সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে নিউ ইয়র্ক নারী পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু, মা-হারা হলো ৩ শিশু

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ২০:৩৬
ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক অস্ত্রোপচারের পর মারা যান এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা। ছবি: সংগৃহীত
ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক অস্ত্রোপচারের পর মারা যান এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) এক নারী পুলিশ কর্মকর্তা ডোমিনিকান রিপাবলিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচারের পর জটিলতায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা বা চিকিৎসাগত ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার।

 

মৃত কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলা (৩১) নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস এলাকার ৪৬তম প্রিসিঙ্কটে কর্মরত ছিলেন। মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি সময় আগে তিনি এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে দায়িত্বনিষ্ঠা ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘অফিসার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছিলেন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট এবং ডোমিনিকান সংবাদমাধ্যম নোটিসিয়াস সিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোমিনিকান রিপাবলিকের রাজধানী সান্তো ডোমিঙ্গোর একটি ক্লিনিকে স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের কসমেটিক অস্ত্রোপচার করান রেবেকা ডি পাউলা। অস্ত্রোপচারের পর তিনি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হন। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

 

রেবেকার মা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, মেয়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন এ খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ক্লিনিকে পৌঁছান। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, তার মেয়ে ইতোমধ্যেই মারা গেছেন।

এনওয়াইপিডির পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্যাট্রিক হেন্ড্রি এক বিবৃতিতে বলেন, “মাত্র ১৮ মাসের কর্মজীবন শেষে দায়িত্বের বাইরে থাকা অবস্থায় আমাদের সহকর্মী পুলিশ কর্মকর্তা রেবেকা ডি পাউলাকে হারাতে হয়েছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের জন্য আমরা সবার কাছে প্রার্থনা কামনা করছি।”

 

রেবেকার প্রশিক্ষক ও অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি প্রশিক্ষক ডেভিড মারমল সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইতিবাচক ও আন্তরিক একজন মানুষ। তার সামনে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল, কিন্তু সেটি অকালেই থেমে গেল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিন সন্তানের জননী রেবেকা ডি পাউলা পুলিশি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বামীর সঙ্গে ধর্মীয় কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন এবং একজন পাস্টর হিসেবে মানুষের সেবা করতেন।

 

বর্তমানে তার মরদেহ ডোমিনিকান রিপাবলিকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্সেসে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হবে।

এদিকে তার পরিবার ডোমিনিকান রিপাবলিকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি, অস্ত্রোপচারের সময় বা পরবর্তী চিকিৎসায় কোনো ধরনের চিকিৎসাগত অবহেলা বা ভুল ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক।

 

মার্কিন প্লাস্টিক সার্জনদের সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব প্লাস্টিক সার্জনসের তথ্য অনুযায়ী, স্তনের ইমপ্লান্ট অপসারণের অস্ত্রোপচার সাধারণত পূর্বের স্তন সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচার বা পুনর্গঠন-সংক্রান্ত ইমপ্লান্ট অপসারণের জন্য করা হয়। তবে এ ধরনের অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণ, রক্ত জমাট বাঁধা, হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসের জটিলতা, শরীরে তরল জমা এবং রক্তক্ষরণের মতো ঝুঁকি থাকতে পারে।

 

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ডোমিনিকান রিপাবলিকে কসমেটিক সার্জারি-সংক্রান্ত জটিলতায় অন্তত ৯৩ জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এ কারণে দেশটিতে চিকিৎসা-ভ্রমণ এবং সৌন্দর্যবর্ধক অস্ত্রোপচারের নিরাপত্তা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে।

 

এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনওয়াইপিডির গোয়েন্দা কর্মকর্তা অ্যালিসিয়া স্টোনও কলম্বিয়ায় বিউটি সার্জারির পর জটিলতায় মারা যান। সাম্প্রতিক এ ঘটনাও বিদেশে কসমেটিক সার্জারির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

 

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় মন্তব্য জানতে এনওয়াইপিডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
হুবহু চেহারার মিলের কারণে নির্দোষ হয়েও কানসাসে প্রায় ১৭ বছর কারাদণ্ড ভোগ করেছেন রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স। ছবি: সংগৃহীত
অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য

যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স এমন এক অপরাধের দায়ে প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, যা তিনি করেননি। শুধু চেহারার মিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভুল শনাক্তকরণের কারণে ১৯৯৯ সালের একটি ডাকাতির মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার মতো দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর মামলার মোড় ঘুরে যায় এবং ২০১৭ সালে জোন্সের সাজা বাতিল হয়। পরে কানসাস রাজ্য তাকে ১১ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়।    ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালে কানসাসের রোয়েল্যান্ড পার্কের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। এক নারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নারীটি বাধা দিলে হামলাকারী ব্যাগ নিতে না পারলেও তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে ওই নারী হাঁটুতে আঘাতও পান। পরে মামলাটি গুরুতর ডাকাতির মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়।    মামলার তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীকে হালকা গায়ের রঙের কৃষ্ণাঙ্গ বা হিস্পানিক পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তার নাম সম্ভবত রিক এবং চুল লম্বা করে পেছনে বাঁধা ছিল। পরে একটি গাড়ির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা এমন একজন চালকের কাছে পৌঁছান, যিনি হামলাকারীকে ‘রিক’ নামে চিনতেন। পুলিশি ছবির মধ্য থেকে তিনি রিচার্ড জোন্সকে শনাক্ত করেন। ডাকাতির শিকার নারীও পরে জোন্সকে শনাক্ত করেন।    কিন্তু জোন্সের পক্ষে শক্ত একটি আলিবাই ছিল। ঘটনার সময় তিনি কানসাস সিটিতে তার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো ডিএনএ প্রমাণ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টও ছিল না। তবু প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।    কারাগারে থাকার সময় অন্য বন্দিরা জোন্সকে বলতে থাকেন, তার সঙ্গে রিকি আমোস নামে আরেক বন্দির চেহারার অস্বাভাবিক মিল রয়েছে। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে জোন্স এই তথ্যকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখেন। তিনি ইনোসেন্স প্রজেক্টের সহায়তা নেন। আইনজীবী ও গবেষকেরা রিকি লি আমোসকে খুঁজে বের করেন। আমোসের চেহারা জোন্সের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তাদের পাশাপাশি ছবি দেখে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।    এরপর মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের দুই ব্যক্তির ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়। তখন তারা আর নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে জোন্সই সেই ডাকাত ছিলেন। এমনকি ডাকাতির শিকার নারীসহ কয়েকজন সাক্ষীও দুই ব্যক্তিকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত গাড়িটি যে ঠিকানায় গিয়েছিল, সেই ঠিকানার সঙ্গে আমোসেরও যোগসূত্র ছিল।    ২০১৭ সালের জুনে আদালত জোন্সের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পরে বাতিল করা হয়। মিডওয়েস্ট ইনোসেন্স প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, জোন্স ২০১৭ সালের ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হন।    এরপর কানসাসে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন আইনের আওতায় জোন্স ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কানসাস রাজ্য তার সঙ্গে ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ ডলারের বেশি অর্থের সমঝোতা করে। তাকে নির্দোষিতার সনদ দেওয়া হয় এবং তার গ্রেপ্তার ও দণ্ডের রেকর্ড মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সুযোগও দেওয়া হয়।    জোন্সের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীর ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকিও সামনে আনে। তার পুরো মামলাটি মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ওপর নির্ভর করেছিল, অথচ পরে একই রকম দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর সেই শনাক্তকরণ নিয়েই গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত নিজের চেহারার সঙ্গে অন্য একজনের অস্বাভাবিক মিলের কারণেই যে ভুলের শিকার হয়েছিলেন, প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর আদালতের সিদ্ধান্তে তার সেই সাজা বাতিল হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ২:৫১
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় নিহত ২৩ বছর বয়সী তরুণী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার। ছবি: সংগৃহীত

মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বা ইউসি-তে স্নাতক ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্যাট পরীক্ষা পুনরায় চালু করা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ফাস্টফুড চেইন ইন-এন-আউট বার্গারের স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় এখন ২ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ইন-এন-আউটে স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি! রয়েছে সুবিধাও

ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ডিজিটাল ফাইলের সূত্র ধরে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। ছবি: সংগৃহীত
ফিলাডেলফিয়ায় কুখ্যাত পর্নোগ্রাফারের বাড়িতে বিপুল ভিডিও, নিখোঁজ ৭ নারীকে ঘিরে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া এক মিলিয়নের বেশি ছবি ও ভিডিওকে ঘিরে ভয়াবহ তদন্তে অন্তত ৭ নিখোঁজ নারীর সন্ধান মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের মধ্যে ৫ নারীকে মৃত বা মৃত অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা, আর আরও ২ নারী এখনো নিখোঁজ। তবে এখন পর্যন্ত ওই নারীদের কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি এবং হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে কাউকে অভিযুক্তও করা হয়নি।    তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু ফিলাডেলফিয়ার অলনি এলাকার ওয়েস্ট চিউ অ্যাভিনিউয়ের একটি বাড়ি। বাড়িটিতে দীর্ঘদিন বসবাস করতেন প্রয়াত রেমন্ড ‘আরসি’ হর্শ এবং তার ছেলে ইউজিন হর্শ। রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে ৮২ বছর বয়সে মারা যান। তিনি যৌনধর্মী ছবি ও ভিডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার কাজের বড় একটি ডিজিটাল সংগ্রহ বাড়িটিতে সংরক্ষিত ছিল।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক ভ্যানোরে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা ডিজিটাল তথ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যালোচনা করেছেন। এর মধ্যেই ৫৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। আরও ২৫ জনকে শনাক্ত করে তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের মতে, আরও বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এখনো পর্যালোচনা করা বাকি।    নতুন করে তদন্তে যুক্ত হয়েছে আরও দুই নারী। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ভিডিও ও ছবিতে প্রায় ২৫ বছর বয়সী এক নারীকে অচেতন ও শরীরে আঘাতের চিহ্নসহ দেখা গেছে। পরিবারটির অনুরোধে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। আরেকটি ছবিতে মধ্য বিশের এক নারীকে আহত ও প্রাণহীন অবস্থায় দেখা গেছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এর আগে আরও তিন নারীকে শনাক্ত করে তাদের মৃত বলে ধারণা করেছিল পুলিশ।    তদন্তে আলোচিত নারীদের মধ্যে রয়েছেন গ্যাব্রিয়েল আমারান্দো, মারিবেল ফ্রেসেস ও নিকোল ফুসারো। ফুসারো ২০১৮ সালে ২৭ বছর বয়সে নিখোঁজ হন। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা একটি ভিডিওতে রেমন্ড হর্শকে তার গলায় বাঁধন দেওয়ার মতো আচরণ করতে দেখা যায়। তবে তার মরদেহ এখনো উদ্ধার হয়নি। আরও দুই নিখোঁজ নারী হলেন ব্লেয়ার টনজেলি ও অ্যামি ম্যাকহেল। টনজেলি ২০২৩ সালে নিখোঁজ হন। ম্যাকহেল ছিলেন রেমন্ড হর্শের সাবেক স্ত্রী এবং ২০১৬ সালে নিখোঁজ হন।    তদন্তের শুরু হয় চলতি বছরের জুনে ইউজিন হর্শ গ্রেপ্তার হওয়ার পর। ফিলাডেলফিয়ায় তাকে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে আটক করা হয়। তার কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয়পত্রও পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার সঙ্গে থাকা এক নারীর কাছে ব্লেয়ার টনজেলির পরিচয়পত্র পাওয়ার পর তদন্তকারীদের নজর আরও গভীরভাবে ওই বাড়ির দিকে যায়। পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ছবি, ভিডিও, কম্পিউটার সরঞ্জাম, রাসায়নিক পদার্থ এবং অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়।    বাড়িতে পাওয়া রাসায়নিক পদার্থ নিয়েও তদন্ত চলছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে একটি কথিত ল্যাবরেটরির মতো জায়গা, বিভিন্ন রাসায়নিকের পাত্র এবং পাঁচটি ছাই রাখার পাত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু পাত্রে মানুষের দেহাবশেষ থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের ধারণা রয়েছে। তবে এসব দেহাবশেষ নিখোঁজ নারীদের কারও কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা রাসায়নিকগুলো কোনোভাবে প্রমাণ নষ্ট বা দেহাবশেষ গোপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।    তদন্ত আরও জটিল হয়েছে কারণ রেমন্ড হর্শের তৈরি অনেক ছবি ও ভিডিওতে সহিংসতার দৃশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এসবের কিছু দৃশ্য সাজানো বা অভিনয় হতে পারে। আবার কিছু দৃশ্য বাস্তব সহিংসতার ঘটনাও হতে পারে বলে তদন্তকারীদের আশঙ্কা। তাই ভিডিওতে দেখা প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে। পুলিশ বলেছে, শুধু ভিডিওর দৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ঘোষণা করতে তারা সতর্কভাবে প্রমাণ যাচাই করছে।    ফিলাডেলফিয়া পুলিশ ও এফবিআই যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। এফবিআই ফিলাডেলফিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়েইন জ্যাকবস জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষ দিকে বাড়িটিতে আরও তল্লাশি চালানো হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তের লক্ষ্য দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নয়, বরং উদ্ধার করা বিপুল ডিজিটাল তথ্যের প্রতিটি অংশ যথাসম্ভব যাচাই করে নিখোঁজ নারীদের পরিচয় ও তাদের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজে বের করা।    ইউজিন হর্শ বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ভুয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়পত্রসংক্রান্ত ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। তবে নিখোঁজ নারীদের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়নি। একইভাবে, রেমন্ড হর্শ ২০২৫ সালে মারা যাওয়ায় তার বিরুদ্ধেও এসব ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা সম্ভব হয়নি। তদন্তকারীরা এখনো ডিজিটাল প্রমাণ, রাসায়নিক পদার্থ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে দেখছেন।    তদন্তকারীদের হাতে থাকা তথ্যের মাত্র একাংশ এখনো পর্যালোচনা করা হয়েছে। ফলে ফিলাডেলফিয়ার ওই বাড়িকে ঘিরে নিখোঁজ নারীদের রহস্যের পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, আরও তথ্য যাচাই ও নতুন তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাগুলোর চূড়ান্ত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১:৪১
মিনেসোটায় এক ভেনেজুয়েলীয় অভিবাসীকে গুলি করে আহত করার অভিযোগে আইসিই এজেন্ট ক্রিশ্চিয়ান কাস্ত্রোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

মিনিয়াপলিসে ভেনেজুয়েলীয়কে গুলি করার অভিযোগ, হেনেপিন কাউন্টি জেলে আইসিই এজেন্ট

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে বসবাস করছেন। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের এখন বসবাস টেনেসির এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে

যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহরের তালিকায় নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্স। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ককে পেছনে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা খাবারের শহর হলো নিউ অরলিন্স

ফ্লোরিডায় একটি নীল কাঁকড়াকে পকেট ছুরি হাতে অদ্ভুতভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় ছুরি হাতে কুকুর ও তার মালিকের ওপর কাঁকড়ার হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় একটি কাঁকড়ার থাবায় ব্লেডের মতো ধারালো বস্তু নিয়ে ঘোরার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এডুয়ার্ডো আলভারেজ নামের এক ব্যক্তি তার বাড়ির উঠানে ঘটনাটি ভিডিও করেন। সেখানে তার পোষা কুকুর সামারকে কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যেতে এবং পরে প্রাণীটিকে কুকুরটির দিকে থাবা বাড়ানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়।   আলভারেজ বুধবার ভিডিওটি ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন। ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘ফ্লোরিডা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।’ প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে এবং ২ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে।   ভিডিওতে দেখা যায়, সামার নামের কুকুরটি উঠানের এক পাশে থাকা কাঁকড়াটির দিকে এগিয়ে যায়। প্রাণীটি তখন একটি থাবা উঁচিয়ে কুকুরটির দিকে এগোনোর চেষ্টা করে। কাঁকড়াটির অন্য থাবায় থাকা ছোট একটি ধারালো বস্তু ক্যামেরায় স্পষ্ট দেখা যায়।   কুকুরটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে আলভারেজ দ্রুত এগিয়ে যান। তিনি কাঁকড়াটিকে ধরার চেষ্টা করলে সেটি থাবা নাড়াতে থাকে। কয়েকবার চেষ্টা করার পর তিনি প্রাণীটিকে ধরে উঠানের অন্য অংশে সরিয়ে নেন। কুকুরটিকে সেটির কাছ থেকে দূরে থাকতে সতর্কও করেন তিনি।   ঘটনার অস্বাভাবিকতায় আলভারেজ নিজেও বিস্মিত হন। ভিডিওতে তাকে কুকুরটির উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, এমন একটি ধারালো বস্তু হাতে থাকা কাঁকড়া থেকে দূরে থাকাই ভালো। পরে মজা করে তিনি প্রাণীটিকে ‘গ্যাংস্টার কাঁকড়া’ বলে অভিহিত করেন।   ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ ঘটনাটিকে ফ্লোরিডার অদ্ভুত ঘটনার আরেকটি উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি। আলভারেজের কাছেও এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেননি।   প্রাণী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা কাঁকড়াটি সম্ভবত ব্লু ল্যান্ড ক্র্যাব বা নীল স্থল কাঁকড়া। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য বলছে, এই প্রজাতির পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়া সাধারণত নীলচে-ধূসর রঙের হয় এবং দেহের খোলস প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। এদের একটি থাবা অন্যটির তুলনায় বড় হয়। দক্ষিণ ফ্লোরিডার উপকূলীয় এলাকায় এদের বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত উপকূল থেকে ৫ মাইলের বেশি দূরে পাওয়া যায় না।   এই কাঁকড়া মূলত স্থলভাগে বসবাস করে এবং গর্ত তৈরি করে থাকে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এরা প্রধানত উদ্ভিদজাত খাবার খায়, তবে মাঝে মাঝে পোকামাকড়ও খেতে পারে। স্বাভাবিক অবস্থায় এরা মানুষের জন্য হুমকি নয়। তবে হাতে ধরার চেষ্টা করলে শক্ত থাবা দিয়ে কামড় দিতে পারে।   ভিডিওতে দেখা ধারালো বস্তুটি ছোট ছুরি বা পকেট ছুরির অংশ বলে মনে হচ্ছে। তবে কাঁকড়াটি কীভাবে সেটি থাবায় পেল, তা এখনো জানা যায়নি। প্রাণীটি নিজে কোনো অস্ত্র সংগ্রহ করেছে, নাকি অন্য কোনোভাবে সেটি তার থাবায় আটকে গেছে, সে বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   এ ধরনের ঘটনা একেবারে নতুনও নয়। ২০২২ সালে জাপানে ক্যাম্পিং করার সময় কাইল কিং নামে এক ব্যক্তি একটি বড় নারকেল কাঁকড়াকে ছুরি হাতে দেখতে পেয়েছিলেন বলে নিউইয়র্ক পোস্টের পুরোনো প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল। রাত ২টার দিকে তাঁবুর বাইরে শব্দ শুনে বের হওয়ার পর তিনি কাঁকড়াটিকে একটি স্টেক ছুরি থাবায় ধরে থাকতে দেখেন।   তবে ফ্লোরিডার সাম্প্রতিক ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও এডুয়ার্ডো আলভারেজের প্রকাশ করা ভিডিওতে কাঁকড়াটির অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যাচ্ছে। প্রাণীটির থাবায় থাকা ধারালো বস্তুটির উৎস অবশ্য এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।   সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট, ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন।

ফ্লোরিডা প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ০:৭
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি উপাসনালয় ও কেন্দ্রগুলোর সুরক্ষায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তায় বছরে ব্যয় ১০০ কোটি ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারান তিন সন্তানের জননী ভেনেসা হোয়েল্যান্ড। ছবি: সংগৃহীত

ক্যালিফোর্নিয়ায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নিহত তিন সন্তানের মা

ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে বিকৃত আচরণের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে শার্লট কাউন্টি শেরিফ অফিস। ছবি: সংগৃহীত

ফ্লোরিডায় পোষা কুকুরের সঙ্গে যৌন আচরণের অভিযোগে নারী গ্রেপ্তার

0 Comments