আমেরিকা

৪০তম ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

Unknown প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ১৭:৪৭
ছবি: মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দিচ্ছেন আয়োজক কমিটি
ছবি: মন্ত্রী মহোদয়ের হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দিচ্ছেন আয়োজক কমিটি

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ‍্যান্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা) ৪০তম কনভেনশন ২০২৬-এ  যোগদানের সম্মতি দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

 

২০ মে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে ফোবানা লস অ‍্যান্জেলেস কনভেনশন ২০২৬ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সম্মতি দেন।

 

সাক্ষাৎকালে লস অ‍্যান্জেলেস ফোবানা হোস্ট কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, কালচারাল সেক্রেটারি শহীদ আহমেদ মিঠু এবং সাবেক ফোবানা চেয়ারম্যান ও বর্তমান মেম্বারশিপ কমিটির চেয়ারম্যান রেহান রেজা মন্ত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে বিএনপি’র সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী কনভেনশনে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছেন হোস্ট কমিটির কর্মকর্তারা।

 

আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হলিউডে তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফোবানার ৪০তম কনভেনশন। উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালিদের বৃহত্তম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ফোবানার এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

 

লস অ‍্যান্জেলেসের ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে আয়োজিত এবারের কনভেনশন ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্মেলনে দেশি-বিদেশি তারকা শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি থাকছে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, নেটওয়ার্কিং, স্বাস্থ্যসেবা, নারী উদ্যোক্তা কর্মশালা, বইমেলা, কাব্যজলসা, সাহিত্য ও কবিতা আসর, ইয়ুথ ও যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ ও সংস্কৃতিবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট ও ফ্যাশন শো এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ফোবানা স্কলারশিপ প্রদানসহ নানা আয়োজন।

 

এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। আয়োজক কমিটির দায়িত্ব পালন করছেন কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, ডেপুটি কনভেনর হাবিব আহমেদ টিয়া, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল, প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ ড. মুশফিকুল হক, কালচারাল সেক্রেটারি শহীদ আহমেদ মিঠু, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশনস চেয়ারম্যান সাংবাদিক লস্কর আল মামুন, স্টল ও বুথ চেয়ারম্যান শওকত আনজিমসহ বিভিন্ন কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

এছাড়া ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, জয়েন্ট এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি এন্থনি পিউস গোমেজ, কোষাধ্যক্ষ মহিউদ্দিন দুলাল, নির্বাহী সদস্য কাজী নাহিদ এবং সাবেক কোষাধ্যক্ষ প্রিয়লাল কর্মকারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা সম্মেলন সফলে কাজ করছেন ।

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না বলে ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
২০২৬ থেকে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পরও এই ৩ ভুলে আটকে যেতে পারে নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর অনেকেই মনে করেন নাগরিকত্বের পথ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাস্তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিটিজেনশিপ নিশ্চিত হয় না। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা, নিজের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যাক্স ফাইল করা কিংবা আইনগত অধিকার না থাকা অবস্থায় ভোট দেওয়ার মতো বিষয় ভবিষ্যতে নাগরিকত্বের আবেদনে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।   ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ন্যাচারালাইজেশনের সময় ইউএসসিআইএস আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক বসবাস, বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস, ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্য এবং ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের মতো বিষয় যাচাই করতে পারে।   প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা। সাধারণ নিয়মে নাগরিকত্বের জন্য একজন গ্রিন কার্ডধারীকে নির্দিষ্ট সময় যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই সময় পাঁচ বছর। মার্কিন নাগরিকের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্তে তিন বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।   তবে একটানা ছয় মাসের বেশি কিন্তু এক বছরের কম যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বাতিল হয়ে যাবে বা নাগরিকত্বের যোগ্যতা শেষ হয়ে যাবে, বিষয়টি এমন নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের অনুপস্থিতি ন্যাচারালাইজেশনের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস ভেঙে গেছে বলে ধরে নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তখন আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্রেই তার স্থায়ী বসবাস বজায় ছিল।   আর একটানা এক বছর বা তার বেশি দেশের বাইরে থাকা সাধারণভাবে নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাসে আরও বড় বাধা তৈরি করে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অনুপস্থিতি গ্রিন কার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা স্ট্যাটাস বজায় রাখা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে।   এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা রয়েছে। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেই নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় ধারাবাহিক বসবাস স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্ষা হয় না। রি-এন্ট্রি পারমিট মূলত দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দার উদ্দেশ্য প্রমাণে সহায়ক হতে পারে। নির্দিষ্ট কর্মসংস্থানভিত্তিক পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বসবাস সংরক্ষণের জন্য আলাদা নিয়ম রয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ট্যাক্স রিটার্ন। আইআরএসের ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে বৈধ গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তি ফেডারেল ট্যাক্সের ক্ষেত্রে রেসিডেন্ট এলিয়েন হিসেবে বিবেচিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মতোই বিশ্বব্যাপী আয় রিপোর্ট করার নিয়মের আওতায় পড়েন।   তাই কোনো গ্রিন কার্ডধারী ভুলভাবে নিজেকে নন-রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন করলে বিষয়টি পরে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন অবস্থান যদি যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী বাসস্থান হিসেবে দাবি করার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হতে পারে।   তবে ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ও আন্তর্জাতিক ট্যাক্স ট্রিটির নিয়ম থাকতে পারে। ফলে সব পরিস্থিতিতে একই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য নয়। বিদেশে আয়, দ্বৈত ট্যাক্স রেসিডেন্সি বা ট্যাক্স ট্রিটির সুবিধা নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ ট্যাক্স পেশাজীবী বা ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   তৃতীয় এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর একটি হলো ভোট দেওয়া। গ্রিন কার্ড যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজের অধিকার দিলেও এটি মার্কিন নাগরিকত্ব নয়। ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তির ভোট দেওয়া বেআইনি। ইউএসসিআইএস ২০২৫ সালে ন্যাচারালাইজেশন সংক্রান্ত নীতিমালায় বেআইনি ভোট, বেআইনিভাবে ভোটার রেজিস্ট্রেশন এবং নিজেকে মার্কিন নাগরিক হিসেবে মিথ্যা দাবি করার বিষয়গুলো নিয়ে নির্দেশনা আরও স্পষ্ট করেছে।   তবে এখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ধরনের নির্বাচনের নিয়ম এক নয়। কিছু অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় এলাকায় নির্দিষ্ট স্থানীয় নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তাই "গ্রিন কার্ডধারী কোনো নির্বাচনেই ভোট দিতে পারবেন না" এমন সার্বিক বক্তব্য সঠিক নয়। কিন্তু ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ এবং অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো নির্বাচনে ভোট দিলে গুরুতর ইমিগ্রেশন পরিণতি হতে পারে।   বিশেষ করে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় নিজেকে ভুলভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বেআইনি ভোট বা মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি কিছু ক্ষেত্রে শুধু ন্যাচারালাইজেশন আবেদনকেই প্রভাবিত করে না, ডিপোর্টেশনের আইনি ভিত্তিও তৈরি করতে পারে।   তাই গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর নাগরিকত্বের প্রস্তুতি শুধু এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার সময় শুরু হয় না। বিদেশে কতদিন থাকা হচ্ছে, ট্যাক্স কীভাবে ফাইল করা হচ্ছে এবং ভোট বা ভোটার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা কী, এসব বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি।   কোনো ভুল ইতোমধ্যে হয়ে থাকলে তা গোপন করার পরিবর্তে নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবীর সঙ্গে নিজের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা নিরাপদ। কারণ একই ঘটনা একজনের ক্ষেত্রে সামান্য ব্যাখ্যার বিষয় হলেও অন্য কারও ক্ষেত্রে তার ইমিগ্রেশন ইতিহাস ও পরিস্থিতির কারণে গুরুতর আইনি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:৫২
পাঁচ শতাধিক পেশার মানুষের মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের মধ্যে ক্যানসারে মৃত্যুর অনুপাত সবচেয়ে বেশি। ছবি: সংগৃহীত

আকাশে লুকিয়ে থাকা বিপদ, ক্যানসারে মৃত্যু ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি পাইলট ও ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রাইমারি নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশিগান থেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হয়েছেন আবদুল এল সাইদ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়তে চলেছেন এল সাইদ!

ভালোবাসার মানুষ ডনেলের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দিয়েছিলেন নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। ছবি: সংগৃহীত

স্ত্রীকে বাঁচাতে দিয়েছিলেন কিডনি, ডিভোর্স চাইতেই ফেরত কিডনি চাইলেন স্বামী

বর কনে বিমান থেকে লাফ। ছবি:সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ১৪ হাজার ফুট ওপরে বিয়ের শুরু, আকাশ থেকে লাফ দিয়ে নতুন জীবনে বর-কনে

বিয়ের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের এক যুগল বেছে নিয়েছেন একেবারেই ভিন্ন পথ। প্রচলিতভাবে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু না করে স্কাইডাইভার মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশ আকাশে উড়ে যান এবং প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে লাফ দিয়ে শুরু করেন তাদের বিশেষ দিনের আয়োজন।   নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলের স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের সঙ্গে যুক্ত মাইক ও মেগান দুজনই অভিজ্ঞ স্কাইডাইভার। এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে তাদের অভিনব বিয়ের আয়োজনের কথা উঠে এসেছে।   সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল, শুধু বর-কনেই নন, তাদের বিয়ের কয়েকজন অতিথিও এই আকাশযাত্রায় অংশ নেন। বিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মাইল গতিতে ফ্রি ফল করেন তারা। পরে প্যারাসুট খুলে নিরাপদে মাটিতে নেমে আসেন।   বিশেষ এই দিনের জন্য মেগানের বিয়ের পোশাকও ছিল আলাদা। স্কাইডাইভিংয়ের সময় নিরাপদে ব্যবহার করা যায় এমনভাবে পরিবর্তন করা একটি সাদা বিয়ের পোশাক পরেছিলেন তিনি। আকাশ থেকে লাফ দেওয়ার সময় তার হাতে ছিল ফুলের তোড়াও।   অন্যদিকে মাইক লাফ দেন স্যুট পরে। কয়েক হাজার ফুট ওপরে বিমান থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দেওয়ার পর দুজনই নিরাপদে নির্ধারিত স্থানে অবতরণ করেন।মাটিতে নামার পরও ছিল আরেক চমক। প্যারাসুটের আড়ালে মেগান স্কাইডাইভিংয়ের জন্য তৈরি পোশাক বদলে মূল বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য আরেকটি বিয়ের পোশাক পরে নেন। এরপর পরিবার ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে চলে তাদের বিয়ের পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা।   স্কাইডাইভিংয়ের সঙ্গে মাইক ও মেগানের সম্পর্ক অবশ্য শুধু পেশাগত নয়। তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তও জড়িয়ে আছে আকাশের সঙ্গে। মাইক মেগানকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন স্কাইডাইভিংয়ের সময় আকাশে থাকা অবস্থায়।   তাই বিয়ের দিনেও সেই গল্পের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তারা। যে আকাশে তাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় শুরু হয়েছিল, সেখান থেকেই লাফ দিয়ে এবার শুরু করলেন দাম্পত্য জীবন।   মাইকেল মিসরুন ও মেগান ওয়ালশের স্কাইডাইভিং অভিজ্ঞতার বিষয়টি অন্য নথিতেও পাওয়া যায়। ইয়েটস কাউন্টির সরকারি নথিতে দুজনকে স্কাইডাইভ সেনেকা লেকের প্রতিনিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের ফিঙ্গার লেকস অঞ্চলে ১১ হাজার থেকে ১৪ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতা থেকে স্কাইডাইভিংয়ের সুযোগ দিয়ে থাকে।   তাদের বিয়ের ভিডিও ও ছবি প্রকাশের পর অভিনব আয়োজনটি নজর কেড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। সাধারণত যেখানে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনের প্রবেশ নিয়েই থাকে বিশেষ আয়োজন, সেখানে মাইক ও মেগান নিজেদের নতুন জীবনের শুরুটাই করলেন হাজার হাজার ফুট ওপর থেকে একসঙ্গে ঝাঁপ দিয়ে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৯:১৫
কেন্টাকির লুইসভিলের বাসিন্দাআরমেল বন্ডোঙ্গা এবং টেরেন্স ব্র্যাডশকেতাদের শিশু ছবি:সংগৃহীত।

গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শিশু সন্তানের সামনেই আইসের হাতে আটক মা

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি:সংগৃহীত।

টিকটকে মামদানিকে ট্যাগ করে দেখালেন দুই গর্ত, কাজ শেষে ফিরে দেখলেন দুটিই মেরামত

আমেরিকার আইস ছবি:সংগৃহীত

গির্জা, মসজিদ, মন্দিরে আইসের অভিবাসন অভিযান সীমিত রাখার আদেশ বহাল মার্কিন আপিল আদালতের

আমেরিকান সুপারমার্কেট চেইন পাবলিক্স ছবি:সংগৃহীত।
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।   মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে।   এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না।   বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।   ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।

নীলুফা নিশাত প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৫:৫২
নিউইয়র্কে ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে ৫০ কোটি ডলার তুলতে চান মামদানি

নিউইয়র্কে ধনীদের দ্বিতীয় বাড়ি থেকে ৫০ কোটি ডলার তুলতে চান মামদানি, ১৭ হাজার মালিককে নোটিশ

হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, সব মাইন সরিয়ে প্রণালি খোলার দাবি

স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার

স্কুলে নিয়মিত গেলেই সপ্তাহে ১০০ ডলার! ডেট্রয়েটে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির জন্য নগদ ইন্সেন্টিভস

0 Comments