যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়া একটি পরিচিত অভিজ্ঞতা। এ মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে এবং আমেরিকার সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে কতটা সুরক্ষা দেয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি শান্তভাবে এবং আইনসম্মতভাবে সামলানো সম্ভব।
প্রথম করণীয়: শান্ত থাকুন
পুলিশের সাইরেন শুনলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে রাস্তার ডান পাশে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে হবে। দুই হাত স্টিয়ারিং হুইলের ওপর রাখুন, যাতে পুলিশ বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখতে পান। হঠাৎ কোনো অঙ্গভঙ্গি বা তাড়াহুড়ো করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশ না বললে গাড়ি থেকে নামবেন না।
কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক
পুলিশ কাছে এলে গাড়ির জানালা অর্ধেক নামান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের কাগজ দেখান। এগুলো দেখানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাগজ খোঁজার আগে পুলিশকে জানিয়ে নিন, যাতে হাত নাড়াচাড়াকে ভুলভাবে না দেখা হয়।
চুপ থাকার অধিকার: ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট
পুলিশ প্রশ্ন করতে শুরু করলে জেনে রাখুন, আমেরিকার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী আপনি নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। শান্তভাবে বলতে পারেন, 'আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে চাই না।' এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং পুলিশ সেই অধিকারকে সম্মান দেখাতে বাধ্য।
গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে: সিক্সথ অ্যামেন্ডমেন্ট
পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী আইনজীবীর সাহায্য চাওয়ার অধিকার আপনার আছে। স্পষ্টভাবে বলুন, 'আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।' এই মুহূর্তে যত কম কথা বলবেন, ততই নিরাপদ। কারণ আপনার প্রতিটি কথা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
তল্লাশির ক্ষেত্রে: ফোর্থ অ্যামেন্ডমেন্ট
পুলিশ গাড়ি বা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে প্রশ্ন করুন সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কিনা। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নাগরিকদের অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। তল্লাশিতে আপনার সম্মতি না থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। সম্মতি ছাড়া তল্লাশি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
ভাষা সমস্যায় অনুবাদক চাওয়ার অধিকার
ইংরেজিতে সাবলীল না হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনি অনুবাদক চাইতে পারেন। সরাসরি বলুন, 'আমি বাংলায় কথা বলি, অনুবাদক চাই।' এই অনুবাদক সহায়তা আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যক্তিগত সম্পত্তির বাইরে যেকোনো সর্বজনীন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করা যাবে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মত প্রকাশের এই স্বাধীনতা দেয়। তবে রেকর্ড করার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে করুন এবং তাদের কাজে কোনোভাবে বাধা দেবেন না।
ঘটনার সময়, স্থান, পুলিশ অফিসারের নাম ও ব্যাচ নম্বর লিখে রাখুন। মনে হলে স্থানীয় সিভিল লিবার্টি সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আমেরিকার সংবিধান প্রতিটি মানুষকে এই সুরক্ষা দেয়। তবে সেই সুরক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন একজন নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ‘এ ক্যাপিটল ফোর্থ’ কনসার্ট নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দর্শকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনুষ্ঠানসূচিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছুঁয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা বা হিট ইনডেক্স ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল পুলিশ জানিয়েছে, কনসার্টটি রাত ৮টায় শুরু হলেও দর্শকদের প্রবেশের গেট স্বাভাবিক সময়ের পরিবর্তে সন্ধ্যা ৭টায় খোলা হবে, যাতে দীর্ঘ সময় রোদে অপেক্ষা করতে না হয়। অনুষ্ঠানস্থলে অতিরিক্ত পানির স্টেশন, চিকিৎসা সহায়তা এবং শীতল হওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ন্যাশনাল মলের গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার অতিরিক্ত গরমের কারণে শুক্রবার দুপুরে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে বিকেলে সেটি আবার খুলে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই এবার তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন আয়োজনে। কয়েকটি শহরে প্যারেড ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠান বাতিল বা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বানও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের পর্যাপ্ত পানি পান, ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান এবং শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতি বিশেষ নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ১৬ শিশুকে অমানবিক পরিবেশে রাখার অভিযোগে দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলায় গ্রেপ্তার চারজনের একজন এবং শিশুদের মা এলিজাবেথ সাইডার্স নিজেও স্বামীর দীর্ঘদিনের মানসিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক নির্যাতনের শিকার ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার আইনজীবী। আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, এলিজাবেথ সাইডার্স গ্রেপ্তারের পর প্রথমেই জানতে চান, “বাচ্চারা কোথায়? তারা কি নিরাপদ আছে?” তিনি দাবি করেন, তার মক্কেল সন্তানদের যত্ন নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন এবং মামলার সব তথ্য আদালতে উপস্থাপনের আগে তাকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত হবে না। তবে তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত এলিজাবেথ সাইডার্স, তার স্বামী গ্যারি সাইডার্স জুনিয়র, গ্যারি সাইডার্স সিনিয়র এবং ক্রিস্টিনা সাইডার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা বিপন্ন করার একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, চারজনই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে ওহাইওর ভিন্টন কাউন্টির হ্যামডেন এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৮ মাস থেকে ১৮ বছর বয়সী ১৬ শিশুকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওহাইও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, শিশুদের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও মানবেতর পরিবেশে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি মানবপাচারের মামলা নয়; বরং দীর্ঘদিনের শিশু নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগে পরিচালিত একটি ফৌজদারি তদন্ত। উদ্ধার হওয়া সব শিশুকে বর্তমানে ওহাইও ডিপার্টমেন্ট অব জবস অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেসের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। এদিকে এলিজাবেথ সাইডার্সের আইনজীবীর বক্তব্যের পর মামলায় নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি সত্যিই কি সন্তানদের মতোই নির্যাতনের শিকার ছিলেন, নাকি শিশুদের ওপর চলা নির্যাতন ও অবহেলায় তারও অপরাধমূলক ভূমিকা ছিল—সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায়। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনে অতিরিক্ত অভিযোগও আনা হতে পারে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তরা আইনের দৃষ্টিতে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে অভিবাসীদের অবদানের প্রশংসা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি এমন এক যুক্তরাষ্ট্রের কথা তুলে ধরেন, যেখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষই দেশটির শক্তি ও পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিপরীতে একটি স্পষ্ট আদর্শিক বার্তা বহন করেছে। শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটি হলে ঐতিহাসিক এক ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন মামদানি। এই ডেস্কটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন ব্যবহার করেছিলেন। ভাষণের সময় তার পাশে ছিলেন সদ্য মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া কয়েকজন অভিবাসী। মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের ইতিহাস মূলত অভিবাসীদের ইতিহাস। তিনি স্মরণ করেন দুর্ভিক্ষের সময় আয়ারল্যান্ড থেকে আসা মানুষ, চীনা নাবিক, এলিস আইল্যান্ড হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা লাখো অভিবাসী, নির্যাতন থেকে পালিয়ে আসা ইহুদি জনগোষ্ঠী, দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে আসা ইতালীয় এবং উন্নত জীবনের আশায় আসা সিরীয়দের। তার ভাষায়, "ফেডারেল সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা ও বাধা সত্ত্বেও অভিবাসীরা নিউইয়র্কে নিজেদের ঘর গড়েছেন এবং এই শহরকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।" সম্প্রতি জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) বাতিলের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে স্থগিতাদেশ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয় যে, দেশটির মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে মামদানি বলেন, জীবন, স্বাধীনতা ও সুখ অন্বেষণের অধিকার প্রতিটি প্রজন্মের মানুষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং এই আদর্শ এখনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উগান্ডায় জন্ম নেওয়া মামদানি সাত বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে নিউইয়র্কে আসেন। পরে ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব লাভ করেন। ভাষণে তিনি বলেন, ১৭৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রামে নিউইয়র্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সেই ঐতিহ্য আজও বহন করছে শহরটি। তিনি আরও বলেন, নতুন অভিবাসীরা যখন প্রথম নিউইয়র্কে আসতেন, তখন তারা স্বাধীনতার প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং সুযোগের এক নতুন দেশকে দেখতেন। সদ্য নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের উদ্দেশে মামদানি বলেন, "আপনাদের প্রত্যেকের হাতে একটি বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। আপনারাই ঠিক করবেন, আমেরিকা বলতে কী বোঝায়।" তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতারও সমালোচনা করেন। নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী এমন একটি আমেরিকার ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কেবল নির্বাচিত কিছু মানুষেরই স্বাধীনতা থাকবে। তার ভাষায়, "তাদের কাছে আমেরিকা ততই ছোট হয়ে যায়, যত বেশি মানুষকে স্বাগত জানায়। তারা মনে করে, এই দেশ শুধু নির্দিষ্ট উচ্চারণ, নির্দিষ্ট বর্ণ বা নির্দিষ্ট পরিচয়ের মানুষের জন্য।" মামদানি আরও বলেন, মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা নতুন কিছু নয়। তিনি নাগরিকদের বিভেদের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। দেশপ্রেম প্রসঙ্গে নিউইয়র্কের মেয়র বলেন, প্রকৃত দেশপ্রেম মানে দেশের ত্রুটি অস্বীকার করা নয়। বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি এবং দেশের উন্নতির জন্য কাজ করাই প্রকৃত দেশপ্রেমের পরিচয়। এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সেখানে আতশবাজি, সামরিক ব্যান্ড, বিমান প্রদর্শনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর ছয়টি শাখাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একই জাতীয় দিবসে ট্রাম্প ও মামদানির বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নাগরিকত্ব এবং জাতীয় পরিচয় নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে।