সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী

এফ-১ ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের সিপিটিতে কড়াকড়ি, ইন্টার্নশিপে নতুন শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কারিকুলার প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা সিপিটি ব্যবহারের নিয়ম আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ শুরু হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং এর অধীন স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম গত আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে। এরপর একাধিক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সিপিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ শুধু ঐচ্ছিক হলে সেটি সিপিটির জন্য যোগ্য নাও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকে শিক্ষার্থীর ডিগ্রি কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একই ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য তা বাধ্যতামূলক হতে হবে।   সিপিটি হলো এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পড়াশোনার সঙ্গে সম্পর্কিত ইন্টার্নশিপ, কো-অপারেটিভ এডুকেশন, প্র্যাকটিকাম বা অন্যান্য বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন। নতুন নির্দেশনার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে সিপিটির আবেদন যাচাই করছে। ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও স্কলার সার্ভিসেস জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার ভিত্তিতে এমন সিপিটি অনুমোদন করা যাবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য স্নাতক বা ডিগ্রি সম্পন্ন করার বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। একই ধরনের পরিবর্তন অন্যান্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরেও দেখা যাচ্ছে।   নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রে। আগে কোনো একাডেমিক প্রোগ্রামের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা যুক্ত থাকলেও সেটি সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক না হলে কিছু ক্ষেত্রে সিপিটি অনুমোদনের সুযোগ ছিল। এখন নতুন নির্দেশনার পর ডিগ্রি সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণটি যদি বাধ্যতামূলক না হয়, তাহলে সেটিকে সিপিটির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে তাদের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে এমন নতুন সিপিটি আবেদন অনুমোদন করা হবে না, যা ডিগ্রি প্রোগ্রামের সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপ এবং ডিগ্রি সম্পন্নের জন্য বাধ্যতামূলক নয়—এমন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ সিপিটির আওতায় পড়বে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ধরনের সিপিটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠিত কারিকুলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ডিগ্রি প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক, সেগুলো এখনও সিপিটির আওতায় থাকতে পারে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় থিসিস বা গবেষণামূলক কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিশেষ ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সিপিটি বিবেচনা করছে। ইউনিভার্সিটি অব ওরেগনের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ডিগ্রি শর্তের পাশাপাশি এমন কিছু ইন্টার্নশিপ, প্র্যাকটিকাম বা ফিল্ডওয়ার্ক সিপিটির জন্য বিবেচিত হতে পারে, যা প্রয়োজনীয় মাস্টার্স থিসিস বা ডক্টরাল গবেষণাপত্র সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় এবং যার যথাযথ একাডেমিক ভিত্তি রয়েছে। ফলে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণে এখন প্রতিটি শিক্ষার্থীর ডিগ্রি প্রোগ্রাম, কারিকুলাম এবং একাডেমিক শর্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   নতুন নির্দেশনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীর আবেদন অনুমোদনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপরও নিয়ম মেনে চলার দায়িত্ব বাড়ছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুলভাবে সিপিটি অনুমোদন করলে শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিবাসন আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পুরোনো সিপিটি নীতি পুনর্বিবেচনা করছে এবং চলমান আবেদনগুলোও নতুন নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করছে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিও জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনার পর তাদের কাছে থাকা চলমান সিপিটি আবেদনগুলো নতুনভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার পাশাপাশি ইন্টার্নশিপ বা ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতা অনেক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ চাকরি, পেশাগত যোগাযোগ এবং ক্যারিয়ার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন সিপিটি নির্দেশনার কারণে ঐচ্ছিক ইন্টার্নশিপের ওপর নির্ভরশীল শিক্ষার্থীদের তাই আগেভাগেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং একাডেমিক বিভাগের সঙ্গে সিপিটির যোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সিপিটি ও অপ্টি এক বিষয় নয়। সিপিটি মূলত পড়াশোনার সময়কার কারিকুলাম-সম্পর্কিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, আর অপ্টি হলো আলাদা কর্মসংস্থান অনুমোদন ব্যবস্থা। ফলে সিপিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনাকে অপ্টি বন্ধ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে সিপিটির যোগ্যতা নির্ধারণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কঠোরতা বৃদ্ধি।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিবাসন বিধিনিষেধের প্রস্তাব করেছে ফিনল্যান্ড সরকার। ছবি: সংগৃহীত
ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়ম কঠোর করছে সরকার, স্পাউজ ভিসা ও নাগরিকত্ব পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা

ফিনল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন ও বসবাসের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তানদের পারিবারিক ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীকে দেশটিতে অন্তত এক বছর বসবাস করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রে ভাষাগত দক্ষতার শর্তও যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।   ফিনল্যান্ডের ক্ষমতাসীন ডানপন্থি জোট সরকার প্রস্তাবিত আইনটি দেশটির সংসদে পাঠিয়েছে। সরকারের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক ঝুঁকি কমানো, শিক্ষার্থী অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করাই এসব পরিবর্তনের অন্যতম লক্ষ্য।   উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১৩ থেকে ১৫ হাজার শিক্ষার্থী ফিনল্যান্ডে যান। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে। ফলে নতুন প্রস্তাবিত নিয়মগুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিনল্যান্ডে পড়তে যাওয়া কোনো শিক্ষার্থীর স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন অপেক্ষার সময় যুক্ত হবে। শিক্ষার্থী দেশটিতে আসার পর অন্তত এক বছর পার না হলে পরিবারের সদস্যরা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারবেন না।   বর্তমানে শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফিনল্যান্ডে রেসিডেন্স পারমিটের আবেদন করতে পারেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিবারকে ফিনল্যান্ডে নেওয়ার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক বছরের সময় বিবেচনায় রাখতে হবে।   সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন অপেক্ষার নিয়ম ২০২৭ সালের ৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে পারে। তবে এর আগে প্রস্তাবটি সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট ভাষাগত দক্ষতা থাকার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। সরকারের যুক্তি, ফিনল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য আসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সফলভাবে অংশ নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত সক্ষমতা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   ফিনিশ সরকারের মতে, কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার রেসিডেন্স পারমিটকে ইউরোপের চাকরির বাজারে প্রবেশের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে ভাষাগত যোগ্যতার শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   শুধু ভাষার শর্ত নয়, ফিনল্যান্ডে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও নতুনভাবে নির্ধারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশটিতে বসবাসের জন্য শিক্ষার্থীর হাতে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ আইন ও সরকারি ডিক্রির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে এই অর্থের সীমা প্রতি তিন বছর পরপর পর্যালোচনা করার কথা বলা হয়েছে।   ফিনল্যান্ডের সরকারের দাবি, বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দেশটিতে যাওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করতে সমস্যায় পড়ছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন নিয়োগ ও শিক্ষার্থী সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানের বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এবং অতিরিক্ত ফি দেওয়ার কারণে কেউ কেউ ঋণ ও আর্থিক সংকটে পড়ছেন। নতুন নিয়মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফিনল্যান্ডে যাওয়ার আগে তাঁদের প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।   ফিনল্যান্ড গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন এনেছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রেও বসবাসের সময়সীমা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত কঠোর করা হয়েছে। স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় বসবাস, কর্মসংস্থান ও ভাষাগত দক্ষতাকে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   শিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ড. মজিবুর দফতরি বলেন, শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য অভিবাসীদের পারিবারিক পুনর্মিলন ও রেসিডেন্স পারমিট নবায়নের ক্ষেত্রে আয়সংক্রান্ত শর্ত আরও কঠোর করা হয়েছে। তাঁর মতে, স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে ফিনল্যান্ডে থাকার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে এবং ফিনিশ ভাষার দক্ষতাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করা হচ্ছে।   ফিনল্যান্ডের নতুন অভিবাসন নীতির কারণে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা, পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাকরি এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের বিষয়গুলো আগের তুলনায় আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে ভাষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত পূরণে শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।   প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে কিছু নিয়ম ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে এবং ভাষাগত দক্ষতাসহ অন্যান্য সংশোধন একই বছরের অক্টোবর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত আইন সংসদীয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সময় দেশটির সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ফিনল্যান্ড সরকার, ফিনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। ছবি: সংগৃহীত
১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার নিয়ম, বাংলাদেশিদের যা জানা জরুরি

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়মে পরিবর্তন আসছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এফ, জে ও আই শ্রেণির অস্থায়ী ভিসাধারীদের আর আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে না। এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে। নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।   নতুন নিয়মে এফ-১ শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমোদিত সময় সাধারণত তাদের শিক্ষাক্রম শেষ হওয়ার তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর হতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্রম চার বছরের বেশি হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা শিক্ষাক্রমে থাকা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   এতদিন এফ-১ শিক্ষার্থীরা সাধারণত ‘অবস্থানের মেয়াদ পর্যন্ত’ যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন। অর্থাৎ শিক্ষার্থী যতদিন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমে নিয়ম মেনে পড়াশোনা করতেন, ততদিন তাদের অবস্থানের মেয়াদ বহাল থাকত। নতুন নিয়মে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে প্রবেশের সময় নির্দিষ্ট শেষ তারিখ দেওয়ার বিধান করা হচ্ছে।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থীর অনুমোদিত অবস্থানের সময় শেষ হয়ে গেলে এবং তিনি আরও সময় যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে তাকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজের শিক্ষাক্রমের বর্তমান অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে হতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে নতুন মেয়াদে অবস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে।   শুধু এফ-১ শিক্ষার্থী নয়, জে-১ বিনিময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপরও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। একই সঙ্গে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত আই শ্রেণির অবস্থানের মেয়াদও নির্দিষ্ট সময়ের আওতায় আনা হচ্ছে। ফলে পরিবর্তনটি শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নয়, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরও কিছু অস্থায়ী ভিসাধারীর ওপরও প্রভাব ফেলবে।   তবে ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থানে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা নিয়ে আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন নিয়মের কারণে বৈধভাবে অবস্থানরত সব শিক্ষার্থীকে ১৫ সেপ্টেম্বরেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন নয়। তাদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের পরিবর্তনকালীন বিধান এবং অনুমোদিত অবস্থানের তথ্য বিবেচনা করা হবে।   নতুন বিধানে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য এফ-১ শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময়ের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ১৫ সেপ্টেম্বরের পর নতুন করে প্রবেশকারী শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনা বা অনুমোদিত কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সময় ৩০ দিন করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনকালীন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংগঠন ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন নিয়মের কারণে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তর নিয়মটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে অস্থায়ী ভিসাধারীদের অবস্থান ও ভিসার শর্ত মানার বিষয়টি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের চূড়ান্ত বিধিমালায় বলা হয়েছে, এফ ও জে শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের অবস্থান চালু করার পাশাপাশি মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নতুন প্রক্রিয়া থাকবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা যথেষ্ট হবে না; যুক্তরাষ্ট্রে তাদের বৈধ অবস্থানের সময়সীমার দিকেও নিয়মিত নজর রাখতে হবে।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার সময় শিক্ষাক্রমের মেয়াদ বেড়ে গেলে, পড়াশোনার পরিকল্পনায় পরিবর্তন হলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করা সম্ভব না হলে আগেভাগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে। নিজের অবস্থানের নথি, শিক্ষাক্রমের শেষ তারিখ এবং অবস্থান বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন নিয়মটি ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও এর বিরুদ্ধে করা মামলার কারণে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত আসে কি না, সেটিও নজরে থাকবে। তাই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কার্যালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬ ১৪:০
ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি
ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

ভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার অদম্য এক যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা বা চেনা-পরিচিত কেউই ছিল না তার। সেই কপর্দকশূন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থেকে আজ তিনি একজন সফল টেক-উদ্যোক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন সাইমন শেঠি।   কর্ণাটকে বেড়ে ওঠা সাইমন বিশ্বেশ্বরায় টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিএসএনএল-এ ইন্টার্ন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে টেসলা এবং লিফ্ট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে আরামদায়ক ও উচ্চ বেতনের চাকরির মোহ ছেড়ে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।   স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় তার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঋণের বোঝা, বারবার চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান এবং এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা লটারিতে সুযোগ না পাওয়ার মতো হতাশা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যখন একসময়ের পরিচিত কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।   তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সঠিক পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হন।   নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সাইমন সেইসব অভিবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, যারা এখনও এফ-১ (F-1), এইচ-ওয়ানবি (H-1B), ও-১ (O-1), এল-১ (L-1) ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সাইমনের সহজ বার্তা— ধৈর্য রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন।   নিজের পোস্টে সাইমন লিখেছেন, "ট্রলরা চেয়েছিল আমাকে নির্বাসনে পাঠাতে। কিন্তু তার বদলে আজ আমি একজন আমেরিকান।" তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টে নেটিজেনরা অভিবাদন ও প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণে নতুন নিয়ম চালু হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন নিয়ম: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাতিল হচ্ছে ‘আনলিমিটেড স্টে’ সুবিধা

আগামী মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়ন ও কাজের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরমের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে এফ (F), জে (J) এবং আই (I) ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকছে না, বরং তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ করা হবে।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা ফরম আই-৫৩৯ (অ্যপ্লিকেশন টু এক্সটেন্ড/চেঞ্জ নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস) এবং ফরম আই-৭৬৫ (অ্যাপ্লিকেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন)-এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। নীতিমালায় পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার দিন, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম দুটির পুরনো সংস্করণ আর গ্রহণ করা হবে না।   নতুন ফরমগুলোর একটি প্রিভিউ শেয়ার করে ইউএসসিআইএস নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে পোস্টমার্ক করা বা অনলাইনে জমা দেওয়া হলে ফরম আই-৫৩৯-এর পুরনো সংস্করণ (০৮/২৮/২৪) গ্রহণ করা হবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দিলে অবশ্যই নতুন সংস্করণ (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে, কাজের অনুমতির জন্য ব্যবহৃত ফরম আই-৭৬৫-এর ক্ষেত্রেও পুরনো সংস্করণ (০৮/২১/২৫) ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে জমা দিলে গ্রহণযোগ্য হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর বা এরপর জমা দিলে নতুন সংস্করণটি (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সটেনশন অব স্টে (ইওএস) বা অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর এই নতুন নিয়মে আসলে কী থাকছে? আগে এফ (F) ভিসায় আসা শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং পড়া শেষে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এই ব্যবস্থাকে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডি/এস) বলা হতো। কিন্তু নতুন চূড়ান্ত নিয়মে এই 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।   এখন থেকে ফরম আই-২০ (সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর নন-ইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস)-এ উল্লেখিত প্রোগ্রামের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে এই মেয়াদ কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৩০ দিন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইউএসসিআইএস-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (ইওএস) আবেদন করতে হবে। পড়াশোনা শেষ করা, নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া, অথবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) বা স্টেম (STEM) ওপিটি-তে অংশ নেওয়ার জন্য এই মেয়াদ বাড়ানো অপরিহার্য।   গত বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ তারই একটি অংশ। গত বছরের (২০২৫) জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভিসা আবেদনকারীদের, বিশেষ করে এফ, এম এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে বাছাই ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কঠোর করার মাধ্যমে এই কড়াকড়ি শুরু করে। পরবর্তীতে 'স্পেশালিটি অকুপেশন' হিসেবে পরিচিত এইচ-১বি (H-1B) ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন মূলত 'জাতীয় নিরাপত্তা'র উদ্বেগ থেকেই এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে বারবার উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ), এটি কোনো অধিকার নয়।" ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো মূলত মার্কিন অভিবাসন বিভাগের সার্বজনীন নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিয়ম এবং সময়সীমা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ইউএসসিআইএস-এর ওয়েবসাইট যাচাই করা বা একজন দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১৪:০
আইইএলটিএস বা টোফেল ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইন্টারমিডিয়েট পাসের পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে এমন ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়

বাংলাদেশে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষা শেষ করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করছেন অনেক শিক্ষার্থী। আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর না থাকায় তাদের অনেকে মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার আবেদন করা সম্ভব নয়। তবে কিছু মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে, যেখানে আইইএলটিএস বা টোফেল স্কোর ছাড়াই শুরু করার সুযোগ রয়েছে। পরে নির্ধারিত ইংলিশ প্রোগ্রাম সফলভাবে শেষ করে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা এবং ভিসা কখনোই নিশ্চিত নয়।   জর্জিয়ার কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটি: কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটির ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সম্ভাব্য পথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আইইএলটিএস বা টোফেল না দিয়েও ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারেন। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রোগ্রাম আই-২০ দেওয়ার অনুমোদনও রাখে। এই প্রোগ্রামের কয়েকটি স্তর সফলভাবে শেষ করলে নির্দিষ্ট শর্তে আন্ডারগ্র্যাজুয়েটে ভর্তি হওয়া যায়।    ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা: অরল্যান্ডোর ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েটরা আবেদন করতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ইংলিশ লেভেল টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ধারণ করে। প্রোগ্রামের লেভেল ৮ সফলভাবে শেষ করলে ইউসিএফে ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আইইএলটিএস, টোফেল বা ডুয়োলিঙ্গো পরীক্ষার স্কোর আর প্রয়োজন হয় না। এফ-১ শিক্ষার্থীদের জন্য আই-২০ পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।    টেক্সাসের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাস: ডেন্টনের ইউনিভার্সিটি অব নর্থ টেক্সাসের ইনটেনসিভ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ইংরেজি দক্ষতা উন্নত করতে পারেন। নতুন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা দিতে হয় এবং সেই ফল অনুযায়ী ইংলিশের স্তর নির্ধারণ করা হয়। লেভেল ৬ সফলভাবে শেষ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করা যায়। কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পড়াশোনার পথও রয়েছে।    পেনসিলভানিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটি: ফিলাডেলফিয়ার টেম্পল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ইনটেনসিভ ইংলিশ ও কন্ডিশনাল অ্যাডমিশন প্রোগ্রাম রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, একাডেমিকভাবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা কোনো ইংলিশ টেস্ট স্কোর জমা না দিয়েও প্রভিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ পেতে পারেন এবং পরে ইনটেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারেন। হাইস্কুল শেষ করা শিক্ষার্থীরাও ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। পূর্ণকালীন প্রোগ্রামে পড়ার জন্য এফ-১ ভিসা এবং আই-২০ প্রয়োজন।    আলাবামার ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা: ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় একাডেমিক যোগ্যতা পূরণ করলেও ইংরেজি দক্ষতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের সুযোগ রয়েছে। এসব শিক্ষার্থী প্রথমে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করেন। ইংরেজি দক্ষতার শর্ত পূরণ করার পর ডিগ্রি প্রোগ্রামে যাওয়া যায়। বিশ্ববিদ্যালয় স্পষ্টভাবে বলছে, কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে আবেদনের সময় ইংরেজি দক্ষতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।    তবে আইইএলটিএস বা টোফেল না থাকলেও শিক্ষার্থীর ইংরেজিতে অন্তত ভিসা ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো প্রস্তুতি থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা অফিসার শিক্ষার্থীর পড়াশোনার উদ্দেশ্য, নির্বাচিত প্রোগ্রাম, শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আই-২০ পেলেই স্টুডেন্ট ভিসা নিশ্চিত হয় না।   এ ধরনের প্রোগ্রামে আবেদন করতে সাধারণত একাডেমিক কাগজপত্র, পাসপোর্ট এবং আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয়। এফ-১ ভিসার জন্য আই-২০ পাওয়ার পর সেভিস ফি, ভিসা আবেদন এবং ইন্টারভিউয়ের ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। শিক্ষার্থীর একাডেমিক প্রোফাইল, আর্থিক সক্ষমতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, “আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই” মানে ইংরেজি দক্ষতার কোনো যাচাই ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্লেসমেন্ট পরীক্ষা, ইংলিশ প্রোগ্রাম বা কন্ডিশনাল অ্যাডমিশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ভাষাগত প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। তাই সদ্য এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সংক্রান্ত নিয়ম যাচাই করে নেওয়াই নিরাপদ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে চাকরি পাওয়া শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল। ছবি: সংগৃহীত
৪২০ বার রিজেকশন! তবুও হার মানেননি, নিউইয়র্কে চাকরি পেয়ে নেটদুনিয়ায় আলোচনায় এক শিক্ষার্থী

শত শতবার চাকরির আবেদন করেও বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে নিউইয়র্কে পড়াশোনা করা ভারতীয় শিক্ষার্থী দিব্যা বানসাল দেখিয়ে দিয়েছেন, অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য একদিন আসবেই। ৪২০টি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অবশেষে নিউইয়র্কে চাকরি পেয়েছেন তিনি। তবে শুধু চাকরি পাওয়ার গল্প নয়, কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।   নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করা দিব্যা বানসাল সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নিজের কর্মজীবনের প্রথম দিনের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওটির শুরুতেই লেখা ছিল, "৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর চাকরির প্রথম দিন।" এরপরই তার গল্প হাজারো মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলে। দিব্যা জানান, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়া সহজ নয়। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা, সীমিত সুযোগ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরির বাজারের কারণে তিনি প্রায় ৪২০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে মাত্র তিনটি সাক্ষাৎকারের সুযোগ পান। শেষ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব আসে এবং স্নাতক শেষ করার এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিউইয়র্কে নতুন চাকরিতে যোগ দেন।   ভিডিওতে দিব্যা বলেন, চাকরিটি তার জন্য একটি স্বপ্নপূরণ হলেও তিনি চান না তার পুরো জীবন শুধু কাজকে ঘিরেই আবর্তিত হোক। তার ভাষায়, চাকরি তার জীবনের একটি অংশ, যা তাকে নতুন কিছু শিখতে, নিজেকে গড়ে তুলতে এবং জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করবে। কিন্তু সেটিই তার পুরো পরিচয় নয়। তিনি এমন একটি জীবন গড়তে চান, যেখানে কাজ তার জীবনের অংশ হবে, জীবন কাজের নয়।   দিব্যা আরও বলেন, চাকরির পাশাপাশি তিনি নাচ, শরীরচর্চা, নিজের দেশের খাবার রান্না এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো চালিয়ে যেতে চান। তার বিশ্বাস, কেউ যদি নিজের পরিচয়কে শুধু পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে, তাহলে একসময় সেই কাজের প্রতিও আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে তিনি লিখেছেন, "আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে সীমিত সুযোগ এবং ভিসার অনিশ্চয়তার মধ্যেও ৪২০টি প্রত্যাখ্যানের পর এই চাকরি পেয়েছি। এটি অবশ্যই আমার জন্য বড় অর্জন। কিন্তু এত বড় নয় যে, আমার পুরো জীবন এর চারপাশে ঘুরবে।"   দিব্যার এই বার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই তার অধ্যবসায়ের প্রশংসা করেছেন। আবার অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মন্তব্য করে বলেছেন, কঠিন চাকরির বাজারে তার অভিজ্ঞতা তাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। কর্মজীবন নিয়ে দিব্যার এই বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিও প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকের মতে, পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক সুস্থতা এবং নিজের পছন্দের কাজের জন্য সময় রাখার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা নীতি বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, আসছে যে যে পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। নতুন নীতির আওতায় শিক্ষার্থীরা আর অনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ‘স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস’ ধরে রেখে দেশটিতে থাকতে পারবেন না। পরিবর্তে তাদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অবস্থানের নিয়ম চালু করা হতে পারে।   ব্লুমবার্গ ল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দীর্ঘদিনের ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডিওএস) সুবিধা বাতিল করে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক অবস্থানের নিয়ম চালুর প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বর্তমানে ‘এফ’ ক্যাটাগরির স্টুডেন্ট ভিসাধারীরা তাদের একাডেমিক প্রোগ্রাম চলমান থাকা এবং ভিসার শর্ত মেনে চলার ভিত্তিতে কোর্স সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারেন। অর্থাৎ তাদের থাকার সময়সীমা নির্দিষ্টভাবে নির্ধারিত থাকে না।   তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের অনুমোদন দেওয়া হবে। সেই মেয়াদের মধ্যে পড়াশোনা শেষ না হলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান অব্যাহত রাখতে তাদের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) ইতোমধ্যে চূড়ান্ত প্রবিধানটির পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে। এটি কোনো নতুন নিয়ম কার্যকরের আগে শেষ দিকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে নীতিটি প্রকাশ ও বাস্তবায়নের পথ এখন অনেকটাই পরিষ্কার।   নতুন নীতিমালা শুধু এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেই নয়, জে এক্সচেঞ্জ ভিজিটর, আই ক্যাটাগরির ভিসাধারী এবং তাদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য সর্বোচ্চ চার বছরের অবস্থানের অনুমতি নির্ধারণ করা হতে পারে। যেসব শিক্ষার্থীর ডিগ্রি বা গবেষণা কার্যক্রম শেষ করতে চার বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হবে, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য পৃথক আবেদন করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) ২০২৫ সালে প্রথম এই পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। যদিও এর মূল ধারণা প্রথম ট্রাম্প প্রশাসনের সময় সামনে আসে, তখন তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। এবার হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় নিয়মটি যেকোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে পারে। এটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক পরিকল্পনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Unknown জুন ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে চাকরির সুযোগ

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ৫ অক্টোবর পর্যন্ত

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০