রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের চরম ভরাডুবির পর ব্যর্থতার দায়ভার কার কাঁধে পড়বে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউসে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব ওয়ার) পিট হেগসেথ। দলের এই শোচনীয় পরাজয়ের জন্য তাকেই 'বলির পাঁঠা' বানানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে অভিশংসন বা পদচ্যুতির মতো কঠিন লড়াই এড়িয়ে সম্মানজনকভাবে বিদায় নেওয়ার একটি সহজ সুযোগ থাকলেও সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন হেগসেথ। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নবনির্বাচিত গভর্নর মার্থা ব্ল্যাকবার্নের শূন্য হওয়া সিনেট আসনে তাকে নিয়োগের একটি গুঞ্জন থাকলেও, হেগসেথ সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের হুমকি সত্ত্বেও হেগসেথ ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের পদে বহাল থাকতে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দেশের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। আর এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক ছিল হেগসেথের পরিচালিত যুদ্ধ। ফলে এই পরাজয়ের উল্লেখযোগ্য দায়ভার স্বাভাবিকভাবেই তার ওপর বর্তায়।
হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এখন হেগসেথের ওপর চরম ক্ষুব্ধ এবং তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প তার মিত্রদের মতামত নিচ্ছেন। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় আগামী বছর হেগসেথকে একটি প্রকাশ্য অভিশংসন বিচার বা শুনানির মুখোমুখি হতে হতে পারে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
গুঞ্জন জোরালো হলেও ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে হেগসেথের প্রশংসাই করেছেন। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হেগসেথ খুব ভালো কাজ করছেন এবং তাকে বরখাস্ত করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরের খবর হলো, এর আগে প্যাম বন্ডি এবং ক্রিস্টি নোয়েমকে বরখাস্ত করার আগেও ট্রাম্প ঠিক এভাবেই তাদের প্রশংসা করেছিলেন।
হেগসেথের বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০০৬ সালের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেবার ইরাক যুদ্ধের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিশাল পরাজয়ের ঠিক পরের দিনই তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডের পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা জন উলিওটও কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, হেগসেথ মার্কিন সামরিক কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি করেছেন এবং আত্মসম্মানবোধ থাকলে তার নিজে থেকেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
উল্লেখ্য, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা সিনেটে সাতটি আসন হারিয়েছে এবং আরও দুটি আসন হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদেও (হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস) তারা কমপক্ষে ২৯টি আসন হারিয়েছে।
এর ফলে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেছে, যারা আগামীতে ট্রাম্পের যেকোনো নীতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং খোদ প্রেসিডেন্টকেও তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের মুখে ফেলতে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের হটিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হিসেবে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিজ। আগামী ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে সহকর্মীদের ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই পদে নির্বাচিত হবেন। স্পিকার পদটি মার্কিন সংবিধানে উল্লেখিত কংগ্রেসের একমাত্র নেতৃত্বস্থানীয় পদ, যা ক্ষমতার দিক থেকে প্রেসিডেন্টের ঠিক পরেই অবস্থান করে। ৫৬ বছর বয়সী জেফ্রিজ বর্তমান রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার প্রশাসনকে কড়া নজরদারি ও জবাবদিহির আওতায় আনতে এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বিশেষ তদন্ত পরিচালনার জন্য ১০০ দিনের একটি বিশেষ এজেন্ডা ঘোষণা করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী জেফ্রিজ ২০১৩ সাল থেকে কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারী কৃষ্ণাঙ্গ নির্বাচিত কর্মকর্তা। ২০২২ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের পর ন্যান্সি পেলোসি নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে গত চার বছর ধরে তিনিই দলের হাল ধরে রেখেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক হাকিম জেফ্রিজ ব্রুকলিন এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন, যে আসন থেকে একসময় কংগ্রেসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী প্রতিনিধি শার্লি চিসম নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বিংহ্যামটন থেকে স্নাতক এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে জননীতি বা পাবলিক পলিসিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। কংগ্রেসে আসার আগে তিনি একজন সফল করপোরেট আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য হিসেবেও যোগ্যতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
টেনেসির কারাগার থেকে পালিয়ে প্রায় ৫০০ মাইল দূরে মিসৌরিতে ধরা পড়লেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি
ফ্লোরিডায় সড়ক দুর্ঘটনায় মা-সহ তিনজনের মৃ ত্যু, দুই বছর পর গ্রেপ্তার অভিযুক্ত চালক
রিপাবলিকানদের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর চাকরি হারানোর শঙ্কায় মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ
নিউইয়র্ক সিটিতে বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর বিতর্কিত কর আরোপের আইনি লড়াইয়ে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছেন মেয়র জোহরান মামদানি। বুধবার একটি অঙ্গরাজ্য আপিল আদালত এই কর বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দেওয়ায় তার প্রশাসনের সামনে নীতিটি এগিয়ে নেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। নিউইয়র্কের উচ্চবিত্তদের ওপর এই বিশেষ করটি ‘পিয়েড-এ-টের কর’ (pied-à-terre tax) নামেও পরিচিত। ব্রুকলিনভিত্তিক আপিল আদালত মূলত স্টেটেন আইল্যান্ডের একজন বিচারকের দেওয়া গত সেপ্টেম্বরের একটি রায় বাতিল করে নতুন এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আগের ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারক বলেছিলেন যে, শহর কর্তৃপক্ষ এই কর কার্যকরের প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে পরিচালনা করেনি এবং তিনি কর্মকর্তাদের নতুন করে সবকিছু শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে শহর কর্তৃপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পাশাপাশি কর বাস্তবায়নের কাজও অব্যাহত রেখেছিল। সর্বশেষ এই আদালতের রায়টিকে মেয়র জোহরান মামদানির প্রগতিশীল রাজনৈতিক এজেন্ডার একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিউইয়র্ক শহরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর যে পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন, এটি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এই আইনি বিজয়ের পরও বিতর্কিত এই করটিকে সামনে আরও বেশ কিছু আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি মেয়রের প্রশাসন প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া স্থগিতের (রেন্ট ফ্রিজ) মতো অন্যান্য নীতিগুলোও আদালতে রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর প্রশান্ত মহাসাগরে কুকুরসহ উদ্ধার ৮৬ বছরের নাবিক
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের সুখবর, ২০২৭ সালে দেড় ও ২০২৮ সালে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত করছাড়
ক্যালিফোর্নিয়ায় ময়লার ডাস্টবিন খুলতেই মিলল চার ফুটের অজগর, উদ্ধার করলেন বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে পাওয়ারবল লটারির টিকিট কিনে রাতারাতি ২ লাখ মার্কিন ডলার জিতে নিয়েছেন দুই ভাই। সৌভাগ্যের পরশ পাওয়া এই দুই ভাই লটারিতে জেতা বিপুল পরিমাণ অর্থ নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভার্জিনিয়া লটারি কর্মকর্তাদের বরাতে সম্প্রতি এই মজাদার ও চমকপ্রদ তথ্যটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গেছে, ভার্জিনিয়ার রোয়ানোকে শহরের রাটগার্স স্ট্রিটে অবস্থিত একটি ক্রোগার সুপারশপে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন ওই দুই ভাই। কেনাকাটার একপর্যায়ে তাদের একজন একটি লটারির ভেন্ডিং মেশিনের কাছে থেমে পাওয়ারবল টিকিট কাটেন। সে সময় অপর ভাই মজার ছলে তাকে বলেছিলেন, "বিজয়ী নম্বরগুলো কিনতে কিন্তু ভুলিস না!" আশ্চর্যের বিষয় হলো, তার সেই কথাটিই যেন অক্ষরে অক্ষরে ফলে গেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের ড্রতে তাদের কেনা টিকিটের নম্বরগুলো সত্যিই বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়। লটারির ওই ড্রতে তাদের টিকিটের প্রথম পাঁচটি নম্বরের মধ্যে চারটি নম্বর এবং পাওয়ারবল নম্বরটি হুবহু মিলে যায়। এর ফলে তারা প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার জেতেন। তবে টিকিট কেনার সময় 'পাওয়ার প্লে' অপশনটি চালু থাকায় তাদের পুরস্কারের অঙ্ক চার গুণ বেড়ে যায় এবং মোট পুরস্কারের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা)। অপ্রত্যাশিত এই বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত দুই ভাই জানিয়েছেন, তারা নগদ এই অর্থ সমান দু'ভাগে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল, তবু এইচ-১বি অনুমোদনের হার ৯৭ শতাংশ
মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ