দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। শুক্রবার (২০ মার্চ) ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলো ধ্বংসে মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড (RAF Fairford) এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যৌথ ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া (Diego Garcia) ব্যবহারের পথ এখন ওয়াশিংটনের জন্য উন্মুক্ত।
শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই যুদ্ধে সরাসরি জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের আগে তার আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ মিত্রদের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলার পর স্টারমার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। ডাউনিং স্ট্রিট এই সিদ্ধান্তকে অঞ্চলের ‘যৌথ আত্মরক্ষা’ এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে এই ‘আগ্রাসনে’ সহায়তা করছেন এবং এর মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকেই বিপদে ফেলছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান তার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অনুমতি আসায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও ব্রিটিশ সরকারের দেরি হওয়া নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাজ্যের আরও অনেক আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। তবে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ জনমত এখনো এই যুদ্ধের বিপক্ষে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার বিরোধিতা করছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews
দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে। এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)। ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না। তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে। সূত্র: ABC News
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে তীব্র কর্মী সংকট মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নিয়মিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত প্রায় ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি মৌসুমি অতিথি শ্রমিক ভিসা দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশিত ফেডারেল রেজিস্টার নোটিশে বলা হয়, দেশীয় শ্রমিকের ঘাটতির কারণে যেসব মার্কিন নিয়োগকর্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, মূলত তাদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই অতিরিক্ত ভিসার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ফলে বছরে নির্ধারিত ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণে পৌঁছাতে যাচ্ছে। নতুন এই সিদ্ধান্তে নির্মাণ শিল্প, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সি-ফুড প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো শ্রমনির্ভর মৌসুমি শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এসব খাতে দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষ স্থানীয় কর্মীর অভাবে বিদেশি শ্রমিক আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিয়োগকর্তারা। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও, বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে এই নমনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগেও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের সময় শ্রমঘাটতি মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও রয়েছে। অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠীর আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক প্রবেশ করলে মার্কিন নাগরিকদের মজুরি কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে পেন্টাগন ও শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প এবং পর্যটন খাত সচল রাখতে এই মুহূর্তে বিদেশি শ্রমিকের বিকল্প নেই। ফেডারেল রেজিস্টারের তথ্যানুযায়ী, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকরের বিশেষ বিধিমালা আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে এবং এরপরই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান উত্তেজনার মাঝে এবার ভারত মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ-মার্কিন যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরান দুটি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, ওয়াশিংটনকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিলে যুক্তরাজ্যের ভূমিও নিরাপদ থাকবে না। একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিক্ষিপ্ত দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে একটি উড্ডয়নকালেই ব্যর্থ হয়। অন্যটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়। তবে এই ইন্টারসেপশন কতটা সফল হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার সময়কাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি। ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছিলেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ২ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু ডিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে এই হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা তাদের পূর্বের দাবির চেয়ে অনেক বেশি। এই ঘটনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জারি করা এক নির্দেশনা ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৭ মার্চ আইন বিভাগের ডিন অঞ্জু ভালি টিকু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগে থেকে পরিকল্পিত একটি ইফতার অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়। তবে কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে ‘বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে একদল শিক্ষার্থী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ক্যাম্পাসের খোলা জায়গায় প্রতিবাদী ইফতারের আয়োজন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা জনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাউথ ক্যাম্পাসের ডিরেক্টর রজনী আব্বি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি দিলে পরবর্তীতে অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ‘না’ বলা কঠিন হয়ে পড়বে এবং এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীরা এই যুক্তিকে ‘ভিত্তিহীন’ দাবি করে জানান, এর আগে ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা ও গণেশ পূজা উদযাপিত হলেও তখন নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠেনি। আয়োজক শিক্ষার্থীদের দাবি, এই ইফতার কেবল মুসলমানদের নয়, বরং হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সব ধর্মের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনুষ্ঠান ছিল। ইফতারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে শিক্ষার্থী নাদিম নাকি মহাত্মা গান্ধীর লবণ আইন ভঙ্গের উদাহরণের সাথে তুলনা করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। ভারতের জাতীয় যুব কংগ্রেসের সমন্বয়কসহ অনেক সাবেক শিক্ষার্থীও এই প্রতীকী ইফতারে সংহতি জানিয়ে অংশ নেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসেও ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ, স্লোগান ও মশাল মিছিল নিষিদ্ধ করে একটি নোটিশ জারি করেছিল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই নির্দেশনাটি বর্তমানে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই ইফতার বিতর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন এক সময়ে ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছেন, যখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একবিংশ শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক ‘গ্যালাপ’ জরিপে দেখা গেছে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মার্কিনিরা ইসরাইলিদের চেয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদত্যাগের ফলে। ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের বিদায়ী পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করে সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, ইসরাইল এবং তার শক্তিশালী লবি যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে বাধ্য করেছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইসরাইল যেকোনো মূল্যে ইরানে হামলা চালাবে এবং ইরান তার প্রতিশোধ নেবে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে—এই যুক্তিতেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তীতে এই অবস্থান থেকে সরে এসে যুদ্ধের পক্ষে ভিন্ন অজুহাত খুঁজতে শুরু করে। সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, এই বড় ধরনের হামলা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কিছুই জানত না এবং এতে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। যদিও মার্কিন ও ইসরাইলি বিভিন্ন সূত্র এই দাবিকে নাকচ করে দিয়ে জানিয়েছে যে, উভয় পক্ষ এই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই সমন্বয় করেছিল। ট্রাম্পের এমন অবস্থান কেন্টের মতো ষড়যন্ত্র তত্ত্ব পোষণকারীদের আরও খোরাক জোগাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির শুনানিতে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড স্বীকার করেছেন যে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য সবক্ষেত্রে এক নয়। ইসরাইল যেখানে ইরানি নেতৃত্ব নির্মূলে আগ্রহী, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ইরানকে নিরস্ত্রীকরণের দিকে বেশি মনোযোগী। সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ অবশ্য জানিয়েছেন, সংঘাত শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে থাকুক বা না থাকুক, ইরানি আক্রমণের শিকার হতো। যুদ্ধের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে এমন অস্পষ্টতা ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।