সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#মধ্যবর্তীনির্বাচন

রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের চরম ভরাডুবির পর ব্যর্থতার দায়ভার কার কাঁধে পড়বে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার) পিট হেগসেথ। দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য তাকেই 'বলির পাঁঠা' বানানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   তবে অভিশংসন বা পদচ্যুতির মতো কঠিন লড়াই এড়িয়ে সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার একটি সহজ সুযোগ থাকলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন হেগসেথ। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নবনির্বাচিত গভর্নর মার্থা ব্ল্যাকবার্নের শূন্য হওয়া সিনেট আসনে তাকে নিয়োগের একটি গুঞ্জন থাকলেও, হেগসেথ সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।   পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের হুমকি সত্ত্বেও হেগসেথ ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের পদে বহাল থাকতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল হেগসেথের পরিচালিত যুদ্ধ। ফলে এই পরাজয়ের উল্লেখযোগ্য দায়ভার স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর বর্তায়।   হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন হেগসেথের ওপর চরম ক্ষুব্ধ এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প তার মিত্রদের মতামত নিচ্ছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী বছর হেগসেথকে একটি প্রকাশ্য অভিশংসন বিচার বা শুনানির মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।   গুঞ্জন জোরালো হলেও ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে হেগসেথের প্রশংসাই করেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন এবং তাকে বরখাস্ত করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের খবর হলো, এর আগে প্যাম বন্ডি এবং ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার আগেও ট্রাম্প ঠিক এভাবেই তাদের প্রশংসা করেছিলেন।   হেগসেথের বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেবার ইরাক যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিশাল পরাজয়ের ঠিক পরের দিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।   ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জন উলিওটও কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, হেগসেথ মার্কিন সামরিক কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছেন এবং আত্মসম্মানবোধ থাকলে তার নিজে থেকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।   উল্লেখ্য, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেটে সাতটি আসন হারিয়েছে এবং আরও দুটি আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) তারা কমপক্ষে ২৯টি আসন হারিয়েছে।   এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে, যারা আগামীতে ট্রাম্পের যেকোনো নীতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং খোদ প্রেসিডেন্টকেও তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখে ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কিছুটা কঠিন হলেও, রিপাবলিকানদের এই বিশাল পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের শাসনকালের প্রতি জনগণের চরম প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই ভরাডুবির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশজুড়ে ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছায়।   প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের পরিবার চরম বা মাঝারি আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছে এবং এর জন্য অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন।   মূল্যবৃদ্ধির এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই যুদ্ধ মোটেও জনপ্রিয় হয়নি; এমনকি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে আর কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, কট্টর রিপাবলিকানরাও একে সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হিসেবে দেখেছেন। জরিপ বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংঘাতকে মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।   এর পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তাও রিপাবলিকানদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের দায়ভার সরাসরি তার ওপর পড়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তার সমর্থন কমতে থাকে। নিজের মেয়াদের ব্যর্থতাগুলো আড়াল করতে গিয়ে তিনি নিজেকেই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রচারণাও তাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জেমস ট্যালারিকো, অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, আবদুল এল-সায়েদ কিংবা জন ওসফের মতো প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত সুচারুভাবে সামনে এনেছেন। এমনকি খোদ ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের কৌশলের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন।   এর পাশাপাশি, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ পুনরায় ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছে। অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর প্রতি ক্ষোভের কারণে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলো এবং মিসিসিপির মতো কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। ভোটারদের এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের বাস্তবমুখী কৌশলের কাছেই মূলত রিপাবলিকানদের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।   কিন্তু নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই জয় পাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।   গত ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি অর্থ বিতরণের প্রস্তাবটির নাম দিয়েছিলেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং আমদানি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের মাধ্যমে নাগরিকদের এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে। এমনকি নির্বাচনের আগে অক্টোবর মাসেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।   কিন্তু গতকাল ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে গেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত প্রধান শর্তটি আর পূরণ হচ্ছে না। নির্বাচনের ফলাফলের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার পাওয়ার আশাও শেষ?   তবে বিষয়টি শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪০ থেকে ২৪৫ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এত বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের কথা বললেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই আয় দিয়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করা সম্ভব নয়।   এ ছাড়া ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি কোনো অনুমোদিত সরকারি অর্থ বিতরণ কর্মসূচি ছিল না। এ ধরনের অর্থ বিতরণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।   সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার যে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প, নির্বাচনের ফলাফলে তার ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। আপাতত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো চেক আসছে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, রিপাবলিকানরা জিতলে যে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি ছিল, দলটির পরাজয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতির কী হবে?

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৪, ২০২৬ ১৩:০
মাস্কের রসিকতা
‘এবার স্পেস লেজার কাজ করেনি’, নির্বাচনে হারের পর মাস্কের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর নিজের ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজার’ নিয়ে রসিকতা করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, এবার আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজারগুলো কাজ করেনি।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগে আরেক পোস্টে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘আজ লালকে ভোট দিন।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে লাল রং রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এবারের নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট নির্বাচনী ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার। বিশেষ করে টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে বিপুল অর্থ দিয়েছেন তিনি।   তবে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পসমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের দাবি করা হচ্ছে।   রিপাবলিকানদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রকাশ্য সমর্থনের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় মাস্কের ‘স্পেস লেজার’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

নুরুল্লাহ সাইদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ
ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাটদের চমক, সিনেটর নির্বাচিত অ্যানি অ্যান্ড্রুজ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত সাউথ ক্যারোলাইনায় বড় রাজনৈতিক চমক দেখিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর রাজ্যটিতে সিনেট নির্বাচনে জয় পেলেন কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেশায় শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজের এই জয় রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে এমন একটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের বিজয় এসেছে, যেখানে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, অ্যান্ড্রুজ প্রায় ৯ লাখ ৮৪ হাজার ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডারলিন গ্রাহাম পেয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ১৬ হাজার ভোট। ভোট গণনার ভিত্তিতে অ্যান্ড্রুজের জয় নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো।   পরাজিত রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহাম ছিলেন প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বোন। চলতি বছরের জুলাইয়ে লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর তাঁকে সিনেটের শূন্য আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন পেয়ে পূর্ণ মেয়াদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁকে সমর্থন দেন এবং নির্বাচনের আগে তাঁর পক্ষে প্রচারণাও চালান। অন্যদিকে অ্যানি অ্যান্ড্রুজ নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, বাসস্থান, শিশুদের যত্ন এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ তাঁর প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   সাউথ ক্যারোলাইনায় সর্বশেষ ১৯৯৮ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ফ্রিটজ হলিংস সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় রাজ্যটির সিনেট আসনগুলোতে রিপাবলিকানদের আধিপত্য বজায় ছিল। সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে অ্যান্ড্রুজের বিজয় রাজ্যটির রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠেছে। তিনি সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম নারীও।   মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সাউথ ক্যারোলাইনায় অ্যান্ড্রুজের জয় ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন। একই সঙ্গে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটিতেও ভোটারদের সমর্থনে পরিবর্তন আসতে পারে, এবারের নির্বাচনী ফল সেই ইঙ্গিত দিয়েছে।  

সামিয়া ইসলাম নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
ফ্লোরিডায় আসন পুনর্বিন্যাসের কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজ নিজ আসনে ভোটারদের রায়ে বড় চমক দেখিয়েছেন তিন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য, তিন আসনেই হারলেন রিপাবলিকান প্রার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের সুবিধা বাড়াতে কংগ্রেসনাল নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলেও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্যারেড মস্কোভিটজ, ক্যাথি ক্যাস্টর ও পিয়া দান্ডিয়া নিজ নিজ আসনে জয়ী হয়েছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডেস্যান্টিসের উদ্যোগে নতুন নির্বাচনী মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা বাড়ানো। তবে নতুন সীমানায় অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের জয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   ফ্লোরিডার ২৫তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যারেড মস্কোভিটজ রিপাবলিকান স্কট সিঙ্গারকে পরাজিত করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাবে, মস্কোভিটজ পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট, আর সিঙ্গারের প্রাপ্ত ভোট ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে এ আসনে মস্কোভিটজকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন নির্বাচনী সীমানার কারণে আগের ২৩তম আসন ছেড়ে ২৫তম আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। রিপাবলিকানদের লক্ষ্য ছিল আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া, তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি।   ফ্লোরিডার ১৪তম কংগ্রেসনাল আসনেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ক্যাথি ক্যাস্টর। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক বেলট্রানকে হারিয়ে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, ক্যাস্টর পেয়েছেন ৫১ দশমিক ২ শতাংশ ভোট, আর বেলট্রান পেয়েছেন ৪৫ দশমিক ৯ শতাংশ। টাম্পা অঞ্চলের এই আসনটির সীমানাও নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়ে। কিন্তু নতুন নির্বাচনী এলাকায়ও ক্যাস্টরকে পরাজিত করতে পারেননি রিপাবলিকান প্রার্থী।   অন্যদিকে, ফ্লোরিডার ২২তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পিয়া দান্ডিয়া রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেসি আসকারকে পরাজিত করেছেন। সিএনএনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দান্ডিয়া পেয়েছেন ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট, আর আসকার পেয়েছেন ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২৪ মিনিটে এ আসনে দান্ডিয়াকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। নতুন সীমানায় গঠিত এই আসনটি নির্বাচনের আগে দুই দলের জন্যই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।   ফ্লোরিডার নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। চলতি বছরের ৪ মে নতুন কংগ্রেসনাল মানচিত্র আইনে পরিণত হয়। এর ফলে কয়েকটি ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত আসনের সীমানা পরিবর্তিত হয় এবং রিপাবলিকানদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বিশেষ করে মস্কোভিটজ ও ক্যাস্টরের আসন নতুন সীমানার কারণে আগের তুলনায় বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু নির্বাচনের ফল সেই পরিকল্পনার প্রত্যাশিত সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।   তিনটি আসনে ডেমোক্র্যাটদের এই জয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডার নতুন নির্বাচনী মানচিত্র রিপাবলিকানদের প্রত্যাশিত সুবিধা কতটা দিতে পেরেছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অন্যান্য আসনের ফল এবং প্রতিনিধি পরিষদের সামগ্রিক আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়েই নির্বাচনের পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা যাবে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিবিএস নিউজ ও ফ্লোরিডা ডিভিশন অব ইলেকশনস।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে
মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকানের সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের দিকে

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ভারতীয়-আমেরিকান ভোটারদের মধ্যে নতুন করে ডেমোক্র্যাটদের প্রতি সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। কার্নেগি এনডাউমেন্ট-ইউগভ-এর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে, ৬২ শতাংশ ভারতীয়-আমেরিকান নাগরিক আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের কংগ্রেসনাল প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। এর বিপরীতে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৯ শতাংশ ভোটার।   এই পরিসংখ্যানটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য একটি বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মধ্যে রিপাবলিকান পার্টি যে বাড়তি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে জরিপের প্রতিবেদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও তুলে ধরা হয়েছে।   সেখানে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের প্রতি এই বিপুল সমর্থনের পেছনে কেবল দলটির প্রতি আকর্ষণই কাজ করছে না; বরং রিপাবলিকান পার্টির প্রতি বিরোধিতাও একটি বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা প্রায় ৩৫ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা মূলত রিপাবলিকানদের আটকাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ নভেম্বর ৩, ২০২৬ ১৩:০
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়ছেন ৫১ মুসলিম আমেরিকান, কংগ্রেসে প্রার্থী ১১ জন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়ছেন ৫১ মুসলিম আমেরিকান, কংগ্রেসে প্রার্থী ১১ জন

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলিম আমেরিকানদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কংগ্রেসনাল, অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে ডজনখানেক মুসলিম আমেরিকান প্রার্থী এবার ব্যালটে লড়াই করছেন। প্রার্থীদের বিজয়ী করতে এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে টানতে বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও জোরালোভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।   মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভির (এমএনটিভি) তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অন্তত ৫১ জন মুসলিম আমেরিকান ব্যালটে রয়েছেন, যার মধ্যে ১১ জন লড়ছেন কংগ্রেসের জন্য। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে লড়ছেন আবদুল এল-সায়েদ; তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।   এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি পদে মুসলিম প্রার্থীদের প্রথম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদের মধ্যে নিউজার্সির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে অ্যাডাম হামাউই, নিউইয়র্কের স্টেট লেজিসলেচারে প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে আবীর কাওয়াস এবং টেক্সাস তথা আমেরিকান সাউথের প্রথম মুসলিম কাউন্টি এক্সিকিউটিভ হিসেবে লেটিশিয়া প্লামার নির্বাচিত হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এর বাইরেও মুসলিম কমিউনিটিতে পরিচিত নামের আরও প্রায় ৫০ জন প্রার্থীর কথা জানা গেছে, তবে তাদের অংশগ্রহণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার)-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশজুড়ে ২২৫ জন মুসলিম আমেরিকান নির্বাচিত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনটি গত আগস্টে 'মুসলিমস.ভোট' (Muslims.Vote) নামে একটি নির্দলীয় প্রচারণা শুরু করেছে, যার মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন ও ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   এবারের নির্বাচনী চক্রে ২০ লাখ নতুন মুসলিম ভোটার নিবন্ধনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। তারা ধারণা করছে, ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫ লাখ নিবন্ধিত মুসলিম ভোটার কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। উল্লেখ্য, মিশিগানের আগস্ট প্রাইমারির আগে কেয়ার ৪৮ হাজারেরও বেশি মুসলিম ভোটারের কাছে 'রোবোকল' প্রচারণার মাধ্যমে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল।   মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের মতে, ভোটারদের অগ্রাধিকারের জায়গাগুলোতে নানা ভিন্নতা রয়েছে। চলতি মাসে ওহাইওর কলম্বাসে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা গাজা যুদ্ধ, অভিবাসন নীতি এবং বাকস্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোকে তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। পাশাপাশি ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতার কথাও উঠে এসেছে; যার মধ্যে ভোটকেন্দ্রের কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি, যাতায়াত সমস্যা, আইডি সংক্রান্ত কড়াকড়ি এবং ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমার বিষয়টি অন্যতম।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে প্রশ্নের মুখে ডোনাল্ড ট্রাম্প
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও পরোয়া করেন না ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল মুনাফার দাবি

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষের মধ্যেই তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাম বাড়ার কারণে চালকদের বাড়তি খরচের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হতে পারে—এমন সতর্কতা তাঁর উপদেষ্টারা দিলেও তা নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি। গত ২৪ অক্টোবর জর্জিয়ায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। তাঁর ভাষায়, সমালোচনার আশঙ্কা থাকলেও তিনি এ বিষয়ে কথা বলা বন্ধ করবেন না।   জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত বিপুল আর্থিক সুবিধা পাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানার মতো তেল উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্যে তেল উত্তোলন ও বিক্রি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসছে। ট্রাম্প বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা তাঁকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে বলেও তাঁরা সতর্ক করেছিলেন। তবে উপদেষ্টাদের পরামর্শ উপেক্ষা করে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন, তাঁর বক্তব্য নিয়ে সমালোচনামূলক শিরোনাম হতে পারে। মানুষ যখন জ্বালানি কিনতে গিয়ে বাড়তি অর্থ ব্যয় করছে, তখন প্রেসিডেন্ট তেল থেকে বিপুল অর্থ আয়ের কথা বলছেন—এমন সমালোচনা আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এরপর তিনি বলেন, এসব নিয়ে তিনি পরোয়া করেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অর্থ উপার্জন করছে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তাঁর আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বারাক ওবামার সময়ের তুলনায় কম দামে জ্বালানি কিনছেন। একই বক্তব্যে তিনি ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে তাঁর এই তুলনার সঙ্গে বর্তমান জ্বালানির দাম ও আগের সময়ের সর্বোচ্চ দামের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর দেশটিতে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ২৯ ডলার। এক মাস আগে এই দাম ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৪৯ ডলার। অর্থাৎ সাম্প্রতিক এক মাসে দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এক বছর আগে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ০৬ ডলার। ফলে গত বছরের তুলনায় এখন চালকদের প্রতি গ্যালনে প্রায় ১ দশমিক ২৩ ডলার বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ। অন্যান্য জ্বালানির দামও চালকদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ২৫ অক্টোবর মধ্যম মানের পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন প্রায় ৪ দশমিক ৮০ ডলার। উন্নত মানের পেট্রলের দাম ছিল প্রায় ৫ দশমিক ২০ ডলার। ডিজেলের গড় দাম পৌঁছেছিল প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ ডলারে। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির দাম নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক সমালোচনাও জোরালো হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ট্রাম্পের বক্তব্যের ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তেল কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফার জন্য এটি যেন একটি সফল প্রেসিডেন্সি। তাঁর মন্তব্যে জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর আর্থিক লাভ এবং সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয়ের মধ্যে বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়। মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির দাম এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা কলেজের ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত এক জরিপে ৭৩ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটার বলেছেন, জ্বালানির দাম সামলানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে তাঁরা অসন্তুষ্ট। বিপরীতে ২৪ শতাংশ ভোটার তাঁর পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেন ৩ হাজার ৪৯৪ জন ভোটার। জরিপ অনুযায়ী, অসন্তোষ শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৭৭ শতাংশ ট্রাম্পের জ্বালানির দাম সামলানোর বিষয়ে অসন্তুষ্ট। একই মত দিয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের ৪২ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ নিজের রাজনৈতিক সমর্থক গোষ্ঠীর একাংশের মধ্যেও এ বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রথম দিন থেকেই জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে পেট্রল থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদনকারী কোম্পানি ও তেলসমৃদ্ধ অঙ্গরাজ্যগুলো বেশি আয় করতে পারে। তবে সেই সুবিধা সব সময় সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে পেট্রল, ডিজেল ও পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে জ্বালানি খাতের আয় বাড়লেও পরিবারের দৈনন্দিন খরচের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, পাম্পে জ্বালানির দাম আবার কমবে। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের সময় জাতীয় গড় দাম এক বছর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ব্যবধান এবং জ্বালানির ব্যয় নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ছে আইনি চাপ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার ভোটারকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ রাজ্যটির বিভিন্ন কাউন্টির নির্বাচনী কর্মকর্তাদের কাছে এমন ভোটারদের ব্যালট আলাদা করে রাখার দাবি জানিয়েছে, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচার বিভাগের পাঠানো চিঠিতে ভোটারদের সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং তথ্য যাচাইয়ের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী কর্মকর্তারা ফেডারেল সরকারের সরবরাহ করা তালিকার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা গেছে, তালিকায় থাকা কিছু ব্যক্তির ভোটার নিবন্ধন ইতিমধ্যে বাতিল হয়েছে, অনেকে আগে কখনো ভোট দেননি, আবার কিছু ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রেই জন্মগ্রহণ করেছেন। ফলে শুধু সন্দেহের তালিকায় নাম থাকার ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   বিষয়টি এখন নির্বাচনী অধিকার, নাগরিকত্ব যাচাই এবং ফেডারেল সরকারের ক্ষমতার সীমা নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সামনে একদিকে ভোটের বৈধতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব, অন্যদিকে যোগ্য ভোটারের অধিকার রক্ষার বিষয়টি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ৩ নভেম্বর ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তাই ভোটার তালিকা, নির্বাচনী নিরাপত্তা এবং ভোট দেওয়ার যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগের সময়ে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকদের জন্যও ভোটার নিবন্ধন ও নাগরিকত্বের তথ্য সঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই খবরের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটারদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।   নাগরিকত্ব ও ভোট দেওয়ার যোগ্যতা ব্যক্তিভেদে যাচাই করা হয়, এবং সন্দেহের তালিকায় নাম থাকা নিজেই কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা আইনি পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছেন। এই বিরোধের নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা যাচাই এবং নির্বাচনী প্রশাসনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
আইওয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
সেপ্টেম্বরের বড় ধাক্কা কাটিয়ে গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থন ফিরে পাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত ইকেলন ইনসাইটসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন গ্রামীণ ভোটারদের ৫০ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিপরীতে, ৪৯ শতাংশ তাঁর কাজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ, এই ভোটারগোষ্ঠীর মধ্যে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার এখন এক পয়েন্ট ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।   সেপ্টেম্বরে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর নতুন জরিপে এই পরিবর্তন দেখা গেল। তবে এক মাসের ব্যবধানে সমর্থন বাড়লেও গ্রামীণ ভোটারদের মনোভাব স্থায়ীভাবে বদলে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। ইকেলন ইনসাইটসের জরিপে দেখা গেছে, জুনে গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ছিল ৫১ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৪৮ শতাংশ। জুলাইয়ে চিত্র বদলে যায়—সমর্থন নেমে আসে ৪৭ শতাংশে, আর অসন্তোষ বেড়ে দাঁড়ায় ৫১ শতাংশে। আগস্টে ব্যবধান কিছুটা কমে সমর্থন ও অসন্তোষের হার হয় যথাক্রমে ৪৯ ও ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ওই মাসে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান মাত্র ৪০ শতাংশ গ্রামীণ ভোটার, আর ৫৯ শতাংশ তাঁর কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। অক্টোবরের নতুন জরিপে সমর্থন ৫০ শতাংশে ওঠায় এক মাসের ব্যবধানে তাঁর নিট অনুমোদনের হার ২০ পয়েন্ট উন্নত হয়েছে। তবে গ্রামীণ ভোটারদের এই উপগোষ্ঠী নিয়ে জরিপে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় ফলাফলে স্বাভাবিক ওঠানামার প্রভাব থাকতে পারে। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে সমর্থন বাড়লেও সামগ্রিক মার্কিন ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের অবস্থান এখনো নেতিবাচক। একই জরিপে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩৯ শতাংশ ভোটার, আর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৬০ শতাংশ। কংগ্রেসের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন। জরিপে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সমর্থন ৫০ শতাংশ, রিপাবলিকানদের পক্ষে ৪৫ শতাংশ। ১৫ থেকে ১৯ অক্টোবরের এই জরিপে সম্ভাব্য ১ হাজার ১০ জন ভোটার অংশ নেন। পুরো জরিপের নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট।   এই ফলাফল এমন সময়ে এসেছে, যখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আইওয়া, কানসাস ও আলাস্কার মতো রাজ্যে সিনেট নির্বাচন প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসব রাজ্যে জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কৃষি উৎপাদনের খরচ এবং পরিবারের আর্থিক চাপ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর আইওয়ার সিউক্স সিটিতে রিপাবলিকান সমর্থকদের এক সমাবেশে অংশ নেন ট্রাম্প। নভেম্বরের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে ভোট টানতে তাঁর এই সফর ছিল দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ। বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁকে যেন ব্যালটের একজন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর ভাষায়, “ভাবুন, আমি যেন ব্যালটে আছি। কারণ আপনারা যদি ভোট দিতে বের হন, আমরা বড় ব্যবধানে জিতব।”   আইওয়ার সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী অ্যাশলি হিনসন ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেকের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি। ইমারসন কলেজ পোলিংয়ের ৫ ও ৬ অক্টোবরের জরিপে হিনসনের সমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ, আর টুরেকের ৪৫ শতাংশ। লিবার্টারিয়ান প্রার্থী থমাস লেন পেয়েছেন ২ শতাংশ সমর্থন; ৭ শতাংশ ভোটার তখনো সিদ্ধান্ত নেননি। জরিপটির নমুনাগত ত্রুটির সীমা ছিল প্লাস-মাইনাস ৩ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, মারিস্টের সেপ্টেম্বরের জরিপে টুরেক ৫০ শতাংশ এবং হিনসন ৪২ শতাংশ সমর্থন পান। দুটি জরিপের ফলের পার্থক্য দেখায়, ভোটারদের মনোভাব ও জরিপের পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র বদলাতে পারে। হিনসন ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি এবং গরুর মাংসের ওপর শুল্ক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি কেনা কিংবা দোকানে বাজার করার বাড়তি খরচের বোঝা আইওয়ার বাসিন্দাদের বহন করা উচিত নয়, বিশেষ করে যখন কৃষক ও পশুপালকেরা উৎপাদন ব্যয়ের চাপের মুখে রয়েছেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির প্রশ্নে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছেন তিনি। কানসাসেও রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সঙ্গে কঠিন লড়াই করছেন। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দুই প্রার্থীর ব্যবধান খুবই কম। ইমারসন কলেজ পোলিং ও নেক্সস্টারের সেপ্টেম্বরের জরিপে হ্যামিলটন ৪৫ শতাংশ এবং মার্শাল ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছিলেন। একই জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি সমর্থন ছিল ৪০ শতাংশ, আর অসন্তোষ ছিল ৫৩ শতাংশ। ভোটারদের ৪৮ শতাংশ অর্থনীতিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন। আলাস্কায়ও রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি সহজ নয়। সিনেটর ড্যান সুলিভানের বিপরীতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ৮ থেকে ১৬ অক্টোবর পরিচালিত ডেটা ফর প্রগ্রেসের জরিপে পেলটোলা ৫১ শতাংশ এবং সুলিভান ৪৯ শতাংশ সমর্থন পান। তবে নমুনাগত ত্রুটির সীমা প্লাস-মাইনাস ৪ শতাংশ পয়েন্ট হওয়ায় এই ব্যবধানকে নিশ্চিত অগ্রগতি হিসেবে দেখা যায় না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ দশমিক ১ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। নেব্রাস্কাতেও রিপাবলিকানদের ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ আসন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসের বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যান অসবর্ন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পূর্বাভাসে এখনো রিকেটস এগিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপে লড়াই আগের ধারণার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দেখা যাচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল ট্রাম্পের রাজনৈতিক জোটকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী জোট হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে করছাড়, ওষুধের খরচ কমানো, সীমান্ত নিরাপত্তা, বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থান এবং অবসরকালীন হিসাবের উন্নতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা কতটা কাজে আসবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কোনো ভোটার প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানালেও তাঁর দলের স্থানীয় প্রার্থীকে ভোট দেবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে কৃষি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ থাকলে ভোটাররা দলীয় আনুগত্যের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ৩ নভেম্বরের নির্বাচন তাই দেখাবে, গ্রামীণ এলাকায় ট্রাম্পের সমর্থনের সাম্প্রতিক উন্নতি রিপাবলিকানদের জন্য বাস্তব ভোটে কতটা রূপ নেয়।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২২, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয়
এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে ২০ শতাংশের বেশি, স্বস্তি নেই নিত্যপণ্যের বাজারেও

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকতে মূল্যস্ফীতি আবারও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির ব্যয় বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচকও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি এবং ইরানকে ঘিরে চলমান যু দ্ধের কারণে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতারা ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং দলটির বামপন্থী অংশের সমালোচনা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। মূল্যস্ফীতি বেড়েছে মানেই সব পণ্যের দাম একই হারে বেড়েছে, এমন নয়। কোনো কোনো পণ্যের দাম কমেছে, আবার জ্বালানির মতো কিছু খাতে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যানে এই পার্থক্য স্পষ্ট। জ্বালানির ব্যয় সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির সামগ্রিক মূল্য আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই খাতের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মার্চের পর এক মাসে এত বড় বৃদ্ধি আর দেখা যায়নি। মার্চ ছিল ইরানকে ঘিরে সংঘাত শুরুর পর প্রথম পূর্ণ মাস। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের খরচেও প্রভাব ফেলছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের আক্রমণ বেড়েছে। একই সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। এসব ঘটনার কারণে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির বৈশ্বিক সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পেট্রল ও ডিজেলের বাজারে। পেট্রলের দামেও বড় বৃদ্ধি দেখা গেছে। সরকারি মূল্যসূচক অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে পেট্রলের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বেশি ছিল। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এটি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জ্বালানির খরচ বৃদ্ধির অন্যতম বড় উদাহরণ। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম প্রায় ৪ ডলার ২৬ সেন্টে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এক মাস আগে গড় দাম ছিল প্রায় ৪ ডলার ৪৮ সেন্ট। তবে এক বছর আগের তুলনায় এখন প্রতি গ্যালনে ১ ডলারেরও বেশি অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি গ্যালন পেট্রলের দাম ৬ ডলারের ওপরে। ওয়াশিংটন ও নেভাডায় তা ৫ ডলার ছাড়িয়েছে। বিদ্যুতের বিলও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম গত এক বছরে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। এর আগের মাসে একই পরিমাণ কমেছিল বিদ্যুতের দাম। ফলে মাসভিত্তিক ওঠানামা থাকলেও বার্ষিক হিসাবে বিদ্যুতের ব্যয় বেশি রয়েছে। নতুন ডেটা সেন্টারের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় কিছু এলাকায় বিদ্যুতের দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক প্রযুক্তি এবং বড় কম্পিউটিং অবকাঠামোর বিস্তারের সঙ্গে এসব কেন্দ্রের সংখ্যা ও বিদ্যুতের প্রয়োজন বাড়ছে। ট্রাম্প বলেছেন, বড় ও নতুন ডেটা সেন্টারগুলোকে নিজেদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ থাকলে তা স্থানীয় জনগোষ্ঠী বা বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ কিংবা বিক্রি করার কথাও বলেছেন তিনি। তার বক্তব্য, এ ধরনের ব্যবস্থা বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি ও সরবরাহের খরচ সাধারণ গ্রাহকের বিলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। খাদ্যপণ্যে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি হলেও খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক দাম আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে অপরিবর্তিত ছিল। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় খাদ্যের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাবারের দাম মাসে ০ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, রেস্তোরাঁ বা বাইরে খাবার খাওয়ার খরচ বেড়েছে ০ দশমিক ২ শতাংশ। কিছু খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি দেখা গেছে। সেপ্টেম্বরে এক ডজন ডিমের গড় দাম ছিল ২ ডলার ২৭ সেন্ট। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের মার্চে ডিমের দাম প্রতি ডজনে ৬ ডলার ২৩ সেন্টে উঠেছিল, যা ছিল দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়। তবে মাংসের বাজারে চিত্র একরকম নয়। গরুর মাংসের কিমার দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি ছিল। প্রতি পাউন্ডের দাম দাঁড়ায় ৬ ডলার ৪৮ সেন্ট। যদিও জুনে দাম ছিল ৬ ডলার ৯৮ সেন্ট, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়গুলোর একটি। মুরগির মাংসের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রতি পাউন্ডের দাম ছিল ২ ডলার ৬ সেন্ট, যা এক বছর আগের দামের সমান। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে মুরগির মাংসের দাম প্রতি পাউন্ডে ২ ডলার ১ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৯ সেন্টের মধ্যে ওঠানামা করেছে। পুরোনো গাড়ির দামে কিছুটা স্বস্তি সব খাতে দাম বাড়েনি। ব্যবহৃত গাড়ি ও ট্রাকের দাম গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বরে দাম বেড়েছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ। জুলাই ও আগস্ট—দুই মাসেই এই খাতে ০ দশমিক ৪ শতাংশ করে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল। নেভি ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের প্রধান অর্থনীতিবিদ হিদার লং বলেছেন, গাড়ি মেরামত ও সংশ্লিষ্ট শিল্প বর্তমানে একাধিক চাপের মুখে রয়েছে। যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধি এবং দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, স্থানীয় মেরামতের দোকানগুলোতে গ্রাহকেরা যে বেশি খরচের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেখানে বিভিন্ন মূল্যচাপ একসঙ্গে কাজ করছে। মূল্যস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে। ২০২২ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে উঠেছিল, যা ছিল প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর মূল্যস্ফীতি কমলেও সাম্প্রতিক বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ০ দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে রেখেছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান পর্যায়ে রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচ অনেক পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে। খাদ্যপণ্যের কিছু দামে স্বস্তি থাকলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবার ব্যয় কমার স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে তিন প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা
সিনেট নির্বাচন ঘিরে নতুন সমীকরণ, তিন ধর্মের তিন প্রার্থীর প্রচারে সংবিধান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ায় জন অসফ, টেক্সাসে জেমস তালারিকো এবং মিশিগানে আবদুল এল-সাইয়েদের মতো প্রার্থীদের ঘিরে সমর্থকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে দেওয়া বার্তা নির্বাচনী আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।   তবে নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে থাকা মানেই জয় নিশ্চিত নয়। ভোটের দিন উপস্থিতি, নির্বাচনী প্রচারের গতি এবং শেষ মুহূর্তের জনমত—সবকিছুই ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্ব বুঝতে প্রার্থীদের বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিস্থিতি ও জরিপের সীমাবদ্ধতাও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হবে। রিপাবলিকানদের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ের বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলানোর চেষ্টা করছে। এই প্রেক্ষাপটে জর্জিয়া, টেক্সাস ও মিশিগানের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। জর্জিয়ার বর্তমান সিনেটর জন অসফ ইহুদি। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো খ্রিষ্টান এবং ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন; তিনি যাজক হওয়ার প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন। অন্যদিকে মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ মুসলিম। ভিন্ন ধর্মীয় পরিচয়ের এই তিন প্রার্থীকে ঘিরে প্রচারমূলক আলোচনায় সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থের বিষয়গুলো সামনে আনা হচ্ছে। সমর্থকদের প্রচারবার্তার মূল বক্তব্য হলো, ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংবিধানের প্রতি অঙ্গীকার এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করা সম্ভব। তাঁদের বক্তব্যে বড় ব্যবসায়ী ও ধনকুবেরদের স্বার্থের বিপরীতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এটি মূলত রাজনৈতিক প্রচারের একটি বার্তা। নির্বাচনে এর প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অগ্রাধিকার, প্রার্থীদের নীতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর। জর্জিয়ায় নিজের সিনেট আসন ধরে রাখতে লড়ছেন ডেমোক্র্যাট জন অসফ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রিপাবলিকানদের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গরাজ্যে আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে অসফ এগিয়ে থাকলেও জরিপের ফলকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। জরিপের সময়, নমুনা এবং ভোটার উপস্থিতির মতো বিষয় ফলাফলে পার্থক্য তৈরি করতে পারে। টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো ও রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত অবস্থানের কারণে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেট আসন জয় করা কঠিন বলে বিবেচিত হয়ে এসেছে। তবে অক্টোবরের কয়েকটি জরিপে তালারিকোকে প্যাক্সটনের কাছাকাছি বা সামান্য এগিয়ে দেখা গেছে। কিছু জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। ফলে টেক্সাসের লড়াইকে এখনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাইয়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের লড়াইও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অক্টোবরের বিভিন্ন জরিপে এল-সাইয়েদকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে দেখা গেছে। তবে ব্যবধান অনেক ক্ষেত্রেই জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে থাকায় ফলাফল নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইলে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে জয় পেতে হবে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলালে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতির ওপর নজরদারি, তদন্ত এবং প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। তবে কেবল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেই সব নীতি পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না; আইন পাসের নিয়ম, প্রেসিডেন্টের ভেটো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ থাকবে। নির্বাচনী প্রচারে আশাবাদী বার্তা থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। সামান্য ব্যবধানের জরিপ নির্বাচনের দিন বদলে যেতে পারে। ভোটার নিবন্ধন, আগাম ভোট, নির্বাচনী প্রচারের কার্যকারিতা এবং ভোটকেন্দ্রে সমর্থকদের উপস্থিতি—সবই গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত তিন প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তাঁদের নীতি, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতাই নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। ৩ নভেম্বরের ভোট যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশটির রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারির ভবিষ্যৎও নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গভর্নর পদে দুই দলের নির্বাচনী লড়াই
জর্জিয়া থেকে উইসকনসিন, গভর্নর নির্বাচনে কোন ইস্যুতে মুখোমুখি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান প্রার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে গভর্নর পদ ঘিরে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে দেশটির ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এসব নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলই নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গভর্নর নির্বাচনের ফল শুধু অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রশাসনিক নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে না, বরং দেশজুড়ে দুই প্রধান দলের রাজনৈতিক শক্তিরও একটি চিত্র তুলে ধরবে। বিশেষ করে জর্জিয়া, নেভাডা, ওহাইও ও উইসকনসিনের মতো অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে বাড়ছে আগ্রহ। জাতীয় রাজনীতির প্রভাব থাকবে নির্বাচনে   মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা ও তাঁর দলের রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তবে গভর্নর নির্বাচনে স্থানীয় বিষয়গুলোও বড় প্রভাব ফেলে। অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, করের হার, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বাসস্থানের খরচ নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পেতে পারে। রিপাবলিকানরা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বা আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের লক্ষ্য, যেখানে দলটির অবস্থান দুর্বল সেখানে নতুন সুযোগ তৈরি করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে ক্ষমতায় ফেরার পথ তৈরি করা। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের লড়াই জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক আটলান্টা মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমসের নাম আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান শিবিরে আলোচনায় আছেন ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। জর্জিয়ার রাজনীতিতে শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের পছন্দের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কর এবং জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয়ে প্রার্থীদের অবস্থান নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেতে পারে। বটমসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের ভোট একত্র করা এবং শহরাঞ্চলের বাইরে সমর্থন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে জ্যাকসনের সামনে থাকবে রিপাবলিকান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখা এবং বৃহত্তর ভোটারগোষ্ঠীর কাছে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরার চ্যালেঞ্জ। নেভাডায় অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ   নেভাডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গভর্নর জো লম্বার্ডো এবং ডেমোক্র্যাট অ্যারন ফোর্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ড্যানিয়েল ফোর্ডের নামও নির্বাচনী আলোচনায় রয়েছে। নেভাডার অর্থনীতি পর্যটন, আতিথেয়তা শিল্প ও সংশ্লিষ্ট কর্মসংস্থানের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে চাকরির সুযোগ, মজুরি, বাসাভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। লম্বার্ডোর জন্য গভর্নর হিসেবে নিজের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে সমর্থন ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ফোর্ডের লক্ষ্য হবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে ভোটারদের একত্র করা। অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কে কতটা কার্যকর পরিকল্পনা দিতে পারেন, তা এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। ওহাইওতে মুখোমুখি অ্যামি অ্যাকটন ও বিবেক রামাস্বামী   ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট অ্যামি অ্যাকটন ও রিপাবলিকান বিবেক রামাস্বামীর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যটিতে দুই দলের ভোটারদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। অ্যাকটনের সামনে থাকবে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন বাড়ানোর পাশাপাশি মধ্যপন্থী ও দোদুল্যমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চ্যালেঞ্জ। রামাস্বামীকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে হবে। কর কমানো, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থান—এসব ইস্যু প্রচারের কেন্দ্রে থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহ, নতুন প্রযুক্তি ও ডেটা সেন্টার স্থাপনের মতো বিষয়ও রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় গুরুত্ব পেতে পারে। উইসকনসিনে ক্ষমতা ও নীতির প্রশ্ন উইসকনসিনেও গভর্নর নির্বাচন ঘিরে দুই দলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাট ডেভিড ক্রাউলি এবং রিপাবলিকান টম টিফানির নাম প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনায় রয়েছে। রাজ্যটিতে ভোটের ব্যবধান অনেক সময় খুব কম থাকে। ফলে শহরাঞ্চল, ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকার ভোটারদের সমর্থন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ক্রাউলির জন্য ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছানো জরুরি হবে। টিফানির লক্ষ্য হবে রিপাবলিকানদের ভোট একত্র করা এবং অর্থনীতি ও সরকারি নীতির বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা। করনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং সরকারি পরিষেবার ব্যয়—এসব বিষয় ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। দুই প্রার্থীর মধ্যে কে স্থানীয় সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারবেন, তা প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও করনীতি থাকবে আলোচনায় চার অঙ্গরাজ্যের বাইরে অন্যান্য গভর্নর নির্বাচনেও ভোটারদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। বাড়িভাড়া ও বাড়ি কেনার খরচ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয়, করের চাপ এবং বিদ্যুতের দাম অনেক পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগ। স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ও মেডিকেইডের মতো সরকারি সহায়তা নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি নতুন শিল্প ও ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লে তার খরচ কে বহন করবে, সেই প্রশ্নও কিছু অঙ্গরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় হতে পারে। প্রার্থীরা এসব সমস্যার সমাধানে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে অর্থের সংস্থান করবেন, তা ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা   ২০২৬ সালের গভর্নর নির্বাচন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের জন্য কেবল অঙ্গরাজ্যভিত্তিক নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রতিযোগিতা নয়। এসব নির্বাচনের ফল থেকে দুই দলের জনসমর্থন, স্থানীয় ইস্যুতে ভোটারদের মনোভাব এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যাবে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের ইস্যু নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে না। কোথাও অর্থনীতি ও করনীতি প্রধান হয়ে উঠতে পারে, আবার কোথাও স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন কিংবা সরকারি পরিষেবা নিয়ে বিতর্ক বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার, ভোটার উপস্থিতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতিই নির্ধারণ করবে কোন দল কতটা সাফল্য পাবে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২১, ২০২৬ ১৪:০
নির্বাচনী নিরাপত্তায় আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের শঙ্কা, রাজ্যগুলোকে গোপনে সতর্ক করছেন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তাদের গোপনে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দিচ্ছেন দেশটির বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাজ্য পর্যায়ে আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এসব আশঙ্কা সম্ভাব্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, ফেডারেল হস্তক্ষেপ ঘটেছে—এমন প্রমাণ নয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা খাতে অভিজ্ঞ প্রায় ১০ জন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা অন্তত ১০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি এবং কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রশাসনের প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তাদের উদ্বেগের ভিত্তি কোনো গোপন গোয়েন্দা তথ্য নয়; বরং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের প্রকাশ্য বক্তব্য এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিশ্লেষণ।   কর্মকর্তাদের আশঙ্কার একটি বিষয় হলো, নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে সামরিক বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড কিংবা অভিবাসন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হতে পারে। এ ছাড়া ভোটের ব্যালট ও নির্বাচনী নথি জব্দ করা, ভোটার তালিকায় ফেডারেল সরকারের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ডাকযোগে ভোট দেওয়ার নিয়ম কঠোর করার সম্ভাবনাও তাদের উদ্বেগের তালিকায় রয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজ্যগুলোর নিজস্ব নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।   নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত রাজ্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারাও সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রে কোনো ফেডারেল এজেন্ট উপস্থিত হলে কী করতে হবে, পরিচয়পত্র কীভাবে যাচাই করতে হবে এবং আদালতের স্বাক্ষরিত পরোয়ানা ছাড়া নির্বাচনী উপকরণ হস্তান্তর করা যাবে কি না—এসব বিষয় নিয়ে তাদের প্রস্তুতি চলছে। ভোটের ব্যালট গ্রহণ থেকে গণনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নথিপত্রের হেফাজত ও নিরাপত্তা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের প্রচেষ্টা এবং বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা পর্যালোচনার উদ্যোগও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। প্রশাসন এসব পদক্ষেপের পক্ষে নির্বাচনী জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি তুলে ধরেছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কর্মকর্তাদের একাংশ মনে করেন, ফেডারেল সরকারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ রাজ্যগুলোর নির্বাচনী কর্তৃত্ব ও ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা ফেডারেল সংস্থা সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির (সিআইএসএ) বাজেট ও জনবল কমে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।   এদিকে হোয়াইট হাউস এসব উদ্বেগের সঙ্গে একমত নয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কঠোর আইন কার্যকর করা এবং জালিয়াতি প্রতিরোধ করাই তাদের লক্ষ্য। প্রশাসন নির্বাচনে ফেডারেল হস্তক্ষেপের আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।   ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য ভোটকেন্দ্রে ফেডারেল এজেন্টদের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচনী যন্ত্রপাতি জব্দের মতো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন ভোটারদের নিরাপত্তা, ভোটগ্রহণের স্বাধীনতা এবং ব্যালটের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এখন রাজ্য কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ।   নির্বাচনের আগে এসব প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে। তবে কর্মকর্তারা যে পরিস্থিতিগুলোর আশঙ্কা করছেন, সেগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে; সেগুলো ঘটবেই, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

অলিনা রহমান অক্টোবর ২০, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প প্রশাসন
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোট নিয়ে কঠোর অবস্থানে ট্রাম্প, চাপে ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন কর্মকর্তারা

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির ভোটার তালিকায় থাকা ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেল সরকার। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে, যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর জানায়, ‘অপারেশন প্রোটেক্ট দ্য ভোট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দারা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ভোটার নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধ ভোট দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে মোট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অ-মার্কিন নাগরিকের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে অক্টোবরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলার তথ্য প্রকাশ করছে বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর ১৬ জন অ-মার্কিন নাগরিককে ঘিরে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগের কথা জানানো হয়। ১২ অক্টোবর অবৈধ ভোট ও প্রতারণামূলক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৬ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোর ১৬ জনকে ঘিরে অভিযোগের কথা জানানো হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘোষণা আসে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে রাজ্যটির বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের সরকার সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ চায়, এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা এই দাবি মেনে নেননি। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার বলেছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্যকে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ঠেকাতে রাজ্যে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসন যেসব ব্যালটকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো গণনা করা হলে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে, কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা জেনেশুনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট গ্রহণ বা গণনায় সহায়তা করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করাই কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণ করে না। ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, কর্মকর্তা জানতেন যে ভোটারটি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন এবং জেনেশুনে তাঁকে বেআইনি ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসন মামলায় তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী মাইকেল টি. ভ্যান ডার ভিন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার অর্থ এই নয় যে তাঁর ব্যালট প্রক্রিয়াকরণকারী কর্মকর্তা অপরাধ করেছেন। তাঁর মতে, কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, নাকি জেনেশুনে অবৈধ ভোটে সহায়তা করেছেন—সেটিই হবে আইনি বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রাবারও বলেন, কোনো কর্মকর্তা ভোটারের অযোগ্যতার বিষয়টি জেনেও ব্যালট গণনা করেছেন, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হবে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ফ্রুমকিনের মতে, ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিরোধকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিচার বিভাগের অভিযোগ এবং রাজ্য সরকারের আপত্তি—দুটিই এখনো আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধস, চাপে রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন কমার নতুন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের নিট অনুমোদন আট পয়েন্ট কমে ঋণাত্মক ১৯-এ নেমেছে। গত সেপ্টেম্বর থেকে একই ধরনের পাঁচটি জরিপের ফলাফলের মধ্যে এটিই তাঁর সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান।   ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পরিচালিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, পুরুষ ভোটারদের ৪০ শতাংশ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সন্তুষ্ট। অন্যদিকে, ৫৯ শতাংশ ভোটার তাঁর কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ জানিয়েছেন। সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান হিসাব করে নিট অনুমোদন নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে ট্রাম্পের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ১৯ পয়েন্টে। এর আগের ২ থেকে ৫ অক্টোবরের জরিপে পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৫ শতাংশ। সে সময় তাঁর নিট অনুমোদন ছিল ঋণাত্মক ১১ পয়েন্ট। অর্থাৎ, অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ব্যবধান আরও আট পয়েন্ট বেড়েছে। সর্বশেষ জরিপে ১ হাজার ৪০৩ জন নিবন্ধিত ভোটার অংশ নেন। এতে সামগ্রিক নমুনার সমন্বিত ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। আগের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ১ হাজার ৩৮১ জন নিবন্ধিত ভোটার। ওই জরিপে ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ পয়েন্ট। তবে পরপর কয়েকটি জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। গত ৪ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে পুরুষদের মধ্যে তাঁর প্রতি সন্তুষ্টির হার ছিল ৪৪ শতাংশ এবং অসন্তুষ্টির হার ৫৫ শতাংশ। ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের জরিপে এই হার ছিল যথাক্রমে ৪৩ ও ৫৬ শতাংশ। আর ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সন্তুষ্টির হার কমে ৪২ শতাংশে দাঁড়ায়, বিপরীতে অসন্তুষ্টির হার ছিল ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ, আগের জরিপগুলোতে ট্রাম্পের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরে ওঠানামা করেছে। সর্বশেষ জরিপে বড় পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। পুরুষ ভোটারদের তথ্য জাতীয় জরিপের একটি অংশ থেকে নেওয়া হয় বলে এই উপগোষ্ঠীর ফলাফলে অনিশ্চয়তাও তুলনামূলক বেশি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তন রিপাবলিকানদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। ট্রাম্পের নির্বাচনী জোটে পুরুষ ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ এবং চার বছর মেয়াদি কলেজ ডিগ্রিবিহীন ভোটারদের, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁদের সমর্থন দুর্বল হলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচনী হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জেমস ড্রাকম্যানের মতে, সর্বশেষ পরিবর্তনটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে অন্যান্য জরিপেও যদি একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিয়ারবর্ন ক্যাম্পাসের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক মাইকেল মন্টগোমেরিও মনে করেন, পাঁচটি জরিপের ধারাবাহিকতা পুরুষ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কারণ তৈরি করেছে। তবে হোয়াইট হাউস এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেছেন, ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী সমর্থকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের প্রধান নেতা এবং সমর্থকদের উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতেও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পুরুষ ভোটারদের সমর্থন কেন গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যায় বিশেষজ্ঞরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী ও পুরুষ ভোটারের পছন্দের পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন। ট্রাম্প অতীতে এই ব্যবধান থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছেন। ফলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমে গেলে রিপাবলিকান প্রার্থীদের ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক কারেন বেকউইথের মতে, রিপাবলিকান প্রার্থীরা যদি নিজেদের দলের পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বা ভোটকেন্দ্রে আনতে ব্যর্থ হন, তাহলে নির্বাচনে ভালো ফল করা কঠিন হবে। তাঁর মতে, স্থানীয় অর্থনীতিতে কী ধরনের উন্নয়ন হয়েছে, তা তুলে ধরে প্রার্থীরা ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করতে পারেন। তবে অঙ্গরাজ্যজুড়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান থেকে নিজেদের আলাদা করে উপস্থাপন করা আরও কঠিন হতে পারে। অর্থনৈতিক চাপকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষের সম্ভাব্য বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি, স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় এবং করের চাপ সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে গাড়িতে জ্বালানি ভরার সময় বাড়তি খরচ অনেক ভোটারের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে বলে মনে করেন মন্টগোমেরি। ড্রাকম্যানের মতে, তরুণ, গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা এবং কলেজ ডিগ্রিবিহীন পুরুষ ভোটারদের মনোভাব বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক বিষয়গুলো যদি সাংস্কৃতিক পরিচয় ও মূল্যবোধের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, আর অর্থনীতি তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ না করে, তাহলে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। পররাষ্ট্রনীতিও এই সমর্থনে প্রভাব ফেলতে পারে। ড্রাকম্যানের মতে, এই ভোটারগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশে যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করে। মন্টগোমেরি সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তরুণ পুরুষদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন দ্রুত কমতে পারে। তবে জনমত জরিপে প্রেসিডেন্টের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করা মানেই ভোটাররা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেবেন, এমন নয়। সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কার্স্টেন ইংল্যান্ডের মতে, অসন্তুষ্ট ভোটাররা তিন ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—দল পরিবর্তন করতে পারেন, অন্য দলের প্রার্থীকে সমর্থন না করে রিপাবলিকান প্রার্থীকেই ভোট দিতে পারেন, অথবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন। এই পার্থক্য রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের প্রতি অসন্তুষ্ট কিছু ভোটার কংগ্রেসের নির্বাচনে দল পরিবর্তন না করলেও ভোট দিতে অনাগ্রহী হতে পারেন। আবার যেসব প্রার্থী ট্রাম্পের অবস্থান থেকে নিজেদের দূরে রাখবেন, তাঁরা নিরপেক্ষ ও অসন্তুষ্ট ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারেন, কিন্তু একই সঙ্গে ট্রাম্পের একনিষ্ঠ সমর্থকদের উৎসাহ হারানোর ঝুঁকিও থাকবে। সুতরাং, সর্বশেষ জরিপ রিপাবলিকানদের সমর্থনভিত্তিতে সম্ভাব্য দুর্বলতার একটি সতর্কসংকেত দিলেও এটি এখনই বড় ধরনের দলবদলের প্রমাণ নয়। শেষ পর্যন্ত এই অসন্তোষ ভোটের বাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা নির্ভর করবে ভোটারদের অংশগ্রহণ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারের ওপর।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ কর্মসূচিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আগাম ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ, জোরালো হচ্ছে ‘নো কিংস’ আন্দোলন

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতায় পরিচিত ‘নো কিংস’ আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এসব সমাবেশে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। ‘নো কিংস: ভোট আর্লি’ নামের এই কর্মসূচিতে আগের মতো শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, বরং নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশজুড়ে প্রায় তিন হাজার স্থানে এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এটি নির্দলীয় ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ। যোগ্য ভোটাররা কীভাবে আগাম ভোট দিতে পারবেন, সে বিষয়ে তথ্য দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করতে তাঁদের সহায়তা করাই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনের দিনের আগেই ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাবেশ, প্রচার এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ভোটদানে উৎসাহিত করছেন আন্দোলনের কর্মীরা।   ‘নো কিংস’ আন্দোলন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বিভিন্ন নীতি ও ক্ষমতা প্রয়োগের বিরোধিতা থেকে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এর আগেও ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরে এবং ২০২৬ সালের মার্চে দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি হয়েছিল। তবে এবারের আয়োজনে আন্দোলনকারীরা রাজপথের প্রতিবাদের পাশাপাশি নির্বাচনে অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের মতামত কার্যকর করার অন্যতম উপায় হলো ভোট দেওয়া।   এবারের কর্মসূচি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের সামনে কঠিন নির্বাচনী লড়াই রয়েছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের একাংশে ভোট হবে। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্টের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, বাজেট ও প্রশাসনিক নীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠন ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   ভোটের পদ্ধতি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করে আসছেন এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর প্রমাণ ছাড়াই ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছিলেন। অন্যদিকে, ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, যোগ্য নাগরিকদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। ডাকযোগে ভোট সীমিত করা বা ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের নিয়ম কঠোর করার উদ্যোগ নিয়ে এ বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপেও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও সিনেটের লড়াই অনিশ্চিত রয়েছে। তবে জনমত জরিপ চূড়ান্ত ফলের নিশ্চয়তা দেয় না। ‘নো কিংস’ আয়োজকদের আশা, আগাম ভোটের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে সহায়তা করার মাধ্যমে তাঁরা ভোটদানের হার বাড়াতে পারবেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে প্রস্তুত মার্কিন তরুণরা
তুরুপের তাস এবার তরুণ ভোটাররা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে বদলে যেতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ

যুক্তরাষ্ট্রের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ভোটাররা। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বাড়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। তাঁদের বড় একটি অংশ এবার ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে। তরুণদের এই অংশগ্রহণ বাস্তবে কতটা বাড়ে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ব্যক্তিগত অধিকার এবং রাজনীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তরুণদের ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্ক ভোটারদের তুলনায় তরুণদের ভোট দেওয়ার হার ঐতিহাসিকভাবে কম। তবে এবার জেনারেশন জি বা জেন জির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই প্রজন্মের ভোট কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড রিসার্চ অন সিভিক লার্নিং অ্যান্ড এনগেজমেন্টের যোগাযোগ ব্যবস্থাপক আলবার্তো মেদিনা মনে করেন, তরুণদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর ভাষায়, অনেক তরুণ নিজেদের জীবন, সমবয়সীদের পরিস্থিতি এবং তাঁদের বসবাসের সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। এই প্রত্যাশাই তাঁদের রাজনীতি নিয়ে আগ্রহী করে তুলছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে অ্যালায়েন্স ফর ইয়ুথ পাওয়ার পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) ও ইউগভের প্রকাশিত এক জরিপে তরুণদের ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আটটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় পরিচালিত ওই জরিপে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ৮০ শতাংশের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা সম্ভবত ভোট দেবেন অথবা নিশ্চিতভাবেই ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপের এই ফলাফল তরুণ ভোটারদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তাঁদের প্রকৃত উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ভোট দেওয়ার পরিকল্পনা করা আর বাস্তবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এক বিষয় নয়। তাই নির্বাচনের দিন কতজন তরুণ ভোট দিতে যান, তার ওপর তাঁদের প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে। যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এই বয়সী ভোটারদের মধ্যে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের প্রতি ঝোঁক দেখা যায়। তবে তরুণদের রাজনৈতিক অবস্থান শুধু দলীয় পছন্দের ওপর নির্ভর করে না। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রত্যাশাও তাঁদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। মেদিনা বলেন, জেন জি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় প্রজন্মগুলোর একটি। ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণদের প্রায় অর্ধেক বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য। এ ছাড়া তাঁদের প্রায় প্রতি পাঁচজনে একজন নিজেদের এলজিবিটিকিউ পরিচয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানান। এই বৈচিত্র্যের কারণে ব্যক্তিগত পরিচয়, নাগরিক অধিকার এবং বন্ধু, পরিবার ও নিজ নিজ সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো তরুণদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। তাঁদের অনেকের কাছে এসব বিষয় কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; বরং দৈনন্দিন জীবন ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। ইয়ুথ পাওয়ার পিএসি ও ইউগভের জরিপে দেখা গেছে, এই চার অঙ্গরাজ্যে তরুণ ভোটারদের ৬০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে তরুণদের দলীয় পছন্দ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও তা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত করে না। নির্বাচনের আগে তাঁদের অগ্রাধিকার পরিবর্তিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার এবং অন্যান্য বয়সী ভোটারদের অংশগ্রহণও ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। তরুণ ভোটারদের উদ্বেগের তালিকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি শীর্ষস্থানীয় বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একাধিক জরিপে এসব বিষয়কে তাঁদের প্রধান উদ্বেগের মধ্যে রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার পাশাপাশি রাজনীতিতে দুর্নীতি ও বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব কমানোর বিষয়টিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মেদিনার মতে, তরুণরা নিজেদের জীবন ও সম্প্রদায়ের উন্নতি চান। কিন্তু রাজনৈতিক ব্যবস্থায় তাঁদের মতামত কতটা গুরুত্ব পায় এবং পরিবর্তন আনার ক্ষমতা অর্জনের পথে কী বাধা রয়েছে, সেই প্রশ্নও তাঁদের ভাবিয়ে তুলছে। এসব বাধা অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় প্রভাব রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারে। সব মিলিয়ে, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অল্প ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোতে তাঁদের ভোটের ভূমিকা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। তবে তরুণদের এই আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কতটা নির্বাচনী শক্তিতে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে তাঁদের বাস্তব অংশগ্রহণের ওপর। জরিপে প্রকাশ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা ভোট দিতে গেলে এবারের নির্বাচনে জেন জির ভূমিকা আরও স্পষ্টভাবে সামনে আসতে পারে।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ক্যালিফোর্নিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, অবৈধ ভোটার যাচাই না করলে মামলা
ক্যালিফোর্নিয়াকে ট্রাম্প প্রশাসনের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম, অবৈধ ভোটার যাচাই না করলে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক (নন-সিটিজেন) ভোটারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফেডারেল সরকার। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার ডিন লোগানকে পাঠানো চিঠিতে এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়া হয়।   চিঠির সাথে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট (মেইল-ইন ব্যালট) পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককোটার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জরুরি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে।   বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কেবল বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং অ-নাগরিকদের ভোট প্রদান একটি সুস্পষ্ট ফেডারেল অপরাধ। এই অপরাধ ঠেকাতেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।   চিঠিতে ডিন লোগানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাদের নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বা গভর্নরের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার জালিয়াতি এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসলেও, বিভিন্ন গবেষণায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে।   তবে সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সফটওয়্যার ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। এর মাঝেই সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ-নাগরিকদের ভোট ও ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে ১৬টি নতুন ফৌজদারি মামলার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে আনলেন ট্রাম্প
মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলারের চেক নিয়ে ফের ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি, তবে আছে শর্ত!

মার্কিন নাগরিকদের প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন রাজনৈতিক শর্ত। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোনোর কথা বলেছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আইন পাস হয়নি, এমনকি অর্থ বিতরণের সময়সূচি বা চূড়ান্ত যোগ্যতার শর্তও নির্ধারণ করা হয়নি।   ১২ অক্টোবর ট্রাম্প আবারও এ প্রস্তাবের কথা বলেন। তাঁর দাবি, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে কর বাড়াবে এবং দেশ অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগিয়ে যাবে। তবে তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক দাবি; এর পক্ষে কোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়নি। ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকেরা ৫ হাজার ডলার করে পেতে পারেন। তবে কারা এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হবেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিয়ম প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প প্রথমবারের মতো এ পরিকল্পনার কথা বলেন গত ৯ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক এক সম্মেলনে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এবারও অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সামনে এনে নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় ধরে রাখার বিষয়টির সঙ্গে একে যুক্ত করেছেন। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের ব্যয় কত হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। সিএনবিসির এক হিসাব অনুযায়ী, এ ধরনের অর্থ বিতরণে প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুলের বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্সের হিসাবে, সব প্রাপ্তবয়স্ককে অর্থ দিতে গেলে ব্যয় ১ দশমিক ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এত বিপুল অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়েও এখনো কোনো চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেই। প্রস্তাবটি নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ রয়েছে। কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ও ডেভিড শোয়াইকাট এ ধরনের অর্থ বিতরণের পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে সিনেটর বার্নি মোরেনো প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট নেতা রবার্ট গার্সিয়া ও জেমি রাসকিনও এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ একসঙ্গে মানুষের হাতে পৌঁছালে ভোগব্যয় বাড়তে পারে। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা দ্রুত বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতির চাপও তৈরি হতে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে অর্থের উৎস, বিতরণের পদ্ধতি এবং অর্থনীতির তৎকালীন পরিস্থিতির ওপর। এ ছাড়া অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতিকে নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকেরা এ ধরনের প্রতিশ্রুতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে প্রস্তাবটি বেআইনি বলে কোনো আদালতের রায় হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এখনো ঘোষণার পর্যায়েই রয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইন, অর্থের জোগান, যোগ্যতার নিয়ম কিংবা অর্থ বিতরণের নির্দিষ্ট সময়সূচি চূড়ান্ত হয়নি। ফলে মার্কিন নাগরিকেরা আদৌ এই অর্থ পাবেন কি না, তা নির্ভর করছে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০