মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের শুরুতেই সামরিক ব্যয়ের এক অভাবনীয় চিত্র সামনে এসেছে। পেন্টাগন কর্তৃক কংগ্রেসকে দেওয়া একটি গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুদ্ধের মাত্র প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ৫৬০ কোটি ডলার মূল্যের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিপুল পরিমাণ এই ব্যয় ক্যাপিটল হিলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিনগুলোতে দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড মিউনিশন বা লক্ষ্যভেদী উন্নত অস্ত্রশস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে। সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ যেভাবে দ্রুতগতিতে তাদের উন্নত অস্ত্রভাণ্ডার শেষ করছে, তাতে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আরিজোনা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক সিনেটর মার্ক কেলি জানিয়েছেন, ইরান তাদের বিশাল ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল ভাণ্ডার থেকে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই হামলা প্রতিহত করতে মার্কিন ও মিত্র বাহিনীকে প্রচুর পরিমাণে আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম (Air Defense Munitions) ব্যয় করতে হচ্ছে। সিনেটর কেলি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের প্রতিদিনের ব্যয় ঠিক কত, সে বিষয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ব্রিফিং নেওয়া হবে। এদিকে কংগ্রেসের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই ব্যয় সামাল দিতে এবং অস্ত্রের মজুদ পুনরায় গড়ে তুলতে বাইডেন প্রশাসন খুব শীঘ্রই কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদন জানাতে পারে। একজন সংসদীয় সহযোগী একে "পরবর্তী বড় লড়াই" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের রেশ ধরে এক অভাবনীয় ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে ইসরায়েলি ও মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। মূলত ইরানের ‘সোয়ার্ম অ্যাটাক’ বা একসঙ্গে অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কৌশলে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে ইসরায়েলের আয়রন ডোম, ডেভিডস স্লিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ব্যাটারিগুলো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী মজুত নিশ্চিত করতে ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ বড় ঘোষণাটি দেন। তিনি জানান, বড় কোম্পানিগুলো তাদের উচ্চ প্রযুক্তির নিখুঁত মারণাস্ত্রের উৎপাদন চার গুণ বাড়াতে রাজি হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়াটি তিন মাস আগে থেকেই শুরু করা হয়েছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারের পাশে আখ সেন্টার এলাকায় একটি পুকুর থেকে পিস্তল, গুলি এবং দুই শতাধিক দেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪টি পিস্তল, ১৮টি গুলি, ২টি কাটা পাইপগান, চাইনিজ কুড়াল, ছোট-বড় ছেনদা, বল্লম, চাকু ও বর্শার মাথা। এছাড়া পাঁচটি খালি কাচের মদের বোতলও পাওয়া গেছে। ফরিদপুর সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন জানান, গোপন সংবাদে জানতে পারি ওই পুকুরে অবৈধ অস্ত্র আছে। পরে ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, বিজিবি ও পুলিশের সহযোগিতায় যৌথ অভিযানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। অস্ত্রগুলো নির্বাচনের দিন ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। তিনি আরও জানান, অভিযানটি পরিচালনা করতে শ্যালো ইঞ্জিন ব্যবহার করে পুকুরের পানি দেড়–দুই ফুট পর্যন্ত অপসারণ করা হয় এবং স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় চারটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। এসব বান্ডিলের মধ্যে স্কচটেপে মোড়ানো ৪টি পিস্তল, ১৮টি গুলি এবং অন্যান্য দেশি অস্ত্র ছিল। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম জানান, অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিনহাযুল আবেদীন বলেন, অস্ত্রগুলো কোনো থানার লুট হওয়া নাকি চোরাই পথে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যারা এটি পুকুরে রেখেছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড পাওয়ার নিয়ম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিস এর অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই দাবি সঠিক নয়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিয়ের মাধ্যমে এখনও গ্রীন কার্ড এবং পরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং বর্তমানে যাচাই-বাছাই আগের তুলনায় বেশি কঠোর করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, একজন মার্কিন নাগরিক বা গ্রীন কার্ডধারী তার স্বামী বা স্ত্রীর জন্য পারিবারিক ভিত্তিতে অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রথমে বৈধ বিয়ের প্রমাণসহ আবেদন জমা দিতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী গ্রীন কার্ড পেতে পারেন এবং স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাবেন। সাধারণত মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলে প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করলে অপেক্ষার সময় কিছুটা বেশি হতে পারে। গ্রীন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার নিয়মও আগের মতোই রয়েছে। ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, যদি কেউ মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করে গ্রীন কার্ড পান এবং কমপক্ষে তিন বছর একসাথে বসবাস করেন, তাহলে তিনি নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। আর যদি গ্রীন কার্ডধারীকে বিয়ে করেন, তাহলে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে পাঁচ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকত্বের আবেদন করা যায়। ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে বেশি সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে, অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে এবং যৌথ ব্যাংক হিসাব, বাসার ঠিকানা, ট্যাক্স নথি ও পারিবারিক প্রমাণ জমা দিতে হচ্ছে। ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়া ঠেকাতে এই যাচাই-বাছাই বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া আবেদন প্রক্রিয়ায় সময় বেশি লাগার কারণেও অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিয়ের মাধ্যমে আমেরিকার নাগরিকত্ব বা গ্রীন কার্ড বন্ধ হয়নি। তবে বর্তমানে আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর হয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈধ বিবাহ, একসাথে বসবাস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রমাণ করা বাধ্যতামূলক।