নিউইয়র্ক সিটিতে সার্বজনীন শিশু যত্নসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। নতুন আইনের আওতায় শহরে স্থায়ীভাবে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
৩০ জুন জানানো হয়, বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কাউন্সিল সদস্য জেনিফার গুতিয়েরেজ এবং কেভিন সি. রাইলি। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটির শিশু পরিচর্যা সেবা বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচির মধ্যে ছড়িয়ে থাকায় পরিবার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
নতুন অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য ও সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যেসব এলাকায় শিশু পরিচর্যা সেবার ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা, বাড়িভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যা প্রদানকারীদের সহায়তা দেওয়া এবং শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার কাজ করবে নতুন দপ্তর।
শৈশবকালীন শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার জেনিফার গুতিয়েরেজ বলেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আইনি জবাবদিহিতাও প্রয়োজন। এই আইন নতুন অফিসটিকে স্থায়ী ভিত্তি দেবে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন পরিবর্তন হলেও এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, একজন অভিভাবক এবং শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার হিসেবে সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
কাউন্সিল সদস্য কেভিন সি. রাইলি বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখা, বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের সমান সুযোগ থাকা উচিত। কোনো পরিবারের আয় কিংবা বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে সেই সুযোগ নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহর এমন একটি শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা নিউইয়র্কের সব পরিবারের জন্য কার্যকর হবে।
সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, নিউইয়র্কের বহু পরিবার এখনও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিশু পরিচর্যা সেবা পেতে সংগ্রাম করছে। স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বজনীন শিশু পরিচর্যার লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে।
শিক্ষা কমিটির চেয়ার এরিক ডিনোভিটজ বলেন, একজন সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি জানেন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যার সুযোগ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই আইন শহরকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
মেয়রের কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, মেয়রের শিশু পরিচর্যা ও প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা বিষয়ক অফিসের নির্বাহী পরিচালক এমি লিস বলেছেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি নেতা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই বিল পাস হওয়াকে প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিলের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
নিউ ইয়র্কার্স ইউনাইটেড ফর চাইল্ড কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা বেইলিন বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কে একজন অভিভাবককে প্রতিটি সন্তানের জন্য বছরে গড়ে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি শিশু পরিচর্যা ব্যয় বহন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার সমান। তাঁর মতে, বিনামূল্যের সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা এখন পরিবারের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি ও অঙ্গরাজ্য যখন প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা ও শিশু পরিচর্যায় ঐতিহাসিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন এই আইন সিটি চার্টারে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার-কে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতেও সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, প্রশাসন পরিবর্তন হলেও।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে সার্বজনীন শিশু যত্নসেবা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। নতুন আইনের আওতায় শহরে স্থায়ীভাবে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, তদারকি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে। ৩০ জুন জানানো হয়, বিলটির প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কাউন্সিল সদস্য জেনিফার গুতিয়েরেজ এবং কেভিন সি. রাইলি। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে নিউইয়র্ক সিটির শিশু পরিচর্যা সেবা বিভিন্ন সংস্থা ও কর্মসূচির মধ্যে ছড়িয়ে থাকায় পরিবার এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান উভয়কেই নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নতুন অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিভিন্ন সিটি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিশু পরিচর্যা সংক্রান্ত তথ্য ও সেবায় মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, যেসব এলাকায় শিশু পরিচর্যা সেবার ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা, বাড়িভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক শিশু পরিচর্যা প্রদানকারীদের সহায়তা দেওয়া এবং শিশুদের প্রাথমিক বিকাশের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক পরিচর্যা নিশ্চিত করার কাজ করবে নতুন দপ্তর। শৈশবকালীন শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার জেনিফার গুতিয়েরেজ বলেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি আইনি জবাবদিহিতাও প্রয়োজন। এই আইন নতুন অফিসটিকে স্থায়ী ভিত্তি দেবে এবং ভবিষ্যতে প্রশাসন পরিবর্তন হলেও এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, একজন অভিভাবক এবং শিক্ষা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ার হিসেবে সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কাউন্সিল সদস্য কেভিন সি. রাইলি বলেন, প্রতিটি শিশুর শেখা, বেড়ে ওঠা এবং বিকাশের সমান সুযোগ থাকা উচিত। কোনো পরিবারের আয় কিংবা বসবাসের এলাকার ভিত্তিতে সেই সুযোগ নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহর এমন একটি শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে, যা নিউইয়র্কের সব পরিবারের জন্য কার্যকর হবে। সিটি কাউন্সিল স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, নিউইয়র্কের বহু পরিবার এখনও সাশ্রয়ী ও মানসম্মত শিশু পরিচর্যা সেবা পেতে সংগ্রাম করছে। স্থায়ী অফিস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং সার্বজনীন শিশু পরিচর্যার লক্ষ্য অর্জন আরও সহজ হবে। শিক্ষা কমিটির চেয়ার এরিক ডিনোভিটজ বলেন, একজন সাবেক শিক্ষক হিসেবে তিনি জানেন, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যার সুযোগ একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই আইন শহরকে আরও সমন্বিত ও কার্যকর শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। মেয়রের কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, মেয়রের শিশু পরিচর্যা ও প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা বিষয়ক অফিসের নির্বাহী পরিচালক এমি লিস বলেছেন, সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি নেতা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই বিল পাস হওয়াকে প্রশাসন ও সিটি কাউন্সিলের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেন। নিউ ইয়র্কার্স ইউনাইটেড ফর চাইল্ড কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক রেবেকা বেইলিন বলেন, বর্তমানে নিউইয়র্কে একজন অভিভাবককে প্রতিটি সন্তানের জন্য বছরে গড়ে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি শিশু পরিচর্যা ব্যয় বহন করতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে বাড়িভাড়ার সমান। তাঁর মতে, বিনামূল্যের সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা এখন পরিবারের জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটি ও অঙ্গরাজ্য যখন প্রারম্ভিক শৈশব শিক্ষা ও শিশু পরিচর্যায় ঐতিহাসিক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, তখন এই আইন সিটি চার্টারে অফিস অব চাইল্ড কেয়ার-কে অন্তর্ভুক্ত করে ভবিষ্যতেও সার্বজনীন শিশু পরিচর্যা কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে, প্রশাসন পরিবর্তন হলেও।
নিউইয়র্ক সিটিতে সম্ভাব্য তীব্র তাপপ্রবাহ এবং ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ উপলক্ষে নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ট্রাফিকসংক্রান্ত একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি। তাঁর নিয়মিত ভিডিও বার্তা ‘দ্য মর্নিং পিচ’-এ তিনি নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া এবং ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান। মেয়র বলেন, চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে অত্যন্ত বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে। তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের শেষভাগ থেকে ১০০ ডিগ্রিরও বেশি হতে পারে। আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি হবে এবং শুক্রবার পরিস্থিতি সবচেয়ে গুরুতর হতে পারে। গত ৩০ জুন মেয়রের কার্যালয় থেকে জানানো হয়, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল পার্কে ২০১২ সালের ১৮ জুলাইয়ের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে। সম্ভাব্য তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় শহরের হিট ইমার্জেন্সি প্ল্যান কার্যকর করার ঘোষণা দেন মেয়র। বুধবার থেকে নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে শত শত কুলিং সেন্টার চালু করা হবে। এসব কেন্দ্রের তালিকা ও অবস্থান শহর কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। নিউইয়র্কবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাই যেন আগেভাগেই নিজেদের তাপপ্রবাহ মোকাবিলার পরিকল্পনা তৈরি করেন। কর্মস্থল ও শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করা, কোথায় গিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকা যাবে তা ঠিক করা এবং বয়স্ক ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত কিংবা যাদের বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই, এমন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মেয়র বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান এখনও কর্মীদের জন্য গরমজনিত অসুস্থতা প্রতিরোধ পরিকল্পনা তৈরি করেনি, তাদের এখনই তা করা উচিত। পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, বিশ্রামের জন্য শীতল স্থান, অতিরিক্ত বিরতি এবং ভারী কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তনের মতো পদক্ষেপ জীবন রক্ষা করতে পারে। তিনি আরও বলেন, কেউ অতিরিক্ত গরমে অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাউকে দেখা গেলে ৩১১ নম্বরে ফোন করতে হবে। আর কারও শরীরে অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক ত্বক, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, বিভ্রান্তি, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব কিংবা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য পেতে NOTIFYNYC লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে বার্তা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি। মেয়র জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফ্রান্স ও সুইডেন মুখোমুখি হবে। এ ম্যাচকে কেন্দ্র করে ব্যাপক দর্শক সমাগম এবং তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, সেদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৮৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট থাকবে এবং সন্ধ্যায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দর্শকদের পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, স্টেডিয়ামে একটি ডিসপোজেবল প্লাস্টিক পানির বোতল নেওয়ার অনুমতি থাকবে। পাশাপাশি ব্যাগ অবশ্যই স্বচ্ছ এবং নির্ধারিত আকারের হতে হবে। স্টেডিয়ামে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে গণপরিবহন ব্যবহারের আহ্বান জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, বাস শাটলের টিকিট শেষ হয়ে গেলেও নিউ জার্সি ট্রানজিট ব্যবহার করা যাবে। যাত্রীদের আগেই অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করে রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশেষভাবে তিনি নিউইয়র্কবাসীকে ওই দিন মিডটাউনে ব্যক্তিগত গাড়ি না আনার অনুরোধ জানান। কারণ সেখানে তীব্র যানজট এবং দীর্ঘ সময়ের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। তিনি সাবওয়ে, সাইকেল কিংবা হেঁটে চলাচলের পরামর্শ দেন। এ ছাড়া সকাল ১১টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত মিডটাউনের বিভিন্ন সড়কে বাস ও শাটল চলাচলের জন্য বিশেষ লেন চালু থাকবে বলেও জানান মেয়র। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও বারে খেলা উপভোগকারীদের জন্য ৯০০টিরও বেশি রেস্তোরাঁ ও বারে ২৬ ডলারের বিশেষ খাবার ও পানীয় অফার চালু রয়েছে বলে জানান মেয়র। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এনওয়াইসি ট্যুরিজমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। বক্তব্যের শেষ অংশে ফরাসি ফুটবল কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, জিদান একজন অসাধারণ ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে প্রতিভা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি জাতির গর্বে পরিণত হয়েছেন। মেয়র বলেন, জিদানের উত্তরাধিকার আজও ফরাসি জাতীয় দলে বিদ্যমান। বর্তমান দলের অনেক খেলোয়াড়ই অভিবাসী বা অভিবাসী পরিবারের সন্তান হলেও তারা সবাই ফ্রান্সের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের জন্য পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন জিদানের মতো কিংবদন্তিরা। নিরাপদে বিশ্বকাপ উপভোগ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল শিক্ষাঋণ (স্টুডেন্ট লোন) ব্যবস্থায় বুধবার (১ জুলাই) থেকে বড় ধরনের পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নিয়মে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের চালু করা সেভ (Saving on a Valuable Education বা SAVE) পরিশোধ পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এবং প্যারেন্ট প্লাস (Parent PLUS) ঋণের ক্ষেত্রে নতুন ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিনের গ্র্যাজুয়েট প্লাস (Graduate PLUS) ঋণ কর্মসূচিও ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে। মার্কিন শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এসব পরিবর্তনের ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের লাখো শিক্ষাঋণগ্রহীতার ঋণ নেওয়া এবং পরিশোধের নিয়মে পরিবর্তন আসবে। বন্ধ হচ্ছে ‘সেভ’ পরিকল্পনা বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া সেভ পরিকল্পনায় প্রায় ৭০ লাখ ঋণগ্রহীতা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই কর্মসূচির আওতায় অনেকের মাসিক কিস্তি শূন্য ডলার পর্যন্ত নেমে এসেছিল। তবে আইনি জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে এ কর্মসূচির আওতায় কিস্তি আদায় স্থগিত ছিল। যদিও ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ঋণের ওপর সুদ যোগ হতে থাকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেভ পরিকল্পনায় থাকা ঋণগ্রহীতাদের অন্য পরিশোধ পরিকল্পনায় যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা বেছে না নিলে তাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুটি নতুন ব্যবস্থার একটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর একটি হলো রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান (RAP), যেখানে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা সর্বোচ্চ ৩০ বছর। অন্যটি টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান, যেখানে ঋণের ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পরিকল্পনায় অনেক ঋণগ্রহীতার মাসিক কিস্তি আগের তুলনায় কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। কিছু পুরোনো পরিকল্পনা থাকছে সীমিত সময় পে অ্যাজ ইউ আর্ন (PAYE) এবং ইনকাম-কনটিনজেন্ট রিপেমেন্ট (ICR) পরিকল্পনা আপাতত চালু থাকলেও ২০২৮ সালের মধ্যে এগুলোও বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলে এসব পরিকল্পনায় নাম লেখানো যাবে। অন্যদিকে নতুন করে ফেডারেল শিক্ষাঋণ না নিলে অনেক ঋণগ্রহীতা ইনকাম-বেইজড রিপেমেন্ট (IBR) পরিকল্পনায় ঋণ পরিশোধ চালিয়ে যেতে পারবেন। তবে কিছু ধরনের প্যারেন্ট প্লাস ঋণ এই সুবিধার বাইরে থাকবে। প্যারেন্ট প্লাস ঋণে নতুন সীমা সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য অভিভাবকদের নেওয়া প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রেও নতুন সীমা কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার এবং একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বমোট ৬৫ হাজার ডলার পর্যন্ত এই ঋণ নেওয়া যাবে। তবে ৩০ জুন ২০২৬ বা তার আগে যেসব শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন এবং ইতোমধ্যে প্যারেন্ট প্লাস বা নির্ধারিত ফেডারেল ঋণের অর্থ পেয়েছেন, তারা কিছু ক্ষেত্রে এই সীমার বাইরে থাকবেন। এছাড়া ১ জুলাইয়ের পর নেওয়া বা একীভূত করা নতুন প্যারেন্ট প্লাস ঋণের ক্ষেত্রে টিয়ার্ড স্ট্যান্ডার্ড প্ল্যান ছাড়া অন্য কোনো আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনার সুযোগ থাকবে না। এসব ঋণগ্রহীতা পাবলিক সার্ভিস লোন ফরগিভনেস (PSLF) কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারবেন না। স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ঋণেও সীমা নতুন আইনে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের ফেডারেল ঋণের পরিমাণও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সাধারণ স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫০০ ডলার এবং জীবনভর মোট ১ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। অন্যদিকে চিকিৎসা, আইনসহ বিভিন্ন পেশাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার শিক্ষার্থীরা বছরে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার এবং সর্বমোট ২ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এতদিন সীমাহীন ঋণ সুবিধা দেওয়া গ্র্যাজুয়েট প্লাস কর্মসূচি ধাপে ধাপে বন্ধ করা হচ্ছে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় একই প্রতিষ্ঠানে একই বিষয়ে পড়ছেন, তারা নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছর পর্যন্ত আগের সুবিধা পাবেন। ঋণের সর্বোচ্চ সীমাও নির্ধারণ নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি ফেডারেল শিক্ষাঋণ হিসেবে জীবনভর সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। এর আগে এ ধরনের কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছিল না। স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধে সুদ কমবে পরিবর্তনের মধ্যেও ঋণগ্রহীতাদের জন্য একটি সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন শিক্ষা বিভাগ। যারা অটোপে বা স্বয়ংক্রিয় কিস্তি পরিশোধ ব্যবস্থায় যুক্ত থাকবেন, তারা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ঋণের সুদের হারে অতিরিক্ত ১ শতাংশ ছাড় পাবেন। এর আগে অটোপে সুবিধা ব্যবহারকারীরা ০ দশমিক ২৫ শতাংশ সুদ ছাড় পেতেন। নতুন সুবিধা পেতে আগ্রহীদের আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা আরও নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে অনেক শিক্ষার্থীর মাসিক কিস্তি বাড়ার পাশাপাশি ঋণ নেওয়ার সুযোগও আগের তুলনায় সীমিত হয়ে যাবে।