সিটি কাউন্সিল

ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ছবি: সংগৃহীত
ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল

নিউইয়র্ক শহরে ই-বাইকের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। এ লক্ষ্যে প্রায় এক ডজন আইনগত উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে আগামী মাসে একটি তদারকি শুনানির আয়োজন এবং শহরে ই-বাইক ব্যবস্থাপনা, নজরদারি ও আইন প্রয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করা হবে।   সিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। তাই বিদ্যমান আইন কার্যকর করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বাড়াতে নতুন আইন প্রয়োজন কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে। এ বিষয়ে পথচারী, সাইকেল আরোহী, খাবার সরবরাহকর্মী, পরিবহন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট সংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হবে।   এ বছরের শুরু থেকেই ই-বাইক নিয়ন্ত্রণে একাধিক বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী তৃতীয় পক্ষের অ্যাপগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর শহর প্রশাসনের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের সুযোগ আরও বাড়বে।   আরেকটি প্রস্তাবে খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চালকদের বিস্তারিত তথ্য সংরক্ষণ এবং শহরজুড়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্বজ্ঞানহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন আইনপ্রণেতারা।   সিটি কাউন্সিলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা শন আব্রেউ বলেন, প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর নিরাপদে রাস্তা পার হওয়ার অধিকার রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি চালকের নিরাপদ যান ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং খাবার সরবরাহকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল না করেই জীবিকা নির্বাহের সুযোগ থাকা উচিত। তার মতে, নতুন আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতির জন্য দায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনা, অবৈধ দ্রুতগতির ই-বাইক সরিয়ে দেওয়া এবং বৈধ ই-বাইককে আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে।   আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কয়েকটি বিল উত্থাপন করা হবে। এসব প্রস্তাবে ধীরগতির ই-বাইকের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বীমা বাধ্যতামূলক করা এবং আইন প্রয়োগ আরও জোরদারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তাবাস্সুম আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
১৮% বেতন বৃদ্ধি নেবেন না মেয়র জোহরান মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
মেয়রের বেতন বাড়লেও অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না জোহরান মামদানি

নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন ১৮ শতাংশ বাড়ানোর একটি বিল অনুমোদন করেছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এই বেতন বৃদ্ধি থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না।   বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর সঙ্গে কথা বলে কখনো তার মনে হয়নি যে শহরের মানুষের প্রধান উদ্বেগ মেয়রের বেতন কম হওয়া। বরং তিনি মনে করেন, সরকারি অর্থ এমন খাতে ব্যয় হওয়া উচিত, যা অর্থনৈতিকভাবে সংকটে থাকা মানুষের উপকারে আসে।   তিনি বলেন, “মানুষের সঙ্গে কথা বলে আমি কখনো অনুভব করিনি যে তাদের প্রধান সমস্যা হলো মেয়রের বেতন। আমি চাই এই অর্থ এমন মানুষের কাজে লাগুক, যারা এই শহরে অর্থনৈতিকভাবে সংগ্রাম করছেন।”   নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের অনুমোদিত বিল অনুযায়ী, মেয়রসহ বিভিন্ন নির্বাচিত কর্মকর্তার বেতন ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে মামদানি স্পষ্ট করেছেন, আইনে বেতন বৃদ্ধির সুযোগ থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেই অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করবেন না।   নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বেতন সময়ে সময়ে একটি স্বাধীন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর সিটি কাউন্সিলের অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হয়।   মেয়র জোহরান মামদানির এই সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এটি সরকারি ব্যয় ও জনস্বার্থের প্রতি তার অবস্থানের বার্তা বহন করে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ফাইল ছবি
নিউইয়র্কে শিশু ডে-কেয়ার সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বিল পাস

নিউইয়র্ক সিটিতে সার্বজনীন শিশু যত্নসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। নতুন আইনের আওতায় শহরে স্থায়ীভাবে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।   ৩০ জুন জানানো হয়, বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কাউন্সিল সদস্য জেনিফার গুতিয়েরেজ এবং কেভিন সি. রাইলি। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটির শিশু পরিচর্যা সেবা বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচির মধ্যে ছড়িয়ে থাকায় পরিবার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।   নতুন অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য ও সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যেসব এলাকায় শিশু পরিচর্যা সেবার ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা, বাড়িভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যা প্রদানকারীদের সহায়তা দেওয়া এবং শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার কাজ করবে নতুন দপ্তর।   শৈশবকালীন শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার জেনিফার গুতিয়েরেজ বলেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আইনি জবাবদিহিতাও প্রয়োজন। এই আইন নতুন অফিসটিকে স্থায়ী ভিত্তি দেবে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন পরিবর্তন হলেও এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, একজন অভিভাবক এবং শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার হিসেবে সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।   কাউন্সিল সদস্য কেভিন সি. রাইলি বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখা, বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের সমান সুযোগ থাকা উচিত। কোনো পরিবারের আয় কিংবা বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে সেই সুযোগ নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহর এমন একটি শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা নিউইয়র্কের সব পরিবারের জন্য কার্যকর হবে।   সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, নিউইয়র্কের বহু পরিবার এখনও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিশু পরিচর্যা সেবা পেতে সংগ্রাম করছে। স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বজনীন শিশু পরিচর্যার লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে।   শিক্ষা কমিটির চেয়ার এরিক ডিনোভিটজ বলেন, একজন সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি জানেন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যার সুযোগ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই আইন শহরকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।   মেয়রের কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, মেয়রের শিশু পরিচর্যা ও প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা বিষয়ক অফিসের নির্বাহী পরিচালক এমি লিস বলেছেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি নেতা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই বিল পাস হওয়াকে প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিলের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।   নিউ ইয়র্কার্স ইউনাইটেড ফর চাইল্ড কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা বেইলিন বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কে একজন অভিভাবককে প্রতিটি সন্তানের জন্য বছরে গড়ে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি শিশু পরিচর্যা ব্যয় বহন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার সমান। তাঁর মতে, বিনামূল্যের সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা এখন পরিবারের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি ও অঙ্গরাজ্য যখন প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা ও শিশু পরিচর্যায় ঐতিহাসিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন এই আইন সিটি চার্টারে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার-কে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতেও সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, প্রশাসন পরিবর্তন হলেও।

Unknown জুন ৩০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মিশিগানে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, অনুমোদন পেল স্থায়ী ক্রিকেট মাঠ

মিশিগানের ওয়ারেন সিটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ক্রিকেট অনুরাগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটতে চলেছে। শহরের একটি পার্কে স্থায়ী ক্রিকেট ফিল্ড নির্মাণের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছে ওয়ারেন সিটি প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিল।   এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের স্বীকৃতি ও ধন্যবাদ জানাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব মিশিগান (বিসিএএমআই) গত ৮ জুন রাতে একটি বিশেষ ‘অ্যাপ্রিসিয়েশন ও ডিনার’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   ওয়ারেন সিটির একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র লরি স্টোন। অনুষ্ঠানে সিটি কাউন্সিলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ও মেয়র প্রো টেম ডেভ ডোয়ার, কাউন্সিল ভাইস প্রেসিডেন্ট মেলোডি ম্যাগি, জোনাথান ল্যাফার্টি, মিন্ডি মুর এবং হেনরি নিউন্যান।   অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন বিসিএএমআই কমিটির সদস্য ইনাস আল রাজি। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রেসিডেন্ট তায়েফুর রহমান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইয়েদ আহমেদ। তারা মিশিগানে ক্রিকেটের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই খেলার গুরুত্ব এবং সংগঠনের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।   এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কামাল রহমান। উপদেষ্টা পরিষদের অন্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোশাররফ চৌধুরী লিটু, ইফতেখার আহমেদ, সায়েল হুদা এবং নাজেল হুদা। প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য নাজেল হুদাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি ও ধন্যবাদ জানানো হয়।   ওয়ারেন সিটি সূত্রে জানা গেছে, সিটি প্রশাসন ‘শ পার্ক’ পুনর্উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। কয়েক মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই নির্মিত হচ্ছে ওয়ারেন সিটির প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্রিকেট মাঠ।   বর্তমানে মাঠের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখানে পূর্ণাঙ্গ পিচ, আধুনিক প্র্যাকটিস নেটিং ব্যবস্থা এবং দর্শকদের জন্য বসার গ্যালারি থাকবে।   মাঠটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে স্থানীয় টুর্নামেন্টের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।   এই অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় মিশিগানের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে আনন্দ ও সন্তোষের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

যুক্তরাষ্ট্রের কোন স্টেট এ বাংলাদেশিদের জীবন সবচেয়ে স্বস্তির? ২০২৬ সালের তালিকায় এগিয়ে যে ৫ স্টেট

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১, ২০২৬ ১৪:০