প্রতারণার সংকেত হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কানাডার কর্তৃপক্ষ।    বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কানাডাগামী আবেদনকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—ভিসার নামে কোনো দালাল বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটকে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার আগে অবশ্যই সরকারি সূত্রে তথ্য যাচাই করা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৪:০
মাধুর মেহতা ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এইচ-১বি ভিসা পেয়েও যুক্তরাষ্ট্রে ঘর-সংসার নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় বংশোদ্ভূত মাধুর

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ বছর ধরে ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছেন  মাধুর মেহতা। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনে প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছেন। ২০২৬ সালে এইচ-১বি ভিসাও পেয়েছেন। তবু যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে ঘর কেনা কিংবা পরিবার শুরু করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ভিসার ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।    ৩৫ বছর বয়সী মেহতা ২০২১ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট ডালাস থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করেন। পড়াশোনা শেষে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে কাজের সুযোগ পেলেও দীর্ঘমেয়াদি ভিসার নিশ্চয়তা পাচ্ছিলেন না।   ২০২৫ সালে অ্যামাজনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তার এইচ-১বি ভিসার জন্য আবেদন করে। নতুন লটারি ব্যবস্থায় বেতনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়েও তখন উদ্বেগে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে ভিসা নির্বাচিত হওয়াকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখেন মেহতা।   তবে এইচ-১বি পাওয়ার পরও তার দুশ্চিন্তা পুরোপুরি শেষ হয়নি। চাকরি হারালে সাধারণত নতুন চাকরি খুঁজে নেওয়ার জন্য সীমিত সময় থাকে। ফলে চাকরি ও ভিসার অবস্থার ওপর তার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভরশীল।   মেহতার বাগদত্তাও ভারতের নাগরিক এবং তার এইচ-১বি লটারিতে আর মাত্র একটি সুযোগ বাকি। দুজনের ভিসার পরিস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা বা পরিবার শুরু করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।   এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মেহতার পরিচিত অনেক অভিবাসীও ভিসার অনিশ্চয়তার কারণে এখনো বাড়ি কেনার বদলে ভাড়া বাসায় থাকছেন বলে তিনি জানান।   মেহতা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জন্য এখন ইবি-১এ ভিসার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এটি পেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও নিশ্চিন্তভাবে পরিকল্পনা করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।   তার অভিজ্ঞতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দক্ষ বিদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার বিষয়টিও সামনে আনছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসা পাওয়া কর্মীদের বড় একটি অংশকে কয়েক বছর ধরে চাকরি, ভিসা এবং স্থায়ী বসবাস—তিনটি বিষয় একসঙ্গে সামলাতে হয়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি! টাকা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী চাকরি ও গ্রিন কার্ডের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইবি-৩ ভিসার নামে নানা ধরনের অফার প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবে অর্থ দেওয়ার আগে চাকরির নিয়োগকর্তা, পদের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুরো ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। কারণ ইবি-৩ কোনো দ্রুত বা নিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার আবেদন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রম সনদ, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়।  ইবি-৩ হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির অভিবাসী ভিসা। এর আওতায় তিন ধরনের আবেদনকারী রয়েছেন: দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য কর্মী। দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পেশাজীবী শ্রেণিতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রি প্রয়োজন। আর অন্যান্য কর্মী শ্রেণিতে দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন স্থায়ী, অস্থায়ী বা মৌসুমি নয় এমন কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।  অনেক ইবি-৩ আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ থেকে শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর নিয়োগকর্তা মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবায় কর্মীর জন্য আই-১৪০ আবেদন জমা দেন। তবে সব চাকরি বা ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। তাই কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর দেওয়া কাগজে শুধু ইবি-৩ লেখা আছে বলেই সেটিকে বৈধ চাকরির অফার ধরে নেওয়া উচিত নয়।  বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে নথিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নথি বা তথ্যও চাওয়া হতে পারে।  তাই ইবি-৩ সাক্ষাৎকারের আগে নিজের আবেদনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার নাম, প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের ব্যবসা করে, আপনার পদের নাম, কাজের দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং ওই পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, এসব তথ্য আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্যও ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যে পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই পদের শ্রম সনদে কী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে এবং আপনার নথি সেই শর্ত পূরণ করে কি না, তা আগে থেকেই মিলিয়ে দেখা উচিত। একইভাবে আগের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, ভ্রমণ, অভিবাসন আবেদন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য সম্পর্কেও সঠিক উত্তর দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অভিবাসন জটিলতার কারণ হতে পারে।   ঢাকায় অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের এক মাসের কম পুরোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চিঠি আনতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হয়। মার্কিন দূতাবাস, ঢাকার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মূল নথি ও প্রয়োজনীয় কপি সঙ্গে আনতে হয় এবং সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।  ভিসা সাক্ষাৎকার দিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের পর অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হলে বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগতে পারে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের সময়কাল প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।    ইবি-৩ নিয়ে প্রতারণা এড়াতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা বাস্তব ও বৈধ প্রতিষ্ঠান কি না, চাকরির প্রস্তাবটি সত্যি কি না এবং আপনার নামে করা অভিবাসন আবেদনের তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শ্রম সনদ প্রয়োজন হলে সেটির তথ্যও পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মধ্যস্থতাকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত গ্রিন কার্ড বা নিশ্চিত ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।   ইবি-৩ প্রক্রিয়ার সময়ও সবার জন্য এক নয়। ভিসা সংখ্যার সীমা, আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে ভিসা কতটা সহজলভ্য, তার ওপর অপেক্ষার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই ছয় মাসে নিশ্চিত গ্রিন কার্ডের মতো প্রতিশ্রুতিকে সরকারি তথ্যের সঙ্গে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।   কোনো ইবি-৩ অফারে টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত, শ্রম সনদ, আই-১৪০ আবেদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। জটিলতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। প্রতিটি অভিবাসন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করে গ্রহণ করে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে।    বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে।    জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।    দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে।    ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না।   আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে।    সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়।   নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা।   এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে।   মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়।   আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না।   অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতেই হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার

কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করলেই স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পাওয়া যায় না। স্টাডি পারমিট বা অন্য বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হলে এবং কানাডায় থাকার নতুন কোনো বৈধ পথ না থাকলে দেশে ফিরে যেতে হবে। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ এমন বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়া পোর্টেজ কলেজের একদল আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর বিক্ষোভের মধ্যে তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   গত ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন স্মিথ। সেখানে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এলে এবং তার ভিসা বা বৈধ স্ট্যাটাসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে, স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি না পেলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে। তবে স্মিথ একই সঙ্গে বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর এমন দক্ষতা থাকলে যা আলবার্টার শ্রমবাজারে প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে তাদের জন্য পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির বৈধ পথ তৈরির সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ তার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, স্টাডি পারমিট নিজে থেকে স্থায়ীভাবে কানাডায় থাকার নিশ্চয়তা দেয় না। কানাডার সরকারি ইমিগ্রেশন নীতিতেও একই মূলনীতি রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, স্টাডি পারমিটধারীদের তাদের পারমিটের শর্ত মেনে চলতে হয় এবং বৈধভাবে থাকার মেয়াদ শেষ হলে দেশ ছাড়তে হয়, যদি এর মধ্যে তারা অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস না পান।   সাধারণভাবে একজন শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিট তার শিক্ষা কার্যক্রমের মেয়াদের সঙ্গে অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকতে পারে। এই সময় শিক্ষার্থী কানাডা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে অথবা বৈধভাবে অবস্থান বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারেন। আবার যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে কানাডায় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা অর্জন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যায় না। বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে আলবার্টার পোর্টেজ কলেজের কিছু গ্র্যাজুয়েট। কলেজটির নির্দিষ্ট কয়েকটি নন ক্রেডিট প্রোগ্রাম শেষ করা শিক্ষার্থীদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ ভারতীয় শিক্ষার্থী। প্রত্যাখ্যানের পর ক্যালগারি ও এডমন্টনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিতেও অংশ নেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা যখন সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামে ভর্তি হন, তখন তাদের ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে পড়াশোনা শেষ করার পর তারা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের জন্য যোগ্য হবেন। পরে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয় এই যুক্তিতে যে তারা যে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন সেটি নন ক্রেডিট এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য নয়।   তবে ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা জানিয়েছে, নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে নতুন করে যোগ্যতার নিয়ম পরিবর্তন করা হয়নি। ২০২৬ সালের জুনে তাদের ওয়েবসাইটে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হয়েছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট পেতে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও যোগ্য প্রোগ্রাম সম্পন্ন করাসহ একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়। পোর্টেজ কলেজও জানিয়েছে, কিছু নন ক্রেডিট প্রোগ্রামের গ্র্যাজুয়েটের ওয়ার্ক পারমিট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার বিষয়টি তারা জানে। তবে কারও পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কলেজ নেয় না। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার কানাডার ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের। কলেজটি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের অনুমোদিত ইমিগ্রেশন আইনজীবী বা রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্টের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   এই পরিস্থিতি কানাডায় পড়তে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও সামনে এনেছে। কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কানাডার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেই সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রোগ্রাম পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্য হবে, এমন নয়। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম দুটির বর্তমান যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে স্টাডি পারমিট, পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট এবং পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি তিনটি আলাদা ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া। কানাডায় পড়াশোনা শেষ করার পর স্থায়ীভাবে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আলাদা বৈধ ইমিগ্রেশন পথ অনুসরণ করতে হয়। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করাই ভবিষ্যতে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় কড়াকড়ি, বাতিল হচ্ছে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’

বাংলাদেশিসহ বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের মেয়াদ ও ভিসা সংক্রান্ত আবেদনের প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এফ (F), জে (J) ও আই (I) ক্যাটাগরির ভিসাধারী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হতে যাচ্ছে। নতুন নিয়মের আওতায় অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং কাজের অনুমতির জন্য আবেদন ফরমের সংশোধিত সংস্করণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।   এই নতুন নীতির সবচেয়ে বড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বহুল প্রচলিত ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা ডি/এস (D/S) সুবিধা বাতিল করা। এতদিন পর্যন্ত এফ-১ ভিসাধারীরা অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও নির্দিষ্ট প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং শেষ করা পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদের বাধ্যবাধকতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ স্ট্যাটাস বজায় রাখতে পারতেন।   তবে নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে। ফরম আই-২০-তে উল্লেখিত কোর্সের সময়কাল অনুযায়ী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত অবস্থানের অনুমতি পাবেন শিক্ষার্থীরা এবং কোর্স সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। চার বছরের বেশি মেয়াদের কোর্স কিংবা অতিরিক্ত অবস্থানের প্রয়োজন হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মানুযায়ী সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম আই-৫৩৯ (অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানো বা ক্যাটাগরি পরিবর্তনের আবেদন) এবং ফরম আই-৭৬৫ (কাজের অনুমতির আবেদন)-এর নতুন সংস্করণ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের পর পুরোনো সংস্করণের ফরম জমা দিলে আবেদনপত্র সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।   মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন নীতিতে ধারাবাহিক কড়াকড়ি ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবেই শিক্ষার্থীদের ভিসা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় এই পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে আবেদনকারীদের ইউএসসিআইএসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে হালনাগাদ তথ্য ও সংশোধিত ফরম ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে কঠোর বার্তা দিলেন আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ। ছবি:সংগৃহীত
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতে হবে, জানালেন আলবার্টার প্রিমিয়ার

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া শিক্ষার্থী ভিসা একটি সাময়িক অনুমতি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থী স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা কানাডায় থাকার অন্য বৈধ মর্যাদা অর্জন করতে না পারলে তাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।   স্মিথের এই মন্তব্য এসেছে আলবার্টায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে। বিশেষ করে পোর্টেজ কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতি না পাওয়ায় প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের অনেকেই দাবি করছেন, কানাডায় পড়াশোনার সময় তাঁরা ভবিষ্যতে কাজ করার সুযোগ পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছিলেন।   ১২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে স্মিথ বলেন, শিক্ষার্থী ভিসা কানাডায় পড়াশোনার জন্য দেওয়া একটি সাময়িক নথি। আলবার্টার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মূলত প্রদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ থাকলে তার শর্তও স্পষ্ট—শিক্ষা শেষ করা এবং এরপর সেই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিজ দেশে জীবন গড়ে তোলা।   এর আগে ২৯ জুলাই রেড ডিয়ারে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনেও স্মিথ একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কেউ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় এসে শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি স্থায়ী বসবাসের অনুমতি না পান, তাহলে তাকে দেশে ফিরে যেতে হবে।   স্মিথের বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমানে আলবার্টায় আলোচিত পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কলেজটির কিছু সাবেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী স্নাতক হওয়ার পর স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার প্রতিবাদ করছেন। তাঁদের একটি অংশের অভিযোগ, পড়াশোনায় ভর্তি হওয়ার সময় তাঁরা যে তথ্য পেয়েছিলেন, পরে অভিবাসন-সংক্রান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সেটির মিল পাওয়া যায়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোর্টেজ কলেজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যবসা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচিতে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রায় দুই বছর ধরে পড়াশোনা করে এবং প্রায় ৩২ হাজার কানাডীয় ডলার পর্যন্ত টিউশন ফি দেওয়ার পর জানতে পারেন যে তাঁদের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন অনশন কর্মসূচিও পালন করেছেন।   শিক্ষার্থীদের মূল দাবির একটি হলো পড়াশোনা শেষ করার পর কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাওয়া। তবে প্রিমিয়ার স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, কানাডায় পড়াশোনার অনুমতি পাওয়া মানেই পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার নিশ্চিত হওয়া নয়। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে তাঁদের কর্মসূচি এবং পরবর্তী অভিবাসন সুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।   এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট বা পিজিডব্লিউপি। কানাডায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর এই অনুমতির মাধ্যমে দেশটিতে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব কর্মসূচি কিংবা সব শিক্ষার্থী এই সুবিধার জন্য যোগ্য নন। ফলে শুধু কানাডার কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিংবা ডিগ্রি সম্পন্ন করলেই পিজিডব্লিউপি নিশ্চিত হয় না।   পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে কারণ তাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে তাঁদের কাছে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, পরবর্তীতে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন বা বাতিল করার ক্ষমতা তাদের নেই। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণ এবং আইনি পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।   কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থী হিসেবে প্রবেশ এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার দুটি আলাদা বিষয়। কোনো শিক্ষার্থী বৈধভাবে পড়াশোনা শেষ করলেও পরবর্তী সময়ে তাকে কানাডায় থাকতে হলে নতুন কোনো বৈধ অনুমতি বা অভিবাসন মর্যাদা প্রয়োজন হতে পারে। তাই শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার তৈরি হয় না।   একই সঙ্গে ড্যানিয়েল স্মিথের বক্তব্যকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করাও ঠিক হবে না যে কানাডায় থাকা সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীকে ভিসা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্যতামূলকভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। মূল বক্তব্য হলো, বৈধ থাকার অনুমতি শেষ হয়ে গেলে এবং স্থায়ী বসবাস বা অন্য কোনো বৈধ মর্যাদা না থাকলে কানাডায় থাকার অধিকার থাকে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হতে পারে।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কানাডার সামগ্রিক অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের কারণে। দেশটি সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষার মান নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে পড়াশোনা থেকে কাজ এবং পরবর্তীতে স্থায়ী বসবাসে যাওয়ার পথ আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠেছে।   স্মিথ একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কানাডায় আসার আগে অভিবাসনের ভবিষ্যৎ পথ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পরামর্শদাতা যদি পড়াশোনার সঙ্গে স্থায়ী বসবাসের নিশ্চয়তা দেওয়ার মতো প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে সেটি যাচাই না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।   বর্তমান পরিস্থিতিতে কানাডায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন কর্মসূচি পিজিডব্লিউপির জন্য যোগ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ও যোগ্যতার আওতায় রয়েছে কি না, পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির শর্ত কী এবং স্থায়ী বসবাসের জন্য আলাদা কী যোগ্যতা প্রয়োজন এসব আগে থেকেই যাচাই করা।   আলবার্টার প্রিমিয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্য তাই শুধু পোর্টেজ কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়; এটি কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বৃহত্তর বিতর্কেরও প্রতিফলন। বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কানাডায় থেকে কাজ করার প্রত্যাশা নিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তাটি স্পষ্ট শিক্ষার্থী হিসেবে কানাডায় প্রবেশ করা স্থায়ীভাবে বসবাসের নিশ্চয়তা নয় এবং বৈধ থাকার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে আইনসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Unknown আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০