সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হিজাব

শপথ নিয়েছেন হিজাব পরিহিত নারী বি. মান্না
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে ক্রসিং গার্ড হিসেবে শপথ নিলেন হিজাবি নারী

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টিতে ক্রসিং গার্ড হিসেবে শপথ নিয়েছেন হিজাব পরিহিত নারী বি. মান্না। তাঁর শপথ গ্রহণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ছবিতে তাঁকে আনুষ্ঠানিক পোশাকে শপথ গ্রহণের পর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর এই নতুন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা ও শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার কাজে যুক্ত হলেন তিনি।   প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড ইউনিট স্কুলগামী শিশুদের নিরাপদে রাস্তা পারাপারে সহায়তা করে। স্কুলের আশপাশের সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত পারাপারের স্থানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কাউন্টি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই পদে কাজ করার জন্য কর্মীদের প্রশিক্ষণ নিতে হয় এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল ক্রসিং গার্ডরা স্থানীয় জননিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিদিন স্কুল শুরুর আগে ও ছুটির সময় ব্যস্ত সড়কে শিশুদের নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করেন তাঁরা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় শিক্ষার্থীদের সড়ক পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়, সেখানে ক্রসিং গার্ডদের উপস্থিতি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।   বি. মান্নার শপথ গ্রহণের ছবিতে তাঁর হিজাব পরিহিত উপস্থিতি বিশেষভাবে নজরে এসেছে। তবে তাঁর জাতীয়তা, ব্যক্তিগত পরিচয় এবং এই পদে যোগদানের বিস্তারিত তথ্য সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাঁকে বাংলাদেশি বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাগরিক হিসেবে পরিচয় দেওয়ার মতো তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: প্রিন্স উইলিয়াম কাউন্টি পুলিশ বিভাগের ক্রসিং গার্ড-সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রকাশিত ছবি।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
দরসা দেরাখশানি
হিজাব না পরায় ইরানে নিষিদ্ধ দরসা, যুক্তরাষ্ট্রে স্কলারশিপে গড়েন নতুন সাফল্যময় ক্যারিয়ার

আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় হিজাব ছাড়া অংশ নেওয়ায় ২০১৭ সালে ইরানের জাতীয় দল ও দেশের ভেতরের প্রতিযোগিতায় নিষিদ্ধ হয়েছিলেন দরসা দেরাখশানি। সেই বছরই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটিতে দাবার স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। পরে ফেডারেশন বদলে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে খেলার পথ বেছে নেন এই ইরানি দাবাড়ু।   দরসা উইমেন গ্র্যান্ডমাস্টার ও ইন্টারন্যাশনাল মাস্টার খেতাবধারী। ইউএস চেসের তথ্য অনুযায়ী, জিব্রাল্টার দাবা উৎসবে হিজাব না পরে খেলার ঘটনায় ইরানের দাবা ফেডারেশন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। তখন তিনি স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাস করছিলেন। ফলে নিষেধাজ্ঞার পর সরাসরি ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে চলে এসেছিলেন, ঘটনাপ্রবাহটি এমন নয়।  ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে দরসা মিসৌরির সেন্ট লুইসে আসেন এবং ওই বছরের শরতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করেন। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির বিবরণ অনুযায়ী, তিনি ছিলেন তাদের দাবা দলে স্কলারশিপ পাওয়া প্রথম নারী। বিশ্ববিদ্যালয়টির জীববিজ্ঞান, হেলথ সায়েন্সেস ও প্রি-মেড পড়াশোনার সুযোগ এবং শহরটির দাবার পরিবেশ তাঁকে সেখানে যেতে উৎসাহিত করেছিল।   পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবা দলের হয়ে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতা চালিয়ে যান দরসা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্যে তাঁকে হেলথ সায়েন্সেস ও জীববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করে সার্জন হওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।  ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর ইউএস চেস আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, দরসা ফেডারেশন পরিবর্তন করে তাদের খেলোয়াড় হয়েছেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যে ফেডারেশনে তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এবং সহযোগিতা করা হয়, সেখানে খেলতে তাঁর ভালো ও শান্তিপূর্ণ লাগে।    যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের একটি আসে ২০২০ সালে। সে বছর ইউএস উইমেনস চেস চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় হন তিনি। সেন্ট লুইস ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় দ্বাদশ বাছাই হিসেবে শুরু করেও প্রথম তিনজনের মধ্যে জায়গা করে নেন দরসা।    নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখালেখি ও বক্তব্যেও ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতার কথা তুলে ধরেছেন দরসা। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত মতামত নিবন্ধে নিজের যাত্রার কথা লেখেন তিনি। পরে একটি টেডএক্স বক্তব্যে নারীদের ওপর সামাজিক প্রত্যাশা ও নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিয়ে আলোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের পছন্দের স্বাধীনতার পাশাপাশি অন্যের পছন্দকেও সম্মান করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থী ও সমর্থকেরা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পরায় বাধা, বিক্ষোভে উত্তাল বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আজারবাইজানে সরকারি স্কুলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের হিজাব পরা নিয়ে নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার স্কুলের পোশাকবিধিতে এমন পরিবর্তন এনেছে, যেখানে সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পোশাক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।   গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পোশাকের বিবরণসংক্রান্ত বিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য হলো স্কুলে একটি অভিন্ন পোশাকবিধি নিশ্চিত করা এবং দেশের ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার নীতি বজায় রাখা। নতুন নিয়মে নির্ধারিত স্কুল পোশাকের অভিন্নতা নষ্ট করে কিংবা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, এমন পোশাক বা অতিরিক্ত পোশাকের উপকরণ ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে নিয়মে হিজাবের নাম উল্লেখ করে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি।   কিন্তু বাস্তবে বিধিটির প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষকদের জড়িয়ে ধরে কাঁদতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও হিজাব পরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশ করতে না দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত দুটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নতুন বিধির প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছে।   জাহরা হাসানোভা নামের এক শিক্ষিকা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, তাঁকে স্কুলে হিজাব পরে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কষ্ট পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। ভবিষ্যতে কেউ হিজাব খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও সেটি তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্যে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অনুশীলনের অধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে এসেছে।   আজারবাইজানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এপিএ জানিয়েছে, নতুন পোশাকবিধিতে জাতীয় ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মানুষের জাতীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত পোশাক বিশেষ অনুষ্ঠানে পরার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্কুলের শিক্ষকদের নিয়ে গঠিত পেডাগজিক্যাল কাউন্সিলের অনুমোদন প্রয়োজন। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত পোশাকবিধি মেনে চলছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বও স্কুল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট পরিষদের ওপর দেওয়া হয়েছে। ফলে বিধিটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।   আজারবাইজানের জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ নিজেদের মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেন। দেশটির সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। এ কারণে নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কটি কেবল স্কুলের পোশাকের নিয়মে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত পছন্দ এবং শিক্ষার অধিকারও জড়িয়ে পড়েছে। সমালোচকদের আশঙ্কা, নিয়মটির প্রয়োগের ফলে হিজাব পরা ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণ এবং শিক্ষকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি হতে পারে।   নতুন বিধির প্রতিবাদ শুধু স্কুলের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদী প্রচারণা শুরু হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের ঘটনাও সামনে এসেছে। কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানভও নতুন নিয়মের প্রতিবাদে অনশন শুরু করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে দণ্ডিত এই সাংবাদিক দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তাঁর স্ত্রীগুলমিরা আসলানভা ফেসবুকে প্রকাশিত একটি বার্তায় জানান, কারাগারে থেকেও সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে অনশন করছেন তাঁর স্বামী।   আজারবাইজানে ইন্টারনেট সংযোগে বিঘ্ন ঘটার খবরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। তবে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত স্বাধীন তথ্য এখনো নেই।   এই বিতর্কের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ তুরস্কেও পড়েছে। সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি বিক্ষোভ হয়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গেও কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করছেন। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে হিজাব পরা নারীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি চাকরিতে কর্মরত কিছু নারীকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল বা পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।   আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তুরস্কের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও প্রতিবাদ নিয়ে পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক দল নিউ আজারবাইজান পার্টির এক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অন্যদের দেশের জীবনযাত্রায় হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, তুরস্কের কর্তৃপক্ষ এ মন্তব্যের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বৈষম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   আজারবাইজানে নতুন পোশাকবিধি কতটা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে এবং এর ফলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্কুলে প্রবেশের সুযোগ ফিরবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য অভিন্ন পোশাকবিধি ও ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখা। অন্যদিকে, প্রতিবাদকারীরা বলছেন, পোশাকের নিয়মের কারণে কাউকে শিক্ষা বা কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে রাখা উচিত নয়। এই দুই অবস্থানের টানাপোড়েনে দেশটিতে হিজাব ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা, আজারবাইজান প্রেস এজেন্সি (এপিএ)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০
হিজাব পরা নিয়ে আজারবাইজানের ওই ছাত্রীর সাহসী বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরি, কারও কথায় খুলব না’, প্রয়োজনে স্কুল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আজারবাইজানি ছাত্রীর

আজারবাইজানের হিজাব পরা এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হিজাব পরা নিয়ে শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে হিজাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। শিক্ষক তাঁকে হারাতে চান না বলেও জানিয়েছেন। জবাবে ছাত্রী বলেন, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরেন এবং অন্য কারও অনুরোধে তা খুলতে রাজি নন। প্রয়োজনে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা নিয়ে শিক্ষক ও তাঁর মধ্যে আলোচনা হয়। শিক্ষক তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিলেও ছাত্রী নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যের মূল ভিডিও, শিক্ষার্থীর পরিচয় এবং ঘটনাটি কোন স্কুলে ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কথোপকথনের সব বিবরণ যাচাই করা জরুরি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। আল জাজিরার ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মন্ত্রিসভা ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলের পোশাকসংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন বিধিতে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত অতিরিক্ত পোশাক বা উপকরণ পরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা নিয়মে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।   এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। অভিভাবক ও সমালোচকদের একাংশের উদ্বেগ, পোশাকবিধির কারণে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির পোশাকবিধির সমর্থকেরা বলছেন, সরকারি স্কুলে নির্ধারিত নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত।   আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও নতুন পোশাকবিধির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চললেও ভাইরাল হওয়া ওই ছাত্রীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন, নাকি হিজাবের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: আল জাজিরা, অবজারভার বিডি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০
কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির  ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম
কানাডায় পাসপোর্ট ও আইডির ছবিতে হিজাব পরার অনুমতি, মানতে হবে যেসব নিয়ম

কানাডায় পাসপোর্ট ও নির্দিষ্ট সরকারি পরিচয়পত্রের ছবিতে ধর্মীয় কারণে হিজাব বা হেডস্কার্ফ পরে ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে। দেশটির সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখেন এমন ব্যক্তিদের পাসপোর্টের ছবির জন্য হিজাব খুলতে হয় না। তবে ছবিতে পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যেতে হবে এবং পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকা চলবে না।   কানাডা সরকারের প্রকাশিত পাসপোর্ট ছবির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কিংবা চিকিৎসাগত কারণে নিয়মিত মাথা ঢেকে রাখার পোশাক পরা গ্রহণযোগ্য। তবে মাথার পোশাক যেন মুখের ওপর কোনো ছায়া তৈরি না করে এবং ব্যক্তির মুখের স্বাভাবিক গঠন স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।   নিয়ম অনুযায়ী, হিজাব পরা অবস্থায় ছবি তোলার সময় চোখ, নাক, মুখ, চিবুক এবং মুখের দুই পাশ পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। হিজাব বা স্কার্ফ এমনভাবে পরতে হবে, যাতে মুখের কোনো অংশ আড়াল না হয়। বিশেষ করে চোখ খোলা রাখা, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকানো এবং স্বাভাবিক মুখভঙ্গি বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।   কানাডার পাসপোর্ট ছবির ক্ষেত্রে আরও কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে। ছবির মাপ হতে হবে ৫০ মিলিমিটার চওড়া এবং ৭০ মিলিমিটার লম্বা। চিবুক থেকে মাথার স্বাভাবিক ওপরের অংশ পর্যন্ত উচ্চতা থাকতে হবে ৩১ থেকে ৩৬ মিলিমিটারের মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা অথবা হালকা রঙের হতে হবে। পাশাপাশি মুখে বা ব্যাকগ্রাউন্ডে অতিরিক্ত আলো, ছায়া কিংবা আলোর প্রতিফলন থাকা যাবে না।   ছবিতে আবেদনকারীর মুখ ও কাঁধ ক্যামেরার দিকে সোজা রাখতে হবে। হাসি বা ভ্রু কুঁচকানো ছাড়া স্বাভাবিক মুখভঙ্গিতে ছবি তুলতে হবে। চোখ খোলা এবং মুখ বন্ধ রাখতে হবে। কানাডার পাসপোর্টের জন্য জমা দেওয়া ছবি আবেদন করার আগের ছয় মাসের মধ্যে তোলা হতে হবে, যাতে আবেদনকারীর বর্তমান চেহারার সঙ্গে ছবির মিল থাকে।   সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ধর্মীয় বিশ্বাস বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ টুপি কিংবা মাথা ঢাকার অন্যান্য পোশাক পাসপোর্টের ছবিতে গ্রহণযোগ্য নয়। অর্থাৎ ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার সুযোগ থাকলেও শুধু ফ্যাশন বা ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরার ক্ষেত্রে একই ছাড় প্রযোজ্য হবে না।   এ ছাড়া কানাডার পাসপোর্ট আবেদনে জমা দেওয়া ছবি অবশ্যই আসল ও অপরিবর্তিত হতে হবে। ছবি তোলার পর ফিল্টার ব্যবহার, মুখের গঠন পরিবর্তন কিংবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি সংশোধন করা যাবে না। এমনকি ছবি আরও সুন্দর করার জন্য ডিজিটাল এডিট করলেও তা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। নির্ধারিত নিয়ম মেনে পেশাদার ফটোগ্রাফারের মাধ্যমে ছবি তোলার নির্দেশনা রয়েছে।   শুধু পাসপোর্ট নয়, কানাডার পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা পিআর কার্ডের ছবির ক্ষেত্রেও ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার অনুমতি রয়েছে। তবে সেখানেও মুখের বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট থাকতে হবে। বিশেষ করে সাদা রঙের হিজাব বা হেডস্কার্ফ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিশে গেলে ছবি গ্রহণে সমস্যা হতে পারে। তাই পোশাক ও ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পর্যাপ্ত পার্থক্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   কানাডায় ইমিগ্রেশন আবেদনের জন্য বায়োমেট্রিক ছবি তোলার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজিস অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডার তথ্য অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক ছবি তোলার সময় পুরো মুখ স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান থাকতে হবে। ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢেকে রাখেন এমন আবেদনকারীরা প্রয়োজনে একই লিঙ্গের কর্মীর মাধ্যমে ছবি তোলার অনুরোধ করতে পারেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য পর্দার ব্যবস্থাও চাইতে পারেন।   তবে কানাডার সব ধরনের সরকারি পরিচয়পত্রের জন্য একটিমাত্র নিয়ম প্রযোজ্য নয়। ড্রাইভার লাইসেন্স এবং প্রদেশভিত্তিক অন্যান্য আইডি কার্ডের ছবির শর্ত সংশ্লিষ্ট প্রদেশ বা কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। তাই কোনো পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলার আগে সেই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি।   কানাডা সরকারের এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচয় যাচাইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী পোশাক পরার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা। ফলে হিজাব পরা কোনো নারী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে হিজাব না খুলেই কানাডিয়ান পাসপোর্টের জন্য ছবি জমা দিতে পারবেন।   উল্লেখ্য, এটি কানাডায় নতুন করে ঘোষণা করা কোনো সুবিধা নয়। ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকার পোশাক পরে পাসপোর্টের ছবি তোলার সুযোগ দেশটির বিদ্যমান সরকারি নিয়মেরই অংশ।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১৪:০
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন পারাস্তো আহমাদি। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকার ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল

ইরানে বাধ্যতামূলক হিজাব না পরে গান গাওয়ার অভিযোগে গায়িকা পারাস্তো আহমাদির ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা বহাল রেখেছে দেশটির একটি আপিল আদালত। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, উচ্চ আদালত কোনো শুনানি ছাড়াই আপিল খারিজ করে আগের সাজা বহাল রাখে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে হাতাকাটা পোশাক পরে গান গাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল।   ২৯ বছর বয়সী পারাস্তো আহমাদি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সংগীতানুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করেন। অনুষ্ঠানে তিনি মাথায় হিজাব পরেননি এবং হাতাকাটা পোশাক পরেছিলেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো মানুষ তা দেখেন। এরপর ইরানের বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে দেশটির আইন ও সাংস্কৃতিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেয়। দেশটিতে নারীদের প্রকাশ্যে গান পরিবেশনের ওপরও বিধিনিষেধ রয়েছে এবং তাদের হিজাব ও শালীন পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   চলতি বছরের জুনে কোম শহরের একটি ফৌজদারি আদালত আহমাদি ও তার ব্যান্ড এবং অনুষ্ঠান নির্মাণ দলের আরও আট সদস্যকে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের অভিযোগ ছিল, তারা প্রকাশ্যে অশালীন ও অনৈতিক উপাদান প্রচারের মাধ্যমে ‘জনসাধারণের শালীনতায় আঘাত’ করেছেন। মামলায় আহমাদিসহ সংশ্লিষ্টদের ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দুই বছরের জন্য দৃশ্যশ্রাব্য কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং দেশত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।   আহমাদির আইনজীবীরা আপিল করে বলেন, ওই সংগীতানুষ্ঠান আয়োজন করাই কোনো অপরাধ ছিল না। তাদের একজন বিবিসিকে জানান, একই অভিযোগে জরিমানা বা তুলনামূলক কম শাস্তির সুযোগ থাকলেও নিম্ন আদালত কঠোরতম শাস্তিগুলোর একটি দিয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আপিল আদালতের শুনানি করার সুযোগ থাকলেও আদালত কোনো শুনানি করেনি এবং আগের রায় বহাল রেখেছে। আইনজীবীদের ধারণা, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা ঠেকানোর জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এই রায়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।   প্রাথমিক রায়ের খবর প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নির্বাসিত ইরানি গায়িকা গুগুশ ওই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহমাদির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নারীদের নিজেদের জীবন ও পোশাক সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতার কথা বলেন। সংগীতশিল্পী হোসেইন আলিজাদেহও আহমাদির পরিবর্তে নিজে ৭০ বেত্রাঘাতের শাস্তি নিতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছিলেন। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও এই সাজার সমালোচনা করে বেত্রাঘাতকে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অবমাননাকর শাস্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে।   ইরানে নারীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিষয়টি নতুন নয়। দেশটির আইনে বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানো নারী ও কিশোরীদের চুল হিজাব দিয়ে ঢেকে রাখতে এবং শরীরের গঠন আড়াল করে এমন ঢিলেঢালা পোশাক পরতে বলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর দেশটির অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হিজাব ঠিকভাবে না পরার অভিযোগে নৈতিকতা পুলিশের আটক করা ২২ বছর বয়সী কুর্দি-ইরানি তরুণী আমিনির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।   ২০২২ সালের ওই বিক্ষোভে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব খুলে ফেলেন বা মাথার কাপড় বাতাসে উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। এরপরও ইরানের বিভিন্ন শহরে অনেক নারী প্রকাশ্যে হিজাব না পরেই চলাফেরা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার, সতর্কবার্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়েছে।   হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে এর আগেও বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুর্দি-ইরানি অধিকারকর্মী রোয়া হেশমতিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিজাব ছাড়া একটি ছবি প্রকাশের ঘটনায় ‘জননৈতিকতা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে ৭৪ বার বেত্রাঘাত করা হয় বলে কুর্দি মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও জানিয়েছিল। হেশমতি পরে জানান, তেহরানের একটি প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এক নারী কর্মকর্তা জোর করে তার মাথায় স্কার্ফ পরিয়ে দেন এবং পরে একজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে বেত্রাঘাত করেন।   পারাস্তো আহমাদির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইরানে নারীদের পোশাক ও প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিক ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য গোলামালি হাদ্দাদ-আদেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হিজাববিষয়ক বিধিনিষেধ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ আপাতত আগের মতো মনোযোগ দিতে পারছে না। তবে দেশটির প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।   আহমাদির বিরুদ্ধে রায়ের ফলে ইরানে নারী শিল্পীদের প্রকাশ্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তার আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালতে কোনো শুনানি না করেই আগের সাজা বহাল রাখা হয়েছে। এখন ৭৪ বেত্রাঘাতের সাজা কার্যকর হবে কি না এবং মামলাটির বিরুদ্ধে আরও কোনো আইনি পদক্ষেপের সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে নজর রয়েছে।   সূত্র: বিবিসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৪:০
হিজাব নিষেধের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে হিজাব নিষেধের প্রস্তাব: মুসলিম নারীদের পাশে দাঁড়াতে হিজাব পরে ছবি-ভিডিও প্রকাশ ফরাসি নারীদের

ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন।   এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র‍্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে।   গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি।   এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।   আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন।   জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র‍্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল।   সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র‍্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে।   ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র‍্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।   এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র‍্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে।   ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না।   এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র‍্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।   তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬ ১৪:০
আনা মারিয়া গার্সিয়া
পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরা প্রথম নারী মারিয়া গার্সিয়া, মেক্সিকোয় গড়লেন ইতিহাস

মেক্সিকোর সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এক রায়ে পাসপোর্টের ছবিতে হিজাব পরার অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। আদালত বলেছে, মুখমণ্ডল পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকলে ধর্মীয় পোশাক হিসেবে হিজাব পরা পাসপোর্টের ছবি তোলার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না। ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর দেওয়া এই রায়ে চিহুয়াহুয়া ও মেক্সিকো সিটির দুই মুসলিম নারীর করা মামলায় তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।  মামলাগুলোর একটি করেছিলেন মেক্সিকোর মুসলিম নারী আনা মারিয়া গার্সিয়া। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মেক্সিকো সিটিতে পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে তাকে জানানো হয়, হিজাব পরে ছবি তোলা হলে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না। এরপর তিনি ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বৈষম্য থেকে সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন।    মেক্সিকোর পাসপোর্ট বিধিমালায় সাধারণভাবে ছবি তোলার সময় মাথা অনাবৃত রাখার শর্ত রয়েছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ বলেছে, ধর্মীয় কারণে কেউ হিজাব পরলে এবং তাতে তার মুখ শনাক্ত করতে কোনো সমস্যা না হলে ওই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা যাবে না।  আদালতের সিদ্ধান্তে বলা হয়, হিজাব মুখ ঢেকে না রাখায় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব। তাই জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিচয় শনাক্তকরণের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারও সমন্বয় করা যায়। এ ক্ষেত্রে হিজাব পরার কারণে পাসপোর্টের আবেদন আটকে রাখা বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   রায়টি ৮-১ ভোটে গৃহীত হয়। সুপ্রিম কোর্ট একই সঙ্গে দুই মামলার আবেদনকারীকে অন্যান্য আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে হিজাব পরা ছবি ব্যবহার করে পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেয়।    এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোয় ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সরকারি পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজির তৈরি হয়েছে। তবে আদালত পাসপোর্টের ছবিতে মাথা অনাবৃত রাখার সাধারণ নিয়ম পুরোপুরি বাতিল করেনি; ধর্মীয় পোশাকের ক্ষেত্রে, যখন তা মুখ শনাক্তকরণে বাধা সৃষ্টি করে না, তখন ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব খুলতে বাধ্য করায় ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের বিরুদ্ধে দুই মুসলিম নারীর মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ এবং অরেঞ্জ কাউন্টি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেছেন দুই মুসলিম নারী। তাদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের মে মাসে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, আরভিন (ইউসি আরভিন) ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে গ্রেপ্তারের পর বুকিং প্রক্রিয়ার সময় তাদের হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল।   বাদী দুই নারীর নাম সালমা নাসুরউদ্দিন এবং শেনাই আইনি। মামলাটি দায়েরে তাদের আইনি সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস, লস অ্যাঞ্জেলেস (CAIR-LA) এবং এশিয়ান ল' ককাস। মামলায় ক্ষতিপূরণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং নীতিমালায় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়েছে।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ মে ইউসি আরভিনে ফিলিস্তিনপন্থী একটি শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় বহু শিক্ষার্থী ও কর্মীর সঙ্গে এই দুই নারীও গ্রেপ্তার হন। পরে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগের হেফাজতে নেওয়ার পর বুকিংয়ের জন্য তাদের হিজাব খুলে ছবি তুলতে বাধ্য করা হয়। তাদের দাবি, এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।   আদালতে দাখিল করা নথিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হিজাব ছাড়া তোলা ছবিগুলো এমন একটি ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, যেখানে পুরুষ কর্মীদেরও সেগুলো দেখার সুযোগ ছিল। বাদীপক্ষের দাবি, মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী এটি তাদের জন্য গভীর মানসিক ও ধর্মীয় আঘাতের কারণ।   অন্যদিকে অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফ বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, বন্দিদের বুকিং প্রক্রিয়ায় অনুসৃত নিরাপত্তাব্যবস্থা সবার জন্য একই। বিভাগের দাবি, হিজাব অপসারণের প্রয়োজন হলে তা ব্যক্তিগত কক্ষে এবং নারী ডেপুটিদের উপস্থিতিতেই করা হয়, যা নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের মানসম্মত পদ্ধতির অংশ।   এদিকে মামলাটি আদালতে যাওয়ার পর চলতি বছরের এপ্রিলে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। আদালত নির্দেশ দেন, বাদীদের হিজাববিহীন ছবি পুরুষদের জন্য উন্মুক্ত রাখা যাবে না, জনসমক্ষে প্রকাশ করা যাবে না এবং সংরক্ষিত ছবিতে তাদের চুল, ঘাড় ও কান আড়াল করতে হবে।   নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, এই মামলা শুধু দুই নারীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে। মামলার চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১১, ২০২৬ ১৪:০
পারাস্তু আহমদি। ছবি: সংগৃহীত
হিজাব ছাড়া গান গাওয়ায় ইরানি গায়িকাকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ

হিজাব ছাড়া কনসার্টে পারফর্ম করার অপরাধে ইরানের জনপ্রিয় নারী গায়িকা পারাস্তু আহমদিকে ৭৪টি দোররা (চাবুক) মারার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। গায়িকার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নারীদের ওপর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরও কঠোর হওয়ারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রায়।   গত সপ্তাহে ইরানের কোম প্রদেশের একটি রুদ্ধদ্বার আদালতে পারাস্তু আহমদি এবং তাঁর ব্যান্ডের আরও আট সদস্য ও কলাকুশলীকে এই সাজা শোনানো হয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের একটি কনসার্টে ইরানি আইন অমান্য করে হিজাব ছাড়া, চুল ও হাত খোলা রেখে পারফর্ম করেছিলেন পারাস্তু। ইউটিউবে সেই পারফর্ম্যান্সের ভিডিও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ার পরই মূলত তাদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হলো।   দোররা মারার পাশাপাশি আগামী দুই বছরের জন্য পারাস্তু ও তাঁর সহকর্মীদের যেকোনো ধরনের পারফর্ম্যান্স এবং দেশ ছাড়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পরিবারের এক সদস্য জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নয়জনের মধ্যে দুজন ইরানে অবস্থান করছিলেন না।   মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ধস নামানো মাসব্যাপী এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর, সম্প্রতি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব নিহত হন।   এহেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই গায়িকাকে দেওয়া সাজার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, এই রায় যেমন অমানবিক ও অপমানজনক, তেমনি এটি একটি বিপজ্জনক সংকেত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি চুক্তির পর বর্তমান শাসনব্যবস্থা নারীদের ওপর দমনপীড়ন আরও বাড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ
হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ‘শালীনভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিরল এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং গুলি ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে তাজা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভে শুধু নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও অংশ নেন।   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশের দিকে গুলিও ছোড়ে।   এএফপির এক ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।   এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু নারী মারধর বন্ধের জন্য চিৎকার করছেন। একই সময় আশপাশ থেকে গুলির শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভে কেউ নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।   বিবিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশটিতে নারীর অধিকার ও জনসমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

নীলুফা নিশাত জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডিভি লটারি চালুর নির্দেশ, ১ নভেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন শুরু

অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ১৪:০