- প্রচ্ছদ
- Topic
হামলা
নিউইয়র্কের কুইন্সের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটসে হামলার শিকার হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ওয়াহেদ আলী মন্ডল। মঙ্গলবার দুপুরে বাসায় ফেরার পথে এক ব্যক্তি তার ওপর আকস্মিক হামলা চালায় বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহত অবস্থায় তাকে এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন হাইটস থেকে নর্দার্ন বুলেভার্ডের বাসায় ফিরছিলেন ওয়াহেদ আলী মন্ডল। ৭১তম স্ট্রিট ও ৩৫তম অ্যাভিনিউয়ের কাছে পৌঁছালে একটি রিহ্যাব সেন্টারের কর্নারে হঠাৎ এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারী ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ঘাড়, বুক, গলা ও মুখে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশে থাকা লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হামলায় আহত ওয়াহেদ আলী মন্ডলকে চিকিৎসার জন্য কুইন্সের এলমহার্স্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তার আঘাতের বিস্তারিত অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। ওয়াহেদ আলী মন্ডলের বড় ছেলে মোক্তার হোসেন তার বাবার ওপর হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাবার দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। হামলাকারী হিসেবে আটক ব্যক্তির পরিচয় এবং তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। একইভাবে কী কারণে ওয়াহেদ আলী মন্ডলের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে জাতিগত, ধর্মীয় বা অন্য কোনো বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্য ছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে এখনই হেইট ক্রাইম হিসেবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই। নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাটি হেইট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জ্যাকসন হাইটস ও এর আশপাশের এলাকা নিউইয়র্কের অন্যতম বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটির আবাসস্থল। এলাকাটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন রয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ বাংলাদেশির ওপর হামলার খবরে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি জানতে পুলিশের তদন্ত এবং আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামলার কারণ, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং ঘটনাটি কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ম্যারিয়ন কাউন্টির সিলভার রিভারে অ্যালিগেটরের ভয়াবহ হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন এক নারী। তবে হামলায় গুরুতরভাবে আহত হওয়ায় তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসা শেষে তিনি এখন বাড়িতে ফিরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার, ৮ আগস্ট বিকেলে সিলভার রিভারের স্প্রিংস এলাকায় একদল মানুষ সাঁতার কাটার সময় অ্যালিগেটরটি হামলা চালায়। ওই নারী অ্যালিগেটরটিকে দূরে সরিয়ে দিতে একটি প্যাডেল দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন। তখন প্রাণীটি তার হাত কামড়ে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ঘটনার সময় কাছাকাছি একটি নৌকায় ছিলেন জন গামাশে ও তার বাবা। তারা হঠাৎ সাহায্যের জন্য চিৎকার শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। পানির স্বচ্ছতার কারণে গামাশে অ্যালিগেটরটিকে দেখতে পান এবং দ্রুত নৌকা নিয়ে সাঁতারুদের কাছে পৌঁছান। গামাশে পৌঁছানোর আগেই অ্যালিগেটরটি নারীকে ছেড়ে দেয়। নৌকার উপস্থিতিতেও সেটি দূরে সরে যায়। তবে ততক্ষণে ওই নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার হাতে এতটাই ভয়াবহ আঘাত ছিল যে হাড় বেরিয়ে এসেছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল বলে গামাশে জানান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গামাশে নিজের নৌকার একটি দড়ি ব্যবহার করে ক্ষতস্থানে চাপ দিয়ে রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে তিনি ও তার বাবা অন্য সাঁতারু ও শিশুদেরও নৌকায় তুলে দ্রুত কাছের নৌকা নামানোর স্থানে নিয়ে যান। সেখান থেকে জরুরি সেবাকর্মীরা আহত নারীকে হাসপাতালে পাঠান। পরদিন তার পরিবার জানায়, চিকিৎসার পর নারীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বাড়িতে বিশ্রামে রয়েছেন। হামলার কারণে তার ডান হাতের গুরুতর অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। ঘটনার পর ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কর্মকর্তারা ও একজন নিয়োগ করা অ্যালিগেটর ট্র্যাপার প্রাণীটিকে খুঁজতে অভিযান চালান। রোববার তারা প্রায় ৯ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা অ্যালিগেটরটি শনাক্ত করে এলাকা থেকে সরিয়ে নেন। হামলার পর সিলভার রিভার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অ্যালিগেটরটি সরিয়ে নেওয়ার পর ৯ আগস্ট নদীটি আবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডায় একাধিক অ্যালিগেটর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জুনে ম্যারিয়ন কাউন্টিসহ আশপাশের এলাকায় কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা নদী বা জলাশয়ে অ্যালিগেটর দেখা গেলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনায় পথচারী নারীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এক অপরাধীকে গ্রেপ্তারের পর এবার খোদ তার পরিবারই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডি-কুয়ান শাফার হান্ট (৩২) নামের ওই যুবক রাস্তায় অপরিচিত নারীদের ধাওয়া করা ও মারধরের ঘটনা নিজে ভিডিও করে অনলাইনে ছড়িয়ে দিতেন। সম্প্রতি তার ধারণ করা এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেপ্তার করে শার্লট শহরের পুলিশ। তবে তার অতীত অপরাধের রেকর্ড ও মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে জামিনে তার পুনরায় মুক্তির সম্ভাবনায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। তারা একাধিকবার পুলিশকে অনুরোধ করেছেন তাকে যেন রাস্তা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। হান্টের বোন স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএসওসি-কে (WSOC) জানান, তার ভাই সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তা চরম সহিংসতায় রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে পরিবারকেও পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই বোন আরও জানান, হান্ট এর আগেও পরিবারের সদস্যদের ওপর সহিংস আচরণ করেছে। পরিবার তাকে একাধিকবার চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি ওষুধ খেতে অস্বীকৃতি জানান। পরিবারের ধারণা, হান্ট পিটিএসডি (PTSD) এবং বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছেন। যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া তাকে পুনরায় মুক্তি দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। একইসাথে আক্রান্ত নারীরা যেন তার ভাইয়ের এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার পান, সেই দাবিও জানিয়েছে হান্টের পরিবার। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হান্ট রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা এক অপ্রস্তুত নারীর ওপর অতর্কিত হামলা চালান এবং তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এ সময় তাকে ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বের কোনো ঘটনা নিয়ে চিৎকার করতে শোনা যায়। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি এক নারীকে ধাক্কা দিচ্ছেন এবং ম্যাকডোনাল্ডস নিয়ে অসংলগ্ন বকাবকি করতে করতে একটি গাড়ির চারপাশে তাকে ধাওয়া করছেন। পুলিশ জানিয়েছে, শার্লট শহরের ডিলওয়ার্থ এলাকায় সম্প্রতি প্রতিবেশীদের ওপরও এলোপাতাড়ি হামলা চালাতেন হান্ট। তার নামে পূর্বে অন্তত নয়বার গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে। জানা গেছে, হান্টের বোন নিজেই গত সোমবার হামলার ভিডিওগুলো প্রমাণ হিসেবে পুলিশের কাছে জমা দেন এবং বৃহস্পতিবার ভাইয়ের অবস্থান পুলিশকে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করেন।
নাইজেরিয়ার কানোর গণবিয়েতে নতুন করে সংসার শুরু করলেন হারুনা বশির। চলতি বছরের শুরুতে এক ভয়াবহ হামলায় স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর কয়েক মাস পর ৮ আগস্ট আয়োজিত এই গণবিয়েতে তিনি আবার বিয়ে করেছেন। একই অনুষ্ঠানে মোট ১,৫০০ দম্পতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কানো রাজ্যের গভর্নর আব্বা কবির ইউসুফের উদ্যোগে শুক্রবার ও শনিবার এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার বিধবা, তরুণী ও আর্থিকভাবে সংকটে থাকা নারীদের বিয়েতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে। বশিরের জন্য অনুষ্ঠানটি ছিল শুধু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভয়াবহ পারিবারিক ক্ষতির পর নতুন করে জীবন শুরু করার একটি সুযোগ। কানো স্টেট হিসবাহ বোর্ডের কমান্ডার জেনারেল শেখ আমিনু ইব্রাহিম দাউরাওয়া জানান, ঘটনার পর বশির দীর্ঘ সময় মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতেন না। তবে নতুন এই বিয়ের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন। গণবিয়েতে অংশ নেওয়া সব দম্পতির জন্য আগে স্ক্রিনিং ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে ধর্মীয় ও আইনি প্রয়োজনীয়তাও সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের অর্থায়নে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে প্রত্যেক কনে ২ লাখ নাইরা বা প্রায় ১৪৫ ডলার দেনমোহর হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ছোট ব্যবসা শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে অর্থসহায়তা। নবদম্পতিদের বিছানা, ম্যাট্রেস, কম্বল, বেডশিট ও রাগসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রীও দেওয়া হয়েছে। কানো রাজ্য সরকার জানিয়েছে, রাজ্যের ৪৪টি স্থানীয় সরকার এলাকাতেও একই সময়ে গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। গভর্নর ইউসুফ এই উদ্যোগকে সামাজিক সহায়তার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, বিয়ের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি দুর্বল ও সংকটে থাকা পরিবারগুলোকে সহায়তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়ানোই কর্মসূচির উদ্দেশ্য। কানো নাইজেরিয়ার সবচেয়ে জনবহুল রাজ্যগুলোর একটি এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি সংস্কৃতির কেন্দ্র। সেখানে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও তরুণীদের সহায়তায় গণবিয়ের আয়োজন নতুন নয়। কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রশাসনের সময় এ ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারের জন্য বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই পরিস্থিতিতে কানো সরকারের গণবিয়ের কর্মসূচিকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিয়ের খরচ কমানোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য কর্মসংস্থান, আয় বৃদ্ধি এবং অন্যান্য সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। হারুনা বশিরের জন্য অবশ্য এই আয়োজনের অর্থ আরও ব্যক্তিগত। স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে হারানোর গভীর শোকের পর নতুন জীবন শুরু করার যে সুযোগ তিনি পেয়েছেন, ১,৫০০ দম্পতির এই গণবিয়ে তাঁর জীবনে হয়ে উঠেছে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
৪ আগস্ট ২০২৬, কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনের অভ্যন্তরে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইরান। তবে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ নেওয়ার পর সেই পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয় বলে দাবি করেছেন ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই বলেন, ইউক্রেনের তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ইউক্রেনের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং উত্তেজনা কমানোর বার্তা পাওয়ার পর সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হন। ইরান ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করে এবং ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন ও আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দেয়। এ ঘটনার জেরে তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানায়। অন্যদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা জানান, তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ঘটনাটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে ব্যাখ্যা দেন এবং পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, সে আহ্বান জানান। ইরানও আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি উত্থাপন করে। তবে ইরানের দাবি করা হামলার পরিকল্পনা এবং তা বাতিলের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি এখনো মূলত ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই জানা যাচ্ছে।
হবিগঞ্জের ঘটনার একদিন পর এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চৌমুহনী এলাকায় পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপির দলীয় সূত্রের দাবি, ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে নেতাকর্মীরা বের হলে তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এনসিপির অভিযোগ, এ হামলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়িত ছিলেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।” তবে এনসিপির এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হামলায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগে হবিগঞ্জেও এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরপর দুই জেলায় এমন ঘটনার অভিযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে দিনের আলোয় ছুরি হামলায় তিন নারী আহত হয়েছেন। সোমবার শহরের পোর্ত দ্য ক্লিশি এলাকায় দুইটি রান্নাঘরের ছুরি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। হামলায় আহত নারীদের বয়স ১৯, ২৪ ও ৩৬ বছর; তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হলেও প্রাণসংকটের বাইরে রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, হামলার সময় উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে হামলাকারীকে প্রতিরোধ করেন। পরে দায়িত্বের বাইরে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করেন। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি দুই হাতে বড় ছুরি নিয়ে এক নারীকে আক্রমণের চেষ্টা করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দ্রুত হস্তক্ষেপে আরও বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা এড়ানো সম্ভব হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই ব্যক্তি “আল্লাহ আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন” বলে চিৎকার করেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেছেন, আটক ব্যক্তির বক্তব্য ছিল “অসংলগ্ন” এবং তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফরাসি জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিষয়ক প্রসিকিউটর দপ্তর ঘটনাটি সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত তদন্তের আওতায় নেওয়া হবে কি না, তা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে প্যারিসের প্রসিকিউটর কার্যালয় হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং মানসিক অবস্থাসহ বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত হামলার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চিত করেনি। ফরাসি কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শ বা সংগঠনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না বলে তারা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটেল শহরে একটি উৎসব চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে উৎসবে থাকা মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। সিয়াটেল সেন্টারে আয়োজিত একটি জনপ্রিয় খাদ্য উৎসব চলার সময় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা একের পর এক গুলির শব্দ শুনতে পান। এরপর উৎসবস্থলে থাকা মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার উদ্দেশ্য, হামলাকারীর পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। উৎসবের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বন্দুক হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সিয়াটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন যানবাহনে হামলা এবং একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, সালফিত ও কালকিলিয়া গভর্নরেটকে সংযুক্তকারী সড়কে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করে ফিলিস্তিনিদের চলাচলকারী একাধিক গাড়িতে পাথর ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। এতে কয়েকটি গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওয়াফা আরও জানায়, কালকিলিয়ার পূর্বাঞ্চলের আন-নবি ইলিয়াস গ্রামের প্রবেশপথে ইসরায়েলি বাহিনী একটি লোহার গেট বন্ধ করে রেখেছে। এতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলে উল্লেখযোগ্য বাধার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে, তুবাসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খিরবেত আল-রাস আল-আহমার এলাকায় এক ফিলিস্তিনির ব্যক্তিগত গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মানবাধিকারকর্মী আরেফ দারাঘমেহ ওয়াফাকে জানান, ফিলিস্তিনি নাগরিক সুলেইমান জামিল বানি ওদেহকে আটকে রেখে তার ব্যক্তিগত গাড়িটি নিয়ে যায় বসতি স্থাপনকারীরা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি ও যানবাহনে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের একাধিক ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে, রয়টার্সের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলায় শত শত ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম তীরে নিহত ফিলিস্তিনিদের একটি অংশ বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে ওই ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন অবৈধ বলে জাতিসংঘসহ অধিকাংশ দেশ মনে করলেও ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় আবারও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ (Wildberries)–এর লজিস্টিক অবকাঠামো। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তাতিয়ানা কিম জানিয়েছেন, ক্রাসনোদার ও নেভিনোমিস্ক শহরে অবস্থিত দুটি বড় গুদামে হামলা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। এর আগেও জুলাই মাসে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলো একাধিকবার হামলার শিকার হয়। ১৮ জুলাই তামবভ অঞ্চলের কোতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্টাল–এ অবস্থিত দুটি লজিস্টিক কেন্দ্রে ড্রোন হামলায় কয়েকজন কর্মী নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। একই সময়ে একটি তেল ডিপোতেও আগুন লাগে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছিলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল এমন লজিস্টিক কেন্দ্র, যেখান থেকে রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদন ও নেভিগেশন সরঞ্জামের জন্য বিভিন্ন উপাদান সরবরাহ করা হতো। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ওয়াইল্ডবেরিজ একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। ওয়াইল্ডবেরিজ বর্তমানে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেটপ্লেস। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১০ লাখেরও বেশি বিক্রেতা যুক্ত এবং প্রতিদিন কোটি কোটি অর্ডার প্রক্রিয়াজাত হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার ই-কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এর লজিস্টিক নেটওয়ার্ক দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ফলে শুধু গুদাম নয়, হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীর পণ্য সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, প্রতিষ্ঠানটি পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের তৃতীয় বছরে দুই পক্ষই এখন একে অপরের জ্বালানি, পরিবহন ও সরবরাহ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর ফলে যুদ্ধের প্রভাব সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবকাঠামোতেও ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
রাশিয়া সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই হামলায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন ব্যবহার করে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অনেক ড্রোন ভূপাতিত করলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে রাজধানীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হামলার পর বলেন, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি ন্যাটো মিত্রদের প্রতি দ্রুত অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান। এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। ইউক্রেন আশা করছে, সম্মেলনে দেশটির জন্য নতুন সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা এবং সাধারণ নাগরিকরা। এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও সংঘাতের তীব্রতা কমেনি। বরং ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে সংঘটিত এই বড় হামলা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য কী ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার ঘোষণা আসে, সেদিকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতির সময় সিবিএস নিউজ শিকাগোর এক সংবাদদলের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই দিন পরে ওই তিন ব্যক্তি শিকাগোর আরেকটি এলাকায় পথচারীদের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ। সিবিএস নিউজ শিকাগো ও শিকাগো পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার কিছু আগে অ্যাডলার প্ল্যানেটারিয়ামের কাছে ইস্ট সলিডারিটি ড্রাইভ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় একজন প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী বিকেল ৪টার সংবাদ বুলেটিনের জন্য সরাসরি সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের টো ট্রাক এসে তাদের সংবাদভ্যানের সামনে থামে। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাক থেকে নেমে আসা তিনজনের একজন একটি কুকুর নিয়ে সংবাদকর্মীদের দিকে এগিয়ে যান এবং আলোকচিত্রীকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে তিনি কুকুরটিকে হামলার নির্দেশ দিলেও কুকুরটি তা মানেনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাদের একজন বলেন, হামলাকারীরা কোনো কারণ ছাড়াই সংবাদকর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি ও তার স্ত্রী পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে আলোকচিত্রী একটি ভাঁজ করা স্টুল দিয়ে হামলাকারীকে আঘাত করেন। তবে তাতেও হামলাকারী থামেননি। এরপর অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন একটি পার্কিং কোন দিয়ে সংবাদভ্যানের সামনের কাচ ভেঙে ফেলেন এবং ক্যামেরাও ক্ষতিগ্রস্ত করেন। পরে তারা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। হামলার ঘটনায় প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রী শারীরিকভাবে আহত না হলেও সংবাদ সরঞ্জামের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর শিকাগোর ব্রাইটন পার্ক এলাকায় পুলিশ একই টো ট্রাকটি শনাক্ত করে। পুলিশ জানায়, তখন ওই তিন ব্যক্তি সড়কের পাশে থাকা কয়েকজন মানুষের দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ তাদের আটক করার চেষ্টা করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে একটি পুলিশ গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষের পর তিনজনকে আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার সময় সঙ্গে থাকা কুকুরটি পালিয়ে যায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুকুরটিকে উদ্ধার করা গেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। গ্রেপ্তার হওয়া ৩৭ বছর বয়সী জন টুইস্টের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ, সম্পত্তি নষ্ট এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ৪১ বছর বয়সী উইলিয়াম হুয়ের্তার বিরুদ্ধে পুলিশের ধাওয়া এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা, ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের দুই সরকারি কর্মচারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং দুর্ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগ মূলত ব্রাইটন পার্কের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া ২৯ বছর বয়সী রাফায়েল সালিনাসের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যকে আহত করা, ১০ হাজার থেকে ১ লাখ মার্কিন ডলারের মধ্যে সম্পদের ক্ষতি, বেপরোয়া আচরণ এবং গ্রেপ্তার প্রতিরোধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে আরও জানা গেছে, তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেই অতীতে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ ছিল। সিবিএস নিউজ শিকাগোর তথ্য অনুযায়ী, জন টুইস্ট অতীতে অপহরণ-সংক্রান্ত একটি মামলায় দোষ স্বীকার করেছিলেন এবং দুর্ঘটনায় পড়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে পরিচালিত একটি প্রতারণামূলক টো ট্রাক চক্রের মামলায়ও কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। এক নারীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সুরক্ষা আদেশও জারি হয়েছিল। উইলিয়াম হুয়ের্তার বিরুদ্ধে আগে প্রথম-ডিগ্রি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে গুরুতর হামলার দায়ে তিনি ছয় বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। অন্যদিকে রাফায়েল সালিনাসের বিরুদ্ধে মে মাসে হিট অ্যান্ড রান ঘটনার পর পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তদন্তকারীদের ধারণা, এই তিনজন অতীতেও টো ট্রাক ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তাদের আটকাদেশ-সংক্রান্ত শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হবে। ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
পাকিস্তানের করাচি শহরে আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় ভারতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, করাচির ঘটনাকে ঘিরে ভারতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি পাকিস্তানকে উদ্দেশ করে বলেন, “অন্যের দিকে আঙুল তোলার আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়া উচিত।” ভারতীয় মুখপাত্র আরও দাবি করেন, পাকিস্তানের উচিত তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে ইসলামাবাদের সরে আসা প্রয়োজন। এর আগে করাচিতে হামলার পর পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই এই ঘটনায় ভারতের গোপন সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিকে করাচির ওই হামলার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের পূর্ব সীমান্তে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন, পাক্তিয়া, পাক্তিকা ও কুনার প্রদেশে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ২৫ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে নিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় পদাতিক বাহিনীর স্থল অভিযানও পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উল-আহরারের আস্তানাগুলো লক্ষ্যবস্তু ছিল। গত শনিবার করাচিতে রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালায় একদল সশস্ত্র হামলাকারী। পরে জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীটি এই হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তাদের নয়জন সদস্য এতে অংশ নেয়। এই হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলিতে রেঞ্জার্সের তিন সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হন। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পাল্টা অভিযানে তিন হামলাকারী নিহত হয়েছে এবং একজন আফগান নাগরিককে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান প্রশাসন তাদের দেশে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনার জেরে গত বছরের অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত কার্যত বন্ধ রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। করাচির হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তান পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এবং আফগান সীমান্তে নতুন সামরিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
মিয়ানমারে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের পরবর্তী ছয় মাসে সামরিক জান্তা সরকারের হামলায় ৭০০ জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে অন্তত ৭০২ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। নিহতদের মধ্যে ২২৪ জন নারী এবং ১৫৩ জন শিশু রয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে। জাতিসংঘ বলছে, প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাদ দিয়ে আয়োজিত সাম্প্রতিক নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে এবং অনেকেই একে প্রহসন হিসেবে দেখছেন। এই প্রেক্ষাপটে দেশের ভেতরে সহিংসতা ও দমন-পীড়ন আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ব সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, জান্তা বাহিনীর নির্বিচার বিমান হামলা বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব হামলায় ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, প্রাণহানি ঘটছে এবং মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে সাগাইং অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সামরিক অভিযানে অন্তত ১৯১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত অক্টোবর মাসে সাগাইংয়ের চাউং-উ এলাকায় একটি বিদ্যালয়ের সামনে চলমান এক উৎসবমুখর অনুষ্ঠানে বিমান হামলা চালানো হয়। এতে চার শিশুসহ ২৩ জন নিহত হন। একইভাবে ডিসেম্বর মাসে তাবায়িন এলাকায় একটি চা দোকানে ফুটবল ম্যাচ দেখার সময় চালানো হামলায় প্রাণ হারান আরও ১৯ জন। এছাড়া রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি-এর পক্ষ থেকে জোরপূর্বক সদস্য সংগ্রহের অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, মিয়ানমারের মানুষ একদিকে নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ থেকেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায় স্থানীয় জনগণের সংকট আরও গভীর হয়েছে। পাঁচ বছর আগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-কে আটক করে ক্ষমতা দখল করে সামরিক জান্তা। এরপর থেকে দেশটিতে জরুরি আইন জারি, বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে দমন অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে অভ্যুত্থানের প্রধান সেনা কর্মকর্তা মিন অং হ্লাইং নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। তার সমর্থিতদের নিয়ে গঠিত নতুন সংসদে জান্তা-সমর্থিত দল ইউএসডিপি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের চলমান সংকট কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিচ্ছে। দ্রুত কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: বিবিসি
রাশিয়ার ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এসব আঘাত সত্ত্বেও পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (১২ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। রাশিয়ার নিজনেকামস্কের একটি বড় তেল শোধনাগারে হামলার দাবির পর পুতিন এ মন্তব্য করেন। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের এই হামলাগুলো সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারবে না এবং অর্থনীতিও দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে। পুতিন বলেন, “তারা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করছে, তবে আমরা এটি কাটিয়ে উঠব। এসব হামলার লক্ষ্য সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করা।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে তেল শোধনাগার, জ্বালানি ডিপো ও পাইপলাইনগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবং পূর্বাঞ্চলের ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতি কিছুটা ধীর হয়ে পড়ায় এসব হামলা মস্কোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া প্রতিদিন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের শহরগুলো ধ্বংস করছে। এর জবাব হিসেবেই তারা রাশিয়ার ভেতরে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। এছাড়া অধিকৃত ক্রিমিয়াতেও সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইউক্রেন। জ্বালানি বহনকারী ট্রাক ও অবকাঠামোতে হামলার কারণে সেখানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা ২০১৪ সালে রাশিয়া উপদ্বীপটি দখলের পর সবচেয়ে গুরুতর বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ জানিয়েছে, ইউক্রেনের দূরপাল্লা ও মধ্যপাল্লার হামলার মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। দূরপাল্লার আঘাতে রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা কমছে, আর মধ্যপাল্লার হামলায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি দাবি করেছেন, মে মাসে রাশিয়ার দখল করা এলাকার চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন। এতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার অগ্রগতির ধারায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের শ্রীভপোর্ট শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৮ শিশু নিহত হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে পারিবারিক কলহের জেরে তিনটি ভিন্ন স্থানে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড চালায় এক বন্দুকধারী। পরে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সন্দেহভাজন ওই হামলাকারীও নিহত হয়। শ্রীভপোর্ট পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ জানিয়েছেন, নিহত শিশুদের বয়স ১ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। পারিবারিক ঝগড়া বা অভ্যন্তরীণ কোনো সমস্যার কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিতে মোট ১০ জন আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ৮ জনই শিশু। হামলায় আহত দুই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলাকারী রোববার ভোরে তিনটি পৃথক বাড়িতে গিয়ে এই গুলি চালায়। এরপর একটি গাড়ি চুরি করে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশের সাথে তার সংঘর্ষ বাধে। পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়।তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, নিহত শিশুদের কয়েকজন হামলাকারীর আত্মীয় ছিল। পুলিশ প্রধান ওয়েন স্মিথ এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও অত্যন্ত ভয়াবহ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের অভিজ্ঞতায় এর আগে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য আমরা কখনো দেখিনি।" লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটি তদন্ত করছে। এখনো পর্যন্ত হামলাকারীর পরিচয় বা হামলার সঠিক কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বন্দুক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দেশটিতে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটির অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মিডটাউন ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকালে সাবওয়ে প্ল্যাটফর্মে এক ব্যক্তি বড় আকৃতির ছুরি (ম্যাশেটি) নিয়ে হামলা চালিয়ে তিনজনকে আহত করেছেন। পরবর্তীতে পুলিশের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। নিউ ইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (NYPD) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারী ব্যক্তি প্রথমে একটি সাবওয়ে ট্রেনের ভেতর অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। এরপর তিনি ট্রেন থেকে নেমে প্ল্যাটফর্মে আসেন এবং হাতে থাকা বড় ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে শুরু করেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীকে অস্ত্র নামিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি নির্দেশ অমান্য করে পুলিশের দিকে তেড়ে এলে কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৪ ও ৬৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ এবং ৭০ বছর বয়সী এক নারী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘বিবেচনাহীন সহিংসতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীকে প্রতিহত করার জন্য সাহসী পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নিহত হামলাকারীর বিরুদ্ধে আগেও বেশ কিছু অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এর আগেও তাকে বিভিন্ন সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সাথে কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই স্টেশনে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল কেন্দ্র খারগ দ্বীপে হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হলে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনায় এটি একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে খারগ দ্বীপে হামলার ঘটনা ঘটলেও সেগুলো মূলত সামরিক স্থাপনাকে ঘিরে ছিল। তবে এবারের হামলায় যদি তেল সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকে, তাহলে তা ইরানের অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল রপ্তানি এই দ্বীপের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। এদিকে, ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে। হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ইরানের জ্বালানি খাতে এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি ও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন, কারাজে হামলায় ইরানের সবচেয়ে উঁচু সেতু বি ওয়ান ধ্বংস করা হয়েছে। হামলার পর ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি পাঁচ সপ্তাহের এই সংঘাত বন্ধ করতে আলোচনায় না আসে, তবে আরও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও বার্তা সংস্থা ফারস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুটির অবস্থান আলবোরজ প্রদেশের কারাজে। আলবোরজ প্রদেশের উপগভর্নর গোদরাতুল্লাহ সাইফ জানান, হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত এবং ৯৫ জন আহত হয়েছেন। হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, কারণ সংবাদমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে ধোঁয়া উঠতে দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধসে পড়েছে, যা আর কখনো ব্যবহারযোগ্য হবে না। সামনে আরও অনেক কিছু ঘটবে। ইরানের জন্য দেরি হয়ে যাওয়ার আগে চুক্তিতে আসার সময় এসেছে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন, “অসমাপ্ত সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মধ্য দিয়ে ইরানিদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যাবে না। বরং এটি শত্রুর বিশৃঙ্খল অবস্থা ও নৈতিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।” ফারস নিউজ জানিয়েছে, বি ওয়ান সেতুটি নির্মাণাধীন ছিল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে উঁচু সেতু হিসেবে পরিচিত। এর একটি স্তম্ভের উচ্চতা ৪৪৭ ফুট (১৩৬ মিটার)। এর আগে ট্রাম্প গত বুধবার এক ভাষণে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রায় শেষের পথে। তবে তিনি সতর্ক করেছেন, ইরান শর্ত মানা পর্যন্ত দেশটির ওপর ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলা চালানো হবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে তার হাত ও পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুক্তিযোদ্ধার নাম অহিদুজ্জামান নাইম (৭২)। তিনি উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, জমির মাপজোখ সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাইমের সালিশ চলছিল। একপর্যায়ে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তাঁকে রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, তুহিনের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে আগেও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পরে স্থানীয়রা আহত মুক্তিযোদ্ধাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানিয়েছেন, আহতের অবস্থা গুরুতর ও সংকটাপন্ন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে গেছে এবং মাথার পেছনে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। আহত মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সালিশ থেকে বের হওয়ার পর তুহিন ও তার সহযোগীরা আমাকে ঘিরে ফেলেছিল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে। অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাসান আলী জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।