সেন্ট্রাল পার্ক

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি বন্ধের বিলের নামকরণ হলো নিহত ভারতীয় কিশোরের নামে

নিউইয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় পর্যটক রোমাঞ্চ মহাজনের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটিতে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এবং বহুল আলোচিত ‘রাইডার্স ল’-এর নাম পরিবর্তন করে এখন ‘রোমাঞ্চস ল’ বা রোমাঞ্চের আইন রাখা হচ্ছে।   গত সপ্তাহে পরিবারের সাথে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়িতে ঘোরার সময় ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার শিকার হন সদ্য হাইস্কুল পেরোনো ওই তরুণ। সিটি কাউন্সিলম্যান ক্রিস মার্টে বিলটি পুনরায় উত্থাপন করে নিহত কিশোরের প্রতি সম্মান জানাতে এর নতুন নামকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, গত বুধবার সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল ফাউন্টেনের কাছে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য গাড়ির চালক নিয়ম ভেঙে নিচে নামলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছুটতে শুরু করে। এ সময় রোমাঞ্চের মা গাড়ি থেকে ছিটকে পড়লে তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে রোমাঞ্চ নিজেও লাফ দেন এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।   ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প চালকের এমন দায়িত্বহীন আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, কোনো অবস্থাতেই চালকদের গাড়ি ছেড়ে ছবি তুলতে যাওয়ার নিয়ম নেই। ঘটনার পর ওই চালককে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার সাথে জড়িত ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটিকেও স্থায়ীভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ঘোড়ার গাড়ির কারণে সৃষ্ট দুর্ঘটনা রোধে ২০২২ সালে তীব্র গরমে ‘রাইডার’ নামের একটি ঘোড়ার মৃত্যুর পর সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান বব হোলডেন এই বিলটি প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। সোমবার সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত এক স্মরণসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর নতুন নাম ঘোষণার কথা রয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন জানিয়েছেন, আগামী জুলাই মাসে বিলটির ওপর একটি বিশেষ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।   নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানিও তাঁর নির্বাচনী প্রচারণায় এই বিপজ্জনক শিল্পটি বন্ধের বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। সিটি কাউন্সিলের দাবি, এই বিলটি পাস হলে নিউইয়র্কের রাস্তায় ঘোড়ার গাড়ির দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ হবে এবং এর সাথে জড়িত কর্মীরা তুলনামূলক নিরাপদ ও স্থিতিশীল পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধের দাবিতে চাপে মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির আইকনিক সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ির দুর্ঘটনায় এক কিশোর পর্যটকের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এই বাহনটি চিরতরে নিষিদ্ধ করার দাবি জোরালো হয়েছে। রোমাঞ্চ মহাজন (১৮) নামের ওই ভারতীয় কিশোরের মৃত্যুর পর প্রাণী অধিকার রক্ষায় সোচ্চার সংগঠনগুলো নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন অব আমেরিকা (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০ আগামী সোমবার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন স্থগিত রেখে চালকদের নিরাপত্তা পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্র মতে, গত বুধবার সেন্ট্রাল পার্কে ভারতের একটি পরিবারের সাথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘোড়ার গাড়ির চালক পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য তার আসন থেকে নিচে নামলে হঠাৎ ঘোড়াটি ভয় পেয়ে দৌড় দেয়। এ সময় ছিটকে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পান রোমাঞ্চ মহাজন, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ডেকে আনে।   এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ‘নিউইয়র্কারস ফর ক্লিন, লিভেবল, অ্যান্ড সেফ স্ট্রিটস’-এর প্রধান এডিটা বার্নক্রান্ট গণমাধ্যমকে বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে আর কখনোই ঘোড়ার গাড়ির চাকা ঘোরা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই হাজার পাউন্ড ওজনের একটি ভীত প্রাণী যখন ছুটতে শুরু করে, তখন কোনো নিয়ম বা সংস্কারই তা ঠেকাতে পারে না এবং মেয়রকে অবশ্যই দ্রুত এই চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।   প্রাণী অধিকার সংস্থা ‘পেটা’ (PETA)-ও মেয়রকে সেন্ট্রাল পার্কের এই ৬৮টি ঘোড়ার গাড়ি অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য নির্বাহী আদেশ জারির দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, গত সপ্তাহে বিষাক্ত উদ্ভিদ খেয়ে ডেনিজ নামের একটি ঘোড়ার মৃত্যুর মাত্র এক সপ্তাহ পর ঘটা এই এড়ানোযোগ্য মৃত্যু প্রমাণ করে যে সিটি কাউন্সিল কতটা নিষ্ক্রিয়। যদিও মেয়র মামদানির প্রশাসন শুক্রবার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি, তবে গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ঘোড়ার গাড়ি বন্ধ করে চালকদের জন্য ন্যায্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন।   ইতিমধ্যে সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন আগামী ১৫ জুলাই ‘রাইডার্স ল’ নিয়ে একটি শুনানির দিন ধার্য করেছেন, যে আইনটি পাস হলে সেন্ট্রাল পার্কে এই ধরনের রাইড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে। ২০২২ সালে রাইডার নামের একটি ঘোড়া কাজ করার সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলার পর তাকে দয়ামৃত্যু দেওয়া হয়, যার নামানুসারে এই আইনের নামকরণ করা হয়েছে।   অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালক এরতান গোকদেপে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে নিহত কিশোরের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। টিডব্লিউইউ লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানিয়েছেন, শহরের মেডিকেল পরীক্ষকের মতে ভোঁতা বস্তুর আঘাতেই ওই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।   তিনি এই ঘটনাকে গভীর শোকাবহ উল্লেখ করে জানান, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের জন্য পার্কের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা নিয়ম ও প্রোটোকল পর্যালোচনার কাজ চলছে। ১৮৫৮ সাল থেকে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী বাহনে এ ধরনের প্রাণহানি এটাই প্রথম বলে দাবি করে কেম্প বলেন, তারা শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারি বৃদ্ধিতেও স্বাগত জানাবেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়ি থেকে ছিটকে পড়ে ভারতীয় তরুণের মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ায় টানা পর্যটকবাহী গাড়ির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্ক ভ্রমণে এসে এমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কে ঘোড়ার গাড়ি চলাচল অব্যাহত রাখা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে।   স্থানীয় পুলিশ, শ্রমিক ইউনিয়ন ও পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে সেন্ট্রাল পার্কের জনপ্রিয় ট্যাভার্ন অন দ্য গ্রিন এলাকার কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পরিবারের সদস্যরা ঘোড়ার গাড়িতে পুনরায় উঠছিলেন। ঠিক সেই সময় ‘স্যাম্পসন’ নামের ঘোড়াটি হঠাৎ আতঙ্কিত হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং দ্রুতগতিতে ছুটতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।   প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে যাত্রীদের প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগই ছিল না। নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ি ছুটে যাওয়ার সময় ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় তরুণটি গাড়ি থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে দ্রুত ম্যানহাটনের ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   দুর্ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে ছুটে চলা গাড়ি থেকে একজন যাত্রী ছিটকে পড়ছেন। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   ঘটনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, দুর্ঘটনার সময় গাড়িচালক গাড়ির ভেতরে ছিলেন না। ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (টিডব্লিউইউ) লোকাল ১০০-এর প্রশাসনিক ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী চালক যাত্রীদের ছবি তুলতে গিয়ে ঘোড়ার কাছ থেকে দূরে সরে গিয়েছিলেন।   তিনি বলেন, মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে পার্কে কাজ শুরু করা ঘোড়াটি কেন হঠাৎ ভয় পেয়েছিল, সেটি এখনও তদন্তাধীন। নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর গাড়িটি আরেকটি ঘোড়ার গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায়। ওই সময় গাড়িতে আরও কয়েকজন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।   দুর্ঘটনার পর ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনিয়ন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট চালককে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় জড়িত ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এক বিবৃতিতে আলেকজান্ডার কেম্প বলেন, একজন যাত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে হয়তো এমন ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তার মতে, কোনো চালকেরই যাত্রীদের ছবি তোলার জন্য গাড়ি ছেড়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, সেন্ট্রাল পার্কে ই-বাইক, পেডিক্যাব, ডেলিভারি যান এবং ঘোড়ার গাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল করে। ফলে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।   এদিকে সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সি, যারা দীর্ঘদিন ধরে পার্কে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, তারাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানায়, একজন তরুণ পর্যটক আনন্দময় সময় কাটাতে পার্কে এসেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন। এমন ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে।   প্রতিষ্ঠানটির মতে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নগর পার্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাই তারা নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের কাছে দ্রুত ‘রাইডার্স ল’ পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনে ঘোড়ার গাড়ি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি চালকদের বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটাও (পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব অ্যানিম্যালস) এ ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বলছেন, ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনা নতুন নয়। জননিরাপত্তা এবং প্রাণী কল্যাণের স্বার্থে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।   উল্লেখ্য, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই সেন্ট্রাল পার্কে যাত্রী পরিবহনের সময় ‘ডেনিজ’ নামের আরেকটি ঘোড়ার মৃত্যু হয়। পরে জানা যায়, বিষাক্ত উদ্ভিদ খাওয়ার কারণে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনাও ঘোড়ার গাড়ি ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা বাড়িয়েছিল।   সর্বশেষ এই দুর্ঘটনার পর নিউইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি শিল্পের ভবিষ্যৎ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং পর্যটকদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মায়ের জীবন বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ভারতীয় কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে সপরিবারে বেড়াতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক কিশোর। নিউইয়র্কের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ভ্রমণের সময় হঠাৎ করেই ঘোড়াটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচণ্ড বেগে ছুটতে শুরু করে। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গাড়ি থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান রোমাঞ্চের মা।   চলন্ত গাড়ি থেকে মাকে পড়ে যেতে দেখে নিজের জীবন বাজি রেখে তাকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ওই কিশোর।   আরও পড়ুন...বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলিয়ান বিলিয়নিয়ারের ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ   শোকার্ত ও বিধ্বস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাকে বাঁচানোর তীব্র আকুতি নিয়ে গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার মুহূর্তে ‘মা!’ বলে চিৎকার করে উঠছিল রোমাঞ্চ। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিশোরের শোকার্ত বাবা দীপক মহাজন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান, "আমার ছেলে কেবল তার মাকে বাঁচানোর জন্যই নিচে পড়ে গিয়েছিল"।   বুধবার বিকালের এই ভয়াবহ ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে সরাসরি শক্ত মাটিতে আছড়ে পড়ে রোমাঞ্চ এবং তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। গুরুতর রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আনন্দঘন এক পারিবারিক ছুটি কাটানোর মুহূর্ত কীভাবে এক পলকে এমন বুকফাটা হাহাকারে পরিণত হলো, তা ভেবে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নিহতের স্বজনরা।    সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

নুরুল্লাহ সাইদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
মাকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারাল ১৮ বছরের তরুণ, নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এসে পরিবারের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক ঘুরতে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী রোমাঞ্চ মহাজন। বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখার পর সেন্ট্রাল পার্কে একটি ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আনন্দময় সময় কাটাচ্ছিলেন তিনি ও তার পরিবার। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় সেই আনন্দময় ভ্রমণ পরিণত হয় শোকাবহ ট্র্যাজেডিতে।   দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রোমাঞ্চ। পরিবারের সদস্যরা প্রাণে বেঁচে গেলেও এই ঘটনার ধাক্কা তাদের জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের চেরি হিল এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে ভ্রমণ করছিলেন রোমাঞ্চ। সঙ্গে ছিলেন তার বাবা দীপক মহাজন, মা প্রিয়া মহাজন এবং ছোট ভাই।   পার্কের একটি পরিচিত ফোয়ারার সামনে পরিবারের স্মরণীয় একটি ছবি তোলার জন্য গাড়িচালক ঘোড়ার গাড়ি থামান। পরিবারের দাবি, ছবি তোলার সুবিধার্থে চালক কিছুটা দূরে সরে গেলে ঘোড়াটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত ছুটতে শুরু করে। রোমাঞ্চের বাবা দীপক মহাজন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ঘোড়াটি ফুটপাতে উঠে যায় এবং পরে ঘাসের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে দৌড়াতে থাকে। এ সময় চালক ঘোড়ার পেছনে ছুটলেও সেটিকে থামাতে পারেননি।   দীপক মহাজন বলেন, “আমরা বারবার সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলাম। সবাই একে অপরকে শক্ত করে ধরে রেখেছিল।” তিনি আরও জানান, দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকা গাড়ি থেকে তার স্ত্রী প্রিয়া মহাজন ছিটকে পড়ে গেলে রোমাঞ্চ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। মাকে বিপদে দেখে সে গাড়ি থেকে লাফিয়ে পড়ে।   “আমার ছেলে শুধু তার মাকে বাঁচাতে চেয়েছিল। সে বারবার ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছিল,” বলেন আবেগাপ্লুত দীপক মহাজন। গাড়ি থেকে পড়ে গিয়ে রোমাঞ্চ মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে দ্রুত নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ওয়েইল কর্নেল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। বুধবার রাতেই তার মৃত্যু হয়।   দুর্ঘটনায় পরিবারের অন্য সদস্যরা তুলনামূলকভাবে কম আহত হন। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ঘোড়ার গাড়িটি পরে আরেকটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে উল্টে যায় এবং ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুপুর প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা নিউ ইয়র্কে ঘোড়ার গাড়ি পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রাণীকল্যাণকর্মী এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বহু বছর ধরে সেন্ট্রাল পার্কে পর্যটকদের বহনকারী ঘোড়ার গাড়িগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন।   ঘোড়ার গাড়িচালকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন লোকাল ১০০-ও ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার কেম্প এক বিবৃতিতে বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী মনে হচ্ছে চালক ঘোড়ার কাছ থেকে এমন দূরত্বে সরে গিয়েছিলেন, যেখানে তার সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তার মতে, ছবি তোলার জন্য কোনো চালকেরই গাড়ি বা ঘোড়াকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে যাওয়া উচিত নয়।   তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কখনোই ঘটার কথা নয়। আমরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।” ইউনিয়নের তথ্যমতে, ‘স্যাম্পসন’ নামের সাত বছর বয়সী ঘোড়াটি মাত্র ছয় সপ্তাহ আগে সেন্ট্রাল পার্কে কাজ শুরু করেছিল। দুর্ঘটনার পর ঘোড়াটিকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   এদিকে সংশ্লিষ্ট ঘোড়ার গাড়িচালককে গাড়ির মালিক অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছেন বলে জানিয়েছে ইউনিয়ন। তার পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ, চালকের দায়িত্বে কোনো অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   যে সফরটি মহাজন পরিবারের জন্য আনন্দ ও স্মৃতির হওয়ার কথা ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো। মাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক তরুণের মৃত্যু এখন নিউ ইয়র্কজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি
সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ ফাইনাল উন্মাদনা, বিনামূল্যে খেলা দেখার সুযোগ নিউইয়র্কবাসীর

নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বড় ধরনের গণ-প্রদর্শনীর আয়োজন ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য প্রশাসন। আগামী ১৯ জুলাই ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কের গ্রেট লনে অনুষ্ঠিত হবে এই আয়োজন, যেখানে প্রায় ৫০ হাজার দর্শক একসঙ্গে বিনামূল্যে ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কওয়ামে মামদানি, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি আয়োজক কমিটি, গ্লোবাল সিটিজেন এবং সেন্ট্রাল পার্ক কনজারভেন্সির যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সেন্ট্রাল পার্কের উন্মুক্ত প্রান্তরে তিনটি বড় এলইডি স্ক্রিন স্থাপন করা হবে, যেখানে হাজারো ফুটবলপ্রেমী একসঙ্গে বিশ্বকাপের ফাইনাল উপভোগ করতে পারবেন। এই প্রদর্শনীকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনামূল্যের বিশ্বকাপ ফাইনাল ভিউয়িং ইভেন্ট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো টিকিট ফি থাকবে না। তবে দর্শকদের জন্য লটারিভিত্তিক নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। আগামী ১১ জুন সকাল ১০টা থেকে নিবন্ধন শুরু হয়ে ১৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। মোট টিকিটের ২০ শতাংশ স্থানীয় অলাভজনক সংস্থা এবং নিউইয়র্ক সিটি সার্ভিসের স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।   অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশদ্বার দুপুর ১২টায় খুলে দেওয়া হবে এবং বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ শুরু হবে বিকেল ৩টায়। খেলা ছাড়াও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্থানীয় খাবারের স্টল এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি থাকবে।   এছাড়া ‘ফিফা অ্যারেনা’ নামে একটি অস্থায়ী ক্ষুদ্র ফুটবল মাঠও চালু করা হয়েছে, যা ১০ জুন থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এখানে বিনামূল্যে ফুটবল প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি টুর্নামেন্ট এবং সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।   মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপ শুধু উচ্চমূল্যের টিকিটধারীদের জন্য নয়, বরং পুরো শহরের মানুষের জন্য একটি উৎসব। তার ভাষায়, কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।   গভর্নর হোকুল বলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচ সরাসরি মাঠে বসে দেখা সবার জন্য সম্ভব নয়। তবে সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনের মাধ্যমে লাখো মানুষ একসঙ্গে ফুটবল উন্মাদনা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য সরকার ৬ মিলিয়ন ডলার এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকার ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।   বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে নিউইয়র্ক ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক নজর কাড়ছে। সেন্ট্রাল পার্কের এই আয়োজনকে শুধু ম্যাচ প্রদর্শনী নয়, বরং বৈচিত্র্য, সম্প্রীতি ও নগর সংস্কৃতির এক বৃহৎ জনউৎসব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Unknown জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের জন্য নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে এসেছে বড় অগ্রগতি। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

তাবাস্সুম জুলাই ২০, ২০২৬ ১৪:০