যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বিখ্যাত সেন্ট্রাল পার্কে সপরিবারে বেড়াতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে রোমাঞ্চ মহাজন নামের ১৮ বছর বয়সী এক ভারতীয় পর্যটক কিশোর। নিউইয়র্কের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ভ্রমণের সময় হঠাৎ করেই ঘোড়াটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রচণ্ড বেগে ছুটতে শুরু করে। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গাড়ি থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান রোমাঞ্চের মা।
চলন্ত গাড়ি থেকে মাকে পড়ে যেতে দেখে নিজের জীবন বাজি রেখে তাকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় ওই কিশোর।
শোকার্ত ও বিধ্বস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাকে বাঁচানোর তীব্র আকুতি নিয়ে গাড়ি থেকে লাফ দেওয়ার মুহূর্তে ‘মা!’ বলে চিৎকার করে উঠছিল রোমাঞ্চ। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিশোরের শোকার্ত বাবা দীপক মহাজন অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে জানান, "আমার ছেলে কেবল তার মাকে বাঁচানোর জন্যই নিচে পড়ে গিয়েছিল"।
বুধবার বিকালের এই ভয়াবহ ঘটনার সময় গাড়ি থেকে ছিটকে সরাসরি শক্ত মাটিতে আছড়ে পড়ে রোমাঞ্চ এবং তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। গুরুতর রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আনন্দঘন এক পারিবারিক ছুটি কাটানোর মুহূর্ত কীভাবে এক পলকে এমন বুকফাটা হাহাকারে পরিণত হলো, তা ভেবে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নিহতের স্বজনরা।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিজেদের জনপ্রিয় বাস্কেটবল এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে ক্রীড়া উন্মাদনায় ভাসছে নিউইয়র্ক। একদিকে এনবিএ শিরোপা জয়ের আনন্দ, অন্যদিকে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মাঠের খেলার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় উদযাপন, ফ্যান জোন এবং বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন এই আমেজকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। আমেরিকানদের পাশাপাশি বাঙালিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষও অংশ নিচ্ছেন এই উৎসবে। জানা গেছে, গত ১৩ জুন এনবিএ ফাইনাল সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সকে ৯৪-৯০ পয়েন্টে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে নিউইয়র্ক নিক্স। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি ১৯৭৩ সালের পর প্রথমবারের মতো এনবিএ চ্যাম্পিয়ন হয়। দীর্ঘ ৫৩ বছরের অপেক্ষার অবসানে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় ব্যাপক আবেগ ও আনন্দ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকেই নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় উদযাপন। ম্যানহাটন, টাইমস স্কয়ার এবং ব্রুকলিনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। খেলোয়াড়দের ঘিরে তৈরি হয় নতুন ক্রীড়া নায়কত্বের আবহ। শহরের বাস্কেটবল ইতিহাসে এই সাফল্যকে বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা। শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহরজুড়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য প্যারেডও। একই সময়ে নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি অঞ্চল ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। গত ১১ জুন শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপ চলাকালে এই ভেন্যু নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়াম নামে পরিচিত হবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই স্টেডিয়ামে মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, নকআউট রাউন্ডের খেলা এবং টুর্নামেন্টের ফাইনাল। আগামী ১৯ জুলাই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কের ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সে গড়ে তোলা হয়েছে ফ্যান জোন। বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা এবং ফ্যান ফেস্টের আয়োজন করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা দর্শক ও পর্যটকদের উপস্থিতিতে শহরটি এখন এক বৈশ্বিক ক্রীড়া মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তবে এই বৃহৎ আয়োজনের সঙ্গে কিছু চ্যালেঞ্জও সামনে এসেছে। দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে প্রশাসনকে বাড়তি ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ব্যবস্থাপনা এবং স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর সময় বৃদ্ধি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে মেটলাইফ স্টেডিয়াম এলাকায় নিরাপত্তা ও জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানাতে অনেকে জার্সি, পতাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ফুটবল সামগ্রী সংগ্রহ করছেন। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিশ্বকাপের আমেজ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের থিমে সাজানো হয়েছে। মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে এবং ইয়ামালের মতো তারকা ফুটবলারের জার্সির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক দোকানে ক্রেতাদের পছন্দ অনুযায়ী জার্সিতে নাম ও নম্বর সংযোজনের সেবাও দেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্কের কুইন্স এলাকার জ্যাকসন হাইটসে জার্সির দোকান পরিচালনাকারী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “বিশ্বকাপ শুরুর আগেই জার্সির এমন চাহিদা আমরা আগে কখনও দেখিনি। বিশেষ করে মেসি, রোনালদো আর এমবাপ্পের জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে।” একই এলাকার ফুটবল সমর্থক রাকিবুল হাসান বলেন, “আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে প্রতিদিন বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করি। খেলা শুরু হলেই পুরো এলাকা যেন উৎসবের মাঠে পরিণত হবে।” প্রবাসী কমিউনিটি সংগঠক নাজনীন আক্তার বলেন, “এই বিশ্বকাপ আমাদের নতুন প্রজন্মকে একত্র করছে। তারা খেলা দেখার পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে এবং নিজেদের সংস্কৃতিও ভাগাভাগি করছে।”
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নারী ও শিশুদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করেছে যুক্তরাজ্যের নর্থ ইংল্যান্ডের লিডস শহরের একদল শিশু-কিশোর। ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রতীকী পদযাত্রায় (চ্যারিটি ওয়াক) অংশ নিয়ে তারা এই অর্থ সংগ্রহ করে। গত শনিবার লিডসের মিনউড পার্কে অনুষ্ঠিত এই চ্যারিটি ওয়াকে কয়েক ডজন শিশু-কিশোর অংশ নেয়। গাজায় চলমান মানবিক সংকটে বিপর্যস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি জানাতে এবং তাদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়। পদযাত্রার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি পাকিস্তানি, আফ্রিকান এবং স্থানীয় শ্বেতাঙ্গ কমিউনিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা শিশুদের উৎসাহিত করেন এবং মানবিক এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। আয়োজক সংস্থা ‘ফরগটেন উইমেন চ্যারিটি’র এক মুখপাত্র জানান, ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার অঞ্চলের মধ্যে লিডসের শিশুরাই সবচেয়ে বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ সাত হাজার পাউন্ডেরও বেশি। এই অর্থ দ্রুত গাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় পাঠানো হবে। পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের সোনালি রঙের সম্মাননা মেডেল প্রদান করা হয়। মেডেল পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা। একই সঙ্গে সন্তানদের এমন মানবিক উদ্যোগে অংশ নিতে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন অভিভাবকরাও। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু তহবিল সংগ্রহই করেনি, বরং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতির মূল্যবোধও শিখেছে। তারা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, ছোট ছোট উদ্যোগও বড় পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হতে পারে। গাজায় চলমান সংঘাত ও মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে শিশুদের এই উদ্যোগ স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে তীব্র আবাসন সংকটের মুখে পড়ে গাড়ি বা আরভিতে (রিক্রিয়েশনাল ভেহিকেল) জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া গৃহহীন মানুষদের জন্য এক অনন্য উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় এক যাজক। সান্তা ক্লারা কাউন্টির বিপুলসংখ্যক গৃহহীন জনগোষ্ঠীর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে গির্জার নিজস্ব পার্কিং লটগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে রূপান্তর করেছেন তিনি। যাজক ব্রায়ান লিওং-এর এই মানবিক ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের খবরটি বুধবার (১৭ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস সান ফ্রান্সিসকো-র একটি বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সান্তা ক্লারা কাউন্টির গৃহহীন জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ, যা সংখ্যায় প্রায় ৪ হাজার মানুষ, বর্তমানে নিজেদের গাড়িতে রাত কাটাতে বাধ্য হন। সিলিকন ভ্যালির মতো ব্যয়বহুল এলাকায় স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজার আগ পর্যন্ত এই মানুষগুলোর জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করতে ২০১৮ সালে ‘মুভ মাউন্টেন ভিউ’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তোলেন যাজক ব্রায়ান লিওং। নিজের গির্জাসহ মাত্র দুটি চার্চের মাত্র ৬টি পার্কিং স্পেস নিয়ে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমটি বর্তমানে শহর ও কাউন্টি প্রশাসনের অর্থায়নে ৯টি পার্কিং লটে ১৪০টি স্পেসে উন্নীত হয়েছে। এই নিরাপদ পার্কিং স্পেসগুলোতে ঠাঁই পাওয়া আন্দ্রেস নামের এক নবজাতকের বাবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "এখানে আমাদের পরিবারের মতো দেখাশোনা করা হয়। চাকুরি হারিয়ে আরভিতে জীবন কাটাতে বাধ্য হওয়া আমাদের মতো মানুষদের জন্য এই জায়গাটি ভীষণ নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও নিয়মতান্ত্রিক।" এই ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে পোশাক ও খাবারসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী অনুদান হিসেবে দেয় সহযোগী সংস্থাগুলো। পালো আল্টো এলাকায় অবস্থিত একটি স্পেসে তো আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য লন্ড্রি, গোসলখানা, রান্নাঘর, খাবারের ভাণ্ডার এবং শিশুদের লাইব্রেরির সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই সুবিধা স্থায়ী নয়; সম্প্রতি কাউন্টির এক নতুন নিয়মানুযায়ী ১২০ দিন পর বাসিন্দাদের প্রমাণ করতে হয় যে তারা সক্রিয়ভাবে স্থায়ী বাসা খুঁজছেন। এই পুরো সময়ে তাদের সহায়তার জন্য একজন করে কেস ওয়ার্কার নিয়োগ দেওয়া থাকে। আগামী জুলাই মাসে এই প্রকল্পের আওতায় আরও কিছু পার্কিং স্পেস যুক্ত হতে যাচ্ছে, যার ফলে মোট স্পেসের সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ২০০-তে। এই সুযোগ পাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের মাউন্টেন ভিউ বা পালো আল্টো এলাকায় বসবাস, চাকরি বা সন্তানদের পড়াশোনা করার শর্ত পূরণ করতে হয়। যাজক ব্রায়ান লিওং-এর এই মানবিক উদ্যোগের ফলে এ পর্যন্ত ৬০০-রও বেশি মানুষ স্থায়ী আবাসন খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। গৃহহীন ও অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এমন অসাধারণ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ যাজক ব্রায়ান লিওং-কে এই সপ্তাহের ‘সিবিএস নিউজ বে এরিয়া আইকন অ্যাওয়ার্ড’ (ICON Award)-এ ভূষিত করা হয়েছে।