সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

হামলা

ডা. ইদ্রিস ইভান্স ও তার স্ত্রীকে ঘুমের মধ্যে ছুরিকাঘাত করা হয়
‘আমি ঈশ্বর’ দাবি করা ব্যক্তির ছু রিকাঘাতে শিশু চিকিৎসকের প্রাণহানি, আহত স্ত্রীও

যুক্তরাষ্ট্রের পিটসবার্গে নিজ বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন শিশু চিকিৎসক ডা. ইদ্রিস ইভান্স। ভোররাতে হঠাৎ এক ব্যক্তি বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরের ছু রি দিয়ে তাদের ওপর হা ম লা চালায়। গুরুতর আ হ ত হয়ে পরে ৪৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসকের মৃ ত্যু হয়। হা ম লায় তার স্ত্রীও গুরুতর আ হ ত হয়েছেন।   বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিটসবার্গের উপকণ্ঠ এজউডের একটি বাড়িতে দুইজনকে ছু রিকা ঘা তের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ডা. ইভান্স ও তার স্ত্রীকে একাধিক ছু রিকা ঘা তের জখমসহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইভান্সের মৃ ত্যু হয়। তার স্ত্রীকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   ডা. ইদ্রিস ইভান্স ইউপিএমসি চিলড্রেনস হাসপাতাল অব পিটসবার্গের শিশুদের গুরুতর অসুস্থতার চিকিৎসক ছিলেন। তিনি পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপকও ছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসক ও গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে তার মৃ ত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ইভান্স ও তার স্ত্রী বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হা ম লাকারী তাদের ওপর ছু রি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লাকারী শুধু অন্তর্বাস পরা ছিল এবং সে ‘আমি ঈশ্বর’ ধরনের কথা বলছিল। হা ম লার সময় তিনি তাদের দুই সন্তানকে দ্রুত প্রতিবেশীর বাড়িতে চলে যেতে বলেন।   পুলিশ পরে হা ম লার ঘটনায় ৩২ বছর বয়সী এলিয়াহ হেমিংওয়েকে আ ট ক করে। তদন্তকারীরা তাকে কাছের একটি বাড়ির পেছনে খুঁজে পান। তার হাতেও কাটা জখম ছিল এবং চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ ত্যা, গুরুতর হা ম লা, বাড়িতে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে।   ইভান্সের স্ত্রী পুলিশকে জানান, হা ম লার সময় তার স্বামী হা ম লাকারীকে ‘এলিয়াহ’ নামে ডাকেন। তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয় যে ইভান্স ও স ন্দে হভাজন ব্যক্তির মধ্যে আগে কোনো পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল কি না। হা ম লার উদ্দেশ্যও এখনো জানা যায়নি।   আলেঘেনি কাউন্টি পুলিশের সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ভিক্টর জোসেফ জানান, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত সহিং স। শোবার ঘরের আসবাবপত্র ও আয়না ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও হা ম লার উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের অত্যাধুনিক সামরিক সক্ষমতা ও নতুন অস্ত্র দেখে বিশ্ব চমকে যাবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বির বরাতে এই তথ্য জানানো হয়।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহেব্বি স্পষ্ট জানান, মার্কিন বাহিনীর যেকোনো হামলার জবাবে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আক্রমণের কৌশলে এবার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হবে। এই কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবে তেহরান, যা আগের লক্ষ্যবস্তুগুলোর চেয়ে ভিন্ন এবং নতুন স্থানে আঘাত হানবে।   সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ও অপমানজনক পরাজয়ের মুখে পড়েছে বলে দাবি করেছেন আইআরজিসির এই মুখপাত্র। তিনি জানান, এই পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো সাহস ওয়াশিংটনের নেই। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা এবং মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ অভিযানের জবাবে ইরানের জলপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাকে তিনি মার্কিন ব্যর্থতার সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   এছাড়াও পারস্য উপসাগরীয় এলাকা ও উত্তর ইরাকে অবস্থিত মার্কিন গোয়েন্দা ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাতের কথা উল্লেখ করে মোহেব্বি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি এখন ইরানের পূর্ণ নাগালের মধ্যে রয়েছে। তবে আইআরজিসির এসব সামরিক দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছেন মধ্যস্থতাকারীরা। উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে এনে একটি গঠনমূলক সমঝোতার পথ খুঁজতে ইতোমধ্যে একাধিক প্রস্তাব আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর

মালির মধ্যাঞ্চলের দিয়োরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৯৩ সেনাকে আটক এবং ১৫০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মালির সেনাবাহিনীও হতাহতের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।   জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যম আজ-জালাকায় জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ সেনা নিহত এবং ৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আটক সেনাদের কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    হামলার পর মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দিয়োরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে কয়েক ডজন হামলাকারী নিহত এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও পিকআপ ধ্বংসের কথা বলা হয়। তবে সেনাবাহিনী নিজেদের হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয়, নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, দিয়োরায় অন্তত ১০০ মালিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের পাঁচ সদস্যও নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ৮০ জনের বেশি সেনাকে আটকের দাবির কথাও উঠে আসে।   এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৫০ মালিয়ান সেনা ও পাঁচ রুশ আফ্রিকা কর্পস সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র তখন নিহতের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জেএনআইএম ২০১৭ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। গোষ্ঠীটি মালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় একাধিক বড় হামলা চালিয়েছে।   মালি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাও অব্যাহত রয়েছে।   দিয়োরা হামলার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং কতজন সেনা আটক হয়েছেন, তা মালির সরকার বা স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেএনআইএমের দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মালির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হতে পারে।   Source: আরব নিউজ

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
সাবেক প্রেমিকের অ্যাসিড হামলায় মুখ পুড়েছিল
সাবেক প্রেমিকের অ্যাসিড হামলায় মুখ পুড়েছিল, শেষ পর্যন্ত তাকেই বিয়ে করলেন নারী

তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়।    ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়।    হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়।    এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।    ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি।    গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।   বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।    ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ইরানের ৩ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা
ইরানের ৩ তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলা, পাল্টা হামলার হুমকি তেহরানের

ইরানের দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দেশটির তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের এই হামলার কথা জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এতে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দুটি মার্কিন নৌযান লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অভিযান চালায়। মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরী ও গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হামলা এড়িয়ে যায়।   হামলায় তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়। এর মধ্যে একটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের কাছে এবং আরেকটি জাস্কের কাছে অচল করে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় জাহাজটি ওমান উপসাগরে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, জাহাজগুলো ইরানের আইআরজিসি ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে ব্যবহৃত একটি ‘শ্যাডো অয়েল নেটওয়ার্কের’ অংশ। তবে এই অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।   সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, দুটি মার্কিন নৌযানে হামলা চালালে ইরানকে আরও বড় অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, প্রয়োজন হলে ইরানের তেলবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে আরও অভিযান চালানো হতে পারে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন হামলা ও নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে তারা অঞ্চলটিতে মার্কিন সামরিক নৌযানকে আরও কঠোরভাবে লক্ষ্যবস্তু করবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরও দাবি করেছে, তারা তিনটি জাহাজ ও তিনটি মার্কিন-সংশ্লিষ্ট নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এই পাল্টা হামলার দাবি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথন ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
এআই চ্যাটে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা, এফবিআইয়ের কাছে তথ্য যাওয়ার পর টেক্সাসে যুবক গ্রেপ্তার

এআই চ্যাটবটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর গুলি চালানোর পরিকল্পনার কথা লেখার অভিযোগে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওতে ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্মকর্তাদের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নাথানিয়েল মাইকেল কারাসকোর কথোপকথনে সার্না এলিমেন্টারি স্কুলকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকির কথা উঠে আসে। স্কুলটি তার বাসার পাশেই অবস্থিত।   আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ১১ আগস্ট কারাসকো অ্যানথ্রপিকের এআই চ্যাটবট ক্লডে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা লেখেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি দ্রুত একটি আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে স্কুলে ঢুকে শিশুদের ওপর হামলা চালানোর কথা বলেন। এমনকি স্কুলে আহত বা মৃত শিশুদের ছবি খুঁজে দিতে চাওয়ার কথাও ওই কথোপকথনে ছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   কারাসকোর কথোপকথন নিয়ে ২৮ আগস্ট এফবিআইয়ের ন্যাশনাল থ্রেট অপারেশনস সেকশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এরপর তদন্তকারীরা টি-মোবাইল, চার্টার কমিউনিকেশনস ও গুগলের কাছ থেকে জরুরি তথ্য সংগ্রহ করে ওই এআই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে কারাসকোর ফোন নম্বর, আইপি তথ্য ও বাসার ঠিকানা মিলিয়ে দেখেন।    এরপর ২৯ আগস্ট রাত ১১টার পর সান অ্যান্টোনিও পুলিশ কারাসকোকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি দেওয়ার তৃতীয়-শ্রেণির গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ডে বেক্সার কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।    ঘটনায় কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। পুলিশও কারাসকোর কাছে কোনো অস্ত্র পাওয়া গেছে বা তিনি হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন - এমন তথ্য প্রকাশ করেনি। তিনি এখনো অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।    ঘটনার আরেকটি দিক নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সার্না এলিমেন্টারি স্কুলের অধ্যক্ষ জেনিফার লোমাস জানিয়েছেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ শুরুতে হুমকিটির পূর্ণ বিবরণ জানতে পারেনি। সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত প্রকাশের পর ৩১ আগস্ট তিনি অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে সরাসরি জানান।    এদিকে অ্যানথ্রপিকের নিজস্ব নীতিমালায় গুরুতর সহিংসতার ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং জীবনহানির আশঙ্কা থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি তথ্য-অনুরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা
হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের তেলবাহী দুই ট্যাংকারে হামলা

হরমুজ প্রণালিতে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি বিশাল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে সোমবার রাতে ট্যাংকার দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শিপিং ট্র্যাকিং সংস্থা।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূলের কাছে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার দুটি হামলার শিকার হয়। হামলার পর জাহাজ দুটির সব ক্রু নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি ট্যাংকারে সৌদি আরবের জুয়াইমাহ টার্মিনাল থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।   ব্রিটিশ মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, একই এলাকায় একটি ট্যাংকারে তিনটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের কারণে এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ থেকে ৬৮ জন। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির কাছে হওয়ায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওই বাড়িতে আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছেন।   হামলায় আহতদের কাছাকাছি মিনাব ও সিরিকের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।   এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।   সিরিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।   জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাতগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সিরিকের অবস্থান হওয়ায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬ ১৪:০
মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের
"চুপ করে থাকতে পারেনি" মাকে বাঁচাতে মায়ের বয়ফ্রেন্ডকে ছুরিকাঘাত ১২ বছরের ছেলের

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে মায়ের ওপর হামলা ঠেকাতে ছুরি হাতে এগিয়ে যায় ১২ বছরের এক কিশোর। প্রিন্স জর্জস কাউন্টির টেম্পল হিলসে শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মায়ের প্রেমিক তাকে গলা টিপে ধরার পর কিশোরটি রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে হামলাকারীকে ছুরিকাঘাত করে।    কিশোরটির নাম জেভিয়ার লেদারস। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় সে ঘুমিয়ে ছিল। হঠাৎ মায়ের চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখে, তার মায়ের প্রেমিক তাকে আক্রমণ করছেন।   মাকে বাঁচাতে জেভিয়ার রান্নাঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে ফিরে আসে এবং ওই ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করে। এতে হামলাকারী সামান্য আহত হন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির নাম ৪২ বছর বয়সী রনি ম্যাককেইন। তাকে গ্রেপ্তার করে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। চিকিৎসার পর তাকে আবার পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।    ঘটনার পর জেভিয়ার জানান, ওই মুহূর্তে তার একটাই চিন্তা ছিল, মাকে বাঁচানো। তিনি বলেন, সে সেখানে না থাকলে কী ঘটত, তা সে জানে না।   পরে পুলিশ কর্মকর্তারা জেভিয়ারের সাহসের প্রশংসা করেন। কিশোরটি জানায়, পুলিশ তাকে বলেছে যে সে ভালো কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে সে বলেছে, এত অল্প বয়সে তাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হওয়াটা উচিত ছিল না।    ঘটনাটি এখন তদন্ত করছে প্রিন্স জর্জস কাউন্টি পুলিশ। মায়ের ওপর হামলার পরিস্থিতি এবং ছুরিকাঘাতের পুরো ঘটনাক্রম নিয়েও তদন্ত চলছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের
নিরাপত্তা হুমকি কেটে যাওয়ায় মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের

সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার হুমকির কারণে মেক্সিকোর মেক্সিকালি শহরে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভ্রমণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মেক্সিকালিতে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলার কার্যক্রমও পুনরায় চালু হয়েছে।   গত ২৫ আগস্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির তথ্য পাওয়ার পর মেক্সিকালিতে ভ্রমণ স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে শুক্রবার এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।   মেক্সিকালির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় ‘লস রুসোস’ নামে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সশস্ত্র হামলার আশঙ্কা থেকেই সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।   মার্কিন দূতাবাস ওই সময় মেক্সিকালিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সরকারি ভবন এড়িয়ে চলা, কোনো ঘটনা ঘটলে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেয়।   তবে ভ্রমণ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলেও মেক্সিকালি ও আশপাশের বাজা ক্যালিফোর্নিয়া অঞ্চলের জন্য তৃতীয় স্তরের ভ্রমণ সতর্কতা বহাল রয়েছে। অপরাধ, অপহরণ ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের সেখানে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এর আগে মেক্সিকালিতে একটি গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিল জব্দ করে মেক্সিকান কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ফেন্টানিল জব্দ করা হয়, যা কর্তৃপক্ষের হিসাবে প্রায় ৪০ লাখ ডোজের সমপরিমাণ। এই ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য হামলার হুমকির তথ্য সামনে আসে।   যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর মেক্সিকালিতে সরকারি কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হয়েছে। তবে সীমান্তবর্তী এই শহরে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।   মেক্সিকালির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ক্যালেক্সিকোর ঠিক বিপরীতে। পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে খুব পরিচিত না হলেও সীমান্ত বাণিজ্য ও যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় শহরটিতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল
বাসায় যাওয়ার পথে নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা

নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটস থেকে নর্দার্ন বুলেভার্ডের বাসায় ফিরছিলেন ওয়াহেদ আলী মন্ডল। ৭১তম স্ট্রিট ও ৩৫তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছালে একটি রিহ্যাব সেন্টারের কর্নারে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ঘাড়, বুক, গলা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামলায় আহত ওয়াহেদ আলী মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াহেদ আলী মন্ডলের বড় ছেলে মোক্তার হোসেন তার বাবার ওপর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কী কারণে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।     ঘটনার পেছনে জাতিগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই হেইট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জ্যাকসন হাইটস ও এর আশপাশের এলাকা নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাংলাদেশির ওপর হামলার খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামলার কারণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনাটি কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ১১, ২০২৬ ১৪:০
কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী
কুমিরের কামড়ে পানির নিচে আটকা নারী, শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হলো ডান হাত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার রিভারে অ্যালিগেটরের ভয়াবহ হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন এক নারী। তবে হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা শেষে তিনি এখন বাড়িতে ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।   ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার, ৮ আগস্ট বিকেলে সিলভার রিভারের স্প্রিংস এলাকায় একদল মানুষ সাঁতার কাটার সময় অ্যালিগেটরটি হামলা চালায়। ওই নারী অ্যালিগেটরটিকে দূরে সরিয়ে দিতে একটি প্যাডেল দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন প্রাণীটি তার হাত কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়।   ঘটনার সময় কাছাকাছি একটি নৌকায় ছিলেন জন গামাশে ও তার বাবা। তারা হঠাৎ সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। পানির স্বচ্ছতার কারণে গামাশে অ্যালিগেটরটিকে দেখতে পান এবং দ্রুত নৌকা নিয়ে সাঁতারুদের কাছে পৌঁছান।   গামাশে পৌঁছানোর আগেই অ্যালিগেটরটি নারীকে ছেড়ে দেয়। নৌকার উপস্থিতিতেও সেটি দূরে সরে যায়। তবে ততক্ষণে ওই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার হাতে এতটাই ভয়াবহ আঘাত ছিল যে হাড় বেরিয়ে এসেছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে গামাশে জানান।   পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গামাশে নিজের নৌকার একটি দড়ি ব্যবহার করে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে তিনি ও তার বাবা অন্য সাঁতারু ও শিশুদেরও নৌকায় তুলে দ্রুত কাছের নৌকা নামানোর স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকে জরুরি সেবাকর্মীরা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠান।   পরদিন তার পরিবার জানায়, চিকিৎসার পর নারীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। হামলার কারণে তার ডান হাতের গুরুতর অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে।   ঘটনার পর ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কর্মকর্তারা ও একজন নিয়োগ করা অ্যালিগেটর ট্র্যাপার প্রাণীটিকে খুঁজতে অভিযান চালান। রোববার তারা প্রায় ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা অ্যালিগেটরটি শনাক্ত করে এলাকা থেকে সরিয়ে নেন।   হামলার পর সিলভার রিভার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অ্যালিগেটরটি সরিয়ে নেওয়ার পর ৯ আগস্ট নদীটি আবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।   সাম্প্রতিক সময়ে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় একাধিক অ্যালিগেটর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জুনে ম্যারিয়ন কাউন্টিসহ আশপাশের এলাকায় কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা নদী বা জলাশয়ে অ্যালিগেটর দেখা গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
নর্থ ক্যারোলাইনায় রাস্তায় একা নারী পেলেই করতেন হামলা, অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত
নর্থ ক্যারোলাইনায় রাস্তায় একা নারী পেলেই করতেন হামলা, অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় পথচারী নারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এক অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর এবার খোদ তার পরিবারই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডি-কুয়ান শাফার হান্ট (৩২) নামের ওই যুবক রাস্তায় অপরিচিত নারীদের ধাওয়া করা ও মারধরের ঘটনা নিজে ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন।   সম্প্রতি তার ধারণ করা এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে শার্লট শহরের পুলিশ। তবে তার অতীত অপরাধের রেকর্ড ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনে তার পুনরায় মুক্তির সম্ভাবনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা একাধিকবার পুলিশকে অনুরোধ করেছেন তাকে যেন রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।   হান্টের বোন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসওসি-কে (WSOC) জানান, তার ভাই সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে পরিবারকেও পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বোন আরও জানান, হান্ট এর আগেও পরিবারের সদস্যদের ওপর সহিংস আচরণ করেছে। পরিবার তাকে একাধিকবার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ওষুধ খেতে অস্বীকৃতি জানান।   পরিবারের ধারণা, হান্ট পিটিএসডি (PTSD) এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া তাকে পুনরায় মুক্তি দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একইসাথে আক্রান্ত নারীরা যেন তার ভাইয়ের এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার পান, সেই দাবিও জানিয়েছে হান্টের পরিবার।   ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হান্ট রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা এক অপ্রস্তুত নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় তাকে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বের কোনো ঘটনা নিয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়।   আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে ধাক্কা দিচ্ছেন এবং ম্যাকডোনাল্ডস নিয়ে অসংলগ্ন বকাবকি করতে করতে একটি গাড়ির চারপাশে তাকে ধাওয়া করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শার্লট শহরের ডিলওয়ার্থ এলাকায় সম্প্রতি প্রতিবেশীদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালাতেন হান্ট। তার নামে পূর্বে অন্তত নয়বার গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। জানা গেছে, হান্টের বোন নিজেই গত সোমবার হামলার ভিডিওগুলো প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দেন এবং বৃহস্পতিবার ভাইয়ের অবস্থান পুলিশকে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ৯, ২০২৬ ১৪:০
১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন বাবা
হামলায় স্ত্রী ও ৬ সন্তানকে হারিয়েছিলেন, এবার ১,৫০০ দম্পতির সঙ্গে আবার বিয়ে করলেন সেই বাবা

নাইজেরিয়ার কানোর গণবিয়েতে নতুন করে সংসার শুরু করলেন হারুনা বশির। চলতি বছরের শুরুতে এক ভয়াবহ হামলায় স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর কয়েক মাস পর ৮ আগস্ট আয়োজিত এই গণবিয়েতে তিনি আবার বিয়ে করেছেন। একই অনুষ্ঠানে মোট ১,৫০০ দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   কানো রাজ্যের গভর্নর আব্বা কবির ইউসুফের উদ্যোগে শুক্রবার ও শনিবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধবা, তরুণী ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারীদের বিয়েতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে।   বশিরের জন্য অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভয়াবহ পারিবারিক ক্ষতির পর নতুন করে জীবন শুরু করার একটি সুযোগ। কানো স্টেট হিসবাহ বোর্ডের কমান্ডার জেনারেল শেখ আমিনু ইব্রাহিম দাউরাওয়া জানান, ঘটনার পর বশির দীর্ঘ সময় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন না। তবে নতুন এই বিয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন।   গণবিয়েতে অংশ নেওয়া সব দম্পতির জন্য আগে স্ক্রিনিং ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে ধর্মীয় ও আইনি প্রয়োজনীয়তাও সম্পন্ন করা হয়েছে।   রাজ্য সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক কনে ২ লাখ নাইরা বা প্রায় ১৪৫ ডলার দেনমোহর হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে অর্থসহায়তা। নবদম্পতিদের বিছানা, ম্যাট্রেস, কম্বল, বেডশিট ও রাগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে।   কানো রাজ্য সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৪৪টি স্থানীয় সরকার এলাকাতেও একই সময়ে গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। গভর্নর ইউসুফ এই উদ্যোগকে সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বিয়ের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দুর্বল ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোই কর্মসূচির উদ্দেশ্য।   কানো নাইজেরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যগুলোর একটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র। সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও তরুণীদের সহায়তায় গণবিয়ের আয়োজন নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় এ ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে।   নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে কানো সরকারের গণবিয়ের কর্মসূচিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিয়ের খরচ কমানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।   হারুনা বশিরের জন্য অবশ্য এই আয়োজনের অর্থ আরও ব্যক্তিগত। স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর গভীর শোকের পর নতুন জীবন শুরু করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, ১,৫০০ দম্পতির এই গণবিয়ে তাঁর জীবনে হয়ে উঠেছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৮, ২০২৬ ১৪:০
ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান
ক্ষমা চাওয়ায় ইউক্রেনে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করল ইরান

৪ আগস্ট ২০২৬, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মহসেন রেজাই।    সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং উত্তেজনা কমানোর বার্তা পাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি।    গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইরান ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ ঘটনার জেরে তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায়।    অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে ব্যাখ্যা দেন এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে আহ্বান জানান। ইরানও আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করে।    তবে ইরানের দাবি করা হামলার পরিকল্পনা এবং তা বাতিলের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি এখনো মূলত ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাচ্ছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
গাড়ি বহর। ছবি:সংগৃহীত
সিলেটে এনসিপির গাড়িবহরে হামলা

হবিগঞ্জের ঘটনার একদিন পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপির দলীয় সূত্রের দাবি, ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে নেতাকর্মীরা বের হলে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এনসিপির অভিযোগ, এ হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন।   ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।”   তবে এনসিপির এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   উল্লেখ্য, এর আগে হবিগঞ্জেও এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরপর দুই জেলায় এমন ঘটনার অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

Unknown জুলাই ২৯, ২০২৬ ১৪:০
আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত
আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন’ বলে প্যারিসের রাস্তায় ৩ নারীকে ছুরিকাঘাত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দিনের আলোয় ছুরি হামলায় তিন নারী আহত হয়েছেন। সোমবার শহরের পোর্ত দ্য ক্লিশি  এলাকায় দুইটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। হামলায় আহত নারীদের বয়স ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর; তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হলেও প্রাণসংকটের বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।    ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, হামলার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিরোধ করেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুই হাতে বড় ছুরি নিয়ে এক নারীকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে আরও বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়।    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই ব্যক্তি “আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেছেন, আটক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল “অসংলগ্ন” এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।    ফরাসি জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রসিকিউটর দপ্তর ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে কি না, তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি।    ফরাসি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৭, ২০২৬ ১৪:০
হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি
হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক! উৎসবস্থলে ছুটোছুটি, সিয়াটেলে বন্দুক হামলায় হতাহত একাধিক

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটেল শহরে একটি উৎসব চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   সিয়াটেল সেন্টারে আয়োজিত একটি জনপ্রিয় খাদ্য উৎসব চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর উৎসবস্থলে থাকা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন।   ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।   উৎসবের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বন্দুক হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিয়াটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
হামলার পর টিয়ারগার্টেন এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছে জার্মান পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
জার্মানিতে সমকামীদের মিছিলে হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ।   বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান।   জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।   শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।   ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়।   জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে।   হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা
ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নিচ্ছেন ইসরায়েলিরা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।    ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।    অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা।    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে।    এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।    উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
হামলায় ওয়াইল্ডবেরিজ
ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ‘অ্যামাজন’ ওয়াইল্ডবেরিজের সরবরাহ নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ (Wildberries)–এর লজিস্টিক অবকাঠামো।   প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, ক্রাসনোদার ও নেভিনোমিস্ক শহরে অবস্থিত দুটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে।   এর আগেও জুলাই মাসে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়। ১৮ জুলাই তামবভ অঞ্চলের কোতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল–এ অবস্থিত দুটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। একই সময়ে একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন লজিস্টিক কেন্দ্র, যেখান থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করা হতো। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।   ওয়াইল্ডবেরিজ বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত এবং প্রতিদিন কোটি কোটি অর্ডার প্রক্রিয়াজাত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার ই-কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।   সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে শুধু গুদাম নয়, হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে।   রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে দুই পক্ষই এখন একে অপরের জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

বায়জিদ হাসান জুলাই ২১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

অ্যাপলের নির্দিষ্ট আইফোন মডেলের যোগ্য মালিকরা সেটেলমেন্টের অর্থ পেতে আবেদন করতে পারবেন

আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০