মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা

ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন রিপার ড্রোন ভূপাতিত করে যুদ্ধের ৭০ শতাংশ লক্ষ্য অর্জনের দাবি ইরানের

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯ রিপার’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার পর তেহরান দাবি করেছে, চলমান যুদ্ধে তারা তাদের পূর্বপরিকল্পিত লক্ষ্যবস্তুর প্রায় ৭০ শতাংশে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, উত্তর পারস্য উপসাগরের আকাশপথ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তাদের আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ড্রোনটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সেটি ভূপাতিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যাধুনিক এই ড্রোনটির মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি টাকারও ওপরে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম এই এমকিউ-৯ ড্রোনটি সাধারণত নজরদারি ও নির্ভুল আক্রমণের কাজে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র। আইআরজিসি জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বুশেহের প্রদেশের জামে এলাকায় আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটিকে আঘাত হানা হয়। মূলত হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাবেই তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে গত সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে হেলিকপ্টারটি ইরান ভূপাতিত করেছে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।   ট্রাম্পের ওই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বাহিনী ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে আকস্মিক হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন আরব গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানি হামলার পর বাহরাইনে অন্তত ১৬টি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বুধবার ভোরে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর এবং জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তীতে অবশ্য দুই দেশই সাময়িকভাবে নিজেদের হামলা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।   এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং কমান্ড স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, মার্কিন হামলায় হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টির বেমানি এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের জন্য ব্যবহৃত দুটি বড় জলাধার ও সংশ্লিষ্ট যান্ত্রিক স্থাপনা ধ্বংস হওয়ায় ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা বর্তমানে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এই পাল্টা হামলাকে শক্তিশালী ‘প্রতিশোধমূলক আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন কোনো আগ্রাসন না চালানোর জন্য সতর্ক করেছে।

তাবাস্সুম জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ২ ক্রু উদ্ধার

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী ‘অ্যাপাচি’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গত সোমবারের এই ঘটনার পর ওই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ মঙ্গলবার ভোরে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ক্রু সদস্যরা সুস্থ আছেন। তবে এই দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই এই ঘটনার একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।   ঠিক কী কারণে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এটি ইরানি বাহিনীর হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি বিমান হারানোর ঘটনা।   ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার প্রতিক্রিয়ায় গত এপ্রিল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীও পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে। সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইরানি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করায় তারা এ পর্যন্ত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে এবং ৭টি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে। মূলত ওমান উপসাগরে ইরানি ড্রোন ও ছোট নৌকার হামলা প্রতিহত করতেই এই বিমানগুলো সেখানে টহল দিচ্ছল।   সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে এক ধরনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং শত্রুপক্ষ ও নিজেদের ভুল আক্রমণের কারণে আমেরিকার বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির অনুমতি প্রয়োজন হবে: ইরানের সামরিক কর্মকর্তা

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রণালি পার হতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হবে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে হবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির সময় ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকবে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হবে না।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে আইআরজিসির অনুমতির শর্ত—এই দুই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।   সূত্র: আল জাজিরা

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি ভাঙলে ‘ট্রিগারে আঙুল’—ইসরায়েলকে হিজবুল্লাহর হুঁশিয়ারি

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি যুদ্ধবিরতি ভাঙা হয়, তাহলে তাদের যোদ্ধারা আবার ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবে’।   হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশন-এ প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনটির মুজাহিদিনেরা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ প্রতিহত করতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর বর্তালেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে হিজবুল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Unknown এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেবে ইরান: পরবর্তী সংলাপ ঘিরে নতুন শর্ত

পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার সংলাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট তাসনিম সংবাদ সংস্থা এক অবহিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী তেহরান। তবে পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান।   তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি লেবাননের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, সেটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখবে ইরান। এমন কোনো অগ্রগতি হলে তা ভবিষ্যৎ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।   একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, সংলাপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যৌক্তিক কাঠামো’ অনুসরণ করতে হবে। অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়া বা পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।   ইরানি সূত্রগুলো বলছে, কেবল আলোচনা শুরু করাই নয়, বরং তা ফলপ্রসূ করতে পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা জরুরি। এ কারণে নতুন দফার সংলাপের আগে কিছু নীতিগত বিষয় নিশ্চিত করতে চায় তারা।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার সংলাপের তারিখ নির্ধারণ হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমঝোতার ওপর।

Unknown এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
চুক্তিতে মরিয়া তেহরান—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যোগাযোগের দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ‘খুব মরিয়া’ হয়ে উঠেছে।   চলমান অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প বলেন, মূল বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। তিনি জোর দিয়ে জানান, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে এখনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।   গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই আলোচনা রোববার সকালে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও বিদ্যমান মজুত নিয়ে মতপার্থক্যই ছিল প্রধান বাধা।   এদিকে আলোচনার ব্যর্থতার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেশটির সব বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের দাবি, অন্যদিকে কঠোর পদক্ষেপ—এই দ্বৈত অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি : সংগৃহীত
সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব ছাড়ার আহ্বান পেজেশকিয়ানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।   পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি হতে পারে।   এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনাকারী দলের সদস্যদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান।   পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান সম্ভব।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে হলে উভয় পক্ষকেই নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি।  ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন নৌ-অবরোধের হুমকি ‘হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এই হুমকিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে না।   শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলে উপস্থিত বিদেশি সামরিক শক্তির প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর এমন হুমকি তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি ছিল।   তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায়। এরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।   ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘প্রস্তর যুগ’ থেকে ‘স্বর্ণযুগ’: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে উত্তেজনাকর সেই শেষ মুহূর্তগুলো

এক চরম নাটকীয়তা আর ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া চরমসীমা (ডেডলাইন) শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়। হুমকি ও পাল্টা হুমকি: ধ্বংসের কিনারে বিশ্ব মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে উদ্দেশ্য করে এক চরম হুঁশিয়ারি দেন। তিনি হুমকি দেন যে, মঙ্গলবার ওয়াশিংটন সময় রাত ৮টার (গ্রিনিচ মান সময় মধ্যরাত) মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং পুরো ‘সভ্যতা’ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এমনকি কয়েক দিন আগেই তিনি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ (Stone Age) পাঠিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের এই ‘গণহত্যামূলক’ হুমকিতে বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে ধস নামে এবং বিশ্বনেতারা পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা শুরু করেন। মাঠের পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতা যখন ওয়াশিংটনে চরমসীমা ঘনিয়ে আসছিল, তখন মাঠের পরিস্থিতি ছিল রণক্ষেত্র। ইরানের খারেগ দ্বীপে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর পাওয়া যায়। অন্যদিকে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তারা তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানও পাল্টা হুমকি দেয় যে, তারা এই অঞ্চলের সব জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা বিষয়ক একটি প্রস্তাব রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়ে বাতিল করে দেয়। তারা ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের পক্ষ নিয়ে মার্কিন অবস্থানকে ‘একপেশে’ বলে আখ্যা দেয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও সমঝোতা এই চরম উত্তেজনার মাঝে দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের কাছে দুই সপ্তাহের জন্য ডেডলাইন পেছানোর আহ্বান জানান এবং ইরানকে ‘সদিচ্ছা’ হিসেবে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক আলোচনার পর অবশেষে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি ‘কার্যকর’ শান্তি প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা আলোচনার ভিত্তি হতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘প্রস্তর যুগ’ থেকে ‘স্বর্ণযুগ’ যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্পের সুর পুরোপুরি বদলে যায়। কয়েক দিন আগে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিলেও বুধবার তিনি এক পোস্টে বলেন, “বিশ্ব শান্তির জন্য এক বড় দিন! এটি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ (Golden Age) বয়ে আনতে পারে।” সামনের চ্যালেঞ্জ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনার পথ প্রশস্ত করেছে। তবে এই চুক্তিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। সাময়িক এই স্বস্তি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে এখনো বিশ্বজুড়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা বলছেন বিশ্বনেতারা

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। যুদ্ধবিরতি পরবর্তী চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শিগগিরই আলোচনায় বসার কথা রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর।   বিশ্ব নেতাদের প্রতিক্রিয়া: পাকিস্তান ও চীন: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তার মতে, মিত্রদের সহযোগিতায় লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, চীন এই সমঝোতায় নিজেদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার কথা তুলে ধরেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং একে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। রাশিয়া: রাশিয়ার পক্ষ থেকে কড়া মন্তব্য করে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর একপাক্ষিক ও উসকানিহীন হামলার যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তা ‘চরমভাবে ব্যর্থ’ প্রমাণিত হয়েছে। জাতিসংঘ ও ইইউ: জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন একে ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উত্তেজনা হ্রাস’ হিসেবে দেখছেন। তবে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস মনে করেন, এটি উত্তেজনার পথ থেকে এক ধাপ পিছিয়ে আসা। ভারত: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে বাধাহীন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে তারা আশাবাদী। দক্ষিণ কোরিয়াও একই সুর বজায় রেখেছে। ভিন্নমত (ইসরায়েল ও স্পেন): ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিলেও সাফ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ কড়া ভাষায় বলেছেন, যারা বিশ্বজুড়ে আগুন লাগায়, পরে এক বালতি পানি নিয়ে আসলে তাদের ঢালাও প্রশংসা করা যায় না। ফ্রান্স ও জার্মানি: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে লেবাননকেও এর আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। জার্মানি এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিশেষ ভূমিকার প্রশংসা করেছে। এছাড়া ইরাক, মিশর, ওমান, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া পৃথক বিবৃতিতে এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত একটি টেকসই এবং স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। ইউক্রেনও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে একই রকম দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে।   সূত্র: আল-জাজিরা।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
‘এক রাতেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব’: ট্রাম্পের হুমকিতে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরানকে লক্ষ্য করে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে মাত্র এক রাতের সামরিক অভিযানেই ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে সক্ষম এবং সেই অভিযান শুরু হতে পারে ‘আগামীকাল রাতেই’।   হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল Dan Caine।   সংবাদ সম্মেলনে মূলত ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানের বিষয়ে কথা বলা হয়। ট্রাম্প ওই অভিযানকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মার্কিন সেনাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে তিনি প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এই অভিযানে মোট ২১টি সামরিক উড়োজাহাজ অংশ নেয়।   ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘ভালোভাবেই এগোচ্ছে’। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, প্রয়োজনে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা চালানো সম্ভব।   বিশেষ করে ‘আগামীকাল রাত’ উল্লেখ করে দেওয়া এই বার্তাকে অনেকেই একটি স্পষ্ট আলটিমেটাম হিসেবে দেখছেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   তবে এ ধরনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনো Pentagon বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘মঙ্গলবার’ আলটিমেটাম ঘিরে ইরানে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তায় সাধারণ মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সাম্প্রতিক হুমকিকে কেন্দ্র করে ইরানে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুতে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া ভাষায় ইঙ্গিত দিয়েছেন যে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইরান সাড়া না দিলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ এসব হুমকিকে গুরুত্বহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও সংকট তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। তেহরানের এক তরুণ বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা কাজ করছে—বিদ্যুৎ, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবার অভাব দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।   অনেকে ইতোমধ্যে খাদ্য ও পানির মজুত শুরু করেছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক নারী বাসিন্দা। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে তা নিয়ে তারা সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।   ইরানের ভেতরে মতপার্থক্যও স্পষ্ট। কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন, তবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনাকে অনেকেই ‘লাল দাগ’ হিসেবে বিবেচনা করছেন। তাঁদের মতে, এমন হামলা হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সাধারণ মানুষই।   এদিকে চলমান উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ছে, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে। নির্মাণ ও সেবা খাতের অনেকেই কাজ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।   যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে অনেকাংশে। দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ তথ্যপ্রবাহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। বিকল্প উপায়ে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করলেও তা ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক সংকট—এই তিনের চাপের মধ্যে ইরানের সাধারণ মানুষ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে।

Unknown এপ্রিল ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প: অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আল–জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।   একই সঙ্গে ইরানের তেলের বিশাল মজুদ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ওই সম্পদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আয় সম্ভব হতো বলে দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে আছেন। তবে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন।   এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা হিসেবে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেননি।   হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

Unknown এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। বুধবার (১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কোনোভাবেই শত্রুদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। আইআরজিসি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডকে 'হাস্যকর কার্যকলাপ' হিসেবে অভিহিত করে স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমানে এই প্রণালির ওপর তাদের দৃঢ় ও দাপুটে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।   আইআরজিসির এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর দাবি উত্থাপন করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের রাষ্ট্রপতি তার কাছে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এই প্রস্তাব বিবেচনার ক্ষেত্রে তিনি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি যখন পুরোপুরি "উন্মুক্ত, বাধামুক্ত ও নিরাপদ” হবে, কেবল তখনই তিনি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাববেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানকে তেহরান সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।   দুই দেশের এমন বিপরীতমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক কর্তৃত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের হামলার সক্ষমতা এখনো আছে, তবে ‘অস্তিত্বের হুমকি নয়’—নেতানিয়াহু

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান এখনো ইসরায়েল-এর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা রাখে। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই সক্ষমতা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি নয়। ধারণকৃত এক বার্তায় দেওয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের শক্তিও আগের মতো নেই এবং তারা এখন আর ইসরায়েলের জন্য অস্তিত্বগত হুমকি হিসেবে বিবেচিত নয়।   তিনি আরও বলেন, চলমান সংঘাত ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে অঞ্চলের কিছু দেশের সঙ্গে নতুন ধরনের মিত্রতা গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   যদিও সম্ভাব্য এসব মিত্র দেশের নাম প্রকাশ করেননি, তবে শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য একদিকে যেমন ইরানের সামরিক সক্ষমতা স্বীকার করছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে—এমন বার্তা দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

Unknown মার্চ ৩১, ২০২৬ ১৪:০
লেবাননের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অফ বৈরুত (AUB)
ইরানের হামলার হুমকি: বৈরুতে আমেরিকান ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা

ইরানের নজিরবিহীন হামলার হুমকির মুখে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বিখ্যাত 'আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত' (এইউবি) তাদের সশরীরে পাঠদান কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার (২৯ মার্চ) এক জরুরি বার্তায় জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী সোম ও মঙ্গলবার সব ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হবে। ক্যাম্পাসে কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমিত সংখ্যক কর্মী উপস্থিত থাকবেন।   এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়েছে। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি স্পষ্ট আল্টিমেটাম দিয়েছে যে, সোমবার (৩০ মার্চ) তেহরান সময় দুপুর ১২টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই হামলার নিন্দা না জানায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাল্টা হামলার শিকার হবে। তারা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ক্যাম্পাস থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ফাদলো খৌরি এক বিবৃতিতে জানান, যদিও এখন পর্যন্ত সরাসরি হামলার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই, তবুও বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা থাকলেও বৈরুতের এই প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: আল আরাবিয়া

তাবাস্সুম মার্চ ২৮, ২০২৬ ১৪:০
আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় পতিত একটি প্রতিহতকৃত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ | ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবিতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ ভারতীয় নাগরিক আহত

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ৫ জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবির খলিফা ইকোনমিক জোনস (কেজেডএডি) কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিহত করলে এর ধ্বংসাবশেষ ওই এলাকায় আছড়ে পড়ে। আহত ভারতীয় নাগরিকদের আঘাতের মাত্রা মাঝারি থেকে সামান্য বলে জানানো হয়েছে। তবে তাদের বর্তমান অবস্থা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসাধারণকে গুজব থেকে বিরত থেকে শুধুমাত্র সরকারি ও যাচাইকৃত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার প্রভাব পড়ছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

তাবাস্সুম মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলে নিহত ১, আহত অন্তত ২৫

লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর রকেট হামলায় ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির উত্তরাঞ্চলের নাহারিয়ায় এই হামলায় একজন নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   একই দিনে ইরান ও হিজবুল্লাহর দফায় দফায় হামলার কারণে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজতে থাকে। রাজধানী তেল আবিব, মধ্যাঞ্চল এবং জেরুজালেমজুড়ে প্রায় সারাদিনই সাইরেন শোনা যায়, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র আকার নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সাম্প্রতিক এসব হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সূত্র: আল–জাজিরা

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে।   শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।   সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।   কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।   ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

Unknown মার্চ ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ঠেকাতে রাশিয়া–চীনের প্রতি ইরানের আহ্বান

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য রাশিয়া ও চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো, বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনসহ যারা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাদের উচিত এই পরিষদের অপব্যবহার রোধ করা।” আরাগচি আরও জানান, ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় অটল রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর যেকোনো হামলা ‘যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার’ শামিল হবে এবং এর জবাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ হামলা’ মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। তিনি দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে ‘গঠনমূলক আলোচনা’ চলছে এবং পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।   অন্যদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার প্রতি মস্কো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   সূত্র: প্রেস টিভি

Unknown মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বজুড়ে মার্কিনিদের জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করার পর থেকে বিশ্বব্যাপী মার্কিন ও ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর আক্রোশ ও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন তার নাগরিকদের সুরক্ষায় একের পর এক জরুরি সতর্কবার্তা জারি করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি হালনাগাদ বার্তায় বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের ‘বাড়তি সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।   পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় বলা হয়েছে, চলমান উত্তেজনার কারণে বিভিন্ন দেশের আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কেবল মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ওয়াশিংটন আশঙ্কা করছে যে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা কেন্দ্র অথবা আমেরিকানদের সমাগম ঘটে এমন স্থানগুলোতে হামলা চালাতে পারে।   সূত্র অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জনমনে চরম ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিবিসি-র প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে থাকা পশ্চিমাদের জন্য এক চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তাবাস্সুম মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Top week

নিহত গুগল কর্মকর্তা শীতল রজেসিয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে গুগলের শীর্ষ ভারতীয় নারী কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা করলেন স্বামী, ছেলেও হাসপাতালে

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০