নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানী এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন যৌথভাবে ২০২৭ অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বাজেট চুক্তি ঘোষণা করেছেন। বাজেট ঘোষণার পর সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মেয়র মামদানী দাবি করেন, পুঁজিবাদীদের চেয়ে সমাজতন্ত্রীরা অর্থনীতি ভালো বোঝেন এবং পূর্বসূরিদের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা তাঁরা সহজেই সমাধান করতে পারেন। তবে ম্যানহাটন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও আইনি নীতি বিষয়ক গবেষক জন কেচাম মেয়রের এই দাবিকে নিছক সস্তা প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, সিটির এই নতুন বাজেটটি মোটেও টেকসই কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে নেই। আপাতদৃষ্টিতে বাজেটটিকে ভারসাম্যপূর্ণ মনে হলেও এটি মূলত কিছু সাময়িক কৌশল ও আর্থিক কারচুপির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা আগামী বছরগুলোতে সিটির জন্য বড় সংকট ডেকে আনবে। বিশ্লেষকদের মতে, মেয়র মামদানী তাঁর সম্ভাব্য দুই মেয়াদের পেনশনের কিস্তি বাবদ প্রতি বছর ২ বিলিয়ন ডলার দেওয়া থেকে বাঁচতে বর্তমানের বিলটি ভবিষ্যতের করদাতাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানের কিস্তি ফাঁকি দেওয়ার এই হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে আগামী ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সালের মধ্যে সিটিকে অতিরিক্ত প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার সুদ গুনতে হবে। বর্তমানের দায় এড়াতে গিয়ে সিটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। সিটির এই চূড়ান্ত বাজেটে গত বছরের তুলনায় ব্যয় প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১১৬ বিলিয়ন ডলার। মে মাসের প্রস্তাবিত খসড়া থেকে শুরু করে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন এজেন্সির কর্মসূচিতে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১.৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সিটির অভ্যন্তরীণ অর্থ প্রবাহ বা নগদ তহবিলের অবস্থা ক্রমশ মন্থর হয়ে পড়েছে, যেখানে ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি খুবই নগণ্য। বর্তমান বাজেটে সংকট এড়ানো গেলেও আগামী জানুয়ারি মাসেই মেয়রকে আবারও বড় ধরনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে হবে। মেয়রের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী আগামী অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬.৪ বিলিয়ন ডলার, যা সিটির হিসাব নিয়ন্ত্রকের মতে ৮.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। আগামী বছর সিটির সরকারি কর্মচারীদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বেতন বাড়ানোর জন্য ইউনিয়নগুলোর পক্ষ থেকে বড় ধরনের চাপ আসবে, যা সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তহবিল সিটির হাতে নেই। তাছাড়া সমাজতান্ত্রিক এবং পুলিশ-বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপে মেয়র মামদানী সিটির পুলিশ বাহিনীতে নতুন করে ৫৮০ জন কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, যা নিয়ে স্পিকারের সাথে তাঁর তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। একই সাথে হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পে খরচ বাড়ানোর ফলে সিটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কোনো রকম সমাজতান্ত্রিক ব্যাখ্যা দিয়ে অর্থনীতির এই কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করা সম্ভব নয়। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কংগ্রেসনাল ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি বা অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক বাছাই নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গেছে। নিউইয়র্ক সিটির প্রগতিশীল ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থনে লড়াকু তিন বামপন্থী প্রার্থী এক বিশাল জয় পেয়েছেন। মার্কিন গণমাধ্যম সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মেয়রের সমর্থনপুষ্ট এই তিন প্রার্থী—ব্র্যাড ল্যান্ডার, ক্লেয়ার ভালদেজ এবং দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার নিজ নিজ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন প্রার্থী সরাসরি ডেমোক্র্যাট দলের বর্তমান ও দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্যদের পরাজিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মতাদর্শের মেয়র জোহরান মামদানির জন্য এটি একটি বিশাল রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় মামদানি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এটি শুধু বেশি সংখ্যায় ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত করার বিষয় নয়, বরং আরও যোগ্য ও ভালো ডেমোক্র্যাট নির্বাচিত করার লড়াই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কের সাধারণ ভোটাররা ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত ধারার রাজনীতির ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এবং তাঁরা নেতৃত্বে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন বা বাড়ি সাফ করতে প্রস্তুত। মেয়রের প্রার্থীরা মূলত ভোটারদের সেই পরিবর্তনকামী মনোভাব ও ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ডেমোক্র্যাট দলের বড় বড় নীতি-নির্ধারক ও প্রতিষ্ঠিত নেতাদের ওপর। বিশেষ করে গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফরিসের মতো শীর্ষ নেতাদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। ভোটাররা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের দুর্বল প্রতিরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই ফলাফলের কারণে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারের মতো দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা বাঘা বাঘা নেতারা ২০২৮ সালের পরবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি এই জয়ের সূত্র ধরে প্রগতিশীল নেত্রী আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ আগামীতে চাক শুমারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তিনটি আসনের ভোটের চিত্রে দেখা যায়, ৭ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ব্রুকলিন ও কুইন্সের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত আসনে অবসর নেওয়া প্রবীণ কংগ্রেসওম্যান নিদিয়া ভেলাজকুয়েজের উত্তরসূরি হিসেবে জয়ী হয়েছেন ক্লেয়ার ভালদেজ। তিনি বর্তমান মেয়রের সমর্থনে লড়ে অন্য সব বড় প্রার্থীকে পেছনে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ১০ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে লোয়ার ম্যানহাটন ও ব্রুকলিনের এই আসনে নিউইয়র্ক সিটির সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার সরাসরি হারিয়ে দিয়েছেন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ড্যান গোল্ডম্যানকে। গত বছরের মেয়র নির্বাচনে মামদানি ও ল্যান্ডার একে অপরকে পারস্পরিক সমর্থন দিয়েছিলেন। তবে এই রাতের সবচেয়ে বড় ও চমকপ্রদ ঘটনাটি ঘটেছে নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে। এখানে ওয়াশিংটন হাইটস ও হারলেম এলাকায় মেয়র মামদানির সমর্থনে জয়ী হয়েছেন দারিয়ালিজা অ্যাভিলা শেভালিয়ার। তিনি ২০১৭ সাল থেকে টানা ক্ষমতায় থাকা এবং কংগ্রেসনাল হিস্পানিক ককাসের চেয়ারম্যান আদ্রিয়ানো এস্পাইলাতকে সরাসরি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন। অথচ পরাজিত এই হেভিওয়েট প্রার্থীকে স্বয়ং গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও দলের শীর্ষ নেতারা সমর্থন করেছিলেন। নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটদের এই বামপন্থী বা প্রগতিশীল মোড় রিপাবলিকানদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। রিপাবলিকানরা সাধারণ মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে এই বিষয়টিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের এই অভ্যন্তরীণ ভোট প্রমাণ করেছে যে, আমেরিকার মূলধারার রাজনীতিতে প্রগতিশীল ও তরুণ প্রজন্মের এক নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি ‘২-কে’-র আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের সব শ্রেণির পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে, যা শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে কেন্দ্রভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেবার জন্য পরিবারগুলোকে গড়ে বছরে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কার্যক্রম অনুযায়ী, আগ্রহী পরিবারগুলো শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মাইস্কুলস’-এ আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত শিশুদের আসন বরাদ্দের তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি বরো থেকে বাছাই করা উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন পাঁচটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে মোট ২ হাজার আসন নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটস ও ইনউড, ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল ও ক্যানার্সি, ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ও বেলমন্ট এবং কুইন্সের ওজোন পার্ক ও রকঅ্যাওয়েজ অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ হাজারে উন্নীত করা হবে। মেয়র মামদানি তার প্রথম মেয়াদের শেষ নাগাদ এই সুবিধা পুরো শহরে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সময়সূচি কাঠামো। প্রচলিত ৩-কে ও প্রি-কে প্রোগ্রামে যেখানে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়, সেখানে ২-কে কর্মসূচিতে ডিফল্ট সময় হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং এটি সারা বছর ১২ মাস চালু থাকবে। এর ফলে স্কুল-পরবর্তী ও গ্রীষ্মকালীন চাইল্ড কেয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির তীব্র আবাসন সংকট এবং লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্রঙ্কসের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের চেনা শহর থেকে ছিটকে পড়ছে, সেই বাস্তবতা সরাসরি শুনেছেন সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের হোসটোস কমিউনিটি কলেজের রেপার্টরি থিয়েটারে আয়োজিত এক বিশেষ গণশুনানিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী, ভাড়াটে, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দা মেয়রের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর উচ্চশিক্ষা শাখা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজিত এই “স্টুডেন্টস রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং”-এ অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি আবাসন সংকট, উচ্ছেদ, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর মাথায় ছিল মেয়রের সিগনেচার রঙ হলুদ ও লালে লেখা স্লোগান “দি রেন্ট ইজ টু ড্যাম হাই”। শুনানিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও তরুণ ভাড়াটে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাউথ ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া এক কলেজ সিনিয়ার ও ভাড়াটে সংগঠক জানান, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তার পরিবার চেনা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ‘সিইউএনডব্লিউ কেয়ার্স’-এর লিড অ্যাডভোকেট ব্রিটানি লাঞ্জানো জানান, ব্রঙ্কসে একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পর চার বছর আগে তিনি কুইন্সে চলে যান, যেখানে ভাড়া প্রায় এক হাজার ডলার কম ছিল। ন্যাশনাল ক্লিন ওয়াটার কালেক্টিভ ইয়ুথ কাউন্সিলের এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভাড়া পরিশোধের পরও কেন নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গণশুনানির দুই দিন আগে মেয়র মামদানির প্রশাসন সিটির নতুন আবাসন এজেন্ডা “ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা” ঘোষণা করে। শুনানিতে তিনি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২ লাখ সাশ্রয়ী ও স্থায়ী রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ আবাসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটেদের অধিকার শক্তিশালী করতে ‘টেন্যান্ট ইউনিয়ন’ কাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কোনো ভবনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাড়াটে সংগঠিত হলে সিটি এজেন্সিগুলো পুরো ভবনে সমন্বিত পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান মেয়র। অসৎ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “ফিক্স দ্য সিটি” নামে নতুন কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, শহরের প্রশাসন এখন ভাড়াটেদের বৃহৎ অংশকে অবহেলার চোখে দেখবে না এবং আবাসন সংকট সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। আবাসনের গুণগত মান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সংকট শুধু উচ্চ ভাড়ার নয়, বরং জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ বাসস্থানেরও। এ সমস্যা সমাধানে পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অনিয়মকারী মালিকদের সম্পত্তি প্রয়োজনে অলাভজনক সংস্থা বা ভাড়াটেদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। হোসটোস কমিউনিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ব্রঙ্কসের সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন সেখানে নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের বার্ষিক ব্রঙ্কস পাবলিক হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভাড়ার হার ও আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।