ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার বছর বয়সী এক শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫০ থেকে ৬৮ জন। ঘটনাটি হরমুজ প্রণালির কাছে হওয়ায় নতুন করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সিরিকের উপকূলীয় এলাকায় বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে একটি আবাসিক ভবনে হামলা হয় বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট। তাদের দাবি, মার্কিন হামলার পর ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ ওই বাড়িতে আঘাত হানে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
ইরানের আধা-সরকারি মেহর সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। রেড ক্রিসেন্টের হিসাবে আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। তবে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এক প্রাদেশিক কর্মকর্তা আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছেন।
হামলায় আহতদের কাছাকাছি মিনাব ও সিরিকের হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এসব হামলায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।
এর জবাবে ইরান জর্ডান, ইরাক ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তবে এসব হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত হওয়ার বিষয়ে ইরানের দাবি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।
সিরিকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলেছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের ভাষ্য, বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার জবাব দেওয়া হবে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দায় স্বীকার বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
জুলাইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরাসরি সামরিক সংঘাতগুলোর একটি। কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর দুই দেশের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি সিরিকের অবস্থান হওয়ায় ঘটনাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বিশ্ব
View moreনরওয়ের রাজপরিবারে নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম সিংহাসনে বসায় ২২ বছর বয়সী ক্রাউন প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা এখন নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। ভবিষ্যতে তিনি রাজা হলে দেশটির ৬০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে প্রথম নারী শাসক হবেন। ১ সেপ্টেম্বর নরওয়ের পার্লামেন্ট স্টোরটিংয়ে নতুন রাজা হাকন অষ্টম সংবিধানের প্রতি আনুগত্যের শপথ নেন। এর চার দিন আগে, ২৮ আগস্ট রাজা হ্যারাল্ড পঞ্চমের মৃত্যুর পর হাকন নরওয়ের নতুন রাজা হন। শপথ অনুষ্ঠানে বাবার পাশে ছিলেন ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা। বাবার শপথের পর তিনি লিখিত একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে তাঁর উত্তরাধিকারীর অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়। ফলে রাজা হাকন ভ্রমণে থাকলে, অসুস্থ হলে বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকলে ইনগ্রিড আইন অনুযায়ী রিজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকারী হওয়াটিও ঐতিহাসিক। নরওয়ের আধুনিক রাজতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নতুন উত্তরাধিকারী প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হয়েছেন। তাঁর বাবা হাকন ও দাদা হ্যারাল্ড তাঁদের বাবারা রাজা হওয়ার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। ইনগ্রিডের উত্তরাধিকার নিশ্চিত হওয়ার পেছনে নরওয়ের ১৯৯০ সালের উত্তরাধিকার আইনও গুরুত্বপূর্ণ। ওই পরিবর্তনের পর সিংহাসনের ক্ষেত্রে ছেলে সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নিয়ম বাতিল হয়ে বড় সন্তানকেই উত্তরাধিকারী করার বিধান চালু হয়। ফলে ইনগ্রিডের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভের্রে ম্যাগনুস জন্ম নেওয়ার পরও তিনি উত্তরাধিকারীর অবস্থান হারাননি। ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রা সিংহাসনে বসলে নরওয়ের ইতিহাসে ৬০০ বছরেরও বেশি সময় পর কোনো নারী আবার দেশটির শাসক হবেন। সর্বশেষ নারী শাসক ছিলেন কুইন মার্গারেট, যিনি ১৩৮৮ থেকে ১৪১২ সাল পর্যন্ত শাসন করেছিলেন। ইনগ্রিড বর্তমানে শিক্ষার্থী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। পরে দেশে ফিরে ইউনিভার্সিটি অব অসলোতে পড়াশোনা শুরু করেন। ইউরোপের ভবিষ্যৎ নারী শাসকদের সঙ্গেও ইনগ্রিডের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। বেলজিয়ামের প্রিন্সেস এলিজাবেথ ও নেদারল্যান্ডসের প্রিন্সেস ক্যাথারিনা-আমালিয়ার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব রয়েছে। তিনজনই নিজ নিজ দেশের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী। রাজপরিবারের এই নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইনগ্রিড আলেক্সান্দ্রার অবস্থান তাই শুধু নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবেই নয়, ইউরোপের রাজতন্ত্রে পরিবর্তনশীল নেতৃত্বেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, শিশুসহ নিহত ৫
গোপন ক্যামেরায় স্ত্রীর পরকীয়ার প্রমাণ, গোপনীয়তা নষ্ট করায় উল্টো স্বামীকেই জেলে পাঠাল আদালত!
অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চলবে: ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা, জবাবে ৪ মার্কিন ঘাঁটিতে তেহরানের পাল্টা হামলা
ইরানিদের বিশ্বাস করা যায় না, মিথ্যা বলা তাদের ধর্মের অংশ: মার্কিন স্পিকার মাইক জনসন
এবারের গরমে জার্মানিতে ১৫ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু
১৯৯৭ সালে ওমরা করতে সৌদি আরবের মদিনায় গিয়ে মসজিদে নববীর সাউন্ড সিস্টেমে একটি সমস্যা চোখে পড়ে তুরস্কের অডিও ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ টেকিন টুপুজদাগের। ইমামের কণ্ঠ স্পষ্টভাবে শোনা যাচ্ছিল না, ছিল অতিরিক্ত প্রতিধ্বনি ও শব্দের প্রতিক্রিয়া। সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগই পরে তাকে পবিত্র দুই মসজিদের সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের দীর্ঘ ১০ বছরের কাজে যুক্ত করে। মসজিদে নববীর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কথা বলে নিজের পদ্ধতি পরীক্ষা করার সুযোগ পান টুপুজদাগ। একটি নির্দিষ্ট অংশে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর শব্দের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যায়। এরপর পুরো সাউন্ড সিস্টেম উন্নয়নের কাজে তাকে যুক্ত করা হয়। পরবর্তী এক দশকে মসজিদে নববীর অডিও ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। মাইক্রোফোন, কেবল, স্পিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবর্তন ও সমন্বয় করা হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের কণ্ঠের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী সাউন্ড সেটিংও আলাদাভাবে সমন্বয় করা হয়। শব্দের প্রতিধ্বনি ও ফিডব্যাক কমানোর পাশাপাশি পুরো মসজিদকে সাতটি অডিও জোনে ভাগ করা হয়। নামাজের বিভিন্ন অবস্থায়ও যেন ইমামের কণ্ঠ মুসল্লিদের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়, সে জন্য অতিরিক্ত মাইক্রোফোন ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়। মসজিদে নববীর পাশাপাশি মক্কার মসজিদুল হারামের সাউন্ড সিস্টেম নিয়েও কাজ করেন টুপুজদাগ। তার কাজের ফলে সাউন্ডের স্বচ্ছতা বাড়ে এবং বিস্তৃত ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জে শব্দ পৌঁছানোর সক্ষমতা উন্নত হয় বলে প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরব ছাড়ার আগে টুপুজদাগ স্থানীয় সৌদি প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদেরও প্রশিক্ষণ দেন। পরবর্তীতে তারা দেশটির বিভিন্ন মসজিদের অডিও সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যুক্ত হন। একটি ওমরা সফরে গিয়ে সাউন্ডের একটি সমস্যা চোখে পড়া থেকে শুরু হয়েছিল যে উদ্যোগ, সেটিই শেষ পর্যন্ত মসজিদে নববী ও মসজিদুল হারামের অডিও ব্যবস্থা উন্নয়নের এক দশকের দীর্ঘ প্রকল্পে পরিণত হয়।
যুদ্ধ ভুলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান
বকেয়া বিল না দেওয়ায় তরুণীর মাথা ন্যাড়া, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ল সামাজিক মাধ্যমে