আন্তর্জাতিক

১৭ বছরের কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্যুটকেসে মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৫:৩৪
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের হাতে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তুনচানোক দনহোমলা নামের ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারমানকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সম্প্রতি নিহত ওই কিশোরীর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা কাঁদিয়েছে অনেককেই। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের কালাসিনে নিজেদের বাড়িতে বাবা থংচাইয়ের জন্মদিনে কেক হাতে হাসিমুখে উদযাপনে মেতেছেন দনহোমলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা জানান, মেয়ের কাছে তেমন টাকা না থাকলেও সে বাবার জন্য কেক কিনে এনেছিল।

 

সেটিই ছিল তার সাথে কাটানো শেষ জন্মদিন। কয়েক মাস আগে ব্যাংককে পাড়ি জমানো এই কিশোরী জীবনে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে পাতায়ায় ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।

 

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দনহোমলাকে হত্যার পর তার লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘরে ফেলে রেখেই অভিযুক্ত কারমান কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং কাপড় ধোয়ার মতো স্বাভাবিক কাজগুলো সেরেছিলেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই স্যুটকেসটি টেনে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কারমান।

 

এ সময় তার শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড়ের দাগ দেখতে পায় পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

 

গত মঙ্গলবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ শহরে দনহোমলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শোকাভিভূত বাবা থংচাই তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্দোষ মেয়েটি কেবল দুনিয়ার ভালো দিকগুলোই দেখত। শেষ যাত্রায় মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থংচাইয়ের মনে হচ্ছিল, মেয়েটি যেন গাড়িতে তার পাশেই বসে আছে। থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Advertisement

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
১৭ বছরের কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্যুটকেসে মরদেহ রেখে পালানোর চেষ্টা

থাইল্যান্ডের পাতায়ায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকের হাতে ১৭ বছর বয়সী এক থাই কিশোরীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তুনচানোক দনহোমলা নামের ওই কিশোরীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্যুটকেসে ভরে রেললাইনের পাশে ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক সাইমন পিটার কারমানকে ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদের জেরে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিহত ওই কিশোরীর একটি হৃদয়বিদারক ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যা কাঁদিয়েছে অনেককেই। ভিডিওটিতে দেখা যায়, উত্তর-পূর্ব থাইল্যান্ডের কালাসিনে নিজেদের বাড়িতে বাবা থংচাইয়ের জন্মদিনে কেক হাতে হাসিমুখে উদযাপনে মেতেছেন দনহোমলা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা জানান, মেয়ের কাছে তেমন টাকা না থাকলেও সে বাবার জন্য কেক কিনে এনেছিল।   সেটিই ছিল তার সাথে কাটানো শেষ জন্মদিন। কয়েক মাস আগে ব্যাংককে পাড়ি জমানো এই কিশোরী জীবনে প্রথমবারের মতো সমুদ্র দেখার স্বপ্ন নিয়ে পাতায়ায় ঘুরতে গিয়েছিল, আর সেখানেই তাকে এমন মর্মান্তিক পরিণতির শিকার হতে হলো।   পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, দনহোমলাকে হত্যার পর তার লাশ কয়েক ঘণ্টা ঘরে ফেলে রেখেই অভিযুক্ত কারমান কেনাকাটা, খাওয়া-দাওয়া এবং কাপড় ধোয়ার মতো স্বাভাবিক কাজগুলো সেরেছিলেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে তাকে ওই স্যুটকেসটি টেনে নিয়ে অ্যাপার্টমেন্টের পেছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বিমানবন্দরে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন কারমান।   এ সময় তার শরীরে ধস্তাধস্তির আঁচড়ের দাগ দেখতে পায় পুলিশ এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা।   গত মঙ্গলবার বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নিজ শহরে দনহোমলার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শোকাভিভূত বাবা থংচাই তার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার নির্দোষ মেয়েটি কেবল দুনিয়ার ভালো দিকগুলোই দেখত। শেষ যাত্রায় মেয়ের মৃতদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় থংচাইয়ের মনে হচ্ছিল, মেয়েটি যেন গাড়িতে তার পাশেই বসে আছে। থাই পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি এই কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৫:৩৪
ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ I ছবি: সংগৃহীত

ট্রাম্পের ক্রিপ্টো উদ্যোগ ও ইরানের এক্সচেঞ্জ, একই নেটওয়ার্কে ঘুরছে বিলিয়ন ডলার

ছবিঃ মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিখোঁজ ১

বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের হাসান সনেট I ছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে ভাইরাল ভিডিও বিতর্ক: নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশি তরুণ জুবায়ের

বাংলাদেশের রেজওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের টেইলর I ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করতে গিয়ে শুধু ডিগ্রিই নয়, একই গবেষণাগারেই খুঁজে পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের এক জীবনসঙ্গী

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেকের কাছেই নতুন জ্ঞান, গবেষণা এবং ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য সুযোগ। তবে বাংলাদেশের রেজওয়ানের জন্য সেই যাত্রা এনে দিয়েছে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি—নিজের জীবনসঙ্গী।   উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে পিএইচডি করতে যান রেজওয়ান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সেখানে গবেষণায় যোগ দেন টেইলর। মলিকুলার বায়োসায়েন্স ভবনের একই গবেষণাগারে কাজ করতে গিয়েই তাদের প্রথম পরিচয়।   রেজওয়ান বলেন, “আমি বাংলাদেশ থেকে, আর টেইলর যুক্তরাষ্ট্রের। ইউনিভার্সিটি অব সিডনিতে গবেষণা করতে না এলে হয়তো কোনো দিনই আমাদের দেখা হতো না।”   সে সময় টেইলর স্ট্রাকচারাল বায়োলজিতে পিএইচডি করছিলেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জিন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা প্রোটিনের ত্রিমাত্রিক (৩ডি) গঠন, যা ভবিষ্যতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   অন্যদিকে, রেজওয়ানের গবেষণার বিষয় ছিল ফাঙ্গাল প্রোটিন ব্যবহার করে ন্যানোপার্টিকল কোটিং প্রযুক্তি। বায়োটেকনোলজিতে ন্যানো-ক্যারিয়ার হিসেবে এ প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে তিনি গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।   দিনের বেশিরভাগ সময় একই গবেষণাগারে কাটত দুজনের। গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রকল্পে একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গড়ে ওঠে বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব রূপ নেয় ভালোবাসায়, আর শেষ পর্যন্ত তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।   রেজওয়ান ও টেইলরের গল্পটি মনে করিয়ে দেয়, বিদেশে উচ্চশিক্ষা শুধু ডিগ্রি বা গবেষণার সুযোগই এনে দেয় না; কখনো কখনো জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১৪:১
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহ I ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপদাহে হাজারো প্রাণহানি, হিমাগারগুলো পৌঁছেছে ধারণক্ষমতার শেষ সীমায়

ফ্রান্সের জন্মহার বৃদ্ধি ও অনুর্বরতা রোধে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর নতুন মহাপরিকল্পনা | ছবি: এএফপি

জন্মহার বাড়াতে ফ্রান্সে মা-বাবার জন্য বেতনসহ অতিরিক্ত ছুটির নিয়ম চালু

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স

শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট (বাঁয়ে) আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুর (ডানে) শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন | ছবি: সংগৃহীত
নেতানিয়াহুকে হটাতে নির্বাচনি মাঠে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। আগামী নির্বাচনের চার মাস আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক জনাকীর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের আহ্বান জানান।   প্রথম নির্বাচনি সমাবেশে আইজেনকট বলেন, "ইসরায়েল একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার যোগ্য। আমরা সবাই মিলে সেই নতুন অধ্যায় লিখব।" তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরে যে সরকার গঠিত হবে, তারা যেন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনাকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।   ওই হামলায় হামাস ইসরায়েলে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছিল, যা নেতানিয়াহুর শাসনামলেই ঘটে।   আইজেনকট বলেন, "আমরা ইসরায়েলের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় খুলব। এটি হবে ভালো একটি অধ্যায়। কারণ ইসরায়েলকে জিততেই হবে, আর ইসরায়েল জিতবেই।"   গাজা যুদ্ধ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নীতি ও নেতৃত্বের অন্যতম কঠোর সমালোচক ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘ইয়াশার’ গঠন করেন। হিব্রু ভাষায় ‘ইয়াশার’ শব্দের অর্থ ‘সোজা’ বা ‘ন্যায়নিষ্ঠ’।   ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের দল পার্লামেন্টের ১২০টি আসনের মধ্যে ২২টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর লিকুদ দল পেতে পারে ২৪টি আসন।   মরক্কো থেকে আসা ইহুদি অভিবাসী পরিবারের সন্তান আইজেনকট সাধারণ মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় বলে বিবেচিত। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের সময় তার ছেলে গাল নিহত হওয়ার পর তার প্রতি জনসমর্থন আরও বেড়ে যায়। একই যুদ্ধে তার দুই ভাতিজাও প্রাণ হারান।   ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট ২০২২ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন। তখন তিনি সাবেক আরেক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজের সঙ্গে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে তার অবস্থান খুব বেশি স্পষ্ট নয়। তবে তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।   সমাবেশে আইজেনকট বলেন, ইসরায়েলের জন্য এখন একটি সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ জায়নবাদী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার ভাষায়, এমন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভিন্ন মতের মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে পারবেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শক্তিশালী দেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখবেন।   তিনি বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিদ্যমান নেতৃত্বের কোনো সুস্পষ্ট লক্ষ্য বা কৌশল নেই। তার দাবি, "এমন নেতৃত্বকে সরাতে হবে, যারা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে।"   আইজেনকটের বক্তব্যের সময় সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১০:৫১
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু ক্লিয়েবার মোরানকে জীবিত উদ্ধার | ছবি: রয়টার্স

ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩ বছরের শিশু জীবিত উদ্ধার, ভেনেজুয়েলায় অলৌকিক ঘটনা

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে ‘মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য’ ঘোষণা করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাদের যৌথ বিবৃতি | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা

ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যা ধর্মীয় দায়িত্ব, ফতোয়া দিলেন ইরানের শীর্ষ আলেমরা

নৃত্য পরিবেশনের ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধে থেমে গেল মাশার নাচের স্বপ্ন, তবু কিয়েভের বিদায় উৎসবে ভবিষ্যতের আশায় হাসল ইউক্রেনের তরুণ প্রজন্ম

0 Comments