অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেলস্ট্রার নেটওয়ার্কে সময়-সমন্বয় প্রযুক্তির একটি সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে দেশজুড়ে বড় ধরনের সেবা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বুধবারের এই ঘটনায় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, জরুরি সেবা, ট্রেন চলাচল এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, সিডনি ও মেলবোর্নের কয়েকটি ডেটা সেন্টারে সময়-সমন্বয় ব্যবস্থার সফটওয়্যারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সমন্বয় নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রভাব দ্রুত দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো গ্রাহক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এই বিপর্যয়ের কারণে অনেক এলাকায় মোবাইল ফোনে কল করা বা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। ইন্টারনেট সেবাও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। জরুরি নম্বরে ফোন করতেও অনেক ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতেও। বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেন চলাচল বিলম্বিত হয় এবং কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। একই সময়ে বহু দোকান, রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কার্ডের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। টেলস্ট্রা জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো সাইবার হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে একটি প্রযুক্তিগত সফটওয়্যার ত্রুটির ফল। প্রতিষ্ঠানটি সমস্যার উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সমাধানের কাজ শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর ধীরে ধীরে অধিকাংশ সেবা স্বাভাবিক করা হয়। গ্রাহকদের সংযোগে সমস্যা থাকলে মোবাইল ফোন পুনরায় চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে একটি সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে জাতীয় পর্যায়ে এত বড় যোগাযোগ বিপর্যয় ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর ওয়াইয়ংয়ে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির মায়ের বিরুদ্ধে তাকে হত্যার পাশাপাশি মরদেহ বিকৃত করার অভিযোগ এনেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনার আগে পরিবারটি সম্পর্কে একাধিক সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্বাধীন তদন্ত শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ জানায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার দিকে ৩২ বছর বয়সী ওই নারী নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ওয়াইয়ংয়ের বাইরন স্ট্রিটের একটি বাসভবনে অভিযান চালায়। সেখানে চার বছর বয়সী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, শিশুটি কয়েক দিন আগেই মারা গিয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে বর্ণনা করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট চ্যাড গিলিস বলেন, শিশুহত্যার প্রতিটি ঘটনাই একটি পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তাই সব প্রমাণ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রবিবার সকালে ওই নারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে তার লালা, রক্ত, নখের নমুনা এবং অন্যান্য ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। আইনি কারণে অভিযুক্ত নারী এবং নিহত শিশুর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবারটি এর আগে একাধিকবার ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটিজ অ্যান্ড জাস্টিস-এর সঙ্গে যোগাযোগে ছিল। প্রতিবেশীরাও শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ অভিযোগটি প্রায় ১৮ মাস আগে দায়ের করা হয়েছিল। এদিকে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত নারীর অতীতে পারিবারিক সহিংসতা, মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত সমস্যার ইতিহাস ছিল। এমনকি তার নিজের মা-ও একসময় আদালতের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সুরক্ষামূলক আদেশ নিয়েছিলেন। এসব তথ্য প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে, এত সতর্কবার্তার পরও কেন শিশুটি তার মায়ের সঙ্গেই বসবাস করছিল। নিউ সাউথ ওয়েলসের পরিবার ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী কেট ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় একটি স্বাধীন পর্যালোচনা পরিচালনা করা হবে। সেখানে খতিয়ে দেখা হবে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো যথাসময়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি বলেন, "এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য হলো কী ঘটেছিল, কখন কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তগুলো যথাযথ ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা।" সরকার জানিয়েছে, সাবেক শিশু আদালতের বিচারক পিটার জনস্টোন এই স্বাধীন তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। ঘটনার পর ওয়াইয়ং শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশুটির স্মরণে এক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানে ফুল, মোমবাতি ও খেলনা রেখে তাকে শ্রদ্ধা জানান অনেকে। অনুষ্ঠানে 'ফরএভার ইয়াং' গান বাজানো হয় এবং উপস্থিত অনেকেই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আয়োজক হেইলি ডিকিনসন বলেন, শিশুটিকে রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারত। আরেক বাসিন্দা ব্রেন্টন হালম বলেন, এই ঘটনা পুরো এলাকাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে। শিশুটির পরিচিত হার্লে চিসলেট জানান, শিশুটি ছিল প্রাণবন্ত ও হাসিখুশি। তিনি বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে বাড়ি থেকে কিছু চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছিলেন, তবে সেটিকে সাধারণ পারিবারিক ঝগড়া বলেই মনে করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিগগিরই ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত নারী আদালতে হাজির হবেন।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকারের নেওয়া ৫ শতাংশ ডিপোজিট বা জামানত ব্যবস্থার নতুন নিয়মের কারণে বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছেন উচ্চ আয়ের ধনী ব্যক্তিরা। দেশটির বর্তমান লেবার সরকার উচ্চ আয়ের মানুষদের জন্য থাকা আগের আয়ের সীমা বা ক্যাপ তুলে নেওয়ার পর থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন এমন সব মানুষও সরকারি সহায়তায় মাত্র ৫ শতাংশ জামানত দিয়ে বাড়ি কিনছেন, যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলার বা তার চেয়েও বেশি। আগের ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকার স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রথম বাড়ি কেনার সুবিধার্থে এই নিয়ম চালু করেছিল। সেই নিয়মে বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সরকার মর্টগেজ বা গৃহঋণের বীমার খরচ নিজে বহন করত। কিন্তু গত বছর বর্তমান লেবার সরকার তাদের প্রাক-নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একক ক্রেতাদের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এবং যৌথ ক্রেতাদের জন্য ২ লাখ ডলারের আয়ের সীমাটি সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। হাউজিং অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার পর গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই স্কিমের অধীনে ৩৯ হাজার ৭০৪টি ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার ঋণ পেয়েছেন এমন সব ব্যক্তি, যাদের আয় আগের নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি। এমনকি প্রায় ১ হাজার একক ক্রেতা রয়েছেন যাদের বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি এবং ১ হাজার ২৫১টি দম্পতি রয়েছেন যাদের যৌথ আয় ২ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের ওপরে। অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ের সীমা তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি সহায়তা এখন সাধারণ মানুষের বদলে অর্থনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচ্ছল ও ধনীদের পকেটে চলে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়মের কারণে বাজারে ক্রেতাদের সামর্থ্য কৃত্রিমভাবে বেড়ে গেছে, যা শেষ পর্যন্ত আবাসন বাজারে বাড়ির দাম আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। যে ব্যক্তিরা সরকারি সাহায্য ছাড়াও বাড়ি কিনতে পারতেন, তারাও এখন এই সুবিধার কারণে বিপুল ঋণ নিয়ে বাজারে নামছেন। পূর্বে যেখানে ২০ শতাংশ জামানতের নিয়মে ৫০ হাজার ডলার সঞ্চয়কারী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ২ লাখ ডলার ঋণ পেতেন, সেখানে ৫ শতাংশ জামানতের এই নতুন নিয়মে তিনি এখন অনায়াসেই ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত ঋণ নিতে পারছেন। এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার পর থেকেই বাজারে বাড়ির দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে। লেবার সরকার বাড়ি কেনার সুবিধা বাড়ানোর দাবি করলেও তথ্য বলছে, সাধারণ মানুষের বাড়ি কেনার হার তেমন বাড়েনি, বরং ধনীরাই এই সুযোগের মূল সুবিধাভোগী হয়ে উঠেছেন।
ধারাবাহিক সুদহার বৃদ্ধি এবং নতুন কর সংস্কারের জেরে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন বাজারে বড় ধরনের মন্দা বা ধস নেমেছে। দেশটিতে বর্তমানে বাড়িঘরের দাম কমতির দিকে থাকা সত্ত্বেও নতুন বা প্রথমবার আবাসন কিনতে যাওয়া ক্রেতারা বাজারে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোনো আবাসন খাতের দিকে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আবাসন খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান 'কোটালিটি' (Cotality)-র সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর্যুপরি সুদহার বৃদ্ধির কারণে নতুন গৃহঋণের গড় সুদের হার বার্ষিক ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে প্রথমবার আবাসন ক্রেতাদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা ও সামর্থ্য দুটিই কমে গেছে। ঋণ বিষয়ক ক্রেডিট সংস্থা 'ইকুইফ্যাক্স' জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় মে মাসে হোম লোনের আবেদন প্রায় ১০.৯ শতাংশ কমেছে এবং নতুন ক্রেতাদের আবেদন কমেছে ১৩.৪ শতাংশ। can- বলছেন, ঋণ পাওয়ার জটিলতা ছাড়াও আবাসন বাজারের ধারাবাহিক মূল্যপতন দেখে সাধারণ ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। সাধারণত বাজার যখন চাঙ্গা থাকে তখন ক্রেতারা বেশি দামে বাড়ি কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন, কিন্তু বাজার ঠান্ডা হতেই তারা নিজেদের গুটিয়ে নেন। এর ফলে সিডনি, মেলবোর্ন এবং ক্যানবেরার মতো বড় শহরগুলোতে সবচেয়ে দামি বা বিলাসবহুল বাড়িগুলোর দাম নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। যেমন গত তিন মাসে সিডনির শীর্ষ ২৫ শতাংশ অভিজাত আবাসন বাজারের গড় মূল্য প্রায় ৯০ হাজার ডলার হ্রাস পেয়েছে। এদিকে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে পুরোনো বা বিদ্যমান বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য 'নেগেটিভ গিয়ারিং' (এক ধরনের কর রেয়াত সুবিধা) বাতিল করা হয়েছে। এই নতুন কর নীতিমালার কারণে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা প্রায় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। ফলস্বরূপ পুরোনো বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা এক-পঞ্চমাংশ কমে গেলেও, নতুন বাড়ি নির্মাণ বা কেনার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে। কারণ নতুন আবাসন খাতের ক্ষেত্রে কর রেয়াতের সুবিধা এখনও বহাল রাখা হয়েছে। এই টালমাটাল আবাসন বাজারের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নিলাম বা অকশন বিক্রিতে। মে মাসের শেষ দিক থেকে প্রতি সপ্তাহে নিলামে ওঠা বাড়িগুলোর অর্ধেকেরও কম সফলভাবে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাজারে অবিক্রিত বাড়ির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি ক্রেতাহীন অবস্থায় একটি বাড়ি দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার আবাসন খাত এখন এক বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে ক্রেতারা তাড়াহুড়ো না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
থাইল্যান্ডের পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের হাতে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তুনচানোক দনহোমলা নামের ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারমানকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সম্প্রতি নিহত ওই কিশোরীর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা কাঁদিয়েছে অনেককেই। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের কালাসিনে নিজেদের বাড়িতে বাবা থংচাইয়ের জন্মদিনে কেক হাতে হাসিমুখে উদযাপনে মেতেছেন দনহোমলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা জানান, মেয়ের কাছে তেমন টাকা না থাকলেও সে বাবার জন্য কেক কিনে এনেছিল। সেটিই ছিল তার সাথে কাটানো শেষ জন্মদিন। কয়েক মাস আগে ব্যাংককে পাড়ি জমানো এই কিশোরী জীবনে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে পাতায়ায় ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দনহোমলাকে হত্যার পর তার লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘরে ফেলে রেখেই অভিযুক্ত কারমান কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং কাপড় ধোয়ার মতো স্বাভাবিক কাজগুলো সেরেছিলেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই স্যুটকেসটি টেনে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কারমান। এ সময় তার শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড়ের দাগ দেখতে পায় পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। গত মঙ্গলবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ শহরে দনহোমলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শোকাভিভূত বাবা থংচাই তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্দোষ মেয়েটি কেবল দুনিয়ার ভালো দিকগুলোই দেখত। শেষ যাত্রায় মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থংচাইয়ের মনে হচ্ছিল, মেয়েটি যেন গাড়িতে তার পাশেই বসে আছে। থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে। অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে। সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে। এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন। সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর এবার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। শিশুদের ক্ষতিকর সাইট থেকে দূরে রাখতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক এবং ইউটিউবের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো "যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না" বলে অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। এই আইন অমান্য করলে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৯ কোটি ৯ লাখ মার্কিন ডলার করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের এই ঐতিহাসিক আইন চালু হয়। আইন চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা বা নিষ্ক্রিয় করা হলেও, সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু এখনো নানারকম কৌশল খাটিয়ে বা বয়স লুকিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছে। মূলত এই ফাঁকফোকর বন্ধ করতেই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৯ কোটি ৯ লাখ ডলারে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই সংশোধনী আইনের ফলে দেশটির অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ই-সেফটি কমিশনার'-এর ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এখন থেকে এই সংস্থাটি সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারবে। কোম্পানিগুলো অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলা বন্ধ করতে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও নথিপত্র তলব করার আইনি ক্ষমতা পাবে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রী আনিকা ওয়েলস অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও শক্তিশালী কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তারা আইন ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং একেবারেই নামমাত্র পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে সরকার কোনোভাবেই তাদের কাছে মাথা নত করবে না। অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর পদক্ষেপ দেখে ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো বিশ্বের আরও বেশ কয়েকটি দেশও এখন তাদের নিজস্ব দেশে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে তোড়জোড় শুরু করেছে।
থাইল্যান্ডের পর্যটন নগরী পাতায়ায় একটি সুটকেস থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর নগ্ন মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে থাই পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে ৪৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি জেটস্টার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চড়ে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোরে পাতায়ার একটি বহুতল ভবনের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) ফুটেজে ওই কিশোরীকে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তির হাত ধরে লিফটের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর, ওই ব্যক্তিটিকে একা একটি বড় কালো সুটকেস নিয়ে ভবন থেকে বের হতে এবং সেটি মোটরসাইকেলের পেছনে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরবর্তীকালে গত শুক্রবার পাতায়ার একটি ভাসমান বাজারের পেছনের রেললাইনের পাশ থেকে পুলিশ সেই সুটকেসটি উদ্ধার করে এবং ভেতরে সহিংস নির্যাতনের চিহ্নসহ ওই কিশোরীর নগ্ন মরদেহ পায়। কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর পাতায়া পুলিশ অবিলম্বে দেশের সব বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকক বিমানবন্দর দিয়ে দেশ ছাড়ার সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই অস্ট্রেলীয় নাগরিককে হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করলেও, সুটকেসটি কোথায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে তথ্য দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ রেললাইনের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পাতায়া শহরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নাবালিকা অপহরণ, খুন, লাশ গুম এবং যৌন উদ্দেশ্যে শিশু অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, থাইল্যান্ডে আটক হওয়া তাদের নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে তারা এই বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ও নির্মমতার ঘটনায় থাইল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া জুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো সংক্রামক এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় একটি সামুদ্রিক পাখি ব্রাউন স্কুয়ার নমুনায় এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পরীক্ষায় সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। মন্ত্রী আরও জানান, অসুস্থ আরেকটি পাখি জায়ান্ট পেট্রেলের নমুনায়ও সম্ভাব্য সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে। তবে বিষয়টি এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ছিল একমাত্র মহাদেশ, যেখানে এইচ৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়নি। এই ভাইরাস সাধারণত হাঁস-মুরগি ও বন্য পাখির মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে। জুলি কলিন্স বলেন, “বিশ্বজুড়ে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটি হতাশাজনক।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশে কোনো ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনা বা পোল্ট্রি খামারে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকার ইতোমধ্যে রোগটির বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ছয় বছরের এক শিশুকন্যা ও তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, পারামাট্টা নদীতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ বছর বয়সী মওলিক ধান্ধুকিয়া এবং তার ছয় বছরের মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শনিবার সিডনির কনকর্ড এলাকার কাছে একটি নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। তার সঙ্গে ছিলেন ছয় বছর বয়সী কন্যা। কিছু সময় পর নদীতে জরুরি পরিস্থিতির খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে পুলিশ ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আরও পড়ুন...টেক্সাসে স্বামীর গুলিতে স্ত্রী নিহত, পরে পুলিশের গুলিতে স্বামী নিহত; দুই শিশুকে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুপুরের কিছু আগে মওলিক ধান্ধুকিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে শিশুটির সন্ধানে ব্যাপক অনুসন্ধান চালানো হয়। উদ্ধারকারীরা শেষ পর্যন্ত বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শিশুকন্যার মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করেন। ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য আশপাশের বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি স্থাপনার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে, আগামী শুক্রবার রাউস হিলের ক্যাসেলব্রুক ক্রেমেটোরিয়ামে বাবা ও মেয়ের যৌথ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “দুই কোমল ও সদয় আত্মা, যারা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।” তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগে কয়েক দফা নৌকা ভাড়া করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। একবার তার স্ত্রী প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়াও তার সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। আরও পড়ুন...টেক্সাসে বিস্ফোরণের আগুনে পুড়েও বাড়ি ও নাতি-নাতনিদের বাঁচালেন এক সাহসী দাদা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত এর বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি। কেন এমন ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্ট করেছিলেন মওলিক ধান্ধুকিয়া। সেখানে তিনি ২০০৫ সালে জিমে ব্যায়াম করার সময় ঘাড়ে পাওয়া আঘাতের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগা শারীরিক সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ওই পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ঘাড়ের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা তার জীবনের অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এমআরআই পরীক্ষায় তার মেরুদণ্ডের ঘাড়ের অংশে স্নায়ুর ওপর চাপের বিষয়টি ধরা পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মওলিক ধান্ধুকিয়া পেশাগত জীবনে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করতেন। ২০২২ সাল থেকে তিনি সাউথ ইস্টার্ন সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্টে অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিশ্লেষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। এই ঘটনার পর পরিবারটির জন্য সহায়তা তহবিলও গঠন করেছেন স্বজন ও পারিবারিক বন্ধুরা। তহবিল সংগ্রহের আহ্বানে বলা হয়েছে, প্রীতিবেন ধান্ধুকিয়া একসঙ্গে তার স্বামী ও একমাত্র কন্যাকে হারিয়েছেন। এই কঠিন সময়ে তাকে আর্থিক ও মানসিক সহায়তা দেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। ▶️ ট্রাম্পের লাখ ডলারের এইচ-১বি ভিসা ফি অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের তহবিলের অর্থ শেষকৃত্যের ব্যয়, ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা এবং নিকট আত্মীয়দের যাতায়াত ও আবাসন খাতে ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস্টিন ম্যাকডোনাল্ড ঘটনাটিকে “পরিবার ও সমাজের জন্য এক গভীর ট্র্যাজেডি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। আমরা সব দিক থেকে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি এবং কোনো সম্ভাবনাই উপেক্ষা করা হবে না।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে পারিবারিক সহিংসতার কোনো উপাদান ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। বাবা ও মেয়ের একসঙ্গে শেষকৃত্যের খবর আরও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে। স্বজন ও পরিচিতজনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।
পাকিস্তানে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিতে ৯ বছর বয়সী এক অস্ট্রেলীয় শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুটির বাবা এবং বড় ভাইও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর বরাত দিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, গত বুধবার রাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চাকওয়াল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারটি একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে তাদের এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে তারা একদল ডাকাতের কবলে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় দূর থেকে এক পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে মোটরসাইকেলে আসা দুই ডাকাত ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর আতঙ্কে ভাড়া করা গাড়িটিও দ্রুত গতিতে ওই স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করে। এক স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, মহাসড়কে ওয়ানডে বা টেস্টের মতো কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ছিল না। গাড়িটি হঠাৎ খুব দ্রুত গতিতে চলে যেতে দেখে টহলরত পুলিশ সদস্যরা ভুলবশত সেটিকে ডাকাতদের গাড়ি ভেবে বসেন। এরপর তারা গাড়িটি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পুলিশের সেই গুলিতে গাড়ির ভেতরে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৯ বছরের ওই শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির বাবা ও বড় ভাই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে ভাগ্যক্রমে শিশুটির মা এই ঘটনায় সম্পূর্ণ অক্ষত আছেন। এই ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ভুক্তভোগী পরিবার এবং আহত সদস্যদের সব ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। এক সরকারি বিবৃতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রশাসন এই ঘটনাটিকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মস্পর্শী’ বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক তরুণী হাঙ্গরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন একজন স্থানীয় লাইফগার্ড। পলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ওই তরুণীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। গত শনিবার সকালে কুজি সৈকতে এই হাঙ্গরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে তার হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা মাইকেল কর্লিস জানান, ওই তরুণী সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় একশত ফুট দূরে তার দুই বন্ধুর সাথে সাঁতার কাটছিলেন। ঠিক তখনই হাঙ্গরটি আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। লাইফগার্ড টনি ওয়ালার জানান, হাঙ্গরটি প্রায় এগারো ফুট লম্বা ছিল। প্রথম উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া লাইফগার্ড চার্লি ভার্কো জানান, তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ডে থাকার সময় হাঙ্গরটিকে পানি থেকে ওপরে উঠতে দেখেন। হাঙ্গরটির বিশাল আকৃতি দেখে তিনি পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলেন। চার্লি ভার্কো আরও জানান, তিনি তরুণীর দিকে প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই হাঙ্গরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওই তরুণী আবার পানির ওপরে ভেসে ওঠেন। সেই সময় সমুদ্রসৈকতে নিজের পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ইয়ান ফার্গুসন নামের একজন অফ-ডিউটি চিকিৎসক। তিনি জানান, আক্রমণের সাথে সাথেই সমুদ্রের পানির একটি বিশাল অংশ রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল। লাইফগার্ড চার্লি জানান, আহত তরুণী এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শক্তিতে প্যাডেলবোর্ডে উঠতে পারছিলেন না। তখন চার্লি তার হাত ধরে টেনে সমুদ্রের তীরের দিকে নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তীরে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। সৈকতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ফার্গুসন এবং উপস্থিত অন্যান্যরা মিলে দ্রুত ওই তরুণীর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। ফার্গুসন জানান, তরুণীর উরুতে প্রায় বারো ইঞ্চি চওড়া কামড়ের দাগ ছিল এবং ভেতরের হাড় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতেও একই ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ক্ষত সারাতে অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সব সৈকত আগামী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
সাত বছর পর আবারও অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতি প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেল। তবে এবারের সফরটি কোনো রাষ্ট্রীয় সফর নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে। চার দিনের এই ‘আধা-রাজকীয়’ (quasi-royal) সফরে এসে আবারও রাজকীয় জীবনের তিক্ত স্মৃতি এবং সাইবার বুলিং নিয়ে মুখ খুলেছেন এই দম্পতি। বৃহস্পতিবার মেলবোর্নে 'ইন্টারএজ সামিটে' (InterEdge Summit) দেওয়া এক বক্তৃতায় প্রিন্স হ্যারি তার মা প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যুর পর সৃষ্ট মানসিক ট্রমার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাত্র ১২ বছর বয়সে মাকে হারানোর পর তিনি কোনোভাবেই রাজকীয় দায়িত্ব বা এই 'চাকরি' চালিয়ে যেতে চাননি। অন্যদিকে, ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কেল তার ওপর হওয়া দীর্ঘদিনের অনলাইন ট্রোলিং নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি প্রতিনিয়ত বুলিং বা হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এবং এক সময় তিনি ছিলেন 'বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ট্রোলড হওয়া ব্যক্তি'। হ্যারি ও মেগানের এই সফর নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক সংবাদমাধ্যম এই সফরকে 'অর্থ উপার্জনের কৌশল' হিসেবে সমালোচনা করলেও হ্যারির মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে হ্যারি মেলবোর্নের একটি এএফএল ক্লাব এবং সিডনিতে ইনভিক্টাস গেমসের ইভেন্টে অংশ নেবেন। মেগান সিডনিতে 'হার বেস্ট লাইফ' (Her Best Life) নামক একটি নারীদের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বিয়ের পর প্রথম সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়ায় এসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই দম্পতি। তবে ২০২০ সালে রাজপরিবার ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হওয়ার পর এটিই তাদের প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফর। রাজকীয় আভিজাত্য ত্যাগ করলেও তাদের এই সফর ঘিরে সাধারণ মানুষের কৌতূহল এবং বিতর্ক—উভয়ই তুঙ্গে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির তেল শোধনাগারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল শ্রমিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই জ্বালানি চাপে ছিল, আর এই অগ্নিকাণ্ড সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ ধনী জিনা রাইনহার্টকে খনির রয়্যালটির অংশ ভাগ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার সুপ্রিম কোর্ট বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, প্রয়াত খনি উদ্যোক্তা পিটার রাইটের উত্তরাধিকারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘রাইট প্রসপেক্টিং’ পিলবারা অঞ্চলের হোপ ডাউনস খনি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির একটি অংশ পাওয়ার অধিকারী। এই খনি পরিচালনায় রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠান ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ আন্তর্জাতিক খনি কোম্পানি রিও টিনটোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। মামলার সূত্রপাত কয়েক দশক আগে করা একটি অংশীদারত্ব চুক্তিকে ঘিরে। রাইনহার্টের বাবা ল্যাং হ্যানকক এবং পিটার রাইট যৌথভাবে ‘হ্যানরাইট’ নামে একটি উদ্যোগ গড়ে তুলে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় লৌহ আকরিক অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সেই অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই রাইট পরিবারের পক্ষ থেকে রয়্যালটির দাবি করা হয়। আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, হোপ ডাউনস প্রকল্প থেকে ‘হ্যানকক প্রসপেক্টিং’ যে ২ দশমিক ৫ শতাংশ রয়্যালটি পায়, তার অর্ধেক ‘রাইট প্রসপেক্টিং’-এর প্রাপ্য। গত বছর এই খনি থেকে রাইনহার্টের প্রতিষ্ঠানের আয় ছিল প্রায় ৮৩ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার। তবে খনির মালিকানা নিয়ে রাইট পরিবারের দাবি আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে খনিগুলোর পূর্ণ মালিকানা রাইনহার্টের কাছেই বহাল থাকছে। বিচারক বলেন, মামলার বিভিন্ন বিষয়ে উভয় পক্ষই আংশিকভাবে জয়ী ও পরাজিত হয়েছে। এ ছাড়া খনি অনুসন্ধানকারী ডন রোডসের উত্তরাধিকারীদের একটি প্রতিষ্ঠানের আংশিক রয়্যালটি দাবিও আদালত মঞ্জুর করেছেন। অন্যদিকে, রাইনহার্টের দুই সন্তান জন হ্যানকক ও বিয়ানকা রাইনহার্ট পারিবারিক ট্রাস্ট সংক্রান্ত অভিযোগ তুললেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। ৭১ বছর বয়সী রাইনহার্ট তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ঋণগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুনরুদ্ধার করে অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ধনীদের কাতারে উঠে আসেন। বিশেষ করে চীনে শিল্পায়নের ফলে লৌহ আকরিকের চাহিদা বৃদ্ধির সময় তাঁর সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৩৮ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৩ বছরের আইনি লড়াইয়ে বিপুল পরিমাণ নথি উপস্থাপন করা হয়। রায়ের পর উভয় পক্ষই আংশিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আমরা একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে যাচ্ছি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীর ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুসান কয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।” ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বে আসা তিনিই প্রথম নারী। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়ের করা একটি যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই বাহিনী। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রয়েছেন ১৮.৫ শতাংশ নারী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে।
আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অস্ট্রেলিয়ার এক সাবেক সেনাসদস্যকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে। বুধবার ভিডিও সংযোগে আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘ভিক্টোরিয়া ক্রস’ পাওয়া এই সাবেক সেনাসদস্যকে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। দেশটির ফেডারেল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনকালে ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে পাঁচজন নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষকে হত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি। গ্রেপ্তারের পর তাকে সিডনির একটি সংশোধনাগারে নেওয়া হয়। আদালতে শুনানির সময় তার আইনজীবী তাৎক্ষণিক জামিন আবেদন না করে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করে শুনানি নেওয়ার আবেদন জানান। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর না করে আগামী ৪ জুন পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। ফলে এর আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। এই গ্রেপ্তারকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতি ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, অভিযুক্তদের আইনি লড়াইয়ের খরচ সরকার বহন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া সামরিক বাহিনীর ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার অস্ট্রেলিয়া শাখার প্রতিনিধি বলেছেন, সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পর আফগানিস্তানে শুরু হওয়া যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন মিত্র দেশ অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের সেই যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ৪০ হাজার সেনাসদস্য দায়িত্ব পালন করেন এবং ৪৭ জন প্রাণ হারান। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয়।
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ডেভিড ওয়ার্নারকে নিয়ে তোলপাড় ক্রিকেট বিশ্ব। সিডনির রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ওপেনার। বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে করাচি কিংসের নেতৃত্ব দেওয়া এই তারকার এমন কান্ডে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে তার ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ভক্তরা। মঙ্গলবার সিডনির মারুব্রা এলাকায় রুটিনমাফিক ‘ব্রেথ টেস্টিং’ চালাচ্ছিল স্থানীয় পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশের চেকপোস্ট দেখে ওয়ার্নার তার গাড়িটি রাস্তার পাশে পার্ক করে কৌশলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার এই আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে আটক করে পরীক্ষা চালায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা যায়, তার শরীরে নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি অ্যালকোহল রয়েছে। পরবর্তীতে থানায় নিয়ে দ্বিতীয়বার রক্ত পরীক্ষা করা হলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পুলিশি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ার্নারের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ০.১০৪ শতাংশ, যা অস্ট্রেলিয়ার আইনি সীমার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। এই অপরাধে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবে আগামী ৭ মে তাকে ডাউনিনিং সেন্টার লোকাল কোর্টে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে ওয়ার্নারের চলমান পিএসএল সফরের ওপর। করাচি কিংসের অধিনায়ক হিসেবে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন তিনি। ৩ ম্যাচে একটি হাফ-সেঞ্চুরিসহ ৯৩ রান করে দলকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় তার পাকিস্তান ফেরা এখন অনিশ্চিত। করাচি কিংস কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও, দলের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ওয়ার্নারের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল ধোঁয়াশা।
আফগানিস্তানে মোতায়েন থাকাকালীন নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দায়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে আলোচিত ও সম্মানজনক পদকপ্রাপ্ত সাবেক সেনাসদস্য বেন রবার্টস-স্মিথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৭ বছর বয়সী এই সাবেক স্পেশাল ফোর্স সদস্যের বিরুদ্ধে পাঁচটি খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মঙ্গলবার সিডনি বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশে দায়িত্ব পালনের সময় রবার্টস-স্মিথ এই নৃশংস অপরাধগুলো সংঘটিত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিরস্ত্র বন্দিদের সরাসরি গুলি করে অথবা তার অধীনস্থদের দিয়ে গুলি করিয়ে হত্যা করেছেন। এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি এক আফগান বেসামরিক ব্যক্তিকে পাহাড়ের খাদ থেকে লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান 'ভিক্টোরিয়া ক্রস' জয়ী এই সেনাসদস্য এতদিন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসলেও, দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ তার বিরুদ্ধে শক্ত প্রমাণ পায়। যদি এই অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়, তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছে।
জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও বাধার মুখে পড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান আজহারী সিডনি, মেলবোর্ন এবং পার্থসহ অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে আয়োজিত ইসলামি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পূর্বের কিছু বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে ‘উগ্রপন্থী’ ও ‘ঘৃণা ছড়ানোর সহায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টনি বার্ক আজহারীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার মনে করছে, তার উপস্থিতি দেশটির সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে তার দেওয়া কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালেও যুক্তরাজ্যে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন আজহারী। সে সময় লন্ডনে তার একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীর ভক্ত ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বা তার টিমের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সভায় অংশ নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন দেশে তার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।