সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

সড়ক দুর্ঘটনা

ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ ও ৭ বছরের শিশুর চালানো গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিউটি কুইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন কিয়ারা ডারভন বোলিং (৩১) নামের এক বিউটি কুইন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল ৪ ও ৭ বছর বয়সী দুই শিশু ভাই। গত বৃহস্পতিবার ওকল্যান্ডের রাস্তায় এক বন্ধুর কুকুর নিয়ে হাঁটার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।   বর্তমানে ওকল্যান্ডের হাইল্যান্ড হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কিয়ারা। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনায় তার মস্তিষ্কে একাধিক রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং মুখের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে। তার বোন ক্রিস্টিনা ব্ল্যাকমন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, কিয়ারা বেঁচে ফেরার জন্য আপ্রাণ লড়াই করছেন। তবে আশার কথা হলো, তিনি চিকিৎসকদের প্রাথমিক কিছু কথায় ধীরে ধীরে সাড়া দিতে শুরু করেছেন।   দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার বিপুল ব্যয়ভার মেটাতে 'গোফান্ডমি' (GoFundMe)-তে খোলা একটি তহবিলে ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে ৩১ হাজার ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাবা-মা ঘুমিয়ে থাকার সুযোগে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ওই দুই শিশু। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, সম্ভবত এক ভাই স্টিয়ারিং হুইল ধরেছিল এবং অন্যজন গ্যাস ও ব্রেক প্যাডেল চাপাচ্ছিল। প্রচণ্ড গতিতে ছুটে চলা গাড়িটি প্রথমে বিপরীত দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এরপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে কুকুরসহ হেঁটে যাওয়া কিয়ারাকে সরাসরি চাপা দিয়ে রাস্তার ধারের একটি বাড়ির বেড়ায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনায় 'গ্রিজলি' নামের কুকুরটিও আহত হয়, তবে বর্তমানে সেটি উদ্ধার করে পশু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।   গত বছর 'ক্যালিফোর্নিয়া রিজেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পেজেন্ট'-এ 'মিস গ্রেটার বে এরিয়া' মুকুট জয় করেছিলেন কিয়ারা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির (ইস্ট বে) শেষ সেমিস্টারের ছাত্রী এবং আইন পেশায় ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭ বছর বয়সী এক শিশুর পা ভেঙে গেছে এবং তার ছোট ভাই মাথায় আঘাত (কনকাশন) পেয়েছে। তাদের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। শিশুদের বাবা-মা পুলিশের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে। এত বড় ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পরও কিয়ারার পরিবার শিশুগুলোর প্রতি কোনো ক্ষোভ রাখেনি। কিয়ারার বোন বলেন, "শিশুরা তো আর গাড়ি চালাতে জানে না, তাই তাদের প্রতি আমাদের কোনো আক্রোশ নেই।"

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
দুই বছরের ব্যবধানে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-বাবাকে হারিয়েছে কানসাসের দুই কিশোর। ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও ভাই, একই দিনে এবার মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারাল দুই শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও বাবাকে হারিয়েছে দুই কিশোর। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুই দুর্ঘটনাই ঘটেছে একই তারিখে, ২৭ জুলাই। এই ঘটনায় ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাই এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউসিএইচ (KWCH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ৪৬ বছর বয়সী গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়র কানসাসের ভ্যালি সেন্টারের উত্তরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেডগউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি এসইউভি গাড়ির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে।   এই দুর্ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, কানসাস টার্নপাইকে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী এরিন মোরেনো। তিনি ভ্যালি সেন্টার স্কুল জেলার একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় মোরেনো দম্পতির ১৭ বছর বয়সী এক ছেলেও নিহত হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবার চার সদস্য থেকে নেমে এসেছে মাত্র দুই সদস্যে। বর্তমানে পরিবারের বেঁচে থাকা দুই ছেলে, যাদের বয়স ১১ ও ১৪ বছর, বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।   পরিবারটির সহায়তায় অনলাইনে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প বয়সেই এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া দুই শিশুর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার দুই ছেলে। এখন তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বাবা-মা দুজনকেই ছাড়াই বড় হতে হবে।   এই তহবিল থেকে গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের শেষকৃত্যের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দুই শিশুর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের ওপর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
টেনেসির প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় আত্মসমর্পণ করেছেন অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র। ছবি: সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবার, গুরুতর আহত মা-মেয়ে: গ্রেপ্তারের পর অপরাধীর অদ্ভুত হাসি

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তার স্ত্রী ও আট বছরের কন্যাসন্তান গুরুতর আহত হওয়ার আট মাস পর অভিযুক্ত চালক পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের তোলা ছবির (মাগশট) জন্য পোজ দিতে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি জিভ বের করে এক অদ্ভুত ও বিদ্রূপাত্মক ভঙ্গিমা করেন, যা ভুক্তভোগী পরিবারসহ স্থানীয়দের চরমভাবে ক্ষুব্ধ ও স্তম্ভিত করেছে।   আদালত ও স্থানীয় মেট্রোপলিটন ন্যাশভিল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ চ্যানেল ৫ ন্যাশভিল এ খবর প্রকাশ করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত চালকের নাম জেমস ব্রিউইংটন জুনিয়র (৬১)। গত বছরের নভেম্বরে ক্লার্কসভিল পাইকে একটি বেপরোয়া ওভারটেকিং করতে গিয়ে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটান। ব্রিউইংটন তার নিসান টাইটান পিকআপ ট্রাকটি নিয়ে আরেকটি গাড়ির পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি জিপকে সজোড়ে ধাক্কা দেন। জিপটিতে ডাস্টিন ম্যাকলিওড (৪১), তার স্ত্রী অ্যাশলে এবং তাদের ৮ বছর বয়সী মেয়ে ডাকোটা চড়ে এক বয়স্ক স্বজনের বাড়িতে ক্রিসমাসের আলো জ্বালাতে যাচ্ছিলেন।   সংঘর্ষের তীব্রতায় স্মিথভিলের বাসিন্দা ৪১ বছর বয়সী ডাস্টিন ম্যাকলিওড ঘটনাস্থলেই আশঙ্কাজনকভাবে আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার স্ত্রী অ্যাশলে ও কন্যা ডাকোটা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেও গুরুতর আঘাত পান। দীর্ঘদিন ধরে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছে।   স্বামীর মৃত্যুর ঘটনা স্মরণ করে অ্যাশলে জানান, দুর্ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে কিছু বুঝে ওঠার সময় পাননি তারা। লাল রঙের একটি গাড়ির ঝিলিক দেখার পরপরই যেন সবকিছু ধীরগতিতে ঘটতে শুরু করে। তিনি বলেন, "হঠাৎ দেখতে পেলাম আমার মেয়ের শরীর সিটবেল্টের মধ্যে পেঁচিয়ে যাচ্ছে, আমার স্বামী সামনের দিকে ছিটকে পড়লেন। এয়ারব্যাগটি আমার বুকে এসে সজোড়ে আঘাত করে।"   অ্যাশলে আরও বলেন, "গাড়িটিতে আগুন ধরে গিয়েছিল, ডাস্টিন কোনো সাড়া দিচ্ছিল না, আর পেছনের সিটে আমার ছোট মেয়েটা ভয়ে চিৎকার করছিল।" দুর্ঘটনায় অ্যাশলের গোড়ালির হাড় ভেঙে যায়, হাঁটুর মালাইচাক ভেঙে যায় এবং শরীরে বহু গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। তার একাধিক অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন পড়েছে। অন্যদিকে, আট বছরের ডাকোটার বুকের খাঁচার হাড়, কলারবোন ও ঘাড়ের হাড় ভেঙে যায় এবং মস্তিষ্কের গোড়ালি সংলগ্ন অংশে মারাত্মক আঘাত লাগে।   দুর্ঘটনার দীর্ঘ আট মাস পর অভিযুক্ত চালক জেমস ব্রিউইংটন আত্মসমর্পণ করার পর যখন পুলিশ তার ছবি প্রকাশ করে, তখন তা দেখে শিউরে ওঠেন নিহত ডাস্টিনের বিধবা স্ত্রী। এলমেলো দাড়ি ও বিশৃঙ্খল চেহারার ব্রিউইংটন পুলিশের ক্যামেরার সামনে অসংবেদনশীলভাবে জিভ বের করে রেখেছিলেন। ছবিটি দেখে অ্যাশলে বলেন, "আমি আজই প্রথমবার এই লোকটার মুখ দেখলাম। গ্রেপ্তারের খবর কিছুটা স্বস্তি দিলেও তার এই ছবিটি দেখা অত্যন্ত পীড়াদায়ক ও মানসিক যন্ত্রণার।"   আহত মা ও মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিপুল খরচ বহন করতে গিয়ে ডাস্টিনের পরিবার বর্তমানে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছে। চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের খরচ জোগাতে তাদের ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এ পর্যন্ত তাদের সহযোগিতায় একটি গোফান্ডমি (GoFundMe) ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় হত্যা, বেপরোয়া জীবন বিপন্ন করা এবং মারাত্মক আক্রমণের তিনটি অভিযোগে জেমস ব্রিউইংটনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। এর আগে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় এতদিন তাকে সরাসরি হাজতে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে ১ লাখ ৩৫ হাজার ডলার বন্ডে তাকে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে চালককে বাঁচিয়েই উধাও
জ্বলন্ত গাড়ি থেকে চালককে বাঁচিয়েই উধাও! রহস্যময় সেই নায়কের খোঁজে পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গ্লাসবরো শহরে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনার পর আগুনে জ্বলতে থাকা গাড়ি থেকে চালককে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করেন এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। কিন্তু উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি নিঃশব্দে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। এখন সেই ‘গুড সামারিটান’-এর পরিচয় জানতে এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে গ্লাসবরো পুলিশ।    পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সাউথ মেইন স্ট্রিটে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পরপরই গাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ছুটে এসে ভেতরে আটকে থাকা চালককে নিরাপদে বের করে আনেন। তিনি নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে দ্রুত উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করেন।   তবে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ওই ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। পুলিশ বলছে, তিনি যেন “হঠাৎ এসে আবার হঠাৎই অদৃশ্য হয়ে গেছেন।” ফলে তাঁর পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি।    ঘটনার পর গ্লাসবরো পুলিশ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির সন্ধান চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, তাঁকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নয়, বরং তাঁর অসাধারণ মানবিক সাহসিকতার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতেই খুঁজে বের করতে চায় তারা। যদি তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করতে না চান, তবুও পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।    পুলিশ তাদের বার্তায় বলেছে, “হৃদয়ের গভীর থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে অন্য একজনের পরিবারের সদস্যকে বাঁচিয়েছেন। পৃথিবী আপনার মতো আরও মানুষের প্রয়োজন।” এ ঘটনায় আহত চালকের পরিচয় বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ার ২১০ ফ্রিওয়েতে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৩২

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরউইন্ডেল এলাকায় ২১০ ফ্রিওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেমি ট্রাক একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ফ্রিওয়ের উভয় দিকের লেন বন্ধ থাকে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এটি ডান পাশের কাঁধের দিকে সরে যায়, এরপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বিভাজক অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়।   প্রত্যক্ষদর্শী ও ABC-র হাতে আসা ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে ট্রাকটি প্রথমে রাস্তার ডান পাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এটি পুরো ফ্রিওয়ে পার হয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।   দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জ্যাকনাইফ অবস্থায় চলে যায়। এতে ফ্রিওয়ের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশ, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে।   কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএইচপি।   সিএইচপি আরও জানায়, অন্তত তিনটি যানবাহন সরাসরি এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে কতগুলো গাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সংঘর্ষের সম্পূর্ণ পরিধি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে।   দুর্ঘটনার পর ২১০ ফ্রিওয়ের উভয় দিকেই দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার কিছু পর ধীরে ধীরে সব লেন খুলে দেওয়া হয়।   তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে আই-২৮৫ মহাসড়কে ট্রাক্টরের ধাক্কায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও তীব্র যানজট

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গ্লেনউড রোডের কাছে ইন্টারস্টেট ২৮৫ (আই-২৮৫) মহাসড়কে মঙ্গলবার সকালে একটি বড় ট্রেইলর ট্রাকসহ চারটি গাড়ির মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকালের ব্যস্ত সময়ে ঘটা এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কটিতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাতায়াতকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ডিকাব ফায়ার রেসকিউ বিভাগ জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ির সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং সৌভাগ্যবশত কেবল কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন।   ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এই সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে, দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতরে হয়তো কেউ আটকে পড়েছেন। তবে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিশ্চিত করে যে, সব আরোহী অক্ষত ও নিরাপদে আছেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ট্রেইলর ট্রাকের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা। কারণ দুর্ঘটনার পরপরই ওই ট্রেইলরে ঠিক কী ধরনের মালামাল ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি এবং ওই এলাকায় পানির সরবরাহও ছিল সীমিত।   আগুন পুরোপুরি নেভাতে ফায়ার ফাইটারদের অন্য এলাকা থেকে গাড়িতে করে পানি এনে কাজ চালাতে হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানের পর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন যে, ট্রেইলর ট্রাকটিতে মূলত প্রচুর পরিমাণে কাগজের কার্টন বা কার্ডবোর্ড বক্স বহন করা হচ্ছিল। আর এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তা নেভাতে বেগ পেতে হয়েছিল।   আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যান। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেইলরের ভেতরে আর কোনো সুপ্ত আগুন বা 'হট স্পট' যেন লুকিয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে তারা 'ওভারহল' বা পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেন। আগুন যেন কোনোভাবেই পুনরায় জ্বলে উঠতে না পারে, সেজন্য ট্রেইলরে থাকা সমস্ত মালামাল আনলোড বা খালাস করে ভেতরে তল্লাশি চালানো হয়।   এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণে আই-২৮৫ মহাসড়কের সমস্ত সাউথবাউন্ড বা দক্ষিণমুখী লেন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জরুরি উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো রাস্তা জুড়ে অবস্থান নেওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে ওই রুটের সকালের নিয়মিত যাত্রীরা দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে বাধ্য হন।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ট্রাফিক পুলিশ চালকদের ওই এলাকা এড়িয়ে চলার এবং বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়। বিকল্প রুট হিসেবে চালকদের ইন্টারস্টেট ৭৫/৮৫ অথবা মেমোরিয়াল ড্রাইভ হয়ে ইন্টারস্টেট ২০ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

তাবাস্সুম জুন ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড ও তার স্বামী
যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীর

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারী লিয়া হাইড নিহত হয়েছেন। স্প্রিংফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনার পর পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে রাস্তার পাশে নামার সময় দ্রুতগতির একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।   স্থানীয় সময় চলতি সপ্তাহের শুরুতে উইলার্ড এলাকার পশ্চিম জেমস রিভার এক্সপ্রেসওয়েতে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানায় পুলিশ।   পুলিশ জানায়, লিয়া হাইড তার ২০১৫ মডেলের সুবারু ফরেস্টার গাড়ি নিয়ে পশ্চিমমুখী লেনে চলার সময় একটি সড়ক বিভাজকের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়েন। দুর্ঘটনার পর তিনি গাড়ি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।   নিহত লিয়া হাইড পেশায় একজন থেরাপিস্ট ছিলেন। তিনি একটি কন্যাসন্তানের মা হতে চলেছিলেন। তার মৃত্যুতে স্থানীয় কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।   সহকর্মী ও পরিচিতরা জানান, লিয়া হাইড অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল একজন থেরাপিস্ট ছিলেন, যিনি রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করতেন।   পারিবারিক বন্ধু ভ্যালেরি উইলিস বলেন, তিনি ছোটবেলা থেকেই লিয়াকে চিনতেন এবং মানুষের প্রতি তার যত্নশীল আচরণ তাকে আলাদা করে তুলেছিল। আরেক পারিবারিক বন্ধু বার্নাডেট শিভলি জানান, লিয়া হাইড তার পরিবারের চিকিৎসা সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এবং সবার সঙ্গে গভীর আন্তরিকতায় সম্পর্ক রাখতেন।   লিয়া হাইড সম্প্রতি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে জশ স্নডগ্রাসকে বিয়ে করেন। দম্পতি তাদের অনাগত কন্যাসন্তানের নাম ঠিক করেছিলেন লার্ক এলিজাবেথ।   দুর্ঘটনার পর স্থানীয় কমিউনিটির মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ডলার। স্থানীয়রা বলছেন, এই সহায়তা লিয়া হাইড ও তার পরিবারের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতিফলন।  

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত ৪

যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের আপস্টেট অঞ্চলে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক নেমে এসেছে।   সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে Claverack এলাকার স্টেট রুট ৯এইচ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় শেরিফ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাউডনভিলের বাসিন্দা ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল একটি টয়োটা প্রিয়াস গাড়ি চালিয়ে উত্তর দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা ছিলেন।   পথিমধ্যে অজানা কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি টয়োটা ক্রাউনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই নাজমুল রুবেল নিহত হন।   এ ঘটনায় তার বাবা ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী বন্ধু ফাহিম হালিমও ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অপর গাড়ির ৬২ বছর বয়সী যাত্রী জুলিয়া রিচিও নিহত হন।   দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় Albany Medical Center-এ ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। এছাড়া এক বছর বয়সী শিশুকন্যা ইকরা আয়াতকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে; সে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন।   অন্যদিকে, অপর গাড়ির চালক ২৪ বছর বয়সী লুক পালভেনিয়ান আহত হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। কীভাবে গাড়িটি কেন্দ্ররেখা অতিক্রম করেছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।   নিহতদের জানাজা বুধবার (৮ এপ্রিল) যোহরের পর Baitul Aman Islamic Center-এ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাহিম হালিম
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল প্রবাসী বাংলাদেশি ফাহিম হালিমের, পরিবারে নেমেছে শোকের ছায়া

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ফাহিম হালিম নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি। হঠাৎ এ দুর্ঘটনায় তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।   পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল আলবেনির পথে যাত্রাকালে এক দুর্ঘটনায় ফাহিম হালিমের মৃত্যু হয়। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি শুধু মানসিকভাবে বিপর্যস্তই নয়, একই সঙ্গে আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখেও পড়েছে।   ফাহিম হালিমের পরিচিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত, সদালাপী ও সহৃদয় মানুষ। আশপাশের সবার সঙ্গে সহজে মিশে যেতে পারতেন এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তাঁর এই মানবিক গুণাবলির কারণে তিনি সবার কাছে প্রিয় ছিলেন।   তিনি স্ত্রী, বাবা-মা ও এক বোন রেখে গেছেন। পরিবারটি এখন এই অপ্রত্যাশিত শোক সামাল দেওয়ার পাশাপাশি নানা বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।   পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর দাফন ও সংশ্লিষ্ট খরচ মেটাতে সহায়তা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পরিবারের আর্থিক চাপ সামাল দিতে সহমর্মিতা ও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।   স্বজনেরা জানান, এই কঠিন সময়ে সবার সহায়তা ও দোয়া তাদের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

Unknown এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ঈদযাত্রায় প্রাণহানি বাড়ছেই: ১২ দিনে সড়ক-রেল-নৌপথে নিহত ২৪১

ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ঈদযাত্রা পুরোপুরি শেষ না হলেও প্রাথমিক হিসাবেই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। মাত্র ১২ দিনেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ২৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।   প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ২০৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত এবং অন্তত ৪৪১ জন আহত হয়েছেন। যদিও ঈদের আগে-পরে মোট ১৫ দিনকে সাধারণত ঈদযাত্রা হিসেবে ধরা হয়, তবে এবারের হিসাব এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়।   এদিকে, ১৮ মার্চ রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় দুই লঞ্চের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই দিন কুমিল্লায় একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইনে উঠে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং ২৩ জন আহত হন।   অন্যদিকে, ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে আরও কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।   সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকের ক্লান্তি ও অদক্ষতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গত এক দশকের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে হাজারো দুর্ঘটনায় কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং দুর্বল তদারকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বেপরোয়া গতি। পাশাপাশি সড়কের নাজুক অবস্থাও বড় ঝুঁকি হিসেবে কাজ করছে।   তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার, দক্ষ চালক তৈরি, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। একই সঙ্গে চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

Unknown মার্চ ২৬, ২০২৬ ১৪:০
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত
সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু, আরও তিনজন আহত

  যশোর-মাগুরা মহাসড়ক-এ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) গভীর রাত প্রায় ৩টার দিকে গাইদঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহতরা হলেন—মজিদ সরদার (৭০), তার ছেলে মাহমুদ হাসান জাকারিয়া জনি (৪৩) এবং জনির চার বছর বয়সী কন্যা সেহেরিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন জনির স্ত্রী, ছেলে ও মা। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা-তে পাঠানো হয়েছে। হতাহতরা সবাই মণিরামপুর উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।   স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চুয়াডাঙ্গা থেকে আসা প্রাইভেটকারটি গাইদঘাট এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। দ্রুতগতির গাড়িটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।   খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়।   বারবাজার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে চালক ঘুমিয়ে পড়ায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

আইসিওতে ডাক্তার ছবি:সংগৃহীত

কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার

Unknown আগস্ট ২১, ২০২৬ ১৪:০