- প্রচ্ছদ
- Topic
যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সাফল্য তুলে ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের দেওয়া একটি পোস্টের জবাবে ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। কোনো কথা না লিখে মাত্র ৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দিয়ে ভ্যান্সের দাবিকে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে দুই নেতার এই অনলাইন পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক মহলেও নজর কেড়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হোয়াইট হাউসের তৈরি একটি গ্রাফিক পোস্ট করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো, কর্মজীবী পরিবারের কর ছাড় এবং বড় ধরনের বিনিয়োগের সাফল্য তুলে ধরা হয়। পোস্টের সঙ্গে ভ্যান্স লেখেন, নিউইয়র্কের মানুষের পাশে রয়েছে তাঁর প্রশাসন। গ্রাফিকে অপরাধের হার কমা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করা হয়। ভ্যান্সের ওই পোস্টের জবাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা অলি বি। এতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীদের মতো উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা এক ব্যক্তি সাবওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছেন। ট্রেনটি স্টেশনে ঢোকার সময় তিনি এমনভাবে হাত নাড়ছেন, যেন তাঁর নির্দেশেই ট্রেনটি থামছে। এরপর যাত্রীদের ওঠার জন্য স্বয়ংক্রিয় দরজা খোলার সময়ও তিনি সেটি নিজের কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর ভঙ্গি করেন। ভিডিওর শেষ অংশে ট্রেনটি স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ভান করেন। পুরো দৃশ্যটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের কৃতিত্ব তিনি নিজেই নিতে চাইছেন। মামদানি ভিডিওটির সঙ্গে কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনেকে এটিকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাফল্যের কৃতিত্ব ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়ার দাবির প্রতি ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফপোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথম প্রকাশ করেছিলেন অলি বি। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। মামদানি সেই পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে ভ্যান্সের পোস্টের জবাব দেওয়ার পর সেটি নতুন করে ভাইরাল হয়। বিষয়টি জানতে পেরে অলি বিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং মেয়রের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান। এদিকে ভ্যান্সের প্রকাশিত গ্রাফিকের তথ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক্সের ব্যবহারকারীদের দেওয়া কমিউনিটি নোটে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি করা ৪৭২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতির সবটাই নিউইয়র্কের জন্য নির্ধারিত নয়। এর মধ্যে মাইক্রন ও অ্যানথ্রপিকের মতো প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বিনিয়োগও রয়েছে। একইভাবে হত্যাকাণ্ড কমার একটি পরিসংখ্যান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব বন্দুক সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউইয়র্কে অপরাধ কমানো ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের কৃতিত্ব নিয়ে এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সাফল্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরছে। অন্যদিকে নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাট মেয়র মামদানির এই ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে তাঁর ভিডিওতে ভ্যান্সের দাবি করা প্রতিটি তথ্যের সরাসরি খণ্ডন করা হয়নি। সংবাদসূত্র: ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের এক্স পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির এক্স পোস্ট ।
ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা চলতি বছরের শেষেই বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে কয়েক মাস আগেই তাঁর সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে ইসরায়েলকে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর এই নিয়মিত অর্থপ্রদান বন্ধ হয়ে যাবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক মাস আগে আলোচনা করে তাঁরা নিয়মিত অর্থসহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলতি বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে আর অর্থ দেওয়া হবে না বলে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে। সেই সহায়তা সামরিক, অর্থনৈতিক নাকি অন্য কোনো ধরনের হবে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষণা মূলত নিয়মিত আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে, দুই দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ে নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত একটি ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা সমঝোতা কার্যকর রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় করা ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। এর মধ্যে বছরে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সামরিক অর্থায়ন এবং ৫০ কোটি ডলার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার জন্য নির্ধারিত। ওই চুক্তির মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, নিয়মিত অর্থপ্রদান তার দুই বছর আগেই বন্ধ হতে পারে। তবে বিদ্যমান সমঝোতা ও কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ বরাদ্দের সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কংগ্রেসেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে নেতানিয়াহু জানিয়েছিলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের নির্ভরতা পুরোপুরি শেষ করতে চান তিনি। তাঁর লক্ষ্য ছিল সহায়তানির্ভর সম্পর্ক থেকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বেশি পারস্পরিক অংশীদারত্বের দিকে নিয়ে যাওয়া। জুলাই মাসেও ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় একই অবস্থান তুলে ধরেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। এদিকে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ইসরায়েলকে সরাসরি সামরিক অনুদান বন্ধের লক্ষ্যে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নেন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ওই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। প্রস্তাবটির লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলকে বিনামূল্যে সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব অর্থে মার্কিন অস্ত্র কেনার ব্যবস্থায় নিয়ে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন ট্রাম্পের এই ঘোষণা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সামরিক সহায়তা সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে ঘোষণাটি কার্যকর করতে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি, প্রশাসনিক নির্দেশনা কিংবা কংগ্রেসের পদক্ষেপ প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকেও নতুন সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। সংবাদসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, জেরুজালেম পোস্ট ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকাকে ঘুমের ওষুধ মেশানো পানীয় খাইয়ে অচেতন করার পর তাঁর সম্মতি ছাড়াই গর্ভপাতের ওষুধ প্রয়োগের ঘটনা সামনে এসেছে। এতে ওই নারীর গর্ভপাত হয়। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক একাডেমি ওয়েস্ট পয়েন্টে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাবেক ক্যাডেট ক্যালেব টি সুহ চলতি বছরের জুনে ফেডারেল আদালতে অপরাধের দায় স্বীকার করেছেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন ভুক্তভোগী নারী। নিউইয়র্ক পোস্ট ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ওয়েস্ট পয়েন্টে পড়াশোনার সময় দুজনের প্রেমের সম্পর্ক শুরু হয়। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ওই নারী জানতে পারেন, তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি সন্তান জন্ম দিতে চাইলেও সুহ গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে থাকেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, একপর্যায়ে গর্ভপাত না করালে আত্মহত্যার হুমকিও দেন সুহ। তবে পরে প্রেমিকার সামনে নিজের অবস্থান বদলে ফেলেন তিনি। সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন দেওয়ার ভান করে গোপনে গর্ভপাত ঘটানোর পরিকল্পনা করেন। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, প্রেমিকার পরিচয় ব্যবহার করে একটি অনলাইন ফার্মেসিতে অ্যাকাউন্ট খোলেন সুহ। সেখান থেকে তাঁর অজান্তে গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি এক বন্ধুর কাছ থেকে জ্যানাক্স নামের ঘুমের ওষুধও নেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিকার থাকার কক্ষে গিয়ে তাঁকে বিশেষ প্রোটিন শেক হিসেবে একটি পানীয় পান করতে দেন সুহ। পানীয়টিতে ঘুমের ওষুধ মেশানো ছিল। সেটি পান করার পর তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ধীরে ধীরে চেতনা হারাতে থাকেন। এই অবস্থায় তাঁর মুখে ও যৌনাঙ্গে গর্ভপাতের ওষুধ প্রয়োগ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। কিছু সময় পর ওই নারী তীব্র পেটব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হন। সাহায্যের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া পাননি। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন তিনি। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর ২০২২ সালের মে মাসে ওয়েস্ট পয়েন্টে মার্কিন সেনাবাহিনীর অপরাধ তদন্ত বিভাগকে বিষয়টি জানান ভুক্তভোগী। তবে সামরিক একাডেমির তদন্তে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। চলতি বছরের জুনে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে সুহের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। ৩০ জুন তিনি প্রেমিকার ওপর হামলা এবং তাঁর গুরুতর শারীরিক ক্ষতি করার দায় স্বীকার করেন। এদিকে, ঘটনার পর ওয়েস্ট পয়েন্ট ছেড়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন সুহ। সেখান থেকে চলতি বছর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। আদালতে অপরাধ স্বীকারের পরও তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ভর্তির সময় সুহ আগের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ লিখেছিলেন। ওয়েস্ট পয়েন্ট থেকেও তাঁকে ভালো একাডেমিক অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থী হিসেবে জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী অবস্থান স্পষ্ট নয়। গত ২৮ অক্টোবর নিউইয়র্কের আদালতে সুহের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। আদালতের নথিতে তাঁর পরিচয় গোপন রেখে ‘জেন ডো’ নাম ব্যবহার করা হয়েছে। মামলায় শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর আইনজীবী রাসেল কর্নব্লিথ জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গর্ভপাতের শিকার হয়েছেন এবং এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। তিনি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন। এদিকে, সুহের সাজা ঘোষণার শুনানি আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছেন ফেডারেল বিচারক। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সেমিস্টার শেষ করার সুযোগ দিতে তাঁর আইনজীবী সময় চেয়েছিলেন। প্রসিকিউটররা এতে আপত্তি জানাননি। অপরাধের দায় স্বীকার করলেও সুহের চূড়ান্ত সাজা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিউইয়র্ক পোস্ট, ফেডারেল আদালতের নথি ও দেওয়ানি মামলার অভিযোগপত্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন আইনজীবী পরিচয়ে অভিবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ব্রাজিল ও কিউবার নাগরিক। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণামূলক আবেদন জমা দিতেন। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টিতে লিগ্যাসি ইমিগ্রা সলিউশনস এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত সেবাকেন্দ্র হিসেবে পরিচয় দিত। আশ্রয় আবেদন, ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করা হতো। অথচ তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবী ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন ৫৪ বছর বয়সী ভ্যাগনার সোরারেস ডি আলমেইদা। তাঁর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী জুলিয়ানা কোলুচি এবং আরও কয়েকজন কর্মী। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ভুল ও বিভ্রান্তিকর আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নথিতে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, ভিসা জালিয়াতি, বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্র এবং অনুমোদনহীন বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাতজনের বিরুদ্ধে বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফ জন মিনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং অনুমোদন ছাড়া আইন পেশা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রতারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দুই কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় প্রায় ২০০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭ লাখ ডলারের কাছাকাছি অর্থ উদ্ধার করেছে। শেরিফ জন মিনা জানিয়েছেন, আরও অনেক অভিবাসী এই প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন নথি আটকে রাখার ভয় দেখিয়েও গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলের ফেডারেল প্রসিকিউটর গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অনেকে সঠিক নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। সোমবার ১৩ অভিযুক্তের মধ্যে ১১ জন ফেডারেল বিচারকের সামনে প্রথমবার হাজির হন। ফেডারেল আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর, ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলীয় ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় ।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং অভিযোগটিকে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাইবার অপরাধী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়। এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই জানায়, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলার জন্য দায়ী। চুরি হওয়া ডিজিটাল সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআইয়ের দাবি, হ্যাকাররা চুরি করা অর্থের বড় একটি অংশ ইথেরিয়াম ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করছে। এরপর বিভিন্ন অনলাইন বিনিময় ও ডেসেন্ট্রালাইজড ফাইন্যান্স প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা চলছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ওয়ালেটগুলোর লেনদেন আটকে দিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন তদন্ত সংস্থাটি। তবে কিম ইয়ো জং এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সাইবার অপরাধ ঘটলেই উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো অভ্যাস। তাঁর অভিযোগ, ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করে পিয়ংইয়ংয়ের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে। এ ধরনের অভিযোগকে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবেও বর্ণনা করেছেন তিনি। কিম ইয়ো জং আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুরি হওয়া ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ করে নিজেদের কৌশলগত মজুতে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। তাঁর ইঙ্গিত, উদ্ধার করা অর্থ শেষ পর্যন্ত কার কাছে যায়, তা দেখলে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে কিম ইয়ো জং বলেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পিয়ংইয়ং। মার্কিন প্রশাসনের বৈরী মনোভাব অব্যাহত থাকলে বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে উত্তর কোরিয়া। তবে ঠিক কোন বিষয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। এর আগেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির অভিযোগ এনেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের দায়ী করেছিল এফবিআই। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ ধরনের সাইবার অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ উত্তর কোরিয়ার অস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা করে। পিয়ংইয়ং বরাবরই রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সাইবার অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলাসংক্রান্ত অভিযোগে কিম ইয়ো জংয়ের সরাসরি প্রতিক্রিয়া বিরল ঘটনা। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিযোগটির গুরুত্ব বাড়ায় পিয়ংইয়ং উচ্চপর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির এই অভিযোগ এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সেই প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। নতুন সাইবার হামলার অভিযোগ এবং কিম ইয়ো জংয়ের সতর্কবার্তায় দুই দেশের সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, রয়টার্স, ইয়োনহাপ নিউজ এজেন্সি। ট্যাগ: আমেরিকা বাংলা, উত্তর কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কিম ইয়ো জং, কিম জং উন, বাইন্যান্স,
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা এবং সাধারণ নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের কয়েকটি নির্ধারিত কর্মসূচি বাতিলের খবরের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালু নেই। নতুন করে এমন ব্যবস্থা চালুর কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়নি। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইওয়া ও কানসাসে নির্ধারিত নির্বাচনি সমাবেশ এবং ভ্যান্সের মিনেসোটায় একটি সংবাদ সম্মেলন বাতিলের খবর সামনে আসে। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হতে পারে কি না, সেই প্রশ্ন আলোচনায় আসে। তবে কর্মসূচি বাতিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৩ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বন্ধ হয়। এরপর থেকে দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত স্বেচ্ছায় যোগ দেওয়া সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে জরুরি পরিস্থিতির জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম নামে একটি নিবন্ধনব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর আওতায় ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী অধিকাংশ পুরুষ মার্কিন নাগরিক ও অভিবাসীকে নিবন্ধন করতে হয়। সিলেক্টিভ সার্ভিসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারী, শরণার্থী, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারী পুরুষ অভিবাসীরাও নিবন্ধনের আওতায় পড়েন। তবে বৈধ নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসায় অবস্থানকারী ব্যক্তিদের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। নিবন্ধনের অর্থ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া নয়। এটি জাতীয় জরুরি পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য নিয়োগের জন্য তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ বা মিলিটারি ড্রাফট চালু করতে প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে নির্ধারিত বয়সের নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে লটারি পদ্ধতিতে নির্বাচন করা হতে পারে। এরপর শারীরিক ও অন্যান্য যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। সামরিক বিশ্লেষকেরা বর্তমানে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কম বলে মনে করছেন। ফোরসাইট স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজার্সের ক্রিস্টোফার লি দ্য মিররকে জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান প্রধানত নৌ ও বিমানবাহিনীকেন্দ্রিক হতে পারে। এ ধরনের সংঘাত পরিচালনার জন্য বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিককে নতুন করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার প্রয়োজন হওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে যুক্তরাজ্যেও সামরিক প্রস্তুতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির সরকার সাবেক সামরিক সদস্যদের জরুরি প্রয়োজনে পুনরায় দায়িত্বে ডাকার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৫ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করার প্রস্তাব করেছে। এই পরিবর্তনের লক্ষ্য অভিজ্ঞ সাবেক সেনাসদস্যদের প্রয়োজনের সময় কাজে লাগানো। এটি সাধারণ নাগরিকদের নতুন করে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের ব্যবস্থা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি-আমেরিকান ও অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য সিলেক্টিভ সার্ভিসের নিয়ম জানা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যোগ্য পুরুষদের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিবন্ধন না করলে নির্দিষ্ট সরকারি চাকরি, সুবিধা এবং অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সেনা নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তনের ঘোষণা আসেনি। ১৯৭৩ সাল থেকে চালু থাকা স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগব্যবস্থাই কার্যকর রয়েছে। ভবিষ্যতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের প্রয়োজন দেখা দিলে তার জন্য পৃথক আইনি ও সরকারি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস, যুক্তরাষ্ট্রের সিলেক্টিভ সার্ভিস সিস্টেম; ইউএসএ গভর্নমেন্ট
গর্ভবতী কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও আইনি সুরক্ষার বিধান শিথিল করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতিগত অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শ্রমিক অধিকার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। তাঁদের আশঙ্কা, বিদ্যমান সুরক্ষা দুর্বল হলে গর্ভবতী নারীদের চাকরি ধরে রাখা এবং গর্ভাবস্থায় নিরাপদ পরিবেশে কাজ করা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গর্ভবতী কর্মীদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন হলো প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট। এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী নিয়োগকর্তাদের গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মদান এবং সংশ্লিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে কর্মীদের যুক্তিসংগত সুবিধা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে কোনো সুবিধা দেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের ওপর অযৌক্তিক মাত্রায় অসুবিধা বা ব্যয় সৃষ্টি হলে আইনে ব্যতিক্রমের সুযোগও রাখা হয়েছে। আইনটি ২০২২ সালে কংগ্রেসে পাস হয় এবং ২০২৩ সালের জুনে কার্যকর হয়। এর বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইকুয়াল এমপ্লয়মেন্ট অপরচুনিটি কমিশন বা ইইওসি। সংস্থাটি কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী ফেডারেল আইন বাস্তবায়ন ও অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব পালন করে। গর্ভবতী কর্মীদের জন্য যুক্তিসংগত সুবিধার মধ্যে কাজের সময় পরিবর্তন, অতিরিক্ত বিশ্রামের সুযোগ, বসে কাজ করার ব্যবস্থা, পানি পান বা চিকিৎসার জন্য বিরতি এবং সাময়িকভাবে শারীরিক পরিশ্রমের কাজ কমানোর মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে। তবে কর্মীর পরিস্থিতি, কাজের ধরন এবং নিয়োগকর্তার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ধারিত হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের ২ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন আইনটির বাস্তবায়নসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত সাতজন ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিশেষ করে গর্ভপাত, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এবং প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু অবস্থার ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রের সুরক্ষা সীমিত করা হতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় কর্মীদের জন্য মৌলিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি বাতিল করার পরিকল্পনা রয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ইইওসির চেয়ার আন্দ্রেয়া লুকাসের যুক্তি, বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রণীত বিধিমালায় কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে গর্ভপাতসহ কিছু প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এসব সুরক্ষা সংকুচিত হলে চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা কর্মীরা বৈষম্য ও চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। নিউজউইকের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে মাতৃত্বকালীন ছুটির সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যেখানে জাতীয় পর্যায়ে বাধ্যতামূলক বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা নেই। ফ্যামিলি অ্যান্ড মেডিকেল লিভ অ্যাক্টের আওতায় যোগ্য কর্মীরা বছরে সর্বোচ্চ ১২ সপ্তাহ বেতনবিহীন, চাকরি সুরক্ষিত ছুটি পেতে পারেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মাত্র ৪৯ শতাংশ কর্মীর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বেতনসহ পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত ছুটির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে এই পরিসংখ্যান শুধু মাতৃত্বকালীন ছুটির নয়, অন্যান্য পারিবারিক ও চিকিৎসাজনিত ছুটির সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত করে। এরই মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে লুইজিয়ানার একটি ফেডারেল আদালত গর্ভপাতসংক্রান্ত কর্মক্ষেত্রের সুবিধার বিষয়ে ইইওসির বিধিমালার একটি অংশ বাতিল করেন। তবে আদালত মূল প্রেগন্যান্ট ওয়ার্কার্স ফেয়ারনেস অ্যাক্ট বাতিল করেননি। ফলে গর্ভবতী কর্মীদের জন্য আইনটির অন্যান্য সুরক্ষা বহাল রয়েছে। ইইওসির নিয়ন্ত্রক পরিকল্পনা অনুযায়ী, নভেম্বরেই নতুন বিধিমালার প্রস্তাব প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। এরপর জনমত গ্রহণের প্রক্রিয়া চলতে পারে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রস্তাবের চূড়ান্ত ভাষা প্রকাশ না হওয়ায় কোন কোন সুবিধা পরিবর্তিত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশিসহ অভিবাসী নারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রিটেইল, রেস্টুরেন্ট, স্বাস্থ্যসেবা ও শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর পেশায় কর্মরত গর্ভবতী নারীরা কাজের পরিবেশে পরিবর্তনের প্রয়োজন অনুভব করতে পারেন। তবে নতুন কোনো বিধিমালা কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তাঁদের প্রাপ্য সুরক্ষা বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাচ্ছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে নিউজউইকের প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার এবং সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাব অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের সাধারণ বেকার জনগোষ্ঠী থেকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়। কারণ দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকলে আয় ও সঞ্চয়ের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরিতে ফিরে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের বৃদ্ধি সাধারণ বেকারত্বের হার থেকে ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের একটি অংশ নতুন চাকরি পেতে বেশি সময় নিতে পারেন। ফলে শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে পরিবারের নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মর্টগেজ, রেন্ট, গাড়ির কিস্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সঞ্চয় সীমিত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে। চাকরি খোঁজার সময় দীর্ঘ হলে অনেককে পেশা পরিবর্তন কিংবা আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরির কথাও বিবেচনা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের হার এবং বেকারত্বের মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে কতটা আগ্রহী এবং চাকরিপ্রার্থীরা কত দ্রুত কাজে ফিরতে পারছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বাড়ার অর্থ এই নয় যে সব খাতে সমানভাবে চাকরির সুযোগ কমেছে। বিভিন্ন শিল্প, পেশা ও অঞ্চলে নিয়োগ পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণ করতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিউজউইকের প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বেকারের সর্বশেষ সংখ্যা, আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সাম্প্রতিক প্রবণতা তাই শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নর্থ হলিউডে একটি ইমিগ্রেশন গ্রেপ্তার অভিযানের সময় প্রতিবেশীর দিকে অস্ত্র তাক করার অভিযোগ উঠেছে এক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিওতে একজন এজেন্টকে অস্ত্র উঁচিয়ে প্রতিবেশীর দিকে তাক করতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে এবিসি৭। লস অ্যাঞ্জেলেসের আবাসিক এলাকায় সংঘটিত ঘটনাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় ফেডারেল এজেন্টদের আচরণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নর্থ হলিউডের একটি এলাকায় ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত গ্রেপ্তার অভিযান চলছিল। অভিযানের একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত একজন প্রতিবেশীর সঙ্গে এজেন্টদের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন একজন এজেন্টকে প্রতিবেশীর দিকে অস্ত্র তাক করতে দেখা যায় বলে ভিডিওতে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে ভিডিওর দৃশ্য থেকে ওই মুহূর্তে অস্ত্র তাক করার কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযান নিয়ে বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফেডারেল এজেন্টদের যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। এবিসি৭-এর তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে। ভিডিওতে দেখা যায়, মুখোশ পরা কয়েকজন আইসিই এজেন্ট হাতকড়া পরানো এক ব্যক্তিকে একটি গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। একপর্যায়ে তিনজন এজেন্ট তাঁর হাত ও পা ধরে তুলে নিয়ে যান। এ সময় ওই ব্যক্তিকে ব্যথায় চিৎকার করতে শোনা যায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিবার জানিয়েছে, তাঁর নাম অ্যাঞ্জেল লুইস গঞ্জালেজ লোবো। ২৭ বছর বয়সী এই ব্যক্তি ভেনেজুয়েলার নাগরিক। তাঁর ভাই বলেছেন, কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা পরিবারের জানা নেই। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, দুই কুকুর নিয়ে ফুটপাতে হাঁটছিলেন এক প্রতিবেশী। তিনি রাস্তা থেকে পেপার স্প্রের ক্যানের মতো একটি বস্তু তুলে নেন। এজেন্টরা তাঁর দিকে এগিয়ে এলে তিনি সেটি ফেলে দেন। এরপর একজন এজেন্ট তাঁর মুখের দিকে অস্ত্র তাক করেছেন বলে মনে হয় এবং তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ঝোপের মধ্যে ঠেলে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী দামারি বাটলার ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী সামান্য এগিয়ে আসার পর একজন এজেন্ট অস্ত্র বের করে তাঁকে ঝোপের দিকে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি এতটাই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল যে তিনি ওই প্রতিবেশীর নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন। বাটলার আরও অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে রাখার সময় তাঁর ওপর টেজার ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। পরে এজেন্টরা তাঁকে বেঁধে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। তবে টেজার ব্যবহারের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ভিডিওর আরেকটি অংশে দেখা যায়, কুকুর নিয়ে হাঁটা প্রতিবেশী মাটি থেকে অন্য একটি বস্তু তুলে নিলে একজন এজেন্ট তাঁকে সেটি নামিয়ে রাখতে বলেন। এরপর ওই ব্যক্তির দিকে কিছু স্প্রে করতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা ন্যান্সি নামের আরেক প্রতিবেশী জানান, এজেন্টদের আচরণ দেখে তিনি নিজের এবং সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে যেভাবে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেটিও তাঁর কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে। এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ফেডারেল এজেন্টদের কোনো বেআইনি আচরণ হয়েছে কি না, তা তদন্তের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। বিষয়টি কংগ্রেসম্যান রবার্ট গার্সিয়ার অফিসেও পাঠিয়েছেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি কাউন্সিলের সদস্য নিত্যা রামানও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন কিংবা সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা উচিত নয়। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবিসি৭ যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে এজেন্টদের অস্ত্র প্রদর্শনের কারণ, গ্রেপ্তারের ভিত্তি এবং বলপ্রয়োগের যৌক্তিকতা সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সূত্র: এবিসি৭ লস অ্যাঞ্জেলেস, ২ নভেম্বর ২০২৬। ABC13 Houston
ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে কোনো যুদ্ধ চলছে না বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (২ নভেম্বর) ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজ প্রণালিতে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের জবাবে সীমিত পরিসরে হামলাগুলো চালানো হয়েছে। তবে একই দিনে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে জয়ী হয়েছে এবং কয়েক মাস ধরে বড় ধরনের কোনো লড়াই চলছে না। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল। সেই হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী পাল্টা হামলা চালায়। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দেশটির কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে একাধিক সীমিত সামরিক অভিযান চালিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব অভিযান মূলত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে। বড় ধরনের যুদ্ধ আবার শুরু হয়েছে, এমন বার্তা এড়াতে অভিযানগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত জানানো হয়নি। হামলার খবর সামনে আসার আগে সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়েছে, তবে কয়েক মাস ধরে কোনো লড়াই চলছে না। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র সেই যুদ্ধে জয়ী হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি না বলেন। ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে নতুন সামরিক অভিযানের খবরের পার্থক্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে আত্মরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে বর্ণনা করছেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। কাতারের মধ্যস্থতায় দোহায় টানা তিন দিন পরোক্ষ আলোচনা হয়েছে। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে সংঘাত বন্ধ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধের ভবিষ্যৎ। তবে সোমবার পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার ঘোষণা আসেনি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কয়েক দফা ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উভয়েই কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। ট্রাম্পও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, ইরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় এবং একটি চুক্তি সম্ভব হতে পারে। তবে তেহরান জানিয়েছে, সমঝোতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ দিচ্ছেন বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। আঞ্চলিক কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আরও হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নেতানিয়াহু। তবে ট্রাম্প সোমবার নতুন হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছেন। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আট মাসের সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাসোলিনের উচ্চমূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম ছিল ৪ ডলার ১৭ সেন্ট। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই মূল্যবৃদ্ধি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। তবে সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ট্রাম্পও তেলের দাম কমার বিষয়টি তুলে ধরে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন হামলা এবং একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। ওয়াশিংটন বলছে, সামরিক হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও যুদ্ধ ও কূটনীতি, উভয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হবে, নাকি সংঘাত আবার বড় আকার ধারণ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, নিউজউইক, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ২ নভেম্বর ২০২৬।
যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর নেওয়া সাবেক সেনাসদস্যদের বসবাসের জন্য সবচেয়ে উপযোগী শহর হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সাসের অস্টিনের নাম। চাকরির সুযোগ, আয়, বাড়ির খরচ, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় দেশটির ১০০টি বড় শহরের মধ্যে অস্টিন প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের নতুন গবেষণার ভিত্তিতে সোমবার (২ নভেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে ফক্স নিউজ। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল ১০০টি শহরকে ১৯টি সূচকের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে। কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা, জীবনযাত্রার মান এবং স্বাস্থ্যসেবা, এই চারটি প্রধান বিভাগে শহরগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। সামরিক বাহিনী থেকে বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য কোন শহরে তুলনামূলক ভালো সুযোগ রয়েছে, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা অস্টিনে সাবেক সেনাসদস্যদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও চাকরির সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। সাবেক সেনাসদস্যদের সহায়তাকারী কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে শহরটি প্রথম এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। সেখানে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয় ৬৬ হাজার ডলারের বেশি, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে নবম সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসন। শহরটিতে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয়ের প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশ, যা দেশটির শহরগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। পাশাপাশি গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যের হারও তুলনামূলক কম। প্রতি এক হাজার সাবেক সেনাসদস্যের মধ্যে মাত্র দুজন গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার স্কটসডেল। সেখানে সাবেক সেনাসদস্যদের বার্ষিক মধ্যম আয় প্রায় ৬৮ হাজার ডলার, যা তালিকাভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ। সাবেক সেনাসদস্যদের কম বেকারত্বের হারের ক্ষেত্রে শহরটির অবস্থান সপ্তম। গৃহহীন সাবেক সেনাসদস্যের সংখ্যা কম থাকার ক্ষেত্রেও শহরটি তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে টেক্সাসের প্লানো এবং পঞ্চম স্থানে একই অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ওয়ার্থ। ফলে শীর্ষ পাঁচ শহরের মধ্যে তিনটিই টেক্সাসে অবস্থিত। গবেষণায় দেখা যায়, সামরিক বাহিনী থেকে অবসরের পর নতুন চাকরি, শিক্ষা এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এসব শহর তুলনামূলক সুবিধাজনক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব সাবেক সেনাসদস্যের জন্য পরিস্থিতি সমান সুবিধাজনক নয়। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ সাবেক সেনাসদস্য বসবাস করছেন। তাঁদের বেকারত্বের হার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে সামগ্রিক জনসংখ্যার বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। তা সত্ত্বেও ৩২ হাজারের বেশি সাবেক সেনাসদস্য গৃহহীন অবস্থায় রয়েছেন। গবেষণায় বড় শহরগুলোর মধ্যেও উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে। নিউইয়র্ক সিটির অবস্থান ৮০তম, লস অ্যাঞ্জেলেস ৮২তম এবং শিকাগো ৯১তম। অন্যদিকে ফ্লোরিডার টাম্পা ১১তম, মায়ামি ১২তম এবং অরল্যান্ডো ১৪তম স্থানে রয়েছে। তালিকার একেবারে নিচে রয়েছে মিশিগানের ডেট্রয়েট, যার অবস্থান ১০০তম। ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো জানিয়েছেন, সামরিক বাহিনী থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের জন্য ভালো শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সাবেক সেনাসদস্যদের শক্তিশালী কমিউনিটি এবং তাঁদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষ ছাড়ও বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। গবেষণার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনসাস ব্যুরো, ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স, হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এটি সরকারি কোনো শহর নির্বাচন বা বসবাসের সুপারিশ নয়, বরং নির্দিষ্ট সূচকের ভিত্তিতে তৈরি একটি তুলনামূলক র্যাঙ্কিং। সূত্র: ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের গবেষণা, ফক্স নিউজ, ২ নভেম্বর ২০২৬।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটের সিনেট নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। আগামীকাল ৩ নভেম্বরের ভোটের আগে এই ফলাফল রিপাবলিকানদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে বেশ কয়েকটি স্টেইটে দুই দলের প্রার্থীদের সমর্থনের ব্যবধান খুবই কম। ফলে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। রোববার, ১ নভেম্বর প্রকাশিত জরিপ অনুযায়ী, টেক্সাস, কানসাস, মেইন, ওহাইও ও আলাস্কায় রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সিনেট আসনগুলোতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আইওয়াতেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকা মিশিগানের আসনে দলটির প্রার্থী তুলনামূলক বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। সাতটি স্টেইটের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের পরবর্তী ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল এসেছে টেক্সাস থেকে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটন ৪৩ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। অর্থাৎ সাত শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন তালারিকো। টেক্সাস দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৮ সালের পর এই স্টেইট থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হননি। ফলে সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর এগিয়ে থাকার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কানসাসেও রিপাবলিকানদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠেছে। জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন পেয়েছেন ৪৯ শতাংশ সমর্থন। বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শাল পেয়েছেন ৪৪ শতাংশ। কানসাস থেকে সর্বশেষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৩২ সালে। ফলে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের তুলনায় এবারের জরিপে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। ওহাইওতে সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। মেইনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন পেয়েছেন ৫১ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন। দুই স্টেইটেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলাস্কায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা ৪৮ শতাংশ এবং বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান ৪৬ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ টুরেক রিপাবলিকান অ্যাশলি হিনসনের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সাঈদ রিপাবলিকান মাইক রজার্সের চেয়ে ১১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের সমর্থন এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতামত নেওয়া হয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যাচ্ছে, তা দুই দলের প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি আসন রয়েছে। ডেমোক্র্যাট এবং তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বতন্ত্র সদস্যদের আসনসংখ্যা ৪৭। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে অন্তত চারটি আসন জিততে হবে। কারণ দুই দলের আসনসংখ্যা ৫০টি করে হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্ণায়ক ভোট দিতে পারবেন। নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা ইউনিভার্সিটির জরিপগুলো ২৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। সাতটি স্টেইটে মোট ৫ হাজার ৭০৮ জন সম্ভাব্য ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। স্টেইটভেদে জরিপের ত্রুটিসীমা ভিন্ন। মিশিগান ও টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের এগিয়ে থাকার ব্যবধান তুলনামূলক বেশি হলেও অন্য পাঁচটি স্টেইটে ফল পরিসংখ্যানগতভাবে খুব কাছাকাছি। সিয়েনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডন লেভি জানিয়েছেন, জরিপ অনুযায়ী ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ব্যবধান বিবেচনায় উভয় দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ভোটারদের উপস্থিতি ও প্রকৃত ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। আগামীকাল মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে কংগ্রেসে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার ভারসাম্য।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ১ নভেম্বর ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। খবরটি প্রকাশের পর দেশটির জনস্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সংক্রমিত দুগ্ধ উৎপাদনকারী গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষায় তাঁর নাম, বয়স ও লিঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি। ইয়াকিমা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে একই কাউন্টিতে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসা আরও একজনের শরীরে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার পর তিনজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দুগ্ধ খামারে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। শুধু ইয়াকিমা কাউন্টিতেই ৩৩টি দুগ্ধ খামারে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমিত গবাদিপশুর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনই বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মানুষের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাঁদের, যাঁরা আক্রান্ত পাখি, গবাদিপশু কিংবা দূষিত পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে অসুস্থ বা মৃত পাখি ও প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খামারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কাঁচা দুধ ও অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিকভাবে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করা নিরাপদ। কারণ পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় বার্ড ফ্লুসহ ক্ষতিকর ভাইরাস ও জীবাণু ধ্বংস হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে আক্রান্ত খামারগুলো পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চলছে। কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, একজনের মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই গুরুতর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। খামারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে কৃষকদের জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত কয়েক সপ্তাহে ঘোষিত এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ডিজেল, সার ও কৃষি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে কৃষকদের সহযোগিতা করা। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষিত সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে ডিজেলের উচ্চমূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এককালীন ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থসহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যেই এই কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। তবে কৃষকেরা কবে নাগাদ অর্থ হাতে পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ছাড়া গবাদিপশু পালনকারী খামারি ও মৎস্য খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষক ও জমির মালিকদের জন্য রয়েছে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রদান। সার উৎপাদন প্রকল্পে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষায়িত ফসল উৎপাদন খাতের উদ্ভাবনী প্রকল্পে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পণ্য দাতব্য ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহারের কথা রয়েছে। তবে ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই সরাসরি নগদ অনুদান নয়। এর মধ্যে ঋণ, সরকারি ক্রয় ও বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থও রয়েছে। এই উদ্যোগের বাইরে ২০২৫ সালের ফসল উৎপাদনের জন্য যোগ্য কৃষকদের প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভুট্টা, সয়াবিন, গম ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদকরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। কৃষিপণ্যের বাজারদর ও উৎপাদনসংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে বিদ্যমান সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ৩২ সেন্ট। এক বছর আগের তুলনায় যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে ১০০ গ্যালনের একটি ট্যাংক পূর্ণ করতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬০ ডলার বেশি খরচ হচ্ছে। ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং শুল্কনীতির কারণে কৃষি যন্ত্রপাতির খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর অনেক খামার লাভজনক অবস্থায় থাকতে পারছে না। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে চাপ তৈরি করেছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গ্রেগ ইবেনডাল মনে করেন, সরকারের এককালীন অর্থসহায়তা অনেক কৃষককে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা দূর হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হলেও কৃষি খাতের অর্থনৈতিক সংকট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সহায়তা ঘোষণা কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ ভোটারদের সিদ্ধান্ত কতটা বদলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের কাছে শুধু তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার খরচও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের হেলথ ইনস্যুরেন্সের জন্য ওপেন এনরোলমেন্ট বা নতুন করে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত রোববার (১ নভেম্বর) থেকে ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যভিত্তিক মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে নতুন ইনস্যুরেন্স কেনা, পুরোনো প্ল্যান নবায়ন কিংবা পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন বাসিন্দারা। তবে শুধু মাসিক প্রিমিয়াম কম দেখে প্ল্যান বেছে নিলে চিকিৎসার সময় বড় অঙ্কের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হতে পারে। তাই ইনস্যুরেন্স বিশেষজ্ঞরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফক্স বিজনেসের প্রতিবেদনে ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব বেনিফিটস অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স প্রফেশনালসের প্রেসিডেন্ট মাইকেল উইন্টার বলেছেন, প্রথমেই গত এক বছরে চিকিৎসার পেছনে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, নিয়মিত ওষুধ, হাসপাতালে ভর্তি কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নেওয়ার হিসাব বিবেচনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি আগামী বছরে পরিবারের সদস্যদের কী ধরনের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, সেটিও পরিকল্পনায় রাখা জরুরি। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাসিক প্রিমিয়াম। আগের বছরের তুলনায় ২০২৭ সালে অনেক হেলথ ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের খরচ পরিবর্তিত হচ্ছে। চিকিৎসাসেবার ব্যয়, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব প্রিমিয়ামের ওপর পড়তে পারে। ফলে আগের বছরের প্ল্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন না করে নতুন প্রিমিয়াম এবং সম্ভাব্য সরকারি আর্থিক সহায়তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তৃতীয়ত, পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতাল ইনস্যুরেন্স কোম্পানির নেটওয়ার্কে রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতাল আগের বছর ইন-নেটওয়ার্কে থাকলেও নতুন বছরে সেই সুবিধা নাও থাকতে পারে। আউট-অব-নেটওয়ার্ক চিকিৎসা নিলে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতে পারে। বিশেষ করে নিয়মিত চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যবহৃত ওষুধগুলো প্ল্যানের আওতায় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। চতুর্থ বিষয় ডিডাক্টিবল ও আউট-অব-পকেট খরচ। ডিডাক্টিবল হলো ইনস্যুরেন্স নির্দিষ্ট চিকিৎসা খরচ বহন শুরু করার আগে গ্রাহককে নিজে যে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। যেমন, কোনো প্ল্যানের ডিডাক্টিবল দুই হাজার ডলার হলে সাধারণত নির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবার প্রথম দুই হাজার ডলার গ্রাহককেই দিতে হয়। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের ফি, কো-পেমেন্ট, কো-ইনস্যুরেন্স এবং বার্ষিক সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত খরচের সীমাও তুলনা করা জরুরি। কম প্রিমিয়ামের প্ল্যানে ডিডাক্টিবল বেশি থাকতে পারে। পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হেলথ সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা এইচএসএ। যোগ্য ইনস্যুরেন্স প্ল্যানের সঙ্গে এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে চিকিৎসার জন্য কর-সুবিধাসহ অর্থ সঞ্চয় করা যায়। নির্ধারিত চিকিৎসা খরচে ব্যবহার করলে সাধারণত এই অর্থ উত্তোলনে ফেডারেল আয়কর দিতে হয় না। অ্যাকাউন্টে অব্যবহৃত অর্থ পরবর্তী বছরেও রাখা যায়। তবে সব ইনস্যুরেন্স প্ল্যান কিংবা গ্রাহক এই সুবিধার যোগ্য নন। এদিকে ফেডারেল মার্কেটপ্লেস হেলথকেয়ার ডট গভের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ২০২৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্ল্যান নির্বাচন করতে হবে। সাধারণ ওপেন এনরোলমেন্ট চলবে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তবে অঙ্গরাজ্যভেদে সময়সীমা আলাদা। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় নিবন্ধন চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। নিউইয়র্কে জানুয়ারি থেকে কভারেজ পেতে ১৫ ডিসেম্বর এবং নিউ জার্সি ও ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নতুন প্ল্যান বেছে নেওয়ার আগে পারিবারিক আয়, সরকারি প্রিমিয়াম ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার যোগ্যতা এবং চিকিৎসার সম্ভাব্য মোট খরচ বিবেচনা করা উচিত। মেডিকেইড ও শিশুদের চিপ কর্মসূচিতে যোগ্য ব্যক্তিরা বছরজুড়ে আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে মেডিকেয়ার ও চাকরিদাতার মাধ্যমে পাওয়া ইনস্যুরেন্সের নিবন্ধনের নিয়ম ও সময়সীমা আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ডেলাওয়্যারসহ বিভিন্ন স্থানে নাইটক্লাব, বিনোদন এলাকা, হ্যালোইন সামগ্রীর দোকান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের একটি ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরে। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণে চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। তবে সব হামলা হ্যালোইনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কিংবা ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, এমনটা প্রমাণ হয়নি। ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু ও ৯৪ জনের আহত হওয়ার সংখ্যা জানিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায়। শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। ডালাস পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১২টা ২০ মিনিটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। তৃতীয় গুলিবর্ষণ হয় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে। ডালাস পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন মারা যান এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পৌঁছান। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হননি। প্রাথমিকভাবে তিনটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ডালাসের ডিপ এলাম শহরটির পরিচিত বিনোদন এলাকা। সেখানে বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান এবং নাইটক্লাব রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। গুলির ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারীরা আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানিয়েছেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশপ্রধান বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে তদন্তের জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত, এমন নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরের সোলানো টাউন সেন্টার শপিং মলে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে শুক্রবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পাশাপাশি মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসেও একটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানের কাছে গুলির ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুটি ঘটনাই হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই অপরাধী চক্র বা পরিকল্পনার অংশ বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানের নামের মিল থেকে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বার্মিংহাম শহরেও গুলির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক ফুটবল ম্যাচের পর আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা চলাকালে গুলিবর্ষণ হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির কাছে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটলেও হামলার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বিরোধের পর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক অপরাধ। কোনো একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সব হামলা সংঘটিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্টি, রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জড়ো হন। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এবারের গুলিবর্ষণগুলোর ক্ষেত্রে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ কিংবা উৎসবের ভিড়ই সরাসরি সহিংসতার কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে হ্যালোইনসহ নির্দিষ্ট ছুটির দিনে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের বোস্টনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে ৩১ অক্টোবরকে সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারির পর ৩১ অক্টোবরের অবস্থান ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট শহরের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণা। হ্যালোইন উপলক্ষে ছোট শিশু ও কিশোরেরা সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে বের হয়, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ সময় যানবাহন চলাচল, ভিড় এবং অপরিচিত স্থানে যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বাড়তি প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য সব ধরনের ঝুঁকি একই নয়। বন্দুক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্য অপরাধের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এসব ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যাঁরা হ্যালোইন বা অন্যান্য বড় উৎসব উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যান, তাঁদের স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে গুজবের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ। হ্যালোইন সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বন্দুক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংকলিত একটি হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ডালাসের তিনটি ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও তদন্ত চলছে। এসব সহিংসতার কারণ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সূত্র: ডালাস পুলিশ বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এসবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ডেটিং অ্যাপে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাদাগাস্কার-ভিত্তিক একটি প্রতারক চক্রের ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত ২৭ অক্টোবর এই অভিযোগ গঠন করা হয়। এফবিআই-এর তদন্তে জানা গেছে, মালয়েশিয়ান নাগরিক চুই কোক ওয়া-র নেতৃত্বে এই চক্রটি মাদাগাস্কারে বসে একটি সুসংগঠিত প্রতারণা জাল পরিচালনা করছিল। চক্রের সদস্যরা ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুয়া প্রোফাইল ব্যবহার করে আমেরিকানদের সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলত। এরপর বিশ্বাস অর্জন করে তাদেরকে ভুয়া এনএফটি (NFT) প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের প্রলোভন দেখাত। বিনিয়োগকারীরা নিজেদের ক্রিপ্টো ওয়ালেট সেই প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে যুক্ত করার পরপরই তাদের অনুমতি ছাড়াই সব ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করে নেওয়া হতো। এফবিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৭৪টি ওয়ালেট থেকে ১২৭টি অননুমোদিত লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে ৫ লাখ ১৬ হাজার ডলারেরও বেশি মূল্যের ইউএসডিটি (USDT) চুরি করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিচার বিভাগের ধারণা, এই বিশাল প্রতারণার শিকার হয়েছেন প্রায় ৮০০ মানুষ। গত আগস্টে মাদাগাস্কারে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ১৩টি সন্দেহভাজন আস্তানা থেকে তিন হাজারেরও বেশি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করেছে এফবিআই। এসব ডিভাইসে কর্মীদের চুক্তিপত্র এবং ভুক্তভোগীদের মানসিকভাবে প্ররোচিত বা 'ইমোশনাল স্ক্যাম' করার জন্য বিস্তারিত নির্দেশনাবলী পাওয়া গেছে। কম্বোডিয়া থেকে পালিয়ে মাদাগাস্কারে আস্তানা গাড়া এই চক্রের মূল হোতাসহ অভিযুক্ত ছয় আসামিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণের জন্য মাদাগাস্কার সরকারের প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী ইসরায়েল অ্যান্থেম তার ১৪ মাস বয়সী মেয়ের জন্য 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' খুলতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী এই বাবা সাফ জানিয়েছেন, তিনি নিজের পকেট থেকে এক হাজার ডলার দেবেন, তবুও মেয়ের নামের সঙ্গে সারাজীবনের জন্য ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকুক তা তিনি কোনোভাবেই হতে দেবেন না। মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণেই তিনি খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নামাঙ্কিত এই সরকারি আর্থিক সুবিধা প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালের কর ও ব্যয় আইনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য এই 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' চালু করা হয়, যা মূলত শিশুদের একটি বিশেষ ব্যক্তিগত অবসরকালীন তহবিল বা আইআরএ। ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরধারী শিশুদের এই অ্যাকাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন ১,০০০ ডলার অনুদান দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্যমতে, ইতিমধ্যেই স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় সাত কোটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং আট বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ জমা করা হয়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকা ও ব্ল্যাকরকের মতো ৫০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের সন্তানদের এই অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হোয়াইট হাউস এটিকে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দাবি করলেও, অ্যান্থেমের মতো অনেক অভিভাবকই ট্রাম্পের এই তথাকথিত 'উদারতা' নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক স্কট রিকের মতে, মানুষের এই ধরনের আচরণের পেছনে 'মেন্টাল অ্যাকাউন্টিং' বা মানসিক হিসাব-নিকাশ কাজ করে। যখন কোনো অর্থকে মানুষ মানসিকভাবে নেতিবাচক বা কলঙ্কিত মনে করে, তখন তারা তা এড়িয়ে চলতে চায়। রিকের ভাষায়, অনেকের কাছেই ট্রাম্পের দেওয়া এই হাজার ডলার অনুদানকে 'বিষাক্ত গাছের ফল' বলে মনে হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন, রাজনৈতিক মতাদর্শকে দূরে সরিয়ে তারা কেবল সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই অনুদান গ্রহণ করছেন। কিন্তু অ্যান্থেম তার সিদ্ধান্তে অনড়; অভিভাবকত্বের আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি ট্রাম্পের সাথে সম্পৃক্ত কোনো সুবিধা নেওয়ার চেয়ে অন্য কোনো উপায়ে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করাকেই শ্রেয় মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ওক পার্কে এক নারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের বরাতে এবিসি সেভেন শিকাগো জানিয়েছে, রোববার(১ নভেম্বর) এক পুরুষ ওই নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২৯টি গুলির খোসা পাওয়া গেছে। শিকাগোর পশ্চিমের এই উপশহরে ঘটনাটি ঘটে মধ্যরাতের পর। ওক পার্ক পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় রোববার, রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাইম্যান অ্যাভিনিউয়ের ১১০০ ব্লকে গুলি চালানো হয়। ঘটনার আগে নারী ও পুরুষটির মধ্যে তর্কের দৃশ্য রিং ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, তর্কের একপর্যায়ে পুরুষটি অস্ত্র বের করে নারীকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। আহত অবস্থায় তাঁকে লয়োলা ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। সিবিএস শিকাগোর পৃথক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল লাইম্যান অ্যাভিনিউ ও হার্ভার্ড স্ট্রিটের মোড়ের কাছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জায়গাটি অস্টিন বুলেভার্ড ও শিকাগোর সীমানা থেকে এক ব্লক পশ্চিমে। এর কিছুটা দক্ষিণে রুজভেল্ট রোড এবং সিসেরোর সীমানা অবস্থিত। সিবিএসের প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলে গুলির খোসা চিহ্নিত করতে অন্তত ৩০টি আলামত নির্দেশক মার্কার দেখা যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, এবিসি সেভেন পুলিশের বরাতে খোসার সংখ্যা জানিয়েছে প্রায় ২৯টি। দুটি প্রতিবেদনে আলামতের সংখ্যা উল্লেখের ধরন আলাদা। এবিসি সেভেনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত নারীর পরনে হ্যালোউইনের পোশাক ছিল। নিহত নারী ও সন্দেহভাজন পুরুষটির পরিচয় তখনো জানা যায়নি। তাঁদের সম্পর্ক, তর্কের কারণ কিংবা গ্রেপ্তারের বিষয়ে ওই প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়নি। সূত্র: এবিসি সেভেন শিকাগো ও সিবিএস শিকাগো।
যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত ২০২৭ সালের ডাইভার্সিটি ভিসা (ডিভি) লটারি নিয়ে বড় ধরনের আইনি জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি উদারপন্থি আপিল আদালত সম্প্রতি নিম্ন আদালতের দেওয়া ডিভি লটারির আবেদন প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ স্থগিত করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই লটারি স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আদালতের এই রায়ের ফলে তা আপাতত বহাল থাকছে। প্রতি বছর নিম্ন-অভিবাসনের দেশগুলো থেকে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়ে থাকেন। গত নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও 'কিছু পরিবর্তন বাস্তবায়নের' কথা বলে ডিভি লটারির আবেদন গ্রহণ স্থগিত করেছিলেন। এর এক মাস পরই ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনার জেরে লটারি ভিসা ইস্যু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০১৭ সালে ডিভি লটারি বিজয়ী ক্লাউদিও ম্যানুয়েল নেভেস ভ্যালেন্তে নামের এক পর্তুগিজ নাগরিক ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে হামলা চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও নয়জনকে আহত করে। এছাড়া ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) এক অধ্যাপক খুনের সঙ্গেও ওই হামলাকারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এই স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে 'রেড ইগল' নামের একটি ইমিগ্রেশন ল ফার্ম মামলা দায়ের করলে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ জিনসুক ওহতা লটারি প্রক্রিয়াটি পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু নাইনথ সার্কিট কোর্ট অব আপিলস-এর তিন বিচারপতির প্যানেল ৩-০ ভোটের সর্বসম্মতিক্রমে সেই নির্দেশ বাতিল করে দেন। আদালত পর্যবেক্ষণে জানান, ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করার কোনো আইনগত অধিকার বা 'স্ট্যান্ডিং' ওই ল ফার্মের নেই। কারণ ডিভি লটারি কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য অভিবাসনকে উৎসাহিত করা, কোনো ল ফার্মের আয়ের উৎস তৈরি করা নয়। আদালত সতর্ক করে বলেন, এমন কাল্পনিক ক্ষতির ভিত্তিতে মামলা করার অনুমতি দিলে আইনজীবীরা সরকারের ভুল খুঁজতে দেশজুড়ে অহেতুক মামলার বন্যা বইয়ে দেবেন। তবে আদালত স্পষ্ট করেছেন যে, এই রায় কেবল বিচারিক প্রক্রিয়ার (প্রসিডিউরাল) ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে; পররাষ্ট্র দপ্তর আইন মানতে ব্যর্থ হয়েছে কি না, তা এখানে বিবেচনা করা হয়নি। উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই ভিসা লটারি প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধী। তিনি বরাবরই মেধার ভিত্তিতে ভিসা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলে আসছেন, এই লটারির সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন দেশ তাদের 'সবচেয়ে খারাপ' মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।