সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
বিশ্ব

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে আইআরজিসির অনুমতি প্রয়োজন হবে: ইরানের সামরিক কর্মকর্তা

Unknown প্রকাশ: এপ্রিল ১৮, ২০২৬ ২:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত আরোপ করেছে ইরান। দেশটির এক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রণালি পার হতে হলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর অনুমতি নিতে হবে।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী সব জাহাজকে আইআরজিসির অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে হবে। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালি দিয়ে পারাপারের অনুমতি পাবে। তবে সামরিক বা নৌবাহিনীর জাহাজের ক্ষেত্রে এই অনুমতি প্রযোজ্য হবে না।

 

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছিলেন, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতির সময় ১০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

 

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকলেও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বহাল থাকবে এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করা হবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা, অন্যদিকে আইআরজিসির অনুমতির শর্ত—এই দুই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

 

সূত্র: আল জাজিরা


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব

View more
নিহত মেডিকেল শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়া। ছবি: সংগৃহীত
গ্যাংস্টারদের টার্গেট ছিল অন্য কেউ, ভুল পরিচয়ে নিজ বাড়িতে খুন হলেন নিরপরাধ মেডিকেল শিক্ষার্থী

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তরুণ মার্কো তাপিয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় চার্চের যুবনেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তিনি ভুল পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন কি না, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।   মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনের মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের একটি বাড়িতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। বাড়িটিতে তখন মার্কো, তার মা-বাবা ও বোন ছিলেন। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে দেখতে পান। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ প্রথম দিকে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং জানিয়েছিল, নিহতের বয়স ২০-এর কোঠায়। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো তার পরিচয় মার্কো তাপিয়া হিসেবে প্রকাশ করে।   ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো তখন নিজের ঘরে বিছানায় ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে গুলি করে ঘাড় ও হাতে আঘাত করে। ঘটনাটি এমন একটি বাড়িতে ঘটেছে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মার্কোর পরিবার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের কাছে তার পরিচিতি ছিল একটি ছোটখাটো ট্রাফিক অপরাধের কারণে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি।   শিক্ষাজীবনেও মার্কোর সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ২০২৪ সালে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি স্নাতক কোর্স শুরু করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি নিয়ে একটি ইন্টার্নশিপেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মার্কো। প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় হিলসং চার্চেও যুবনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।   হিলসং চার্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দলও সম্প্রতি একটি পুরস্কার পেয়েছিল। গুরুতর পেশির ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন মার্কো ও তার দল। প্রায় এক মাস আগে ওই প্রকল্পের সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর মার্কোকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার শিকার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সিডনির ‘কোকোনাট কার্টেল’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভুল ব্যক্তি ও ভুল বাড়িতে হামলার ইঙ্গিত ছিল।   তবে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেচিন অ্যাটকিনস জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হিসেবে দেখছে। সিডনিতে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘কোকোনাট কার্টেল’ এবং আলামেডিন অপরাধী নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুলির ঘটনা ও সহিংসতার তদন্ত করছে পুলিশ।   মার্কোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। পুলিশ অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি। ঘটনার পর মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের ওই বাড়িটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়। স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলে আলামত সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক গাড়ি, মানুষ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্সে ১৮০০ ৩৩৩ ০০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ গ্লেন অ্যালপাইনের ওই আবাসিক এলাকা সাধারণত শান্ত বলেই পরিচিত। ডেইলি মেইলের সঙ্গে কথা বলা এক প্রতিবেশী জানান, কাছাকাছি বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো শব্দ শুনতে পাননি এবং পরে খবর দেখে ঘটনাটি নিজেদের রাস্তায় ঘটেছে বলে জানতে পারেন।   একই সময়ে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ঘিরে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক গুলির ঘটনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডে তার নিজের কোনো অপরাধী সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। নিহত তরুণের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে।   সূত্র: নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি), ডেইলি মেইল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ২২:১
গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি

গ্রিসের সঙ্গে ইসরায়েলের ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় সামরিক চুক্তি

স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ

ইসরায়েলে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভর্তি নিয়ে স্কুলে ক্ষোভ, ক্লাস বর্জনের ঘোষণা অভিভাবকদের

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় আসছে ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনা-মেরিন, যৌনকর্মীদের কড়া সতর্কবার্তা

নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি
একটি সিদ্ধান্ত, ৯০০ জীবন: নেপালে অধ্যক্ষের উপস্থিত বুদ্ধিতে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচল শত শত শিশু

নেপালে চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ হড়পা বান বা ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৯০০ ছাড়িয়েছে। তবে এই প্রাণহানির সংখ্যা অনায়াসেই দ্বিগুণ হতে পারত, যদি না নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদি সঠিক সময়ে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতেন। তাঁর মাত্র কয়েক মিনিটের ত্বরিত পদক্ষেপে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে ওই স্কুলের প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী।   গত বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে বন্যার বিষয়ে সতর্ক করে অধ্যক্ষ রাজেন্দ্রর কাছে পরপর চারটি ফোন আসে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করতে পেরে বানের আঘাত হানার মাত্র ১০ মিনিট আগে তিনি পুরো স্কুল খালি করার নির্দেশ দেন। যে বাসগুলো শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্কুলের দিকে আসছিল, সেগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে ঘুরিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর যেসব শিশু ততক্ষণে স্কুলে পৌঁছে গিয়েছিল, তাদের দ্রুত উঁচু স্থানে দৌড়ে আশ্রয় নিতে বলেন তিনি। এক অভিভাবক এসে যখন তাঁর মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন, তখন পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।   অধ্যক্ষ রাজেন্দ্র দাওয়াদির মতে, সিদ্ধান্ত নিতে সামান্য দেরি হলেই ঘটে যেত চরম বিপর্যয়। বিবিসির কাছে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমরা যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিতাম, যদি আর মাত্র ১০ মিনিট দেরি হতো, তবে আমি ও আমার শিক্ষার্থীরা আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেঁচে থাকতাম না।" এক শিক্ষার্থীও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছে যে, তারা আক্ষরিক অর্থেই মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে প্রাণে বেঁচে ফিরেছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মাঝে অধ্যক্ষের এই উপস্থিত বুদ্ধি ও দায়িত্ববোধ এখন চারদিকে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা

জ্যোতিষীর আয় বছরে ৩ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বছরে দেখেন শুধু ১ হাজার ক্লায়েন্ট!

প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী

প্রসবের ভয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিলেন নারী, ৪৬ বছর পর পেটে মিলল ‘পাথরের শিশু’

ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত

কলকাতার মুসলিম কলোনিতে মাসজুড়ে পানি বন্ধ, পাশের হিন্দু এলাকায় স্বাভাবিক

১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা
১৩ বছর বয়সেই এআই দিয়ে অ্যাপ বানিয়ে তিন দিনে আয় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা

চীনের সাংহাইয়ের ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী ঝু শুহান কোনো প্রোগ্রামিং অভিজ্ঞতা ছাড়াই এআইয়ের সহায়তায় একটি অ্যাপ তৈরি করে মাত্র তিন দিনে ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা। হাংজৌতে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের একটি এআই পণ্য বিপণন প্রতিযোগিতায় অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং শুহান তৃতীয় স্থান অর্জন করে।    শুহান সাংহাইয়ের একটি জুনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। প্রায় এক বছর আগে সে এআই ব্যবহার শুরু করে। গত ২১ থেকে ২৩ আগস্ট হাংজৌতে অনুষ্ঠিত মার্কেটিং হ্যাকাথনে ৫০টির বেশি দল অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটির বিশেষত্ব ছিল, প্রচলিত অর্থে কোনো প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের বিচার বা স্কোরিংয়ের বদলে বাস্তব গ্রাহকরা পণ্য কিনছেন কি না, সেটিকেই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি ধরা হয়।  শুহানের তৈরি অ্যাপটির নাম ‘জাইচ্যাং’। ইংরেজিতে যার অর্থ ‘অন সাইট’। এটি মূলত শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করার জন্য তৈরি একটি ভার্চুয়াল স্টাডি কম্প্যানিয়ন।   অ্যাপটিতে কোনো অভিভাবক নিজের ছবি আপলোড করলে সেটি ব্যবহার করে একটি ভার্চুয়াল অভিভাবক তৈরি করা যায়। এরপর শিশু বাড়ির কাজ করার সময় ক্যামেরার মাধ্যমে তার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে অ্যাপটি। শিশু পড়াশোনার বদলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে কিংবা পড়ার জায়গা ছেড়ে উঠে গেলে ভার্চুয়াল অভিভাবক কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে তাকে সতর্ক করে। পড়াশোনার সময় শেষ হলে অ্যাপটি শিশুর মনোযোগের মাত্রা নিয়ে একটি রিপোর্টও তৈরি করে।    অ্যাপটির ধারণা শুহান পেয়েছে নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই। তার বাবা-মা কাজে ব্যস্ত থাকায় পড়ার সময় সবসময় তার পাশে থাকতে পারতেন না। ফলে বাড়ির কাজ করার সময় তার মনোযোগ অন্যদিকে চলে যেত, এমনকি কখনো কখনো লুকিয়ে মোবাইল ফোনও ব্যবহার করত সে। একই ধরনের সমস্যায় তার অনেক সহপাঠীও পড়ে বলে জানিয়েছে শুহান।   এই অভিজ্ঞতা থেকেই শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পড়াশোনার সময় পাশে থাকার মতো একটি ডিজিটাল অভিভাবক তৈরির চিন্তা আসে তার মাথায়।   শুহানের প্রোগ্রামিং জ্ঞান খুবই সীমিত। অ্যাপ তৈরির সময় সে নিজের ভাষায় এআইকে তার ধারণা ও প্রয়োজন বোঝায়। এরপর এআইয়ের সহায়তায় প্রয়োজনীয় কোড তৈরি করে সে। ধারণা থেকে অ্যাপটির মূল কার্যক্রম দাঁড় করাতে তার তিন থেকে চার দিন সময় লাগে।    শুহান শুরুতে অ্যাপটিতে ‘মা রেগে যাচ্ছে’ ধরনের একটি ফিচার রাখার পরিকল্পনা করেছিল। কোনো শিশু বারবার পড়াশোনায় মনোযোগ হারালে অভিভাবককে বিষয়টি জানানোর কথা ছিল এই ফিচারের মাধ্যমে। পরে সেটি বাদ দেয় শুহান। তার ভাষ্য, শিশুদের নিয়ে নালিশ করার মতো কোনো ব্যবস্থা সে চায়নি। বরং অ্যাপটি যেন কোমলভাবে শিশুদের মনে করিয়ে দেয় এবং নিজেদের ভুল বুঝে সংশোধনের সুযোগ দেয়, সেটিই ছিল তার লক্ষ্য।   শুহানের ছোট ভাইও অ্যাপটির প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের একজন। তার দাবি, অ্যাপটি ব্যবহার শুরু করার পর ভাই পড়াশোনায় আগের চেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করেছে। এই অভিজ্ঞতা তাকে অ্যাপটি আরও উন্নত করার উৎসাহ দিয়েছে।   প্রতিযোগিতায় শুহানের অ্যাপটি প্রায় ৯০টি অর্ডার পায় এবং ১৮ হাজার ইউয়ান আয় করে। এর ফলে সে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং পুরস্কার হিসেবে আরও ৫ হাজার ইউয়ান পায়।    এখন অ্যাপটির আরও উন্নয়ন এবং কম দামে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শুহান। তার লক্ষ্য শুধু প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া নয়, বাস্তবে অভিভাবকদের কাজে লাগে এমন একটি পণ্য তৈরি করা।   শুহানের এই ঘটনা চীনে এআইয়ের মাধ্যমে তরুণদের প্রযুক্তি পণ্য তৈরির নতুন সম্ভাবনার দিকটি সামনে এনেছে। প্রোগ্রামিংয়ের প্রচলিত দক্ষতা ছাড়াই নিজের ধারণাকে এআইয়ের সাহায্যে একটি ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপ দেওয়ার এই উদাহরণ প্রযুক্তি তৈরির ক্ষেত্রে প্রবেশের বাধা কতটা কমে আসছে, সেটিও দেখাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩১, ২০২৬ ৩:২
বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে

বিয়ের দাওয়াত ভেবে গেলেন পার্টি সেন্টারে, গিয়ে দেখলেন নিজেরই বিয়ে!

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি

বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ

বিয়ের দুই দিন পরই ইসরায়েলি হামলায় নিহত নববধূ

0 Comments