সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্র

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী
ক্যালিফোর্নিয়ায় ভুয়া নাগরিকত্বে ৩০ বছর সামরিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি, গ্রেপ্তার মেক্সিকান নারী

ভুয়া মার্কিন নাগরিকত্ব ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মহাকাশ ও সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে টানা ৩০ বছর চাকরি করার অভিযোগে এক মেক্সিকান নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। ক্যালিফোর্নিয়ার সাউথ লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আলমা প্যাট্রিসিয়া কনট্রেরাস ভিলাফানা নামের ৫৪ বছর বয়সী ওই নারীকে গ্রেপ্তার করে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।   তিনি ‘হাউমেট অ্যারোস্পেস’ নামের একটি কারখানায় যন্ত্রবিদ হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারের আগে তিনি কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টার বেশি সময় কারখানার একটি কনফারেন্স রুমে লুকিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বেরিয়ে এলে এজেন্টরা তাকে হাতকড়া পরান।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ওই নারী নিজেকে মার্কিন নাগরিক দাবি করে হাউমেট-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে প্রথম চাকরি পান। অথচ ২০০৩ সালেই একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। চাকরি বাঁচাতে চলতি বছর তিনি আবারও ভুয়া নাগরিকত্ব দাবি করে অন্য এক ব্যক্তির ন্যাচারালাইজেশন নম্বর ব্যবহার করেন।   দীর্ঘ ৩০ বছরের এই চাকরিতে তিনি অন্তত ১৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ডলার বেতন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আর্থিক প্রতারণা, ভুয়া নথির ব্যবহার, পরিচয় চুরি এবং মিথ্যা নাগরিকত্ব দাবিসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের শীর্ষ ফেডারেল প্রসিকিউটর বিল এসায়লি জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একটি সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এভাবে ভুয়া পরিচয়ে কাজ করা দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। হাউমেট অ্যারোস্পেস মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এফ-৩৫ ফাইটার জেটের মতো অত্যাধুনিক বিমানের বিভিন্ন সংবেদনশীল যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।   অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভিলাফানাকে প্রতারণার প্রতিটি ধারায় সর্বোচ্চ ২০ বছরসহ অন্যান্য অভিযোগে আরও দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ
২১ বছরের নিচে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক: মার্কিন বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এক নতুন আইনি মতামতে জানিয়েছে যে, ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণদের কাছে হ্যান্ডগান বা এর গুলি বিক্রি নিষিদ্ধ করা অসাংবিধানিক। বিচার বিভাগের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে পাওয়া অস্ত্র রাখার অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।   সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের ঠিক একদিন পরই এই নতুন মতামতটি প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, বিচার বিভাগ সাইলেন্সার এবং শর্ট-ব্যারেল রাইফেলের মতো বেশ কিছু অস্ত্রের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া আদালতের একটি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আর আপিল করবে না।   অফিস অব লিগ্যাল কাউন্সেলের (ওএলসি) সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল টি. এলিয়ট গাইসার এই প্রসঙ্গে যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনে একজন ১৮ বছর বয়সী তরুণ সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়া, ভোট দেওয়া বা জুরির দায়িত্ব পালনের জন্য যথেষ্ট পরিণত।   এমনকি ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিকেও একজন ১৮ বছর বয়সী শুটার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৮ বছর বয়সীদের একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা না করে তাদের কাছে পিস্তল বিক্রি করাকে ফেডারেল অপরাধ হিসেবে গণ্য করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।   যদিও বিচার বিভাগের এই আইনি মতামতের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি দেশজুড়ে ফেডারেল প্রসিকিউটরদের ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করা লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা থেকে বিরত রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষে কাজ করা সংগঠন 'গিফোর্ডস' এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক এমা ব্রাউন একে "অস্ত্র লবি ও অনুদানকারীদের মন জয় করতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি বেআইনি ও বিপজ্জনক পদক্ষেপ" বলে আখ্যায়িত করেছেন।   তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল শুটিং ও ব্যাপক প্রাণহানির মতো ঘটনাগুলোতে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের জড়িত থাকার হার তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি। উল্লেখ্য, ১৯৬৮ সালের গান কন্ট্রোল অ্যাক্ট অনুযায়ী ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে হ্যান্ডগান বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল মার্কিন কংগ্রেস, যদিও তারা রাইফেল বা শটগান কিনতে পারতো। বয়সসীমার এই আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সার্কিট আদালতে মিশ্র রায় দেখা গেলেও, সুপ্রিম কোর্ট গত বছর এ বিষয়টি নিয়ে কোনো শুনানি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
জর্জিয়ায় স্কুল বাসে ঢুকে চালকের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা, ৩ অভিভাবকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লাম্পকিন কাউন্টিতে একটি স্কুল বাসের ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গত সোমবার বিকেলে হাইল্যান্ড ট্রেস অ্যাপার্টমেন্ট এলাকায় শিক্ষার্থীদের নামানোর সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। শেরিফ অফিসের তথ্যমতে, নিয়ম ভেঙে বাসে প্রবেশ করা এবং চালকের কাজে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে বুধবার তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, কট্রেল এলিমেন্টারি স্কুল থেকে ছেড়ে আসা ২২-৩৬ নম্বর বাসে যাত্রা শুরুর আগে থেকেই শিক্ষার্থীরা চিৎকার, মারামারি ও জিনিসপত্র ছুড়ে বিশৃঙ্খলা করছিল। বাসের চালক ছিলেন একজন বদলি কর্মী, যিনি ওই রুটে নতুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিরাপত্তার নিয়ম মানতে বাধ্য করতে তাকে পথিমধ্যে বেশ কয়েকবার বাস থামাতে হয়েছিল।   বাসটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের প্রথম স্টপেজে পৌঁছালে, দ্বিতীয় স্টপেজের এক শিক্ষার্থী নেমে পড়ে। চালক তাকে বাসে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু অভিভাবকের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।   বাসচালক যখন সব শিক্ষার্থীকে তাদের আসনে বসানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন কয়েকজন অভিভাবক সেখানে জড়ো হয়ে তাদের সন্তানদের নামিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। চালক তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া শিক্ষার্থীদের নামানোর সুযোগ নেই।   কিন্তু অভিভাবকরা বাইরে থেকে জানালা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী বাসের জরুরি দরজা খুলে দিলে অভিভাবকরা ভেতরে ঢুকে জোরপূর্বক তাদের সন্তানদের নামিয়ে আনেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে চালককে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত সহায়তা চাইতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে, চালক শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ মিনিট বাসে আটকে রেখেছিলেন এবং শাস্তিস্বরূপ এসি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে পুলিশি তদন্তে চালকের কোনো অপরাধ বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। তদন্তে জানা যায়, পাহাড়ি খাড়া রাস্তায় বাসের ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে কেবল সাময়িকভাবে এসি বন্ধ রাখা হয়েছিল।   সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে বাসে প্রবেশ করে চালককে হেনস্তা করার দায়ে এপ্রিল মিশেল ডিসপেইন, টনি রে চ্যাস্টেইন এবং মারিয়া কুইনোনেস নামের ওই তিন অভিভাবকের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, বাসের কাজে বাধা দেওয়া এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে আরও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার
মিশিগানে নদীতে ডুবে দুই তরুণী মায়ের মৃ ত্যু, সন্তানদের রেখে চিরবিদায় ২৪ বছরের ভ্যানেসার

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি নদীতে তলিয়ে যাওয়া জিপ থেকে ভ্যানেসা বাউতিস্তা (২৪) এবং অ্যালেক্সা নাভারো (২৩) নামের দুই তরুণী মায়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেন্ট জোসেফ নদী থেকে তাদের ডুবন্ত গাড়িটি টেনে তোলার পর এই মর্মান্তিক পরিণতি সামনে আসে।   ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ডের বাসিন্দা এই দুই নারী নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ব্যাপক খোঁজ করা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভ্যানেসার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হৃদয়বিদারক শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তাকে দুই সন্তানের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এক স্নেহময়ী মা হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে।   শোকবার্তায় বলা হয়, ভ্যানেসার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার মাতৃত্ব। তিনি তার দুই ছেলে জাইরে ও জেসিয়াহকে নিজের পৃথিবী মনে করতেন এবং তাদের নিঃশর্ত ভালোবাসতেন। সন্তানদের প্রতিটি প্রয়োজন মেটাতে এবং তাদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি সবসময় সচেষ্ট থাকতেন।   উষ্ণ ও সুন্দর মনের অধিকারী ভ্যানেসা তার বোনের অনাগত সন্তানের আগমনের অপেক্ষায়ও প্রহর গুনছিলেন। এমনকি ৯ সেপ্টেম্বর নিজের জন্মদিনের আগে বোনকে মজা করে বলেছিলেন, সন্তান যেন তার জন্মদিনের দিন পৃথিবীতে না আসে। কিন্তু জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন পরই এমন মর্মান্তিক পরিণতি বরণ করতে হলো তাকে।   নাইলস পুলিশের প্রধান জেমস মিলিন জানিয়েছেন, গত রবিবার ভোর ৪টার দিকে জিপটি একটি বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ৭০ ফুট নিচে নদীতে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ হওয়ার দিন থেকেই ইন্ডিয়ানা সীমান্তবর্তী মিশিগানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই শহরে তাদের সন্ধানে জোরালো তল্লাশি শুরু হয়েছিল।   নিখোঁজ হওয়ার রাতে এই দুই মাকে অন্য কোনো গাড়ি তাড়া করেছিল কি না বা কেউ তাদের অনুসরণ করেছিল কি না, তদন্ত কর্মকর্তারা এখন সে বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার খরচ মেটাতে প্রতি তিনজনে একজন ঋণগ্রস্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের স্বাস্থ্যবিমা থাকলেও তারা চিকিৎসা ঋণের পাহাড় জমিয়ে তুলছেন। দ্য কমনওয়েলথ ফান্ড নামের একটি নির্দলীয় স্বাস্থ্য নীতি গবেষণা গ্রুপের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তা, 'অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট' মার্কেটপ্লেস বা বেসরকারি খাত থেকে স্বাস্থ্যবিমা নেওয়া প্রতি তিনজন আমেরিকানের মধ্যে একজন চিকিৎসা ঋণের কবলে পড়েছেন। তারা সময়ের সাথে সাথে কিস্তিতে এই ঋণ পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।     এই ঋণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, হাসপাতালের বিল থেকেই তাদের এই ঋণের সূত্রপাত। এছাড়া নিয়মিত চেকআপ, চিকিৎসকের চেম্বারে যাওয়া এবং ল্যাব বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো সাধারণ চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়েও রোগীরা ঋণের সম্মুখীন হচ্ছেন।   গবেষণার প্রধান লেখক ও স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ সারা কলিন্স সিবিএস নিউজকে জানান, বিমা থাকার পরও রোগীদের নিজেদের পকেট থেকে ঠিক কতটা খরচ করতে হচ্ছে, মূলত তার ওপর ভিত্তি করেই এই ঋণের বিশাল বোঝা তৈরি হয়।   জরিপের তথ্যমতে, চিকিৎসা ঋণে থাকা প্রায় অর্ধেক আমেরিকানের অন্তত দুই হাজার ডলার বা তার বেশি ঋণ রয়েছে, যা কর্মক্ষম ও বেসরকারি বিমাভুক্ত প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় ১৫ শতাংশ। এই বিল পরিশোধ করতে গিয়ে ৩৭ শতাংশ মানুষ তাদের জমানো সঞ্চয় ভেঙেছেন। অন্যদিকে, ৩০ শতাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার, ঘর গরম রাখার জ্বালানি বা বাড়ি ভাড়ার মতো দৈনন্দিন মৌলিক চাহিদাগুলো কমিয়ে দিয়েছেন।   এমনকি টাকার অভাবে ৩০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিতে দেরি করছেন বা একেবারেই নিচ্ছেন না। সারা কলিন্সের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষের কাছেই অতিরিক্ত নগদ অর্থ থাকে না। আকস্মিক কোনো বড় খরচ সামনে এলে তা বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজেটকে পুরোপুরি এলোমেলো করে দেয়। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৩৫৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের ওপর টেলিফোন ও অনলাইনে পরিচালিত এক জরিপের ভিত্তিতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।   বিশাল এই চিকিৎসা ঋণের বোঝা থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ভুল চার্জ যুক্ত করে বিল পাঠায়, তাই কোনো অসংগতি মনে হলে গ্রাহকদের অবশ্যই সেই বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত। যদিও ক্রেডিট স্কোর কমার ভয়ে অনেকেই এটি করতে দ্বিধাবোধ করেন, তবে প্রকৃত বিল যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।   এছাড়া, কোনো চিকিৎসার জন্য বিমা কভারেজ প্রত্যাখ্যান করা হলে গ্রাহকরা তাদের বিমা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কিস্তিতে বিল পরিশোধের সুবিধা বা নিজস্ব খরচের পরিমাণ কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে পারেন।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড
'আমি পেডোফাইল হতে ভালোবাসি': শিশু প/র্নো/গ্রাফি চক্রের ডেট্রয়েটের চিকিৎসকের ৯ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটে শিশু পর্নোগ্রাফি ও যৌন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে লিংকন এরিকসন নামের ৩২ বছর বয়সী এক সাবেক চিকিৎসককে ৯ বছরের (১০৮ মাস) কারাদণ্ড দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ডেট্রয়েট মেডিকেল সেন্টারের রিহ্যাবিলিটেশন ইনস্টিটিউট অফ মিশিগানে কর্মরত এই চিকিৎসক মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে অন্যান্য শিশু নির্যাতনকারীদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   সেখানে তিনি গর্ব করে নিজেকে 'পেডোফাইল' দাবি করতেন এবং নিজের বিকৃত যৌন লালসার কথা অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে প্রকাশ করতেন।   গত ১০ ডিসেম্বর এফবিআই এজেন্টরা এরিকসনকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তকারীরা তার ফোন থেকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নির্যাতনের বিভিন্ন ভিডিও এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি বিকৃত শিশু পর্নোগ্রাফি উদ্ধার করেন। এফবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, এরিকসন একটি বৃহত্তর শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।   এমনকি তিনি অন্য এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তার সন্তানদের গোসল করানোর অনুমতির জন্য রীতিমতো পীড়াপীড়ি ও পরিকল্পনাও করেছিলেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি এরিকসনকে এখন থেকে তালিকাভুক্ত যৌন অপরাধী (সেক্স অফেন্ডার) হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে।   এরিকসনের গ্রেপ্তারের সূত্র ধরে এই চক্রের আরও ভয়ংকর কিছু তথ্য সামনে আসে, যা জেরেমি ব্রায়ান ট্যাকন এবং জোশুয়া রনবাউম নামের আরও দুই ব্যক্তির গ্রেপ্তারের পথ তৈরি করে। আদালতে জমা দেওয়া নথিতে এরিকসন এবং রনবাউমের মধ্যকার ভয়ংকর ও বিকৃত সব চ্যাটের তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে তারা নবজাতক থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শিশুদের গ্রুমিং ও নির্যাতনের জঘন্য ফ্যান্টাসি নিয়ে আলোচনা করতেন।   এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে এই চক্রের আরেক সদস্য টুম্যানকে ছদ্মবেশী এফবিআই এজেন্টের সাহায্যে গ্রেপ্তার করা হয়। এফবিআই ডেট্রয়েট ফিল্ড অফিসের স্পেশাল এজেন্ট জেনিফার রুনিয়ান জানিয়েছেন, শিশুদের ওপর এমন নির্মম নির্যাতনকারীদের সমাজ থেকে নির্মূল করতে এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫
লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস দুর্ঘটনা কভার করতে গিয়ে বিধ্বস্ত হেলিকপ্টার, সাংবাদিকসহ নি হত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি যাত্রীবাহী বাসে এসইউভি (SUV) গাড়ির ধাক্কা এবং এর জেরে এনবিসি (NBC) নিউজের একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঘটা এই জোড়া দুর্ঘটনার মূল অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সী নারী চালক বেইলি লিন রিওসকে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি হত্যা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের দুটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।   সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি হাড়হিম করা ভিডিওতে দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরের দৃশ্য উঠে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাসের সাথে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর ঘোরের মধ্যে থাকা অভিযুক্ত চালক বেইলি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির ভেতরে বসে আছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার অবস্থা জানতে চাইলে তাকে হতভম্ব ও স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায়।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হকম্যান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই নারী মাদকাসক্ত ছিলেন এবং তল্লাশি চালিয়ে তার গাড়ি থেকেও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। তার বেপরোয়া এসইউভি গাড়ির ধাক্কায় বাসের দুই যাত্রী নিহত হন।   তবে এই ট্র্যাজেডি এখানেই থেমে থাকেনি। বাস দুর্ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে একটি চেইন রিঅ্যাকশন বা ধারাবাহিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়, যার জেরে এনবিসি নিউজের একটি সংবাদবাহী হেলিকপ্টার মর্মান্তিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। এই দ্বিতীয় দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারের পাইলট, একজন সাংবাদিক এবং নিচে থাকা এক পথচারী প্রাণ হারান। একটি বেপরোয়া ড্রাইভিং কীভাবে এতগুলো প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার
অ্যামাজনে কর্মীদের জন্য ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার, মিলছে নতুন সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের যোগ্য পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন ১ ডলার বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ছাড় চালু করছে কোম্পানিটি। অ্যামাজন জানিয়েছে, বেতন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে।   নতুন বেতন কাঠামো মূলত অ্যামাজনের পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এসব পদের অনেকগুলোর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলারে পৌঁছাবে। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মী সুবিধার আর্থিক মূল্য হিসাব করলে গড় মোট পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩২ ডলারের বেশি হবে।   বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ‘ডে ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করছে অ্যামাজন। এর মাধ্যমে যোগ্য কর্মী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরা ফার্স্ট টেক ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, যোগ্য কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যামাজনে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই ব্যাংকিং সুবিধা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন।   নতুন সুবিধার আওতায় সাধারণ হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে কোনো মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনজনিত ফি থাকবে না। হিসাব খোলার জন্য আগের ঋণ বা ক্রেডিট ব্যবহারের ইতিহাসও প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো অতিরিক্ত ফি ছাড়া এটিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের ফিও ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং, সরাসরি বেতন জমা এবং ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি ও উন্নত করার বিভিন্ন সুবিধাও থাকবে।   অ্যামাজন কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ও চালু করছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অ্যামাজন কর্মী অ্যামাজন ডটকম ও হোল ফুডস মার্কেটের অনলাইন কেনাকাটায় যোগ্য খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াই ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। হোল ফুডসের দোকানে সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে ২০ শতাংশ। গরম খাবারের কাউন্টার ও সালাদ কাউন্টারও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে।   কোম্পানির নিজস্ব অ্যামাজন হিসাবে কেনাকাটা করলেই কর্মীরা এই ছাড় ব্যবহার করতে পারবেন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যামাজনের প্রাইম সদস্য, তাঁরা নির্দিষ্ট বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে নতুন কর্মী ছাড়ও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।   নতুন সুবিধাগুলো অ্যামাজনের বিদ্যমান কর্মী সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানির নিয়মিত পূর্ণকালীন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় কর্মীদের নিজস্ব খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। কিছু পরিকল্পনায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৫ ডলারের সহভাগী অর্থও রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে প্রাইম সদস্যপদ এবং ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আগাম শিক্ষাব্যয়ের সুবিধা পেতে পারেন।   ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ অর্জনের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচিতে কোম্পানির অবদান, বেতনসহ সন্তানের জন্ম বা দেখাশোনার ছুটি, নমনীয় ছুটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মী সুবিধাও রয়েছে।   অ্যামাজনের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট উডিট মাদান জানিয়েছেন, কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন নয়, পুরো সুবিধা প্যাকেজকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কোম্পানির ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবারের নতুন বেতন বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১৪ ডলার এবং টার্গেটে ১৫ ডলার। অন্যদিকে কস্টকো গত বছর প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২০ ডলারে উন্নীত করেছিল।   অ্যামাজনের নতুন সিদ্ধান্তে পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২০ ডলারে পৌঁছাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় যুক্ত হওয়ায় কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে। তবে কোন পদে কত বেতন এবং কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা কর্মীর পদ, যোগ্যতা ও কোম্পানির নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরির বাজারে কলেজ ডিগ্রিবিহীন তরুণরা এগিয়ে, চাপে গ্র্যাজুয়েটরা

যুক্তরাষ্ট্রের ২২ থেকে ৩৪ বছর বয়সী যেসব কর্মীর কলেজ ডিগ্রি নেই, তাদের বেকারত্বের হার গত দুই দশকের মধ্যে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। বিপরীতে একই বয়সী কলেজ গ্র্যাজুয়েটরা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় কঠিন সময় পার করছেন। শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের নতুন বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনের বরাতে বিষয়টি জানিয়েছে এন্টারপ্রেনার।   দুই দশকের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ ডিগ্রিধারী ও ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্বের প্রবণতা মোটামুটি একই দিকে চলেছে। অর্থনীতি ভালো থাকলে দুই পক্ষেরই বেকারত্ব কমেছে, আর অর্থনৈতিক দুর্বলতার সময়ে বেড়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ডিগ্রি না থাকা তরুণদের চাকরির বাজার শক্তিশালী হলেও কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ গ্যাড লেভানন মনে করেন, এই পরিবর্তনকে শুধু সাময়িক পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর মতে, শ্রমবাজারে সরবরাহ ও চাহিদার পরিবর্তন এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   এর একটি কারণ দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি। নির্মাণ, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন হাতে-কলমে দক্ষতা নির্ভর কাজে অভিজ্ঞ কর্মীদের বড় একটি অংশ অবসরের বয়সে পৌঁছাচ্ছেন। ফলে এসব পেশায় নতুন কর্মীর প্রয়োজন বাড়ছে। একই সময়ে অভিবাসন কমে যাওয়ায় শ্রমবাজারে নতুন কর্মীর সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।   অন্যদিকে কলেজ গ্র্যাজুয়েটের সংখ্যা বাড়ছে। একই সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এমন কিছু প্রাথমিক পর্যায়ের অফিসের কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে, যেগুলো আগে নতুন কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের নিয়োগের মাধ্যমে করানো হতো। বিশেষ করে এন্ট্রি লেভেলের কিছু সাদা কলারের চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুন গ্র্যাজুয়েটরা প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির মুখে পড়ছেন।   তবে এর অর্থ এই নয় যে কলেজ ডিগ্রিধারীরা সংখ্যাগতভাবে ডিগ্রিবিহীন কর্মীদের চেয়ে বেশি বেকার। এন্টারপ্রেনারের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট হিসাবে কলেজ ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে শুধু হাইস্কুল ডিপ্লোমাধারীদের ক্ষেত্রে তা ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক বেকারত্বের দিক থেকে উচ্চশিক্ষিত কর্মীরা এখনও তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।   মূল পরিবর্তনটি দেখা যাচ্ছে ঐতিহাসিক তুলনায়। অতীতে কলেজ ডিগ্রি থাকা ও না থাকা দুই শ্রেণির তরুণের চাকরির বাজারের গতিপথ অনেকটা কাছাকাছি ছিল। এখন ডিগ্রিবিহীন তরুণদের বেকারত্ব যেখানে দীর্ঘ সময়ের তুলনায় নিচের দিকে, সেখানে কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করা তরুণ গ্র্যাজুয়েটদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের আগের গবেষণাতেও তরুণ কলেজ গ্র্যাজুয়েটদের চাকরি নিয়ে চাপের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, টার্মিনাল ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের ৫২ শতাংশ গ্র্যাজুয়েশনের এক বছর পর এমন কাজে ছিলেন, যেখানে তাদের ডিগ্রির প্রয়োজন ছিল না। ১০ বছর পরও ৪৫ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট আন্ডারএমপ্লয়েড ছিলেন। অর্থাৎ ডিগ্রি অর্জন করলেই প্রত্যাশিত মাত্রার চাকরি নিশ্চিত হচ্ছে না।    তবে দীর্ঘমেয়াদে কলেজ শিক্ষার আর্থিক সুবিধা এখনও স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী কর্মীদের মধ্যে ব্যাচেলরস ডিগ্রিধারীদের বেকারত্বের হার ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ এবং তাদের মধ্যম সাপ্তাহিক আয় ছিল ১ হাজার ৫৭৮ ডলার। একই তথ্য দেখায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ার সঙ্গে সাধারণত বেকারত্ব কমে এবং আয় বাড়ে।    তাই বর্তমান প্রবণতাকে কলেজ ডিগ্রির প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে এবং কোন ধরনের এন্ট্রি লেভেল কাজ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে এআইয়ের বিস্তার এবং দক্ষ কারিগরি কর্মীর ঘাটতি একই সময়ে শ্রমবাজারের দুই ভিন্ন অংশে ভিন্ন ধরনের প্রভাব তৈরি করছে।   বার্নিং গ্লাস ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ তাই যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও একটি পরিবর্তিত বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কলেজ ডিগ্রি এখনও উচ্চ আয় ও কম বেকারত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও, শুধু ডিগ্রি অর্জন করাই চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছে না। একই সময়ে ডিগ্রিবিহীন তরুণদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক কিছু পেশায় সুযোগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দ্রুত পরিবর্তনশীল শ্রমবাজারে শিক্ষা, দক্ষতা এবং চাকরির চাহিদার সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
৫০০ কলেজে ৪০%–এর বেশি শিক্ষার্থী ঋণখেলাপি
কলেজের পড়াশোনায় ফেডারেল ঋণ, পরিশোধে ব্যর্থ শিক্ষার্থীর হার কোথাও ৮০%

যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৫০০টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ফেডারেল স্টুডেন্ট লোন পরিশোধে না থাকার হার ৪০ শতাংশ বা তার বেশি। নতুন এক বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠানে এই হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘ননপেমেন্ট রেট’ বলতে এমন ঋণগ্রহীতাদের বোঝানো হচ্ছে, যাঁদের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া রয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিক ‘ডিফল্ট রেট’-এর সঙ্গে এক নয়। এনপিআরের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বেসরকারি ও মুনাফাভিত্তিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কনস্ট্রাকশন ট্রেনিং সেন্টার এবং টেক্সাসের লেজেন্ডস বারবার কলেজের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাঋণ পরিশোধে না থাকার হার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ডাইভারসিফায়েড ভোকেশনাল কলেজের ক্ষেত্রেও হারটি বেশ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ফেডারেল ঋণ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৩ শতাংশের ঋণ পরিশোধ ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে বকেয়া ছিল। ওই বছর শিক্ষার্থীদের নেওয়া প্রায় ৩৫ লাখ ডলারের ফেডারেল ঋণ প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়ের প্রায় ৯০ শতাংশের সমান ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪০ শতাংশ বা তার বেশি ননপেমেন্ট হারের ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২৪টিই বেসরকারি মুনাফাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। তালিকায় সরকারি প্রতিষ্ঠান ছিল মাত্র ১৫টি এবং বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ৬১টি। অন্যদিকে, দেশজুড়ে সব প্রতিষ্ঠানের গড় ননপেমেন্ট হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগের সর্বশেষ তথ্যেও শিক্ষাঋণ পরিশোধে সমস্যার ব্যাপকতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার প্রতিষ্ঠানে ননপেমেন্ট হার ২৫ শতাংশ বা তার বেশি ছিল। একই সময়ে প্রায় ৯০ লাখ ঋণগ্রহীতা মোট ২২০ বিলিয়ন ডলারের ফেডারেল শিক্ষাঋণ নিয়ে ডিফল্ট অবস্থায় ছিলেন। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ ননপেমেন্ট হারের প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশই বারবার, হেয়ারস্টাইলিং, নির্মাণ ও স্বাস্থ্যসেবা সহায়তার মতো পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষার্থী তুলনামূলক কম আয়ের পরিবারের এবং পড়াশোনা শেষে অপেক্ষাকৃত কম বেতনের পেশায় প্রবেশ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষাঋণ নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হচ্ছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে ফেডারেল ঋণ অব্যাহত রাখার নীতি কতটা কার্যকর। তবে ননপেমেন্টের পেছনে শিক্ষার্থীদের আয়, ঋণ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ধরনসহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এদিকে শিক্ষাঋণ পরিশোধের হার বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিভাগটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বকেয়া বা ডিফল্টে থাকা সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঋণ পরিশোধে সহায়তা করার পরামর্শ দিয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে শিক্ষা বিভাগ নতুন একটি জবাবদিহি কাঠামোও চূড়ান্ত করেছে। এর আওতায় যেসব উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে পর্যাপ্ত আয় করতে পারছেন না, সেসব কর্মসূচি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে ফেডারেল ডাইরেক্ট লোন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে থেকেও রিমোট কাজ, ঘণ্টায় ২৫ ডলার বেতনের সুযোগ
কারাগারে থেকেও ঘণ্টায় ২৫ ডলার আয়, ব ন্দি দের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসূচি

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে কা রা ব ন্দিদের জন্য রিমোট কাজের সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচিত ব ন্দি রা কারাগারে থেকেই সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা রিমোট কাজ করবেন এবং প্রতি ঘণ্টায় ২৫ ডলার করে বেতন পাবেন। ম্যাসাচুসেটস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন (ডিওসি) ১৭ সেপ্টেম্বর কর্মসূচিটি চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ছয় মাসের এই পাইলট কর্মসূচিতে শুরুতে দুজন ব ন্দি অংশ নেবেন। তাঁরা দুজনই বোস্টন কলেজের প্রিজন এডুকেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছে। কর্মসূচিটি ম্যাসাচুসেটস ডিওসি ও ‘অ্যালায়েন্স ফর হায়ার এডুকেশন ইন প্রিজন’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীরা এমসিআই-শার্লির নির্দিষ্ট একটি জায়গা থেকে কাজ করবেন এবং কা রা কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সেখানে তাঁদের সরাসরি তদারকি করবেন। নির্বাচিত দুজন বিভিন্ন গবেষণা ও শিক্ষা-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকবেন। এর মধ্যে ২০২৬ সালের ইনকারসারেটেড স্কলার্স কনফারেন্সের জন্য উপকরণ তৈরি, বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সহায়তা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কারাগারে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে গবেষণা এবং শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ তৈরির কাজ রয়েছে। এই কাজের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, যোগাযোগ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ও তথ্য-উপকরণ তৈরির মতো পেশাগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। ডিওসি কমিশনার শন জেনকিন্স বলেন, কর্মসূচিটির লক্ষ্য হলো ব ন্দি দের বর্তমান চাকরির বাজারের জন্য প্রস্তুত করা এবং মুক্তির পর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা তৈরি করা। ম্যাসাচুসেটস ডিওসি জানিয়েছে, কা রা ব ন্দি দের শিক্ষা ও কর্মদক্ষতা উন্নয়নের জন্য তারা আগে থেকেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে কম্পিউটার কোডিং, প্রিন্টিং, কম্পিউটার-এইডেড ডিজাইন, রান্নাবিষয়ক প্রশিক্ষণ, ধাতব কাজসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ রয়েছে। নতুন এই কর্মসূচি ডিওসির পাঁচ বছরের ‘অ্যালাইন ইনিশিয়েটিভ’-এরও অংশ। ওই পরিকল্পনায় কা রা ব ন্দি দের মুক্তির পর সমাজে ফিরে গিয়ে কাজ করার প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং রিমোট ও সরাসরি কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র দুজনকে নিয়ে কর্মসূচিটি শুরু হলেও ছয় মাসের পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এর কার্যক্রম ও ফলাফল মূল্যায়ন করা হবে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের স্থায়ী বসবাস নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নিয়ম
নতুন আবেদনকারীদের গ্রিন কার্ড পেতে মানতে হবে শর্ত, জানাল ডিএইচএস

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বা ডিএ ইচএস। নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন কিছু শিশু, যারা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পায় না এবং যাদের বাবা-মায়ের কেউ একজন বিদেশি সরকারের কর্মী, তারা লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পাবে। নিয়মটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে।  তবে এই পরিবর্তন সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর জন্য নয়। মূলত এমন শিশুদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাদের বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক নন এবং অন্তত একজন বিদেশি সরকারের কর্মী। ডিএইচএস জানিয়েছে, নতুন নিয়মের মাধ্যমে আগে যে শ্রেণির কিছু শিশু লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না, তাদের জন্য সেই সুযোগ সম্প্রসারিত করা হয়েছে।  নতুন নিয়মে বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা ছাড়াও বিদেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মী এবং নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মীরা সংশ্লিষ্ট শ্রেণির মধ্যে পড়তে পারেন। ডিএইচএসের সংজ্ঞা অনুযায়ী, বিদেশি সরকারি কর্মীর ধারণাটি আগের ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির চেয়ে বিস্তৃত। এর ফলে নির্দিষ্ট সরকারি দায়িত্বে থাকা আরও কিছু কর্মীর সন্তান এই সুবিধার আওতায় আসতে পারে।  এর অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব না পেলেও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ পেতে পারে। যোগ্য হলে শিশুটির পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি নিবন্ধনের জন্য ফরম আই-৪৮৫ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয় নয়; যোগ্য ব্যক্তিকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে। ডিএইচএস একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন ও এলিয়েন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এনেছে।  সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে ডিএইচএস আরও একটি সংশোধনী প্রকাশ করে। এতে আগের নিয়ম প্রকাশের সময় অসাবধানতাবশত বাদ পড়ে যাওয়া কিছু প্রমাণের শর্ত আবার যুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে বাবা বা মায়ের বিদেশি সরকারি চাকরির প্রমাণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ বাবা বা মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলেও বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে তাদের চাকরির প্রমাণ দিতে হতে পারে।  সংশোধিত নিয়মে ফরম আই-৫০৮ নিয়েও পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদেশি সরকারের কর্মী হিসেবে যোগ্য কিছু শিশুর ক্ষেত্রে তাদের বাবা-মা কূটনৈতিক কর্মকর্তা না হলে এই ফরম জমা দেওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ফরম আই-৫০৮ মূলত নির্দিষ্ট অধিকার, বিশেষ সুবিধা, অব্যাহতি ও ইমিউনিটি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত। ডিএইচএস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর শ্রেণি অনুযায়ী এর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারিত হবে।  নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য, যাদের বাবা-মা বিদেশি সরকারের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালন করছেন। আগে প্রচলিত নিয়মে ‘বিদেশি কূটনৈতিক কর্মকর্তা’ শ্রেণির বাইরে থাকা কিছু সরকারি কর্মীর সন্তান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক না হলে পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ পেত না। নতুন ব্যবস্থায় সেই পরিধি বাড়ানো হয়েছে।  ডিএইচএসের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বা তার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য। এর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের জন্মের সময় কার্যকর থাকা নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সেপ্টেম্বর ৯-এর সংশোধনীও ৪ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর বলে ধরা হয়েছে।  এই পরিবর্তন জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারি কর্মীদের সন্তানদের অভিবাসন অবস্থান নিয়ে চলমান নীতিগত পরিবর্তনের একটি অংশ। তবে নতুন নিয়মটি নিজে থেকে সব বিদেশি সরকারি কর্মীর সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব থেকে বাদ দেয় না। বরং যেসব শিশু জন্মের সময় মার্কিন নাগরিক নয়, তাদের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিকে লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্সির জন্য নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে আলোচিত মামলা
ফেসিয়াল রিকগনিশনের ভুলে গ্রে প্তার নারী, মুক্তির পর ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির এক নারী ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ভুল শনাক্তকরণের কারণে ব্যাংক জালিয়াতির মামলায় গ্রে প্তার ও কয়েক মাস আটক থাকার অভিযোগে একটি শহর ও এক পুলিশ গোয়েন্দার বিরুদ্ধে ১০ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন।   অ্যাঞ্জেলা লিপস নামের ওই নারী মঙ্গলবার নর্থ ডাকোটার ফেডারেল আদালতে ফার্গো শহর ও ফার্গো পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা লুকাস হেকের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশন সফটওয়্যার তাকে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনায় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির সম্ভাব্য মিল হিসেবে শনাক্ত করেছিল।   মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল ও মে মাসে এক নারী চুরি করা পরিচয় ও ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ফার্গো এলাকার কয়েকটি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তদন্তের সময় ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ ও নর্থ ডাকোটার একটি গোয়েন্দা কেন্দ্র থেকে পাওয়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ফলাফল লিপসকে সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে দেখায়।   লিপসের মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গোয়েন্দা হেক জানতেন যে তিনি টেনেসিতে থাকেন এবং কখনো নর্থ ডাকোটায় যাননি। এ ছাড়া নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে থাকা সন্দেহভাজনের শারীরিক বর্ণনার সঙ্গেও লিপসের মিল ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ব্যাংক থেকে নেওয়া অর্থের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের তথ্যও ছিল না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলার আরও অভিযোগ, ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলটি মূলত নজরদারি ভিডিও থেকে নয়, বরং সন্দেহভাজনের ব্যবহৃত একটি ভুয়া পরিচয়পত্রের ছবির ভিত্তিতে পাওয়া গিয়েছিল—এই বিষয়টি গোয়েন্দা হেক আদালতকে জানাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তির ফলাফলকে শুধু তদন্তের সূত্র হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল; নিশ্চিত পরিচয় হিসেবে নয়।   এরপর লিপসের বিরুদ্ধে ব্যাংক জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত আটটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান ছিল বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কার্যকর একটি গ্রে প্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, লিপস তখন টেনেসিতে এক প্রতিবেশীর শিশুর দেখাশোনা করছিলেন। সেখানেই ইউএস মার্শালসের একটি পলাতক আসামি ধরার বিশেষ টাস্কফোর্স তাকে বন্দুকের মুখে গ্রে প্তার করে।   পরে তাকে টেনেসির একটি কারাগারে রাখা হয় এবং নর্থ ডাকোটায় নিয়ে গিয়ে ক্যাস কাউন্টি জেলে আটক করা হয়। তার জামিনের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ডলার। মামলায় লিপস দাবি করেছেন, থ্যাংকসগিভিং পর্যন্ত এবং নিজের ৫০তম জন্মদিনও তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে।   মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ডেনচার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ দেয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেওয়া হয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, লিপসের আইনজীবী ব্যাংকের নথি আদালতে উপস্থাপন করে দেখান যে, যেসব সময়ে ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছিল, তখন লিপস টেনেসিতেই ছিলেন।   কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর লিপসের কাছে মাত্র ৪ সেন্ট ছিল এবং তার কাছে শীতের পোশাকও ছিল না বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। তখন তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি ছিল। পরে স্থানীয় একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ও এক প্রতিবেশীর সহায়তায় তিনি টেনেসিতে নিজের বাড়িতে ফেরেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ফার্গো পুলিশ বিভাগের ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে পর্যাপ্ত নীতি, প্রশিক্ষণ বা তদারকি ছিল না। বিপরীতে ওয়েস্ট ফার্গো পুলিশ বিভাগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম ছিল এবং শুধু ফেসিয়াল রিকগনিশনের ফলাফলের ভিত্তিতে গ্রে প্তার না করার নীতি ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।   ফার্গো পুলিশের প্রধান ডেভ জিবোলস্কি মার্চে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিভাগটিতে তদন্তসংক্রান্ত কিছু ভুল হয়েছিল। পরে তিনি পদত্যাগ করেন। এর মধ্যে পুলিশ বিভাগ ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারে নতুন নীতি ও প্রশিক্ষণ চালু করেছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।   লিপসের মামলায় বেআইনি আটক ও গ্রে প্তার, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘন, পুলিশের নীতি ও প্রশিক্ষণ নিয়ে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন, মিথ্যা গ্রে প্তার ও আটক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা চালানোর অভিযোগসহ মোট পাঁচটি দাবি করা হয়েছে।   লিপস ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি গোয়েন্দা হেকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ, আইনজীবীর খরচ এবং জুরি বিচারের আবেদন করেছেন।   তবে এগুলো লিপসের করা দেওয়ানি মামলার অভিযোগ। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
আইআরএসে দাবি না করা কর ফেরত, অঙ্গরাজ্যভেদে বড় পার্থক্য
কর ফেরত নিতে ভুলছেন অনেকে, যুক্তরাষ্ট্রের যে অঙ্গরাজ্যে পাওনা সবচেয়ে বেশি

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে লাখ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে কিছু অঙ্গরাজ্যে এই ফেরত না নেওয়া অর্থের পরিমাণ অন্যগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস)-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য উঠে এসেছে।   কর প্রস্তুতকারী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান সিগমা ট্যাক্স প্রোর করা বিশ্লেষণে ২০১৮ থেকে ২০২২ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের আইআরএস তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে জনসংখ্যার অনুপাতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে কত ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত নেওয়া হয়নি, তা হিসাব করা হয়েছে।   ২০২২ সালকে বিশ্লেষণের শেষ বছর হিসেবে নেওয়া হয়েছে। কারণ, ওই বছরের কর ফেরত পাওয়ার দাবির তিন বছরের সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর আইআরএসে ফেরত না নেওয়া অর্থের তথ্য পাওয়া যায়।   আলাস্কায় প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৮ ডলার। ২০২২ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে আনুমানিক ৩৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। সেখানে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৭২১ ডলার।   পাঁচ বছরের প্রতিটি বছরেই জনসংখ্যার অনুপাতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণে আলাস্কা শীর্ষে ছিল। অঙ্গরাজ্যটিতে প্রতি এক লাখ বাসিন্দার মধ্যে আনুমানিক ৫৫৪ জনের সম্ভাব্য কর ফেরত পাওনা ছিল।   আলাস্কার পর ছিল ওয়াশিংটন, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই ও নেভাদা।   অন্যদিকে, সবচেয়ে কম সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল উইসকনসিনে। ২০২২ সালে সেখানে আনুমানিক ১ কোটি ৪৮৭ লাখ ডলারের সম্ভাব্য কর ফেরত দাবি করা হয়নি। জনসংখ্যার অনুপাতে এই পরিমাণ ছিল প্রতি এক লাখ বাসিন্দায় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৯ ডলার। অঙ্গরাজ্যটিতে সম্ভাব্য ফেরতের মধ্যম পরিমাণ ছিল ৬৫৮ ডলার।   উইসকনসিনের পর ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা ও ইউটা। প্রতি এক লাখ বাসিন্দার বিপরীতে সম্ভাব্য ফেরত না নেওয়া করের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ লাখ ৫৯ হাজার ২৮৭ ও ২ লাখ ৭১ হাজার ৪১৭ ডলার।   পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের অবস্থানে বড় পরিবর্তনও দেখা গেছে। ২০১৮ সালে ৪০তম অবস্থানে থাকা মন্টানা ২০২২ সালে ২৩তম স্থানে উঠে আসে। অ্যারিজোনা ২৬তম থেকে ১১তম এবং মিসিসিপি ৪১তম থেকে ৩০তম অবস্থানে উঠে আসে।   অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় পতন দেখা যায় কলোরাডোতে। ২০১৮ সালে ১৩তম অবস্থানে থাকা অঙ্গরাজ্যটি ২০২২ সালে ৩৫তম স্থানে নেমে যায়।   বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ইয়ান গার্ডনার বলেন, করব্যবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণার অভাব কিংবা আইআরএসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অডিট বা অতিরিক্ত করের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে তাদের পাওনা কর ফেরত দাবি করেন না। তবে তার মতে, কয়েকশ ডলারের মধ্যম পরিমাণের এই সম্ভাব্য ফেরত অনেক মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্থ হতে পারে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সুদের হার বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ি বিক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা
সুদের হার বাড়তেই চাপে আমেরিকার বাড়ির মালিকরা, কমতে পারে বাড়ির দাম

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পর দেশটির আবাসন বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। বাড়ির ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় যোগ্য ক্রেতার সংখ্যা কমতে পারে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ বাড়ি বিক্রি করতে আগ্রহী অনেক মালিককে দাম কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে হতে পারে বলে মনে করছেন আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা।   রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বাড়ির মালিক এখনো কয়েক বছর আগের বাজারমূল্যকে ভিত্তি করে বেশি দাম প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় সেই প্রত্যাশা ধীরে ধীরে কমতে পারে। একই সময়ে ঋণের সুদ বেশি হওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।   ডাগ্রোসা ক্যাপিটাল পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান জো ডাগ্রোসা বলেন, বিক্রেতাদের অনেকেরই বাড়ির দাম নিয়ে উচ্চ প্রত্যাশা রয়েছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কমে গেলে বিক্রির সুযোগও কমবে। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা—দুই পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।   কম্পাসের বাওয়ার্স গ্রুপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রেট রুবিন বলেন, ক্রেতা কমে যাওয়ার কারণে বাড়ি বিক্রির প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও দুর্বল হচ্ছে। এরই মধ্যে অনেক বাড়ি বাজারে আগের চেয়ে বেশি সময় ধরে পড়ে থাকছে এবং দাম কমানোর ঘটনাও বাড়ছে।   ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারকেরা বুধবার ১২-০ ভোটে ফেডারেল ফান্ডস রেট ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশ করেছেন। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এটি ছিল প্রথম সুদের হার বৃদ্ধি।   সুদের হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির ঋণের খরচও বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার বেড়ে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ১৫ বছরের নির্দিষ্ট হারের রিফাইন্যান্স ঋণের গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।   ডাগ্রোসার মতে, গত ৮ থেকে ১০ বছরে অনেক বাড়ির মূল্য ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এখন যারা বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাদের কেউ কেউ আগের তুলনায় কিছুটা কম দাম মেনে নিতে বাধ্য হতে পারেন। একই সঙ্গে বাড়ি নির্মাণ খাতেও চাপ বাড়ছে, কারণ নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বাড়ির মালিকের কাছে এখনো ৩ থেকে ৪ শতাংশের মতো কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ রয়েছে। নতুন বাড়ি কিনলে বেশি সুদের হারে বড় ঋণ নিতে হবে—এই কারণে অনেকেই বাড়ি পরিবর্তন করতে চাইছেন না। আবাসন বাজারে এই পরিস্থিতিকে ‘মর্টগেজ রেট লক-ইন’ প্রভাব বলা হচ্ছে।   রুবিন বলেন, কম সুদের পুরোনো মর্টগেজ থাকা ব্যক্তিরা প্রয়োজন না হলে নতুন বাড়ি কেনার দিকে আগ্রহী নাও হতে পারেন। তবে চাকরির কারণে স্থানান্তর বা পারিবারিক প্রয়োজনের মতো কারণে যাদের বাড়ি কিনতে বা বিক্রি করতে হচ্ছে, তাদের উচ্চ সুদের এই পরিস্থিতির মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।   ডাগ্রোসা মনে করছেন, আগামী কয়েক মাসে আবাসন বাজার ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, বিক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আপাতত বাজারে এক ধরনের স্থবিরতা দেখা যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে বাড়ির মজুত বাড়া এবং মৌসুমি ধীরগতির সঙ্গে উচ্চ সুদের হার যুক্ত হওয়ায় বিক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। যারা দাম কমাতে দেরি করবেন, তাদের সীমিতসংখ্যক ক্রেতার জন্য অন্য বিক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। ফলে সামনে ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদের হার বাড়লেই সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির দাম কমে যাবে—এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বাড়তে থাকলে এর প্রভাব আবাসন বাজারে আরও স্পষ্ট হতে পারে। আগামী বসন্তের বাজার পরিস্থিতি এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের মধ্যম আয় বেড়ে রেকর্ড ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলারে পৌঁছেছে
রেকর্ড গড়ল আমেরিকানদের পারিবারিক আয়, ২০২৫ সালে বেড়েছে ২.৬ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম আয় রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশটির সেন্সাস ব্যুরোর নতুন তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মার্কিন পরিবারের মধ্যম আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ২০২৪ সালের ৮৫ হাজার ২১০ ডলারের তুলনায় এই আয় ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে।   সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য বলছে, ১৯৬৭ সাল থেকে আয় সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ শুরুর পর ২০২৫ সালেই পরিবারের মধ্যম আয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিবারের আয়েও পরিবর্তন দেখা গেছে। শ্বেতাঙ্গ পরিবারের মধ্যম আয় ৩ শতাংশ এবং হিস্পানিক নন এমন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের আয় ২ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ পরিবারের আয় বেড়েছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে এশীয় ও হিস্পানিক পরিবারের মধ্যম আয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।   নারী ও পুরুষের আয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে নারীদের মধ্যম আয় ৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে, বিপরীতে পুরুষদের আয় সামান্য কমেছে। পূর্ণকালীন ও বছরজুড়ে কাজ করা কর্মীদের ক্ষেত্রে নারীদের আয় পুরুষদের আয়ের ৮৩ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়ে বেশি।   কর পরিশোধের পর পরিবারের হাতে থাকা আয়ের হিসাবেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৪ সালে মধ্যম পোস্ট-ট্যাক্স পারিবারিক আয় ছিল ৭৩ হাজার ৭৬০ ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬০ ডলারে, যা ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে দারিদ্র্যের হারও কমেছে। ২০২৫ সালে দেশটির সরকারি হিসাবে দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। চার সদস্যের একটি পরিবারের জন্য ২০২৫ সালের গড় দারিদ্র্যসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার।   শিশুদের দারিদ্র্যের হারও ২০২৫ সালে ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন ১৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে হিস্পানিক জনগোষ্ঠীর সরকারি দারিদ্র্যের হার কমে ১৩ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা এই গোষ্ঠীর জন্যও রেকর্ড সর্বনিম্ন।   তবে কর, সরকারি সুবিধা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসা ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া ‘সাপ্লিমেন্টাল পভার্টি মেজার’ অনুযায়ী দারিদ্র্যের হার ছিল ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রচলিত হিসাবের তুলনায় এই মাপকাঠিতে দারিদ্র্যের হার প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।   স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি। ২০২৫ সালে প্রায় ২ কোটি ৬৭ লাখ মানুষ বা মোট জনসংখ্যার ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কোনো স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল না। এই হার ২০২৪ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি।   ২০২৫ সালে সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় ছিল ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে মেডিকেয়ারের আওতা শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে, অন্যদিকে মেডিকেইডের আওতা কমেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট। ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতাও কমে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
কারাগারে বন্দিদের নির্যাতনের ঘটনায় আলশেখকে ৬০ বছরের কারাদণ্ড
সিরিয়ায় বন্দিদের নি র্যাতন, সাবেক আসাদ কর্মকর্তার ৬০ বছরের কারাদণ্ড সাজা দিল যুক্তরাষ্ট্রের আদালত

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে বন্দিদের নি র্যাতনের দায়ে দেশটির এক সাবেক সামরিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ৬০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি ফেডারেল আদালত সামির উসমান আলশেখকে এই সাজা দেন।   আলশেখ ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার কুখ্যাত আদরা কারাগারের দায়িত্বে ছিলেন। চলতি বছরের মার্চে একটি জুরি তাকে নি র্যাতনের ষড়যন্ত্রের এক অভিযোগ এবং নি র্যাতনের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতে প্রমাণ হয়, কারাগারে থাকা কয়েকজন বন্দিকে নি র্যাতনের জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং এতে সরাসরি অংশও নিয়েছিলেন। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধিতা দমন করতে আলশেখ কিছু বন্দিকে আদরা কারাগারের একটি বিশেষ অংশে পাঠাতেন। সেখানে তাদের ছোট ছোট একাকী কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং বিভিন্নভাবে নি র্যাতন করা হতো। দুই সপ্তাহের বিচার চলাকালে তিনজন ভুক্তভোগী আদালতে তাদের ওপর চালানো নি র্যাতনের বর্ণনা দেন। তারা জানান, তাদের দীর্ঘ সময় ধরে ছাদের পাইপের সঙ্গে ঝুলিয়ে মারধর করা হতো। এছাড়া শরীর ভাঁজ করে ফেলার মতো একটি যন্ত্র ব্যবহার করেও নি র্যাতন করা হয়েছিল বলে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া হয়। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রসিকিউটররা আদালতে বলেন, আলশেখ জানতেন তার কর্মকাণ্ড বেআইনি ও ভুল ছিল। তারপরও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি বন্দিদের ওপর নি র্যাতনের নির্দেশ দেন এবং তাতে অংশ নেন বলে প্রসিকিউটরদের দাবি। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়ার সাবেক সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির কারাগারগুলোতে ব্যাপক নি র্যাতন ও বেআইনি আটকের অভিযোগ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, হাজার হাজার মানুষকে অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই আটক রাখা হয়েছিল। আলশেখ ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরে নাগরিকত্বের আবেদন করেন। তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানায়, তিনি নিজের অতীত সম্পর্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নি র্যাতনের মামলার পাশাপাশি মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে মিথ্যা তথ্য দেওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে গ্রিন কার্ড নেওয়া এবং মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগেও তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। প্রসিকিউটররা আলশেখের জন্য কমপক্ষে ৮০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিলেন। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা পাঁচ বছরের সাজা চেয়ে যুক্তি দেন, আলশেখের বয়স ৭৪ বছর এবং তার গুরুতর শারীরিক ও জ্ঞানগত সমস্যা রয়েছে। তারা আরও জানান, সিরিয়ায় ফেরত পাঠানো হলে তিনি সেখানে নতুন সরকারের কাছে জবাবদিহি করতে প্রস্তুত ছিলেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদ্রোহীদের আকস্মিক অভিযানে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের একটি বড় অধ্যায়ের অবসান ঘটে। তবে এরপরও দেশটিতে বিভিন্ন সময় সহিংসতা ও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।

অলি উল্লাহ মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
সৌদি আরবের কাছে ২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।   এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে।   হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।   তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়।   ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না।   এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে।   এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।   এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিন সন্তানের জননী ভেনেসা হোয়েল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গাড়ির ধাক্কায় তিন সন্তানের এক মা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতে কার্লসবাড শহরের রেডউড অ্যাভিনিউ ও কার্লসবাড বুলেভার্ডের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো ও দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী ফার্নান্দো সালদানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত নারীর নাম ভ্যানেসা হুইল্যান্ড।   পরিবারের বন্ধুদের বরাত দিয়ে এনবিসি ৭ সান দিয়েগো জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় ভ্যানেসা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন। স্থানীয় সময় রাত ৮টার কিছু আগে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর চালক ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে পাওয়া বিভিন্ন আলামত, স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য এবং স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরার তথ্য ব্যবহার করে সালদানার অবস্থান শনাক্ত করেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের একটি জায়গা থেকে তাকে আটক করা হয়।   সালদানার বিরুদ্ধে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালানো, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটানো এবং গুরুতর যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ভিস্তা ডিটেনশন ফ্যাসিলিটিতে রাখা হয়েছে এবং শুক্রবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   মামলাটিতে সালদানার আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ডও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এনবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার আগের দণ্ডের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার আইনের অধীনে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। এই ধরনের মামলায় আগের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দণ্ড চালকের ঝুঁকি সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান ছিল কি না, সেটি আইনি বিবেচনায় আসতে পারে।   নিহত ভ্যানেসা হুইল্যান্ডের পরিবার ও স্বজনেরা তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি একজন নিবেদিত স্ত্রী, মা ও প্রিয় বন্ধু ছিলেন। তার স্বামী ও তিন সন্তানকে রেখে তিনি মারা গেছেন। পরিবারের সহায়তায় একটি তহবিলও গঠন করা হয়েছে।   ভ্যানেসা স্যান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি কার্লসবাড ও বৃহত্তর স্যান দিয়েগো এলাকায় বৈদ্যুতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুইল্যান্ড ইলেকট্রিকের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনার পর কার্লসবাডের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কয়েকজন বাসিন্দা এনবিসি ৭কে জানিয়েছেন, ওই সড়কে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেছেন তারা, যার মধ্যে প্রাণহানির ঘটনাও রয়েছে। ফলে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ভ্যানেসার স্মরণে টামারাক বিচে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে স্বজন ও পরিচিতরা তার স্মরণে প্রার্থনা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্যানেসার মৃত্যু তার সন্তান ও স্বজনদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   কার্লসবাড পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না।   সূত্র: এনবিসি ৭ স্যান দিয়েগো ও কার্লসবাড পুলিশ বিভাগ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসকের সহায়তায় মৃত্যুর আইনি বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছামৃত্যু বৈধ করল ইলিনয়, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন।   ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে।   আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে।   প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন।   এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না।   চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।   আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি।   তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।   আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই।   শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে।   এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন।   ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে।   আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন।   সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাইয়ের দাবি করেছেন ম্যানহাটনের এক কর্মী। ছবি: সংগৃহীত
অপরিষ্কার থাকার অভিযোগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল নিউইয়র্কের প্রযুক্তিকর্মীর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে চাকরি হারানোর দাবি করেছেন ক্রিস স্মলস নামে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। তাঁর ভাষ্য, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মী হিসেবে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে বলা হয়, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সমস্যার কারণে তাঁর চাকরি আর থাকছে না।   স্মলসের দাবি, প্রায় নয় মাস বেকার থাকার পর একটি অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ওই চাকরি পান। তাঁর দায়িত্ব ছিল প্রতিষ্ঠানের কর্মী ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত কাজে সহায়তা করা। নতুন কর্মস্থলে প্রথম দিনটি শুরু হয়েছিল স্বাভাবিকভাবেই। কয়েক ঘণ্টা পরিচিতিমূলক কাজ ও প্রাথমিক প্রশিক্ষণের পর তাঁকে আগেভাগে মধ্যাহ্নভোজে যেতে বলা হয়।   তবে ভবন থেকে বের হওয়ার আগেই অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, ‘পরিচ্ছন্নতার সমস্যা’র কারণে তাঁকে আর কাজে রাখা হচ্ছে না।   স্মলস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে ‘Havocko’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাত হাজার পাঁচশর বেশি আপভোট পায় বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীদের মধ্যে সহানুভূতি, সন্দেহ এবং নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়।   স্মলসের দাবি, চাকরির প্রথম দিন সকালে তিনি নতুন একটি পোলো শার্ট পরে কর্মস্থলে যান। আগের রাতেই তিনি গোসল করেছিলেন বলেও জানান। অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যে প্রতিনিধি তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার খবর দেন, তিনিও নাকি ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। শুধু তাঁকে ওই দিন কী পোশাক পরেছিলেন, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল।   নিজের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে স্মলস বলেন, তিনি নিয়মিত নিজের যত্ন নেন এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভালোভাবেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছিলেন। তবে তাঁর প্যান্টে কিছুটা ধুলা বা পশুর লোম থাকতে পারে বলে তিনি স্বীকার করেন।   চাকরি হারানোর পর নিজের পরিচিতদের কাছ থেকেও বিষয়টি যাচাই করার চেষ্টা করেন স্মলস। তিনি তাঁর এক রুমমেট ও এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেন, তাঁর শরীর থেকে কোনো দুর্গন্ধ পাওয়া যায় কি না। দুজনই তা অস্বীকার করেন বলে জানান তিনি। স্মলস আরও বলেন, তাঁর একটি বিড়াল ও একটি কুকুর রয়েছে। তবে তাঁর দাবি, বাসা পরিষ্কার থাকে এবং তিনি এমন একজন রুমমেটের সঙ্গে থাকেন যিনি পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশ সতর্ক।   চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না পাওয়াই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেডিটে নিজের পোস্টে তিনি অনুমান করেন, কর্মস্থলে হয়তো নাক চুলকানোর মতো কোনো অঙ্গভঙ্গিকে ভুলভাবে দেখা হয়েছিল। তবে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো তথ্য তাঁর কাছে নেই।   ঘটনার পর স্মলস অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠাটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর দাবি, শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ দেখালেও পরে আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এমনকি নতুন চাকরিতে যে অল্প সময় কাজ করেছিলেন, সেটির পারিশ্রমিকও তিনি তখন পর্যন্ত পাননি বলে জানান।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অবশ্য সবাই স্মলসের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হননি। কেউ কেউ মনে করেন, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার প্রকৃত কারণ হতে পারে। আবার অন্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার জন্য এটিকে হয়তো একটি অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।   কয়েকজন রেডিট ব্যবহারকারী ‘হায়ার-টু-ফায়ার’ বা দ্রুত নিয়োগ দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কর্মী ছাঁটাই করার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। তবে স্মলস নিজেই এই ব্যাখ্যাকে খুব একটা সম্ভাব্য মনে করছেন না। কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটনাটি নিয়ে ভাবার পর তাঁর নিজের ধারণা, কর্মস্থলে কোনো আচরণ বা অঙ্গভঙ্গি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকতে পারে।   ঘটনার পর আবার চাকরির সন্ধানে ফিরেছেন স্মলস। নিউইয়র্কের কর্মসংস্থান আইনের কাঠামো নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, অস্থায়ী কর্মীদের চাকরি শেষ করার ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট সুরক্ষা থাকা প্রয়োজন।   যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ অঙ্গরাজ্যের মতো নিউইয়র্কেও সাধারণভাবে ‘অ্যাট-উইল’ কর্মসংস্থান ব্যবস্থা কার্যকর। এর অর্থ, আইন বা চুক্তিতে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম না থাকলে নিয়োগকর্তা বা কর্মী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কর্মসম্পর্ক শেষ করতে পারেন, যদিও বৈষম্য বা প্রতিশোধমূলক বরখাস্তের মতো বেআইনি কারণের ক্ষেত্রে আলাদা আইনি সুরক্ষা রয়েছে। তবে স্মলসের নির্দিষ্ট চাকরি হারানোর ঘটনায় নিয়োগকর্তা কোনো বেআইনি আচরণ করেছে কি না, সে বিষয়ে কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশই স্মলসের নিজের বক্তব্য ও রেডিটে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সাবেক কর্মস্থল বা অস্থায়ী কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ নেই। ফলে চাকরি হারানোর প্রকৃত কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও স্মলসের রেডিট পোস্ট।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০