বিশ্ব

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে তারা যুদ্ধ বন্ধে রাজি নয়। এতে করে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

কূটনৈতিক সূত্র ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিজেদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের আগ পর্যন্ত সামরিক তৎপরতা চালিয়ে যাওয়া হবে।

 

শর্ত না মানলে নয় যুদ্ধবিরতি

ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ, ভবিষ্যতে আর কোনো আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা, চলমান ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও দাবি করেছে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, এসব শর্তের কয়েকটি—বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ—যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।

 

সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানছে ইরান। ইতোমধ্যে ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে সংঘাত ধীরে ধীরে বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

 

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১৫ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। তবে পর্দার আড়ালে যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। পাকিস্তান ও তুরস্ক সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে বলে জানা গেছে। বৈঠক পাকিস্তান বা তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

 

ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষই সমঝোতায় আগ্রহী। তবে একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে দ্বিমুখী প্রশ্ন উঠেছে। সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


ইরানের কঠোর অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পদক্ষেপ—দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।

জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব কি বন্ধ? ইউএস ইমিগ্রেশন ওয়েবসাইটে কী বলা আছে

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস  এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।

অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

Advertisement

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইরান প্রশংসা করল এরদোয়ানকে

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান-এর প্রশংসা করেছেন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায়। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসী ইহুদিবাদী ইসরায়েলের নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে আমার প্রিয় ভাই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের দৃঢ় অবস্থান অত্যন্ত প্রশংসনীয়।   তুর্কি ভাষায় শেয়ার করা ওই বার্তায় পেজেশকিয়ান ইরানের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য এরদোয়ান এবং তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, আক্রমণকারী জায়নবাদী ইসরায়েলের নিন্দা জানানোর ক্ষেত্রে তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের অনড় অবস্থান প্রশংসার দাবি রাখে। ভ্রাতৃপ্রতিম তুর্কি জাতি দীর্ঘকাল ধরে মুসলিম বিশ্বের সাথে সংহতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এই সম্মানজনক পথে চলা অব্যাহত রাখব। ইরান-তুরস্কের এই সংহতি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থাকে আরও প্রভাবিত করতে পারে। উভয় দেশের নেতা মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে একাত্মতার বার্তা প্রদান করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের, পাল্টা ৫ শর্তে নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে

ছবি: সংগৃহীত

কূটনীতির আড়ালে সামরিক তৎপরতা, যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা ইরানের

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে শান্তির দূত পাকিস্তান! কেন ভারত নেই এই ভূমিকায়?

ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যকার রণংদেহী পরিস্থিতিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। যেখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অভাবনীয়ভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাকিস্তান, সেখানে ভারতের অবস্থান নিয়ে খোদ দেশের অন্দরেই উঠছে নানা প্রশ্ন। বুধবার ভারতের সংসদ ভবনে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এই অস্বস্তিকর প্রশ্নটিই তুলে ধরেছে বিরোধী শিবির। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দ্ব্যর্থহীনভাবে জানিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরাতে আলোচনার সেতুবন্ধন করতে পারলে তাঁরা গর্বিত হবেন। রয়টার্সের সূত্র অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই আমেরিকার ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তেহরানের হাতে পৌঁছে দিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটেই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়েন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে ভারত কি ইসলামাবাদের থেকে পিছিয়ে পড়ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর সাফ জানান, ভারত কোনো ‘দালাল রাষ্ট্র’ নয়। বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক আঙিনায় ভারত দালালের (ব্রোকার) কাজ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, সরকার এই সংকটে মোটেও মৌন নয়, বরং প্রয়োজনীয় সময়ে যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওমানে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান জুড়ে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইসরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর থেকেই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল অগ্নিগর্ভ হয়ে আছে। পাকিস্তান শান্তির দূত হওয়ার চেষ্টা করলেও ইরান অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আপসের গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকে ‘কূটনীতির প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজের পর এবার বাবেল মান্দেব প্রণালি বন্ধের হুমকি ইরানের: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শেষের পথে: হাউস স্পিকার মাইক জনসন

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে এরদোয়ান, ইরানের প্রশংসা

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে এরদোয়ান, ইরানের প্রশংসা

সিনেটর চাক শুমার
যুক্তরাষ্ট্রে কাটছে অচলাবস্থা: সিনেটে ডিএইচএস তহবিল নিয়ে সমঝোতা

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগ ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র (ডিএইচএস) মাসব্যাপী চলমান আংশিক অচলাবস্থা নিরসনে অবশেষে ঐতিহাসিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন মার্কিন সিনেটররা। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দফায় দফায় ভোট বাতিলের পর, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের আইনপ্রণেতারা এই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির অর্থায়নে একমত হয়েছেন। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতন না পাওয়া হাজার হাজার ফেডারেল কর্মীর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। তহবিলের অভাবে বিভাগটির কার্যক্রম এতদিন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। নতুন এই চুক্তির আওতায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ণ অর্থায়ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। রিপাবলিকানদের সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার দাবি এবং ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসন নীতিতে সংস্কারের বিষয়ে উভয় পক্ষই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সিনেটে বিলটি পাসের পর এখন তা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে পাঠানো হবে। সেখানে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্বাক্ষর করলেই এটি পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে। মূলত ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এবং সীমান্ত নীতি নিয়ে দুই দলের মধ্যে তীব্র মতবিরোধের জেরে ডিএইচএস-এর বাজেট আটকে ছিল। এর ফলে কোস্টগার্ড, টিএসএ (TSA) এবং সিক্রেট সার্ভিসের মতো সংবেদনশীল সংস্থার কর্মীরা বেতন ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছিলেন। বিশেষ করে মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা কর্মীদের ঘাটতির কারণে সাধারণ যাত্রী ও ফ্লাইট চলাচলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। সিনেটের প্রভাবশালী নেতারা এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তে কার্যক্রম স্বাভাবিক করা জরুরি ছিল। এখন সবার চোখ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের দিকে; সেখানে রক্ষণশীল রিপাবলিকানরা এই বিলটি কীভাবে গ্রহণ করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে মার্কিন প্রশাসনের এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধান।   সূত্র: সিবিএস নিউজ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের সেনাপ্রধান জেনারেল ফ্যাবিয়ান ম্যান্ডন।

মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অনির্ভরযোগ্য’ আখ্যা দিলেন ফরাসি সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরব ও কুয়েতে রাতভর ভয়াবহ ড্রোন ও মিসাইল হামলা ইরানের

জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক

বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব, জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের হুঁশিয়ারি

0 Comments